× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিশেষ
এনআইডির নিয়ন্ত্রণ আশা ছাড়ছে না ইসি
hear-news
player
google_news print-icon

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ: আশা ছাড়ছে না ইসি

এনআইডির-নিয়ন্ত্রণ-আশা-ছাড়ছে-না-ইসি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্রের সুরক্ষা বিভাগকে এ দায়িত্ব স্থানান্তরের কথা বললেও ইসি তার কাজ অব্যাহত রেখেছে। ৩ জুন উপপরিচালক আরাফাত আরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেয় ইসি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে থাকা জাতীয় পরিচয়ত্রের (এনআইডি) দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেয়া নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে হইচই। দায়িত্ব সরানোর সিদ্ধান্তের জন্য ইসির গাফিলতিজনিত জনদুর্ভোগকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে ইসিসহ সুশীল সমাজ সরকারি এই সিদ্ধান্তকে দেখছে সাংবিধানিক সংকট ও ইসির স্বাধীনতার কফিনে সরকারের শেষ পেরেক হিসেবে।

ইসি এনআইডির নিয়ন্ত্রণের আশা না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এ-সংক্রান্ত সেবার মান বাড়িয়ে নাগরিকের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল এনআইডি কার্যক্রম ইসির কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ মে এনআইডি কার্যক্রম ও লোকবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করায় ব্যবস্থা নিতে ইসিকে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আশা ছাড়ছে না ইসি

জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া সহজ হবে না বলে মনে করে ইসি। দায়িত্ব হস্তান্তরে সাংবিধানিক সংকটের বাইরেও নৈতিকতার বিষয় রয়েছে বলে মনে করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্রের সুরক্ষা বিভাগকে এ দায়িত্ব স্থানান্তরের কথা বললেও ইসি তার কাজ অব্যাহত রেখেছে। ৩ জুন উপপরিচালক আরাফাত আরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেয় ইসি।

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ: আশা ছাড়ছে না ইসি

এতে বলা হয়, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রতিরোধ/মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও বিদেশগামী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করবেন।

‘এ ধরনের ব্যক্তিবর্গ যাতে হয়রানিমুক্তভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পায়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা এবং সেবা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ জানানো হলো।’

এনআইডি থেকে ইসির আয়

ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এনআইডি সেবা থেকে ইসি প্রায় ২৫০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে।

এনআইডির তথ্য-উপাত্ত যাচাই/সরবরাহ চার্জ, এককালীন, নবায়ন ও সাবইউজার চার্জ এবং হারানো এনআইডি তোলা বা সংশোধন থেকে এই টাকা আয় হয়েছে।

প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান ইসির জাতীয় ভোটার তথ্যভান্ডার থেকে নাগরিকদের তথ্য যাচাই সেবা নিয়ে থাকে। তথ্য-উপাত্ত যাচাই/সরবরাহ চার্জ থেকে এখন পর্যন্ত ইসির রাজস্ব আয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা।

এই সেবা নিতে হলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এককালীন, নবায়ন ও সাব-ইউজার চার্জ দিতে হয়।

এ বাবদ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং হারানো ও এনআইডি সংশোধন ফি থেকে আয় হয়েছে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৭ টাকা।

