উড়োজাহাজ পর্যাপ্ত, ওড়ার সুযোগ নেই

উড়োজাহাজ পর্যাপ্ত, ওড়ার সুযোগ নেই

করোনার কারণে উড়োজাহাজগুলোর সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশও এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। করোনার আগে উড়োজাহাজের দৈনিক গড় ব্যবহার ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ ঘণ্টায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের জন্য একের পর এক সংকুচিত হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক আকাশপথ। এর ফলে দেশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের বহরে থাকা উড়োজাহাজের সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশই ব্যবহার করতে পারছে না।

তার ওপর প্রতিনিয়তই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও লিজের টাকা শোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফ্লাইট না চালিয়েও গুনতে হচ্ছে এয়ারপোর্ট পার্কিং ফিসহ সরকারের অন্যান্য মাশুল। এ অবস্থায় বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ দেশি এয়ারলাইনসগুলো।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানের বহরে বর্তমানে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে নিজস্ব ১৫টি আর ভাড়ায় আনা হয়েছে ছয়টি।

নিজস্ব উড়োজাহাজের মধ্যে আছে ছয়টি বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ড্রিমলাইনার, চারটি ট্রিপল সেভেন, দুটি সেভেন এইট সেভেন ও তিনটি ড্যাশ এইট মডেলের উড়োজাহাজ। ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজগুলোর মধ্য চারটি সেভেন থ্রি সেভেন ও দুটি ড্যাশ এইট।

ড্রিমলাইনার ও ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজগুলো একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। মূলত লম্বা দূরত্বের গন্তব্যে এ উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করা হয়। সেভেন থ্রি সেভেন মধ্য দূরত্ব ও ড্যাশ এইট সাধারণত ব্যবহার করা হয় স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে।

বিমান বলছে, করোনার কারণে উড়োজাহাজগুলোর সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশও এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। করোনার আগে ১৭টি আন্তর্জাতিক রুটে নিয়মিত ছিল বিমানের ফ্লাইট, যার বেশির ভাগই এখন বন্ধ।

সংস্থার জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার আগে উড়োজাহাজের দৈনিক গড় ব্যবহার ছিল প্রায় নয় ঘণ্টা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ ঘণ্টায়। আন-অডিটেড হিসাবে গত বছরের এপ্রিল থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিমানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি টাকা।’

ঘাটতি কমাতে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্গো ও চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান। এরপরও লোকসান ঠেকানো যায়নি।

তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘ঘাটতি কমাতে বিমান কার্গো এবং চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনার গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া বিমানের যানবাহন বিভাগ, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ এবং মোটর ট্রান্সপোর্ট বিভাগকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনাবশ্যক এমন মূলধন জাতীয় খরচ বা ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে এবং বিমানের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের বেতন কর্তন অব্যাহত আছে।

‘বিমানের যানবাহন বিভাগ, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ এবং মোটর ট্রান্সপোর্ট বিভাগকে বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্য এগুলো থেকে রাজস্ব আয় মূল লক্ষ্য নয়। তবে প্রিন্টিং প্রেস, পোলট্রি এমটি বাণিজ্যিকীকরণের ফলে নিজেরাই প্রফিট করছে এবং তাদের সক্ষমতাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের স্বাধীনভাবে আয় করারও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে তাদের সক্ষমতার ৭৫ ভাগই ব্যবহার করতে পারছে না। এয়ারলাইনসটির বহরে বর্তমানে রয়েছে ১৪টি উড়োজাহাজ। অন্তত চারটি উড়োজাহাজ মধ্য দূরত্বের গন্তব্যে উড়তে সক্ষম।

এয়ারলাইনসটির জনসংযোগ ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা সামনে এসেছে, সেটি হলো একটি ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এখানে শুধু যে আমরা সাফার করছি, এমনটা নয়। পুরো এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিটাই ধ্বংসের মুখে।

‘বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো পুরো বাজারের যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করছিল, এখন সেই বাজার নেই বললেই চলে। নানা বিধিনিষেধের কারণে দেশি এয়ারলাইনসের বাজার চলে যাচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইনসের কাছে। গত বছর থেকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৭৫ ভাগের মতো সক্ষমতা হারিয়েছি। এটি এখনও অব্যাহত আছে।’

তবে এর মধ্যেও আন্তর্জাতিক রুটে চার্টার্ড ও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে আয় করার কথা জানান ইউএস-বাংলার এ মুখপাত্র। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতেও জোর দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু রুটে স্পেশাল বা চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আমরা পেয়েছি। এগুলো কিছুটা রেভিনিউ জেনারেট করছিল। বেশ কিছু কার্গো ফ্লাইট আমরা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতায় পরিচালনা করেছি। নিয়মিত ফ্লাইট শুরুর পর অক্টোবর থেকে আমরা কিছু রেভিনিউ পেয়েছি।

