‘ভাই, পেটের দায়ে এখন দিনের বেলায় বোরকা পরে ভিক্ষা করি। আর রাতের বেলায় খদ্দেরের আশায় ফুটপাতে বসে থাকি। কিন্তু কোনো খদ্দের পাই না। কীভাবে বেঁচে আছি তা বলে বোঝাতে পারব না।’
নিউজবাংলার কাছে মঙ্গলবার রাতে আক্ষেপ করে এসব কথা বলছিলেন ৩৫ পেরোনো নারী রেশমা (ছদ্মনাম)।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার ভাসমান এই যৌনকর্মী জানান, শুধু তিনি না, তার মতো শত শত নারী খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউন তাদের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
রেশমা বলেন, ‘এখন তিন বেলা খাবারই তো জুটছে না। এই যে কোরবানির ঈদ চলে গেল, পেয়েছি শুধু কয়েক টুকরা মাংস। ঈদের শখ মেটানো তো অনেক দূরের কথা।’
মঙ্গলবার রাতেই রমনা পার্ক এলাকায় কথা হয় নানা বয়সী কয়েকজন ভাসমান যৌনকর্মীর সঙ্গে। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী সাজেদা (ছদ্মনাম) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই, আমরা দিন এনে দিন খাই। বিপদের জন্য কোনো সঞ্চয় আমরা রাখতে পারি না। পরিবারের সঙ্গে পাঁচ বছর কোনো সম্পর্ক নাই।
‘এখন যে তাদের কাছে যাব, সেই মুখও নাই। তারপরও তো বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু এই লকডাউনে খদ্দের পাব কোথায়, কেউ তো বাসা থেকেই বের হয় না। তা ছাড়া করোনার কারণে কেউ কাছে আসতে চায় না। এমনকি রিকশাচালকরাও আসে না এখন।’
খদ্দের না থাকলে ভিক্ষা ছাড়া আর কী করব- নিউজবাংলার কাছে এ প্রশ্ন রেখে সাজেদা বলেন, ‘খদ্দের পাব না জেনেও আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি। করোনার শুরু থেকেই এ রকম যাচ্ছে দিনকাল। তারপরও আশায় আশায় রাত জেগে অপেক্ষায় থাকি, যদি কেউ আসে।’
রমনা পার্ক এলাকার আরেক ভাসমান যৌনকর্মী ২৫ বছর বয়সী ছন্দা (ছদ্মনাম) জানান, দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। অনেকেই রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনি, ফুটওভার ব্রিজ ও স্টেশনে স্টেশনে থাকছেন।
ছন্দা বলেন, ‘এখন রাতে খদ্দের তো পাই-ই না, দিনের বেলায় ভিক্ষা করে যা কামাই তা দিয়ে কোনো রকমে পেট চালাচ্ছি। বাসা ভাড়া পাব কোথায়?’
তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরেই এই অবস্থা আমাদের। এর মাঝে গার্মেন্টসে চাকরির জন্য গেছি। কিন্তু করোনার কারণে নতুন কোনো লোক নিচ্ছে না কোনো কারখানা। তাই বাধ্য হয়ে দিনের বেলায় বোরকা পরে পথে পথে ভিক্ষা করি, যাতে পুরাতন কোনো কাস্টমার চিনতে না পারে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর এসব ভাসমান যৌনকর্মীর মতো দশা দেশের বিভিন্ন শহরের ভাসমান যৌনকর্মীদেরও। বিষয়টি নিয়ে যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।
‘মেয়েগুলো তো ঠিকমতো খেতেও পারছে না’
লকডাউনে নারায়ণগঞ্জের যৌনকর্মীরা কী অবস্থায় আছেন, জানতে কথা হয়েছে সেখানকার যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘অক্ষয় নারী সংঘ’-এর সভাপতি কাজল আখতারের সঙ্গে।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ কথা বলতে গেলে মনে কষ্ট লাগে। মেয়েগুলো তো ঠিকমতো খেতেও পারছে না। ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। আমাদের নারায়ণগঞ্জে ৩৫০ জন ভাসমান মেয়ে আছে, যারা যৌনকাজ করে জীবন চালায়।
‘এদের মধ্যে বর্তমানে গর্ভবতী দুজন, বাচ্চা আছে প্রায় ৭০ জনের। প্রতিদিনই ওদের কান্নাকাটি দেখতে দেখতে আর ভালো লাগছে না। ঘরে খাবারদাবার নাই। কাজ নাই। পেটের দায়ে রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশে ডিস্টাব করে।’
কাজল বলেন, ‘গত বছর প্রথম লকডাউনের পর যখন সব স্বাভাবিক হলো, তখন মেয়েগুলো কামকাজ করে চলতে পারছিল। যদিও কাজ কম হচ্ছিল, তারপরও দুই-একটা কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারছিল মেয়েগুলো। এরপর একের পর এক লাকডাউনের কারণে মেয়েগুলো রাস্তায় দাঁড়াতে পারছে না।
‘কী যে কষ্ট এদের বলে বোঝাতে পারব না। বাসা ভাড়া দিতে পারে না। এই লকডাউনের মধ্যে ভাড়া দিতে না পেরে অনেকে বাসা ছেড়ে রাস্তাঘাটে-স্টেশনে থাকছে।’
অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি বলেন, ‘এই লকডাউনের সময় অনেকে (কাস্টমাররা) বাসা থেকেই বের হয় না। কোথাও আড্ডা-জটলা হয় না। আবার করোনা হওয়ার ভয়ে ভাসমান পতিতার কাছে অনেকে আসতে চায় না। তাহলে এরা কী করে খাবে বলেন? ক্যামনে চলব এদের?
