নিজের প্রথম ইভেন্টেই জুয়েলের রেকর্ড

বাংলাদেশ গেমসে রেকর্ড গড়লেন এই সাঁতারু। ছবি: বিওএ

নিজের প্রথম ইভেন্টেই জুয়েলের রেকর্ড

২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২০১৯ সালে নিজের গড়া ২ মিনিট ১৬.১৩ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙ্গেছেন অন্যতম দেশসেরা এ সাঁতারু।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস সাঁতারে নিজের প্রথম ইভেন্টেই রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জুয়েল আহমেদ। ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২০১৯ সালে নিজের গড়া ২ মিনিট ১৬.১৩ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙ্গেছেন অন্যতম দেশসেরা এ সাঁতারু।

এ জন্য তার সময় লেগেছে ২ মিনিট ১৬.১২ সেকেন্ড।

মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সকাল ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাঁতারের উদ্বোধন করেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। করোনা পরিস্থিতির কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল অনাড়ম্বর।

রেকর্ডের পর জুয়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমার কাছে রেকর্ডের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সোনার পদক। শুরুটা ভাল হয়েছে। আশাকরছি, বাকি ইভেন্টগুলোতে ভাল করবো।’

কুষ্টিয়া থেকে উঠে আসা এ সাঁতারু আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নামে আয়োজিত হচ্ছে এ গেমস। বিশেষ এ আয়োজনে নিজের প্রথম ইভেন্টে রেকর্ড গড়তে পারাটা ছিল তৃপ্তির।’

রেকর্ড গড়ার পরও নিজের টাইমিংয়ে অবশ্য পরোপুরি সন্তুষ্ট নন জুয়েল আহমেদ, ‘করোনা পরিস্থিতির কারনে প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে। নইলে টাইমিংটা আরোও ভাল হতে পারতো।’

যোগ করেন, ‘বিরূপ পরিস্থিতিতেও আমার সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহায়তা করেছে। এ জন্য আমি কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টুম্পা যেন বাংলাদেশের ‘মাইকেল ফেলপস’

টুম্পা যেন বাংলাদেশের ‘মাইকেল ফেলপস’

ছবি: সংগৃহীত

সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসের আসরে সাঁতার ডিসিপ্লিনে টুম্পাও গুণে গুণে লুফিয়ে নিয়েছেন আটটি স্বর্ণ। ব্যক্তিগত পাঁচ আর রিলেতে তিন স্বর্ণসহ ১১ ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই পদক উপহার দিয়েছেন টুম্পা।

২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকস একটি কারণে স্মরণীয় হয়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ঘোষণা দিয়ে গুণে গুণে আটটি স্বর্ণ জয় করেন ওই আসরে। দেশের সাঁতারের রানী সোনিয়া আক্তার টুম্পা যেন সেই মাইকেল ফেলপসেরই প্রতিচ্ছ্ববি।

সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসের আসরে সাঁতার ডিসিপ্লিনে টুম্পাও ফেলপসের মতো গুণে গুণে লুফিয়ে নিয়েছেন আটটি স্বর্ণ।

শুধু এই আসরেই নয় গত ২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসের আসরে ছয়টি স্বর্ণসহ মোট ১০টা পদক জিতেছিলেন এই সাঁতারকন্যা। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন আরেক ধাপ।

ব্যক্তিগত পাঁচ আর রিলেতে তিন স্বর্ণসহ ১১ ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই পদক উপহার দিয়েছেন টুম্পা। সবমিলে বাংলাদেশ গেমস ক্যারিয়ারে ২১টি পদক জমা হলো তার ঝুঁলিতে।

যার ফলে দেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

১০ দিন ধরে চলা দেশের সর্ববৃহৎ আসরের ৩১ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় আট হাজার ক্রীড়াবিদের মধ্যে সর্বাধিক স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেটের নাম এখন সোনিয়া আক্তার টুম্পা।

এমন অর্জন হবে মোটেও ভাবেননি টুম্পা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগেও সত্যি ভাবিনি এতোগুলো পদক পাব। আমরা সেই অর্থে বেশি অনুশীলনই করতে পারেনি। ফিটনেসেরে দরকার ছিল অনেক। ধন্যবাদ দিতে হয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে। আমাদের জন্য শীতের মধ্যে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