‘কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কা যখন এল, ভিসা রেস্ট্রিকশন শুরু হলো। অনেক জায়গায় এমবার্গো, কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাধকতা এগুলোকে মাথায় রেখে ধীরে এগোতে হচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো থাকার কারণেও আমরা কিছু রেভিনিউ পাচ্ছিলাম।’

দেশি এয়ারলাইনস টিকিয়ে রাখতে সরকারের বিভিন্ন ফি মওকুফের দাবি জানান কামরুল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের কিছু সুবিধা অবশ্যই দেয়া উচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের অ্যারোনটিক্যাল-নন অ্যারোনটিক্যাল যে চার্জগুলো আছে, সেগুলো যদি কিছুটা কমানো যায় তাহলে সহায়তা হবে।

‘একটি ফ্লাইটের পরিচালন ব্যয়ের ৪০ ভাগই জ্বালানি ব্যয়। গত বছরের আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারবার ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে এখন প্রায় ১৪ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এগুলো বৃদ্ধি পাওয়া মানে ফ্লাইটের খরচ বেড়ে যাওয়া। এর প্রভাব টিকিট-ভাড়াতেও পড়ছে। এ ছাড়াও এই সময়ে ডেভেলপমেন্ট চার্জের মতো একটি চার্জও যুক্ত করা হয়েছে। এটিও কিন্তু যাত্রীদের ঘাড়ে পড়েছে।’

অবশ্য আকাশপথের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, দেশি এয়ারলাইনসকে টিকিয়ে রাখতে আন্তরিকতার অভাব নেই।

সংস্থার চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সব এয়ারলাইনসকেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। যখনই কোনো রুট খুলছে, আমরা দেশি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বেশি করে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছি। যারা আমাদের অ্যালাউ করছে না, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

এয়ারলাইনসে ফি মওকুফের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা গত বছর কোভিডের জন্য এয়ারলাইনসগুলোর ফি মওকুফ করেছিলাম। এটা আবার আমাদের রেভিনিউ আয় থেকে অ্যাডজাস্ট করতে হচ্ছে। এ কারণে এটার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়েছিল।

‘এ বছরও আমরা দেখছি কী পরিমাণে এটা করতে পারি। অর্থ বিভাগে কী পরিমাণ অনুমোদন দেয়, সেটার ওপর নির্ভর করছে ফি মওকুফের বিষয়টি। তবে আমাদের জায়গা থেকে উদ্যোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার আন্তর্জাতিক রুটে কিছু ফ্লাইট চলেছে। অভ্যন্তরীণে কিছুদিন ফ্লাইট বন্ধ ছিল। সেটা আমরা অবশ্যই বিবেচনায় আনব।

‘ফি মওকুফ করতে গিয়ে আমাদের নিজস্ব রাজস্ব আহরণেও হাত পড়ে যাচ্ছে। এ জন্য হয়তো সব দাবি পূরণ করা যাবে না। তবে আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমরা চেষ্টা করব কতটা সুযোগ দেয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’

‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’

রীদি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি, তদন্ত কর্মকর্তা ও পুচি ফ্যামিলির তাপসীর স্বামী পার্থ চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামে। তারা পূর্বপরিচিত। তার ওপর তাপসীর টপ ফ্যান হিসাবে নিজেই স্বীকার করেছেন। তাই এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর আমাদের আস্থা নেই।’

পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশের বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের দুটি অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম নিজেই তাপসী দাশের ফ্যান। এ কারণে তাপসীর বিরুদ্ধে মুখে মুখে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও গোপনে তাকে সহযোগিতা করছেন।

নিউজবাংলার কাছে এমন অভিযোগ করেছেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রীদি।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দিকে আমাদের অভিযোগ পড়েই বলে ওঠেন, আরে পুচি ফ্যামিলিকে তো আমি চিনি। আমি ওদের টপ ফ্যান। কবে কোন বিড়ালের বিয়ে দিয়েছে, সব মুখস্থ আমার।'

রীদি বলেন, ‘তার এমন কথা শুনেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। আজ তার প্রমাণ পেলাম। কারণ উনি বিড়াল উদ্ধারের কথা বলে তাপসীর বাসায় যান। ফিরে এসে বলেন, বাসায় তালা।’

রীদি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বাসায় তালা হলে ভেতর থেকে লাইভ করছে কীভাবে? কারণ আজকেও তিনি লাইভ ভিডিও প্রচার করেছেন ইউটিউবে। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি, তদন্ত কর্মকর্তা ও পুচি ফ্যামিলির তাপসীর স্বামী পার্থ চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামে। তারা পূর্বপরিচিত। তার ওপর তাপসীর টপ ফ্যান হিসাবে নিজেই স্বীকার করেছেন। তাই এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর আমাদের আস্থা নেই।’

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পুচি ফ্যামিলির ফলোয়ার ৪০ হাজারের ওপরে। সেটা কে না দেখে। এখানে ফ্যান হওয়ার কী আছে?’

