ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষু চিয়াও সোয়ার হিতা এখন জর্জ মাইকেল নাম নিয়ে সশস্ত্র লাড়াই করছেন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে। ছবি: ভাইস

বিহারের শান্ত সৌম্য পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে দমন পীড়নের বিরুদ্ধে ভিক্ষুদের বিক্ষোভে যোগ দেয়ার অতীত ইতিহাস আছে। এবারও সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কিছু সংখ্যক ভিক্ষুর অবস্থান পরিষ্কার।

মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামীদের ওপর চলছে সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতন। এমন অবস্থায় অনেকেই বেছে নিয়েছেন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ। এমনই একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর জীবন কাহিনী তুলে ধরেছে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন রুবাইদ ইফতেখার

বেশ কয়েকবার নাম বদলানো চিয়াও সোয়ার হিতা একজন সাবেক ভিক্ষু। এখন পরিচয় দেন জর্জ মাইকেল নামে। প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার সময় তার মনে হয়, এটাই বোধহয় শেষ খাওয়া। প্রয়োজনে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা জীবন দিতেও প্রস্তুত। প্রত্যেকের ইউনিফর্মের বুক পকেটে একটা করে গ্রেনেড। যেটি শত্রুর দিকে ছুড়ে মারার জন্য নয়, রাখা হয়েছে মিয়ানমারের সৈনিকদের হাতে ধরা পড়ার আগে নিজেকে উড়িয়ে দেয়ার জন্য।

৩৩ বছর বয়সী এই ভিক্ষুর সঙ্গে যোগাযোগ হয় ফোনে। পূর্ব মিয়ানমারের অজ্ঞাত কোনো জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি বলেন, ‘আমরা কখনওই আত্মসমর্পণ করব না। তারা আমাদের ধরতে পারলেও, শুধু আমাদের মৃতদেহই পাবে। জীবিত পাবে না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা লড়ে যাব।’

১ ফ্রেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চিকে উৎখাতের পর মিয়ানমারের ওই অঞ্চলেই জান্তাবিরোধীরা জড়ো হয়েছেন।

অস্ত্র হাতে লড়াইরত এই সাবেক ভিক্ষুর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়গুলো তার বদলাতে থাকা নামের মধ্যেই পাওয়া যায়। নাম পালটানো মিয়ানমারে স্বাভাবিক ঘটনা। চিয়াও সোয়ার হিতায় হিসেবেই আগে তাকে সবাই চিনতেন। ভিক্ষু হওয়ার পর উ চেয়থারা নাম গ্রহণ করেন তিনি। সবশেষ ভিক্ষুর পোশাক ত্যাগের পর নিজেকে জর্জ মাইকেল হিসেবে পরিচয় দেন। বিখ্যাত পপস্টারের নাম হলেও এই মিল আসলে কাকতালীয়।

কিছুদিন আগেও কারেন রাজ্যের একেবেঁকে চলা পাহাড়ি পথ ও জঙ্গলগুলোতে আদিবাসী সশস্ত্র দলগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ লেগে থাকত। কিন্তু গণতন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডের সীমান্তের কাছের এই জঙ্গলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রামে যোগ দিয়েছেন কবি, গায়ক, এমনকি সাবেক এক সুন্দরী মডেলও।

ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রতিবাদের জায়গা নিয়েছে নতুন পদ্ধতি, যেখানে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি শহরেও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বড় শহর মান্দালায়ের গত মাসে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বোমা বিস্ফোরণ, গোলাগুলি ও সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর নিয়মিত শিরোনাম হতে থাকে।

বিহারের শান্ত সৌম্য পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে দমন পীড়নের বিরুদ্ধে ভিক্ষুদের বিক্ষোভে যোগ দেয়ার অতীত ইতিহাস আছে। এবারও সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কিছু সংখ্যক ভিক্ষুর অবস্থান পরিষ্কার। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ধর্মীয় নেতাদের কয়েক জন সামরিক জান্তার সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হরসি বলেন, ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অনেকেই সশস্ত্র আন্দোলন করেছেন; তাদেরই একজন ছিলেন সায়া সান। যিনি ভিক্ষুর বেশ ত্যাগ করে ব্রিটিশবিরোধী কৃষক আন্দোলনে অংশ নেন।’

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ৯০ এর দশকে ভিক্ষু উ থুজানা ডেমোক্র্যাটিক কারেন বুদ্ধিস্ট আর্মির বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।

হরসি আরও বলেন, ‘ভিক্ষুদের সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়াটা খুব অস্বাভাবিক বিষয় নয়। মিয়ানমারের নানা শ্রেণির মানুষ অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করছেন এবং জনগণের ওপর শাসকদের নিপীড়নের জন্য সবাই ক্ষুব্ধ। সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় যাওয়া থেকে বিরত রাখতে অস্ত্র হাতে নেওয়া নেয়াসহ যেকোনো কিছু করতেই তারা প্রস্তুত।’

২০০৭ সালে তৎকালীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে স্যাফ্রন রেভোল্যুশন সংঘটিত হয়, যাকে কঠোর ভাবে দমন করে সামরিক বাহিনী। ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা উ গামবিরা এবার মাইকেলের লড়াই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

২০০৭ আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে চার বছর জেল খাটতে হয় গামবিরাকে। তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়, যার যন্ত্রণা তিনি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০১২ সালে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান গামবিরা। তবে রাজনৈতিক বন্দি হওয়ার কারণে কোনো বিহার তাকে গ্রহণ করেনি। ভিক্ষু পরিচয় ছেড়ে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়েছে।

মাইকেল বিহার ছেড়ে দেয়ায় কষ্ট পেয়েছেন গামবিরা। তবে একই সঙ্গে তার কিছুটা গর্ববোধও রয়েছে। গামবিরা বলেন, ‘এটা তার (মাইকেল) ব্যক্তিগত চাওয়া ছিল না। দেশ ও জনগণের ডাকে তিনি ভিক্ষুর জীবন ত্যাগ করেছেন।’

কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে রেডিও ফ্রি এশিয়ার মিয়ানমার শাখাকে মাইকেল তার পুরনো এবং বর্তমান জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক ফারাকের কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যখন ভিক্ষু ছিলাম তখন হত্যা করা নিষেধ ছিল। আর এখন আমরা হত্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। আমি জানি না যুদ্ধে আমি আসলেই কাউকে হত্যা করতে পারব কিনা। আগে কাউকে হত্যা করা তো দূরের কথা, অন্যদেরকে আমি হত্যা করতে বারণ করতাম। অথচ এখন সৈনিক হিসেবে আমি হত্যা করতে প্রস্তুত।’

