শিশুশ্রম নির্মূলে চ্যালেঞ্জ, লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয়

শিশুশ্রম নির্মূলে চ্যালেঞ্জ, লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয়

দেশে শ্রমের সঙ্গে জড়িত ১৭ লাখ শিশুর মধ্যে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও যুক্ত। কোনো একক খাত হিসেবে শুধু শিল্প-কারখানাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহতদের বেশির ভাগই শিশু। এ ঘটনার পর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, শুধু হাশেম ফুড কারখানা নয়, রূপগঞ্জের আরও অনেক কারখানার বিরুদ্ধে রয়েছে শিশুশ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ।

কম টাকায় ও অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া এসব শিশুকে দিয়ে বিরতিহীন ৮-১০ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করানো হচ্ছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুসারে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের কোথাও শিশুশ্রম থাকবে না। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ শিশুশ্রমিক রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ জন মেয়েশিশু, বাকিরা ছেলে। এরা উৎপাদন ও সেবার ১৮টি খাতে শ্রম দিচ্ছে।

এর মধ্যে উৎপাদন খাতে বা শিল্প-কারখানায় সাড়ে ৫ লাখ শিশু কাজ করছে। এ ছাড়া নির্মাণশিল্পে ১ লাখ ১৭ হাজার, দোকানপাটে ১ লাখ ৭৯ হাজার এবং ৫ লাখ সাত হাজার শিশু কৃষি খাতে কাজ করছে।

বর্তমানে দেশে কী পরিমাণ শিশু কাজ করছে, বয়স বিবেচনায় তাদের কত অংশের কাজ অনুমোদনযোগ্য এবং অনুমোদনহীন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কত- তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সরকারের কোনো সংস্থার কাছে।

বিবিএস সমীক্ষাটি পরিচালনা করে প্রতি চার বছর পরপর। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন একটি সমীক্ষার তথ্য ২০২০ সালের মধ্যে প্রকাশের কথা থাকলেও করোনার কারণে তা হয়নি।

এসডিজির আরেকটি লক্ষ্য, কেউ পেছনে থাকবে না। অথচ বিবিএসের এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, এসব শিশুর পরিবারসহ জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দৃশ্যমানভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, জাতিসংঘ ঘোষিত লক্ষ্য দুটি অর্জন করতে বাংলাদেশকে অবশ্যই শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন খাতে কাজ করা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার জন্যও এটি জরুরি।

বিবিএস তথ্য অনুসারে, ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৫ লাখ শিশুর শিশুশ্রম নির্মূল হয়েছে। তবে সরকারের এই প্রচেষ্টার পরেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় আছে সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, পারিবারিক দারিদ্র্য, মালিকপক্ষের মানসিক দৈন্য ও বেশি মুনাফার আকাঙ্ক্ষা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতায় দেশ থেকে শিশুশ্রম পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশে শ্রমের সঙ্গে জড়িত ১৭ লাখ শিশুর মধ্যে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও যুক্ত। কোনো একক খাত হিসেবে শুধু শিল্প-কারখানাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ।

শ্রম পরিসংখ্যানবিদদের ১৮তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং ২০১৩-এর সংশোধনীতে শিশুশ্রমের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী কোনো শিশু ঝুঁকিহীন কাজ করলেও সেটি শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য হবে। আবার ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কেউ যদি সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার বেশি কাজ করে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টা পর্যন্ত হালকা পরিশ্রম বা ঝুঁকিহীন কাজ করে তাদের শ্রম অনুমোদনযোগ্য। এভাবে কর্মরত শিশু, শিশুশ্রম, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের আলাদা আলাদা সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিভাস বি রেড্ডি বলেন, ‘শিশুশ্রমের জন্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য একমাত্র কারণ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক কারণ জড়িত। তবে দারিদ্র্য পরিস্থিতিও একটা বড় কারণ।

