চলে গেলেন ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ 

চলে গেলেন ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ 

মিলখা সিং। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস জটিলতায় মারা গেছেন ৯১ বছর বয়সী মিলখা সিং। তার মৃত্যুর খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে শীর্ষ গলফার জিভ মিলখা সিং।

ভারতের কিংবদন্তি স্প্রিন্টার মিলখা সিং আর নেই। করোনাভাইরাস জটিলতায় মারা গেছেন ৯১ বছর বয়সী এই সাবেক অ্যাথলেট।

গত মাসে মিলখা ও তার স্ত্রী নিরমাল কউরের কোভিড ধরা পড়ে। কোভিড-সংক্রান্ত জটিলতায় গত সপ্তাহে মারা যান নিরমাল। আর শুক্রবার রাতে ভারতের চণ্ডীগড়ে মারা গেলেন মিলখা সিং।

তার মৃত্যুর খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেন তার ছেলে শীর্ষ গলফার জিভ মিলখা সিং। জিভ ছাড়াও তার মোনা সিং, আলিজা গ্রোভার ও সোনিয়া সানওয়ালকা নামের তিন মেয়ে আছে।

১৯২৯ সালে ভারতের গোভিন্দপুরার (বর্তমানে পাকিস্তানে) জন্মগ্রহণ করা মিলখা সিং কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জেতা ভারতের প্রথম অ্যাথলেট। ১৯৫৮ সালের কার্ডিফ গেমসে তিনি এই কৃতিত্ব দেখান।

২০০ মিটার, ৪০০ মিটার ও ৪x ৪০০ মিটার রিলেতে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ জিতেন মিলখা। ১৯৬০ রোম অলিম্পিকসে তিনি ফটো ফিনিশে চতুর্থ হয়ে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া করেন।

ভারত সরকারের কাছ থেকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার পান মিলখা। ‘দ্য ফ্লাইং শিখ’ নামে খ্যাত এই অ্যাথলেটের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীমিলখা সিংয়ের চলে যাওয়ায় আমরা মহান এক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারালাম, যিনি ভারতের মানুষের স্বপ্নের প্রতীক ছিলেন ও অগণিত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার প্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব লাখ লাখ মানুষের কাছে তাকে প্রিয় করে তুলেছিল। তার বিদায়ে অত্যন্ত ব্যথিত।’

মিলখা সিং নিজের বর্ণাঢ্য ক্রীড়াজীবন নিয়ে ‘দ্য রেইস অব মাই লাইফ’ নামের আত্মজীবনী লেখেন। যার ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরা তৈরি করেন ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ নামে জনপ্রিয় এক সিনেমা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হার্ভার্ড থেকে টোকিওর ট্র্যাকে

হার্ভার্ড থেকে টোকিওর ট্র্যাকে

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট গ্যাব্রিয়েলা টমাস অলিম্পিকসে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ছবি: টুইটার

টোকিও অলিম্পিকসের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ জয় করা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাব্রিয়েলা টমসন, হার্ভার্ডের নিউরো-বায়োলজির গ্র্যাজুয়েট। এখন মাস্টার্স করছেন ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের এপিডেমিওলজিতে।

টোকিও অলিম্পিকসে অন্যতম সেরা ইভেন্ট ২০০ মিটারের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় বুধবার। আধুনিক সময়ের অলিম্পিক গ্রেট জ্যামাইকার এলেইন টমসনের দৌঁড় দেখতে মুখিয়ে ছিল পুরো বিশ্ব।

পুরো বিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির হোস্টেলেও ভোরে উঠে পড়েন ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের চোখ অবশ্য বিশ্বসেরা তারকা এলেইন টমসনের দিকে ছিল না।

তারা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় সতীর্থ গ্যাব্রিয়েলা টমাসের জন্য। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে অনেকে একসঙ্গে বন্ধুর খেলা উপভোগ করার জন্যে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন।

বন্ধুদের হতাশ করেননি টমসন। ২১.৮৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে নেন ২৪ বছর বয়সী এই আমেরিকান।

