জকোভিচের সমর্থন পেলেন ওসাকা

ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে নোভাক জকোভিচ। ছবি: এএফপি

জকোভিচের সমর্থন পেলেন ওসাকা

ফ্রেঞ্চ ওপেনে নিজের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জেতার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওসাকাকে সাহসী ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এই সার্বিয়ান গ্রেট।

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থেকে রক্ষা পেতে প্রেস কনফারেন্সে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে সোমবার রাতে ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন নারী এককের দুই নম্বর তারকা নেওমি ওসাকা।

তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত ক্রীড়বিশ্ব। খেলোয়াড়রা বলছেন নেওমি ঠিকই করেছেন আর আয়োজকেরা বলছেন বাজে একটা উদাহরণ তৈরি করেছেন এই জাপানিজ তারকা। তবে ওসাকাকে সমর্থন জানিয়েছেন পুরুষ এককের নাম্বার ওয়ান নোভাক জকোভিচ।

ফ্রেঞ্চ ওপেনে নিজের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জেতার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ওসাকাকে সাহসী ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এই সার্বিয়ান গ্রেট।

জকোভিচ বলেন, ‘আমি তাকে সমর্থন করি। সে যা করেছে তার জন্য সাহস দরকার। আমি শুনেছি যে কঠিন একটা সময় পার করছে ও মানসিক যন্ত্রনায় আছে। তার জন্য আমি দুঃখিত। তার পক্ষ থেকে খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। তার যদি মনে হয় সবকিছু নিয়ে ভাবার জন্য কিছু সময় দরকার তার তাহলে সেটাই করা উচিৎ। আশা করি আরও সবল হয়ে সে ফিরবে।’

নিজের প্রথম রাউন্ডের খেলায় সহজ জয় পেয়েছেন ১৮ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী জকোভিচ। আমেরিকার টেনিস স্যান্ডগ্রেনকে সরাসরি সেটে হারান তিনি। ৬-২, ৬-৪, ৬-২ গেমের জয়ে জকোভিচ ৩৩টি উইনার শট খেলেন ও পাঁচটি সার্ভ ব্রেক করেন।

একই দিন জয় পেয়েছেন তৃতীয় বাছাই রাফায়েল নাদাল। অস্ট্রেলিয়ান অবাছাই আলেক্সেই পপিরিনকে ৬-৩, ৬-২, ৭-৬ (৭-৩) গেমে হারান ২০ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক।

১৩ বার ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ী নাদালের এটি ছিল টুর্নামেন্টে ১০১ তম ম্যাচ জয়। মাত্র দুইটি ম্যাচ হেরেছেন এই স্প্যানিয়ার্ড।

ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শক কোর্টে ঢোকার অনুমতি দিলেও, কাল ফ্রেঞ্চ সরকার রাত নয়টায় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে জকোভিচ ও নাদালকে খেলতে হয়েছে খালি কোর্টে।

দর্শকশূন্য কোর্টে খেলার অভিজ্ঞতায় কিছুটা অবাক হলেও, জকোভিচ জানান ফ্রেঞ্চ ওপেনে প্রথম রাতের ম্যাচ খেলতে পেরে গর্বিত তিনি। বলেন, ‘কিছুটা অদ্ভূত ছিল বিষয়টা। কিন্তু টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রাতের বেলায় কোর্টে খেলা প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার।’

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা নিলেন দেশসেরা জহির-সানা-মাবিয়ারা

টিকা নিলেন দেশসেরা জহির-সানা-মাবিয়ারা

ছবি: সংগৃহীত

টিকা নেওয়া অ্যাথলিটদের মধ্যে ছিলেন টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা দেশসেরা আর্চার রোমান সানা, ওয়াইল্ড কার্ডে একই অলিম্পিকে অংশের সুযোগ পাওয়া দেশের চার শ মিটারে রেকর্ডধারী চ্যাম্পিয়ন জহির রায়হান ও দেশসেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের দেশসেরা অ্যাথলিটরা।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় সোমবার ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন তারা।