তিনি পরামর্শ দেন, যেসব পরিবারের শিশুরা কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাদের কিছু ভাতার ব্যবস্থা করে ওই শিশুকে কাজে যোগ দেয়া থেকে বিরত রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে ওই শিশুর দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশে শিশুশ্রম নিয়ে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সোবহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান জড়িত। যার যার দায়িত্ব সে সে পালন করছে। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার। একই সঙ্গে নজরদারি আরও বাড়ানোরও চেষ্টা করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমসচিব বলেন, ‘ইতোমধ্যে আটটি খাতকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, পাদুকাশিল্প, ট্যানারি, রেশম, সিরামিক, গ্লাস, জাহাজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিংড়ি এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। বর্তমানে ৩৮টি খাতে শিশুদের শ্রম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহকর্মে শিশুশ্রম, শুঁটকিপল্লিতে শিশুশ্রম, পথশিশু, পাথর কুড়ানো-বহন-ভাঙানো, দর্জির কাজ শিশুশ্রম এবং ময়লার ভাগাড়ে শিশুশ্রম– এই ছয়টি খাতেও শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার উদ্যোগ রয়েছে। এটি চলতি বছরেই ঘোষণা করা হবে।’

শিশুশ্রম নির্মূলে চ্যালেঞ্জ, লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয়

অন্যদিকে, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান মনে করছেন, বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ শতভাগ সফল হবে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের শিশুশ্রম নিরসন করতেই হবে। সরকার শিশুশ্রম বন্ধে নিরলস কাজ করছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে শিশুশ্রম মুক্ত করার চেষ্টায় শতভাগ সাফল্য আসবে বলে সরকার আশা করছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত করতে সরকার স্কুলগামী শিশুদের নগদ অর্থ, খাবারসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে। এ ছাড়া দরিদ্র্ পরিবার ও নিম্ন আয়ের লোকদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়বে। এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে, আগামী প্রজন্মের যাতে সুস্থ মনের বিকাশ ঘটে, সে জন্য শিশুশ্রম বন্ধে সবার মধ্যে মানবিক ও মমত্ববোধ জাগানোও দরকার।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের একটা রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে। এসডিজির টাইমলাইনের আলোকে যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন সে অনুযায়ীই এগোচ্ছিল সরকার। শিশুশ্রমের সংখ্যাও কমে আসছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি সরকারকে আরও অনেক কিছুর সঙ্গে এই লক্ষ্য থেকেও বিচ্যুত করবে।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে দারিদ্র্য বেড়েছে। মানুষ বেকার হয়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। অপুষ্টির হার ও বাল্যবিবাহ সবটাই বেড়েছে। ফলে শিশুশ্রম সম্পর্কিত নতুন হিসাব না থাকলেও সার্বিকভাবে আগামীতে শিশুশ্রমের পরিধি বাড়বে এমন ধারণা করাই যায়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চারটি লক্ষ্য ধরে সরকারকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, এসডিজির অ্যাকশন প্ল্যান ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী শিশুশ্রম নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। এর জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যয়ের পরিধি বাড়াতে হবে।

‘তৃতীয়ত, রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিশুশ্রম নির্মূলে আগের মতোই সরকারের তৎপরতা বহাল রাখা, সেখানে ২০২৫ সালের মধ্যে সম্ভব না হোক- এসডিজির সবশেষ সীমা ২০৩০ সালের মধ্যেও যেন দেশকে শিশুশ্রম মুক্ত করা সম্ভব হয়। আর চতুর্থত, সব চেষ্টা সরকার করলেই হবে না, মালিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি।’

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ‘মালিক বা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনোভাবেই ১৪ বছরের নিচের কোনো শিশুকে কাজে নিয়োগ না দেয়, সে বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকেই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকায় থাকতে হবে। একই সঙ্গে আগামীতে অনুমোদনযোগ্য ১৪-১৭ বছর বয়সের শিশুশ্রমও যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার না হতে পারে সে বিষয়েও আরও বেশি তৎপর এবং কঠোর হওয়া জরুরি।’

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের দর বৃদ্ধিতে উড়তে থাকা সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস তার শেয়ারধারীদের ২০ শতাংশ বোনাসসহ প্রতি শেয়ারে ২ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুন ক্লোজিংয়ের এই কোম্পানিটি ২০২১ সালের জন্য যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৯ পয়সা। এ সময়ে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ২৮৪ টাকা ৩৪ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা। এছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১১ ও ২০১২ সালে ৬ শতাংশ বোনাস দিয়েছে সোনালী পেপার।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ করে বোনাস পেয়েছেন এই কোম্পানির শেয়ারধারীরা। ২০২০ সালে বোনাসের সঙ্গে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এ বছরের মে মাসে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড ঘোষণা করে তাদের নতুন প্রোডাকশন লাইনের। যেখান থেকে প্রতিদিন এক লাখ পিস পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব বলে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। এ সময়ে কোম্পানটির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা ছিল ২৭৩ টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ৩ জুন যখন কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে তখন ১১ কার্যদিবস টানা শেয়ার দর কমে ২৭ জুন শেয়ার দর নেমে আসে ১৯৭ টাকা ৪০ পয়সায়।