‘কারণ মেয়েগুলো কাজই করে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ঘাট, ফুটপাত এসব এলাকায়। এসব জায়গায় তো এখন মানুষজনই চলাচল করে না। তাহলে এদের চলবে কীভাবে?’
‘এবারের লকডাউনে কেউ কিছু দেয়নি’
গত বছর করোনার কারণে প্রথম যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে ভাসমান যৌনকর্মীদের সাহায্য করা হলেও এবারের লকডাউনে কেউ কিছু দেয়নি বলে অভিযোগ করেন অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘এবারের লকডাউনে আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি। কেউ কিছু দেয়নি ভাসমান যৌনকর্মীদের। তবে প্রথমবার যখন লকডাউন দেয়, তখন সরকার থেকে সাহায্য পাইছিল সবাই। কিন্তু এবার খুবই খারাপ অবস্থা সবার। ঈদে কেউ কোনো শখ পূরণ করতে পারেনি। জুটেছিল শুধু সামান্য কয়েক টুকরা মাংস।’
পেট চালাতে বোরকা পরে ভিক্ষাবৃত্তি
ক্ষুধার জালায় নারায়ণগঞ্জের অনেক ভাসমান যৌনকর্মী বোরকা পরে দিনের বেলায় ভিক্ষা করছেন বলে জানান অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘ভিক্ষাও যে ভালো হচ্ছে, তাও না। কারণ দোকানপাট খোলা নাই, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। তাই অনেক ভাসমান মেয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছে, যা পাচ্ছে তাই দিয়ে কোনো রকম চাল-পানি খেয়ে দিন পার করছে।’
কাজল জানান, কিছু মেয়ে আছে যারা যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করলেও সমাজ জানে না। অনেক মেয়ে আছে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।
‘কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তাদের অনেকে বাসা ছেড়ে দিয়ে এদিক-সেদিক দিন কাটাচ্ছে। কারণ বাড়িওয়ালারা চাপ দিচ্ছে ভাড়ার জন্য। কিন্তু মেয়েগুলো ভাড়া দিবে কোথা থেকে? ওদের তো জমানো টাকাও নেই যে সেখান থেকে ভেঙে টাকা-পয়সা খরচ করে চলবে’, বলেন তিনি।
একমাত্র চাওয়া খাদ্যসহায়তা
অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি জানান, ভাসমান এসব যৌনকর্মীর এখন একমাত্র চাওয়া খাদ্যসহায়তা।
তিনি বলেন, ‘এখন যে ভাসমানদের কাজ করে খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সেটা মনে হয় সবাই বোঝে। সরকার খাদ্যসহায়তা দিলে হয়তো তারা অন্তত খাবার খেয়ে বাঁচতে পারত।’
‘পেটের দায়ে এসব কাজ করে, কোনো বৈধতা নেই’
সারা দেশে কোনো ভাসমান যৌনকর্মীরই লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছেন অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে যারা ভাসমান যৌনকর্মী আছে, তাদের কারো লাইসেন্স নেই। এরা পেটের দায়ে এসব কাজ করে। কোনো বৈধতা নেই। তবে অনেক ভাসমান আছে, যারা আগে পতিতালয়ে কাজ করত, তাদের লাইসেন্স বা বৈধতা ছিল।
‘যেমন নারায়ণগঞ্জে যে ৩৫০ জন ভাসমান যৌনকর্মী আছে, তাদের বেশির ভাগই আগে নারায়ণগঞ্জ টানবাজার ও নিমতলী পতিতাপল্লিতে ছিল। ১৯৯৯ সালে ব্রোথেল দুইটা উচ্ছেদের পর তারা ভাসমান হয়ে গেল। কারণ তাদের তো পেট চালাইতে হবে। টিকে থাকতে হবে।’
এরা আসে কোথা থেকে?
এসব নারী কীভাবে এই জীবনে আসছেন- জানতে কথা হয় রাজধানী ঢাকার একটি যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘দুর্জয় নারী সংঘের’ সদস্য রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল দালালের মাধ্যমে মেয়েগুলো বিক্রি হতো। আবার অনেক মেয়ে প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে রাগেরবশত ব্রোথেলে আসত। কোনো কোনো মেয়ের প্রেমিক প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের পতিতালয়ে বিক্রি করে যেত জোর করে সর্দারনির কাছে।
‘তবে বেশ কয়েক বছর যৌনকর্মীদের সংগঠন হওয়ার কারণে ওগুলো আর করতে পারে না পতিতালয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে। এখন স্বেচ্ছায় আসলে আসতে পারে। দালাল বা সর্দারনির মাধ্যমে আসতে পারে না।’
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘এখন যারা আসে তাদের মধ্যে অনেকে আছে ধর্ষণের শিকার মেয়ে। আবার দেখা যায়, কোনো মেয়ে ছোট চাকরি করে, কিন্তু বেতন-ভাতা ঠিকমতো পায় না, তখন সংসার চালাতে কাছের বান্ধবীর মাধ্যমে এ পথে আসছে। সারা দিন অন্য কাজ করছে, আর রাতের বেলা ভাসমান যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে।’