সবমিলে বাংলাদেশ গেমস আসরের ক্যারিয়ারে ২১ পদক জিতেছেন টুম্পা। ছবি: সংগৃহীত

এবার ১১টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন টুম্পা। এতোগুলো ইভেন্টে অংশ নিতে হলে বিশ্ব সেরা ফিটনেসও থাকতে হয় একজন সাঁতারুর। সেটা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য।

বলেন, ‘আসিফ রেজা (সাঁতারু ও টুম্পার স্বামী) ও আমি দুজন একই সংস্থায় খেলছি। আমাদের অনুশীলনের ধরনও এক। অনুশীলনে একে অপরকে সহায়তা করছি। আসিফ এগিয়ে এসে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিচ্ছে। আমিও তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। আমরা পরস্পরকে উৎসাহিত করছি, অনুপ্রাণিত করছি।’

এমন সাফল্যের পেছনে তিন কোচ মাহবুবুর রহমান, রুবেল রানা, জুয়েল আহমেদ কৃতজ্ঞা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। পুলের মধ্যে রেখেছেন। সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। যার ফলে আমরা এই জায়গায় আসতে পেরেছি।’

টুম্পা শুধু নিজেই আলো ছড়াননি সাঁতার ডিসিপ্লিনে নৌ বাহিনীকেও চ্যাম্পিয়ন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশ গেমসের এই আসরে মোট ৪২ টি ইভেন্টে ৩৩টি স্বর্ণ, ২৪ টি রৌপ্য, ১৪টি ব্রোঞ্জসহ সর্বোচ্চ ৭১টি পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জন ৯টি স্বর্ণ, ১৭ রৌপ্য, ১৭ ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৩টি পদক।

বাংলাদেশ গেমসের এই আসরে মোট ৪২ টি ইভেন্টে ৩৩টি স্বর্ণ, ২৪ টি রৌপ্য, ১৪টি ব্রোঞ্জসহ সর্বোচ্চ ৭১টি পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

গত ফেব্রুয়ারিতে আরেক সাঁতারু আসিফ রেজার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন টুম্পা। স্বামী আসিফও সাঁতারের দ্রুততম মানব। নিজেও দ্রুততম মানবী। দু’জন দু’জনকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন জানান টুম্পা।

‘প্রতিযোগিতা চলাকালে আসিফের উপস্থিতি আমার জন্য বড় শক্তি, আসিফও আমাকে পাশে পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়। এটা দু'জনের জন্য খুবই ভাল লাগার বিষয়।’

২০০৩ সালে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে সাঁতার ক্যারিয়ার শুরু টুম্পার। ২০০৪ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হন। নিজের নামের পাশে কিংবদন্তি ফেলপসের নাম উচ্চারিত হওয়ার বিষয়কে সম্মানের সঙ্গে দেখছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে আরেক সাঁতারু আসিফ রেজার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন টুম্পা। দেশের দ্রুততম মানব-মানবী এখন এই জুটি। ছবি: সংগৃহীত

ফেলপসের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা জানান তিনি। বলেন, ‘রিও অলিম্পিকে ফেলপসের সাঁতার দেখেছিলাম। কী যে দারুণ এক অনুভূতি। আমার আইডলের নাম আমার পাশে উচ্চারিত হচ্ছে এটা অনেক অনুপ্রেরণার।’

এখানেই থেমে থাকতে চান না। সামনের টোকিও অলিম্পিকেও সুযোগ করে নিতে চান দেশের দ্রুততম মানবী। এজন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত অংশ নিতে চান তিনি।

বলেন, ‘বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনকে উদ্যোগী হয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে আমাদের। আমরা সারাবছর অনুশীলনের সুযোগ পাই না। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারলে সারাবছর প্রস্তুতির জন্য হলেও অনুশীলন করতে পারতাম। টাইমিং, ফিটনেস ও স্ট্যামিনা ভালো হতো।’

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

অনাড়ম্বর সমাপনীতে মশাল নিভল বাংলাদেশ গেমসের

অনাড়ম্বর সমাপনীতে মশাল নিভল বাংলাদেশ গেমসের

ছবি: বিওএ

শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে নিভে গেল মশাল। বাংলাদেশ আনসারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল দীর্ঘ ১০ দিন ধরে চলা দেশের সর্ববৃহৎ আসরের। এর মধ্য দিয়ে ৩১ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় আট হাজার ক্রীড়াবিদের মহামিলন ভাঙ্গল।

শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানের ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা ও বিওএ সহ-সভাপতি ও স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

