ক্রীড়ামন্ত্রীর দাবি

সৌদি ক্রীড়া ফেডারেশন বোর্ডে ৩০ ভাগ সদস্য নারী

সৌদি ক্রীড়া ফেডারেশন বোর্ডে ৩০ ভাগ সদস্য নারী

সৌদি আরবের হয়ে প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেন স্প্রিন্টার সারাহ আত্তার। ফাইল ছবি

সৌদি আরবে নারীদের সর্বক্ষেত্রে অংশ নেয়ার অনুমতি নেই। ২০১৮ সালে প্রথমবার নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হয় দেশটিতে। একই বছর স্টেডিয়ামে খেলা দেখার অনুমতি পান সৌদি নারীরা।

সৌদি আরবের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর পরিচালক বোর্ডে ৩০ শতাংশ সদস্য নারী বলে দাবি করেছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী।

রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলাজিজ বিন তুর্কি আল-ফয়সাল এমন দাবি করেন।

আব্দুলাজিজ দেশটির অলিম্পিক কমিটিরও (এসএওসি) প্রধান।

তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা করে এমন দলের সংখ্যা ১৩ ভাগ থেকে বেড়ে ১৯ ভাগ হয়েছে। ৪৫০ দলের মধ্যে ২০০টিই নারীদের।’

দেশের জিডিপিতে ক্রীড়াক্ষেত্রেরও অবদান গত দুই বছরে ১৭০ ভাগ বেড়ে ৬৪ কোটি ডলার থেকে ১৭০ কোটি ডলার হয়েছে বলে জানান সৌদির ক্রীড়ামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্লাব ও ফেডারেশনে বিনিয়োগকারী হিসেবে বিদেশি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

সৌদি আরবে নারীদের সর্বক্ষেত্রে অংশ নেয়ার অনুমতি নেই। ২০১৮ সালে প্রথমবার নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হয় দেশটিতে। একই বছর স্টেডিয়ামে খেলা দেখার অনুমতি পান সৌদি নারীরা।

২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো সৌদির নারী অ্যাথলিটরা অংশ নেন। জুডো ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অংশ নেন তাদের দুই নারী অ্যাথলিট। পরেরবার রিওতেও সৌদি আরব নারী দল পাঠায়।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত নারীদের পরনে ছিল তিন খণ্ডের কালো বোরকা। অথচ আফগান নারীদের প্রচলিত বোরকা নীল রঙের এবং একখণ্ড কাপড়। ছবি: এএফপি

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি। সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও।

তালেবানের সমর্থনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে মোড়ানো নারীদের সমাবেশের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ওই সমাবেশ কাবুলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর।

সে সময় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, তালেবানের জেন্ডার বৈষম্যমূলক কট্টর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৩০০ নারী। কথিত ইসলামপন্থিদের সমর্থনে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে কথা বলেছিলেন নারী বক্তারা; শ্রোতার আসনে থাকা নারীরা উড়িয়েছিলেন তালেবানের পতাকা।

তালেবানের আরোপিত নিয়ম মেনে কঠিন রক্ষণশীল পোশাকে শিক্ষা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। হাতে গোনা কয়েকজন নীল রঙের বোরকা পরলেও বেশির ভাগই ছিলেন কালো নিকাবে। চোখ বাদে পুরো শরীর ঢাকা ছিল তাদের, চোখেও ছিল পাতলা কাপড়ের আবরণ, হাতে ছিল গ্লাভস।

সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন নারীর বরাত দিয়ে টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখানোর ওই আয়োজন পুরোটাই ছিল সাজানো।

তালেবান নারীদের অধিকার হরণ করছে বলে বিশ্বজুড়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা প্রমাণে নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল ওই সমাবেশে অংশ নিতে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, আফগান নারীরা তালেবানের শাসনে, নতুন কঠোর জীবনবিধানে সন্তুষ্ট।

সমাবেশে অংশ নেয়া নারী মারজানা (ছদ্মনাম)। আয়োজনে নিজের অংশ নেয়ার নেপথ্যের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন নিজ বাড়িতে বসেই। তাও শোনা যায় না এমন কণ্ঠে, রীতিমতো ফিসফিস করে কথা বলছিলেন তিনি। সে কণ্ঠেও স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বোরকা পরেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আমিসহ বাকিদের কালো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছিল। আমাদের পুরো মুখ ঢেকে ছিল ওই পোশাকে।’

সেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত হয়েছিলেন ওই নারীরা। তালেবানের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মারজানা আরও জানান, এক শিক্ষার্থীকে আগে লিখে রাখা একটি বক্তব্য লেকচার হলে পড়ে শোনাতে বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল বক্তব্যটি।

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি।

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।

ওই সমাবেশের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র এই তালেবান যোদ্ধাদের। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করায় আফগান সংবাদকর্মীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়েছিল তালেবান যোদ্ধারা।

সেই তালেবান যোদ্ধারাই আবার তাদের সমর্থনে হওয়া সমাবেশের খবর প্রচারে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়েছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও। বেশির ভাগ নারীই হাত গ্লাভসে আর চোখ-মুখ নিকাবে ঢেকে রেখেছিলেন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরা ছিলেন কালো বোরকা।

অর্থাৎ বহির্বিশ্ব, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে আফগান নারীদের বোরকা পরা নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, সেটাই স্পষ্ট ছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পোশাকে।

আরব বিশ্বে প্রচলিত কালো রঙের বোরকার তিনটি অংশ আলাদা- গলা থেকে পা পর্যন্ত একটি ঢোলা আলখাল্লা, মাথা ঢাকার কাপড় ও মুখ ঢাকার নিকাব। এ ধরনের পোশাকই পরেছিলেন সমাবেশে অংশ নেয়া বেশির ভাগ নারী।

অথচ আফগান নারীরা সাধারণত নীল রঙের বোরকা পরেন। আফগানিস্তানের প্রচলিত বোরকা মানে বিশাল একখণ্ড নীল রঙের কাপড়, যা দিয়ে নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত, এমনকি চোখও ঢাকা থাকে।

তালেবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেয়া আরেক নারী নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুখসহ সারা শরীর ঢেকে নিতে কালো রঙের বোরকাগুলো আমাদের তালেবান যোদ্ধারা দিয়েছিল। আমি পরতে চাইনি ওই পোশাক।

‘যখন বলেছিলাম যে আমি পরব না এই বোরকা, ওরা চিৎকার শুরু করল। মোট কথা, ওই পোশাক পরতে তারা আমাদের বাধ্য করেছে। তারপর চুপচাপ থিয়েটারে গিয়ে বসে থাকতে বলেছে।

‘বোরকার ভেতরে ঢোকার পর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শুনেছি।’

ছবি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বিশ্লেষণেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ওই সমাবেশ শুধু যে তালেবানের অনুমতিতে হয়েছিল তা-ই নয়, আয়োজনও করেছিল খোদ তালেবানই।

তালেবানের সমর্থনে ওই সমাবেশের এক বক্তা বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা ‘প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা আফগানিস্তানের মুখ নন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আফগান নারীদের মিথ্যা ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছিল টিআরটি। কিন্তু সাড়া পায়নি। তালেবানের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। সাড়া দেননি তারাও।

সমাবেশের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কয়েক শ আফগান নারী টুইটারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করেন। ‘ডু নট টাচ মাই ক্লোথস’ হ্যাশট্যাগে টুইটারে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন তারা।

টুইটারে বিবিসির সাংবাদিক সোদাবা হায়দারে বলেন, ‘এটাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমাদের তো ভাত খাওয়ার চালটাও রঙিন। একই রকম রঙিন আমাদের জাতীয় পতাকাও।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রায় ছয় বছর আফগানিস্তান শাসন করেছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলে মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জন, বেড়ানোসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল গোষ্ঠীটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। শুরুতে নব্বইয়ের দশকের মতো কঠোর নিয়ম চালু না করার আশ্বাস দিলেও সে কথা রাখেনি গোষ্ঠীটি।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নতুন শাসক গোষ্ঠী। রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সব স্কুল চালু হলেও স্কুলে যাচ্ছে না ছাত্রী ও শিক্ষিকারা।

ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন তালেবানশাসিত সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হলে নারীদের হিজাব পরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারজানা বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করার কিংবা কাজে ফেরার অনুমতি পাব কি না জানি না। স্পষ্ট করে কিছুই বলা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, কে জানে।’

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল।’

