অনায়াস জয়ে অলিম্পিকসের তৃতীয় রাউন্ডে ওসাকা

অনায়াস জয়ে অলিম্পিকসের তৃতীয় রাউন্ডে ওসাকা

অলিম্পিকসের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে স্ট্রোক খেলছেন জাপানের নেওমি ওসাকা। ছবি: এএফপি

সোমবার ওসাকা মাত্র এক ঘণ্টায় সুইজারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া গলুবিককে হারান। সরাসরি ৬-৩, ৬-২ গেমে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছান ওসাকা।

অলিম্পিকস টেনিসের তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছেন দ্বিতীয় বাছাই নেওমি ওসাকা। রোববার শীর্ষ বাছাই অ্যাশলি বার্টি হেরে যাওয়ার পর ওসাকাই স্বর্ণ জয়ে ফেভারিট।

জাপানের তারকা ওসাকা সোমবার মাত্র এক ঘণ্টায় সুইজারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া গলুবিককে হারান। সরাসরি ৬-৩, ৬-২ গেমে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছান ওসাকা। দুই দিনের টানা দুই ম্যাচ খেলতে হলেও, ওসাকার খেলায় ছিল না কোনো ধরনের ক্লান্তির ছাপ।

টোকিওর আরিয়াকে টেনিস পার্কে প্রথম সেটে ৩-৩ গেমে সমতায় থাকা অবস্থা থেকে টানা সাত গেম জেতেন ওসাকা। দ্বিতীয় সেটে ৪-০ গেমে পিছিয়ে যাওয়ার পর নিজের প্রথম গেম জেতেন গলুবিক। তাতে খুব এক লাভ হয়নি। ওসাকাকে থামাতে পারেননি ৪৯তম বাছাই এই সুইস।

সহজ জয়ের পর ওসাকা জানালেন কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শুরু হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো ধরনের স্নায়ুচাপ বোধ করেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে ওসাকা বলেন, ‘ম্যাচ শুরুর আগে কিছুটা নার্ভাস লাগছিল। বেশ স্নায়ুচাপে ভুগছিলাম। খেলা শুরু হওয়ার পর বেশ নিশ্চিন্ত ছিলাম। জানতাম ভালো খেলব।’

বার্টির বিদায়ের পর নারী এককের স্বর্ণ জেতায় যে তিনিই এখন ফেভারিট, সেটা মাথায় আছে ওসাকার। তবে সেই বাড়তি চাপ নিচ্ছেন না। নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চান চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী তারকা।

ওসাকা বলেন, ‘এখানে স্বর্ণ জেতাটা অবশ্যই অনেক বড় ব্যাপার হবে। সেটা করতে হলে পুরো একটা টুর্নামেন্টের মতোই একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যাদের বিপক্ষে খেলছি তারা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।

‘আমি বেশ কয়েক দিন খেলিনি তাই ম্যাচ বাই ম্যাচ যাওয়ার চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে এখানে খেলতে পেরে আমি খুবই খুশি।’

রোববার বার্টিকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দেওয়া স্পেনের সারা তোরমোও পৌঁছেছেন তৃতীয় রাউন্ডে। ফ্রান্সের ফিওনা ফেরোকে ৬-১, ৬-৪ গেমে হারান তোরমো।

ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন বারবোরা ক্রেইচিকোভাও সহজ জয়ে পৌঁছেছেন তৃতীয় রাউন্ডে। চেক রিপাবলিকের এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন ৬-২, ৬-৪ গেমে উড়িয়ে দেন ক্যানাডার লেইলাহ ফার্নানদেসকে।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকটকের ফাঁদে ফেলে ঢাকা থেকে গফগাঁও

টিকটকের ফাঁদে ফেলে ঢাকা থেকে গফগাঁও

গ্রেপ্তারকৃত রায়হান হোসেন

অপহরণকারীরা একটি টিকটক গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপে ৭-৮ জন সদস্য আছে। তারা ঘন ঘন লাইভে এসে একে অপরের সঙ্গে বাক্য বিনিময় এবং তথ্য আদান প্রদান করে।

১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুলের বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী। এরপর আর বাসায় না ফিরলে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। কেটে যায় আরও কয়েকদিন। এবার র‌্যাবের কাছেও অভিযোগ করে মেয়ের খোঁজ চান তিনি।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। গ্রেপ্তার করা হয় রায়হান হোসেন নামে এক অপহরণকারীকেও।

রোববার র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইডি মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টিকটকের ফাঁদে ফেলেই কিশোররীকে অপহরণ করেছিল একটি চক্র।