এখন পর্যন্ত এনআইডি সেবা থেকে মোট আয় হয়েছে ২৪৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৭২ টাকা।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. নুরুজ্জামান তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, শুধু রাজস্ব আয় নয়, এনআইডি সেবার মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, জমি রেজিস্ট্রেশন, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, সিম নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান, চাকরি প্রাপ্তিসহ সব ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। অসংখ্য বেওয়ারিশ লাশের পরিচয়ও নির্ণয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এনআইডি সেবার মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ভুয়া টিআইএনধারী শনাক্তকরণ, ১২ কোটি মোবাইল সিম নিবন্ধন/পুনর্নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে দিবা-রাত্রি পরিচিতি যাচাই সেবা প্রদান, তথ্যভান্ডারে ১০ আঙুলের ছাপ, আইরিস গ্রহণ ও সংরক্ষণ, করোনা দুর্যোগের সময় সফটওয়্যার আপগ্রেড করে অনলাইন সেবাদানের মাধ্যমে নাগরিকদের হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে দেয়া ও অনলাইন এনআইডি কপি দেয়া ও সোয়া ৭ কোটি নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রদত্ত নগদ টাকা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনআইডি তথ্যভান্ডার থেকে প্রায় ৫০ লাখ নাগরিকের পরিচিতি যাচাই এবং দক্ষতার সাথে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ভুয়া/দ্বৈত আইডি/ব্যক্তি শনাক্ত করে সঠিক নাগরিকদের কাছে ঈদ উপহার নিশ্চিতকরণ, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি সংবলিত ইভিএম প্রচলনের মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে।’

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লাখ ভোটারের বায়োমেট্রিকসহ ডেমোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নিবন্ধিত সব ভোটারকে এনআইডি দেয়ার মাধ্যমে এই সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করে।

ইসির নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এনআইডি সেবা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৫১৯টি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস, ৬৪টি জেলা নির্বাচন অফিস, ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকেও নাগরিকদের এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দিকে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা ফ্রি দেওয়া হলেও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফি নেওয়া শুরু করে কমিশন।

কেন স্বরাষ্ট্রে এনআইডি নেয়ার উদ্যোগ

গত ২৪ মে নির্বাচন কমিশনকে এনআইডি কার্যক্রম ও লোকবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিমের সই করা চিঠিতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজটি সুরক্ষা সেবা বিভাগকে দিতে তিনটি নির্দেশনা দেয়া হয়।

প্রথমত নির্দেশনায় বলা হয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগের দায়িত্বের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ১০ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ থেকে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০-এ ‘নির্বাচন কমিশন’-এর পরিবর্তে ‘সরকার’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনীর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৃতীয় ও শেষ নির্দেশনায় রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল নির্বাচন কমিশন থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এনআইডি নিয়ে প্রথম থেকেই নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নাগরিকরা। পরিচয়পত্রে তথ্য ভুল করা, জীবিতকে মৃত বানিয়ে দেয়াসহ নানা সমস্যা রয়েছে। ভুল সংশোধনেও লাগে দীর্ঘ সময়।

পাসপোর্ট ইস্যু, বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচয় (বিশেষ করে অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি) নিশ্চিত হওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সহায়তা লাগে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং থেকে তারা এ তথ্য সংগ্রহ করে। তবে অন্যের তথ্যভান্ডার থেকে সহায়তা পেতে বেশি সময় ব্যয়সহ আরও কিছু বিষয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছিল।

‘স্বরাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত’

জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকা উচিত বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ: আশা ছাড়ছে না ইসি

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র আর ভোটার আইডি কার্ড এক বিষয় নয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়। পৃথিবীর সব দেশে এই জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় স্বরাষ্ট্র অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি নির্বাচন কমিশন করে না। নির্বাচন কমিশন শুধু ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করে।’

বাংলাদেশে শুধু ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রকল্প যৌক্তিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখন যখন ভোটার তালিকা নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র করা হচ্ছে, তখন পৃথিবীর সব দেশের মতো এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত।’

নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার জন্য সকল তথ্য-উপাত্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট দেয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদেরকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট দেয়। তাদেরকেও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই সিদ্ধান্ত।’

সাংবিধানিক সংকট দেখছে ইসি

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম ইসির কাছ থেকে অন্য কোনো সংস্থার অধীনে নেয়া হলে সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তাই সংকট এড়াতে এটি ইসির অধীনেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত চিঠি চালাচালির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসির সঙ্গে দুই দফা সাক্ষাৎ করেন।

তাদের যুক্তি, এনআইডি কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নিলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটাদানে জটিলতা সৃষ্টি হবে। ভোটার সার্ভার নিয়ে সংকটের সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের অর্থের বিরাট অপচয় হবে।