পুচি ফ্যমিলির তাপসী আপনার পূর্বপরিচিত কি না এমন প্রশ্নে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘তাপসীর স্বামী পার্থ চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামে। আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। আর তাপসীর বাড়ি আড়াইহাজারে। তাকে কয়েক দিন ফোন করেছি, কখনও বলেছেন নরসিংদীতে, কখনও বলেছেন নারায়ণগঞ্জে। আজকেও ফোন করেছি, বলেছেন পুরান ঢাকায় আছেন। তার বাসায় গিয়ে কাউকে পাইনি। শুধু ১৫ থেকে ২০টা বিড়াল দেখেছি।’

লিখিত অভিযোগের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই শরিফুল বলেন, ‘মনিরা নামে এক নারী তার বিড়াল আটকে রেখেছে বলে তাপসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, সেই বিড়াল উদ্ধারের জন্যই গিয়েছিলাম।’

এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিড়ালরে যে মারছে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আছে? এটা কী ধরনের অভিযোগ? এটা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরে অভিযোগ করে তাদের মাধ্যমে আসলে কিংবা আদালতের মাধ্যমে আসলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অন্যথায় এ বিষয়ে আমরা কিছু করতে পারব না।’

এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের বিড়ালপ্রেমীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা থানা পুলিশ, মিরপুর ডিওএইচএসের পরিষদ ও খামারবাড়ি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ঘুরেছেন নির্যাতনের শিকার বিড়ালগুলো উদ্ধারের জন্য।

দীপান্বিতা রীদি বলেন, ‘ডিওএইচএসের পরিষদ থেকে তাপসীর বাসায় অভিযান চালানোর সম্মতি দেয়া হলেও পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের না নিয়ে তালা মারা দেখে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেন। পরে থানার ওসির কাছে গেলে তিনি জানান, লাইভ স্টকে মামলা করা ছাড়া তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘এরপর কর্মীরা খামারবাড়ি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যান। সেখান থেকে বলা হয়, থানাতেই মামলা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে পুলিশ চাইলে লাইভ স্টক থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন। আইনগত ব্যবস্থা থানাকেই নিতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ‘পুচি ফ্যামিলি’ র তাপসী দাশ। তার বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

সাভারে গার্ড অফ অনারে সাবেক ইউএনও শামীম আরা নিপা। ফাইল ছবি

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক হয় রোববার। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করে কমিটি।

সংসদীয় এই কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন শাজাহান খান। সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অফ অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর শাহজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অফ অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অফ অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

তিনি বলেন, ‘মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অফ অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ইউএনও নাজমুন নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত আমি এই সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গার্ড অফ অনার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এটার সঙ্গে ধর্মকে টেনে আনা অযৌক্তিক।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। এই সুপারিশ সংবিধানবিরোধী। এখানে নারীকে ছোট করা হয়েছে। তার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ সুপারিশ এটি।

‘এ ধরনের সুপারিশ স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, সংবিধান পরিপন্থি, নারীর মানবাধিকার পরিপন্থি ও নারীর ক্ষমতায়ন পরিপন্থি। এ ধরনের সুপারিশ একজন নারীর জন্য যেমন অবমাননাকর, ঠিক একইভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্যেও অপমানজনক।’

ইউএনও নাজমুন নাহার দীর্ঘদিন মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন। প্রয়াত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অফ অনারে তিনি উপস্থিত থেকেছেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে গার্ড অফ অনার দিতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি। মাঠের মানুষগুলো সহজ সরল। এদের (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি) চেয়ে মাঠপর্যায়ের মানুষগুলো ভালো বোঝে।’

ইউএনও নাজমুন নাহারের আশঙ্কা, এ ধরনের সুপারিশের পেছনে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর উসকানি থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি শ্রেণি আছে, যারা নারীর ক্ষমতায়ন পছন্দ করে না। তারা নারীকে ঘরবন্দি করে রাখতে চায়। ওই শ্রেণির লোকজনের রোষানল থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ করতে পারে।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইউএনও চৈতী সর্ববিদ্যা পাল্টা প্রশ্ন তুলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা তো কর্মকর্তাই। এতে নারী-পুরুষের প্রশ্ন কেন আসবে?’

