পেটের দায়ে দিনে ভিক্ষা, রাতে খদ্দেরের অপেক্ষা

পেটের দায়ে দিনে ভিক্ষা, রাতে খদ্দেরের অপেক্ষা

প্রতীকী ছবি

খদ্দের না থাকলে ভিক্ষা ছাড়া আর কী করব- নিউজবাংলার কাছে এ প্রশ্ন রেখে সাজেদা বলেন, ‘খদ্দের পাব না জেনেও আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি। করোনার শুরু থেকেই এ রকম যাচ্ছে দিনকাল। তারপরও আশায় আশায় রাত জেগে অপেক্ষায় থাকি, যদি কেউ আসে।’

‘ভাই, পেটের দায়ে এখন দিনের বেলায় বোরকা পরে ভিক্ষা করি। আর রাতের বেলায় খদ্দেরের আশায় ফুটপাতে বসে থাকি। কিন্তু কোনো খদ্দের পাই না। কীভাবে বেঁচে আছি তা বলে বোঝাতে পারব না।’

নিউজবাংলার কাছে মঙ্গলবার রাতে আক্ষেপ করে এসব কথা বলছিলেন ৩৫ পেরোনো নারী রেশমা (ছদ্মনাম)।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার ভাসমান এই যৌনকর্মী জানান, শুধু তিনি না, তার মতো শত শত নারী খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। লকডাউন তাদের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

রেশমা বলেন, ‘এখন তিন বেলা খাবারই তো জুটছে না। এই যে কোরবানির ঈদ চলে গেল, পেয়েছি শুধু কয়েক টুকরা মাংস। ঈদের শখ মেটানো তো অনেক দূরের কথা।’

মঙ্গলবার রাতেই রমনা পার্ক এলাকায় কথা হয় নানা বয়সী কয়েকজন ভাসমান যৌনকর্মীর সঙ্গে। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী সাজেদা (ছদ্মনাম) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই, আমরা দিন এনে দিন খাই। বিপদের জন্য কোনো সঞ্চয় আমরা রাখতে পারি না। পরিবারের সঙ্গে পাঁচ বছর কোনো সম্পর্ক নাই।

‘এখন যে তাদের কাছে যাব, সেই মুখও নাই। তারপরও তো বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু এই লকডাউনে খদ্দের পাব কোথায়, কেউ তো বাসা থেকেই বের হয় না। তা ছাড়া করোনার কারণে কেউ কাছে আসতে চায় না। এমনকি রিকশাচালকরাও আসে না এখন।’

খদ্দের না থাকলে ভিক্ষা ছাড়া আর কী করব- নিউজবাংলার কাছে এ প্রশ্ন রেখে সাজেদা বলেন, ‘খদ্দের পাব না জেনেও আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি। করোনার শুরু থেকেই এ রকম যাচ্ছে দিনকাল। তারপরও আশায় আশায় রাত জেগে অপেক্ষায় থাকি, যদি কেউ আসে।’

রমনা পার্ক এলাকার আরেক ভাসমান যৌনকর্মী ২৫ বছর বয়সী ছন্দা (ছদ্মনাম) জানান, দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। অনেকেই রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনি, ফুটওভার ব্রিজ ও স্টেশনে স্টেশনে থাকছেন।

ছন্দা বলেন, ‘এখন রাতে খদ্দের তো পাই-ই না, দিনের বেলায় ভিক্ষা করে যা কামাই তা দিয়ে কোনো রকমে পেট চালাচ্ছি। বাসা ভাড়া পাব কোথায়?’

তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরেই এই অবস্থা আমাদের। এর মাঝে গার্মেন্টসে চাকরির জন্য গেছি। কিন্তু করোনার কারণে নতুন কোনো লোক নিচ্ছে না কোনো কারখানা। তাই বাধ্য হয়ে দিনের বেলায় বোরকা পরে পথে পথে ভিক্ষা করি, যাতে পুরাতন কোনো কাস্টমার চিনতে না পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর এসব ভাসমান যৌনকর্মীর মতো দশা দেশের বিভিন্ন শহরের ভাসমান যৌনকর্মীদেরও। বিষয়টি নিয়ে যৌনকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

‘মেয়েগুলো তো ঠিকমতো খেতেও পারছে না’

লকডাউনে নারায়ণগঞ্জের যৌনকর্মীরা কী অবস্থায় আছেন, জানতে কথা হয়েছে সেখানকার যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘অক্ষয় নারী সংঘ’-এর সভাপতি কাজল আখতারের সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ কথা বলতে গেলে মনে কষ্ট লাগে। মেয়েগুলো তো ঠিকমতো খেতেও পারছে না। ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। আমাদের নারায়ণগঞ্জে ৩৫০ জন ভাসমান মেয়ে আছে, যারা যৌনকাজ করে জীবন চালায়।

‘এদের মধ্যে বর্তমানে গর্ভবতী দুজন, বাচ্চা আছে প্রায় ৭০ জনের। প্রতিদিনই ওদের কান্নাকাটি দেখতে দেখতে আর ভালো লাগছে না। ঘরে খাবারদাবার নাই। কাজ নাই। পেটের দায়ে রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশে ডিস্টাব করে।’

