× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিশেষ
সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার নিয়ে জোর বিতর্ক
hear-news
player
google_news print-icon

সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার নিয়ে জোর বিতর্ক

সম্পত্তিতে-হিন্দু-নারীর-অধিকার-নিয়ে-জোর-বিতর্ক
প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিপক্ষ মতও রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলছেন, দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

বাবা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার দিয়ে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব করেছে জাতীয় পর্যায়ে গঠিত ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’।

কয়েকটি মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারী সংগঠনের উদ্যোগে প্রস্তাবিত আইনের একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই সেটি আইনমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত এই আইনটির পক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিপক্ষ মতও রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলছেন, দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

১৯৩৭ সালের হিন্দু আইন অনুযায়ী, মেয়েরা কোনো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নন। তবে বিধবা হওয়ার পর সন্তান নাবালক থাকা অবস্থায় তারা শুধু বসতবাড়ির অধিকারী হন। দীর্ঘ ৮৪ বছরেও এই আইনে পরিবর্তন আসেনি।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ‘যুগোপযোগী’ করতে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট একটি নতুন আইনের সুপারিশ করে আইন কমিশন। সেখানে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকারসহ ৯ দফা সুপারিশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে পরে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

এরপর ২০১৮ সালে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে ‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নিয়ে ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০২০’ এর খসড়া তৈরি শেষ হয় গত মার্চে।

খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “আইনটি ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ২০২০’ নামে অভিহিত হবে। এটি সমগ্র বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিক ও যারা হিন্দু ধর্ম পালন করেন তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে আইনটি কার্যকর হবে।”

প্রস্তাবিত এ আইনে ১৭টি ধারা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ ১৯৭৯তে বাংলাদেশ সরকার স্বাক্ষর করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এর বিরোধিতাকারীরা বলছেন, নতুন আইন হলে হিন্দু সম্পত্তি বণ্টনে জটিলতা বাড়বে। তারা বলছেন, এ ধরনের আইন হলে যে মেয়ের সম্পত্তি নেই তাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবেন না অথবা যৌতুক দাবি করবেন।

নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর পরিচালক (প্রোগ্রাম) রিনা রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খসড়া উত্তরাধিকার আইনটি নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের আইনজীবী, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের হিন্দু নেতারা অংশ নেন।

‘এ আইন নিয়ে আমরা কমিউনিটিতে আলোচনা করেছি। হিন্দু নারী-পুরুষেরা এর পক্ষে মত দিয়েছেন। সবার মূল্যবান মতামত আইনের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খসড়া হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের প্রস্তাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব উত্তরাধিকারীর মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনে সম–অধিকারের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা ও সিডও সনদে বিষয়টিকে সবসময় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

খসড়াটি আইনমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে রিনা রায় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খসড়াটি তুলে দেয়া হবে।’

নতুন আইনের বিষয়ে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবশ্যই আমরা প্রচলিত আইনের সংশোধন চাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমঅধিকারের জন্য কাজ করছি। অবশ্যই চাই আইনটি সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হোক।

‘আমরা সাধারণ হিন্দু নারীরা যেটা বুঝি, বাবার সম্পত্তি যদি তার ছেলে সন্তান পায়, তাহলে আমরা মেয়েরা কেন পাব না? দেশের সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা আছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছি।’

দিপালী চক্রবর্তী বলেন, ‘উত্তরাধিকার আইনসহ আমাদের চারটি দাবি রয়েছে। এর মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন আইন বাধ্যতামূলক করতে হবে, ধর্ষণের শিকার নারীকে আইনি সহায়তা দিতে হবে। এক স্ত্রী থাকা অবস্থায় যৌক্তিক কারণ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা করা এবং বিধবা নারীকে স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার ও পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার দিতে হবে।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত হিন্দু আইন যুগোপযোগী করার পক্ষে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যমান হিন্দু পারিবারিক আইন যেটা আছে, সেটা ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যকর। এর মধ্যে নতুন কোনো আইন প্রণীত হয়নি।

‘অথচ নেপাল, ভারতেও পারিবারিক সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন নতুন আইন হয়েছে। তারা সময়োপযোগী করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ আইন করতে গেলে ‘মানি না, মানব না’ বলে যারা স্লোগান দেবে, তারা আসলে বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান। ব্রিটিশ আমলেও বিরোধিতাকারীরা এই স্লোগান দিয়েছিল। আজকেও অনেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিয়ে বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান।’

আইন সংস্কারের পক্ষে ফ্রিল্যান্সার লেখক সমদ্দার রতন ফেসবুকে লিখেন, ‘হিন্দু সমাজে যৌতুক প্রথা একটা বিরাট সমস্যা। এই প্রথার সূত্রপাত যে মেয়েদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার না থাকা থেকে হয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

‘বাবা-মা তাদের মেয়েদের কিছু দিতে চান। এর মহৎ দিকটা ছিল সেটাই, যা পরবর্তীতে ছেলেপক্ষের জোর-জবরদস্তিমূলক আদায়ে রূপান্তরিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্পত্তিতে নারী সমানাধিকার পেলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা ঘটবে যৌতুক প্রথায়। এত সহজে বিলুপ্তি যে ঘটবে না, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ক্রমে যে একটা পরিবর্তন সূচিত হবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।’

তবে তার মতের বিরোধিতাও চলছে ফেসবুকে। সমদ্দার রতনের পোস্টে আইনজীবী ডাল্টন সৌভাত হীরা কমেন্ট করেন, ‘এ আইনের ফলে যৌতুকের হেরফের তো হবেই না, বরং উল্টো সম্পত্তির জন্য নারী নির্যাতন (যেমন: মুসলিম ফ্যামিলি কোর্টে প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে) সেটা শুরু হলেও খুব বেশি আশ্চর্য হব না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুপ্রভাত পালও তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার বিপক্ষে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবশ্যই উত্তরাধিকার আইন হওয়া উচিত। তবে সেটি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরও পরামর্শক্রমে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইন কমিশনের খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তার কারণ হচ্ছে এ আইনের বিষয়ে তাদের (হিন্দু) মধ্যে কিছু মতপার্থক্য আছে।

‘আমরা চাই আইনটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। সে জন্যই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব।’

‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’-এর প্রস্তাবের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা আলাপ-আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।

‘এই লকডাউনের পরেই তারা আমার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর যারা বিরোধীপক্ষ আছেন, তাদের সঙ্গেও আলোপ-আলোচনা করব।’

তিনি বলেন, ‘তারা বিরোধিতা কেন করছেন, সেটা জানতে চাইব। আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। আলোচনা শুরু হবে এই লকডাউনের পরে। বর্তমান পরিস্থিতিটা একটু স্বাভাবিক হলেই।’

‘হিন্দু আইন প্রণয়নে নাগরিক উদ্যোগ জাতীয় কোয়ালিশন’-এর প্রস্তাবে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকারের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও ২০১২ সালে আইন কমিশনের সুপারিশে আরও বেশ কিছু বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। কমিশনের মোট ৯টি সুপারিশ হলো:

১. হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় জরিমানা ও কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হবে।

২. আইনে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট কারণে স্বামী বা স্ত্রী কিংবা উভয়ের উদ্যোগে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করা যাবে এবং বিচ্ছেদের পর ফের বিয়ের সুযোগ থাকবে।

৩. সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বহুবিবাহ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।

৪. ভিন্ন বর্ণ বা গোত্র এবং উপবর্ণের পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিয়ের আইনগত বৈধতা থাকবে।

৫. স্বামী, স্ত্রী, অবিবাহিত পুরুষ বা নারী এবং বিধবা নারী বা বিপত্নীকদের দত্তক নেয়ার অধিকার থাকবে এবং দত্তক শিশুদের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে ভেদাভেদ থাকবে না।

৬. উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা (যেমন: শারীরিক ও মানসিক রোগ ও অক্ষমতা এবং নারীর অসতীত্ব, বন্ধ্যত্ব) বিলোপ করতে হবে।

৭. উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে পুত্রের সঙ্গে কন্যার পূর্ণ ও সমান অধিকার থাকতে হবে এবং বিধবা পূর্ণস্বত্বে উত্তরাধিকারী হবেন।

৮. সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার পর স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের ভরণপোষণের দায়-দায়িত্ব যেমন নেয়া প্রয়োজন, তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে অর্থাৎ স্বামীর অবর্তমানে বা অর্থ উপার্জনে অক্ষমতাজনিত কারণে সচ্ছল বা কর্মজীবী নারীদের বৃদ্ধ মা-বাবা বা সন্তানদের ভরণপোষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকা দরকার।

৯. নাবালক সন্তানদের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে মা ও বাবার সমান অধিকার থাকবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
Conflict disasters multiply the plight of women PM

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা প্রশ্নাতীত, নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ; বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, অপুষ্টি, অশিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার শিকার। যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা বহু গুণ বেড়ে যায়।’

নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা অনেক গুণ বেড়ে যায়।

তিনি বলেছেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন না হলে সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না।

ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তার সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ নারী শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই রেজুলেশন প্রণয়নে অংশ নিতে পেরে বাংলাদেশ গর্বিত।’

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রশ্নাতীত, নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ; বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, অপুষ্টি, অশিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার শিকার। যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা বহু গুণ বেড়ে যায়।’

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী
ঝড়ে বিধ্বস্ত বাড়ির উঠানে এক নারী। ছবি: ইউএন উইমেন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায়ন না হলে সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না। আমার সরকার নারী নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। নীতির অধীনে আমরা মূলধারার আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীদের সার্বিক উন্নয়ন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

‘রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, খেলাধুলা, সশস্ত্র বাহিনী ইত্যাদি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক দৃশ্যপটকে বদলে দিয়েছে।’

জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা সব ক্ষেত্রেই উন্নত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।’

নারীদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে তার কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের রাষ্ট্র গঠনের শুরুতেই লিঙ্গ সমতার সারমর্মটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন। সমান সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমরা জাতীয় উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত স্তরে যেতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: রাষ্ট্র শুধু ধর্ম-জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। একই অনুচ্ছেদের (২) ধারায় বলা হয়েছে: রাষ্ট্র ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে।’

আরও পড়ুন:
‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের কারণ’
খালেদা-তারেকের সঙ্গে সংলাপ কেমন কথা: প্রধানমন্ত্রী
সঞ্চয় বাড়ান, মিতব্যয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী
৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’
এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বিশেষ
Online violence against women increased by 132 percent

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত অনলাইন সমীক্ষার তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর  ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় সমীক্ষাটি চালানো হয়।

দেশে অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতা বেড়েছে। গত এক বছরে এই বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

চলতি বছরে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত এক অনলাইন সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট- এই ছয় জেলায় অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সমীক্ষাটি করা হয়। এতে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অনলাইন সহিংসতার শিকার হন ফেসবুকে। এছাড়া ম্যাসেঞ্জারে ৩৫ দশমিক ৩৭, ইনস্টাগ্রামে ৬ দশমিক ১১, ইমোতে ৩ দশমিক ০৬, হোয়াটসঅ্যাপে ১ দশমিক ৭৫ ও ইউটিউবে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হন। এর বাইরে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন যে তারা ভিডিও কল, মোবাইল ফোন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

চলতি বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব এবং ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরি করায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছেন যে তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবার স্পেসে অনুসরণ করা হয় এবং ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৩ দশমিক ০৬ শতাংশের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ নারী বলেছেন, তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা এবং উদ্বেগ- ৬৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো- ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, অনলাইন সহিংসতা ও হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশের বেশি ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন। যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন-এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়, বেশিরভাগ নারী মনে করেন বিদ্যমান অভিযোগের প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর নয়। তাই ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ নারী কোনো অভিযোগ জমা দিতে আগ্রহ দেখাননি। ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ তাদের জমা দেয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখেননি। সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগী দোষারোপ এবং গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ নারী অনলাইনের মাধ্যমে বেনামে অভিযোগ করতে চান।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ নারীই বলেছেন, তারা অনলাইনে সহিংসতা ও নারীর প্রতি হয়রানির বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা দেখেননি। ৭৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বলেছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখেছেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নতুন কিছু নয় এবং এটি এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র- প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হচ্ছে এবং এর নানারকম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এর নতুন এক মাধ্যম হলো অনলাইন, এই প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যা শিশুরা এর শিকার বেশি হচ্ছে। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

মন্তব্য

বিশেষ
Women look beautiful in nothing

সবকিছুতেই নারী সুন্দর: রামদেব

সবকিছুতেই নারী সুন্দর: রামদেব বাবা রামদেব। ছবি: সংগৃহীত
রামদেব বলেন, ‘নারীকে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজে সুন্দর লাগে। যদি তারা কিছু না-ও পরে তবু তাদের সুন্দর লাগে।’

বিতর্কিত মন্তব্যে ফের আলোচনায় ভারতের যোগগুরু স্বামী রামদেব। এবার নারীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ৫৭ বছরের এই সেলিব্রেটি।

ভক্তদের কাছে এই যোগগুরু বাবা রামদেব নামে পরিচিত। মহারাষ্ট্রের থানেতে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে রামদেব বলেন, ‘নারীকে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজে সুন্দর লাগে। যদি তারা কিছু না-ও পরে তবু তাদের সুন্দর লাগে।’

রামদেবের এমন মন্তব্য ফুঁসে উঠেছে ভারতের নারীবাদীরা। নিন্দা জানিয়ে রামদেবকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল। রামদেবের ওই ভিডিও টুইট করেছেন তিনি।

এতে রামদেবকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের ভাগ্য ভালো। আমাদের সামনে যারা অবস্থান করছেন তারা শাড়ি পরার সুযোগ পেয়েছেন। পেছনেররা হয়তো সুযোগ পায়নি; সম্ভবত ওনারা বাসা থেকে শাড়িগুলো প্যাক করে এনেছে, তবে বদল করার সময় পাননি।

'আপনাদের শাড়িতে দারুণ লাগে, সালোয়ারেও তাই। কিছুই না পরলেও ভালো লাগে।’

রামদেব নারীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘সামাজিক নিয়মের জন্য পোশাক পরেন। শিশুরা কোনো কিছুই পরে না। আমরা ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কিছুই পরিনি।’

দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল ভিডিওটি পোস্ট করে টুইটে বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর সামনে নারীদের নিয়ে স্বামী রামদেবের করা মন্তব্য অশালীন এবং নিন্দনীয়৷ এই বক্তব্যে নারীরা হতাশ হয়েছেন। বাবা রামদেবের ক্ষমা চাওয়া উচিত৷’

এ নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রামদেব বা তার প্রতিষ্ঠান পতঞ্জলির পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য আসেনি।

রামদেবের এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র।

মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরের ঘনিষ্ঠরাও এমন মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখছেন না। উদ্ধব-ঘনিষ্ঠ নেতা সঞ্জয় রাউত জানান, এই বাজে মন্তব্যের প্রতিবাদ করা উচিত ছিল উপ-মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর।

‘এই সরকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানে না।’

মন্তব্য

বিশেষ
Bank manager fired in Iran for serving women without hijab

হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার

হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার  মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে অবস্থিত কোম প্রদেশের এক ব্যাংক ম্যানেজার বৃহস্পতিবার হিজাব না পরা এক নারীকে ব্যাংক সেবা দেন। পরে ওই ব্যাংক ম্যানেজারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ হাজিজাদেহ।

হিজাব না পরা এক নারীকে সেবা দেয়ায় ইরানে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে রোববার এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

ইরানের আইনে, নারীকে অবশ্যই তাদের মাথা, ঘাড়, চুল ঢেকে রাখতে হবে।

সঠিকভাবে হিজাব না করার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইরানে।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে অবস্থিত কোম প্রদেশের এক ব্যাংক ম্যানেজার বৃহস্পতিবার হিজাব না পরা এক নারীকে ব্যাংক সেবা দেন। পরে ওই ব্যাংক ম্যানেজারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ হাজিজাদেহ।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।



ইরানের বেশিরভাগ ব্যাংকই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। হাজিজাদেহ জানান, হিজাব আইন বাস্তবায়ন করা প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের দায়িত্ব।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও আন্দোলনকারীসহ অন্তত ১৩০ জন ইরানে নিহত হয়েছেন।
ইরানের অভিযোগ, পশ্চিমারা আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। তাদের দাবি এটা কোনো বিক্ষোভ না, দাঙ্গা।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত রাজতন্ত্রকে উৎখাত করার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামি বিপ্লব ঘটে। এ বিপ্লবের চার বছর পর ইরানে হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়।

তারপরও ইরানের নারীরা আঁটসাঁট জিন্স এবং ঢিলেঢালা রঙিন হেডস্কার্ফে পরতে পারতেন।

তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেডস্কার্ফ আইন কার্যকর করার জন্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

বিশেষ
600 women attended the Pop of Color conference in Poznan

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’   বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
পরিকল্পনা এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সবাই দেশে নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এখন পুরুষের সঙ্গে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিকে নারীদের এই শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

ফিমেল কমিউনিটি পপ অফ কালার-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘পশিয়ান কনফারেন্স ২০২২’। শুক্রবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন খাতের ৬ শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক অথরিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকর্ণ কুমার ঘোষ, দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল সুসানে গীতি, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনসহ আরও অনেকে।

কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সাতটি সেশন হয়। সেখানে স্বাস্থ্য, মেন্টাল হেলথ, সাইবার সিকিউরিটি, ওমেন সেক্সুয়াল হেলথ, নিউট্রিশন, উদ্যম ও স্পৃহা, ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।

পরিকল্পনা এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সবাই দেশে নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এখন পুরুষের সঙ্গে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিকে নারীদের এই শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১০ খাতে ১০ জন উদ্যোমী নারীকে সম্মাননা দেয় পপ অফ কালার।

বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পপ অফ কালার এর প্রতিষ্ঠাতা টিঙ্কার জান্নাত মিম।

আবৃতি ও সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে সন্ধ্যায় শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন।

মন্তব্য

বিশেষ
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

বিশেষ
In another caste marriage is the result of life

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে গত সপ্তাহে আয়ুশি চৌধুরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।   

আয়ুশি চৌধুরীর ২২তম জন্মদিন আগামী ১ ডিসেম্বর। দিনটা আর উদযাপন করা হবে না তার। কারণ ৯ দিন আগে পুলিশের সামনেই আয়ুশির মরদেহ দাহ করা হয়েছে।

প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।

সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার-কিলিং হলো কাউকে নিজের পরিবার বা গোত্রের সম্মানহানির দায়ে ওই পরিবার বা গোত্রের অপর ব্যক্তি কর্তৃক হত্যা করা। এর মাধ্যমে এই সম্মানহানির উপযুক্ত প্রতিকার হয় বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনার কিলিং সংঘটিত হলেও, ভারতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই অনার কিলিংয়ের প্রধান শিকার নারীরা।

পুলিশের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লির কাছে নিজ বাড়িতে ১৭ নভেম্বর বাবার গুলিতে নিহত হন আয়ুশি। অন্য জাতের এক পুরুষকে বিয়ে করা নিয়ে সেদিন পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল আয়ুশির। খুনের পর তার বাবা-মা মরদেহ যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ফেলে এসেছিলেন।

দম্পতি এখন পুলিশ হেফাজতে। তবে তারা এখন পর্যন্ত কিছু শিকার করেননি। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার লাখ লাখ অভিযোগ জমা পড়ে।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
ঘরের তাকে সুন্দর করে সাজানো আয়ুশির বইগুলো

বিবিসি হিন্দি যখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বদরপুরে আয়ুশির বাড়িতে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত পাড়াটি হতাশায় আচ্ছন্ন ছিল। এক প্রতিবেশী জানান, আয়ুশির কী হয়েছে শুনে দুদিন ধরে তিনি ঠিকমতো খাননি।

‘সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, হাই স্কুলের পরীক্ষায় অনেক ভালো নম্বর পেয়েছিল’... তিনি স্মরণ করেন।

আয়ুশি একটি বেসরকারি কলেজ থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক করছিলেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

বাড়ির প্রথম তলায় ছিল আয়ুশি ঘর। এখানে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছাপ পাওয়া যায়। প্রতিটি আসবাবে ছড়িয়ে আছে আয়ুশির দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দ... জাগতিকতা।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
এই লাল স্যুটকেসটিতে পাওয়া যায় আয়ুশির মরদেহ

এখনও আয়ুশির বইগুলো তার পড়ার টেবিলের তাকে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে বাবা-মা, ছোট ভাই আর দাদির সঙ্গে আয়ুশির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি।

ছোট্ট আলমারিটাতে থাকা নেইলপলিশ, লিপস্টিকসহ সাজসজ্জার জিনিসগুলো আর ব্যবহার করা হবে না আয়ুশির। তার বিছানার কাছে ঝুলে থাকা ডোরেমন পুতুলটি যেন এখনও খুঁজছে আয়ুশিকে।

আয়ুশির দাদি জামবন্তি জানান, শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল আয়ুশি। বেশির ভাগ সময় তার ঘরে পড়াশোনায় মগ্ন থাকত তার নাতনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জামবন্তি বলেন, ‘গত ১৫ হাসপাতালে ছিলাম। যখন আমি ফিরে আসি, তখন পুলিশ এসে আমার ছেলে ও পুত্রবধূকে ধরে নিয়ে যায়।’

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
আয়ুশির ঘরের দেয়ালে ঝুলছে তার খেলনাগুলো

পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, আয়ুশি গত বছর তার বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য বর্ণের এক পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আয়ুশির সঙ্গে তার বাবা-মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে প্রায়শই ঝগড়া হতো।’

পরিবারের দাবি, খুনের দিন আয়ুশি বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তার বাবা ভীষণ খেপে যান।

ময়নাতদন্তে আয়ুশির মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বুকে দুবার গুলি করা হয়েছে আয়ুশিকে। এতেই তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য

p
উপরে