এলেইন টমসনের সঙ্গে স্বর্ণের দৌঁড়ে পেরে না উঠলেও পেছনে ফেলেন আরেক জ্যামাইকান গ্রেট শেলি অ্যান ফ্রেজার-প্রাইসকে।

টমাসের এই সাফল্যের উদযাপন শুধু টোকিওতেই নয়, শুরু হয় ম্যাসাচুসেটসের হার্ভার্ডেও। যারা দুই বছর আগেও টমাসের সঙ্গে এক রুমে থাকতেন সেই বন্ধু-বান্ধবীরা মেতে ওঠেন উচ্ছ্বাসে।

পড়াশোনার পাশাপাশি অলিম্পিকস ট্র্যাকেও যে হার্ভার্ডের নাম উজ্জ্বল করছে তাদের প্রিয় ‘গ্যাবি’।

হার্ভার্ড থেকে টোকিওর ট্র্যাকে

১৯৯৬ সালে আটলান্টার জর্জিয়ায় জন্ম নেওয়া গ্যাব্রিয়েলা টমাসের ছোট থেকেই পড়াশোনার দিকে মন। জ্যামাইকান বাবা আর আমেরিকান মায়ের এক মেয়ে গ্যাবি। বড় হলে হয় ডাক্তার হবে না হলে প্রফেসর, এমনটা ভেবে নিয়েছিলেন সবাই।

তেমন ভাবাটাই ছিল স্বাভাবিক। গ্যাবির মা জেনিফার র‍্যান্ডল নিজেই ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি থেকে এজুকেশন অ্যান্ড সাইকোমেট্রিকসের ওপর পিএইচডি করে শিক্ষকতা করছেন।

পড়াশোনা বেশ ভালোই যাচ্ছিল টমসনের। হঠাৎ করেই টিভিতে একদিন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্প্রিন্টার অ্যালিসন ফিলিক্সের দৌঁড়। ২০০৫ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ২০১২ সালের অলিম্পিকস চ্যাম্পিয়ন ফিলিক্সের দৌঁড় দেখেই প্রথম তার ট্র্যাকে নামার সাধ জাগে।

হাই স্কুলে থাকতে দৌঁড়কে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নেন টমসন। জিতে নেন তার বয়স কোটার সবগুলো রেস। স্টেট পর্যায় থেকে পৌঁছে যান জাতীয় পর্যায়ে। নজরে আসেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের।

ততদিনে বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেছেন টমসন। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্টের চাপে ট্র্যাক ছাড়েননি। হার্ভার্ডের চার বছরে মোট ২২টি রেস জেতেন তিনি।

২০২০ সালে নিউরোবায়োলজি ও গ্লোবাল হেলথে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন তিনি। যোগ দেন জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে।

অলিম্পিকসের প্রস্তুতি শুরু হয় তখন থেকেই। নিজ দেশের হয়ে ট্রায়ালে দ্বিতীয় দ্রুততম ছিলেন টমসন। আর অলিম্পিকসের ২০০ মিটারে যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টারদের মধ্যে হলেন প্রথম।

টোকিও থেকে বাড়ি ফিরে আপাতত ট্র্যাক থেকে ছুটি নেবেন কয়েকদিন। বিশ্রামের পাশাপাশি আবারও যে শুরু করতে হবে পড়াশোনা।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের এপিডেমিওলজিতে মাস্টার্স করছেন টমসন। পিএইচডিও করতে চান একই বিষয়ে।

অলিম্পিকসে সুযোগ পেয়ে বলেছিলেন জীবনে তার স্বপ্ন অনেক বড় ট্র্যাকে সেরা হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও কিছু করে দেখানো।

ঠিক পথেই এগুচ্ছেন টমসন। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা আর ট্র্যাকে উল্কার বেগে ছোটা, সব কিছু মিলিয়েই সাফল্যের দিকে ছুটছে তার জীবন।

