বিএনপিও সয়লাব ভুঁইফোড় সংগঠনে

বিএনপিও সয়লাব ভুঁইফোড় সংগঠনে

ভুঁইফোড় নানা সংগঠনের পোস্টার-ব্যানারে সয়লাব বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির নামের ছত্রছায়ায় শতাধিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছু সংগঠন উধাও হয়ে যায়। তবে নতুন নতুন সংগঠনও গড়ে উঠতে থাকে।

শুধু আওয়ামীলীগ নয়, দলের নাম ব্যবহার করে ভুঁইফোড় সংগঠন নিয়ে বিব্রত বিএনপিও। বিশেষ করে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দলটির নামের ছায়ায় গজিয়ে উঠেছিল বহু সংগঠন।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও জাতীয়তাবাদের নাম ব্যবহার করে এ রকম সংগঠনের সংখ্যা শতাধিক ছড়িয়ে যায়। দলের বিভিন্ন ইস্যুতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করত তারা।

তবে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রায় বেশির ভাগই উধাও।

তবে অনেক ভুঁইফোড় সংগঠনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। এরকম প্রায় ৬০-এর বেশি ভুঁইফোড় সংগঠনের খোঁজ পাওয়া গেছে, যাদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি। সেই সাথে বিব্রতও।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলের অনুমোদনহীন এসব সংগঠন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বেড়ায়। এদের উদ্দেশ্য জিয়ার আদর্শ না। এ সব সংগঠন নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।’

‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নিয়ে সতর্ক বিএনপি

ইতোমধ্যে ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মর্মে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, সংগঠনটির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নাই। সংগঠনটি বিএনপির এফিলিয়েটেড কোনো সংগঠন নয়।’

বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিএনপিরও ছিল কর্মজীবী দল

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামক একটি সংগঠন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি।

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তার ছত্রছায়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল নামেও একটি সংগঠন সক্রিয় ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সংগঠনের সভাপতি মো. লিটন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

ফেসবুকে এখনও এই সংগঠনের নামে একটি পেজও রয়েছে, যেখানে ৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার। তবে ২০১৬ সালের পর এই পেজ থেকে আর কোনো পোস্ট করা হয়নি।

ভার্চুয়াল ও বিদেশের ভুঁইফোড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য

গত মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস বিএনপির সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নোটিশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সময় জুড়ে দলীয় কর্মসূচি না থাকায় বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে ভার্চুয়াল আলোচনা ও টক শো চলছে। এসব আলোচনা ও টকশোতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, যারা দেশে ও বিদেশে অবস্থান করছেন, তারা বিভিন্ন সময় তাদের মতামত তুলে ধরছেন। এতে ক্ষুব্ধ দলের নীতি নির্ধারকরা।

কারও কারও বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দলীয় অনুমোদন নেই এমন কোনো সংগঠনের আলোচনা সভায় কেউ যেন কথা না বলেন, সে বিষয়ে সতর্কতা জারির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বিএনপির ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পর যেসব সংগঠন গড়ে ওঠে, সেগুলো হলো: জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল, সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদ, জিয়া সেনা, স্বদেশ জাগরণ পরিষদ, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদ, দেশপ্রেমিক ফোরাম, জিয়া স্মৃতি সংসদ, জিয়া নাগরিক ফোরাম, জিয়া আদর্শ একাডেমি, তৃণমূল দল, জিয়া পরিষদ, জিয়া ব্রিগেড, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেবা দল, জাতীয়তাবাদী বন্ধু দল, খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ, শহীদ জিয়াউর রহমান আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদ, জাতীয়তাবাদী কৃষি আন্দোলন।

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছু সংগঠন উধাও হয়ে যায়। তবে নতুন নতুন আরও সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে।

২০১৩ সালে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর বাইরে আর কোনো সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।

২০১৭ সালে এরকম ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দেয় বিএনপি।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

নামাজ পড়ি না বলে মুরতাদ বলতে পারেন না: জাফরুল্লাহ

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কেউ নামাজ আদায় না করলে তাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নেই।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নয়: সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সহনশীলতাই ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভা আয়োজন করে, বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদ।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি নামাজ পড়ি না বলে আমাকে মুরতাদ বলার অধিকার আলেমদের নাই। এ বিষয়ে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিবেন। নামাজ পড়ি না বলে আমাকে বেত মারার অধিকার আপনার নাই, খোদা বিচার করবেন। আজকে আলেমদের নামে কেনো বলাৎকারের অভিযোগ আসবে? অন্যরা করলে দোষ হয় না, কিন্তু আপনারা করলে দোষ হবে। কারণ মানুষ আপনাদের সম্মান করে। আপনারা যেকোন দোষ করলে দোষটা বড় হয়ে যায়।’

ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি কে প্রশ্ন রেখে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভোট ডাকাতির চেয়ে বড় জঙ্গি নাই। যাদের দাড়ি আছে, টুপি পড়ে তাদের জঙ্গি বলি। এটা অন্যায়, ভাঁওতাবাজি। এই ভাঁওতাবাজি বন্ধের জন্য আমাদেরকে বুদ্ধিমান হতে হবে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার নামই হলো জিহাদ। মানুষের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ইসলাম একটি বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। অর্ধমের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামই জিহাদ। অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই জিহাদ।

‘জিহাদ বললে আমাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। ভাবতে হবে আমি ন্যায়ের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার ছিল গণতন্ত্র, সামান্য এবং জনগণের অধিকার। মুক্তিযুদ্ধে সবই ইসলামের কথা বলেছি। মানুষের কথায় বলেছি, ন্যায়ের কথাই বলেছি। আজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ভূলন্ঠিত, সে জন্য সংগ্রামে যেতে হবে।’

তালেবানদের সাহায্য করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তালেবানরা মুক্তিযোদ্ধা। তারা ২০ বছর যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাদের সালাম করতে হবে। শুধু সালাম করলে হবে না, দায়িত্বও আছে। সেখানে খাদ্য সংকটের কথা উঠেছে। এখানে ১৬ কোটি মানুষ, তালেবানদের কয়েক বছর খাওয়াতে পারেন।’

উপস্থিত সবার উদ্দেশে আফগানিস্তানে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আল্লামা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী, উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস (পীর সাহেব), মুফতি একেএম ফারুক সিদ্দিকী ও কাজী আবু হুরাইরাহ সভাপতি জাতীয় ইমাম সমিতি। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুহাম্মদ এমরানুল হক মোহাদ্দিস, নয়াটলা কামিল মাদরাসা।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।...আর আমাকে বলে আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র মির্জা বলেন, ‘এ রাঙ্গা সেই রাঙ্গা, যে রাঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌরসভার মেয়র থেকে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আর আজকে সেই রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে বলে স্বৈরাচার।

‘রাঙ্গা সাহেব পরিবহন সেক্টরের খবর কী? এই পরিবহন জগতে ধুয়ে-মুছে খেয়ে ফেলেছেন। আর আমাকে বলেন আমি সারা দেশে বিতর্কিত। শরম যদি লাগে গো ঘোমটা দিয়ে চলো গো।’

৭ দিনের আলটিমেটাম বেঁধে দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জের সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানাচ্ছি। অন্যায়ভাবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। কোম্পানীগঞ্জে দ্রুত গ্যাস-সংযোগ ও চর এলাহীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সব অর্জন দুর্নীতিবাজরা ও প্রশাসন শেষ করে দিচ্ছে। এটা আমরা মানতে পারি না। আওয়ামী লীগের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব তিনি যেন মানুষের হৃদয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন।’

জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্লোগানের দাবি জানিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘বাংলাদেশে জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় অনেকে ভিন্নভাবে দেখেন। জয় বাংলা হলো জাতীয় স্লোগান। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি এটিকে জাতীয় স্লোগান করা হোক।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল হক, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজ, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

আ.লীগের সভায় প্রচার সম্পাদকের নিরাপত্তায় ডিবি

নিরাপত্তা শঙ্কায় সভা শেষে ডিবি প্রহরায় বের হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভা শেষে প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম বের হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাহারায়।

এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শহরের সুর সম্রাট ওস্তাদ দি আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে সভা। শুরু থেকেই সভাস্থলে ছিলেন পুলিশ ও ডিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজকের সভায় আলোচ্যসূচীতে ছিল প্রচার সম্পাদক নজরুলকে করা শোকজের জবাব। ওই শোকজ ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ডিবি পাহারায় সভাস্থল ত্যাগ করেন নজরুল।

নেতাকর্মীরা আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে কয়েক মাস আগে। ওই সময় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের বিরুদ্ধে পৌর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট দেন নজরুর ইসলাম।

এরপর ৩০ জুলাই আল মামুনের বাড়িতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা হয়।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে শোকজও করা হয়। শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় শোকজের জবাব দেয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। তবে নজরুল ইসলাম তা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আমাকে শোকজের উত্তর দিতে হবে এমন কোনো চিঠি পাইনি। আর শোকজের উত্তর এমপিকে আমি আরও আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। শোকজের উত্তর কী দিয়েছি তা বলতে চাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘প্রচার সম্পাদকের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি। তাই কোনো ছাত্রলীগ নেতাকর্মী যেন তার সঙ্গে ঝামেলা না করে সেজন্য তিনি ডিবি পুলিশের নিরাপত্তায় সভাস্থল ত্যাগ করেছেন।’

শোকজের জবাবের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলামের জবাব সভায় গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এজন্য তাকে আরও তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীদের ভিড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের কমিটি হবে, সে কারণে উৎসুক নেতাকর্মীরা ভিড় জমিয়েছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, নজরুল ইসলামের শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি সর্বসম্মতিক্রমে আরও তিন দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক নয়, ইসির অধীনে নির্বাচন: কৃষিমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক নয়, ইসির অধীনে নির্বাচন: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে, দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনারদের ওপর কারও কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

শনিবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কমিশনাররা নির্বাচন দেবেন। বাংলাদেশে কোনো নিরপেক্ষ সরকার হবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, হবে সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে, দায়িত্ব পালন করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনারদের ওপর কারও কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন এলেই জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। বিগত দিনে তারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে, রেললাইন তুলে নিয়েছে, বিদ্যুতের লাইন কেটেছে। তারা ৫০০-এর বেশি মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে।

পরে মন্ত্রী শহরের পৌর উদ্যানে বীর বিক্রম আব্দুস সবুর খানের স্মরণসভায় যোগ দেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বালা মিয়া।

বক্তব্য দেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী

জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াবাজারে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে সরকার এখন নানা কালাকানুন করছে। আদালত দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে হয়রানি করছে।’

মুখ বন্ধ করতেই ব্যাংক হিসাব চেয়ে ১১ সাংবাদিক নেতাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াবাজার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে সরকার এখন নানা কালাকানুন করছে। আদালত দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে হয়রানি করছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

ব্যাংক হিসাব চাওয়ার নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করেন ১১ সাংবাদিক নেতা। তাদের দাবি, উদ্দেশ্যমূলক এই চিঠি সাংবাদিকদের মাঝে ভয় ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে।

রিজভীও তাই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘মূলত, মানুষের মুখ স্তব্ধ করে দিতে সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে দিতে চায় তারা।’

বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকার দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হলেও অন্য সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকারের আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দুর্নীতির রেকর্ড হয়েছে। বর্তমানে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। বিশ্ব সম্প্রদায়ও তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

‘বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য দেশের মানুষের দাবির সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশও দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন থেকে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরবে ইনশাল্লাহ।’

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান, যুবদল নেতা সাঈদ হাসান মিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ডা. জাহিদুল কবির, যুবদল নেতা মেহেবুব মাসুম শান্ত, বিএনপি নেতা লতিফুল্লাহ জাফরু, ফরিদ জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সারা করিম লাকি, মনজুরুল হক, আশু মোহাম্মদ, হাজী জাহিদ, মো. হালিম, ছাত্রদল নেতা রাহু আহমেদসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’

‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বিশেষ সিরিজ সভায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা না করে সরকারবিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই।’

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি বৈঠককের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এসব বৈঠকে সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করা হচ্ছে।

২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বিশেষ সিরিজ সভায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা না করে সরকারবিরোধী সিরিজ ষড়যন্ত্রের রূপকল্প তৈরির গোপন বৈঠক করছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই।

‘বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে, অথচ তাদের সম্মেলনের এক বছর পরে আমাদের এক টার্ম শেষ হয়ে আরেক টার্মেরও এক বছর আট মাস পেরিয়ে গেছে। আমাদের সম্মেলনে আমি যখন সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, এর এক বছর আগে তাদের জাম্বুজেট ৫০১ সদস্যের কমিটি হয়েছে, কিন্তু এখনও সেই কমিটি দিয়েই চলছে।’

নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা না করে বিএনপি কীভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, সে প্রশ্ন তুলে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘তারা মুখে গণতন্ত্রের বড় বড় বুলি আওড়ায়, তাদের নিজেদের ঘরেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই। তাদের সম্মেলন হয় না, তাদের কমিটি হয় না, কমিটির মিটিং পর্যন্ত হয় না। এই অবস্থা দিয়ে যে পার্টি চলছে, তারা দেশে গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবে? সেটাই একটা বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকে।’

কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘অবৈধ অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপির গণতান্ত্রিক রীতিনীতির কোনো দায়ভার তাদের নেই। তাদের তথাকথিত বিশেষ যে সিরিজ সভাগুলো হয়েছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা নয়।

‘এখানে গণতন্ত্রের কিছু নেই। কীভাবে সরকারকে ঠেকাবে, কীভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করবে, কীভাবে বিভিন্ন অপশক্তিকে উসকে দেবে। কারণ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি এবং তারাই পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এই সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে জিইয়ে রেখেছে। আমরা জানি, তাদের এখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করে তারা।’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র শুরু করছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।

তিনি বলেন, ‘আগামী বছর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে বিএনপি আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে যেভাবে হয়, আমাদের দেশের আইনগত প্রক্রিয়ায় যে বিধান রয়েছে, সেভাবে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘গতবারও রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন, সেই সার্চ কমিটিতে বিএনপিরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাদের একজন এখনও আছেন। বিভিন্ন সময় তিনি নোট অব ডিসেন্ট দেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। এটা গণতন্ত্রের বিউটি। বাইরে এসে তিনি মাঝে মাঝে যে অবস্থার সৃষ্টি করেন, সেটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আওয়ামী লীগের আগাম সম্মেলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তা নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগাম সম্মেলন কেন হবে? আওয়ামী লীগের ইতিহাসে আগাম কোনো সম্মেলন হয়নি। নির্বাচন যথাসময়ে হবে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনও যথাসময়ে হবে।’

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লীগ আর আওয়ামী যখন যুক্ত হয় তখন এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা এসে যায়। এখানে আমাদের ভাবমূর্তির সঙ্গে বিষয়টি এসে যায়। কারণ এসব দোকান অনেকে খুলে থাকে চাঁদাবাজির জন্য, এগুলো আসলে চাঁদাবাজির প্রতিষ্ঠান।’

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য তৈরি করা মঞ্চ ভেঙে দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে অতিথি না হতে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর তা সরানোর নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়া হয় মঞ্চের নির্মাণসামগ্রী।

এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম প্রচার লীগ নামে এক ভুঁইফোড় দোকান, প্রতিষ্ঠালগ্নের কী আয়োজন করেছে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই।

‘কিন্তু লীগ আর আওয়ামী যখন যুক্ত হয়, তখন এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা এসে যায়। এখানে আমাদের ভাবমূর্তির সঙ্গে বিষয়টি এসে যায়, কারণ এসব দোকান অনেকে খুলে থাকে চাঁদাবাজির জন্য, এগুলো আসলে চাঁদাবাজির প্রতিষ্ঠান।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাই করে তা না, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, এরা চাঁদাবাজিনির্ভর। চাঁদাবাজি পার্টি, এরা দলের নাম ভাঙায়। কাজেই এসব সংগঠনের কোনো প্রকার আয়োজনে, বৈঠকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হোক, যেটাই হোক, আমি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান জানাব, কোনো অবস্থাতেই এসব সংগঠনের সভায় আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকবেন না, থাকতে পারেন না।’

‘এটা আমাদের পার্টির নীতি-কৌশলের বিরুদ্ধে,’ যোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নামের সঙ্গে নাম জুড়ে ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও বিদেশি শাখায় নেতা বানাতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়। বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ জুলাই সংবাদ প্রচার করে নিউজবাংলা। এরপরই ভুয়া সংগঠনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আরও পড়ুন:
অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপির খাবার বিতরণ
ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিএনপি: কাদের
তারেক কেন ফিরছেন না: কাদের
‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে সরকার’
‘বিএনপিকে দুরবিন দিয়ে না খুঁজে টিকার ব্যবস্থা করুন’

শেয়ার করুন