চলমান করোনা মহামারির জন্য সমাপনী অনুষ্ঠান সীমিত আকারে আয়োজন করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। মাঠে দর্শক প্রবেশ নিষেধ ছিল। কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল না। মাঠে স্থাপিত দুটি বড় জায়ান্ট স্ত্রিনে দেখানো হয় অতিথিদের বক্তব্যের ভিজুয়াল।

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গেট উন্মুক্ত করা হয়।

সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এরপর জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠে। মাঠে স্থাপিত দু’টি জায়ান্ট স্ক্রিন্টে ভেসে উঠে লাল সবুজের পতাকা। জাতীয় সংগীতের পরপরই শুরু হয় অতিথিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।

৬টা ৫৫ মিনিটে গেমস আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিওএর সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সন্ধ্যা ৭টা ০৩ মিনিটে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

৭টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয় ৩১ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম পর্যন্ত মশাল যাত্রার চিত্র, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের শুভ উদ্বোধনী বক্তব্য এবং গত ৯ দিনে ৩১টি ডিসিপ্লনে গেমসে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়াশৈলীর বিভিন্ন খণ্ডচিত্র। ৭টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয় লেজার শো।

সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে অনুষ্ঠিত পায়রোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চিত্রপট, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে বিউগলে করুণ সুর বেজে বেজে উঠে। নিভে যায় মশাল। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ। সমাপ্তি ঘটে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের। ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা ৪১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

শেষ হলো বাংলাদেশ গেমসের গলফ ইভেন্ট

শেষ হলো বাংলাদেশ গেমসের গলফ ইভেন্ট

গলফ ইভেন্টের বিজয়ীরা। ছবি: সংগৃহীত

পুরুষ দলগত বিভাগে দুই রাউন্ডের খেলা শেষে অ্যামেচার গলফার মো. সাইফুল এবং মো. মুন্নার সমন্বয়ে গঠিত সাভার গলফ ক্লাব দল পারের চেয়ে ০৮ স্ট্রোক কম (১৪০ + ১৪০ = ২৮০) খেলে স্বর্ণপদক লাভ করেছে।

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০-এর গলফ ইভেন্ট শেষ হয়েছে শুক্রবার।

পুরুষ দলগত বিভাগে দুই রাউন্ডের খেলা শেষে অ্যামেচার গলফার মো. সাইফুল এবং মো. মুন্নার সমন্বয়ে গঠিত সাভার গলফ ক্লাব দল পারের চেয়ে ০৮ স্ট্রোক কম (১৪০ + ১৪০ = ২৮০) খেলে স্বর্ণপদক জিতেছে।

মো. সম্রাট শিকদার ও মো. শফিক বাখার সমন্বয়ে গঠিত কুর্মিটোল গলফ ক্লাব দল পারের চেয়ে ০৪ স্ট্রোক কম (১৪৩ + ১৪১ = ২৮৪) খেলে রানার্সআপ হয়ে রৌপ্যপদক এবং সৈনিক মো. সাহাব উদ্দিন ও সৈনিক মো. আবু বকর সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দল পারের চেয়ে ০২ স্ট্রোক কম (১৪২ + ১৪৪ = ২৮৬) খেলে দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়ে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে।

মহিলা দলগত বিভাগে এক রাউন্ডের খেলা শেষে সৈনিক জাকিয়া সুলতানা এবং সৈনিক লিমা আখতারের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহিলা গলফ দল পারের চেয়ে ০১ স্ট্রোক কম (৬৯ + ৭৪ = ১৪৩) খেলে স্বর্ণপদক জিতেছে।

সৈনিক সোনিয়া আখতার ও সৈনিক নাসিমা আখতারের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর মহিলা গলফ দল পারের সমান স্ট্রোক (৭৪ + ৭০ = ১৪৪) খেলে রানার্সআপ হয়ে রৌপ্যপদক এবং মিসেস তাহমিনা রহমান ও মিসেস তাসলিমা শিরিনের সমন্বয়ে গঠিত কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব মহিলা গলফ দল পারের চেয়ে ০৬ স্ট্রোক বেশি খেলে (৭৮ + ৭৩ = ১৫১) দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়ে ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছে।

