20201002104319.jpg
২০২০-এ নাদালের ২০ ও তারা তিনজন

২০২০-এ নাদালের ২০ ও তারা তিনজন

নাদালের খেলার যে দুটি দিক সবার আগে চোখে ধাক্কা দেয়, তা হলো প্রচণ্ড শারীরিক সক্ষমতা আর তীব্রতা, বাংলায় না বলে ফিজিক্যালিটি ও ইনটেনসিটি বললে বোধ হয় ব্যাপারটা আরও ভালো বোঝানো যায়।

চার বছর আগে রাফায়েল নাদাল যখন দশম শিরোপার স্বপ্ন চোখে নিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনে নামছেন, আন্ড্রে আগাসি তাঁকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। বঙ্গানুবাদ করলে যা মোটামুটি এমন দাঁড়ায়:

'রাফা, একবার ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতার কঠিন কাজটা করতে গিয়েই আমার প্রায় পুরো ক্যারিয়ার লেগে গেছে। আজ তোমাকে দশমবারের মতো তা জেতার চেষ্টা করতে দেখাটা শুধু চমকপ্রদই নয়, অসম্ভব অনুপ্রেরণাদায়ীও। তুমি আমাদের মনে এই বিশ্বাসটা ছড়িয়ে দিয়েছ যে, জীবনে যেকোনো কিছুই অর্জনযোগ্য এবং অসম্ভব বলে আসলে কিছু নেই।'

দশবার জেতার কথা ভেবেই এমন বিস্ময়াভূত আন্দ্রে আগাসি রোলাঁ গারোঁর লাল মাটির কোর্টে নাদালকে ১৩তম বারের মতো ট্রফি হাতে নিতে দেখার পর কী বলবেন! নতুন আর কী-ইবা বলার আছে! নিজে ৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন। একটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের আড়ালে কত রক্ত-ঘাম লুকিয়ে থাকে, আগাসির তা ভালোই জানা। সেখানে ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম, এর ১৩টিই আবার এক টুর্নামেন্টে! বিস্ময়ে আগাসি হয়তো বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।

কোনো মনুষ্যের পক্ষে ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা যে সম্ভব, একজন অবশ্য আগেই তা প্রমাণ করে ফেলেছেন। ফ্রেঞ্চ ওপেনে 'আনলাকি থার্টিন'কে নাদালের 'লাকি থার্টিন' বানিয়ে ফেলতে দেখে আসল কথাটাও বলে দিয়েছেন তিনিই। নাদালের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী রজার ফেডেরার।

চোটের কারণে ফ্রেঞ্চ ওপেনে খেলতে পারেননি। টেলিভিশনে দেখে থাকবেন নাদাল-কাব্যের সর্বশেষ অধ্যায়, তাঁর অধিকারে থাকা সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপাজয়ের রেকর্ডটাতে ভাগ বসানো। অভিনন্দন জানানো টুইটে ১৩ বার ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়টাকে শুধু টেনিসের সীমায় বেঁধে না রেখে ‘ক্রীড়া ইতিহাসেই সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছেন ফেডেরার।নাদান ও ফেডেরার

যথার্থ স্বীকৃতিই। টেনিস ইতিহাসে এর তুল্য কিছু খুঁজে পেলে তো! সব মিলিয়ে ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেই যেখানে গ্রেটদের সারিতে নাম লিখিয়ে ফেলা যায়, সেখানে একটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টই ১৩ বার জেতাটাকে অবিশ্বাস্য বললেও তো কম বলা হয়! ক্লে কোর্টে সর্বকালের সেরার স্বীকৃতি পাওয়া হয়ে গেছে আগেই, ২০তম শিরোপা জয়ের পর এখন প্রশ্ন ওঠে যাচ্ছে, সব মিলিয়েই কি রাফায়েল নাদাল টেনিস ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়?