কাজল বলেন, ‘গত বছর প্রথম লকডাউনের পর যখন সব স্বাভাবিক হলো, তখন মেয়েগুলো কামকাজ করে চলতে পারছিল। যদিও কাজ কম হচ্ছিল, তারপরও দুই-একটা কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারছিল মেয়েগুলো। এরপর একের পর এক লাকডাউনের কারণে মেয়েগুলো রাস্তায় দাঁড়াতে পারছে না।

‘কী যে কষ্ট এদের বলে বোঝাতে পারব না। বাসা ভাড়া দিতে পারে না। এই লকডাউনের মধ্যে ভাড়া দিতে না পেরে অনেকে বাসা ছেড়ে রাস্তাঘাটে-স্টেশনে থাকছে।’

অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি বলেন, ‘এই লকডাউনের সময় অনেকে (কাস্টমাররা) বাসা থেকেই বের হয় না। কোথাও আড্ডা-জটলা হয় না। আবার করোনা হওয়ার ভয়ে ভাসমান পতিতার কাছে অনেকে আসতে চায় না। তাহলে এরা কী করে খাবে বলেন? ক্যামনে চলব এদের?

‘কারণ মেয়েগুলো কাজই করে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ঘাট, ফুটপাত এসব এলাকায়। এসব জায়গায় তো এখন মানুষজনই চলাচল করে না। তাহলে এদের চলবে কীভাবে?’

‘এবারের লকডাউনে কেউ কিছু দেয়নি’

গত বছর করোনার কারণে প্রথম যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে ভাসমান যৌনকর্মীদের সাহায্য করা হলেও এবারের লকডাউনে কেউ কিছু দেয়নি বলে অভিযোগ করেন অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘এবারের লকডাউনে আমরা কোনো প্রণোদনা পাইনি। কেউ কিছু দেয়নি ভাসমান যৌনকর্মীদের। তবে প্রথমবার যখন লকডাউন দেয়, তখন সরকার থেকে সাহায্য পাইছিল সবাই। কিন্তু এবার খুবই খারাপ অবস্থা সবার। ঈদে কেউ কোনো শখ পূরণ করতে পারেনি। জুটেছিল শুধু সামান্য কয়েক টুকরা মাংস।’

পেট চালাতে বোরকা পরে ভিক্ষাবৃত্তি

ক্ষুধার জালায় নারায়ণগঞ্জের অনেক ভাসমান যৌনকর্মী বোরকা পরে দিনের বেলায় ভিক্ষা করছেন বলে জানান অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘ভিক্ষাও যে ভালো হচ্ছে, তাও না। কারণ দোকানপাট খোলা নাই, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। তাই অনেক ভাসমান মেয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছে, যা পাচ্ছে তাই দিয়ে কোনো রকম চাল-পানি খেয়ে দিন পার করছে।’

কাজল জানান, কিছু মেয়ে আছে যারা যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করলেও সমাজ জানে না। অনেক মেয়ে আছে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে।

‘কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তাদের অনেকে বাসা ছেড়ে দিয়ে এদিক-সেদিক দিন কাটাচ্ছে। কারণ বাড়িওয়ালারা চাপ দিচ্ছে ভাড়ার জন্য। কিন্তু মেয়েগুলো ভাড়া দিবে কোথা থেকে? ওদের তো জমানো টাকাও নেই যে সেখান থেকে ভেঙে টাকা-পয়সা খরচ করে চলবে’, বলেন তিনি।

একমাত্র চাওয়া খাদ্যসহায়তা

অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি জানান, ভাসমান এসব যৌনকর্মীর এখন একমাত্র চাওয়া খাদ্যসহায়তা।

তিনি বলেন, ‘এখন যে ভাসমানদের কাজ করে খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সেটা মনে হয় সবাই বোঝে। সরকার খাদ্যসহায়তা দিলে হয়তো তারা অন্তত খাবার খেয়ে বাঁচতে পারত।’

‘পেটের দায়ে এসব কাজ করে, কোনো বৈধতা নেই’

সারা দেশে কোনো ভাসমান যৌনকর্মীরই লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছেন অক্ষয় নারী সংঘের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে যারা ভাসমান যৌনকর্মী আছে, তাদের কারো লাইসেন্স নেই। এরা পেটের দায়ে এসব কাজ করে। কোনো বৈধতা নেই। তবে অনেক ভাসমান আছে, যারা আগে পতিতালয়ে কাজ করত, তাদের লাইসেন্স বা বৈধতা ছিল।

‘যেমন নারায়ণগঞ্জে যে ৩৫০ জন ভাসমান যৌনকর্মী আছে, তাদের বেশির ভাগই আগে নারায়ণগঞ্জ টানবাজার ও নিমতলী পতিতাপল্লিতে ছিল। ১৯৯৯ সালে ব্রোথেল দুইটা উচ্ছেদের পর তারা ভাসমান হয়ে গেল। কারণ তাদের তো পেট চালাইতে হবে। টিকে থাকতে হবে।’

এরা আসে কোথা থেকে?