শেয়ার করুন

টানা দুই অলিম্পিকসে স্প্রিন্ট ডাবল এলেইন টমসনের

টানা দুই অলিম্পিকসে স্প্রিন্ট ডাবল এলেইন টমসনের

রেস জেতার পর জ্যামাইকার পতাকা নিয়ে টমসনের উদযাপন। ছবি: এএফপি

২১.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটার রেস শেষ করেছেন টমসন। টমসনের দিনে একই মিটে রৌপ্য জেতা ক্রিস্টিন এমবোম্বাও নিজ দেশ নামিবিয়ার অনূর্ধ্ব ২০ এর রেকর্ড ভেঙেছেন ২১.৮১ টাইমিং করে। ব্রোঞ্জ জেতেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাব্রিয়েল টমাস।

গত রোববার ১০০ মিটারে অলিম্পিকস ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততার টাইমিং গড়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন। দুই দিন পরও ২০০ মিটার মিটেও আলো ছড়ালেন জ্যামাইকার কুইন অফ স্প্রিন্ট এলেইন টমসন-হেরাহ। নিজের টাইমিংয়ের রেকর্ড ভেঙে এই মিটেও স্বর্ণ জিতে নিলেন এই স্প্রিন্টার।

এতেই হয়ে গেল ডাবল ধামাকা। রিও অলিম্পিকসের পর টোকিও। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ এর দুই আসরে ১০০ ও ২০০ মিটারের দুই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন জ্যামাইকান।

ট্র্যাকের সব আলো যেন সব টমসনকে ঘিরেই। সমর্থকদের হতাশ করেননি এই স্প্রিন্টার। ব্যক্তিগত ও জ্যামাইকার জাতীয় রেকর্ড ছাড়িয়ে মিট শেষ করে দুই হাত ছড়িয়ে জানান দিলেন, ধামাকাই তার প্রাপ্য।এদিন ২১.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটার রেস শেষ করেছেন টমসন।

টমসনের দিনে একই মিটে রৌপ্য জেতা ক্রিস্টিন এমবোম্বাও নিজ দেশ নামিবিয়ার অনূর্ধ্ব ২০ এর রেকর্ড ভেঙেছেন ২১.৮১ টাইমিং করে। ব্রোঞ্জ জেতেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাব্রিয়েল টমাস।

এ নিয়ে দুই অলিম্পিকস আসর মিলিয়ে চার স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ জিতলেন টমসন। এই আসরে আরেকটি স্বর্ণ জেতার আনন্দ নিয়ে দেশে ফেরার ‍সুযোগ রয়েছে টমসনের।

রিলেতে স্বর্ণ জিতলেই অলিম্পিকস ক্যারিয়ারে ৫ স্বর্ণ জেতা হবে এই জ্যামাইকানের।

শেয়ার করুন

ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাইলসকে

ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাইলসকে

ব্রোঞ্জ জয়ের পর চীনের দুই জিমন্যাস্টের সঙ্গে পোডিয়ামে সিমোন বাইলস (সর্বডানে)। ছবি: এএফপি

বিমে রিও অলিম্পিকসে স্বর্ণ জেতা বাইলস এবারে স্কোর করেন ১৪.০০০। ১৪.৬৩৩ পয়েন্ট স্কোর করে ইভেন্টের স্বর্ণ জিতে নেন চীনের চেনচেন কুয়ান। রোপ্য পদক পান কুয়ানের স্বদেশি তাং শিকিং। তার স্কোর ছিল ১৪.২৩৩।

৪টি ইভেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর মঙ্গলবার টোকিও অলিম্পিকসের ফ্লোরে নেমেছিলেন সিমোন বাইলস। যুক্তরাষ্ট্রের এই জিমন্যাস্টের ফিরে আসাটা সুখকর হয়নি। নারীদের বিম ইভেন্টে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিনি।

বিমে রিও অলিম্পিকসেও ব্রোঞ্জ জেতা বাইলস এবারে স্কোর করেন ১৪.০০০। ১৪.৬৩৩ পয়েন্ট স্কোর করে ইভেন্টের স্বর্ণ জিতে নেন চীনের চেনচেন কুয়ান। রোপ্য পদক পান কুয়ানের স্বদেশি তাং শিকিং। তার স্কোর ছিল ১৪.২৩৩।

জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতার শেষ দিন সবার নজর ছিল বাইলসের ওপর। রিও অলিম্পিকসের চার ইভেন্টের স্বর্ণ জয়ী এই জিমন্যাস্ট এবারের আসরে প্রথমবার মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন।

২৪ বছর বয়সী বাইলস টোকিওতে এসেছিলেন ৫টি স্বর্ণ জয়ের আশায়। নিজের প্রথম ইভেন্ট ভল্টের কোয়ালিফাইংয়ে অলিম্পিকসের সর্বনিম্ন স্কোর করার পর জানান মানসিক চাপে ভুগছেন তিনি। এরপরই সরে আসেন পরের দুই ইভেন্টের ফাইনাল থেকে।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার জানান টিম ইভেন্টের ফাইনালে খেলবেন না তিনি। এরপর নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ইন্ডিভিজুয়াল অলরাউন্ড ইভেন্ট থেকে।

নারীদের টিম ইভেন্টের ফাইনালে বাইলস না খেলায়, যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায়। আর স্বর্ণ জিতে নেয় রাশিয়া। আর ইন্ডিভিজুয়াল অলরাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেন বাইলসের সতীর্থ সুনিসা লি।

এরপর শনিবার সকালে চার অলিম্পিকস স্বর্ণজয়ী এই তারকা জানান রোববারের ভল্ট ও আনইভেন বারের ফাইনালেও তিনি খেলবেন না।

বাইলস সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে জানান এবারের আসরে ‘টুইস্টিজ’করতে সমস্যায় ভুগছেন তিনি। জিমন্যাস্টিকসে লাফিয়ে শূন্যে থাকার সময় শরীরকে ঘোরানোর বিশেষ কৌশল টুইস্টিজ।

বাইলস রিও অলিম্পিকসে ৪টি স্বর্ণ জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা জিমন্যাস্টের খেতাব পান।

শেয়ার করুন

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় করে বাস্কেটবলের সেমিতে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় করে বাস্কেটবলের সেমিতে যুক্তরাষ্ট্র

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে স্কোর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেভিন ডুরান্ট। ছবি: টুইটার

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জ্বলে ওঠেন এনবিএ সুপারস্টার কেভিন ডুরান্ট ও জেসন টেইটাম। ডুরান্ট স্কোর করেন ২৯ পয়েন্ট আর অ্যাসিস্ট করেন ৪টি। অন্যদিকে টেইটামের কাছ থেকে আসে ১৩ পয়েন্ট।

টোকিও অলিম্পিকস বাস্কেটবলে স্বর্ণ জয়ের আশা ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ৯৫-৮১ পয়েন্টে হারিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। একই দিন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্লোভেনিয়া। তারা কোয়ার্টার ফাইনালে ৯৪-৭০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জ্বলে ওঠেন এনবিএ সুপারস্টার কেভিন ডুরান্ট ও জেসন টেইটাম। ডুরান্ট স্কোর করেন ২৯ পয়েন্ট আর অ্যাসিস্ট করেন ৪টি। অন্যদিকে টেইটামের কাছ থেকে আসে ১৩ পয়েন্ট।

ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে ২১-১৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল স্পেন। তাদের তারকা খেলোয়াড় রিকি রুবিও পুরোটা ম্যাচে ভুগিয়েছেন আমেরিকানদের রক্ষণভাগকে। ম্যাচের সর্বোচ্চ ৩৮ পয়েন্ট স্কোর করেন এনবিএর দল মিনেসোটা টিম্বারউলভসে খেলা রুবিও। যার মধ্যে প্রথম কোয়ার্টারে তিনি স্কোর করে ১৩ পয়েন্ট।

তবে পরের তিন কোয়ার্টারে স্পেনকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। শেষ কোয়ার্টার শুরুর আগে টিম ইউএসএ এগিয়ে ছিল ৬৯-৬৩ পয়েন্টে। শেষ কোয়ার্টারে স্পেনের ১৮ পয়েন্টের বিপরীতে তারা করে ২৬ পয়েন্ট।