সিইসি বলেন, ‘এনআইডি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। ভোটার তালিকা ও এনআইডি কার্যক্রম আলাদাভাবে করা যাবে না। এনআইডি কার্যক্রম অন্য কোনো সংস্থার হাতে গেলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে।

‘তাই এটি ইসির অধীনেই থাকা উচিত। আমরা বিষয়টি নিয়ে কেবিনেটের কাছে লিখিত যুক্তি তুলে ধরব। এ জন্য এনআইডি মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ: আশা ছাড়ছে না ইসি

এদিকে জনবলসহ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের নির্দেশনাকে ইসির কফিনে শেষ পেরেক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতী ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা বোধগম্য নয়।’

বিষয়টিকে সংবিধান পরিপন্থি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। মন্ত্রিপরিষদের যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত ২৪ মের পত্রে এনআইডি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ‘নির্বাচন কমিশন’-এর বদলে ‘সরকার’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে এনআইডির বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের নির্দেশ দেয়া কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচ্য। ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এর ফলে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজনির্ভর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হবে।’

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ: আশা ছাড়ছে না ইসি

মাহবুব তালুকদার বলেন, দায়িত্ব হস্তান্তরে নির্বাচন ব্যবস্থা ও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হবে।

‘এটি করা হলে সংবিধানের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে না বলে মনে করি। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি স্থানান্তরের নির্দেশ কমিশনের অঙ্গচ্ছেদের নামান্তর। বিষয়টি কমিশনকে না জানানো নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল।’

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: কুষ্টিয়া নির্বাচন অফিসের কর্মী জেলে
এনআইডি স্বরাষ্ট্রে, ইসির কফিনে শেষ পেরেক: ইসি
৩০ দিনে মিলবে জাতীয় পরিচয়পত্র
প্রতিবন্ধী কার্ড না পাওয়ায় ভিক্ষা করেন মারুফ
‘এনআইডি দেয়ার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা উচিত’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
The driver claimed that he did not know that anyone was trapped in the car

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে পেছন থেকে ধাওয়া করে থামানো হয় আজাহার জাফরের প্রাইভেটকার। ছবি: নিউজবাংলা
জনতার পিটুনিতে আহত গাড়িচালক ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, কেউ তার গাড়ির সঙ্গে আটকে আছেন, সেটা তার জানা ছিল না। তবে পুলিশ বলছে, তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত গৃহবধূ রুবিনা আক্তারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহ। পুলিশের কাছে তার দাবি, গাড়িতে একজন আটকে থাকার বিষয়টি টেরই পাননি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানা পুলিশের কাছে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। তবে পুলিশ বলছে, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি থামেননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গাড়িটি আটকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফরকে পিটুনি দেয় জনতা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য আমরা পাইনি। গাড়িতে লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো কাগজ ছিল না।’

প্রতি সপ্তাহে নিজ বাসা তেজগাঁও তেজকুনি পাড়া থেকে হাজারিবাগে যেতেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। অন্যান্য সপ্তাহের মতো শুক্রবার ননদের স্বামীর মোটরসাইকেল চড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালকক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহাবাগ থানার পুলিশ পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় রুবিনার ভাগ্নে আশিকুর রহমান রাতুলের সঙ্গে। তিনি জানান, রুবিনার স্বামী মারা গেছেন দু বছর আগে। তাদের এক ছেলে রয়েছে। সে ক্লাস এইটে পড়ে।

রাতুল বলেন, ‘আমরা মামলা করব। আমার খালাকে হত্যা করা হয়েছে। থানায় যাচ্ছি।’