এসব নারী কীভাবে এই জীবনে আসছেন- জানতে কথা হয় রাজধানী ঢাকার একটি যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘দুর্জয় নারী সংঘের’ সদস্য রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল দালালের মাধ্যমে মেয়েগুলো বিক্রি হতো। আবার অনেক মেয়ে প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে রাগেরবশত ব্রোথেলে আসত। কোনো কোনো মেয়ের প্রেমিক প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের পতিতালয়ে বিক্রি করে যেত জোর করে সর্দারনির কাছে।

‘তবে বেশ কয়েক বছর যৌনকর্মীদের সংগঠন হওয়ার কারণে ওগুলো আর করতে পারে না পতিতালয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে। এখন স্বেচ্ছায় আসলে আসতে পারে। দালাল বা সর্দারনির মাধ্যমে আসতে পারে না।’

রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘এখন যারা আসে তাদের মধ্যে অনেকে আছে ধর্ষণের শিকার মেয়ে। আবার দেখা যায়, কোনো মেয়ে ছোট চাকরি করে, কিন্তু বেতন-ভাতা ঠিকমতো পায় না, তখন সংসার চালাতে কাছের বান্ধবীর মাধ্যমে এ পথে আসছে। সারা দিন অন্য কাজ করছে, আর রাতের বেলা ভাসমান যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে।’

একটা পর্যায়ে এসব ভাসমান যৌনকর্মীই পতিতালয়ে চলে যান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন পতিতালয়ে যে সর্দারনি থাকে, তার মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে নেয়। তখন তারা ফুলটাইম যৌনকর্মী হয়ে যায়।’

দুর্জয় নারী সংঘের সদস্য রাজিয়া জানান, বর্তমানে ঢাকা শহরে ১০ হাজার যৌনকর্মী আছেন, তাদের মধ্যে ৭ হাজার ভাসমান। বাকি ৩ হাজার বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসায় যৌনকাজ করেন।

তিনি বলেন, ‘তবে ফুলটাইম আর ভাসমান, যা-ই হোক এই পেশার কেউ এখন ভালো নেই। আমাদের জন্য একটা কিছু করেন, ভাই। জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘ভাসমান যারা আছে, তারা নিজেরাই বের হতে পারে না। আর হোটেল তো বন্ধই। যারা ভাড়া বাসায় যৌনকাজ করে, তারা দুই-একটা কাজ কোনো রকম করতে পারছে। বাকিরা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

শেয়ার করুন

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

চলতি বছরের মে মাসে কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

কানাডায় ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে শতবর্ষ ধরে আদিবাসী শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বিশপ সম্প্রদায়।

অবশ্য ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এখনও ওই সব ঘটনায় কোনো ক্ষমা চাননি।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

‘আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই সব নির্যাতনের ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

‘তাদের পাশাপাশি আমরা, কানাডার ক্যাথলিক বিশপ সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আদিবাসী শিশুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কানাডা সরকারের নীতি অনুযায়ী ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে লাখখানেক আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মূলধারার সংস্কৃতি আত্মস্থ করাতে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিশুদের মাথার চুল কেটে দেয়া হতো।

স্কুলে নিজেদের ভাষায় কথা বলা নিষেধ ছিল ওই শিশুদের। নিজেদের সংস্কৃতিচর্চারও অনুমতি ছিল না তাদের।

ওই ঘটনাকে পরে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে রাডার জরিপের সময় কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ওই শিশুরা ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি বন্ধ করা হয়।

সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ এ আবিষ্কার আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের কালো ও লজ্জাজনক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এ ছাড়া ওই ঘটনায় মনোবেদনা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে তিনি কোনো ক্ষমা চাননি।

এরপর গত কয়েক মাসে দেশটির বিভিন্ন আবাসিক স্কুল প্রাঙ্গণে আরও হাজারখানেকের মতো আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ মেলে।

ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওই সব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো।

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল।’

কুষ্টিয়ায় একটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা, ভেঙে ফেলা হয়েছে দুর্গাপূজার জন্য নবনির্মিত বেশ কিছু প্রতিমা।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার।

দুর্গাপূজা আয়োজনে ওই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল বলে জানায় জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ। পুরোনো কোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করেছে বলে ধারণা পরিষদের নেতাদের।

এর সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার পর মণ্ডপ কমিটির লোকজন প্রতিমা ঢেকে রেখে বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার এক নারী মণ্ডপের পাশে একটি প্রতিমার মাথা পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন।

পরে মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা গিয়ে দেখেন, দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তুহিন বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল। সবগুলো প্রতিমার ক্ষতি করা হয়েছে।’

তিনি ও মণ্ডপ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে এলাকার একটি গোষ্ঠির দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

শেয়ার করুন

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা

দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে দেড় হাজার নারীকে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।

রাজধানীতে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের সাথে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

কর্মকর্তারা জানান, আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ হবে। সাতটি বিভাগীয় শহর ও পাবনা জেলায় নারীদের মোটর ড্রাইভিং এবং বেসিক মেইন্টেইন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

আগামী দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

শেয়ার করুন