ফলে নিশ্চিত হয় তাদের শেষ চার। সেমিতে যুক্তরাষ্ট্র খেলবে অস্ট্রেলিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে।

আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়োরান ড্রাগিচের ২৭ ও এনবিএ তারকা লুকা ডনকিচের ২০ পয়েন্টের সহায়তায় জার্মানিকে ধসিয়ে দেয় স্লোভেনিয়া। ড্রাগিচ স্কোরিংয়ের পাশাপাশি ৬টি রিবাউন্ড নেন ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন। জার্মানির পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন ১১ পয়েন্ট স্কোর করা মাওডো লো।

২০০৮ সালের পর এই প্রথম অলিম্পিক বাস্কেটবলে কোয়ালিফাই করেছে জার্মানি। কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডার্ক নোভিটস্কির অবসরের পর তারা ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ দলের তকমা হারিয়ে ফেলে।

টোকিওতে তাদের সামনে সুযোগ ছিল সেটি ফিরে পাবার। কিন্তু স্লোভেনিয়ার দুরন্ত গতি ও গেম প্লের সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। ম্যাচ শেষে স্লোভেনিয়ার কোচ জানান ম্যাচটি কঠিন হবে এমনটা জেনেই মাঠে নেমেছিল তার দল। স্কোরলাইনে যেমনটা দেখা যাচ্ছে ম্যাচটা তার চেয়ে অনেক কঠিন হয়েছে অভিমত তার।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম সহজ হবে না। যদিও সবাই ভাবছিল আমরা সহজেই জিতে যাব কিন্তু ব্যপারটা এতটা সহজ নয়। ছেলেরে কোর্টে নিজেদের উজার করে খেলেছে। দলের জন্য রক্ত ঝরাতেও তারা প্রস্তুত।’

শেয়ার করুন

৪০০ মিটার হার্ডলসে বিশ্বরেকর্ড ওয়ারহোলমের

৪০০ মিটার হার্ডলসে বিশ্বরেকর্ড ওয়ারহোলমের

বিশ্বরেকর্ড ভেঙ্গে হতবাক কার্স্টেন ওয়ারহোলম। ছবি: এএফপি

ওয়ারহোলম নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েন। নরওয়ের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন টোকিওর ট্র্যাকে সময় নেন ৪৫.৯৪ সেকেন্ড। যা তার নিজের আগের বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে .৮ সেকেন্ড কম।

টোকিও অলিম্পিকসে প্রায় প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন রেকর্ড। এবারে ৪০০ মিটার হার্ডলসে নিজের গড়া বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নরওয়ের স্প্রিন্টার কার্স্টেন ওয়ারহোলম।

মঙ্গলবার সকালে ওয়ারহোলম নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েন। নরওয়ের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন টোকিওর ট্র্যাকে সময় নেন ৪৫.৯৪ সেকেন্ড। যা তার নিজের আগের বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে .৮ সেকেন্ড কম।

যুক্তরাষ্ট্রের রাই বেনজামিনও দৌঁড়েছেন অবিশ্বাস্য দ্রুত। ৪৬.১৭ সেকেন্ড নিয়ে রেস শেষ করার পরও, রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। ব্রাজিলের আলিসন দস সান্তোস ৪৬.৭২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন।

তিন স্প্রিন্টারই পুরনো অলিম্পিকস রেকর্ডের চেয়ে জোরে দৌঁড়েছেন। তবে বেনজামিন ও সান্তোসে পেরে ওঠেননি ওয়ারহোলমের দানবীয় গতির কাছে।

বিশ্বরেকর্ড ভাঙ্গার পর ট্র্যাকেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন এই নরওয়েজিয়ান। নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না টাইমিং।