রুবিনার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শহিদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিহত মহিলা দেবরের সঙ্গে বাইকে করে শ্বশুর বাড়ি থেকে তার বাপের বাড়ি হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘এরপরও উনি গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে চলে যান। তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। উনি টিএসসি পৌঁছলে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি না থামিয়ে আরও জোরে গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে থামতে বাধ্য করে। এই সম্পূর্ণ সময় সেই নারীটি গাড়ির সঙ্গে ছেঁচড়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তাই আমরা একটা মামলা নেব। উনার গাড়িটা সিজ করেছি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

কোন আইনে মামলা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা সেই শিক্ষকের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। সম্ভবত ওনার স্ত্রীর নম্বর। তিনি ওনার অবস্থা জানার পর মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে তিনি গাড়ি চালানোর সময় সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সেগুলোসহ আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’

আরও পড়ুন:
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

মন্তব্য

বিশেষ
People cannot walk freely in the mountains

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে এক গণসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘পাবর্ত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বিতারণের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই বাহিনী, সেই বাহিনী, পঞ্চম বাহিনী গড়ে তোলে সমাধান নয়। যাদের সাথে চুক্তি করেছেন, তাদের সঙ্গে আরও বসেন।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উষাতন তালুকদার।

তিনি আরও বলেন,‘সন্তু লারমাকে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী। তিনি দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিক বলে ২৫ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অপক্ষো করে আছেন। সরকারকে বুঝতে হবে। সন্তু লারমা হয়তো মান অভিমান, ক্ষোভ, দুঃখ-বেদনার দুই-একটি কথা বলেছেন বলে কি উনি আপনাদের শত্রু হয়ে গেলেন নাকি?

‘পাহাড়ের মানুষ বাংলাদেশকে ক্ষতি করবে না। বরং আদিবাসীরা বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছে। নারী ফুটবল খেলোয়ার রিতুপর্ণা চাকমা, গোলরক্ষক রূপনা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনুচিং, আনাই, ময়মনসিংহের মারিয়া মান্ডা ও বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা– এরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হয় দিনটি।

গণসমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মামুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা ও যুব হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী শান্তি দেবী তনচংগ্যা।

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এত বড় শক্তিশালী নয় যে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। বরং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরে স্বার্থ আদায় করে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচন না করে নিজেদের দলীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের চেয়ারে বসানো হচ্ছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের লোকেরা ভোগ করছেন। সরকার চাইলে এসব কিছু সমাধান দিতে পারত। ভূমি কমিশন আইন হলেও সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় এ কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন হচ্ছে না। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ভূমি সমস্যা নিরসন হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

বিশেষ
It will be murder case DC Ramana

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে চালককে আটকে পিটুনি দেয় পথচারীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীকে প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারী দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন। তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ওই নারী সড়কে পড়ে যান ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘তবে চালক গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে তাকে নিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে থামানো যায়নি। উনি টিএসসি পৌঁছালে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি গাড়ি না থামিয়ে নীলক্ষেত মোড়ের দিকে চলে যান। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে থামায়।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ওই শিক্ষকের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। তবে ঘটনা জানাতে যোগাযোগের পর থেকে মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে সাবেক ওই শিক্ষক সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সে বিষয়ে জানা যেত।’

নিহতদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করতে আসেননি জানিয়ে ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘উনারা হয়তো ব্যস্ত আছেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার শিকার নারীর পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নারী রুবিনা আক্তার তিনি গৃহবধূ ছিলেন। থাকতেন তেজগাঁওয়ে। তার ১২ বছরের একটি ছেলে আছে। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন।

অন্যদিকে গাড়িচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহ।

আরও পড়ুন:
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত

মন্তব্য

বিশেষ
Metrorail recruitment exam postponed due to nepotism allegations

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে মেট্রোরেলের টিকিট মেশিন অপরাটের পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার মেট্রোরেলের স্বত্বাধিকারী সরকারি মালিকানাধীন ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’ পরীক্ষা স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেট্রোরেলের টিকেট মেশিন অপারেটর পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা ছিল, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকতে হবে। নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরাও উপস্থিত হয়েছিলেন।

ডিএমটিসিএল-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কথা ছিল পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত ছিল ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ মিনিট দেরিতে।

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো কোনো কক্সে মাত্র এক মিনিট পরও তা নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

এ অবস্থায় ১১টার পর পরীক্ষার্থীরা বাইরে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরীক্ষার্থীদের অনেকেই রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দূর-দুরান্ত থেকে এসেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা নেয়ার নামে হয়রানি করেছে।

এক পর্যায়ে স্থগিত না করা পর্যন্ত পরীক্ষার হল ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা বলেন, ‘এর আগেও এমন অনেক পরীক্ষা হয়েছে। পরে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

পরীক্ষার্থীদের অনেকে জানান, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে তারা মেট্রোরেলের পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক কর্মকর্তা এসে পরীক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিতে সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘টিকিট মেশিন অপারেটর পদে ১৬২৫ আবেদনকারী ছিল। সবার পরীক্ষা এক জায়গায় হওয়ার কথা ছিল। টোটাল পরীক্ষাটা আমরা এই পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করেছি।’

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা

এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে আবারও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি-না জানতে চান ওই কর্মকর্তার কাছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সবাই আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের পরে মেট্রোরেলের উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই যেসব কাজ করবেন তাদের জন্যই এই পরীক্ষা। যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, আপনাদের মনে প্রশ্ন এসেছে, এটাকে নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটা স্থগিত করেছে।’

দ্রুত পরীক্ষার নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই আপনাদের জানাব। আপনাদের সব আবেদন আমাদের কাছে রেডি করা আছে।’

কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে পরীক্ষার হল ছাড়েন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ৬ লাইন
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে যাত্রী উঠবে কীভাবে
মেট্রোরেল: কলকাতায় ১০ বাড়িতে ফাটল, ঘরছাড়া শতাধিক
রেলে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের বিরোধিতায় অস্থায়ী শ্রমিকেরা
মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মন্তব্য

বিশেষ
Dont scare A League by showing rally Farooq Khan

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে শুক্রবার বি‌কে‌লে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের স‌ম্মেল‌ন উদ্বোধন করেন কর্নেল (অব.) ফারুক খান। ছবি: নিউজবাংলা
ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

বিএন‌পি‌ নেতাদের উ‌দ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, ‘স‌মাবেশ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না। আওয়ামী লীগ জা‌নে কীভা‌বে স‌মাবেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের মাধ্যমে জিততে হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হয়।’

শুক্রবার বি‌কে‌লে গাজীপু‌রের টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের ত্রি-বা‌র্ষিক স‌ম্মেল‌নে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক খান বলেন, ‘ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এখনই কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক খান।

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই দুই থানায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আজমত উল্লাহ খান।

বিএনপি সূত্র জানায়, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিভাগীয় সমাবেশ করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত আটটি সমাবেশ হয়েছে। শনিবার নবম সমাবেশটি হচ্ছে রাজশাহীতে।

মন্তব্য

বিশেষ
Brazil defeated Argentina in the field

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল খেলার আগে দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা। ছবি: নিউজবাংলা
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দল সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। িএ ম্যাচে ব্রাজিল দল জয়লাভ করেছে।

শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় প্রথম থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল সমর্থকরা। খেলা শুরুর ১০ মিনিটে রাজুর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক দল। এরপর আর্জেন্টিনা সমর্থক দল তাদের আক্রমণ শক্তিশালী করার চেষ্টা করলে ১৬ মিনিটে রাজুর আরও একটি গোল হজম করে তারা।

দুই গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা দল চেষ্টা চালাতে থাকে গোল পরিশোধ করার। খেলার ২০ মিনিটে আসে সফলতাও। গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের জাহিদ। পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ব্রাজিল সমর্থক দল জয়ী হয়।