কুষ্টিয়ায় একটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা, ভেঙে ফেলা হয়েছে দুর্গাপূজার জন্য নবনির্মিত বেশ কিছু প্রতিমা।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার।

দুর্গাপূজা আয়োজনে ওই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল বলে জানায় জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ। পুরোনো কোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করেছে বলে ধারণা পরিষদের নেতাদের।

এর সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার পর মণ্ডপ কমিটির লোকজন প্রতিমা ঢেকে রেখে বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার এক নারী মণ্ডপের পাশে একটি প্রতিমার মাথা পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন।

পরে মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা গিয়ে দেখেন, দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তুহিন বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল। সবগুলো প্রতিমার ক্ষতি করা হয়েছে।’

তিনি ও মণ্ডপ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে এলাকার একটি গোষ্ঠির দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল। মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মুসলিম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন দেশটির রাজনীতিবিদরা। ভোটারদের সমর্থন পেতে হাতিয়ার করেছেন ইসলামভীতিকে; আশ্বাস দিচ্ছেন মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, মুসলিমদের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইসলামের ইতিহাসে ধর্মবিশ্বাসের দোহাই দিয়ে লড়াই করা মুসলিম নেতাদের কথা বলা বই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘নাবা এডিশন্স’। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব এবং তাদের অন্যতম দুই প্রধান লেখক আইসাম আইত ইয়াহইয়া ও আবু সোলাইমান আল কাবির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে প্যারিস।

মন্ত্রীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদকীয় নীতিমালা ‘সার্বজনীনতাবাদ-বিরোধী ও পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক’। জিহাদকে বৈধতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু বই প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এসব প্রকাশনার একটি হলো সপ্তম শতকের মুসলিম সেনা অধিপতি খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদের জীবনী।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসে বর্বরতার অভিযোগে বিতর্কিত বিভিন্ন চরিত্র ও ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব রয়েছে ফরাসি প্রশাসনের। কিন্তু দেশটিতে মুসলিমরা নিজেদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বই প্রকাশ করলে তা উগ্রবাদ হিসেবে গণ্য করে প্যারিস।

এক বিবৃতিতে নাবা এডিশন্স ফ্রান্সের এ ‘দ্বিমুখী আচরণের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি রাষ্ট্রের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আচরণ।

গত বছর ফ্রান্সের সর্ববৃহৎ মুসলিম দাতব্য সংস্থা বারাকা সিটি বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরে ইসলামভীতির বিরুদ্ধে কাজ করা পরামর্শক সংস্থা সিসিআইএফও ভেঙে দেয়া হয়। ফ্রান্সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা একমাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল সেটি।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল।

মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

আফগানিস্তানে শূন্য পড়ে আছে মেয়েদের স্কুল। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

আফগানিস্তানে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের স্কুলে যেতে নিষেধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের ছোট্ট একদল কিশোরী। শাসক দল তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৩ কিশোরীর সবার বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

তালেবানশাসিত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবার থেকে আফগানিস্তানে ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

তিন দিন ধরে মেয়েদের স্কুলগুলো শিক্ষার্থীশূন্য। এ অবস্থায় সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।

যদিও যে এলাকায় বিক্ষোভটি হয়েছে, সেখানে তালেবান তেমন সক্রিয় নয় বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভের খবর গোষ্ঠীটির কাছে পৌঁছায়নি। বিক্ষোভের খবর প্রচারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৭ বছর বয়সী নার্গিস জামশেদ বলে, ‘তালেবানকে যত দ্রুত সম্ভব আমাদের স্কুলগুলো খুলে দেয়ার অনুরোধ করছি। স্কুলে না যাওয়ার অর্থ হলো, আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব।’

১৮ বছরের শারারা শারওয়ারি বলে, ‘প্রতিটি মেয়েকে স্কুলে ফিরতে দেয়া হোক। প্রত্যেক নারীকে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেয়া হোক। এই একটিই দাবি আমাদের।’

আফগানিস্তানের টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকজন ছাত্রও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করেছে।

আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুল তো খুলে গেছে। মেয়েদের স্কুলগুলো খুলে দেয়া হলেও খুব ভালো হতো। ওদেরও দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরা দরকার।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবানের এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশজুড়ে লাখো ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

কাবুলের পশ্চিমে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী ফাতিমা জানায়, তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে আইনজীবী হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন দেখাও এখন নিষেধ।

ফাতিমা বলে, ‘আমার মনে হচ্ছে না যে আমি আফগানিস্তানের নাগরিক। মনে হচ্ছে আমাকে কয়েদির মতো ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকিলা তাওয়াক্কুলি জানান, ষষ্ঠ ও এর ওপরের শ্রেণিগুলোর চার হাজার ৭৪৫ জন শিক্ষার্থী এখন ঘরবন্দি।

আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৪ হাজার ৯৮টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল পাঁচ হাজার ৩৮৫টি, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে তিন হাজার ৭৮১টি স্কুলে এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল রয়েছে চার হাজার ৯৩২টি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ২৮ শতাংশ মেয়েদের স্কুল।

সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য সাইদ খোস্তি বলেন, ‘কিছু কারিগরি সমস্যা আছে। নীতি প্রণয়ন ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান করতে হবে।

‘কীভাবে মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। এসব সমস্যার সমাধান হলেই মেয়েরা স্কুলে ফিরবে।’

ছাত্রীরা বলছে, তালেবান বদলে গেছে বলে দাবি করলেও তাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নারী ও কিশোরীদের অধিকার।

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসক গোষ্ঠী। রোববার রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বাড়িতে থাকার আদেশ দেয় তালেবান।

নব্বইয়ের দশকে প্রথম দফার শাসনামলেও নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার বাতিল করেছিল তালেবান।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

কাবুলে তালেবানের বন্ধ করে দেয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে রোববারের এ বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছবি: এপি

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে নতুন শাসকদল তালেবান।

কাবুলের অন্তর্বর্তী মেয়র হামদুল্লাহ নামোনি দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পদের জন্য পুরুষ কর্মী না পাওয়া গেলে শুধু ওই পদে নারী কর্মীকে বহাল রাখা হবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ জারির ধারাবাহিকতায় রোববার আসে এ ঘোষণা। মেয়র জানান, কাবুলের নগর প্রশাসনের সব বিভাগ মিলে পদ প্রায় তিন হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশেই কর্মরত ছিলেন নারীরা।

নামোনি জানান, আপাতত এই নারী কর্মীদের ঘরে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। নকশা ও প্রকৌশলবিষয়ক বিভাগ ও নারীদের পাবলিক টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে পর্যাপ্ত পুরুষ কর্মী পাওয়া না গেলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসকগোষ্ঠী। এর প্রতিবাদে আজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে কয়েকজন নারী বিক্ষোভ করেন। জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেয়ার দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩০ বছর বয়সী বশিরা তাওয়ানা বলেন, ‘কেন তালেবান আমাদের সব অধিকার হরন করছে? আমাদের আর সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।’

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে সমাজে নারীরা সক্রিয় নয়, সেটা মৃত সমাজ।’

কিন্তু ওই বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তাতেই আলোচনার পর বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা গাড়িতে চড়ে চলে যান। সে সময় কাছেই দুটি গাড়িতে তালেবান সদস্যরা অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, তালেবানের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ছাড়াই আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে নানা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই রাখছে না গোষ্ঠীটি। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলের মতোই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার একে একে বাতিল করছে তারা।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

বাল্যবিয়ের আসর থেকে গ্রেপ্তার বর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি বসির আহম্মেদ বাদল জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানের জনক মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়। সেই বিয়ের আসরে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে যাওয়ায় দুই সন্তানের জনককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলার আয়নাতলী গ্রামে শনিবার রাত ১০ টার দিকে বাল্যবিয়ের আসরে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন।

নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসির আহম্মেদ বাদল।

তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ছয় মাস পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়।

বিয়ের জন্য কিশোরীকে নালিতাবাড়ীর আয়নাতলী গ্রামে তার নানার বাড়ি নেয়া হয়। সেখানে শনিবার রাতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ইউএনও হেলেনা পারভীন বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

তিনি বলেন, ‘পূর্ণ বয়স্ক ছেলের সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন অমানবিক।’

ওসি বসির আহম্মেদ জানান, মোশারফকে রোববার সকালে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার

শেয়ার করুন