মাইকেল এখন অধিকাংশ সময় জঙ্গলে কাটান। তিনি জানান, সঙ্গে ছোট একটা দল আছে, যারা মিয়ানমারের সৈনিকদের বিরুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধ করছে। এখন তিনি ‘পিছু না হটার’ নীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, “আমাদের স্লোগান হচ্ছে ‘ম্যাগাজিন খালি হয়ে গেলে তাদের লাকড়ি দিয়ে মার।’”

ইয়াঙ্গুনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মাইকেল, চার সদস্যের পরিবারের ছোট ছেলে। ছোটবেলায় তার পরিবার হ্লাইং থারিয়ার অঞ্চলে আসেন। মাইকেলের বয়স যখন ১০ বছর তখন তার বাবা মারা যান। তারপরও তার শৈশব আনন্দে কেটেছে। আর পারিবারিক ব্যবসাও ভালো যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি দারুণ একটা জীবন পেয়েছি। মাঝে মাঝে আমার পরিবারের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত আদরও পেতাম।’

২০ বছর বয়সে মা তাকে ভিক্ষু হতে বলেন। ক্যান্সারের রোগী হিসেবে ছেলেকে ভিক্ষুর গেরুয়া পোশাকে দেখতে পাওয়ার তার জন্য ছিল শান্তির।

শ্রমজীবী মানুষ ও পোশাক শ্রমিকেরা থাকেন হ্লাইং থারিয়ারে, যেটি ইয়াংগুনের দরিদ্রতম এলাকাগুলোর একটি। দাতব্য কাজের জন্য মাইকেলের বিহারটি দ্রুত পরিচিতি লাভ করে।

তিনি জানান, গৃহহীন মানুষকে আশ্রয় ও খাবার এবং জনসাধারণকে জরুরি সহায়তা দিতেন ভিক্ষু থাকার সময়।

তবে দেশের অনেকের মতোই ১ ফেব্রুয়ারির পরের দিনগুলোতে মাইকেল তার চোখের সামনে ঘটা দৃশ্যে প্রচণ্ড মর্মাহত হন। ওইদিন অং সান সুচিকে গ্রেপ্তারের পর ইন্টারনেট কেটে দেয়া হয় এবং ভয়াবহ শক্তি প্রয়োগের আগে মাত্র কয়েক দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মেনে নেয়া হয়।

শুরুর দিককার নৃশংস দমন পীড়ন দেখে মাইকেল তার বিহার ছেড়ে সেফ হাউসে ওঠেন এবং বিক্ষোভে অংশ নিতে শুরু করেন। আন্দোলনের একটি ছবিতে তাকে দেখা যায় ফুলের তৈরি হার্ট আকৃতির মালা উঁচিয়ে রেখেছেন। মার্চে হ্লাইন থারিয়ারে অসংখ্য লোককে হত্যা করা হলে তিনি ভিন্ন পথ অবলম্বনের চেষ্টা করেন।

মাইকেল বলেন, ‘তাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি। যে কারণে বিপ্লবীদের আন্দোলনে যোগ দেই, আমি তখন ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলাম।’

মার্চে যখন মাইকেল পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পান। তবে তাকে দ্রুত পালাতে হয়, কারণ সামরিক জান্তা তার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে জেনে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘মাকে বিদায় জানানোর যথেষ্ট সময় পাইনি। আমি তার সমাধিফলকের রংটাও জানি না।’

বাসে চেপে ইয়াংগুন থেকে পালান মাইকেল। ভিক্ষু বেশের কারণে বিভিন্ন চেকপয়েন্টে তাকে সৈন্যরা খেয়াল করেনি।

পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তিনি দেশের অন্যতম বড় সশস্ত্র বাহিনী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন অধিকৃত মুক্ত অঞ্চলে পৌঁছান।

মাইকেল ওই এলাকায় নতুন আসা অন্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। শিগগিরই তিনি ফ্রন্ট লাইনারদের ছোট একটা গ্রুপের নেতৃত্ব পান ও কৌশলগত পোস্টগুলি রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত হন।

তারা এখন প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। মাইকেলের অধীনে অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়। সবাই সকালের অনুশীলন শেষে ৮টার দিকে নাস্তা সারেন। এরপর দুপুরে খাওয়ার আগ পর্যন্ত আবার চলে প্রশিক্ষণ। দুপুরের পর চলে ক্লাস। ৬টায় রাতের খাবার খেয়ে তারা জঙ্গলে ফিরে যান ও রাতের শোবার জন্য একটা যুতসই জায়গা খুঁজে বের করেন।

সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতে তারা কেউ ক্যাম্পে ঘুমান না। বহু বছর পর ওই এলাকায় বিমান হামলা শুরু হয়েছে।

মাইকেল জানান, তার জীবন পালটে গেলেও মানুষকে সেবা করার মানসিকতা বদলায়নি। এখন তিনি তাদেরকে সাহায্য করছেন, যারা ‘গণতন্ত্র ও সত্যের’ পক্ষে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান’

‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান’

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে নিউজবাংলার আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে নিউজবাংলার বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দান পর্যন্ত ছিল অনন্য বিচরণ। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাবনা জুড়ে ছিল দেশের যুবসমাজ। সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ কামাল।

শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘চিরঞ্জীব চিরভাস্বর শেখ কামাল’ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন বক্তারা।

ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে শেখ কামালের বন্ধু সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সব সময় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকত শেখ কামাল। যখন আবাহনী ক্রীড়া চক্র যাত্রা শুরু করেছিল, তখন কিন্তু মোহামেডান ছাড়া মানসম্মত কোনো ক্লাব ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে মোহামেডানের মানের মতো আরেকটি ক্লাব গঠন করাই ছিল আবাহনী ক্রীড়া চক্র গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

শেখ কামালের বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সে নিজেও ভালো খোলোয়াড় ছিল। ভালো খেলত ক্রিকেট, ফুটবল ও বাস্কেটবল। ভালো গানও করতে পারত, গিটার বাজাতে পারত।’

নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শেখ কামাল আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। নটরডেম কলেজ থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক, যা আরও গাঢ় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। আমরা এক সঙ্গে ৬৯-এর আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সিদ্ধান্ত নিলো আবাহনী ক্রীড়া চক্র গঠনের। সেখানেও আমি তার সঙ্গী ছিলাম।

‘সব থেকে আমার কাছে যেটা অবাক লাগে সেটা হলো, শেখ কামাল হলো বঙ্গবন্ধুর ছেলে। আপনারা নিজেরাই কল্পনা করতে পারেন, তার কাছে কী ধরনের ইনফ্লুয়েন্স ছিল। অনেকে আসত। বলত, এ ব্যবসাটা করে দাও, ওটা করে দাও। অনেকে অনেক প্রভাবিত করার চেষ্টা করত, কিন্তু কেউ কোনো সময় বলতে পারে নাই, শেখ কামাল কোনো ব্যবসা করেছে। কারও ব্যবসা নিয়েছে বা ব্যবসা নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।’