এই তর্কে যাওয়ার আগে রোলাঁ গারোঁর সঙ্গে নাদালের প্রেমকাহিনিটা একটু বলে নেওয়া ভালো। আন্দ্রে আগাসির যে চিঠি দিয়ে লেখাটা শুরু, সেই বছর কিন্তু নাদালের ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতা হয়নি। আগের ১১টি টুর্নামেন্টে নয়বারের চ্যাম্পিয়নকে কেউ হারাতে পারেননি, নাদাল হেরেছিলেন ইনজুরির কাছে। বাঁ হাতে খেলেন, সেই বাঁ হাতেরই কব্জির চোট অসহনীয় হয়ে ওঠায় সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের আগে। যে চোট তাঁর ক্যারিয়ারের পাশেই বড় একটা প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছিল।

গ্রেট খেলোয়াড়দের কিছু গুণ তো কমনই থাকে। তারপরও একেক জনের খেলা একেকটা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। নাদালের খেলার যে দুটি দিক সবার আগে চোখে ধাক্কা দেয়, তা হলো প্রচণ্ড শারীরিক সক্ষমতা আর তীব্রতা, বাংলায় না বলে ফিজিক্যালিটি ও ইনটেনসিটি বললে বোধ হয় ব্যাপারটা আরও ভালো বোঝানো যায়। নাদাল যখনই ইনজুরিতে পড়েছেন, অবধারিতভাবেই তাই সংশয় জেগেছে আবারও পুরনো রূপে ফেরা নিয়ে। কব্জির চোটটায় তা আরও বড় হয়ে ওঠার কারণ ছিল, আধুনিক টেনিসে খুব কম খেলোয়াড়ের খেলাতেই 'রিস্ট ওয়ার্ক'-এর এত বড় ভূমিকা। যে রিস্ট ওয়ার্কের চরমতম প্রদর্শনী এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনাল।

ফ্রেঞ্চ ওপেনই প্রথম চিনিয়েছিল তাঁকে। ২০০৫ সালে অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ। পরের ষোল বছরে মাত্র তিনবারই ট্রফিতে নাদালের কামড় পড়েনি (তাঁর আরেকটা ট্রেডমার্ক)। টানা ৩১ ম্যাচ ও চারটি শিরোপা জয়ের পর প্রথম হেরেছিলেন ২০০৯ সালে। চতুর্থ রাউন্ডে রবিন সডারলিংয়ের কাছে সেই পরাজয় মার্টিন নাভ্রাতিলোভার চোখে 'টেনিস ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আপসেটগুলোর একটি'।

তিনি নাভ্রাতিলোভা বলেই তা আলাদা করে বলা। নইলে এই অনুভূতি তো ছিল সর্বজনীনই। সডারলিংয়ের সেই 'অবদান' নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন ফেডেরার। ফ্রেঞ্চ ওপেনে তাঁর একমাত্র জয়টা যে সেবারই। ফাইনালে নেটের ওপাশে নাদাল থাকলে যা হয়তো আর জেতা হয় না। কারণ ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে নাদাল হারেন না!

২০১৬ সালে চোটের কাছে হার মানার আগের বছর খেলেই হেরেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে হারিয়েছিলেন এবারের ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী নোভাক জকোভিচ। এত বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেনে পরাজয় বলতে এই দুটিই। আর জয়? ফেডেরারের সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলায় '২০' সংখ্যাটার ওপরই সব আলো, নইলে সব আলোচনাই আবর্তিত হতো ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাদালের জয়ের সংখ্যাকে ঘিরে। ১৩তম শিরোপার সঙ্গে এক বিন্দুতে মিলে গেছে ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাদালের শততম জয়।

সেই জয়ও এসেছে সবাইকে বিস্ময়াভূত করে দিয়ে। করোনাক্রান্ত এই ২০২০ সালে জকোভিচের এমন ফর্ম, করোনার বিপক্ষে খেললেও যাঁর সরাসরি সেটে জয়ের বিপক্ষে বাজি ধরার মতো কাউকে পাওয়া যেত বলে মনে হয় না। ৩৮টি ম্যাচের একটিই শুধু জিততে পারেননি, সেটি ইউএস ওপেনে লাইনসওম্যানের গলায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বল ছুঁড়ে মেরে বহিস্কৃত হওয়ায়।