পুরুষ এককে (গ্রস) তৃতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের মো. সম্রাট শিকদার পারের চেয়ে ০৪ স্ট্রোক কম খেলে (৭০+৭৩+৬৯ = ২১২) স্বর্ণপদক লাভ করেছে। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের অপর গলফার মোহাম্মাদ ফরহাদ পারের চেয়ে ০৩ স্ট্রোক বেশি (৭৩+৭৩-৭৩=২১৯) খেলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রৌপ্যপদক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. সাহাব উদ্দিন পারের চেয়ে ০৩ স্ট্রোক বেশি (৭২+৭৪-৭৩=২১৯) খেলে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে।

পুরুষ এককে (নেট) কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের মো. লিটন মণ্ডল পারের চেয়ে ০৫ স্ট্রোক কম (৭১+৭০+৭০=২১১) খেলে স্বর্ণ জিতেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মেহেদী হাসান পারের চেয়ে ০৪ স্ট্রোক কম (৭২+৭২+৬৮=২১২) খেলে দ্বিতীয় এবং কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের মো. সম্রাট শিকদার তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক জয় করেছেন।

মহিলা এককে (গ্রস) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক নাসিমা আক্তার পারের চেয়ে ০১ স্ট্রোক কম (৭১) খেলে স্বর্ণ জেতেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর মহিলা গলফার সৈনিক জাকিয়া সুলতানা পারের সমান (৭২) স্কোর খেলে রৌপ্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর মহিলা গলফার সৈনিক লিমা আক্তার ব্রোঞ্জপদক পান।

মহিলা এককে (নেট) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক জাকিয়া সুলতানা পারের চেয়ে ০৩ স্ট্রোক কম (৬৯) খেলে স্বর্ণপদক জিতেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর গলফার সৈনিক নাসিমা আক্তার পারের চেয়ে ০২ স্ট্রোক কম (৭০) খেলে দ্বিতীয় এবং কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের মিসেস তাসলিমা শিরিন পারের চেয়ে ০১ স্ট্রোক বেশি (৭৩) খেলে তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছেন।

জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি (বার), বিএসপি, বিজিবিএম, পিজিবিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি, সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সভাপতি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও সভাপতি বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা সেনানিবাসস্থ কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিজয়ীদের মাঝে পদক বিতরণ করেন।

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

জুডো ও কাবাডিতে সেরা আনসার-বিজিবি

জুডো ও কাবাডিতে সেরা আনসার-বিজিবি

উদযাপনে আনসার দলের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার (পুরুষ ও মহিলা) পদক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ আনসার। সর্বোচ্চ ৫টি স্বর্ণপদকসহ ৯টি পদক জিতেছে তারা।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের জুডো ডিসিপ্লিনের খেলা শেষ হয়েছে। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার শেষ দিনে শুক্রবার ৩টি ওজন শ্রেণির ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার (পুরুষ ও মহিলা) পদক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ আনসার। সর্বোচ্চ ৫টি স্বর্ণপদকসহ ৯টি পদক জিতেছে তারা।

প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল করিম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জুডো ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সরদার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, 'গত বছর বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস আয়োজন করার ইচ্ছা ছিল আমাদের। আরও বড় পরিসরে প্রায় ১০ হাজার ক্রীড়াবিদ নিয়ে আসরটি আয়োজন করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে আমরা তা পারিনি। এবার আমরা ৩১ ডিসিপ্লিনে ৫ হাজার ৩০০ ক্রীড়াবিদ নিয়ে আসরটি আয়োজন করেছি।'

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা ২০টি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম নির্মাণ করতে যাচ্ছি। সেটা হলে সেখানে গেমসের জুডো, উশু, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিসের মতো খেলাগুলো সহজেই আয়োজন করা যাবে। সেই চিন্তা থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। এবার জুডো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবাইকে আমি শুভচ্ছো জানাই। আমি আশা করি, তোমরা দেশের রত্নে পরিণত হবে। যারা স্বর্ণসহ অন্যান্য পদক পেয়েছো, সবাইকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন।’

শেষ দিন পুরুষ অনূর্ধ্ব-৭৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের নাদিম মোস্তফা। বিকেএসপির আনিসুর রহমান আকাশ জেতেন রৌপ্যপদক। যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক জেতেন জয়পুরহাট জেলার নওশের আলী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লিটন রায়।

পুরুষ ঊর্ধ্ব-৭৩ কেজিতে স্বর্ণপদক জিতেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মো. আবুল কালাম আজাদ। বিকেএসপির মাধব মোহন্ত জেতেন রৌপ্যপদক। যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক জেতেন বাংলাদেশ আনসারের মিজানুর রহমান ও ভিডিপির মো. আবু নাঈম।