টিকা নেওয়া অ্যাথলিটদের মধ্যে ছিলেন টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা দেশসেরা আর্চার রোমান সানা, ওয়াইল্ড কার্ডে একই অলিম্পিকে অংশের সুযোগ পাওয়া দেশের চার শ মিটারে রেকর্ডধারী চ্যাম্পিয়ন জহির রায়হান ও দেশসেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

দেশ ও নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ জনগণকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্প্রিন্টার জহির।

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৩২ বছরের রেকর্ড ভাঙা এই অ্যাথলেট বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে এই ভ্যাকসিন নেয়া দরকার। সরকার এই সুযোগ করে যেহেতু করে দিচ্ছে, জনগণের উচিৎ ভ্যাকসিন নিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো। দেশের এমন পরিস্থিতিতে একটু হলেও প্রতিরোধ গড়তে ভ্যাকসিন নেয়া দরকার।’

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

দারুণ কামব্যাকে ফ্রেঞ্চ ওপেন জকোভিচের

দারুণ কামব্যাকে ফ্রেঞ্চ ওপেন জকোভিচের

ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা হাতে জোকোভিচ। ছবি: টুইটার

গ্রিসের সিসিপাসের বিপক্ষে ৬-৭, ২-৬, ৬-৩, ৬-২ ও ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে ক্যারিয়ারের ১৯তম গ্রান্ড স্ল্যাম জিতে নিলেন জোকোভিচ। একইসঙ্গে ২০ গ্রান্ড স্ল্যাম নিয়ে শীর্ষে থাকা দুই কিংবদন্তি  ফেডেরার ও নাদালের আরও কাছাকাছি চলে এলেন এই ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান।

নোভাক জকোভিচ এবারের রোলাঁ গারোঁয় এসেছিলেন বিগ থ্রির অন্য দুই গ্রেট রজার ফেডেরার ও রাফায়েল নাদালের সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যামের ব্যবধান কমাতে। ১৮ স্ল্যাম নিয়ে শুরু করা জকোভিচের চোখে ছিল ওই দুইজনের ২০টি টাইটেল।

সে লক্ষ্যে ফাইনালেও পৌঁছে যান তিনি। আর ফাইনালেই মুখোমুখি হলেন সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের।

ফাইনালে প্রথম দুই সেটে হেরে যাওয়ায় পর মনে হচ্ছিল জোকোভিচের ফাইনাল জেতা অসম্ভব। স্টেফানোস সিসিপাসের নামের পাশে প্রথম গ্রান্ড স্ল্যামের শিরোপাও দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু নামটা যে নোভাক জোকোভিচ।

পরের তিন সেটে জিতে দুর্দান্ত কামব্যাকে ফাইনাল জিতে নেন সার্বিয়ান টেনিস মহাতারকা।

গ্রিসের সিসিপাসের বিপক্ষে ৬-৭, ২-৬, ৬-৩, ৬-২ ও ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে ক্যারিয়ারের ১৯তম গ্রান্ড স্ল্যাম জিতে নিলেন জোকোভিচ। একইসঙ্গে ২০ গ্রান্ড স্ল্যাম নিয়ে শীর্ষে থাকা দুই কিংবদন্তি ফেডেরার ও নাদালের আরও কাছাকাছি চলে এলেন এই ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে ক্লে কোর্টের রাজা রাফায়েল নাদালের দুর্গ জয় করে জোকোভিচ প্রমাণ করে দেন কেন তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর। তবে ফাইনালে প্রথম দুই সেট খুইয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান দ্য জোকার।

প্রথম দুই সেটে নিজেকে খুঁজে না পাওয়া জোকোভিচ জান বাঁচানো তৃতীয় সেটে দারুণ ভাবে প্রত্যাবর্তন করে ৬-৩ গেমে জিতে নেন। চতুর্থ সেট জিতে ম্যাচে সমতায় ফেরেন। পঞ্চম ও ম্যাচ নির্ধারণী সেটে জিতে শেষ পর্যন্ত ক্লে কোর্টে নিজের জয় লিখেই কোর্ট ছাড়েন এই টেনিস খেলোয়াড়।