র‌্যাব জানায়, অপহরণকারীরা একটি টিকটক গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপে ৭-৮ জন সদস্য আছে। তারা ঘন ঘন লাইভে এসে একে অপরের সঙ্গে বাক্য বিনিময় এবং তথ্য আদান প্রদান করে। এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য ঢাকা নর্দার রায়হান, রবিন ও খোকন। রায়হান একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে গাড়ি চালায়।

গ্রেপ্তারের পর রায়হান জানায়, নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তান আছে। খোকন অন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করে এবং রবিন নর্দায় একটি সেলুনে কাজ করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এই গ্রুপের আরও বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুইজন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী।

স্কুলপড়ুয়া উঠতি বয়সী মেয়েদের প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বিপথে পরিচালিত করতো এই চক্রটি। তারা অত্যন্ত ধুরন্দর প্রকৃতির এবং নানা অপকর্মে লিপ্ত। টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা বেনামী পরিচয় ব্যবহার করে।

অপহৃত কিশোরীর সঙ্গেও বেশ কিছুদিনের চেষ্টায় নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলে তারা। নিখোঁজ হওয়ার দিন কিশোরীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর নর্দায় আজিজ রোডের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখে রায়হান। পরে তারা সুকৌশলে কিশোরীকে ঢাকা থেকে গফরগাঁওয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ কমাল সামিট পাওয়ার

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ কমাল সামিট পাওয়ার

সামিট পাওয়ারের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা। তবে ২০২০ সালে লভ্যাংশ ছিল ৩৫ শতাংশ, সেটি কমিয়ে এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০ শতাংশ।

মহামারির বছরে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও লভ্যাংশ কমিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার।

শেয়ার প্রতি ৩ টাকা বা ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের বছর এই লভ্যাংশ ছিল সাড়ে তিন টাকা বা ৩৫ শতাংশ নগদ।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সামিট পাওয়ারের কোম্পানি সচিব স্বপন কুমার পাল।

তিনি জানান গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা।

কেবল গত বছরের চেয়ে বেশি আয় নয়, সামিটের এই আয় গত চার বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ।

২০১৮ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ৪০ পয়সা আর ২০১৯ সালে ছিল ৪ টাকা ৭৮ পয়সা।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের চেয়ে কম আয় করেও শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন চায় আদালত

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন  চায় আদালত

ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানের (বাঁয়ে) নামে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার মামলার এজাহার গ্রহণের পর এ আদেশ দেয় ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালত। এ সময় শাহবাগ থানা পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন বিচারক।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শাহাবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক মো. নিজাম উদ্দিন।

এর আগে শনিবার রাতে ইভানার মৃত্যু ঘটনায় দুই জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন তার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী।

এরা হলেন ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লা।

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চিকিৎসকের (নেফ্রোলজিস্টের) পরামর্শপত্র অনুযায়ী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইভানাকে গত এক বছর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইভানা তার বন্ধুদের জানান, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার স্বামী রুম্মান তাকে (ইভানাকে) ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন।

১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগের নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ছেলের বয়স ৮ আর মেয়ের বয়স ৬।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় পাহাড় থেকে নামার সময় দুইটি ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হয়েছে।

জেলা সদরের প্রবেশমুখে ২০ নম্বর জিরোমাইল সংলগ্ন আলুটিলা পাহাড়ের রাস্তায় রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ট্রাক্টরচালক মইনুল হোসেন, ট্রাক্টরের শ্রমিক বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মো. শাহাদাত, আবদুর রহিম, মো. করিম ও সুজন। বাদশা ও রমজানের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে চালককে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রবেশমুখের মোড়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময়ই এখানে দুর্ঘটনা হয়। ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে আসায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

আঙিনায় খেলতে থাকা দুই বোনের নিথর দেহ পুকুরে

আঙিনায় খেলতে থাকা দুই বোনের নিথর দেহ পুকুরে

হবিগঞ্জে পানিতে ডুবে মারা গেছে মাহী ও তিশা নামের দুই বোন। ছবি: সংগৃহীত

মৃত আট বছরের মাহী ও ছয় বছরের তিশা উপজেলার বামৈ পশ্চিম গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার মেয়ে। পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড়ির আঙিনায় খেলছিল দুই শিশু মাহী ও তিশা। একপর্যায়ে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় রোববার দুপুরের দিকে ঘটে এই প্রাণহানির ঘটনা।

মৃত আট বছরের মাহী ও ছয় বছরের তিশা উপজেলার বামৈ পশ্চিম গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবারের লোকজন ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি সাইদুল জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

গাড়িতে বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা দেন ডিআইজি মিজান

বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষ্যতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজান স্যার ওই লোককে (দুদক কর্মকর্তা বাছির) বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার।

৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলায় বরখাস্ত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২৬ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীরা হলেন ডিআইজি মিজানের অর্ডারলি কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন এবং ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১২ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ঠিক করে।

জবানবন্দিতে কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি ডিআইজি মিজানের উত্তরার বাসা থেকে আমি দুটি ব্যাগ সন্ধ্যার আগমুহূর্তে গাড়িতে তুলে দিই। ব্যাগে ২৫ লাখ টাকা ও কিছু বই ছিল। পরে আমাকে রাজারবাগ নামিয়ে দেয়ার জন্য গাড়িতে তোলেন ডিআইজি মিজান। কিন্তু ডিআইজি মিজান আমাকে রমনা পার্কের সামনে নিয়ে আসেন এবং বলেন, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন লোক আসবে। তার সঙ্গে কথা শেষে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেন ডিআইজি মিজান।

‘কিছুক্ষণ পরে লোকটি পার্কে আসেন। তারা দুজন পার্কে গিয়ে কথা বলেন। এরপর তারা গাড়িতে ওঠেন। ডিআইজি মিজান চালককে ওই ব্যক্তিকে রাজারবাগ মোড়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দিতে বলেন। যাতায়াতের মধ্যবর্তী সময়ে তারা অনেক কথা বলেন। মিজান স্যার ওই লোককে বলেন, ব্যাগে ২৫ লাখ ঠিক আছে। তখন ওই লোক প্রশ্ন করেন যে সব ঠিক আছে ভাই?

‘মিজান স্যার বলেন, সব ঠিক আছে। পরে ওই লোকটাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের গলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। লোকটি যাওয়ার পর আমি মিজান স্যারকে জিজ্ঞাসা করি, সে কে? তখন স্যার আমাকে বলেন, লোকটি দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির। পরে আমি রাজারবাগ ব্যারাকে চলে যাই।’

সাক্ষ্যতে সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান স্যারের বাসা থেকে একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ গাড়িতে তুলে দিই আমি। ব্যাগে টাকা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মিজান স্যার জানান, ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা আছে। তারা সেদিনও রমনা পার্কের সামনে আসেন। গাড়িতে বসে এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেন মিজান স্যার। তাকে রমনা পার্কের সামনে আসতে বলেন। এনামুল বাছির পার্কের সামনে এলে তারা দুজন ভেতরে যান। কথা শেষে তারা আবার গাড়িতে ওঠেন। এনামুল বাছিরকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দিতে বলেন মিজান স্যার।’

সেদিনও গাড়িতে কথা বলেন তারা। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, ‘আপনার মামলায় কিছু নেই। আপনার কিছু হবে না।’ পরে তাকে শান্তিনগর মোড়ে নামিয়ে দেন ডিআইজি মিজান। এনামুল বাছির টাকাসহ ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘৩০ মে গুলশান পুলিশ প্লাজায় ডিআইজি মিজান যান। এনামুল বাছির সেখানে আসেন। তারা সেখানে কথা বলেন। এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানকে বলেন, আপনার মামলায় কোনো কাগজপত্র নেই। আপনার কিছু হবে না।’

অপর সাক্ষী দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে গুলশান পুলিশ প্লাজায় আসেন এনামুল বাছির। তখন ডিআইজি মিজান বলেন, ‘টাকা দিলাম, তারপরও আমার নামে কেস হলো।’ এই কথোপকথনের পর তারা বের হয়ে যান।

এ নিয়ে মামলাটিতে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

এদিন কারাগারে থাকা মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

তিনি নিউজবাংলাকে দুজনের সাক্ষ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন শেখ মো. ফানাফিল্লাহ।

৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। এরপর আদালত চার্জ গঠনের তারিখ ঠিক করে মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বদলির আদেশ দেন। গত ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অভিযোগপত্রের আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার আসামি কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পদায়ন করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এনডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টে এসব বিষয়ে নিয়ে রিটটি করেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান। আদালতে তার আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইশরাত হাসান।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি বিচারকারী আদালতের গোচরীভূত হয় বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মচারী, তাহলে আদালত অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।

রিটকারীর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে হেনস্তা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরে সাংবাদিক আরিফুলের কাছে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি একজনকে বরিশালে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, এসব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে।

এসব বিষয়ে দেখে সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ও (৩)-এর বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্কেইটবোর্ডিংয়ে স্বর্ণ জিতল ১৩ বছরের নিশিয়া
পুলে ড্রেসেলের প্রথম স্বর্ণ, হেরে গেলেন লেডেকি

শেয়ার করুন