একই জেলার কবিরহাটের ইউএনও হিসেবে আছেন হাসিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ইউএনও একটি প্রশাসনিক পদ, ধর্মীয় নয়।’


গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় গার্ড অফ অনারে ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা

হাসিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে জেন্ডার কোনো জটিল বিষয় নয়। এটাকে কেউ খাটো করলে তা নিতান্তই অগ্রহণযোগ্য। এটি (সংসদীয় কমিটির সুপারিশ) একান্তই কোনো মহলের ব্যক্তিগত মত। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাই নারী, সে ক্ষেত্রে বিষয়টাকে একপেশে করে দেখা উচিত নয়।’

আরও পড়ুন: ‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ইউএনও হেলেনা পারভিনের প্রশ্ন, একজন নারী কর্মকর্তা যদি সব কাজ করতে পারেন, তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে বাধা কোথায়?

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিকোণের কথা যদি ওঠে, তাহলে অন্য ধর্মের পুরুষ অফিসাররাও তো গার্ড অফ অর্নার দিতে পারবেন না। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’

একই জেলোর শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও নিলুফা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। তারা এখন গার্ড অফ অনার দিলে সমস্যা কোথায়? আমরা মাঠপর্যায়ে সব কাজই তো করছি। তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে পারব না কেন? রাষ্ট্র আমাদের যে দায়িত্ব দেবে, সেটা আমরা অন্য সব পুরুষ অফিসারের মতোই পালন করতে পারব।’

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নাটোরের লালপুরের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও শাম্মী আক্তার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারিভাবে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে। গার্ড অফ অনারে নারীর অংশগ্রহণে আপত্তি তোলা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেখানে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার সুপারিশ বেমামান।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। এটা তো জানাজার অংশ নয়। গার্ড অফ অনারের অর্থ হলো সামরিক উপায়ে সম্মান জানানো। এটা ধর্মীয় কোনো বিষয় না। তাই নারী কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলার কোনো কারণ দেখি না।’

জানাজা ও গার্ড অফ অনার এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন মানিকগঞ্জ সদরের ইউএনও জেসমিন সুলতানাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে গার্ড অফ অনার দিই। সেখানে কে নারী আর কে পুরুষ সেটা বিবেচ্য বিষয় না, বিষয়টি হলো মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী কিন্তু কোনো নারী-পুরুষ পার্থক্য করা যাবে না, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী দেখা যাবে না ,এটাও বলা আছে। সুতরাং আমি মনে করি, এটা সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মহান জাতীয় সংসদ এটা প্রণয়ন করছে। নতুন করে এ ধরনের কিছু জাতীয় সংসদে পাস হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বর্তমান সরকার আমাদের নারী-পুরুষে ভেদাভেদ করবে না। কারণ আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করছি কি না, সেটা আলোচ্য বিষয়। আমাদের দেশে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে।’

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রাম থেকে সিফায়াত উল্লাহ, মানিকগঞ্জ থেকে আজিজুল হাকিম, সাভার থেকে ইমতিয়াজ উল ইসলাম, নাটোর থেকে নাজমুল হাসান, নোয়াখালী থেকে মোহাম্মদ সোহেল, শেরপুর থেকে শাহরিয়ার শাকির ও জামালপুর থেকে সাইমুম সাব্বির শোভন।

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

প্রতীকী ছবি

দেশের হাইকোর্ট একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও নাকচ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক সব সময় ধর্ষণ নয়’

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালত রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

কী আছে আইনে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ মিমাংসা করায় জটিলতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি অংশের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ এও এই ধারাটি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার ব্যাখ্যায় প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি’ আদায়ের বিষয়টিকে ‘ধর্ষণ’ বলে গণ্য করার কথা থাকলেও আদালতে ‘বিয়ের প্রলোভনকে’ প্রতারণা হিসেবে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

হাইকোর্টের রায় নিয়ে আইনজীবীদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সবার ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, প্রতারণা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন মিলন করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুইজন যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, সম্মতিতে মিলন হয়, তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না।’

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলকে বলেন, ‘আদালত ঠিক রায়ই দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে মামলা হলে সেটি ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী হিসেবে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়ে থাকে। পরে কোনো এক পর্যায়ে দেখে যে সুবিধা হচ্ছে না, তখনই মামলা মোকদ্দমা করা হয়। ধরেন কোনো পুরুষ সম্পর্কে জড়ানোর পরে যদি সে তার পছন্দসই অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখনই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে দেন। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো, এখানে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, প্রতারণা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত।’

এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে ১৬ বছর উল্লেখ আছে, এ ক্ষেত্রে এটি ১৮ বছর করা উচিত ছিল।’