ফাইনালে নেমেছিলেন নাদালের বিপক্ষে গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে সর্বশেষ তিনটি ম্যাচে জয়ের সুখস্মৃতিকে সঙ্গী করে। শুধু তো সাম্প্রতিক ফর্ম নয়, নাদালের প্রিয় ক্লে কোর্টেও তাঁকে এমন কিছু দু:স্মৃতি উপহার দিয়েছেন, আর কেউ যা পারেননি। ক্লে কোর্ট ফাইনালে চারবার নাদালকে হারানো একমাত্র খেলোয়াড় জকোভিচ, কোর্ট নির্বিশেষে নাদালের বিপক্ষে টানা সাতটি ফাইনাল জয়ের একমাত্র কীর্তিও তাঁর, ফ্রেঞ্চ ওপেনে সরাসরি সেটে নাদালকে হারানোতেও যেমন একমেবাদ্বিতীয়ম। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশিবার মুখোমুখি হওয়া এই দুজনের দ্বৈরথেও একটু হলেও জকোভিচই এগিয়ে।নাদাল ফ্রেঞ্চ ওপেন

তারপরও খেলাটা রোলাঁ গারোঁয় বলে নাদালই ছিলেন ফেবারিট। তা নয় থাকলেন, তাই বলে জকোভিচকে নিয়ে এমন ছেলেখেলা! দূরতম কল্পনার পক্ষেও যেটির নাগাল পাওয়া কঠিন। ১৭টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ীর বিপক্ষে সরাসরি সেটে জয়ই অনেক কিছু বলে দেয়,আবার অনেক কিছু অনুক্তও রাখে। প্রথম সেটটাই যেমন। টেনিসের কোচিং ক্লিনিকগুলোতে কোচদের অন্তত একটা কাজ এখন খুব সহজ। 'ক্লে কোর্ট পারফেকশন' বোঝাতে এই ফাইনালের প্রথম সেটটির ভিডিও চালিয়ে দিলেই তো চলছে। ২৬টি গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এই প্রথম জোকোভিচের ৬-০ তে হারার অভিজ্ঞতা। পরের সেট ৬-২, প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামান্য আভাস জাগানো তৃতীয়টি ৭-৫। এমন এক ফাইনাল, যা শেষ হওয়ার পর জয়ীকে 'স্যরি ফর টুডে' বলে বিজিতকে সমবেদনা জানাতে হয়।

মানুষ রাফায়েল নাদালকেও যা কিছুটা বুঝিয়ে দেয়। বুঝিয়ে দেয় কোর্টে দাঁড়িয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০তম শিরোপা জিতে ফেডেরারকে ছোঁয়ার প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাওয়া থেকেও। মাথায় ফেট্টি, বাঁহাতি, খেলার ধরন---সবকিছু মিলিয়ে কোর্টের নাদাল যেন রাগী তরুণের এক প্রতিচ্ছবি। স্প্যানিশ বলে যাঁর সঙ্গে বুলফাইটারের উপমাটা খুব খেটে যায়। কোর্টের বাইরে নাদালকে দেখার আগে, তাঁর সঙ্গে কথা বলার আগে আমার মনেও নাদালের এই ভাবমূর্তিটাই আঁকা ছিল, লেখাতেও তা ব্যবহার করেছি।

২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে নাদালের প্রথম প্রেস কনফারেন্স করেই যা আমূল বদলে যায়। যা ভেবেছিলাম, এ তো দেখি একদমই সেরকম নয়। বরং একটু যেন লাজুক আর অন্তর্মুখী স্বভাবের এক তরুণ। সেই প্রেস কনফারেন্সে ভদ্রতা, সৌজন্য, প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অনুপম প্রকাশ দেখে ফেডেরারের চরম ভক্ত এই আমি লিখতে বাধ্য হয়েছিলাম, এরপর থেকে ফেডেরার-নাদাল ম্যাচে ফেদেরারকে একতরফা সমর্থনের বদলে না হয় নিরপেক্ষই থাকব।

সেটি থাকা কঠিন। ফেডেরারের খেলায় এমন একটা অপার্থিব সৌন্দর্য আছে, দেখামাত্র যা চোখে মুগ্ধতার মায়াঞ্জন বুলিয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের মুকুটটা ফেডেরারের মাথাতেই দেখতে চান, এমন মানুষের সংখ্যাই তাই বেশি। ২০০৯ সালে ফেডেরার যখন পিট স্যাম্প্রাসের ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড ভেঙে দিলেন, কেন যেন মনে হয় সাম্প্রাসও তাতে খুশিই হয়েছিলেন। ফেডেরারকে যে সবাই ভালোবাসেন। খেলার ধরন, কোর্টে ও কোর্টের বাইরের আচার আচরণ মিলিয়ে এই সুইস 'পিপলস্ চ্যাম্পিয়ন' বলতে যা বোঝায়, তা-ই। মোস্ট লাভড্ চ্যাম্পিয়ন বললে সম্ভবত কথাটা আরও সুনির্দিষ্ট হয়।রজার ফেডেরার