রেস শেষে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টাই অবিশ্বাস্য লাগছে। আমার জীবনে এখন পর্যন্ত সেরা মুহূর্ত। আমি ও আমার কোচ এতদিন সময় অনুশীলন ও পরিশ্রমের পেছনে লাগিয়েছি তা সফল হলো।’

২৫ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার জানান টোকিওর ট্র্যাকে নামার আগে সবসময় শুধু এই রেসটা নিয়েই ভাবতেন।

বলেন, ‘আমি পাগলের মতো এটা নিয়ে ভাবতাম। ঘুমের মধ্যেও চিন্তা করতাম। সারাটা সময় মাথায় শুধু এটাই ঘুরতো। এই পদকটা পাওয়ার পর মনে হচ্ছে আমার পদক সংগ্রহ শেষ হলো।’

হার্ডলসের মতো এদিনে নারীদের লং জাম্পের পদকও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইভেন্টের ফেভারিট ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ব্রিটানি রিসকে হারিয়ে নারীদের লং জাম্পের স্বর্ণ জিতে নেন জার্মানি মালাইকা মিহাম্বো।

নিজের শেষ রাউন্ডের লাফের সময় ব্রোঞ্জ পদকের অবস্থানে ছিলেন মিহাম্বো। মৌসুমের সেরা ৭.০০ মিটার লাফিয়ে এক নম্বর জায়গায় চলে আসেন তিনি। দ্বিতীয় হন রিস ও ব্রোঞ্জ জেতেন নাইজেরিয়ার এসে ব্রুমে।

সাবেক চ্যাম্পিয়নকে হারানোয় উচ্ছ্বসিত মিহাম্বো বলেন, ‘আমার মতে এটাই নারিদের লং জাম্পের ইতিহাসে সবচেয়ে এক্সাইটিং প্রতিযোগিতা ছিল। আমি খুবই আনন্দিত এর অংশ হতে পেরে।’

শেয়ার করুন

২৫ বছর পর এশিয়ার বাইরে গেল ব্যাডমিন্টনের স্বর্ণ

২৫ বছর পর এশিয়ার বাইরে গেল ব্যাডমিন্টনের স্বর্ণ

স্বর্ণ পদক নিয়ে ভিক্টর আক্সেলসেন। ছবি: এএফপি

ফাইনালে চীনের চেন লঙকে সরাসরি দুই সেটে বলা যায় উড়িয়ে দিয়েছেন আক্সেলসেন। প্রথম সেটে ২১-১৫ হারানোর পর দ্বিতীয় সেটেও একেবারে পাত্তাই পাননি চেন।

অবিশ্বাস্য। দুর্দান্ত। এই বিশেষণগুলোই হয়তো মানায় ডেনমার্কের ভিক্টর আক্সেলসেনের জন্য। অলিম্পিকস ব্যাডমিন্টনের পুরুষ এককে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন লঙকে টোকিওতে অনায়াসে হারিয়ে স্বর্ণ লুফে নিয়েছেন ডেনমার্কের এই শাটলার।

দুই যুগেরও বেশি সময় পর এশিয়ার বাইরে গেল ব্যাডমিন্টনের এককের স্বর্ণ।একইসঙ্গে অলিম্পিকসে স্বর্ণ জেতার অধরা স্বপ্ন পূরণ হলো ভিক্টর আক্সেলসেনের।

পাঁচ বছর আগে রিও অলিম্পিকসে ব্রোঞ্জ জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। এবার দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে টোকিওতে আসেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা এই শাটলার।

ফাইনালে চীনের চেন লঙকে সরাসরি দুই সেটে বলা যায় উড়িয়ে দিয়েছেন আক্সেলসেন। প্রথম সেটে ২১-১৫ হারানোর পর দ্বিতীয় সেটেও একেবারে পাত্তাই পাননি চেন।

২১-১২ ব্যবধানে হেরে বিদায় সিলভার নিয়ে এবার খুশি থাকতে হয় রিও অলিম্পিকসে স্বর্ণ জেতা এই শাটলারের।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার অলিম্পিকস স্বর্ণ জিতে নিয়েছেন ভিক্টর আক্সেলসেন।