রাশনা ইমাম বলেন, ‘এমনিতেই ধর্ষণের মামলা অনেকভাবে টেকে না। তার মধ্যে প্রথমত অনেক নারী অভিযোগ দায়ের করতে চান না। দ্বিতীয়ত, থানায় গেলেও দেখা যায় ভিকটিম উল্টো হয়রানি শিকার হন। তৃতীয়ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামি খালাস পেয়ে যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুরো আইনটিই সংশোধন ও সময়োপযোগী করা উচিত।’

যা বলেছে ভারতের আদালত

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট গত বছর একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে আদালত বলে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখার প্রতিটি ঘটনাকেই ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সবশেষ গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলে, একসঙ্গে থাকা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না। আদালত বলেছে, ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সম্পর্ক ভেঙে দেয়া উচিত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌনমিলনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

নিজের তৈরি ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্রের পাশে তাহের মাহমুদ তারিফ। ছবি: নিউজবাংলা

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে বাবা আব্দুস সালামের মৃত্যুর সময় অক্সিজেন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাহের মাহমুদ তারিফকে। অক্সিজেনসংকটেই মারা যান তার বাবা। এর কিছুদিন পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়; বাড়তে থাকে অক্সিজেনের চাহিদাও। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য গবেষণা শুরু করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ।

গবেষণায় সফলও হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তারিফ। করোনা মোকাবিলায় স্বল্প খরচে অক্সিজেন তৈরির জন্য ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্র তৈরি করেছে সে।

বৃহস্পতিবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে দেখায় তারিফ। টানা এক বছরের চেষ্টায় যন্ত্রটি তৈরি করতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

তারিফ বলে, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবার আগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। আহত ফুসফুস বাতাস থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহের সামর্থ্য হারাতে থাকে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এ কারণে করোনা আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হয়।’

অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তারিফ জানায়, ডায়নামো দিয়ে বাতাসকে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে ঢোকানো হয়। বাতাসে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো পৃথক করতে জিওলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। জিওলাইটের মাধ্যম বাতাস থেকে অক্সিজেনকে এক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানকে আরেক দিক দিয়ে বের করা হয়।

তারিফ জানায়, এই যন্ত্রের মাধ্যমে ২৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সংরক্ষণ করা যাবে। এটি দিয়ে একজন মানুষকে টানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যাবে। এরপর ৫-১০ মিনিট বিরতির নিয়ে আরও সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘তারিফের এ কাজে আমরা সবাই উৎসাহ দিয়েছি। প্রাথমিক সাফল্য এসেছে। এখন ল্যাব টেস্ট করা হবে। ল্যাব টেস্টে দেখতে হবে, তারিফের আবিষ্কৃত যন্ত্রে উৎপাদিত অক্সিজেনের মধ্যে বাতাসের অন্য কোনো উপাদান আছে কি না।’

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অক্সিজেন ঘাটতি ও এর জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে অল্প খরচে প্ল্যান্ট তৈরি করেছে তারিফ। বাতাস থেকে অক্সিজেন আলাদা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।’

তিনি বলেন, ‘তারিফের অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রটি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টে সাফল্য এলে বড় পরিসরে বড় প্ল্যান্ট করে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কম খরচে দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাবনার সাধারণ সম্পাদক আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৯৫-১০০ শতাংশ। এই মাত্রা ৯৩ শতাংশের কম হলে সতর্ক হতে হয় এবং ৯২ শতাংশের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন দেয়া হয়। যাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০-৯১ শতাংশে এসেছিল, এ রকম কয়েকজনকে তারিফের অক্সিজেন প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮-৯৯ শতাংশে ওঠানো সম্ভব হয়েছে বলে তারিফ জানিয়েছে।

তারিফের এই যন্ত্রের সফলতা বিশ্ববিদ্যালগুলোর ল্যাব টেস্টেও আসবে বলে আশা করছেন আকসাদ আল মাসুর।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হলো যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন গ্যাস সংগ্রহ করা। গ্যাস সংগ্রহের পরে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং শতকরা পরিমাণ বের করা। এ জন্য সংগ্রহ করা গ্যাসের শতকরা বিশুদ্ধতা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষার ফলের পরে বলা যাবে এটি রোগীর জন্য ব্যবহার উপযোগী কি না।

এ ব্যাপারে কথা হয়েছে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি জানান, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তারিফের অক্সিজেন কনসেনট্রেটরটি পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এবং ল্যাব টেস্ট করার পর যন্ত্রটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল।

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

পিরোজপুরে এক দশকে বেড়েছে কাঠের আসবাবপত্রের চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা

চমৎকার এসব কাঠের আসবাব তৈরি করে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে কর্মসংস্থান। তবে আসবাবপত্রের দোকানমালিকরা বলছেন, চাহিদা থাকলেও ঠিকমতো মুনাফা করতে পারছেন না তারা।