নিজের যোগ্যতার ওপরে ভরসা ছিল বলে দুর্দান্ত কামব্যাক সম্ভব হয়েছে বলে জানান জোকোভিচ, ‘এটা দারুণ একটা পরিবেশ ছিল। আমার কোচ ও ফিজিওকে ধন্যবাদ জানাব। একই সঙ্গে সবাইকে যারা এই ভ্রমণে আমার পাশে ছিলেন।’

‘গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় নয় ঘণ্টা খেলতে হয়েছে আমাকে। দুই জন গ্রেট চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। তিন দিনে দুই ম্যাচ খেলা শারীরিকভাবে অনেক কঠিন। কিন্তু আমি আমার যোগ্যতার উপর ভরসা রেখেছি। জানতাম আমি ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

২০১৬ সালের পর দ্বিতীয়বার ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জিতলেন জোকোভিচ।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

ফ্রেঞ্চ ওপেনের নতুন নারী চ্যাম্পিয়ন ক্রেইচিকোভা

ফ্রেঞ্চ ওপেনের নতুন নারী চ্যাম্পিয়ন ক্রেইচিকোভা

ফাইনাল জেতার পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন ক্রেইচিকোভা। ছবি: টুইটার

প্রথম সেটে ৬-১ ব্যবধানের সহজ জয়ে শুরু করেও দ্বিতীয় সেট একই ব্যবধানে হারেন বারবোরা ক্রেইচিকোভা। তবে তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন ডাবলসের সাবেক এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড়।

রোলাঁ গারোঁয় একটা ইতিহাসই হলো বলা যায়। ক্যারিয়ারে যে নারী টেনিস খেলোয়াড় সিঙ্গেলসের কোনো মেজর টুর্নামেন্টে চতুর্থ রাউন্ড পেরোতে ব্যর্থ হয়েছেন, পঞ্চমবারে এসে শুধু ফাইনাল নয়, গ্র‍্যান্ডস্ল্যামই জিতে গেলেন। তাতে ফ্রেঞ্চ ওপেনও পেল নতুন নারী চ্যাম্পিয়ন।

টুর্নামেন্টের অবাছাই টেনিস খেলোয়াড় চেক রিপাবলিকের বারবোরা ক্রেইচিকোভা হারিয়ে দেন ৩১ নম্বর বাছাই রাশিয়ার আনাসতাসিয়া পাভলুচেনকোভাকে।

তিন সেটের দুই সেট জিতে প্রথমবার গ্র‍্যান্ডস্ল্যামের খেতাব অর্জন করেছেন ক্রেইচিকোভা। প্রথম সেটে ৬-১ ব্যবধানের সহজ জয়ে শুরু করেও দ্বিতীয় সেট একই ব্যবধানে হারেন তিনি। তবে তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন ডাবলসের সাবেক এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড়।

রোববার আরেকটা খেতাব জেতার সুযোগ রয়েছে ক্রেইচিকোভার। ডাবলসের ফাইনালে কেটেরিনা সিনিয়াকোভার সঙ্গে জুটি বেঁধে গ্র‍্যান্ডস্ল্যাম জেতার সুযোগ রয়েছে তার।

চ্যাম্পিয়ন হলে ২১ বছরে প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে সিঙ্গেলস ও ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন ক্রেইচিকোভা। এর আগে ২০০০ সালে এই বিরল কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের মেরি পিয়ার্স।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার গ্রান্ডস্ল্যাম জেতার পর উচ্ছ্বসিত এই চেক তারকা বলেন, ‘এটা শব্দে প্রকাশ করা কঠিন, কারণ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না এটা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি গ্র‍্যান্ডস্ল্যাম জিতেছি।’

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

চার ঘণ্টার ক্ল্যাসিকে ফাইনালে জকোভিচ, নাদালের বিদায়

চার ঘণ্টার ক্ল্যাসিকে ফাইনালে জকোভিচ, নাদালের বিদায়

সেমি ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারানোর পর উচ্ছ্বসিত নোভাক জকোভিচ। ছবি: এএফপি

শেষ চারের ম্যারাথন লড়াইয়ে নাদালকে ৩-১ সেটে হারান শীর্ষ বাছাই নোভাক জকোভিচ। তৃতীয় বাছাই স্প্যানিয়ার্ডকে ৩-৬, ৬-৩, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ গেমে হারান জকোভিচ।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের ১৪তম শিরোপা আপাতত জেতা হচ্ছে না রাফায়েল নাদালের। ক্লে-কোর্টের রাজা এবারের আসরের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছেন। শেষ চারের ম্যারাথন লড়াইয়ে নাদালকে ৩-১ সেটে হারান শীর্ষ বাছাই নোভাক জকোভিচ।

তৃতীয় বাছাই স্প্যানিয়ার্ডকে ৩-৬, ৬-৩, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ গেমে হারান জকোভিচ। চার ঘণ্টার লড়াইয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ১০৮ নম্বর ম্যাচে মাত্র তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ পান নাদাল। টানা চার বছর শিরোপা জেতার পর, এই প্রথম হারলেন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী আধুনিক গ্রেট।

আধুনিক টেনিসের বিগ থ্রির দুইজনের লড়াইটা যে ক্ল্যাসিক কিছু একটা হতে যাচ্ছে, তার ধারণা পাওয়া যায় তৃতীয় সেটে। প্রথম দুই সেটে একটিতে নাদাল ও একটিতে জকোভিচ জেতায় তৃতীয় সেটেই সুযোগ ছিল এগিয়ে যাওয়ার।

সেই সুযোগ লুফে নেন জকোভিচ। টাইব্রেকে সেট জিতে ম্যাচে লিড নিয়ে নেন তিনি।

ক্লে-কোর্টের কিংবদন্তি নাদাল অবশ্য দমে যাননি তাতে। চতুর্থ সেটের জকোভিচকে ব্রেক করে ২-০ তে এগিয়ে যান তিনি। রোলাঁ গারোঁর ফিলিপ শাতিয়েঁ কোর্টে খেলা দেখারত অনুমতি পাওয়া হাজার পাঁচেক দর্শক যখন অপেক্ষায় পঞ্চম সেটের, তখনই কামব্যাক করেন জকোভিচ।

২-০ গেমে পিছিয়ে থাকার পর টানা ছয়টি গেম জিতে প্রমাণ দেন কেন তিনি ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান। প্রিয় বন্ধু রাফায়েল নাদালের বিপক্ষে খেলা ৫৮ ম্যাচে এটি ছিল জকোভিচের ৩০তম জয়।

ম্যাচ শেষে এই সার্বিয়ান জানান, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ ছিল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা এমন একটা ম্যাচ যেটা আমার সারা জীবন মনে থাকবে। আমার ক্যারিয়ারের সেরা তিন ম্যাচের একটি।‘

ক্লে-কোর্টের রাজাকে ফ্রেঞ্চ ওপেনে হারাতে নিজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হবে মন্তব্য করেন জকোভিচ। বলেন, ‘এই কোর্টে রাফাকে হারাতে হলে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। আর আজ রাতে আমি সেটাই করেছি।

‘বলে বোঝাতে পারব না কেমন লাগছে। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে কোনো চাপ নেই। কিন্তু চাপ ছিল। তবে এমন ম্যাচে চাপ একটা সুবিধা। কারণ এতে খেলোয়াড় হিসেবে আমার ও আমার দক্ষতার পরীক্ষা হয়।’

জকোভিচের সামনে সুযোগ থাকছে ১৯ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার। রোববারের ফাইনালে গ্রিসের স্টেফানোস সিসিপাসের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

কোরিয়ায় দুই রৌপ্য ও এক ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশের আর্চাররা

কোরিয়ায় দুই রৌপ্য ও এক ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশের আর্চাররা

কম্পাউন্ড মিশ্র দল। ছবি: সংগৃহীত

৭ হতে ১১ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আর্চারি দল (বিকেএসপি) অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের অর্জন দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ মেডেল।

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে চলছে আর্চারির এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের স্টেজ-১ এর আসর। পাঁচ দিনের টুর্নামেন্ট শেষে দুই ফাইনালে হেরে একটুর জন্য স্বর্ণ জেতা হয়নি বাংলাদেশের যুব আর্চারদের।

টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের অর্জন দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ মেডেল।

৭ হতে ১১ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আর্চারি দল (বিকেএসপি) অংশগ্রহণ করে।

শেষ দিনে কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টে ফাইনালে ১৪৬-১৫৫ স্কোরের ব্যবধানে কোরিয়ার কিম জঙ্গো ও এসও চাইওন জুটির কাছে হেরে রৌপ্য পদক অর্জন করে বাংলাদেশর শেখ সজিব ও পুস্পিতা জামান জুটি।

কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে ফাইনালে রুপা জেতে বাংলাদেশ।

শেখ সজিব, হিমু বাছাড় ও মো. আসিফ মাহমুদ এই তিনজনের জুটি ২০৫-২৩৫ স্কোরের ব্যবধানে কোরিয়ার চই ইয়ঙ্গী, ক্যাঙ ডংইয়ং ও কিম জঙ্গো জুটির কাছে হেরে যায়।

কোরিয়ায় দুই রৌপ্য ও এক ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশের আর্চাররা
কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে ফাইনালে রুপা জেতে বাংলাদেশ

অন্যদিকে রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রদীপ্ত চাকমা ও রজনী আক্তার জুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।

আগামী ১৩ জুন রাত ১০টা ৪০ মিনিটে আর্চারি দলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

সাক্কারির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন স্ফিয়নটেকের বিদায়

সাক্কারির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন স্ফিয়নটেকের বিদায়

ম্যাচ শেষে সাক্কারিকে (বাঁয়ে) অভিনন্দন জানাচ্ছেন স্ফিয়নটেক। ছবি: এএফপি

৬-৪, ৬-৪ গেমে ম্যাচ জিতে সাক্কারি নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনাল।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের নারী এককের কোয়ার্টার ফাইনালে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী ছিলেন আট নম্বর বাছাই ইগা স্ফিয়নটেক। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এই পোলিশ তারকা টানা দ্বিতীয় ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জয়ে ছিলেন ফেভারিট।

কিন্তু নিজের সেই ফেভারিট তকমা ধরে রাখতে পারেননি স্ফিয়নটেক। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ২০২০ এর চ্যাম্পিয়নকে। তাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছেন গ্রিসের মারিয়া সাক্কারি।

১৭ তম বাছাই সাক্কারি প্রথম সেটে ব্রেক নেন দুটি। ৬-৪ গেমে সেট জিতে ম্যাচে লিড নিয়ে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই তাকে ব্রেক করেন স্ফিয়নটেক। তবে ২-১ গেমে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে কামব্যাক করেন গ্রিক তারকা। ৬-৪ গেমে দ্বিতীয় সেট জিতে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমি ফাইনাল। এমন অর্জনে নিজেই অবাক সাক্কারি। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমি জানি না কী বলব। স্বপ্ন সত্যি হলো। দারুণ একটা অনুভূতি।’

শেষ চারে তার প্রতিপক্ষ চেকরিপাবলিকের বারবোরা ক্রেইচিকোভা। কোয়ার্টার ফাইনালে আমেরিকার কোকো গফগকে সরাসরি ৭-০ (৮-৬), ৬-৩ গেমে হারান অবাছাই ক্রেইচিকোভা। এটি এই চেক খেলোয়াড়েরও প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনাল।

পুরুষ এককে ছিল না কোনো অঘটন। প্রত্যাশিত ভাবেই জয় পেয়েছেন দুই সেরা তারকা রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জকোভিচ।
রোলাঁ গারোঁর শেষ আটে আর্জেন্টিনার ডিয়েগো শোয়ার্টজমানের বিপক্ষে এক সেট হারতে হয়েছে নাদালকে। শেষ পর্যন্ত ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-০ গেমে ম্যাচ জিতে সেমি নিশ্চিত করেন ১৩ বার ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ী নাদাল।

আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে শীর্ষ বাছাই নোভাক জকোভিচকেও খেলতে হয়েছে চার সেট। ইতালির মাত্তেও বেরেত্তিনিকে ৬-৩, ৬-২, ৬-৭ (৫-৭), ৭-৫ গেমে হারান সার্বিয়ান গ্রেট।

শীর্ষ বাছাই জকোভিচ ও তৃতীয় বাছাই নাদালের মধ্যে একজনই পৌঁছাতে পারবেন ফাইনালে। সেমিতেই মুখোমুখি হচ্ছে দুই বন্ধু।

পুরুষ এককের আরেক সেমিতে লড়বেন ষষ্ঠ বাছাই জার্মানির আলেক্সান্ডার এসফেরেফ ও পঞ্চম বাছাই গ্রিসের স্তেফানোস সিসিপাস।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন

দুই দিনে দুবার ভাঙল ১০ হাজার মিটারের রেকর্ড

দুই দিনে দুবার ভাঙল ১০ হাজার মিটারের রেকর্ড

বিশ্বরেকর্ডের পর টাইমিং ক্লকের সামনে লেতসেনবেত গিদে। ছবি: এএফপি

ইথিওপিয়ার দূরপাল্লার দৌড়বিদ লেতেসেনবেত গিদে ২৯ মিনিট ১.০৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করেন ১০ হাজার মিটার। যা কিনা আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ সেকেন্ড কম।

নারীদের ১০ হাজার মিটারের রেকর্ড দুই দিনের ব্যবধানে আবার ভাঙল। মঙ্গলবার রাতে ইথিওপিয়ার দূরপাল্লার দৌড়বিদ লেতেসেনবেত গিদে ২৯ মিনিট ১ দশমিক ০৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করেন ১০ হাজার মিটার। যা কিনা আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ সেকেন্ড কম।

নেদারল্যান্ডসের হ্যাঙেলোতে ইথিওপিয়ার অলিম্পিক ট্রায়ালে গিদে এই রেকর্ড ভাঙেন।

এর আগে সোমবার নেদারল্যান্ডসের স্বাগতিক দৌড়বিদ সিফান হাসান পাঁচ বছর পুরোনো রেকর্ড ভাঙেন। হ্যাঙেলোতেই হাসান টাইমিং করেন ২৯ মিনিট ৬ দশমিক ৮২ সেকেন্ড। সেটাও ছিল নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

২০১৬ রিও অলিম্পিকে ইথিওপিয়ার আলমাজ আয়ানা ২৯ মিনিট ১৭ দশমিক ৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করেন ১০ হাজার মিটার ট্র্যাক।

দৌড় শেষে গিদে জানান তার মাথায় ছিল বিশ্ব রেকর্ডের বিষয়টি। বিবিসিকে ২৩ বছর বয়সী এই ইথিওপিয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চাচ্ছিলাম। এই রেকর্ড আবারও ভাঙার চেষ্টা করব এবং টাইমিং ২৯ মিনিটের নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’

ট্রায়ালে গিদে ছিলেন পরিষ্কার ফেভারিট। স্বদেশি সিজিয়ে জেব্রেসেলামাকে প্রায় এক মিনিটের ব্যবধানে পেছনে ফেলে প্রথম হন তিনি।

হ্যাঙেলোতে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার ফলে গিদের কাছে এখন লং ডিস্টেন্স রানিংয়ের দুটি রেকর্ড আছে। ১০ হাজার মিটারে বিশ্ব রেকর্ড করার আগে পাঁচ হাজার মিটারেও বিশ্ব রেকর্ড তার নামে ছিল।

২০২০ সালে স্পেনের ভালেনসিয়ায় ১৪ মিনিট ৬ দশমিক ৬২ সেকেন্ডে পাঁচ হাজার মিটার দৌড়ান তিনি।

তার আগে ৫ ও ১০ হাজার মিটারের জোড়া রেকর্ড ছিল নরওয়ের ইংগ্রিড ক্রিস্টিয়ানসেনের। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জোড়া রেকর্ড ছিল তার দখলে।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের ম্যাচ জিতে সেমিতে জকোভিচ
ইতালিয়ান ওপেনের শেষ আটে জকোভিচ
ফেডেরারের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন জকোভিচ

শেয়ার করুন