মহিলা ঊর্ধ্ব-৫৭ কেজিতে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাহমিনা আক্তার লোপা। বাংলাদেশ আনসারের কাদের ফাহি জেতেন রৌপ্যপদক। যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক জেতেন বিকেএসপির অবনিকা হাসান ও ভিডিপির নুসাংপ্রু মারমা।

৭-৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা খেলোয়াড়রা ৫টি করে ১০টি ওজন শ্রেণিতে পদকের জন্য লড়েন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, বিকেএসপি, ঢাকা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শেরপুর, নোয়াখালী, জয়পুরহাট, ফেনী, বরগুনা, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডসহ মোট ২১টি দলের ৭৪ জন পুরুষ ও ৫৪ মহিলা খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন।

কাবাডিতে সেরা বিজিবি ও আনসার

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস কাবাডি ডিসিপ্লিনে পুরুষ বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অন্যদিকে নারী বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার ১৫-১৪ পয়েন্টে বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে।

কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বিজিবি ২৪-২২ পয়েন্টে হারিয়েছে বিমান বাহিনীকে। এই বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী।

অন্যদিকে নারী বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার ১৫-১৪ পয়েন্টে বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নেয়। এই বিভাগে ব্রোঞ্জপদক জিতেছে নড়াইল জেলা ও ফরিদপুর জেলা। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। এ সময় উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

মহিলা হকিতে চ্যাম্পিয়ন নড়াইল

মহিলা হকিতে চ্যাম্পিয়ন নড়াইল

স্বর্ণ জয়ের পর উদযাপনে নড়াইল মহিলা হকি দল। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে নড়াইলের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন নমিতা কর্মকার।

আন্তজেলা ও যুব গেমস চ্যাম্পিয়ন ঝিনাইদহকে ১-০ গোলে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস মহিলা হকির স্বর্ণপদক জিতেছে নড়াইল জেলা দল।

শুক্রবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে নড়াইলের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন নমিতা কর্মকার।

শেষদিকে ঝিনাইদহ বেশ কয়েকটি আক্রমণ করলেও নড়াইলের গোলরক্ষক কাজল বিশ্বাসের দৃঢ়তায় গোল দিতে পারেনি তারা।

নড়াইলের কোচ ওস্তাদ ফজলু জানালেন, 'মেয়েরা আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমার জীবনে রৌপ্য পদক পেয়েছি। এবার মেয়েরা স্বর্ণ উপহার দিয়েছে। মেয়েদের খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ওদেরকে ধরে রাখতে হবে।'

ঝিনাইদহের কোচ জামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য। কয়েকটি সহজ সুযোগ নস্ট হয়েছে। বড় ম্যাচে এমন সুযোগ বারবার আসে না। তারপরও মেয়েরা শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। ওদের স্পিরিট ধরে রাখতে হবে।’

মহিলা হকিতে দিনাজপুর জেলা দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক জিতেছে কিশোরগঞ্জ জেলা দল।

মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটেই রেশমা আক্তারের ফিল্ডগোলে এগিয়ে যায় কিশোরগঞ্জ জেলা দল।

এরপর আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ হলেও কিশোরগঞ্জের দখলেই বল বেশি ছিল। দিনাজপুর তিনটি ও কিশোরগঞ্জ ছয়টি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিশোরগঞ্জ।

দিনাজপুরের অধিনায়ক অর্পিতা পাল হতাশা জানিয়ে বলেন, 'একটা পদক পেলে ভালো হতো। জেলার সুনাম হতো। সবাই অনেক পরিশ্রম করেছি। আগামীতে আরো ভালো করার ইচ্ছা আছে।'

কিশোরগঞ্জের কোচ রিপেল ব্রোঞ্জ জিততে পেরে খুশি। তিনি জানান, 'গোল্ডের ইচ্ছা নিয়ে এসেছি। ব্রোঞ্জ পেয়েও খুশী। পদক কিংবা ট্রফি যত বেশি অর্জন হবে জেলা শহরগুলোতে তত বেশি মেয়েরা জড়িত হবে। জড়তা কাটবে। গেমসের পদক মানে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কিছু।'

