অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জকোভিচ

সব মিলিয়ে ২৮ বারে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলেছেন জকোভিচ। ছবি: টুইটার

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জকোভিচ

প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে জিতে দ্বিতীয় সেটে একটু সময় নিয়ে ৬-৪ গেমে জেতেন এই সার্বিয়ান। এই একটা সেটেই একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আসলান। তৃতীয় সেটে ৬-২ গেমে সহজ জয়ে ম্যাচ পকেটবন্দি করেন জকোভিচ।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিতে নোভাক জকোভিচের বিপক্ষে প্রথম সেটে ৩-৩ ব্যবধান করে ফেলেন রাশিয়ান আসলান কারাতসেভ। মনে হচ্ছিল, রাফায়েল নাদালের মতো বৃহস্পতিবারও হয়তো কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে এই সার্বিয়ানকে। সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় বার ফাইনালে পা রাখলেন জকোভিচ।

মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় সেমিতে আসলান কারাতসেভকে সরাসরি সেটে হারিয়ে সেমি জিতে নেন ১৭ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী।

কোয়ার্টার থেকে নাদালের বিদায়ের পর বৃহস্পতিবার নারী এককে সেমি থেকে ছিটকে যান সেরিনা উইলিয়ামস।

মহাতারকাদের পতনের দিনে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জয়ের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন জকোভিচ।

প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে জিতে দ্বিতীয় সেটে একটু সময় নিয়ে ৬-৪ গেমে জেতেন এই সার্বিয়ান। এই একটা সেটেই একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আসলান। তৃতীয় সেটে ৬-২ গেমে সহজ জয়ে ম্যাচ পকেটবন্দি করেন জকোভিচ।

এতে টানা দ্বিতীয় বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে যান এই আধুনিক গ্রেট। নবম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার মাত্র এক ধাপ দূরে আছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন।

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হকিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান, সমবণ্টন চায় ছোট ক্লাবগুলো

হকিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান, সমবণ্টন চায় ছোট ক্লাবগুলো

ছবি: সংগৃহীত

অনুদানের টাকা বণ্টন নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে ক্লাবগুলোর মাঝে সমবণ্টন হবে নাকি আগের লিগের চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপ ক্রমানুসারে টাকা বণ্টন হবে তা নিয়ে দ্বিধা চলছে।

খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির সম্বল প্রিমিয়ার হকি লিগ মাঠে নেই বছর তিনেক হলো। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) ও ক্লাবগুলোর মধ্যে মতের ঐক্য না থাকায় লিগ মাঠে নামানোই যেন মুশকিল হয়ে গেছে। এই অবস্থার পরিত্রাণে হকিতে এক কোটি টাকার অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুদানের টাকা বণ্টন নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে ক্লাবগুলোর মাঝে সমবণ্টন হবে নাকি আগের লিগের চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপ ক্রমানুসারে টাকা বণ্টন হবে তা নিয়ে দ্বিধা চলছে।

বড় ক্লাবদের চাওয়া, আগের লিগের ক্রমানুসারে টাকা বণ্টন করে দিতে। মাঝারি ও ছোট ক্লাবদের মত, লকডাউনের সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় টাকা সমবণ্টন করা হোক।

প্রিমিয়ারে মোট ১৩টি দল রয়েছে। মোহামেডান, আবাহনী, মেরিনার্স, ঊষা ক্রীড়া চক্র, সোনালী ব্যাংক, সাধারণ বীমা, বাংলাদেশ স্পোর্টিং, আজাদ, ওয়ান্ডারার্স, অ্যাজাক্স, দিলকুশা, ভিক্টোরিয়া, বাংলাদেশ পুলিশ।

এর মধ্যে ঊষা লিগে অংশ না নেয়ায় ও ওয়ান্ডারার্স পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকায় অবনমন হয়েছে। তাই এবার ১১ দল নিয়ে হবে প্রিমিয়ার লিগ।

আবাহনীর মাহবুব হারুন এক গণমাধ্যমকে জানান, ‘যেহেতু হকিতে এ জাতীয় চিন্তাভাবনা প্রথম সেহেতু বাহফের ভাবা উচিত কারা কত টাকার দল গঠন করে। পজিশন অনুপাতেই বণ্টন করা উচিত।’

আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের টুটুল কুমার নাগ ও অ্যাজাক্সের মঈনুজ্জামান পিলার বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই অসুবিধায় আছে। তারপরও লিগ খেলার জন্য সবাই প্রস্তুত। সে হিসেবে সমবণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবে। আর অবশ্যই বাহফেকে প্রক্রিয়া ঠিক করতে হবে।

বাহফে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: ইউসুফ বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি কিভাবে বণ্টন হবে। সভাপতি সাহেব যেহেতু অনুদান এনেছেন উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন কিভাবে কী করা হবে।’

এ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান বাহফের সাধারণ সম্পাদক। এরপরেই লিগ মাঠে নামানোর চিন্তা ফেডারেশনের।

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

দখলমুক্ত হয়নি কুষ্টিয়া হাইস্কুলের খেলার মাঠ

দখলমুক্ত হয়নি কুষ্টিয়া হাইস্কুলের খেলার মাঠ

প্রতিবছর প্রশাসন কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে এখানে চলে বাণিজ্য মেলা। এজন্য পুরো মাঠে তৈরি করা হয় স্থায়ী স্থাপনা। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মেলা আয়োজকদের এই বাণিজ্যিক চিন্তায় খেলাধূলা হারিয়ে গেছে মাঠ থেকে। কিশোর-যুবাদের খেলার জন্য মাঠটি পুরোপুরি খেলার উপযোগী করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে অচিরেই মাঠটি ফাঁকা করে খেলার উপযোগী করে দেয়া হবে।

কুষ্টিয়া হাইস্কুলের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি এক বছরের বেশি সময় ধরে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির বাণিজ্য মেলার জন্য স্থায়ীভাবে দখলে ছিল। প্রতিবছর প্রশাসন কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে এখানে চলে বাণিজ্য মেলা। এজন্য পুরো মাঠে তৈরি করা হয় স্থায়ী স্থাপনা। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মেলা আয়োজকদের এই বাণিজ্যিক চিন্তায় খেলাধূলা হারিয়ে গেছে মাঠ থেকে। কিশোর-যুবাদের খেলার জন্য মাঠটি পুরোপুরি খেলার উপযোগী করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে অচিরেই মাঠটি ফাঁকা করে খেলার উপযোগী করে দেয়া হবে।

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে নবাব সিরাজউদ্দোলা সড়কের পাশেই অবস্থিত কুষ্টিয়া হাইস্কুল। ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলের সঙ্গেই আছে বিশাল খেলার মাঠ। সাবেক শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া সংগঠকেরা বলছেন, মাঠটি খেলোয়াড় তৈরির সূতিকাগার ছিলো। কুষ্টিয়া থেকে যারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাল খেলার সুযোগ পেয়েছেন যারা তারা সবাই এই মাঠে অনুশীলন করতেন।

ঐতিহ্যবাহী মাঠে গত ১৮-২০ বছর ধরে আয়োজন করা হয় বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন মেলার। ২০২০ সাল থেকে বাণিজ্য মেলার জন্য মাঠটি স্থায়ীভাবে দখলে নিয়ে নেয় মেলার আয়োজকরা। গতবছর মার্চে এই মাঠে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে খেলার মাঠ মেলার মাঠ হিসেবে দখল হয়ে আছে।



একইসঙ্গে বিভিন্ন মার্কেট নির্মাণের কারনে মাঠটি কিছুটা সংকোচিতও হয়েছে। কুষ্টিয়া হাইস্কুলের মাঠে পুরোটাই মেলার অবকাঠামো হিসেবে ছিল। টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা মাঠ। বাঁশের তৈরি মেলার স্টল। বিভিন্ন জায়গায় এখনও পড়ে আছে ইট, কাঠ, বাঁশ এবং লোহার গাদা। বোঝার কোন উপায়ই নেই এটি একটি খেলার মাঠ। মাঝখানে ৬/৭ তলা উচ্চতার লোহার তৈরি বিশাল টাওয়ার তৈরি করা হয়। এটি খুলে ফেলা হলেও পুরো মাঠ জুড়েই বিছানো রয়েছে ইট। মেলার জন্য ইট দিয়ে তৈরি করা হয় যাতায়াতের রাস্তা। পাকা ভবনের সামনে রয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সাইনবোর্ড।

রয়েছে বিদ্যুত সংযোগের খুটি ও তার। পানির ফোয়ারার জন্য স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও টাইলসও বসানো হয়েছে। ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুত করা মাঠের গোল পোস্টও কোনমতে দাড়িয়ে আছে। গত বছরের শুরুতে এই মাঠে মেলার আয়োজন করতে এসব স্থাপনা বসানো হলেও তা এতোদিন অপসারণ করা হয়নি।

গত ২৭ মার্চ থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়। দুই দিনে চারিদিকের টিনের প্রাচীর খুলে ফেলা হয়। বাঁশ-কাঠের তৈরি স্টলগুলোও ভেঙ্গে ফেলা হয়। খুলে ফেলা হয় বিশাল টাওয়ার। এসবের কিছু মালামাল নিয়ে গেলেও বাকী সব মাঠের মধ্যেই স্তুপ করে রাখা আছে। এখানে-সেখানেও গাদা দিয়ে রাখা আছে বাঁশ, কাঠ, টিন ও লোহা। মেলার স্টল করার জন্য লোহার পাইপের খুঁটি এখনো রয়ে গেছে মাঠ জুড়ে।

এখন এরই ফাঁকে যে জায়গা তৈরি হয়েছে সেখানেই খেলছে শিশু-কিশোররা। সারা মাঠে নির্মাণ সামগ্রি এবং ইট থাকায় খেলতে আসা শিশু-কিশোররা আঘাতও পাচ্ছেন নিয়মিত। ইট বিছিয়ে তৈরি রাস্তাকে পিচ হিসেবে ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্রিকেট খেলাও শুরু হয়েছে।

এসব মালামাল, পাকা স্থাপনা ও বিছানো ইট সরাবে কি-না তা নিয়ে চিন্তিত স্কুল কর্তৃপক্ষ। কুষ্টিয়া হাইস্কুলের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, ‘এগুলো সরাতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। তারা না সরালে আমরা কী করতে পারি।’

কুষ্টিয়া জেলা দলের খেলোয়াড় ছিলেন তাজুল ইসলাম বাবু। তিনি স্মৃতিময় এই কুষ্টিয়া হাইস্কুলের মাঠ দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাঠে অনেক খেলেছি। এখন সেই মাঠ কই? এখানে দেখছি মেলার আয়োজন। মেলার সময় লটারী এবং জুয়ার কারণে কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করাই কঠিন হয়ে যায়। মাইকে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হয়।এখানে মাদকেরও আড্ডা বসছে। আমি দ্রুত এসবের দ্রুত উচ্ছেদ চাই, যেন খেলার মাঠ আগের মতো হয়, নতুন প্রজন্ম যাতে এখানে খেলার সুযোগ পায়।’

স্থানীয় যুবক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘খেলাধুলা করতে পারছি না মেলার কারণে। এক বছরের বেশি সময় ধরে মেলার এসব জিনিস রাখা। বাইরের ছেলেরা এসে এখানে মাদক সেবন করে।’

ক্রীড়া সংগঠক সাব্বির মোহাম্মদ বলেন, ‘এই মাঠটি ছিলো কুষ্টিয়ার খেলোয়াড়দের প্রাণকেন্দ্র। ছোট বেলা থেকেই এই মাঠে খেলার জন্য অপেক্ষা করতাম। বড় ভাইদের প্রাকটিস শেষ হলে আমরা একটু সুযোগ পেতাম। কিন্তু এই মাঠ এখন কষ্টের জায়গা। মাঠের যে দুর্দশা তা খুবই ব্যাথিত করে। এই মাঠ এখন দেখলে মনে হয় এটি খেলার নয়, মেলারই মাঠ।’

কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির সদস্য এসএম কাদেরী শাকিল বলেন, ‘স্কুলের যে সুন্দর পরিবেশ ছিলো বাণিজ্যিকীকরণের কারণে সেটি নষ্ট করে ফেলেছে। হাইস্কুল ঘিরে মার্কেট-দোকানপাট তৈরিসহ বাণিজ্যিক কাজেই শিক্ষকরা ব্যস্ত। লেখাপড়ার মান কমে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের নামে দুদকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের মামলা হয়েছে। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক, যারা দোষী তাদেরকে শাস্তি আওতায় আনা হোক। বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়রা এই মাঠে খেলেছেন। এখানে খেলেই কুষ্টিয়ার অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই খেলার মাঠিটিও বাণিজ্যিকীকরণ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমার দাবি মাঠটি রক্ষা করা হোক।’

অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিউজবাংলা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সঙ্গে। নিউজ বাংলাকে তিনি বলেন, ‘মাঠটি দ্রুতই উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এটি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির নামে মেলার জন্য বরাদ্দ নিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম বাদশা নামের এক ব্যাক্তি। তাকে মেলার মাঠ থেকে সব খুলে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তিনি মালামাল সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন। টাওয়ার খুলে ফেলা হয়েছে। সবকিছু সরিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত করতে সময় লাগবে।’

এই বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের নামে কোন মেলা বরাদ্দ নেয়া হয়না। আর করোনার কারণে এখন নতুন করে কোন মেলার অনুমতিও দেয়া হবে না। তাই মাঠ উন্মুক্ত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি। পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিতে পারেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।’

মেলার বরাদ্দ নেয়া জাহাঙ্গীর আলম বাদশা বলেন, ‘মালামাল সরানো শুরু হয়েছে। আমার যতো লোকসান হোক সব সরিয়ে দেব। রোজার মধ্য এ কাজ শেষ করব।’

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না সাবেক ‘মিস্টার বাংলাদেশের’

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না সাবেক ‘মিস্টার বাংলাদেশের’

ছবি: নিউজবাংলা

১৯৮১ থেকে ২০০০ সাল। টানা ২০ বছর তিনি শাসন করেছেন ভারোত্তোলনের কোর্ট। ১৯৮৫ সাল থেকে আনসারের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক পদক জিতেছেন। একসময় যার অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য হাজারও মানুষের দৃষ্টি আবদ্ধ করে রেখেছিল, যিনি দেশের জন্য বয়ে এনেছিলেন রাষ্ট্রীয় সম্মান; অসুস্থতা আজ তাকে উপহাস করছে।

একসময়ের কৃতী ওয়েট লিফটার রতন পাল। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা পত পত করে উড়িয়েছেন, বাজিয়েছেন জাতীয় সংগীত। ভারোত্তোলনে তার ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে ৮টি রেকর্ডসহ ১৬টি স্বর্ণ, ৩১টি রৌপ্য, ১২টি ব্রোঞ্জ আর আন্তর্জাতিক ২টি পদক।

বডিবিল্ডার্সে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খেতাবধারী কুষ্টিয়ার কৃতী খেলোয়াড় রতন কুমার পাল এখন ভালো নেই। ভুগছেন নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায়। অর্থাভাবে করাতে পারছেন না চিকিৎসা, সংসারেও টানাটানি।

কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট এলাকার দুই কক্ষবিশিষ্ট ছোট একটি বাড়িতে এক ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস রতন পালের।

অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে তিনি সাজিয়ে রেখেছেন তার গৌরবোজ্জ্বল দিনের আলোকচিত্র ও অর্জনের পদক-সনদ। এগুলোতে চোখ রাখলেই সেই উজ্জ্বল দিনগুলোতে ফিরে যান রতন পাল। তার মনে সবই জ্বলজ্বলে।

১৯৮১ থেকে ২০০০ সাল। টানা ২০ বছর তিনি শাসন করেছেন ভারোত্তোলনের কোর্ট। ১৯৮৫ সাল থেকে আনসারের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক পদক জিতেছেন। একসময় যার অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য হাজারও মানুষের দৃষ্টি আবদ্ধ করে রেখেছিল, যিনি দেশের জন্য বয়ে এনেছিলেন রাষ্ট্রীয় সম্মান; অসুস্থতা আজ তাকে উপহাস করছে।

অতিরিক্ত ভারোত্তোলনের জন্য তার হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে গেছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে কৃত্রিম হাঁটু সংযোজন করিয়েছেন অনেক দিন আগেই। পরে নানান রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। এখন আর ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। লাঠিভর দিয়ে সামান্য একটু হাঁটতে পারেন।

অস্পষ্ট উচ্চারণে রতন পাল বলেন, ‘পা বাঁকা হয়ে গেলে ভারতের ভেলোর থেকে অপারেশন করা হয়েছিল। তখনই আমার সব জমানো টাকা এবং সম্পত্তি শেষ হয়ে যায়। পরে দুইবার স্ট্রোক হয়েছিল। তখন জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দুইবার ১৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। আমার এখন কিছুই করার নেই। বসে পেপার পড়ি, খবর দেখি।

‘সংসার ঠিকমতো চালাতে পারছি না, ছেলে হিসাববিজ্ঞানে চতুর্থ বর্ষে পড়ছে। তার পড়ার খরচও দিতে পারি না। কুষ্টিয়া জিমন্যাস্টিক ক্লাব থেকে মাঝেমধ্যে ১-২ হাজার করে টাকা দেয়। অন্যরাও কিছু টাকা দেয়। এসবে আমার চলে না। চিকিৎসাও ভালমতো করাতে পারছি না।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান তিনি।

রতন পালের স্ত্রী যুথিকা রানী পাল জানান, ২০ বছর ধরে তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। হাঁটতে পারেন না, নিজ হাতে খেতেও পারেন না। তিনি এখন অসহায়। সংসার চালাবেন কী করে। তিনি দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। এখন তার বিপদেও রাষ্ট্রকে সহায়তা করা উচিত।

সরকারিভাবে রতন পালকে পৃষ্ঠপোষকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্য খেলোয়াড়রাও।

রতন কুমার পালকে তার নিজের ক্লাব কুষ্টিয়া জিমন্যাস্টিক ক্লাব থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

ক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ বাবু বলেন, ‘রতন পাল এই ক্লাবের গর্ব। তাকে সার্কের লৌহমানব বলা হতো। জিমন্যাস্টিক ক্লাব তার পাশে আছে, সামর্থ্য অনুযায়ী তাকেসহ অন্য অসহায় খেলোয়াড়দের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তার মতো কৃতী খেলোয়াড়কে এখন অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

যোগ করেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার অর্থ সহয়তা দেয়া হয়েছে, তবে তা সামান্য। নতুন করে অর্থ সহয়তা দেয়ার জন্য প্রস্তাবনাও দেয়া হয়েছে। এটা বছরে একবার। আসলে তার মাসে একটা অ্যামাউন্ট দরকার। এ জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা ক্রীড়ামন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টিতে আকর্ষণ করছি।’

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

‘জীবিকা সম্ভব নয় ব্যাডমিন্টনে’

‘জীবিকা সম্ভব নয় ব্যাডমিন্টনে’

ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আন্ত:ক্লাব ব্যাডমিন্টনের সময় নেয়া সাক্ষাৎকারে এনায়েত। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন এনায়েত বলেন, ‘জীবিকা হিসেবে ব্যাডমিন্টন এখনও ওই পর্যায়ে যায়নি। আপনি যদি সেরা হন তাহলে আপনি নিতে পারেন। তবে সংখ্যাটা খুব কম এই দেশে।’

ব্যাডমিন্টন খেলাকে কি জীবিকা হিসেবে নেয়ার পরিবেশ আছে দেশে? এই প্রসঙ্গটাই যেন ঘুরে ফিরে আসে দেশের ব্যাডমিন্টনে। কোচ-শাটলার আর ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে আছে সমালোচনা। মেধাবী শাটলারদের পরিচর্যায় অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন কম ওঠেনি।

এগুলোর মূলে কারা? কেনই বা এমন হচ্ছে? কীভাবে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব এসব নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবেক জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ও কোচ এনায়েত উল্লাহ খান।

সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

সহধর্মিনীকে নিয়ে ‘এনালিনা ব্যাডমিন্টন একাডেমি’ গড়েছেন। কীভাবে নিজস্ব অ্যাকাডেমি করার চিন্তা আসল?

আমাদের দেশের প্লেয়াররা সুবিধাবঞ্চিত আসলে। মজার বিষয় হলো, ১৬ কোটি মানুষের দেশে কোথায় ব্যাডমিন্টন খেলা হয় সেটা ১০ শতাংশ লোকও জানে না। এটা খুবই দুঃখজনক। কোচের অভাবে খেলোয়াড়দের ট্যালেন্ট যাতে অচিরেই শেষ না হয় সেই তাগিদ থেকে অ্যাকাডেমি করা।

কোচ নিয়োগ নিয়ে খেলোয়াড়-ফেডারেশনের মধ্যে অনেক দ্বন্দ্বের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এটা আসলে কেন হচ্ছে?

ফেডারেশনে যারা নীতি নির্ধারক আছেন ওনাদের ওপরে আসলে দায়িত্ব। ওনারা কাকে নিয়োগ করবেন এটা বোঝার একটা বিষয়। নিয়োগ যারা দিবেন পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত লোককে নিয়োগ দিলে এতো বিতর্ক হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা জায়গা করে নিচ্ছেন। বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

খেলাধুলার ভেতরে স্পোর্টিং মন-মানসিকতার মানুষ আসা উচিৎ। কর্মকর্তা বলেন সাবেক খেলোয়াড় বলেন এরা আসলে দেশের জন্য বেটার। রাজনৈতিক লোকজন আসলে তারা স্পোর্টস নিয়ে সেভাবে ভাবে না। স্পন্সর ম্যানেজ করতে পারলে ঠিক আছে তবে দিনশেষে ভালো সংগঠকের বিকল্প কিছু নেই।

আপনি নিজেও সাবেক দেশ সেরা খেলোয়াড়। কোচ হিসেবে কাজ করছেন এখন। বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনটা যে জায়গায় যাওয়ার কথা, সেভাবে কি এগোতে পেরেছে?

অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় বলেছেন। ব্যাডমিন্টনে আমাদের অ্যাকশন প্ল্যান যদি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে কার্যকর করা হয় আর ফেডারেশনের কর্মকর্তারা যদি দেশে পৃষ্ঠপোষকের ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে এসব সমস্যা থাকার কথা না। কর্মকর্তারা যদি সক্রীয়ভাবে কাজ করেন তাহলে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব।

ব্যাডমিন্টনের কোন জায়গায় হাত দেয়া দরকার দ্রুত?

প্রান্তিক পর্যায় থেকে শাটলার বাছাই করা হবে প্রথম কাজ। ধরেন বিভাগগুলো থেকে যদি চারজন করেও শাটলার বাছাই করেন তাহলে ৩২ জনকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা করলেও অনেক দূর আগানো সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।

ব্যাডমিন্টন দেশের একটা মৌসুমভিত্তিক খেলায় পরিণত হয়েছে। এ জায়গা থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

ভালো একটা প্রশ্ন করেছেন। ব্যাডমিন্টন কিন্তু মৌসুম ভিত্তিক গেম না। সারাবছরে খেলা যায় এমন একটি খেলা। এই জায়গা থেকে বের হওয়ার জন্য পেশাদারিত্বকে তৈরি করতে হবে। অভিভাবকরা যাতে মনে করেন ব্যাডমিন্টন খেললে ভালো কিছু করবে ছেলে-মেয়ারা এই বোধটা তৈরি করা। এখন ক্রিকেটের বিষয়ে তারা যেমনটা মনে করেন।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বমানের শাটলার রয়েছেন। সাবেক চ্যাম্পিয়ন শাটলার হিসেবে ঘুরেছেন দেশগুলোতে। মোটা দাগে কী পার্থক্য দেখেছেন?

আসলে আমাদের দেশে অনেক ট্যালেন্টেন্ড প্লেয়ার আছে। ভারতের দিকে তাকান। তাদের অনেক শাটলার এখন শীর্ষ ১০০ র‌্যাঙ্কিংয়ে আছে। ভারতের এই পরিকল্পনা কিন্তু ২০ বছর আগের। ওরা এখন অলিম্পিক ডমিনেট করছে। বিশ্ব ডমিনেন্ট করছে। ভারত যদি পারে তাহলে আমরা কেন নয়? এটা আমারও প্রশ্ন। আমাদের সমন্বয়হীনতার অভাব। গাইডেন্সের অভাব। নীতি-নির্ধারকরা সমন্বয় করে যদি যথার্থ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন তাহলে আমরা শর্ট টাইমের মধ্যে ভালো করব।

কী ধরনের কর্মপরিকল্পনার কথা বলছেন?

কর্মপরিকল্পনা তো বিভিন্ন ধরনের আছে। স্বল্প সময়ের, মোটামুটি সময়ের আর দীর্ঘমেয়াদী। আমাদের দেশে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা হয় নি। আমাদের দেশে ছয় মাসকে লং টার্ম বলে। এটাকে শর্টটার্মও বলা যায় না। আজকে লি চং বললে মালয়েশিয়া চেনে। লিন ড্যান বললে চীনকে চিনে। কারণ তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে। এমন উদ্যোগ সবার আগে নিতে হবে। লোক দেখানো প্ল্যান না করে দেশপ্রেম দেখান। আমাদের ট্যালেন্টদের নিয়ে যদি কাজ করা যায় তাহলে অবশ্যই এখান থেকে বিশ্ব মানের শাটলার বের হবে।

জীবিকা হিসেবে ব্যাডমিন্টন নেয়া যায় কী না?

জীবিকা হিসেবে ব্যাডমিন্টন এখনও ওই পর্যায়ে যায়নি। আপনি যদি সেরা হন তাহলে আপনি নিতে পারেন। বিভিন্ন ক্লাব থেকে মাসিক একটা বেতন পাবেন। আপনার জন্য স্পন্সরশিপ থাকবে। যদি ডায়নামিক হন তাহলে কোচ হিসেবেও ভালো করবেন। তবে সংখ্যাটা খুব কম এই দেশে।

ব্যাডমিন্টনে আশা দেখেন কী না?

কম সময়ের মধ্যে দেখতে পারব আশা করি। এখন যেভাবে ব্যাডমিন্টনের জাগরণ হয়েছে তাতে কম সময়ের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও কোচ জীবিকা হিসেবে বেছে নেয়ার মতো অবস্থায় দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

ব্যাডমিন্টনের উন্নয়নে কোচদের কাজে লাগিয়ে শাটলার তৈরিতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কি?

লেভেল ওয়ান সার্টিফিকেট পাওয়া কোচ আছে আমাদের দেশে ৩৪ থেকে ৩৭ জন কোচ। আর লেভেল টু তিনজনের আছে। কোচের কমতি নেই আমাদের। চাই ফেডারেশনের সঠিক কর্মপরিকল্পনা। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের শাটলার তৈরিতে এই কোচেরা কাজ করবেন।

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ গেমসে তিন রেকর্ড গড়া মাবিয়ার দৃষ্টি অলিম্পিকে

বাংলাদেশ গেমসে তিন রেকর্ড গড়া মাবিয়ার দৃষ্টি অলিম্পিকে

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে ছাড়িয়ে যান নিজের সে রেকর্ড। এ প্রতিযোগিতায় স্ন্যাচে ৮০, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০১, মোট ১৮১ কেজি তুলে তিন রেকর্ড গড়েন টানা দুই এসএ গেমসে সোনা জয়ী এ ভারোত্তোলক।

প্রতিনিয়ত নিজের সঙ্গে লড়াই করেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এবারোও নিজের সঙ্গে লড়াই করলেন। বাংলাদেশ আনসারের এ ক্রীড়াবিদ তিনটি জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে।

তিন বছর আগে আন্ত:সার্ভিস জাতীয় ভারোত্তোলনে ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে স্ন্যাচে ৭৯ কেজি, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০০ কেজি রেকর্ড গড়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে ছাড়িয়ে যান নিজের সে রেকর্ড। এ প্রতিযোগিতায় স্ন্যাচে ৮০, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০১, মোট ১৮১ কেজি তুলে তিন রেকর্ড গড়েন টানা দুই এসএ গেমসে সোনা জয়ী এ ভারোত্তোলক।

রেকর্ড গড়া মাবিয়া বলেন, ‘আমার রেকর্ড যেন জুনিয়রদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। প্রতিবছরই চেষ্টা করি নিজের রেকর্ডের চেয়ে ভালো করার।’

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে মাবিয়া বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে অলিম্পিক। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছি। আমার ফোকাসটা সেখানেই। মাঝে যেসব প্রতিযোগিতা আসবে, সেগুলো প্রস্তুতি মনে করেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

উল্লেখ্য, মাবিয়া ২০১৬ সালের গৌহাটি-শিলং এসএ গেমস এবং ২০১৯-এর কাঠমান্ডু-পোখরা এসএ গেমসে স্বর্ণ জয় করেন। পরপর দুই গেমসে এককে স্বর্ণজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী অ্যাথলেট তিনি।

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ গেমসে সেনাবাহিনীর ১১৫ স্বর্ণপদক

বাংলাদেশ গেমসে সেনাবাহিনীর ১১৫ স্বর্ণপদক

গেমসের ৩১টি ডিসিপিনের মধ্যে ২৩টি ডিসিপিনে অংশ নেয় সেনাবাহিনী। বরাবরের মতো ফুটবল, ভলিবল, হকি, রাগবি, ওয়াটারপোলোর মতো দলীয় খেলায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০’ প্রতিযোগিতায় ১১৫টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গেমসের ৩১টি ডিসিপিনের মধ্যে ২৩টি ডিসিপিনে অংশ নেয় সেনাবাহিনী। বরাবরের মতো ফুটবল, ভলিবল, হকি, রাগবি, ওয়াটারপোলোর মতো দলীয় খেলায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সিলেট জেলাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। ভলিবলে ৩-১ সেটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনাবাহিনী। ফাইনালে সেনাবাহিনীর রাগবি দল ৪২-০০ পয়েন্টে পরাজিত করে ঢাকা জেলাকে।

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ এর সাঁতার প্রতিযোগিতার ওয়াটারপোলো ইভেন্টের ফাইনালে সেনাবাহিনী ওয়াটারপোলো দল ৪-০ গোলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

জাতীয় দলের ৯ জন তারকা খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত নৌবাহিনী হকি দলকে ৭-৬ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনী আরচ্যারী দল ৪টি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও তিনটি তাম্র পদক অর্জন করে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। এছাড়া শুটিংয়ে ৮টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৫টি তাম্র পদক অর্জনের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

গল্ফ প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনী গলফ দল ৩টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্র পদক নিয়ে হয় অপ্রতিরোধ্য চ্যাম্পিয়ন। ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনী ব্যাডমিন্টন দল ২টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৪টি তাম্র পদক অর্জনের মাধ্যমে নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আনসারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

কারাতে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কারাতে দল ৯টি স্বর্ণ, ৬টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্র পদকসহ যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেনাবাহিনী উশু দল উশু প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা ইভেন্টে সর্বমোট ১২টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্র পদক অর্জন করে। যার মধ্যে পুরুষ উশু দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

সাইক্লিংয়ে ২১টি ইভেন্টের মধ্যে ১৮টি স্বর্ণপদক অর্জন করে সেনাবাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে ১০টি নতুন জাতীয় রেকর্ড। এছাড়া ভারোত্তোলন পুরুষ দল ও মহিলা দল সর্বমোট ১০টি স্বর্ণপদক, ৯টি রৌপ্য ও ১টি তাম্র পদক অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয়। যেখানে সেনাবাহিনী দল সর্বমোট ২১টি নতুন জাতীয় রেকর্ড করে।

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন

টুম্পা যেন বাংলাদেশের ‘মাইকেল ফেলপস’

টুম্পা যেন বাংলাদেশের ‘মাইকেল ফেলপস’

ছবি: সংগৃহীত

সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসের আসরে সাঁতার ডিসিপ্লিনে টুম্পাও গুণে গুণে লুফিয়ে নিয়েছেন আটটি স্বর্ণ। ব্যক্তিগত পাঁচ আর রিলেতে তিন স্বর্ণসহ ১১ ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই পদক উপহার দিয়েছেন টুম্পা।

২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকস একটি কারণে স্মরণীয় হয়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ঘোষণা দিয়ে গুণে গুণে আটটি স্বর্ণ জয় করেন ওই আসরে। দেশের সাঁতারের রানী সোনিয়া আক্তার টুম্পা যেন সেই মাইকেল ফেলপসেরই প্রতিচ্ছ্ববি।

সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমসের আসরে সাঁতার ডিসিপ্লিনে টুম্পাও ফেলপসের মতো গুণে গুণে লুফিয়ে নিয়েছেন আটটি স্বর্ণ।

শুধু এই আসরেই নয় গত ২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসের আসরে ছয়টি স্বর্ণসহ মোট ১০টা পদক জিতেছিলেন এই সাঁতারকন্যা। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন আরেক ধাপ।

ব্যক্তিগত পাঁচ আর রিলেতে তিন স্বর্ণসহ ১১ ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই পদক উপহার দিয়েছেন টুম্পা। সবমিলে বাংলাদেশ গেমস ক্যারিয়ারে ২১টি পদক জমা হলো তার ঝুঁলিতে।

যার ফলে দেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

১০ দিন ধরে চলা দেশের সর্ববৃহৎ আসরের ৩১ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়া প্রায় আট হাজার ক্রীড়াবিদের মধ্যে সর্বাধিক স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেটের নাম এখন সোনিয়া আক্তার টুম্পা।

এমন অর্জন হবে মোটেও ভাবেননি টুম্পা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগেও সত্যি ভাবিনি এতোগুলো পদক পাব। আমরা সেই অর্থে বেশি অনুশীলনই করতে পারেনি। ফিটনেসেরে দরকার ছিল অনেক। ধন্যবাদ দিতে হয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে। আমাদের জন্য শীতের মধ্যে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

সবমিলে বাংলাদেশ গেমস আসরের ক্যারিয়ারে ২১ পদক জিতেছেন টুম্পা। ছবি: সংগৃহীত

এবার ১১টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন টুম্পা। এতোগুলো ইভেন্টে অংশ নিতে হলে বিশ্ব সেরা ফিটনেসও থাকতে হয় একজন সাঁতারুর। সেটা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য।

বলেন, ‘আসিফ রেজা (সাঁতারু ও টুম্পার স্বামী) ও আমি দুজন একই সংস্থায় খেলছি। আমাদের অনুশীলনের ধরনও এক। অনুশীলনে একে অপরকে সহায়তা করছি। আসিফ এগিয়ে এসে আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দিচ্ছে। আমিও তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। আমরা পরস্পরকে উৎসাহিত করছি, অনুপ্রাণিত করছি।’

এমন সাফল্যের পেছনে তিন কোচ মাহবুবুর রহমান, রুবেল রানা, জুয়েল আহমেদ কৃতজ্ঞা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। পুলের মধ্যে রেখেছেন। সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। যার ফলে আমরা এই জায়গায় আসতে পেরেছি।’

টুম্পা শুধু নিজেই আলো ছড়াননি সাঁতার ডিসিপ্লিনে নৌ বাহিনীকেও চ্যাম্পিয়ন করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশ গেমসের এই আসরে মোট ৪২ টি ইভেন্টে ৩৩টি স্বর্ণ, ২৪ টি রৌপ্য, ১৪টি ব্রোঞ্জসহ সর্বোচ্চ ৭১টি পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জন ৯টি স্বর্ণ, ১৭ রৌপ্য, ১৭ ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৩টি পদক।

বাংলাদেশ গেমসের এই আসরে মোট ৪২ টি ইভেন্টে ৩৩টি স্বর্ণ, ২৪ টি রৌপ্য, ১৪টি ব্রোঞ্জসহ সর্বোচ্চ ৭১টি পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

গত ফেব্রুয়ারিতে আরেক সাঁতারু আসিফ রেজার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন টুম্পা। স্বামী আসিফও সাঁতারের দ্রুততম মানব। নিজেও দ্রুততম মানবী। দু’জন দু’জনকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন জানান টুম্পা।

‘প্রতিযোগিতা চলাকালে আসিফের উপস্থিতি আমার জন্য বড় শক্তি, আসিফও আমাকে পাশে পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়। এটা দু'জনের জন্য খুবই ভাল লাগার বিষয়।’

২০০৩ সালে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে সাঁতার ক্যারিয়ার শুরু টুম্পার। ২০০৪ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হন। নিজের নামের পাশে কিংবদন্তি ফেলপসের নাম উচ্চারিত হওয়ার বিষয়কে সম্মানের সঙ্গে দেখছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে আরেক সাঁতারু আসিফ রেজার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন টুম্পা। দেশের দ্রুততম মানব-মানবী এখন এই জুটি। ছবি: সংগৃহীত

ফেলপসের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা জানান তিনি। বলেন, ‘রিও অলিম্পিকে ফেলপসের সাঁতার দেখেছিলাম। কী যে দারুণ এক অনুভূতি। আমার আইডলের নাম আমার পাশে উচ্চারিত হচ্ছে এটা অনেক অনুপ্রেরণার।’

এখানেই থেমে থাকতে চান না। সামনের টোকিও অলিম্পিকেও সুযোগ করে নিতে চান দেশের দ্রুততম মানবী। এজন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত অংশ নিতে চান তিনি।

বলেন, ‘বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনকে উদ্যোগী হয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে আমাদের। আমরা সারাবছর অনুশীলনের সুযোগ পাই না। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারলে সারাবছর প্রস্তুতির জন্য হলেও অনুশীলন করতে পারতাম। টাইমিং, ফিটনেস ও স্ট্যামিনা ভালো হতো।’

আরও পড়ুন:
সেরিনার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ওসাকা
শীর্ষ বাছাই বার্টিকে হারিয়ে চমক মুকোভার
‘মেজাজ হারালেও’ ম্যাচ হারাননি জকোভিচ
সেমিতে মুখোমুখি সেরিনা-ওসাকা
ঘাম ঝরিয়ে জিতলেন হালেপ, সেরিনা ও ওসাকা

শেয়ার করুন