একটা পর্যায়ে এসব ভাসমান যৌনকর্মীই পতিতালয়ে চলে যান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন পতিতালয়ে যে সর্দারনি থাকে, তার মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে নেয়। তখন তারা ফুলটাইম যৌনকর্মী হয়ে যায়।’
দুর্জয় নারী সংঘের সদস্য রাজিয়া জানান, বর্তমানে ঢাকা শহরে ১০ হাজার যৌনকর্মী আছেন, তাদের মধ্যে ৭ হাজার ভাসমান। বাকি ৩ হাজার বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসায় যৌনকাজ করেন।
তিনি বলেন, ‘তবে ফুলটাইম আর ভাসমান, যা-ই হোক এই পেশার কেউ এখন ভালো নেই। আমাদের জন্য একটা কিছু করেন, ভাই। জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘ভাসমান যারা আছে, তারা নিজেরাই বের হতে পারে না। আর হোটেল তো বন্ধই। যারা ভাড়া বাসায় যৌনকাজ করে, তারা দুই-একটা কাজ কোনো রকম করতে পারছে। বাকিরা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং এই তিন মাসে তিনি যে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তিন বছরেও তা করতে পারত না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর শোকসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে পরিমাণ জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং জেলা-উপজেলা লেভেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন গোপালপুর ও ভূঞাপুরের মানুষ।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এবং দল দুই জায়গাতেই নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে দলের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা সবাই জিয়া পরিবারের লোক এবং দলের সবাইকে তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এর আগে গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় জিডিটি করেন, যেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং তাঁর সাথে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তিনি এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল দ্য পেনিনসুলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে অলরেডি হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, তার সব আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকারের তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই মার্কেট ভবনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভবেরচর আধুনিক ভবনের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের ২ হাজার মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ছবি: সংগৃহীত
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। আধুনিক যুগে এসেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা এখনো একটি সাঁকোই। প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার, কিন্তু এ সাঁকোর জায়গায় সেতু আর হয়নি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৭ গ্রামের মানুষ।
সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করেছেন তারা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকোও পানির নিচে ডুবে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, মাঠের ফসল আনা-নেওয়া ও বাজার-সদাই এসব কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। এতে তারা অসহায় হয়ে আছেন।
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের জন্য নেই কোনো পাকা সেতু। ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, জোয়ারদী, মুছারচরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। তাই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী, রোগী সবারই একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই সাঁকো। তখন তাদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার ওপর। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এখানে সেতু না থাকায় এ সাত গ্রামের মানুষের সাথে কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়ে মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে সাঁকোর বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙেও পড়েছে। ফলে সাঁকো দিয়ে আর চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন নৌকায় করে নদী পারাপার করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই সাঁকো। এখন আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। কিন্তু এত দিনে একটি সেতুও হলো না। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না।
কুমারচর এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত ও মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে সাঁকো ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্লাসে যেতে পারি না। পরীক্ষার সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক সুরুজ আলী জানান, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়। অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে মাল বহন করে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
গোলনগর গ্রামে ৬০ বছরের সোলায়মান মিয়া জানান, সাদিপুর ও সনমান্দি ইউনিয়নের এ জায়গা একটি সেতু না থাকায় আমরা এখন খুবই কষ্টে আছি। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সাথে দুরের কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হাত-পা ভেঙেছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। দুই ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিন যুগ ধরে যে সেতুর অপেক্ষা, সেই অপেক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে? প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়া হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি-আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের মধ্য বাগুয়ান গ্রামে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমিয়ে গ্রামের শতাধিক মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী জহুরুল ও খায়রুল নামে দুই ব্যক্তি পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করার কারণে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাতে হাঁটু পানি জমে থাকে। ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। নোংড়া, ময়লা পানি দিয়ে যাতায়াত করার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একবার ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসলেও কেউ জায়গা না দেওয়ায় ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জহুরুলের মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, পানি যাওয়ার কারণে মাটি ধুয়ে যায়। এ কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে পাইপ দিলেই পানি চলে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য বাঁধা থাকা স্বত্বেও রাস্তা করে দিয়েছি। তারা ড্রেন করার জায়গা দিলে বরাদ্দ সাপেক্ষে আবারও ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে জাল টাকার নোটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার আশরাফ সেতু কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে শাহিন আলম (৪৫) এবং টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান সোহেল (২৪)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে দুই ব্যক্তি অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার ৫১টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।
আটককৃতদের মধ্যে শাহিন আলমের কাছ থেকে ৫০০ টাকার ২০টি ও ১০০০ টাকার ৮টি জাল নোট এবং সোহেলের কাছ থেকে ১০০ টাকার ২৩টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের শেষে শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক শফিক মিয়া (৩১) হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আবদুল্লাহপুর মুন্সিবাড়ির মৃত শের আলীর পুত্র হান্নান মিয়া (৪২) ও জামিরা বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র ফরহাদ (৩৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার কালনী নদীর পাড় থেকে মুখমন্ডল থেঁতলানো অবস্থায় শফিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন (২০২৬) অষ্টগ্রাম থানায় ৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (নং-১৩) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শফিক মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নিয়ে মোহরানা ও ভরন পোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কালনী নদীর পাড়ে তার রহস্যজনক ও নৃশংস মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর দ্রুততম সময়ে দুই আসামি গ্রেপ্তার করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য