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

ভারোত্তোলনের শেষ দিন পাঁচ রেকর্ড

ভারোত্তোলনের শেষ দিন পাঁচ রেকর্ড

নারীদের ৮৭ কেজি ওজন বিভাগে স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট ওজনে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তানিয়া খাতুন। নারীদের উর্ধ্ব-৮৭ কেজি ওজন বিভাগে স্ন্যাচে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ আনসারের সোয়াইবা রোকাইয়া।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের ভারোত্তোলন ইভেন্টের শেষ দিনে শুক্রবার নারী বিভাগে চার ও পুরুষ বিভাগে পাঁচ রেকর্ড হয়েছে।

নারীদের ৮৭ কেজি ওজন বিভাগে স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট ওজনে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তানিয়া খাতুন। নারীদের উর্ধ্ব-৮৭ কেজি ওজন বিভাগে স্ন্যাচে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ আনসারের সোয়াইবা রোকাইয়া।

পুরুষদের উর্ধ্ব-১০৯ কেজি ওজন বিভাগে স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট ওজনে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফরহাদ আলী। ১০৯ কেজি ওজন বিভাগের ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট ওজনে রেকর্ড গড়েছেন সেনাবাহিনীর আব্দুল্লাহ আল মোমিন।

ভারোত্তোলনের ২০ ইভেন্টে সমান, ১০টি করে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ আনসার।

৮৭ কেজি ওজন শ্রেণীতে তিন ক্যাটাগরিতে রেকর্ড গড়ে সোনা জয়ের পথে স্ন্যাচে ৬২, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৭৬, মোট ১৩৮ কেজি তুলেছেন তানিয়া খাতুন। রুপা জয়ী বাংলাদেশ জেলের সাকেরা খাতুন স্ন্যাচে ৫৩, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৬৩, মোট ১১৬ কেজি তুলেছেন। ব্রোঞ্জ জয়ী বাংলাদেশ আনসারের মিঞ্জু আক্তার স্ন্যাচে ৫১, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৬৪, মোট ১১৫ কেজি তুলেছেন।

নারীদের উর্ধ্ব-৮৭ কেজি ওজন বিভাগে সোনা জয়ের পথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাজনীন আক্তার মুন্নি স্ন্যাচে ৫৭, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৭২, মোট ১২৯ কেজি তুলেছেন। বাংলাদেশ আনসারের সোয়াইবা রহমান রাফা স্ন্যাচে রেকর্ড ৫৭ কেজি, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৭১, মোট ১২৮ কেজি তুলে রুপা জিতেছেন। ব্রোঞ্জ জয়ের পথে বাংলাদেশ জেলের মার্জিয়া আক্তার স্ন্যাচে ৫৪, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৫৫, মোট ১০৯ কেজি তুলেছেন।

পুরুষদের উর্ধ্ব-১০৯ কেজি ওজন বিভাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফরহাদ আলী তিন ক্যাটাগরিতে রেকর্ড গড়ার পথে স্ন্যাচে ১২১, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৭, মোট ২৬৭ কেজি তুলেছেন। রুপা জয়ের পথে বাংলাদেশ আনসারের তায়েফুর রহমান স্ন্যাচে ১১০, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪০, মোট ২৫০ কেজি তুলেছেন। ব্রোঞ্জ জয়ের পথে একই দলের সুদীপ্ত দাস স্ন্যাচে ১০০, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৩৮, মোট ২৩৮ কেজি তুলেছেন।

১০৯ কেজি ওজন বিভাগে সোনা জয়ের পথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আব্দুল্লাহ আল মোমিন স্ন্যাচে ১১৪, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে রেকর্ড ১৫১, মোট ওজনে রেকর্ড ২৬৫ কেজি তুলেছেন। রুপা জয়ের পথে বাংলাদেশ আনসারের এমরান হোসেন স্ন্যাচে ১১৪, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৫ সহ মোট ২৫৯ কেজি তুলেছেন। ব্রোঞ্জ জয়ের পথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর মোজাহিদ ফকির স্ন্যাচে ৯৬, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৫ মিলিয়ে মোট ২২১ কেজি তুলেছেন।

ভোরোত্তোলনের খেলা শেষে বাংলাদেশ আনসারের কোচ বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খেলোয়াড়রা সমান সুযোগ-সুবিধাই পান। এ আসরে বাংলাদেশ আনসারের খেলোয়াড়রা প্রত্যাশার চেয়ে ভাল করেছেন। তার কারন টানা অনুশীলন। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহায়তায় আমাদের খেলোয়াড়রা বছর জুড়েই অনুশীলনের মধ্যে থাকেন। ভারোত্তোলনে ভাল করতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই।’