খেলা শেষে ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়ক নাজমুল সাগর বলেন, ‘আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেললাম। বিভাগের প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মজবুত করতে আজকের এ প্রীতি ম্যাচ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের অধিনায়ক তাজ হাসান বলেন, ‘একটি খেলায় হার-জিত থাকবেই। খেলা খেলার জায়গায়। এর জন্য আমাদের বন্ধুত্ব বা ভাইয়ের সম্পর্ক নষ্ট হোক এটা আমরা চাই না। প্রীতি ম্যাচ আনন্দ করার জন্যই।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে খেলা যেন এই মাঠের মধ্যেই থাকে। এ খেলার জন্য কেউ কারোর ওপর মনোমালিন্য যেন না হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার।

আরও পড়ুন:
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক
জবি ক্যাম্পাসে বদ্ধ নর্দমা, মশার রাজত্ব

মন্তব্য

বিশেষ
Another girls body hanging in the washroom of the madrasa after a month and a half

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

নরসিংদীর মাধবদীতে একই মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ছাত্রীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনাকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে সবশেষ ঘটনাটিকে মৃত শিশুর পরিবার হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচরে কুঁড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগারে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া যায় ১০ বছরের মাইশা আক্তারের ঝুলন্ত দেহ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর এই মাদ্রাসার শৌচাগারে পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সি আফরিন আক্তারের ঝুলন্ত দেহ।

মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত মাইশার বাড়ি মাধবদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিচারের পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বন্ধের দাবিও তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন: মেয়েকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠালেন বাবা, পেলেন মৃতদেহ


মাদ্রাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে শৌচাগারের পানির পাইপের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে হুজুর ও খাদেমকে জানায়। শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিই মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেই। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাদ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন হয়।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, আমি বলতে পারছি না।

‘মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে বলেই শুনেছি, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেছেন।’

শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

‘বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনাদর মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। সবাই গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

শিশুর ফুপা আইনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটা হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

মাইশার মায়ের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতে জড়িত; তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার রাতেই পরিদর্শন করেছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার ওসি।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইশার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

দেড় মাস আগে মৃত আফরিনের বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী থানার দড়িগাজীরগাঁও এলাকায়। সে ওই মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়ত। তার বাবার নাম ডালিম মিয়া।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসানউল্লাহ সে সময় নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন সকাল ৮টার কিছু আগে আফরিনকে নিয়ে আসেন তার বাবা ডালিম। আফরিন মাদ্রাসার গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিল না। তাকে জোর করে ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডালিমকে।

মাদ্রাসার গেটম্যান ইদ্রিস আলী সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, “বাড়ি থেকে নির্যাতন করে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন বাবা। এ সময় আফরিন বলছিল, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করব না, বেশি জোর করলে ফাঁস লাগিয়ে মারা যাব।’

“তখন আমার সামনেই তার বাবা বলছিল, ‘মরলে মাদ্রাসার ভেতরেই মর, আমি এসে মরদেহ নিয়ে যাব।’ এর আগেও অনেকবার জোর করে মেয়েকে এখানে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।”

শিক্ষক আসানউল্লাহ ও আফরিনের সহপাঠীরা জানায়, মাদ্রাসায় এসে সকালে যথারীতি ক্লাস করছিল আফরিন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চারতলার শৌচাগারে যায় সে। এরপর আর ক্লাসে ফিরে না আসায় কয়েকজন ছাত্রী তাকে খুঁজতে যায়।

তারা শৌচাগারে আফরিনকে দেয়ালের পাইপের সঙ্গে নিজের ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা গিয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আফরিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আছে কি না জানতে ওসিকে কল করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে কল কেটে দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে. এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিউজবাংলাকে জানান, ওই ঘটনায় আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
শিশু পর্নোগ্রাফি: গুগলের তথ্যে ধরা বরগুনার মাদ্রাসাছাত্র
যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ, হারপিক পান তরুণীর
ডেমরায় কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ
শিশুকে মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণ, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার
মা-মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা: অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

p
উপরে