ম্যাচ জেতার পর খুশির কান্না থামাতে পারছিলেন না ডেনমার্কের শাটলার। চেন এসে অভিনন্দন জানান। পরে জার্সি বদল করেন দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড়।

১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকসে সবশেষ এশিয়ার বাইরের কেউ ব্যাডমিন্টনের এককে স্বর্ণ জিতেছিলেন। সেবারও স্বর্ণ জেতে ডেনমার্ক।

পল এরিক লারসেনের হাত ধরে আসে স্বর্ণ। তারপর একবার ইন্দোনেশিয়া ও চারবার স্বর্ণ জিতে রাজত্ব করে চীন।

শেয়ার করুন

অবশেষে ফ্লোরে ফিরছেন বাইলস

অবশেষে ফ্লোরে ফিরছেন বাইলস

গ্যালারি থেকে সতীর্থদের উৎসাহ দিচ্ছেন সিমোন বাইলস। ছবি: টুইটার

মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে জিমন্যাস্টিকসের সব ইভেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র জিমন্যাস্টিকস দল সোমবার এক বিবৃতিতে জানায় বাইলস শেষ দিনে নামছেন। নারীদের বিম ইভেন্টের চূড়ান্ত ৮ জনের মধ্যে বাইলস আছেন।

অবশেষে টোকিও অলিম্পিকসের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন সিমোন বাইলস। যুক্তরাষ্ট্রের এই জিমন্যাস্ট খেলবেন বিম ইভেন্টে।

মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে জিমন্যাস্টিকসের সব ইভেন্ট। আর শেষ দিনেই ফ্লোরে ফিরছেন বিশ্বের সেরা এই জিমন্যাস্ট। যুক্তরাষ্ট্র জিমন্যাস্টিকস দল সোমবার এক বিবৃতিতে জানায় বাইলস শেষ দিনে নামছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারীদের বিম ইভেন্টের চূড়ান্ত ৮ জনের মধ্যে বাইলস আছেন।

টোকিও অলিম্পিকসে ৫টি স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আসা বাইলস নিজের প্রথম ইভেন্ট ভল্টের কোয়ালিফাইংয়ে অলিম্পিকসের সর্বনিম্ন স্কোর করার পর জানান মানসিক চাপে ভুগছেন তিনি। এরপরই সরে আসেন পরের দুই ইভেন্টের ফাইনাল থেকে।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার জানান টিম ইভেন্টের ফাইনালে খেলবেন না তিনি। এরপর নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ইন্ডিভিজুয়াল অলরাউন্ড ইভেন্ট থেকে।

নারীদের টিম ইভেন্টের ফাইনালে বাইলস না খেলায়, যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায়। আর স্বর্ণ জিতে নেয় রাশিয়া। আর ইন্ডিভিজুয়াল অলরাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেন বাইলসের সতীর্থ সুনিসা লি।

এরপর শনিবার সকালে চার অলিম্পিকস স্বর্ণজয়ী এই তারকা জানান রোববারের ভল্ট ও আনইভেন বারের ফাইনালেও তিনি খেলবেন না।

বাইলস সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে জানান এবারের আসরে ‘টুইস্টিজ’ করতে সমস্যায় ভুগছেন তিনি। জিমন্যাস্টিকসে লাফিয়ে শূন্যে থাকার সময় শরীরকে ঘোরানোর বিশেষ কৌশল টুইস্টিজ।

মানসিক চাপের কারণে ভুগতে থাকা অবসাদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যেমন পারফরম্যান্স আমি করেছি তার পর আমার আর খেলতে ইচ্ছা করেনি। আমাকে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। আমার মনে হয় খেলাধুলায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অনেকটাই আলোচিত এখন। বিশ্ব যা চায় সেটা করার আগে আমাদের নিজেদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

২৪ বছর বয়সী বাইলস রিও অলিম্পিকসে ৪টি স্বর্ণ জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা জিমন্যাস্টের খেতাব পান।

শেয়ার করুন