তায়কোয়ানডোতে মাসুদ ও মাসুমের স্বর্ণ জয়

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে তায়কোয়ানন্ডো ইভেন্টে শুক্রবার স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাসুদ পারভেজ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মাসুম খান।

সিনিয়র পুরুষ অনূর্ধ্ব-৭৪ কেজি ওজন শ্রেনিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মাসুম খান ২০-১৭ স্কোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. নাসির পারভেজকে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জেতেন। এতে যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মো: জাহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আব্দুর রহিম।

সিনিয়র পুরুষ অনূর্ধ্ব-৮৭ কেজি ওজন শ্রেনিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মো. রাসেল খানকে ২৫-১৫ স্কোরে সেনাবাহিনীর মো.মাসুদ পারভেজকে হারিয়ে স্বর্ন জেতেন। এতে যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির আলমগীর এবং সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার মো. নয়ন।

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন

রোইংয়ের দুই স্বর্ণই কেরানীগঞ্জের

রোইংয়ের দুই স্বর্ণই কেরানীগঞ্জের

রোইংয়ে স্বর্ণ জয়ের পর উদযাপনে আলী নগর রোইং ক্লাব। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত রোইংয়ের পুরুষ ইভেন্টে আলী নগর রোইং ক্লাব ও নারীদের বিভাগে স্বর্ণ জিতেছে চুনকুটিয়া রোইং ক্লাব।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের রোইংয়ে পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই স্বর্ণ পদক জিতেছে কেরানীগঞ্জ।

শুক্রবার রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত রোইংয়ের পুরুষ ইভেন্টে আলী নগর রোইং ক্লাব ও নারীদের বিভাগে স্বর্ণ জিতেছে চুনকুটিয়া রোইং ক্লাব।

নারীদের বিভাগে অংশগ্রহণকারী তিনটি দলই ঢাকার। রৌপ্য জিতেছে ইউনিভার্সেল রোইং ক্লাব ও ব্রোঞ্জ জিতেছে নিউ ইয়ং স্টার রোইং ক্লাব। নারীদের প্রতি নৌকায় বৈঠা হাতে ছিলেন ছয় জন করে রোয়ার।

স্বর্ণ জয়ী নারী দলের দলপতি চঞ্চলা রায় পদক পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, অনুশীলনের সুযোগ পেলে আরও ভালো করতে পারতেন।

বাংলাদেশ রোইং ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য আজমেরী বেগম মুন্নি লকডাউনের মাঝে বঙ্গবন্ধুর নামে করা গেমস সফল হওয়ায় খুশি। রোইংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী তিনি।

পুরুষদের বিভাগে স্বর্ণ জয়ী আলী নগর রোইং ক্লাবের দলপতি মনির হোসেন বলেন, ‘করোনা শুরু হওয়ার পর গত দুবছর পানিতে বৈঠা হাতে নামা হয়নি। তারপরও ঐতিহাসিক এই গেমসে খেলতে পেরে সরকার এবং ফেডারেশনের কাছে কৃতজ্ঞ।’

আগামীতে আরো আরো বড় আসরে দেশের পতাকা হাতে খেলার স্বপ্ন দেখেন মনির।

পুরুষদের বিভাগে রৌপ্য জয় করেছে নিউ গাজী ক্লাব এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছে বরিশাল রোইং ক্লাব। পুরুষ বিভাগে এক একটি নৈকায় বৈঠা হাতে ছিলেন ১০ জন করে রোয়ার।

রোইং পদক তালিকা

পুরুষ বিভাগ (অংশগ্রহণকারী দল ৫টি)

স্বর্ণ- আলী নগর রোইং ক্লাব

রৌপ্য- নিউ গাজী রোইং ক্লাব

ব্রোঞ্জ- বরিশাল রোইং ক্লাব

নারী বিভাগ (তিন দল)

স্বর্ণ- চুনকুটিয়া রোইং ক্লাব

রৌপ্য- ইউনিভার্সেল রোইং ক্লাব

ব্রোঞ্জ- নিউ ইয়ং স্টার রোইং ক্লাব

আরও পড়ুন:
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ গেমস চলবে
ফেন্সিংয়ে তৃতীয় স্বর্ণ ইফতেখার আলমের
বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
ঢাকায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল
বাংলাদেশ গেমসের বাজেট ১৫ কোটি, প্রাধান্য স্বাস্থ্যবিধি

শেয়ার করুন