পিরোজপুরে এক দশকে বেড়েছে কাঠের আসবাবপত্রের চাহিদা। এই শিল্পে কাজ করে সংসার চলছে জেলার শত শত মানুষের।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে কাঠের খাট, শো-কেস, ওয়্যারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।

চমৎকার এসব কাঠের আসবাব তৈরি করে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে কর্মসংস্থান। তবে আসবাবপত্রের দোকানমালিকরা বলছেন, চাহিদা থাকলেও ঠিকমতো মুনাফা করতে পারছেন না তারা।

শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে উকিলপাড়া বা কাঁচাবাজার। এখানে দেখা মেলে সারি সারি সেগুন কাঠের আসবাব আলমারি, সোফা, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল-চেয়ারে সাজানো দোকানগুলোর।

দোকানের পেছনেই রয়েছে আসবাস তৈরির কারখানা। বছর জুড়েই চলে আসবাব তৈরির কাজ। কারখানাগুলোতে দিনভর চলে হাতুড়ি কিংবা করাত দিয়ে কাঠ কাটার শব্দ।

পদ্মা ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী প্রিন্স দেউড়ী বলেন, ‘আমাদের এই বাজারে সেগুন কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা বেশি। শতভাগ সেগুন কাঠের ফার্নিচার তৈরি হয় আমার কারখানায়।’

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

তিনি জানান, সেগুন কাঠের জোগান আসে সুন্দরবন ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে। জোত পারমিট ও বন বিভাগের নিলাম ডাকের মাধ্যমে কাঠ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে বড় গাছ কেনাবেচার হাট স্বরুপকাঠি থেকেও বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় ক্রেতাদের পছন্দের মতো আসবাব।

প্রিন্স দেউড়ী জানান, স্থানীয় ক্রেতাদের চেয়ে বেশি ক্রেতা ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। আসবাব তৈরির পর বিভিন্ন পরিবহনে ক্রেতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

শুধু শহরে নয়, এভাবে কাঠের তৈরি শত শত কারখানা গড়ে উঠেছে পুরো জেলায়। তবে উপজেলা পর্যায়ের আসবাবের দোকান ও জেলা শহরের আসবাবের দোকানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো দামের।

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

জেলা শহরে প্রতি ঘনফুট সেগুন কাঠের দাম পড়ে মানভেদে ১৫০০-৩৫০০ টাকা। আর উপজেলা পর্যায়ে ১২০০-২৬০০ টাকায় একই মানের সেগুন কাঠ পাওয়া যায়। এ কারণে ক্রেতারা গ্রামপর্যায়ের দোকান থেকে বেশি আসবাব সংগ্রহ করেন।

কাঠমিস্ত্রি প্রিন্স দেউড়ী আরও জানান, কাঠ ও রঙের দাম বেশি হওয়ায় আসবাবপত্র বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে নিম্নমানের আসবাবও বাজারে আসায় দাম দিয়ে কিনছেন না ক্রেতারা। তাই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্প সুদে সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প বাঁচতে পারে।’

কাঠশিল্পের সংগঠন শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় কমপক্ষে ৪৩২টি কাঠের আসবাব তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব আসবাবপত্রে দারুণ কাজ ও নকশা থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসবাবপত্রের কদর।

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

কাঠ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গঠন হয়েছে পিরোজপুর কাঠশিল্প শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনটির সভাপতি আশিষ দাস বলেন, ‘কাঠ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমরা সব সময় কাছ করছি। সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি বাইরের নিম্নমানের আসবাব যেন কেউ বিক্রি করতে না পারে। তাহলে আমরা বাঁচবো, শ্রমিক বাঁচবে।’

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘জেলায় কাঠশিল্পের দোকানগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। স্বল্প সুদে শ্রমিকদের ব্যাংক ও এনজিওগুলো আর্থিক সহযোগিতা করবে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

একই সঙ্গে মজার এবং নির্মম বিষয় হলো, ব্যান্ডটির কোনো লাইনআপ নেই। কারণ, ব্যান্ড-সদস্যদের অনেকেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান বা অন্য কোনো কারাগারে চলে যান। আবার অনেকেই নতুন করে যুক্ত হন ব্যান্ডে। এভাবেই লাইনআপ ছাড়া চলছে ব্যান্ডটি।

ডিসেম্বর, ২০১৮…

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ কয়েদিদের জন্য কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে। যার মধ্যে ছিল একটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটার, এক জোড়া তবলা, একটি হারমোনিয়াম, একটি বাঁশি এবং একটি টাম্বুরিন। উদ্দেশ্য, কয়েদিদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা। কেউ নিশ্চিত ছিলেন না, এর ফল কী হতে যাচ্ছে।

তিন বছর পর…

একটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটারের জায়গায় এখন চারটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটার। আর হারমোনিয়াম তিনটি, বাঁশি পাঁচটি। এসেছে একটি বৈদ্যুতিক কি-বোর্ড ও একটি ড্রাম প্যাড। রেকর্ডিংয়ের জন্য এখন একটি মাইকও আছে। আছে একটি এমিপ্লিফায়ার ও এক জোড়া স্পিকার।

ব্যান্ডের জন্ম…

সবাইকে অবাক করে দিয়ে একটি অসাধারণ ফল বেরিয়ে এসেছে এই উদ্যোগ থেকে। জন্ম নিয়েছে একটি ব্যান্ড। তার নাম ‘কাকতাল’। ব্যান্ডের সদস্যরা সবাই কারাবন্দি এবং এদের কেউই পেশাদার ছিলেন না। ফেলে আসা জীবনের কিছু অংশে তারা সংগীতে আগ্রহী ছিলেন।

ব্যান্ডটির এখন ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে গানও রয়েছে অনেকগুলো। সব কটি গানের কথা ও সুর করেছে কাকতাল ব্যান্ডের সদস্যরা।

ব্যান্ড সদস্য…

গোলাপ শাহীন (ভোকাল), আরমান (ভোকাল/গিটার), তরঙ্গ জোসেফ কস্তা (গিটার), প্রান্ত (ভোকাল/কী-বোর্ড), কাজল (ভোকাল/গিটার), মামুন (হারমনিয়াম), নাসির (তবলা), দেলোয়ার (বাঁশি/কি-বোর্ড), তারিফ (বাঁশি), জীবন (ভোকাল), পারভেজ (ড্রাম প্যাড/ভোকাল), জয়দেব (ভোকাল/ড্রাম প্যাড), সাদি (গিটার), রুমাত (গিটার/ভোকাল), আসিফ (গিটার/ভোকাল)।
ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

এরা ছাড়াও অনেকেই তাদের সৃজনশীলতা এবং মেধা দিয়ে এই ব্যান্ডকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে ‘কাকতাল’ প্রতিষ্ঠায় যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন আসিফ ইকবাল। তিনিও কারাবন্দি।

একই সঙ্গে মজার এবং নির্মম বিষয় হলো, ব্যান্ডটির কোনো লাইনআপ নেই। কারণ, ব্যান্ড-সদস্যদের অনেকেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান বা অন্য কোনো কারাগারে চলে যান। আবার অনেকেই নতুন করে যুক্ত হন ব্যান্ডে। এভাবেই লাইনআপ ছাড়া চলছে ব্যান্ডটি।

ইউটিউবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল জেল, কেরানীগঞ্জ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে চর্কি নামের একটি গান রয়েছে। সেই গানের ডিটেইলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বিষয়টি যাচাই করতে নিউজবাংলা কথা বলে সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষের সঙ্গে। তিনি চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে পিন্টু ঘোষ বলেন, ‘হ্যাঁ। সেখানে একটি ব্যান্ড রয়েছে, যার নাম কাকতাল। ব্যান্ডের সবাই কারাবন্দি। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মুগ্ধ তাদের সঙ্গে কথা বলে। সবচেয়ে যে জিনিসটি ভালো লেগেছে সেটা হলো, জীবন নিয়ে তাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।’

পিন্টু ঘোষ আরও বলেন, ‘কারাগারে অনেক মেধাবীও আছেন কিন্তু। তাদের লেখা গান বা সুর শুনলে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। এটা বন্দিরাও বলে যে, ভালো চিন্তা করলে ভালো কিছু করা যায়। তাদের ইচ্ছা, কারগার থেকে বের হয়ে কাজ করবেন, পরিশ্রম করে জীবন সাজাবেন।’

পিন্টু ঘোষ জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য সে-ই একদিনই কারাগারে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানের পর কিছু কথা হয়েছে কারাবন্দিদের সঙ্গে। আয়োজন দেখে ভালো লেগেছে তার।

বিষয়টি জানতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুভাষ কুমার ঘোষের সঙ্গেও কথা বলে নিউজবাংলা।

সুভাষ কুমার ঘোষ নিউজবাংলাকে ব্যান্ডের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিতে পারলেও কেন্দ্রীয় কারাগারে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কাজের বেশ কিছু তথ্য দেন।

সুভাষ কুমার বলেন, ‘আমি এখানে ৯ মাস হলো জয়েন করেছি। তার আগে থেকেই কারাগারে সাংস্কৃতিক কাজ হয়ে আসছিল। যারা সংগীতের যে জায়গায় ভালো, তারা সেই কাজটি করে। কারাগারে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাইরের শিল্পীদের পাশাপাশি কয়েদিদেরও গানসহ অন্যান্য মননশীল কাজে যুক্ত করার সুযোগ দেয়া হয়।’

সুভাষ কুমার ঘোষ আরও বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মননচর্চা কেন্দ্র বলে একটি জায়গা রয়েছে। যারা সৃজনশীল কাজে আগ্রহী, তারা সেখানে গিয়ে তাদের সেই কাজগুলোর বিকাশ করতে পারে।’

সুভাষ কুমার জানান, দেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় ঢাকায়ই এই কাজগুলো বেশি হয়। কারণ, এখানে কাজের পরিধি বেশি, জায়গাও বড়, কয়েদির সংখ্যাও বেশি।

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অবনতিতে ধুঁকছে ঢাকা

স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অবনতিতে ধুঁকছে ঢাকা

ইআইইউ বলছে, ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা মানের অবনতি হয়েছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) দুটি বছরের তালিকার তুলনা করলে দেখা যায়, স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো ছাড়া প্রতিটি মানদণ্ডেই ঢাকার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। অবনতি ঘটা মানদণ্ডগুলো হলো, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ‘বসবাসযোগ্য শহর’ এর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এবার ১৩৭।

বিশ্বে বসবাসযোগ্য ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ), সেটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে দুই বছরের ব্যবধানে ঢাকায় স্থিতিশীলতা এবং অবকাঠামোগত সেবা অপরিবর্তিত আছে। বাকি সব মানদণ্ডেই অবনতি ঘটেছে এই শহরের।

অবনতি ঘটা মানদণ্ডগুলো হলো, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ‘বসবাসযোগ্য শহর’ এর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এবার ১৩৭।

ঢাকার নিচে রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি, নাইজেরিয়ার লাগোস ও সবশেষে সিরিয়ার দামেস্ক।

ইআইইউর বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ড। এর পরের অবস্থানে জাপানের ওসাকা। তৃতীয় অবস্থানে আছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড।

কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে 'দ্য গ্লোবাল লিভাবিলিটি ইনডেক্স ২০২১' প্রকাশ করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।

সূচকে এবার ১৩৭ নম্বরে থাকা ঢাকার মোট পয়েন্ট ৩৩.৫। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকা পেয়েছে ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে স্বাস্থ্যে ১৬.৭, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩০.৮, শিক্ষায় ৩৩.৩ ও অবকাঠামোতে ২৬.৮ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।

২০১৯ সালে এ তালিকার ১৩৮ নম্বরে ছিল ঢাকা, তার আগের বছর বাংলাদেশের রাজধানী তালিকার ১৩৯ নম্বরে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি ইআইইউ।

২০১৯ সালের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেবার ঢাকার সামগ্রিক পয়েন্ট ছিল ৩৯.২। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকা পেয়েছিল ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে স্বাস্থ্যে ২৯.২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০.৫, শিক্ষায় ৪১.৭ ও অবকাঠামোতে ছিল ২৬.৮ পয়েন্ট। দুটি বছরের তুলনা করলে দেখা যায় স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো ছাড়া প্রতিটি মানদণ্ডেই ঢাকার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে।

এবারের তালিকায় বাসযোগ্য শহরের শীর্ষে থাকা অকল্যান্ডের পয়েন্ট ৯৬। শহরটি স্থিতিশীলতায় ৯৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৯৫.৮, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৯৭.৯, শিক্ষায় ১০০ ও অবকাঠামোতে ৯২.৯ পয়েন্ট পেয়েছে।

ইআইইউ বলছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দিতে শহরগুলো কতটা সক্ষম ছিল, সেটি জরিপে এবার অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহর কোভিড ১৯ এর ধাক্কা অল্প সময়ের মধ্যেই সামলে নিয়েছে এবং এই শহরের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক।

করোনা মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের কৌশলের প্রশংসা করে ইআইইউ বলছে, করোনা মাহামারির শুরুতেই সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া এবং আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকায় দেশটি প্রেক্ষাগৃহ, রেস্তোঁরা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক আকর্ষণ উন্মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়।

অকল্যান্ডে শিক্ষার্থীরা শতভাগ স্কুলে যেতে পারায় শহরটি শিক্ষা সূচকে ১০০ স্কোর পেয়েছে। এর ফলে অকল্যান্ড তার আগের ষষ্ঠ অবস্থান থেকে তালিকার প্রথমে উঠে গেছে। একই কারণে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনও আগের ১৫তম অবস্থান থেকে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।

আর জোরাল স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে জাপানি শহর ওসাকা ও টোকিও যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ স্থান পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই মাস পর ফ্লাইটে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলে কর মওকুফ দাবি
৯ দিন পর যাত্রী নিয়ে সৌদি ছুটল বিমান
করোনা এড়াতে আকাশে বিয়ে
সৌদি ভ্রমণের কঠিন শর্তে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন