পটুয়াখালীতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ শয্যা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো আড়াই মাসেও স্থাপনই করা যায়নি।
ভোলারগুলো তা-ও স্থাপন করা গেছে, কিন্তু চালানোর লোক নেই। রাজবাড়ীতে নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন-সুবিধা।
বাগেরহাটে অক্সিজেন নিয়ে সমস্যা নেই। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য তিন শয্যার ইউনিট উপহার দিয়েছেন, কিন্তু চিকিৎসকের দক্ষতা নেই সেগুলো চালানোর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের জেলা মানিকগঞ্জের কথা না বললেই নয়। সাড়ে ছয় বছর আগে সেখানে আইসিইউ ইউনিট চালু হলেও একজন রোগীকেও সেবা দেয়া যায়নি। কারণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা নার্স নেই।
করোনাকালে জেলায় জেলায় আইসিইউ স্থাপন নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র হলো এই।
এর প্রধান কারণ হচ্ছে, শয্যা পাঠালেও চিকিৎসক ও নার্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। কোথাও আবার নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন-সুবিধা।
কোথাও কোথাও আবার টেকনিশিয়ান নেই, যারা শয্যাগুলো বসাবে। বিস্ময়কর হলো, এমন জেলায় দ্বিতীয়বারের মতো পাঠানো হয়েছে শয্যা। ফলে এসব জেলায় আইসিইউ সেবার নয়, দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইউনিট পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। সেগুলো পরিচালনার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে যে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে।
গত বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপের পর আইসিইউ এর স্বল্পতার বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি কথা হচ্ছে এ কারণে যে, আক্রান্তদের অনেককে এই সুবিধা দিতে হয়। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরনে আরও বেশি লাগে এই সুবিধা।
এই এক বছরে দেশে আইসিইউ-সুবিধা বেড়েছে বটে, তবে তা রাজধানীতেই বেশি। অথচ এখন করোনার প্রকোপ বেশি মফস্বল শহর ও গ্রাম এলাকায়।
এই পরিস্থিতিতে জেলা শহরে পাঠানো শয্যাগুলো থেকে রোগীরা আদৌ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই চিত্র খুঁজে পেয়েছে নিউজবাংলা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের জেলার চিত্র
২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের উত্তর পাশের পুরোনো ভবনে দুই শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। কিন্তু সেটি পরিচালনায় জনবল ছিল না। তাই কক্ষে ঝোলে তালা।
সাড়ে ছয় বছর পর চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে আইসিইউ ইউনিটটি হস্তান্তর করা হয় এবং দুটি শয্যা বেড়ে হয় ৫টিতে। নতুন করে আইসিইউর মালামাল কেনা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।
সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুাবধার কারণে হাসপাতালের পুরনো ভবন থেকে আটতলা হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশে আইসিইউ শয্যাগুলো হস্তান্তর করা হয়। কেনাও হয় নতুন মামলাল ও চিকিৎসা সরাঞ্জাম।
কিন্তু ভেতরের চিত্র একেবারে সাধারণ শয্যার চেয়েও খারাপ অবস্থা। এলোমেলো ও অগোছালোভাবে রয়েছে শয্যা। এখানে সেখানে পড়ে রয়েছে চেয়ার ও বসার টুল। ময়লা পড়ে আছে আইসিইউ শয্যায়।
কোনো কোনো শয্যার পলিথিনও খোলা হয়নি এখনও। কোনোটির আবার চাদরও নেই। দেখে মনে হবে লোক দেখানোর জন্য করা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য নয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘আইসিইউ এর জন্য যা প্রয়োজন সব করা হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু রোগী না থাকায় আইসিইউ ফাঁকা রয়েছে।’
তিনি জানান, আইসিইউ পরিচালনার জন্য দুই জন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে আইসিইউর জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসক নাই।
আইসিইউ আছে অক্সিজেন নেই
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ২০ শয্যা করোনা ইউনিটে গত ১৯ এপ্রিল তিনটি আইসিউ শয্যা স্থাপন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সেবা পাননি সেখান থেকে। এর কারণ, অবকাঠামোগত অন্যান্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা যায়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দীপক কুমার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন এর কাজ চলছে। এটার কাজ এই মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তবে আমাদের আইসিইউ চালানোর মতো সম্পূর্ণ দক্ষ নার্স নেই। এটার জন্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চাহিদা হিসেবে চিঠি দিয়েছি।’
হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানান চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪১টি। এর মধ্যে শূন্য ২৬টি।
তবে সিভিল সার্জন ইব্রাহিম টিটোন দাবি করছেন, তারা রোগীদের সেবা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আলাদা কোন জনবল নার্স বা ডাক্তার নেই, তবে যা আছে এইগুলো দিয়ে আমি আইসিইউ চালাতে পারব, এরা আইসিইউ চালাতে পারবে।’
তবে একইসঙ্গে বিপরীতধর্মী বক্তব্য দিয়ে তিনি চিকিৎসকের অভাবে সেবা হিমশিম খাওয়ার কথাও জানান।
এমপির দেয়া আইসিইউ বেগার পরে
গত ২৩ এপ্রিল বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ সাহরান নাসের তন্ময় তিনটি আইসিইউ শয্যা উপহার দেন সদর হাসপাতালকে। ঘটা করে আইসিইউ উদ্বোধন করে চিকিৎসা প্রশাসন।
জেলায় আইসিইউ চালানোর মতো লোকবল না থাকার বিষয়ে নিউজবাংলার এক প্রশ্নে সেদিন সিভিল সার্জনকে এম হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, তারা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আনবেন। আড়াই মাস পরেও সেই বক্তব্য পাল্টায়নি।
ফলে আইসিইউ ইউনিট কেবল দেখতেই পারবেন, এর সুবিধা পাবে না বাগেরহাটবাসী।
তবে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সিভিল সার্জন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যার হলেও এখানে জনবল আছে ৫০ শয্যা হাসপাতালের। তার ওপর করোনার জন্য আলাদা ৫০ শয্যা। মোট ১৫০ শয্যার বিপরীতে যে জনবল, তাতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।
‘কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য আছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স না থাকায় আমাদের সংসদ সদস্য শেখ সারহান এর দেয়া তিনটি আইসিইউ বেড এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আইসিইউ বেডগুলো চালু করতে হলে প্রশিক্ষিত চিৎকিসক ও নার্স প্রয়োজন। তা না হলে ১০ চিকিৎসক ও ১৫ জন নার্সকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ ছাড়া সারা দেশে করোনা ভাইরাসে চলোমান লকডাউনের কারণে এই মুহূর্তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও সম্ভব নয়। ’
তবে তিনটি আইসিইউ শয্যা চালু করতে না পারলেও ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই মাসে গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করবে বলেও জানিয়েছেন জেলা চিকিৎসা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
আগেরগুলো চালু হয়নি, তবু নতুন শয্যা
গত ১৮ এপ্রিল ভোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় তিনটি আইসিইউ শয্যা, তিনটি ভেন্টিলেটর ও তিনটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা।
এই হাসপাতালের কর্মীরা জানতেনই না এই শয্যা ও ভেন্টিলেটর কীভাবে স্থাপন করতে হয়। পরে ফোনে শুনে সেগুলো বসানো হয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্তই।
এর মধ্যে ৮ জুলাই সকালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে নতুন আরও তিনটি আইসিইউ শয্যা ভোলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিন্তু এগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত লোকবল সংকটের সমাধান হয়নি। আইসিইউ পরিচালনার জন্য যে দক্ষতার চিকিৎসক বা টেকনিশিয়ান দরকার, সেই ধরনের দক্ষতাও নিশ্চিত করা যায়নি কারও।
জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সিরাজ উদ্দিন এ বলেন, ‘পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১২ জন ডাক্তার ভোলার আইসিইউ ও করোনা ইউনিট পরিচালনার জন্য পাঠানো কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ অনুমোদনটি স্থগিত করেন। আশা করি অনুমোদন হয়ে গেলে পরিপূর্ণ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।’
আড়াই মাস ধরে হাসপাতালের বারান্দায়
পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় আড়াই মাস ধরে পড়ে আছে ঢাকা থেকে পাঠানো পাঁচটি আইসিইউ শয্যা।
২৪ এপ্রিল ঢাকা থেকে ঢাকা থেকে বেড পাঁচটি ট্রাকযোগে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছে। পরে সেগুলো হাসপাতালের গুদামকক্ষে রাখা হয়। পরের দিন সেখান থেকে শয্যাগুলো হাসপাতালের নতুন ভবনের নীচতলায় নামানো হয়। এখনও সেখানেই পড়ে আছে।
জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন বলেন, হাসপাতালের ৮০ শয্যা করোনা ইউনিটের অর্ধেক অংশ নিয়ে ‘আইসিইউ ইউনিট’স্থাপনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে সেন্টাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী সোম বা মঙ্গলবার ঢাকা থেকে আইসিইউ বেড টেকনিশিয়ান আসবে। তারা এসে পাঁচটি বেড আইসিইউ ইউনিটে বসিয়ে দিয়ে যাবে। এরপর আমাদের শুধু আইসিইউ দক্ষ লোকবল হলেই ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাবে।’
দক্ষ কারিগর বা প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার পরেও কেন এসব সরঞ্জামাদির চাহিদা পাঠানো হলো এমন প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মতিন বলেন, ‘আগে তো মালামাল আনতে হবে তারপর না হয় মিস্ত্রি। আমরা প্রয়োজনীয় জনবল চেয়েছি। আশা করি আইসিইউ এবং সেন্টাল অক্সিজেন সিস্টেমের মতো জনবলও পেয়ে যাব।’
ব্যতিক্রম কেবল লক্ষ্মীপুর
এই হতাশার চিত্রের মধ্যে ব্যতিক্রম একমাত্র লক্ষ্মীপুর। সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের সুফল পেয়েছে জেলার মানুষ।
গত ২২ এপ্রিল করোনা ইউনিটে তিনটি আইসিইউ শয্যা চালুর পর এখন পর্যন্ত ১৭৫ জন রোগী সেবা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে প্রথম দিকে আইসিইউ পরিচালনার বিষয়ে নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু ২ মাসের ব্যবধানে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার।
তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তারা মোট ৭টি আইসিইউ শয্যা চেয়েছিলেন।
ফাইল ছবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য