আবাহনী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দনের প্রতি শেখ কামালের ভালোবাসার কথা জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি একবার লন্ডন যাচ্ছিলাম। তাকে বললাম, তোমার জন্য কী আনব। বন্ধু হিসেবে সে তো বলতে পারত, একটা ঘড়ি এনে দাও বা একটা টাই এনে দাও। অথচ সে বলল, আবাহনীর জন্য কেইডস নিয়ে এসো।

‘একবার জাপান যাচ্ছিলাম। আবার তাকে বললাম তোমার জন্য কী আনবো? একই কথা। নিজের জন্য কিছুই না। বললো ঠিক আছে, তুমি সেখানে যাচ্ছো, ওখানে ইয়ামাহার ইলেকট্রিক অর্গানটা নিয়ে এসো স্পন্দনের জন্য।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শেখ কামাল বেঁচে থাকলে আমি বিশ্বাস করি, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হতেন। রাজনীতিবিদ হতেন। উনি বেঁচে থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এত কষ্ট করতে হতো না। তিনিই দেশের দায়িত্ব নিতেন।’

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘শেখ কামাল শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। কারণ, তাকে আমরা দেখি সব জায়গায়। তাকে দেখি খেলার মাঠে। তাকে দেখি নাটকের মঞ্চে, তাকে দেখি রাজনীতির মঞ্চে। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকও ছিলেন। তার পদচারণা ছিল না, এমন কোনো এলাকা আমরা দেখিনি।’

যুব সমাজের প্রতি শেখ কামালের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুগে যখন আমরা অর্থনীতির কোনো পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেই, কোনো বিষয় গভীরভাবে বিবেচনায় আনি, তখন প্রথমেই আমরা মাথায় নেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। দেশে যুব সমাজ কতটা রয়েছে। কতটা মানুষ কর্মক্ষম তা চিন্তা করি। শেখ কামাল যে পরিবারে জন্ম, শেখ কামালের তখনকার যে অবস্থান, সেই অবস্থানে থেকে যে কোনো দিকে যেতে পারতেন। যা খুশি হতে পারতেন, কিন্তু সব কিছু ছেড়ে শেখ কামাল বেছে নিয়েছেন যুব সমাজকে।

‘তিনি সুস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করতেন, আমাদের আগামী প্রজন্মই একদিন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুব সমাজের ওপর তিনি অত্যন্ত বিশ্বাসী ও আশাবাদী ছিলেন। সেজন্য তার প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডই নিবেদিত ছিল যুব সমাজকে ঘিরে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবাহনীর শুরুর দিকে আমি জড়িত ছিলাম এবং শেখ কামালের রেখে যাওয়া আবাহনী ক্লাবের মাঠ দিয়েই আজকে আমার পরিচয়। প্রায় ২০ বছর আবাহনী ক্রিকেটের সভাপতি ছিলাম। এখনও আবাহনীর আমি একজন পরিচালক। আবাহনীর পরিচালক হওয়ার কারণেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলাম। এর ওপর দাঁড়িয়েই আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আইসিসির সভাপতি হয়েছি। আমি যা করেছি, আমার যা অর্জন, তার সবগুলোর পেছনে আছেন শেখ কামাল।’

অনুষ্ঠানে শেখ কামালের শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

তিনি বলেন, ‘বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয় ঘটা একজন ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝানো হয়, শেখ কামাল ছিলেন সে ধরনের একজন মানুষ। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত মেধার আলোয় উদ্ভাসিত। সব কিছু ছাড়িয়ে তিনি সর্বোচ্চ মনোযোগী ছিলেন খেলাধুলায়। তার সমসাময়িককালে এতো বড় ও উচ্চতার ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দ্বিতীয় জন জন্ম নেয়নি।’

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও পুরোধা ছিলেন শেখ কামাল। নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী ছিল তখনকার বাঙালি সমাজের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সূতিকাগার। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যে স্পন্দন তিনি রেখে গেছেন তা আধুনিক তরুণ সমাজের প্রেরণার উৎস। মঞ্চ নাটকেও তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। নাট্যচক্র নামে নাট্যগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ছিলেন তিনি।

‘সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হয়েও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। একজন তুখোড় ছাত্রনেতা, ক্ষমতাসীন রাজনীতির খুব কাছের মানুষ হয়েও তিনি কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী বাবার প্রভাব খাটাননি। রাজনৈতিক শিষ্টাচার চর্চায় তিনি থেকেছেন আর দশটা সাধারণ কর্মীর মতোই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে চিরতরে নিভিয়ে দেয়া হয় এই ক্ষণজন্মা প্রতিভার আলোকবর্তিকাকে।’

এক প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘২৩-২৪ বছর বয়সে আমরা কেউ শিক্ষায় থাকি। কেউ চাকরি খুঁজি কিংবা করি। শুধু নিজের উন্নতির চেষ্টাই করে থাকি, কিন্তু শেখ কামাল ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। তার মতো মানুষকে যদি আমরা অনুসরণ করতে পারতাম তাহলে সমাজ হতো গতিশীল, জীবন হতো শৈল্পিক আর বাংলাদেশ হতো সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে বিশ্বের উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র।’

শেয়ার করুন

পরীমনির বাসায় কেন যাব: প্রশ্ন চয়নিকার

পরীমনির বাসায় কেন যাব: প্রশ্ন চয়নিকার

চয়নিকা চৌধুরী ও পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনির সংকটে তার পাশে চয়নিকা চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে না কেন, তা জানতে চাওয়া হয় নির্মাতার কাছে। তিনি বলেন, পরীমনির সঙ্গে তার যোগাযোগ ও আড্ডা নিতান্ত পেশাগত কারণে।

বিশ্বসুন্দরী সিনেমার পর নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় চিত্রনায়িকা পরীমনির কাজ করার কথা ছিলঅন্তরালে নামের ওয়েব সিরিজে।

চয়নিকা নিউজবাংলাকে জানান, আগস্টের শেষে তাদের কাজটি শুরু করার কথা।

১৩ জুন রাতে পরীমনি তাকে বোট ক্লাবে হেনস্তার অভিযোগ করে যখন সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন তার পাশে দেখা গেছে চয়নিকা চৌধুরীকে।

র‌্যাবের অভিযানে পরীমনি গ্রেপ্তার হয়ে এখন পুলিশের হাতে। পরীমনির এই সংকটে চয়নিকা চৌধুরী কেন পাশে নেই, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চয়নিকা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৩ জুন রাতে আমি পরীমনির কাছে গিয়েছিলাম তার দেয়া স্ট্যাটাস পড়ে। বিষয়টা কিন্তু এমন না যে, আমি সব আগে থেকেই জানতাম।’

চয়নিকা আরও বলেন, ‘অনেকে অনেক কথাই বলবে। আমি গেলেও আলোচনা-সমালোচনা করবে; না গেলেও আলোচনা-সমালোচনা করবে। এতে আমার কিছু যায় আসে না।’

চয়নিকা বলেন, ‘পরীমনির বাসায় অভিযান চলার কথা শুনে সেখানে আমি কেন যাব? আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী সেখানে কাজ হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

‘আমার সেখানে কী করার আছে? আর সেখানে গেলেই কি আমি পরীমনির বাসায় যেতে পারতাম?’

বিশ্বসুন্দরী সিনেমার পর থেকেই পরীমনি ও চয়নিকাকে একসঙ্গে দেখা গেছে অনেকবার। তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জানতে চাইলে চয়নিকা বলেন, ‘আমার পরিচালিত প্রথম সিনেমায় পরীমনি কাজ করেছে। কাজের কারণেই অনেক দিন আমরা একে অপরের সঙ্গে মিশেছি। আমাদের মধ্যে একটা সম্মানের সম্পর্ক আছে।’

পরীমনির বাসায় কেন যাব: প্রশ্ন চয়নিকার
নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘তার (পরীমনি) ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যেমন আমার কোনো আগ্রহ ছিল না, তেমনি পরীমনিও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত না। আমাদের কথা-আড্ডা হতো কাজ নিয়ে; কাজের ধরন নিয়ে।

‘আমি আগেই বলেছি, আমি পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করি। শুধু পরীমনি কেন, কারও ব্যক্তিগত বিষয় জানার আগ্রহ ও সময় আমার নেই।’

নিজের পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে গিয়ে চয়নিকা বলেন, ‘আমি যাদের নিয়ে কাজ করি, তাদের সবাইকেই অনেক সম্মান করি। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে ক্যামেরার পেছনে যারা কাজ করেন, সবাই আমার কাছে সম্মানিত।

‘আমি খুব পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করি। সেটা আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন সবাই জানেন। আমার স্বভাব মানুষের বিপদে পাশে থাকা। আর এটা আমি মানবিকভাবেই চেষ্টা করি।’

শেয়ার করুন

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

ডা. জাহাঙ্গীর বললেন, ‘বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দিব।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া চারটি ডিগ্রি এখন থেকে আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি চিঠি পাঠাবে এটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক যদি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে, সেটা তো বিএমডিসি অনুমোদন দেবে না। কারণ বিএমডিসি সেটা গ্রহণ করবে না।’

ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রেসক্রিপশনে তিনি তার ডিগ্রিকে ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে বিএমডিসির দাবি, তিনি তার প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রি হিসেবেই উল্লেখ করতেন। এরকম প্রেসক্রিপশনের নমুনা তাদের কাছে আছে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নেবেনে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।

তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।


আরও পড়ুন: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডিগ্রির ‘অনুমোদন নেই’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসকরা তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি উল্লেখ করতে গেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নিতে হয়। এই আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই চারটি ডিগ্রি ব্যবহার আসছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

আইন অনুযায়ী, প্র্যাকটিস করা যে কোনো চিকিৎসককে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সদনের কপি বিএমডিসিতে জমা দিয়ে তা ব্যবহারের অনুমোদন নিতে হয়। বিএমডিসি সেগুলো যাচাই করে একটি নিবন্ধন নম্বর দেয়। এরপর ডিগ্রির তথ্য বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করার অনুমতি মেলে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির তার সাইনবোর্ডে, প্রেসক্রিপশনে যেসব ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিএমডিসিতে কোনো আবেদন করেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর এমবিবিএস ছাড়াও যে চারটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেগুলো হলো: ডিপ্লোমা মডিউল ইন ডায়াবেটিস (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন অ্যাজমা (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন সিওপিডি (এডুকেশন ফর হেলথ), স্পিরো ৩৬০ স্পাইরোমেট্রি কোর্স (ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু অভিযোগ পেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি, এ বিষয়ে তিনি আমাদের কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দেবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘এছাড়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি কেন অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রিগুলো ব্যবহার করছেন? এটা কী ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমাদের আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

বিএমডিসির পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ দিনে জবাব না এলে ধারাবাহিকভাবে তিনটা চিঠি তার কাছে পাঠানো হবে। এরপরেও জবাব না দিলে ডিগ্রিগুলো নকল ধরে নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সংস্থার কর্মকর্তারা সেই অভিযানে থাকবেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যবহার করা ডিগ্রিগুলোর অনুমোদন বিএমডিসি দেয়নি। এগুলো আসলে মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল এবং অবশ্যই নিয়ম লঙ্ঘন।’

শেয়ার করুন

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি পরীমনি (বাঁয়ে) এবং বুধবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর বাসা থেকে বের হওয়ার পথে। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনি গত জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলার পর সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি পান। অবশ্য সেই আলোড়ন স্থায়ী হয়নি, কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিতর্কিত আরও কিছু কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেলে ঘুরে যেতে থাকে জনমত।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ পরীমনি বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে হয়েছেন আলোচিত-বিতর্কিত। শো বিজে আসার অল্প সময়ের মধ্যে তিনি চলে আসেন আলোচনার কেন্দ্রে। তার অভিনীত সিনেমার বেশির ভাগ ব্যবসা সফল না হলেও ব্যক্তিগত ধনাঢ্য জীবন নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

তবে এর মধ্যেও গত জুনে তিনি ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলার পর সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি পান। অবশ্য সেই আলোড়ন স্থায়ী হয়নি, কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিতর্কিত আরও কিছু কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেলে ঘুরে যেতে থাকে জনমত।

র‌্যাবের অভিযানে বুধবার আটক হয়েছেন পরীমনি। তার বাসা থেকে ভয়ংকর মাদক এলএসডি, আইসসহ বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের দাবি করেছে র‌্যাব। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে নন্দিত থেকে নিন্দিত চরিত্রে পরিণত হয়েছেন আলোচিত এই অভিনেত্রী।

গত ১৩ জুন পরীমনির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে আটকে যায় সারা দেশের চোখ। ওইদিন রাত ৮টায় নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি অভিযোগ তোলেন, ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কারো নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

এই স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংবাদ মাধ্যমকর্মীরা রাতেই ছুটে যান পরীমনির বনানীর বাসায়। এ সময়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির তখনকার সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ ৯ জুন ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন।

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত
ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তোলার পর বনানীর বাসায় সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি পরীমনি