এরপর থেকেই মূলত কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির সিঁড়িতে পা রাখে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫২ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪৭ টাকা ১০ পয়সা।

মাত্র চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১৭৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তখন থেকেই মূলত দাম বাড়ার সিঁড়িতে উঠে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

পুবাইলের মিরের বাজারে এনআরবিসি ব্যাংক

পুবাইলের মিরের বাজারে এনআরবিসি ব্যাংক

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এনআরবিসি ব্যাংকের উপশাখাটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মূল দর্শনই হলো জনগণের উন্নয়ন। উন্নয়নের সব সূচকে ব্যাংকিং খাত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। স্বচ্ছতা, কার্যকর সেবা আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই এনআরবিসিকে ব্যাংকিং খাতে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করাবে।’

গাজীপুরের পুবাইলের মিরের বাজারে ব্যাংকিং উপশাখা খুলেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বুধবার এটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরহাদ সরকার এবং এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম।

ব্যাংকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মূল দর্শনই হলো জনগণের উন্নয়ন। উন্নয়নের সব সূচকে ব্যাংকিং খাত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। স্বচ্ছতা, কার্যকর সেবা আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই এনআরবিসিকে ব্যাংকিং খাতে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের বোর্ড বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মামুন হোসেন, মিরের বাজার উপশাখার ইনচার্জ এ এফ এম মাসুদুর রহমান মিলাদ, গ্রাহক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

বিষখালীর ইলিশ দেখতে যেমন, খেতেও তেমন

বিষখালীর ইলিশ দেখতে যেমন, খেতেও তেমন

বিষখালী নদীতে ধরা পড়েছে তিন কেজির ইলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পায়রা ও বলেশ্বর বিষখালীর চেয়ে খরস্রোতা, তবে অগভীর। স্রোত বেশি থাকায় পানিতে লবণের মাত্রা বেশি। বিষখালীতে ওই দুটি নদীর চেয়ে স্রোতের তোড় কম থাকায় মিঠাপানি থাকে। এ নদীর গড় গভীরতা ৩০ ফুট। ফলে ইলিশ এখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে ও ঠিকমতো খাবার পায়। এ কারণে বিষখালীর ইলিশ আকারে হৃষ্টপুষ্ট ও স্বাদ বেশি।

‘স্যার, বিষখালীর ইলিশ, খালি সাইজটা দ্যাহেন আতে (হাতে) নিয়া। এই রহম মাছ দ্যাশের কোনোহানে পাইবেন না, তেলে ভরা। ১২০০ টাকা কেজি বেচি।’

বড়সড় একটি ইলিশ হাতে ধরিয়ে দেয়ার সময় এভাবেই বললেন বিক্রেতা জাকির হোসেন।

অন্য দিকে ঘুরতেই আবার ডাক, ‘আপনে যদি লন, একদাম ১১০০ টাহা। ভাই, আপনে শুধু মাছটা ধরেন। ঘাড়ে কত তেল, কত মোটা ধইরা দেহেন। একটা ইলিশ এক কেজির বেশি হইবে’।

বরগুনা শহরের মাছ বাজারে ইলিশের ঝুড়ি নিয়ে বসে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা জাকিরের। একের পর এক ইলিশ তুলছেন দুই হাতে। বাজার ভরা শুধু ইলিশ আর ইলিশ। দেখেশুনে একটু কম দামে অনেকে কিনছেন পছন্দের মাছ।

কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বিষখালীর ইলিশ এই অঞ্চলের বিখ্যাত। এই নদীর ইলিশ আকারে বড় ও হৃষ্টপুষ্ট। এ ছাড়া স্বাদে অতুলনীয়। বাজারে এই ইলিশের চাহিদা বেশি, দামও অন্য নদী ও সাগরের ইলিশের তুলনায় একটু বেশি। এ কারণে বিক্রেতারা বিষখালীর ইলিশ আলাদা করে ডেকে ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

বিষখালীর ইলিশ দেখতে যেমন, খেতেও তেমন
রাজধানীসহ দেশব্যপী বিষখালীর ইলিশের প্রচুর চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা

ইলিশ গবেষক ও মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের ইকো-ফিশ প্রকল্পের দলনেতা আবদুল ওহাব জানান, স্বাদ ও আকারে বিষখালীর ইলিশের সুখ্যাতি আছে।

বিষখালীর ইলিশ নিয়ে গবেষণা হলে আরেকটি নতুন বৈশিষ্ট্যের ইলিশ সম্পর্কে জানতে পারবে মানুষ।

আবদুল জলিল নামের এক বিক্রেতা জানান, বিষখালীর ইলিশের মতো স্বাদ এবং বড় আকারের ইলিশ বাংলাদেশের কোথাও পাওয়া যায় না।

জলিল বলেন, ‘সরকারি চাকরি করা এক স্যারে বাজারে আইসাই আমাদের জিগায় বিষখালীর ইলিশ আছেনি। ওই স্যার আমারে কয়, দ্যাশের কত্ত জাগার ইলিশ খাইলাম, এই ইলিশের মতো কোনো ইলিশের স্বাদ নাই।’

জলিলের কথার সত্যতাও পাওয়া যায় তাৎক্ষণিক। সেখান থেকেই চারটি ইলিশ কিনেছেন একজন ক্রেতা। তিনি বরগুনার একটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা। ছয় বছর ধরে বিষখালী নদীর ইলিশ খুঁজে কিনে নেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই নদীর ইলিশের মতো সাইজ আর স্বাদ দেশের কোথাও নেই।’

বাইনচটকি এলাকায় সম্প্রতি বিষখালী নদীতে জেলের জালে তিন কেজি সাইজের একটি ইলিশ ধরা পড়ে। ওই ইলিশটি স্থানীয় পাইকার ইউনুস মিয়া চার হাজার টাকায় কিনে নিয়ে বরগুনার সাবেক পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেনের কাছে ৪৫০০ টাকায় বিক্রি করেন।

ইউনুস জানান, তিনি অনেক বছর ধরে বিষখালীর পাড়ে ইলিশের ব্যবসা করেন। প্রতিবছরই এ নদীতে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ে। গত বছর তিন কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত তিন কেজির ইলিশের দেখা মিলেছে।

ইউনুস বলেন, ‘রাজধানীসহ দেশব্যপী বিষখালীর ইলিশের প্রচুর চাহিদা, যা আমরা জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছি। ক্রেতারা আগেই জানতে চান, বিষখালীর ইলিশ আছে কিনা।’

বিশখালী নদীতে মাছ ধরেন কালমেঘা এলাকার জেলে আবদুল জলিল। ইঞ্জিনের নৌকা নিয়ে জলিল নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরেন। তিনি জানান, বরগুনার তিনটি নদীর মধ্যে বিষখালীর ইলিশ খানিকটা গোলাকৃতির ও রুপালি ভাব বেশি থাকায় উজ্জ্বল হয়।

বিষখালীর ইলিশ দেখতে যেমন, খেতেও তেমন
রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিষখালীর ইলিশের প্রচুর চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা

পায়রা ও বলেশ্বর বিষখালীর চেয়ে খরস্রোতা, তবে অগভীর। স্রোত বেশি থাকায় পানিতে লবণের মাত্রা বেশি। বিষখালীতে ওই দুটি নদীর চেয়ে স্রোতের তোড় কম থাকায় মিঠাপানি থাকে। এ নদীর গড় গভীরতা ৩০ ফুট। ফলে ইলিশ এখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে ও ঠিকমতো খাবার খেতে পায়। এ কারণে বিষখালীর ইলিশ আকারে হৃষ্টপুষ্ট ও স্বাদ বেশি।

জলিলের কথার সঙ্গে গবেষকদের মতের বেশ মিল।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশবিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আসলে নদী ভেদে ইলিশের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। স্বাদের পার্থক্যটি হয় পরিবেশ ও খাদ্যের কারণে। মিঠা পানির পরিবেশ এবং খাদ্যের মান ভালো থাকায় বিষখালীর ইলিশ স্বাদে ভিন্ন।’

বিষখালীর ইলিশ দেশের সেরা ইলিশ- এমন দাবি প্রসঙ্গে ড. রহমান জানান, ইলিশ অতিমাত্রায় অভিপ্রায়ানশীল। এরা প্রজনন মৌসুমে নদীতে আসার পর খাদ্য ও পরিবেশ-প্রতিবেশগত আনুকূল্য পেলে সেখানেই অবস্থান নেয়। প্রয়োজনীয় খাদ্য পেলে ইলিশ স্বাদ ও আকারে বেড়ে যায়।