তা হয়তো তিনি চিরদিনই থাকবেন, তবে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডটা তাঁর হাতছাড়া হয়ে যাওয়াটাকে এখন অবধারিত বলেই মনে হচ্ছে। নাদাল-জকোভিচকে এখনও হারাতে পারেন, কিন্তু ফেডেরার তো চূড়ান্ত হারটা হারবেন অন্য এক প্রতিপক্ষের কাছে। যার কাছে সবাইকেই হারতে হয়। বয়স!

৩৯টি বসন্ত পেরিয়ে আসা ফেডেরারের পাঁচ বছরের ছোট নাদাল। জকোভিচের বয়স আরও এক বছর কম। টেনিস ইতিহাসে অভূতপূর্ব এই ত্রয়ীর গ্র্যান্ড স্লাম অভিযানে শেষ হাসিটা শেষ পর্যন্ত হয়তো তাই নাদাল বা জকোভিচের মুখেই ফুটবে। ফেডেরারকে হিসাবের বাইরে রেখে নাদাল না জকোভিচ আলোচনাও এই শুরু হলো বলে! নাকি হয়েই গেছে? নাদাল ফেদেরারকে ছুঁয়ে ফেলার পরও টিম হেনম্যান যেমন চূড়ান্ত বিজয়মঞ্চে দেখতে পাচ্ছেন জকোভিচকেই।জকোভিচ ফ্রেঞ্চ ওপেন

তা যা হওয়ার হবে। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতের হাতেই তোলা থাক। আমরা বরং আমাদের সৌভাগ্যের কথা ভেবে আবার একটু পুলকিত হই। পনের বছর ধরে টেনিসে কী একটা সময়ই না আমরা দেখে যাচ্ছি! যা বুঝতে তাঁদের 'আগে ও পরে' অধ্যায়টা একটু ইতিহাসের আয়নায় দেখতে হবে। রোজওয়াল, কোনর্স, ম্যাকেনরো, লেন্ডল, আগাসির মতো কিংবদন্তিদের যেখানে ৮টি করে গ্র্যান্ড স্ল্যাম, জন ম্যাকেনরোর ৭টি; সংখ্যাটাকে দুই অঙ্কে নিয়ে যেতে পেরেছেন মাত্র পাঁচজন, সেখানে এই ত্রয়ীর কাছে এসব কোনো সংখ্যাই নয়। এরা মুড়িমুড়কির মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতছেন।

বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০০৬ সাল পর্যন্তও টেনিসের "হোলি গ্রেইল" হয়ে ছিল ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। পিট স্যাম্প্রাস ভেঙে দেওয়ার আগে রয় এমারসনের ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড টিকে ছিল পাক্কা ৩৯ বছর, আর এই ত্রয়ীর কল্যাণে ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম এখন আর কোনো ব্যাপারই মনে হয় না আমাদের কাছে। তিনজন মিলে ৫৭টি গ্র্যান্ড স্লাম, চোখের সামনে ঘটতে দেখেও যে সংখ্যাটিকে কেমন যেন মায়াবী বিভ্রম বলে মনে হয়! মনে না করিয়ে দিলেও চলত যে, সংখ্যাটা এখনো চলনশীল, কারণ এই ত্রয়ীর বিস্ময়যাত্রা শেষ হয়নি।

টেনিস ইতিহাস এর আগে এমন কিছু তো দেখেইনি, ভবিষ্যতেও দেখবে বলে মনে হয় না। একদিন না একদিন তিনজনই র‍্যাকেট তুলে রেখে ঠাঁই নেবেন স্মৃতির অ্যালবামে। তাতে কি, স্মৃতিসুধায় তো ঠিকই ভরে থাকব হৃদয়ের পাত্রখানি। উত্তর প্রজন্মের কাছে আমরা তাঁদের গল্প বলব। কণ্ঠে হয়তো মিশে থাকবে একটু গর্বের ছোঁয়াও--আমরা বেঁচে ছিলাম ফেডেরার-নাদাল-জকোভিচের সময়ে!

শেয়ার করুন

মন্তব্য