পরদিন ১৪ জুন সাভার থানায় ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। ওই দিনই পুলিশ নাসিরকে গ্রেপ্তার করে

১৫ জুন বিকেলে নিজের বক্তব্য জানাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে যান আলোচিত এই অভিনেত্রী। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের স্বস্তির কথা জানান তিনি। সে সময় তার বলা ‘আমি রিফ্রেশড’ কথাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

পরীমনির সাহসিকতার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সরব হন। প্রবল আলোচিত হিরো আলম গানে গানে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পরীমনিকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সঙ্গী তুহিন সিদ্দিকী অমিকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর ৩০ জুন আদালত তাকে জামিন দেয়। পরদিন ১ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন আহমেদ।

শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছিলেন নাসির। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নিউজবাংলার কাছে তিনি দাবি করেন, বোট ক্লাব থেকে পরীমনি তিন লিটারের একটি ব্লু লেবেলের বোতল নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আর তাতে বাধা দেয়ার কারণেই ওই রাতে তৈরি হয় ‘ঝামেলা’।

নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ওই দিন অমি সাহেব প্রথমে তাকে (পরীমনি) একটা ব্লু লেবেল খাইয়েছিল, যেটার দাম ৩৫ হাজার টাকা। সেটা সে শরবতের মতো খেয়ে ফেলছে, অল্প সময়ের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে আরও একটা দেয়া হয়েছিল, সেটার তিন ভাগের দুই ভাগ সে খেয়ে ফেলছিল, যতটুকু আমার মনে পড়ে।

‘আর দুটা ওয়াইনের বোতল সঙ্গে থাকা একটা মেয়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলছিল পরীমনি। এরপর ঝামেলা শুরু হয় তিন লিটারের একটা ব্লু লেবেলের বোতল নিয়ে, যেটার দাম দেড় লাখ টাকা। যেটা আমরা বিক্রি করি না। মূল ঝামেলা ওই বোতল নেয়া থেকেই শুরু।’

নাসিরের অভিযোগ, এরপরই পরীমনি ও তার সঙ্গীরা ভাঙচুর ও গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর তোলা হয় ‘ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ।

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত
ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি

তবে নাসিরের এই অভিযোগ অস্বীকার করেন পরীমনি।মিডিয়া ট্রায়ালের’ পাল্টা অভিযোগ তুলে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘‘এমনকি সেই রাতে (বোট ক্লাবে) নাসির একজন ওয়েটারকেও লাথি মেরেছিল। ‘ডানাকাটা পরি’ গানের সঙ্গে নাচতে নাচতে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টাচ করছিল। তার ওই সময়ের আচরণ এত অসভ্য ছিল তা প্রকাশ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, এসব ঘটনা তার নিজের মোবাইল ফোনে ধারণও করছিল।”

‘আমি ডানাকাটা পরি’ গানটি পরীমনি অভিনীত ‘রক্ত’ সিনেমার। সিনেমাটি ছিল বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার।

পরীমনিকে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গুলশানের একটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জিডি করার তথ্য প্রকাশ পায় ১৬ জুন।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানায়, ৭ জুন রাতে গুলশান-১ এলাকার অল কমিউনিটি ক্লাব ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে গুলশান থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করে বাহিনীটি।

তবে সেই অভিযোগও অস্বীকার করেন পরীমনি। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরীমনির বিলাসী জীবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে থাকে। অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্তরাও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অস্বস্তির কথা জানান।

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত
ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ও পরিচালক অরুণা বিশ্বাস একটি এফএম রেডিওর সাক্ষাৎকারে পরীমনিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘একজন শিল্পী কত টাকা ইনকাম করলে পাঁচ কোটি টাকার গাড়ি চালাতে পারে, চার কোটি টাকার বাড়ি কিনতে পারে।’

এর পাল্টা জবাবও দেন পরীমনি। নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘বড় বড় সম্মানিত শিল্পীরাও পিছে রটানো গসিপ নিয়ে আমার দিকে আঙ্গুল তুলতেও ছাড়লেন না আজ।’ পাশাপাশি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভূমিকা নিয়েও বেশ কয়েকবার হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরীমনি প্রশ্নে ধীরে ধীরে জনমনে বাড়তে থাকে বিভক্তি। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে হঠাৎ তার ফেসবুক লাইভ হতচকিত করে সবাইকে। বিকেল ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি জানান, তার বাসায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কয়েকজন ঢুকতে চাইছেন।

পরীমনি বলেন, থানায় ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘কাকে ফোন দেব বুঝতেছি না। থানা থেকে কেউ ফোন ধরছে না। আমি লাইভ কাটব না, যদি আমার হাত থেকে কেউ ফোন নিয়ে নেয়, বুঝবেন আমার কিছু একটা হয়েছে।’

লাইভ চলার সময়েই শোনা যাচ্ছিল, ‘দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের বলতে শোনা যায়, ‘ঘরে আসতে দেন। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক।’

পরীমনির লাইভের মধ্যেই তার বনানীর বাসার সামনে ভিড় করতে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীরা। এক পর্যায়ে তিনি বাসার দরজা খুলতে রাজি হন। এরপরেই শেষ হয় প্রায় ৩২ মিনিটের লাইভ।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন নিউজবাংলাকে জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নন্দিত থেকে যেভাবে নিন্দিত
মাদকসহ আটকের পর পরীমনিকে নেয়া হয় র‍্যাব সদর দপ্তরে

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৭টায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম পরীমনিকে হেফাজতে নেয়ার কথা নিশ্চিত করেন।

র‍্যাব জানায়, তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, এলএসডি ও নতুন ধরনের মাদক আইস উদ্ধার করা হয়েছে।

রাত সোয়া ৮টার দিকে পরীমনিকে নিয়ে কুর্মিটোলায় র‌্যাবের সদর দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হয় একটি গাড়ি। রাত পৌনে ৯টার দিকে গাড়িটি পৌঁছায় র‌্যাব সদর দপ্তরে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার রাতে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার অভিযান সম্বন্ধে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’

শেয়ার করুন

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল

বন্ধুদের সঙ্গে শেখ কামাল। শেখ কামালের বন্ধুদের বয়স এখন পেরিয়েছে ৭০ বছর। ছবি: সংগৃহীত

প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক যুবক ছিলেন বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল। বন্ধুদের আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন। রাজনীতিতে তুমুল সক্রিয় ছিলেন। আবার একই সঙ্গে সঙ্গীত, নাটক আর খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকতেন। তার বন্ধু ও সহপাঠীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের স্মৃতিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন অন্য এক শেখ কামাল।