তিনি জানান, ইলিশ প্রধানত প্রাকৃতিক খাদ্যকণা প্ল্যাঙ্কটন খায়। নদীর ধারে চলতে থাকলে ইলিশের খাদ্য গ্রহণ অনেকটাই কমতে থাকে। ইলিশের মাইগ্রেশন সময় শরীরের জমা চর্বির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শক্তি নিয়ে থাকে।

ইলিশ বিশেষজ্ঞ আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষখালীর ইলিশ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা চালাব। এ কথা বলা যায় যে, বিষখালী ইলিশের প্রজনন ও বসবাসের জন্য উত্তম।

‘বিষখালী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝালকাঠি ও বরগুনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৬০ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। এটি ঝালকাঠি সদরের গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও বেতাগী উপজেলা অতিক্রম করে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।’

বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বিষখালীতে ইলিশের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

ইলিশ বিক্রেতা নাসির মিয়া জানান, আধা কেজি থেকে ৯০০ গ্রাম সাইজের প্রতিকেজি ইলিশ ৬০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশ ১২০০ টাকা। এরপর প্রতি ১০০ গ্রামে ১০০ টাকা করে বাড়ে। ১৩০০ গ্রাম ওজন হলে ১৩০০ টাকা কেজি, ১৪০০ গ্রামের দাম ১৪০০ টাকা। তবে দেড় কেজি থেকে দুই কেজি পর্যন্ত ইলিশের দাম ১৫০০ টাকা করে কেজি।

ওয়ার্ল্ডফিশের ইকো-ফিশ প্রকল্পের দলনেতা আবদুল ওহাব জানান, বিষখালীর ইলিশের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। ইলিশের দুই ভান্ডার বঙ্গোপসাগর ও পদ্মা-মেঘনার ইলিশ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিষখালীর ইলিশ নিয়ে গবেষণা হলে আরেকটি নতুন বৈশিষ্ট্যের ইলিশের ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন গ্রেপ্তার

ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন গ্রেপ্তার

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

নিউজবাংলাকে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছ। সে জন্য তাদের আজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে রাসেলের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছ। সে জন্য তাদের আজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

রাসেল-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ইভ্যালির ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক গ্রাহক বিক্ষোভ করছিল।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেলের বাসায় অভিযানের খবর পেয়ে এসব গ্রাহক বাসার সামনে জড়ো জন। গ্রাহকদের কেউ কেউ বলছেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রাহকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি।

রেদোয়ান নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবে না।’

ইভ্যালির সেলার মনিরুল হাসান সবুজ বলেন, ‘আমরা তাকে সময় দিতে চাই। তিনি ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন। মাত্র এক মাস গেছে। আমরা আরও পাঁচমাস সময় দিতে চাই। ইভ্যালির সংকট চললেও তারা গ্রাহকদের প্রোডাক্ট দিচ্ছিলেন। আমরাও টাকা পাচ্ছিলাম। এখনতো আর পাব না। তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

গুলশান থানায় বৃহস্পতিবার সকালে রাসেল ও নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক ভুক্তভোগী গ্রাহক। মামলায় পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা জমা দিয়েও পণ্য না পেয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তিনি।

মামলার বাদীর অভিযোগ, গত ২৯ মে ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ও তার বন্ধুরা কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। ২৯ মে থেকে ১৯ জুনের মধ্যে ছয়টি অর্ডারের বিপরীতে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা পরিশোধ করেন।

এজাহারে বলা হয়, পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সব টাকা ফেরত প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল।

বাদী বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যগুলো না পাওয়ায় আমি বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারের প্রতিনিধির নম্বরে ফোন করি। সবশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করেও আমার অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। প্রতিবার তারা আমার পণ্যগুলো দিয়ে দিচ্ছি বলে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিল।’

এজাহারে বাদী বলেছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর আরিফ ও তার দুই বন্ধু ইভ্যালির অফিসে যান। সিইও রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বাধা পেয়ে ফিরে আসেন। পরদিন তারা আবার যান ইভ্যালি অফিসে। অফিস প্রতিনিধিরা আরিফ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এসব শুনে ভেতর থেকে সিইও রাসেল বেরিয়ে আসেন এবং তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।

ইভ্যালির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে ই-কমার্সবিষয়ক জাতীয় কমিটি। বৈঠকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাফিজুর রহমান জানান, ইভ্যালি ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আর সময় নিতে চায় না। এ বিষয়ে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে প্রথমবার ভ্যাট দিলো মাইক্রোসফট

বাংলাদেশকে প্রথমবার ভ্যাট দিলো মাইক্রোসফট

গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেয়ার পর বুধবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবা বিক্রির বিপরীতে ভ্যাটের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। তবে ভ্যাটের রিটার্ন জমা দিতে সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের পর বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত ২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিয়েছে।

গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নেয়ার পর বুধবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবা বিক্রির বিপরীতে ভ্যাটের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। তবে ভ্যাটের রিটার্ন জমা দিতে সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আগস্ট মাসের ভ্যাট হিসেবে মাইক্রোসফট এই টাকা জমা দিয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার প্রমীলা সরকার জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা মাইক্রোসফটের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো ভ্যাট পেয়েছি। তবে তারা রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য সময় চেয়ে অনুরোধ করেছে। আমরা তাদের সময়ও দিয়েছি। বাকি অনাবাসিক কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে ভ্যাট দিচ্ছে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানান, মাইক্রোসফটের বিলের টাকা বিদেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দিলে সেই বিলের ১৫ শতাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট হিসেবে কেটে রাখা হয়। ভ্যাট হিসেবে যে টাকা কেটে রাখা হয়েছে, সেই ২ কোটি ১০ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

পরে ভ্যাটের রিটার্ন জমা দেবে বলে সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সেই সময় দিয়েছে।

এ ছাড়া, অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফেসবুক, গুগল ও আমাজন আগের মাসগুলোর মতো চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও ভ্যাট দিয়েছে। ফেসবুকের তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার ৬১৪ টাকা ভ্যাট দিয়েছে। তার মধ্যে ফেসবুক আয়ারল্যান্ড লিমিটেড ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪০, ফেসবুক পেমেন্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ২৫ হাজার ৭০৯ এবং ফেসবুক টেকনোলজিস আয়ারল্যান্ড লিমিটেড ১৬ হাজার ৬৫ টাকা ভ্যাট দিয়েছে।

এ ছাড়া, বিশ্বের আরেক টেক জায়ান্ট গুগল এশিয়া প্যাসিফিক চলতি মাসে ১ কোটি ৭০ লাখ এবং বৈশ্বিক ই–কমার্স ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৬ টাকা ভ্যাট দিয়েছে।

অনাবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো গত আগস্ট মাসে সেবা বা পণ্য বিক্রির বিপরীতে এই ভ্যাট দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে মাইক্রোসফট রিজিওনাল সেলস পিটিই লিমিটেড গত জুলাইয়ে বিআইএন নিবন্ধন নেয়। মাইক্রোসফট বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি সফটওয়্যার ও অ্যাপস বিক্রি করে। এ ছাড়া, ইয়াহুর কার্যক্রম মাইক্রোসফটের সঙ্গে যুক্ত। সে জন্য ইয়াহু যেসব সেবা দেয়, তার বিপরীতেও ভ্যাট দিতে হবে।

এর আগে মে মাসে গুগল ও আমাজন ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। গুগল এশিয়া প্যাসিফিক পিটিই লিমিটেড নামে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। ব্যবসার ধরন হিসেবে বলা হয়েছে সেবা। অন্যদিকে আমাজন নিবন্ধিত হয়েছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের নামে। প্রতিষ্ঠানটি সেবাধর্মী ব্যবসা করবে। আমাজন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ঠিকানা ব্যবহার করেছে।

অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হলেও এ দেশে গুগল ও আমাজনের পক্ষে ভ্যাট পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি গুগল ও আমাজনের পক্ষে ভ্যাট রিটার্ন তৈরিসহ ভ্যাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ রক্ষায় সহায়তা করবে।

এ ছাড়া, গত জুনে ফেসবুকের তিনটি প্রতিষ্ঠান তাদের আয়ারল্যান্ডের ঠিকানা ব্যবহার করে দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বিআইএন নিবন্ধন নেয়। এ সময় গুগল ও আমাজনের মতো ফেসবুকও ব্যাংক হিসাব, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়-ব্যয়ের হিসাবের তথ্য দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ল আরও ৫ বছর

কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ল আরও ৫ বছর

প্রতীকী ছবি

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয় সরকার। এ জন্য ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’। দুই বছরের জন্য করা আইনটি দফায় দফায় সময় বাড়ানো হচ্ছে।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ছে। এ-সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।

জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে প্রস্তাব করলে তা পাস হয়।

জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০২১’ বুধবার সংসদে তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় সংসদকে তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে এ খাতে দ্রুত অধিকসংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিলটি পাসের জন্য তোলা হলে তীব্র বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। জনগণের করের টাকা অন্যের হাতে তুলে দিতেই এই বিল আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করতে ছাড়েননি তারা। বিলটি তড়িঘড়ি করে পাস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। আর তাই ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’।

দুই বছরের জন্য করা আইনটি দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ তিন বছর বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন

তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য

তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য

তিন মাস পর পর প্রবৃদ্ধির তথ্য পেলে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সবশেষ অবস্থা জানার পাশাপাশি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘তিন মাস পর পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য দেয়ার বিষয়ে সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। অর্থবছরের শেষে চূড়ান্ত জিডিপির হিসাবতো থাকবেই। এখন থেকে আমরা তিন মাস পর পরও প্রবৃদ্ধি তথ্য দেবো। তিন মাস পর প্রবৃদ্ধির তথ্য পেলে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের তথ্যও জানতে পারব, জরুরি পদক্ষেপগুলো নিতে পারব।’

বছর ওয়ারি হিসাবের পাশাপাশি এখন থেকে তিন মাস পর পর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হিসাব করবে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সংস্থাটি জেলা, আঞ্চলিক জিডিপির হিসাবও করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং আয়োজিত ‘কোয়াটার্লি ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং (কিউএসএ)’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য দেয়ার বিষয়ে সরকার প্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। অর্থবছরের শেষে চূড়ান্ত জিডিপির হিসাবতো থাকবেই। এখন থেকে আমরা তিন মাস পর পরও প্রবৃদ্ধি তথ্য দেবো।

‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছে বিবিএস। তিন মাস পর প্রবৃদ্ধির তথ্য পেলে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের তথ্যও জানতে পারব, জরুরি পদক্ষেপগুলো নিতে পারব।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও বিবিএস-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বিবিএসকে সময়ের তথ্য সময়ে দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। বলেন, ‘আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলো তিন মাস পর পর জিডিপির হিসাব করে। আমরা দেরিতে হলেও তা শুরু করতে যাচ্ছি। অর্থনীতিকে বোঝা, জানা, নীতি গ্রহণ ও পদক্ষেপ নিতে ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘তবে সময়ের হিসাব সময়ে দিতে হবে। এক মাসের হিসাব পরের মাসেই যেন প্রকাশ পায় তা দেখতে হবে। এক বছরের হিসাব অন্য বছরে গেলে তা দিয়ে তেমন সুফল পাওয়া যায় না।’

সরকারের একমাত্র সংস্থা হিসাবে জাতীয় বিভিন্ন পরিসংখ্যানের অফিসিয়াল তথ্য দেয় বিবিএস। জিডিপির পাশাপাশি বিবিএস জনশুমারি ও গৃহগণনা, কৃষি শুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে।

এ ছাড়া, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশক যেমন- মোট দেশজ উৎপাদ (জিডিপি), মোট ব্যয়যোগ্য জাতীয় আয় (জিডিআই), মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ভোগ প্রভৃতির নির্ভরযোগ্য হিসাব প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে বিবিএস। বিবিএসের তথ্যের উপর নির্ভর করেই নেয়া হয় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা।

বিবিএস প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, মূল্যস্ফীতিসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রণয়ন ও প্রাক্কলন ও প্রকাশ করে থাকে।

একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন তা সে দেশের জিডিপি তথা জাতীয় আয়ের পরিমাণ হতে ধারণা পাওয়া যায়।

১৯৭২-৭৩ সালকে ভিত্তি বছর ধরে বাংলাদেশে প্রথম জিডিপির প্রাক্কলন শুরু করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চতর ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন:
আরও ৬ খাতে শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার সুপারিশ
শিশু শ্রমিক কত, জানে না কেউ
শিশুশ্রম রোধে এক লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ
‘ভ্যান চালিয়ে মাকে টাকা দি, মা কিস্তি চালায়’

শেয়ার করুন