শেখ কামাল শহীদ হয়েছেন ৪৬ বছর আগে। কিন্তু এখনও বন্ধুদের আড্ডায় ঘুরেফিরে আসে তার প্রসঙ্গ। বন্ধুরা একত্রিত হলে এখনও খুঁজে ফেরেন তাদের প্রিয় কামালকে।

১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর।

কিন্তু সেই বয়সেই তিনি বাবার পরিচয়ের বলয়ের বাইরে নিজের পরিচয় তৈরি করে নেন। ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। শেখ কামালের বন্ধু-সহপাঠীদের বয়স এখন পেরিয়েছে ৭০ বছর। অনেক স্মৃতি ধুসর হয়ে এসেছে। কিন্তু আড্ডা-গল্পে যখন প্রসঙ্গ ওঠে একে একে স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

শেখ কামালের স্কুলের বন্ধুদের একজন ব্যবসায়ী সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল। কয়েক বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অনেক স্মৃতি হারিয়েছেন তিনি। শেখ কামালের প্রসঙ্গ উঠতেই স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কামালের সঙ্গে বন্ধুত্ব একদম ছোটবেলায়। ১৯৫৬ সালে কেজি ওয়ান থেকে আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা শুরু করি। কত দুষ্টামি করেছি। তবে এত কিছু মনে নেই। সবদিক মিলিয়ে সে একজন পারফেক্ট জেন্টেলম্যান। তার মধ্যে কোনো দম্ভ ছিল না।

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল
১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। শেখ কামালের বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠী তৌরিদ হোসেন বাদল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও কেউ বুঝতে পারত না সে প্রাইম মিনিস্টারের ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও কেউ বুঝতে পারত না সে প্রাইম মিনিস্টারের ছেলে। তখন তো সারা দেশেই শেখ মুজিবের জয়গান। শেখ কামাল খুব ভালো সংগঠক ছিল। আমি কোনোদিন তার মধ্যে ভাব দেখিনি। একদম সাদামাটা একজন মানুষ, একজন সাধারণ মানুষ। খেলাধুলায় বিরাট পরিবর্তন সে এনেছে। এই যে খেলাধুলায় যে আধুনিকতা, এটার কারিগর কিন্তু সে। একজন অল রাউন্ডার।’

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন শেখ কামাল। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন শেখ কামাল। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। পরবর্তীতে বাকশাল গঠনের পর জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও হন।

শুধু যে মুক্তিযুদ্ধে কিংবা রাজনীতিতেই বিচরণ করেছেন তা নয়। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। ভালো সেতার বাজাতেন, গাইতেনও বেশ। মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চ নাটকের যে নবজন্ম হয়, তা হয়েছিল শেখ কামালের হাত ধরেই। সে সময়ের ঢাকার থিয়েটারপাড়ার অন্যতম প্রতিভা ছিলেন শেখ কামাল।

নাটকের দল নাট্যচক্রের তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন শেখ কামাল। এর মধ্যে দুটি পরিচালনা করেছেন নাট্যকার ম হামিদ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ও নাটক করেছে আমাদের সঙ্গে। ও প্রায় পাঁচ-ছয়টা নাটক করেছে। তার মধ্যে তিনটাই ছিলো নাট্যচক্রের যার দুটি ছিল আমার পরিচালনায়।

‘বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকার কারণে আমাদের রিহার্সালের সময় সে একটু দেরি করে আসত। কিন্তু আসার পর চরিত্র বুঝিয়ে দিলে খুব সহজেই সেটা বুঝে নিতে পারত। রিহার্সালের ফাঁকে ফাঁকে সে গান ধরত, অন্যরা তার সঙ্গে সুর মেলাত। কখনও কখনও রিহার্সালে নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে গান গাইত। ওর অনেকগুলো প্রিয় গান ছিল।

‘পপধর্মী গান দল ধরে গাইতে খুব আনন্দ পেত সে। এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া… গানটি খুব গাইত। সে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের গান একেক তালে গাইতে পারত। কিন্তু সংগীতের উপর খুব ভালো দখল না থাকলে করা যায় না। সে মাঝে মাঝে মুখেই সেতারের ধুন বাজাত।’

শেখ কামালের সঙ্গে নাট্যকার ম হামিদের বন্ধুত্ব গভীর হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। ১৫ আগস্টের আগের রাতেও ম হামিদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শেখ কামালের। সেই স্মৃতি এখনও পোড়ায় বলে জানান ম হামিদ। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর তার সাথে আমার পরিচয় হয় মানে মূল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ’৭৫-এর ১৪ আগস্ট ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। এখনও ভাবলে খুব মন খারাপ হয়। ওর মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেখা হয়েছিল। মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যেই কামাল শহীদ হয়ে গেল।

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তার দুষ্টুমিগুলোও ছিল ভীষণ বুদ্ধিদীপ্ত। বন্ধুদের মধ্যে মাঝে মাঝে সে কিছু দুষ্টুমি করত, সেগুলোও ছিল বুদ্ধিদীপ্ত। তখন আমি অপরাজেয় বাংলায় কাজ করছি। আমাকে সে ডেকে বলল, দেখে যান দেখে যান বাথরুমে কী লিখেছে?

‘আমি তার কথা শুনে বাথরুমে গেলাম। তখন পেছন থেকে সে বেসিনের একটা নল খুলে দিলে বেসিনের সব পানি এসে আমার গায়ে পড়ল। আসলে সেই নলটা খোলাই ছিল, সেটা দেখে হয়তো সে মনে করেছিল একটু মজা করি। আগেও কয়েক জনকে ভিজিয়েছে। পরে আমাকেও ভিজিয়েছে। আমরা সে সময় খুব মজা পেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘সে ছিল আড্ডার মধ্যমণি। নানা প্রসঙ্গে কথা বলত। সব কিছু এত সুন্দর করে বলত, সবাই খুব আকর্ষণ বোধ করত। কিন্তু তার রসিকতা বোধও ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট আমরা তিনজন অপরাজেয় বাংলায় কাজ করছি। তখন ভাস্কর্যের বাঁশগুলো সরিয়ে দিচ্ছিলাম পরের দিন বঙ্গবন্ধু আসবেন বলে। এদিক দিয়ে তিনি যাবেন, এখানে নামবেন।

‘তখন রাত সাড়ে ১১টার সময় কামাল কোথা থেকে হই হই করে এসে বলল, এই হামিদ ভাই কী করছেন? আপনার তাজমহল কবে শেষ হবে? আমি বললাম, তাজমহল তো করেছিল ২২ হাজার শ্রমিক কুড়ি বৎসরে। আর এখানে তো আমরা তিনজন শ্রমিক করছি তিন বছর লাগবে। এ রকম রসিকতা করত। মাঝে মাঝে সে বলত, হামিদ ভাইদের ওখানে চা পাওয়া যাবে, চা খেয়ে আসি। এ বলে চলে আসত।’

ম হামিদ বলেন, ‘ওর মধ্যে কখনও বিষাদ দেখতাম না। বন্ধুবৎসল ছিল। বহু মানুষকে সে ভালোবাসতে পারত এবং অনেকের ভালোবাসা সে পেয়েছে। সে অ্যাকাডেমিক্যালি আমার এক বছরের জুনিয়র ছিল কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে কোনো আড়াল ছিল না। বন্ধুত্বে কোনো ব্যবধান ছিল না।

‘কখনই মনে হতো না প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির ছেলে। এত বড় নেতার ছেলে কিন্তু কোনো দম্ভ তার মধ্যে ছিল না। মানুষের সঙ্গে সে হৃদয় দিয়ে মিশত। সেখানে কোনো মেকিত্ব ছিল না। খুবই সাদামাটা কিন্তু অসাধারণ মেধাবী, খুবই বুদ্ধিদীপ্ত।’

শেখ কামাল ছিলেন একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকও। তিনি ছিলেন আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ কামালের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু তৌরিদ হোসেন বাদল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী হওয়ার আগে তাকে দেখেছি ধানমন্ডি ক্লাবের মাঠে ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ফুটবল খেলতে। সে ছিল মাল্টি-ট্যালেন্টেড।

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল

শেখ কামাল ছিলেন আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। শেখ কামালের বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠী তৌরিদ হোসেন বাদল জানান, আবাহনী ক্রীড়াচক্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন বঙ্গবন্ধুপুত্র। ছবি: সংগৃহীত

‘একদিকে খেলাধুলা, আবার গানবাজনা। সে খুব ভালো সেতার শিল্পী ছিল। সে সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হতো। তাদের কয়েকটিতে কামাল সেতার বাজিয়ে প্রথম হয়েছিল।’

বন্ধুর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে আমাদের বাসায় যাওয়া আসা ছিল। আমি তাদের বাসায় বহুবার গিয়েছি। সেও বহুবার এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়ার পর আমরা সহপাঠী হই। একই ক্লাসে পড়ায় তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেটি আরও গভীর হয় যখন আমি কামালের জন্যই আবাহনী ক্লাবের ফাউন্ডার মেম্বার হলাম।

‘ক্লাবের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। আবার আমরা একসঙ্গে নাটক করতাম। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকের যে নব আন্দোলন শুরু হলো, তাতে কামাল একটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমি সরাসরি না থাকলেও কামালের সঙ্গে ছাত্রলীগ করতাম। ১৯৬৯ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এগারো দফা, ছয় দফা আন্দোলন শুরু হলো, সেই গণআন্দোলনের সময় কামাল বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে বক্তৃতা দিত। সে ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ছাত্রদের সংগঠিত করত। সেও বঙ্গবন্ধুর মতোই একদম বলা যেতে পারে ইনবর্ন ওরগানাইজার ছিল।’

শেখ কামালের কোন স্মৃতিটি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে জানতে চাইলে তৌরিদ হোসেন বাদল বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের পর কোলকাতায় নাটক করতে গিয়েছিলাম। সেই দলে আমাদের সাথে রফিকুল ইসলাম স্যার ছিলেন। আর কামালের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌসি মজুমদার আপা। বালিগঞ্জের একটি বিশাল বাড়িতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমার জ্বর হলো।

‘বন্ধুদের জন্য তার খুব দরদ ছিল। তখন আমার জন্য কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল হলো। জ্বরের সময় আমার পাশে বসেই সে আমার সেবা করেছে। এটা আমার মনে দাগ কেটে আছে। একদিন দেখি আমাদের বাসায় মেঝেতে বসে আমার মা-খালা সবার সঙ্গে গল্প করছে। সে যে এত বড় নেতার ছেলে, তা বুঝতেই দিত না কাউকে। কামাল যখন ছোট তখন থেকেই তো বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন। সেই পরিবারের সন্তান হয়েও সে কিন্তু মাটির খুব কাছাকাছি ছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা যেমন হয়, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সবাই ছিলেন তেমনই।’

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল

বড় বোন শেখ হাসিনার (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সঙ্গে শেখ কামাল। ছবি: সংগৃহীত

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শেখ কামালের বন্ধুদের বুকে গভীর ক্ষত হয়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী তৌরিদ হোসেন বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন, আমাদের বিভাগে আসবেন, সে সময় এই যে অকল্পনীয় ঘটনা ঘটে গেল, কামাল-সুলতানা চলে গেল, এটা আমাদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে গেছে।

বন্ধু-সহপাঠীদের চোখে যেমন ছিলেন শেখ কামাল
শেখ কামালের বন্ধুরা জানান, আমাদের বন্ধুরা এখনও যখন একত্রিত হয় আমাদের আলাপে কামাল-সুলতানা দম্পতির প্রসঙ্গ চলে আসে। ছবি: সংগৃহীত

‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনও ভুলতে পারব না শেখ কামালকে। আমাদের বন্ধুরা এখনও যখন একত্রিত হই আমাদের আলাপে কামাল-সুলতানা আসবেই।’

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

মিয়ানমারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরত যাওয়া বা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা সংস্থা ও রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে রাখার কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টাও আছে। যদিও শুরু থেকে এ ধরনের চাপ নাকচ করে আসছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাল ছেড়ে বসে নেই। আমরা সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীন মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল। তাদের উদ্যোগেই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

‘সম্প্রতি তাসখন্দ সফরেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ইয়ির সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠকে আমরা আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হই। কিন্তু সমস্যাটা হলো মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারির পর থেকে তাদের দেশে যে পরিমাণ বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছে, তাতে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগটা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন।’

মোমেন বলেন, তাসখন্দে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আপনারা বলছেন, মিয়ানমারের বিষয়ে অ্যাফ্রেড। আপনারা বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটা দ্বিপক্ষীয় হোক। তৃতীয় পক্ষ এলে অনিশ্চয়তা বাড়বে। আপনি বলেছিলেন, মিডেল-ইস্টে দেখো। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনে তৃতীয় পক্ষ আসায় কোনো লাভ হয়নি। আপনাদের কথামতো আমরা দ্বিপক্ষীয় অনেক মিটিং করলাম। কোনো লাভই তো হয়নি। অনেক চেষ্টাই তো করলাম। একজন লোকও ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। আমরা তো ত্রিপক্ষীয় আলোচনাও করলাম।’

মোমেন বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমি চাই আপনি এই ট্রাইলেটারাল উদ্যোগে অংশ নিন এবং রোহিঙ্গা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। আপনার সঙ্গে তাদের এত ভালো সম্পর্ক! এই সেদিন ওদের (মিয়ানমার) মিলিটারি চিফ আসল। আপনারা তাদের জিনিসপত্র দিচ্ছেন! আপনারা বললে ওরা শুনবে।

‘জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বললেন, “আমরা তো বলছি। আবারও বলব।” কিন্তু ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে আমি যেটা বলছি, সেটায় তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে উনি বললেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমি বললাম, আচ্ছা সময় নেন। প্রয়োজনে চীনের সঙ্গেও কথা বলেন। কেননা আপনি ও চীনই তো মিয়ানমারকে শক্ত অবস্থানে রাখছেন। উনি এতে সাদামাটা কোনো জবাব দেননি। কেবল বলেছেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।’

এদিকে ২৬ জুলাই ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পথ খুঁজছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান এই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইতো নাওকি বলেন, জাপান দ্রুত প্রত্যাবাসনে সক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ চেষ্টা করবে। তবে ‘উপযুক্ত সময়’ এলেই মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান

এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’-এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের অধিকার দাবি করেছে, যাতে তারা দেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে অন্য সকল বাংলাদেশির মতো। তাদের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছে, তাদের জমিজমা কেনার ও ব্যবসা করতে ক্ষমতা দেয়ার কথাও। বলা হয়েছে, তারা যাতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে দেশের নাগরিকদের মতো।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমে আমাদের সংজ্ঞায় রোহিঙ্গারা রিফিউজি না। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। দে শুড গো ব্যাক। দে আর ট্যাম্পোরারি পিপল, নট রিফিউজিস। আর আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারও কখনও বলেনি তারা ফেরত নেবে না।

‘আমরা কোনো শরণার্থী আশ্রয় দিইনি। আমরা বিপদগ্রস্ত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তাদের মাতৃভূমিতে আছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। আমরা বলেছি, না আমরা এটা গ্রহণ করতে পারছি না। রোহিঙ্গা সমস্যা সাময়িক। এ নিয়ে ট্যাম্পোরারি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আমরা আমাদের এই কথা তাদের জানিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় সুর বদলেছে বিশ্বব্যাংক। তারা মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলছে, শরণার্থী বিষয়ে বাংলাদেশসহ কোনো দেশকেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি তারা। যতদিন রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত না যাচ্ছে, ততদিন সহায়তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছে বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থা।

শেয়ার করুন

কঙ্কালসার ভবনটিই সেই বিশ্ব বিজ্ঞানাগার

কঙ্কালসার ভবনটিই সেই বিশ্ব বিজ্ঞানাগার

হেমায়েতপুরের শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ব বিজ্ঞানাগার ভবন দুটির বেহাল দশা। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আশ্রমের ভক্তদের অভিযোগ, ভবন দুটির সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। উপরন্তু সেখানে প্রায়ই হানা দিচ্ছে চোর। তারা ভবনের রডসহ অবশিষ্ট সামগ্রী খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

পলেস্তারা খসে গেছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে গুল্ম লতা। নেই দরজা কিংবা জানালা। আছে শুধু কঙ্কালসার দেহটি।

বলছি পাবনার হেমায়েতপুরের শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ব বিজ্ঞানাগার ভবন দুটির কথা। পাবনা মানসিক হাসপাতালের সামনে হলেও এগুলোর ভাগ্যে যেন শুধুই বঞ্চনা।

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আশ্রমের ভক্তদের অভিযোগ, ভবন দুটির সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। উপরন্তু সেখানে প্রায়ই হানা দিচ্ছে চোর। তারা ভবনের রডসহ অবশিষ্ট সামগ্রী খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

বিভিন্ন নথি ঘেঁটে জানা যায়, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনার হেমায়েতপুরে জন্ম নেন। ১৯২৯ সালে তিনি সেখানে অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি একে একে গড়ে তোলেন সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয়, সৎসঙ্গ মেকানিক্যাল ও ইলেট্রিক্যাল ওয়ার্কসপ, প্রেস ও পাবলিকেশন হাউস, কুঠির বিভাগ, ব্যাংক, বিশ্ব বিজ্ঞানাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

কঙ্কালসার ভবনটিই সেই বিশ্ব বিজ্ঞানাগার

১৯৪৬ সালে ঠাকুর অসুস্থতা হওয়ার পর বায়ু পরিবর্তনের জন্য স্বপরিবারে ভারতে যান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রেখে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলে নানা জটিলতায় কারণে ঠাকুর আর ফিরেননি এ দেশে।

আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, ঠাকুরের জন্মস্থান, তার বাসগৃহ, মাতৃমন্দির, স্মৃতিমন্দির, নিভৃত নিবাস, অফিসসহ স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো হেমায়েতপুর সৎসঙ্গকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ১৯৬১ সাল থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। অনেকবার আবেদন করার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারিশ পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ পাবনার সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধু বলেন, ‘এটি ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনাগুলোর একটি। অথচ এতটাই অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে যে, ভবনটি দিনে দিনে মিলিয়ে যাচ্ছে।

‘মানসিক হাসপাতালের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কিছু জানে না। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে সংরক্ষণ করা হোক।’

কঙ্কালসার ভবনটিই সেই বিশ্ব বিজ্ঞানাগার

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘মানসিক হাসপাতালের ভেতরে যেসব স্মৃতি রয়েছে, তা হাসপাতালের শুরু থেকেই দাঁড়িয়ে আছে। এইসব স্থাপনা মানসিক হাসপাতালের কার্যক্রমকে কখনো কোনো বাধার সৃষ্টি করেনি।

‘সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষ বহুবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারপ্রধানের কাছে আবেদন জানিয়েছে যাতে করে ঠাকুরের ফেলে যাওয়া ভবনগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতায় নেয়া হয়। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক আবুল বাসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্মৃতি বিজড়িত এ স্থাপনাটি ভাঙার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এটি ভেঙে ফেলার কোনো নির্দেশনাও আমাদের কাছে আসেনি।

হাসপাতালের সামনে বিজ্ঞানাগার ভাঙচুর হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, ‘এটি দেখভালের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তাকর্মী নেই। রাতের আঁধারে কে বা কারা ভেঙেছে তা আমরা কীভাবে জানব?’

কঙ্কালসার ভবনটিই সেই বিশ্ব বিজ্ঞানাগার

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘পাবনা মানসিক হাসপাতালের ভেতরে অনুকূলচন্দ্রের কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলার কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমাদের ভেঙে ফেলার কোনো ক্ষমতাও নেই।

‘আমি যতটুকু জানি, এটি সংরক্ষণের জন্য একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনাটি আমি ভালোভাবে জানি না। বিষয়টি জেনে তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন