জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে, উঁচু হয় না বাঁধ

জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে, উঁচু হয় না বাঁধ

পাথরঘাটার ইউনুস আকন বলেন, সামান্য জোয়ারেই তার বাড়িতে পানি ওঠে। ছবি: নিউজবাংলা

পাউবোর পানি পরিমাপকদের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর জোয়ারের পানির স্বাভাবিক উচ্চতা ২৮৫ সেন্টিমিটার বা ৯ ফুট। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমায় জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট বা ১২৩ সেন্টিমিটার বেশি উচ্চতা হয় পানির। অর্থাৎ বেড়িবাঁধের ১২ ও ১৩ ফুট সমান উচ্চতায় অতি জোয়ারে পানি প্রবাহিত হয়।

‘বইন্যার সংকেত দেলেই মোগো পরানডা কাইপ্পা ওডে, চিন্তায় পইড়্যা যাই। মাইয়া পোলা লইয়া পরানডা ক্যামনে বাঁচামু। জোয়ারের পানিতে মোগো ওয়াপদা তলাইয়া যায়। হেইরপর যদি বইন্যা ছোডে, এই ওয়াপদা মোগো রক্ষা হরতে পারবে?’

প্রশ্নটি বরগুনার পাথরঘাটার ইউনুস আকনের। তার বাড়ি পাথরঘাটার বিশখালী নদীর তীরঘেঁষা কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপদোন গ্রামে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বচ্ছর ধইরা জোয়ারের পানি খালি বাড়তেই আছে। আমাবইশ্যা, পূর্ণিমার জোয়ারে আগের চাইতে অনেক বেশি পানি আসে গাঙ্গে। কিন্ত হেই তুলনায় মোগো বেড়িবাঁধ উচা অয় না।’

ইউনুসের কথাগুলো অমূলক নয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরগুনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জেলায় ৮০৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১২ ফুট বা তার কম উচ্চতায় ৩০০ কিলোমিটার ও বাকি ৫০০ কিলোমিটারের গড় উচ্চতা ১৩ ফুট বা তার বেশি।

জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে, উঁচু হয় না বাঁধ

অর্থাৎ নদীতে জোয়ারের পানি ১২ ফুটের বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হলেই এসব এলাকার বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।

পাউবোর পানি পরিমাপকদের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর জোয়ারের পানির স্বাভাবিক উচ্চতা ২৮৫ সেন্টিমিটার বা ৯ ফুট। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমায় জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট বা ১২৩ সেন্টিমিটার বেশি উচ্চতা হয় পানির। অর্থাৎ বেড়িবাঁধের ১২ ও ১৩ ফুট সমান উচ্চতায় অতি জোয়ারে পানি প্রবাহিত হয়।

এ নিয়ে কথা হয় পাউবো বরগুনা কার্যালয়ের পানি পরিমাপক মাহতাব উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে জোয়ারের পানি পরিমাপ করেন।

মাহতাব বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় এখানে সর্বোচ্চ ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। এরপর আইলার সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট বেশি। ঠিক একইভাবে মহাসেন, বুলবুল, মোড়াসহ উপকূলের বয়ে যাওয়া ঝড়ের সময় উপকূলীয় বরগুনা জেলার নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৫ থকে ৬ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ঝড়ের সময়ই নয়, শীত মৌসুম ব্যতীত বছরের অন্য সময়ে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে গড়ে তিন ফুট বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় নদীর পানি প্রবাহিত হয়।’

জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে, উঁচু হয় না বাঁধ

উপকূলীয় পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে গবেষণা করেন এম জসীম উদ্দীন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর কারণ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ দেশ তুলনামূলক কম উচ্চতায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ থেকে ১৯৯৮ এই ২২ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর কক্সবাজারে ৭.৮৮ মিলিমিটার, হাতিয়ার চর চাঙ্গায় ৬ মিলিমিটার ও (সুন্দরবনের) হিরণ পয়েন্টের কাছে ৪ মিলিমিটার করে বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে মাত্রাতেই বাড়ুক না কেন, এর প্রভাবে নদীগুলোতে পানির স্তর বাড়ে।

‘যেহেতু বাংলাদেশের বেশিরভাগ উপকূলীয় সমভূমির (দেশের মোট আয়তনের ১৮ শতাংশের সমান) উচ্চতাই সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতার চাইতে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিটার বেশি। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে দেশের উপকূলের এক বিরাট এলাকা পুরোপুরিভাবেই নিমজ্জিত হয়ে যাবে।’

জসীম বলেন, ‘এ কথা মনে রাখা দরকার যে, বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বন্যার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মাটিতে পলি পড়া ও ব-দ্বীপ গঠনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। ফলে প্লাবন ও জলাবদ্ধতার যে সমস্যা সেটি ভবিষ্যতেও উত্তরোত্তর বাড়তেই থাকবে।’

জোয়ারের উচ্চতা বাড়ে, উঁচু হয় না বাঁধ

৪০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল মাঝি।

তার ভাষ্য, ‘২০ বচ্ছর আগে যেইহানে জাল ফালাইয়া তল (গভীরতা) পাইতাম না, এহন সেইহানে মোগো ২০-৩০ ফুটের জাল ঠেইক্কা যায়।

‘মোরা সাগরের বিভিন্ন জায়গায় জাল ফালাইয়া মাছ শিকার করি। আগের চাইতে সাগরের গভীরতা অনেক কইম্মা গ্যাছে।’

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, ‘বরগুনা জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কিলোমিটার সংষ্কার করে জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় সক্ষম করে তৈরি করা হয়েছে।

‌‘বাকি ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে ঝুঁকি বিবেচনায় ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ যুগোপযোগীভাবে নির্মাণ করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি সরকার বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারের পর্নোগ্রাফি ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে তিনি কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।  

সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় এক দোকানিকে জরিমানা করার পাশাপাশি জনসমক্ষে তার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে আলোচনা।

শাটডাউনের মধ্যে রোববার বিকেলের এ ঘটনা ছড়িয়েছে ফেসবুকে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দ করা মালামাল এভাবে পুড়িয়ে দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের দাবি, আইনের মধ্যে থেকেই তিনি কম্পিউটার পুড়িয়েছেন। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাট এলাকায় টেলিকম ব্যবসায়ী রেজওয়ান সরদারের দোকানে রোববার অভিযান চালায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রেজওয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে আমার বাড়িতে বিদ্যুতের সমস্যার কারণে দোকানে সরঞ্জাম নিতে আসি। এ সময় দোকান খোলা দেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান আসেন। তিনি আমাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর আমার একমাত্র আয়ের উৎস দোকানে থাকা কম্পিউটারটি জব্দ করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কম্পিউটারের ওপর চলত আমার ছয় সদস্যের সংসার। দাদি, বাবা-মা, স্ত্রী নিয়ে আমার সেই সংসার এখন প্রায় অচল। লকডাউনে এমনিতেই খুব খারাপ অবস্থা, তার ওপর ব্যবসার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
ব্যবসায়ী রেজওয়ানের পুড়িয়ে দেয়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ

অভিযানের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, রেজওয়ানের দোকানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি ছিল। এ জন্য সেটি জব্দ করে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারা অনুযায়ী পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অশ্লীল পুস্তকাদি বিক্রয়কেন্দ্রিক অপরাধ ও এ-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তির বিষয়টি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায় উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। দণ্ডবিধির এই ধারায় জব্দ করা আলামত ধ্বংসের কোনো বিধান নেই।

বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে জানানোর পর মঙ্গলবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ১২ ধারা অনুসারে তিনি কম্পিউটারটি পোড়ানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুসারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে ১২ ধারায়।

১২ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে, উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংশ্লেষে তল্লাশি (search), জব্দ (seizure) এবং প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal) করিবার ক্ষমতা থাকিবে।’

আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি থাকলে সেগুলো ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি কম্পিউটার পোড়ানো ঠিক হয়নি। মোবাইল কোর্ট এমনভাবে একটা জিনিস পুড়িয়ে দেবে বা ধ্বংস করে দেবে তা গ্রহণ করা যায় না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিও যেখানে পাওয়া গেল, সেটা তো ধ্বংস করা যাবে না। কেউ ক্যামেরায় ছবি তুললে ক্যামেরা তো ভেঙে ফেলা যাবে না, বরং ক্যামেরার ছবিগুলো ধ্বংস করা যাবে। যে ম্যাটেরিয়ালটা সাবজেক্ট ম্যাটার, সেটার বাইরে কেন যাবেন। এটা তার (ম্যাজিস্ট্রেট) এখতিয়ার নাই।’

এ অবস্থায় আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘যার কম্পিউটার পুড়িয়েছে, তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।’

‘এ ক্ষেত্রে পদ্ধতি হলো, মোবাইল কোর্টে মামলাটি যখন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, সেটা তো আর লংটার্ম না, সামারি প্রসিডিং। তার কম্পিউটারটা যে জব্দ করা হয়েছে সেটার তো ডকুমেন্টে থাকবে। জব্দ তালিকা দেখিয়েই তিনি (রেজওয়ান) ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজওয়ানকে কম্পিউটার জব্দসংক্রান্ত কোনো নথি দেননি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান। তাকে কেবল এক হাজার টাকা জরিমানা করার একটি রসিদ দেয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে চলে অভিযান

মোবাইল কোর্ট আইনের ১৪ ধারায় ‘সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ’ সংক্রান্ত সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত, কোন কার্যের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না।’

এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কী করে আইনি প্রতিকার পাবেন, এমন প্রশ্নে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে তো আর সবকিছু লেখা থাকে না। আর এটা তো সরল বিশ্বাসে হয়েছে এমন কিছুও না।’

সাতক্ষীরার জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক কিসলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো বেআইনি দ্রব্য বা পণ্য পুড়িয়ে বা অন্য কোনোভাবে বিনষ্ট করতে গেলে আদালতের নির্দেশ থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা হতে হবে, সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন। তারপর আদালত আলামত ধ্বংসের নির্দেশ দিলে তা ধ্বংস করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কম্পিউটারে কোনো অশ্লীল ছবি বা ভিডিও থাকলে শুধু সেগুলো নষ্ট করা যেতে পারে। তাই বলে কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়া আইনসিদ্ধ নয়।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর যে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি ছড়াচ্ছে, সেই একই ভ্যারিয়েন্ট ২০১৯ সালে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৮২। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জনের, যাদের মধ্যে ছয় জন মারা যান। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। সেবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি, যাদের মধ্যে মারা যান ১৭৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারও ডেঙ্গুর টাইপ থ্রি বেশি মানুষকে আক্রান্ত করছে। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এবার ডেঙ্গুর টাইপ সি-তে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এখনকার রোগীদের যে লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তা হল দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। তবে অন্য উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই মাথা ব্যথা, চোখ জ্বলা, বমি, পাতলা পায়খানা এগুলো হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আরেক সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যেসব রোগী দেখেছি তাদের হাই ফিভার রয়েছে। কিছু কিছু রোগীর বমি ও ডায়রিয়া রয়েছে। যদিও এটা গতবারও ছিল।’

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের আসলে চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি, টাইপ ফোর। এবার ডেঙ্গু টাইপ থ্রি দিয়ে জ্বরটা বেশি হচ্ছে।

এ বছর কেনো সেরোপাইট থ্রি বেশি সক্রিয়, সেই প্রশ্নে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘এই চারটার মধ্যে কোনো একটা ভাইরাসের বিস্তার কোনো বছর বেশি হয়। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি হয়েছিল। গত বছরেও এই টাইপ থাকলেও তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল।’

ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে কোনটি বেশি প্রাণঘাতী, সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় সবগুলোই এক রকমের। তবে কিছু টাইপ বেশি সংক্রামক, যেমন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রমিত করে। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি ছড়িয়েছিল, তাই বলা যায় এটার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।’

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘ঢাকা থেকে আক্রান্ত অনেক রোগী গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ফলে সেখানেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। কারণ অন্যান্য জেলাতেও এডিস মশা আছে। আক্রান্তকে কামড়ানোর পর ভাইরাস মশা থেকে আবার সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপটাই মশার মাধ্যমে সাধারণত ছড়ায়। আরেকটি আছে এডিস এলবোপিকটাস, তবে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে এডিস ইজিপটাই ডেঙ্গুর বাহক।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড মহামারির মধ্যে করোনা ও ডেঙ্গু নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন তাদের অনেকেরই স্বাস্থ্য জটিলতা বেশি। আগামীতে এ ধরনের রোগী বাড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ডেঙ্গু বিপর্যয় উদ্বিগ্ন করে তুলেছে চিকিৎসকদের। তারা বলছেন, দুটি রোগের আক্রমণ একসঙ্গে হলে চিকিৎসা পদ্ধতির জটিলতা বাড়ে। এতে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় আক্রান্ত রোগীর।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৫। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৮২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড মহামারির মধ্যে করোনা ও ডেঙ্গু নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন তাদের অনেকেরই স্বাস্থ্য জটিলতা বেশি। আগামীতে এ ধরনের রোগী বাড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা আলাদা হওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে রক্ত জমাটের প্রবণতা থাকে। তবে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। ফলে দুটি রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিতেও পার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা এবং ডেঙ্গু একসঙ্গে ভয়াবহ হতে পারে। দুইটা যখন একসঙ্গে থাকবে তখন কিছু জিনিস বেড়ে যেতে পারে, যদি কেয়ারফুল না হওয়া যায়। মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় দুইটা একসঙ্গে হলে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসে। রোগীদেরও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সন্দেহ করতে হবে। আমরাও ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’

ডা. টিটো মিঞা বলেন, ‘কোনো কোনো ডেঙ্গুতে কোনো বিপদ থাকে না। কারণ সব ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীর ব্লিডিং হয় না। তবে ব্লিডিং থাকলে আর যদি করোনা থাকে তবে ব্লাড সিনাপ ব্যবহারের দরকার নেই। প্লাটিলেট কমে গেলে ভীত হওয়া যাবে না যতক্ষণ না ব্লিডিং হয়।’

তিনি জানান, কেউ একসঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে করোনা আক্রান্ত হিসেবেই মৃত্যু নথিভুক্ত হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুইটা (করোনা ও ডেঙ্গু) একসঙ্গে হলে একটা বড় ইফেক্ট তো হবেই। এ ধরনের পেশেন্টকে ট্রিটমেন্টের জন্য করোনা হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

এ ধরনের ক্ষেত্রে জটিলতার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুতে যদি ব্লিডিং থাকে, সে রকম ক্ষেত্রে আসলেই কঠিন অবস্থা হবে।’

তবে খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা বা ডেঙ্গু যেটাই হোক না কেন, সেটি কিন্তু সব ক্ষেত্রে খারাপ না। বেশিরভাগ রোগীই বাসায় থেকে ভালো হচ্ছে।

‘দুটি একসঙ্গে হলেই যে খুব খারাপ হবে, তা নয়। তবে খারাপ হতে পারে। ডেঙ্গুর হেমোরেজিক রোগী বেশি খারাপ হয়, যেটাকে শক সিনড্রোম বলে।’

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

ডেঙ্গু ও করোনার লক্ষণ প্রায় কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে এখন অবহেলা করা যাবে না। অনেকেই বাসায় ওষুধ খান। তবে শুধু নাপা খেতে হবে। অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

‘কেউ একসঙ্গে দুটো পজেটিভ হলে অবশ্যই ডাক্তার সিনড্রোম দেখে ওষুধ দেবেন। যেহেতু এটা ভাইরাস, এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তাই আলাদা আলাদা লক্ষণ অনুযায়ী সেবা দিতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারও যদি করোনা ও ডেঙ্গু একসঙ্গে হয় তাহলে কোনোভাবেই তার বাসায় থাকা উচিত হবে না। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

এ ধরনের রোগীদের বিপরীতমুখী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে জানিয়ে এ অধ্যাপক বলেন, ‘করোনাতে রক্ত জমাট বাঁধার একটা প্রবণতা থাকে। আমরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ দিচ্ছি। অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। তাই রক্ত পাতলা করার ওষুধ দিলে ব্লিডিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব ক্ষেত্রে একটু কন্ট্রোভার্সিয়াল কন্ডিশন দাঁড়িয়েছে।’

একসঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা আক্রান্ত রোগী এখন পর্যন্ত অনেকটা কম হলেও চিকিৎসকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এ সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাছে এখন দিনে ১০টা জ্বরের রোগী এলে তার মধ্যে তিনটা বা চারটা করোনার রোগী পাচ্ছি। সেই সঙ্গে দুই থেকে তিনটা ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি।

‘তবে প্রতিদিন না হলেও এক-দুই দিন পর একজনকে পাচ্ছি, যার দুইটাই পজেটিভ আছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন অনেক হচ্ছে যে, ডেঙ্গুর জন্য ট্রিটমেন্ট নিতে গিয়ে কেউ করোনা পজেটিভ হয়েছে। আবার একইভাবে করোনা চিকিৎসা চলার সময় ডেঙ্গু পজেটিভ হয়েছে। এখন যদি ডেঙ্গু কন্ট্রোল করা না যায়, তবে মারাত্মক সমস্যা হবে।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

রিকশাচালক শাফী যেভাবে ভাইরাল ইউটিউবার

রিকশাচালক শাফী যেভাবে ভাইরাল ইউটিউবার

ইউটিউবার শফিকুল ইসলাম ওরফে শাফী।

বেশি উপার্জনের আশায় ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শাফী। কেনেন পুরোনো একটি স্মার্টফোন। সেটি দিয়ে কিছুদিন কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও আপ করেন। সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। ‘ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই তিনি ইউটিউবারের পরিচিতি পান।

মোংলার রিকশাচালক শফিকুল ইসলাম ওরফে শাফী। বেশি উপার্জনের আশায় নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে বিতর্কিত বিভিন্ন ভিডিও আপ করে ‘হইচই’ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য মনগড়া ও উসকানিমূলক বিভিন্ন ভিডিও আপ করার কথা আদালতেও স্বীকার করেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘শান্তির আহ্বান’-এর সাবস্ক্রাইবার ৩ লাখ ২ হাজার। একই নামে ফেসবুক পেজে ফলোয়ার সংখ্যাও কাছাকাছি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মোংলা বন্দরের শ্রমিক ফজলুল হকের ছেলে শাফীর সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াত ছিল। আর্থিক সংকটে মাদ্রাসা ছেড়ে রিকশা চালানো শুরু করেন তিনি; ভ্যান-টমটম চালানোও বাদ দেননি। একটা পর্যায়ে বেশি উপার্জনের জন্য মোংলা থেকে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে। সেখানে কিছুদিন রিকশা চালানোর পর চাকরি নেন একটি পোশাক কারখানায়।

পরে রাজধানী ঢাকায় এসেও পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তাতেও সুবিধা করতে না পেরে বেশি উপার্জনের আশায় ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কেনেন পুরোনো একটি স্মার্টফোন। সেটি দিয়ে কিছুদিন কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও আপ করেন। সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। ‘ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই তিনি ইউটিউবারের পরিচিতি পান।

এরপর আরও বেশি উপার্জনের লোভে কোরআন-হাদিস নিয়ে অপব্যাখ্যা দিয়ে একের পর এক ভিডিও আপ করতে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত ভিডিও আপ করে মাসে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করতেন শাফী।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করেন তিনি। এ অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিএমপির সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপকমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আল কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিউ বাড়াতে সরকার ও ধর্ম নিয়ে মিথ্যা, মনগড়া ভিডিও বানিয়ে আপলোড করার অভিযোগে শাফীকে ২৮ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের কর্মকর্তারা জানান, শাফীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত শত শত ভিডিও বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই রিকশাচালক গুগল থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ করতেন। পরে সেগুলোতে ভয়েস দিয়ে বিতর্কিত ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপ করতেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত নানা ইস্যুকে পুঁজি করতেন তিনি। এভাবে ‘বিকৃত ভিডিও’ বানিয়ে ভিউয়ার ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর চেষ্টা করতেন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে তার ‘শান্তির আহ্বান’ নামে ফেসবুক পেজের সন্ধান পাওয়া যায়। এই পেজ থেকে বিভিন্ন হাদিস অস্বীকার করা হতো। হাদিসের অপব্যাখ্যা করে ভিডিও শেয়ার করা হতো। ‘শান্তির আহ্বান’ নামেরই ইউটিউব চ্যানেল থেকেও একই ধরনের কনটেন্ট আপ করা হতো।

শাফী জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার ইউটিউব চ্যানেলে দিতেন। চ্যানেলটি ব্রাউজ করে আরও দেখা গেছে, আলোচিত প্রায় সব ঘটনা নিয়েই ভিডিও বানাতেন তিনি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনগড়া বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে ছবি যুক্ত করতেন শাফী।

এসব ভিডিওর মাধ্যমে ধর্ম, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী নানা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালান তিনি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়। সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপের নেতৃত্বে ২৮ জুলাই ঝালকাঠি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার মোবাইল ফোনে ‘শান্তির আহ্বান’ নামের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। ইউটিউব চ্যানেলটিতে এ ধরনের পাঁচ শতাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য মনগড়া ও উসকানিমূলক ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও প্রচারের কথা স্বীকার করেছেন শাফী।

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ নিউজবাংলাকে জানান, রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে প্রায় সব অভিযোগই স্বীকার করেছেন তিনি। মোংলায় রিকশা চালিয়ে তেমন আয় না হওয়ায় ২০০১ সালের দিকে চট্টগ্রামের কলসি দিঘিরপাড় এলাকায় চলে যান শাফী। সেখানে কিছুদিন রিকশা চালানোর পর একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

সম্পর্কের অবনতি হলে ২০১১ সালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় চলে যান। সেখানকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানেও আরেক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেম হয়। ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। কিছুদিন পর শাফীর বাবা ঢাকায় তার বাসায় আসেন। কিছুদিন থাকার পর তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের শেষ দিকে স্ত্রীসহ মোংলায় মায়ের কাছে চলে যান শাফী।

সেখানে গিয়ে রিকশা, ভ্যান ও টমটম যখন যেটা সুবিধাজনক মনে হতো সেটাই চালাতেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি বাবা হন। উপার্জন কম হওয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানাটানিতে পড়েন। এ অবস্থায় চলতে থাকলে ২০১৮ সালের দিকে একটি পুরোনো স্মার্টফোন কেনেন। ফেসবকু, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ব্যবহার শুরু করেন। কিছুদিন পর জানতে পারেন, ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখা শুরু করেন।

পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, শাফী ভ্যান-রিকশা চালানোর পাশাপাশি অবসর সময়ে ইউটিউবের ভিডিওতে দেখানো টিউটরিয়াল অনুসরণ করতে থাকেন। কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেসব চ্যানেলে আপ করা ভিডিওগুলোর পর্যাপ্ত ভিউ হচ্ছিল না। সেসব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারও কম থাকায় অর্থ পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে সেগুলো ওই সব চ্যানেলে আপ করতে থাকেন। কিন্তু সেগুলোও ভাইরাল না হওয়ায় অর্থ পেতেন না। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ‘শান্তির আহ্বান’ নামে আরও একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন।

এই চ্যানেলের জন্য গুগল ও ফেসবুক থেকে কিছু ইসলামিক আর্টিকেল সংগ্রহ করেন। সেগুলোর সঙ্গে নিজের মনগড়া বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপ করতে থাকেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরেকটি ছেলে হয় তাদের; বেড়ে যায় সংসারের খরচও। তখন ইউটিউব থেকে উপার্জনের জন্য আরও মনোযোগী হন। এর মধ্যে এক সন্তানের চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিওর ভিউ বাড়াতে মনগড়া ও উসকানিমূলক আরও ভিডিও আপ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ‘ইমাম মাহদীর আগমের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপ করেন, যেটি ভাইরাল হয়। এরপর গুগল ও ফেসবুক থেকে ‘ইমাম মাহদী’-সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্টকেল নিয়ে নিজের মনগড়া বক্তব্য জুড়ে ভিডিও বানাতে থাকেন। এর আগে তিনি প্রায় এক বছর ইউটিউব থেকেই ভিডিও এডিটিং শেখেন। কীভাবে ভিডিও আপলোড ও থাম্বনেল করতে হয় তাও শিখে নেন।

পুলিশ কর্মকর্তা ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, ইউটিউব চ্যানেল খোলা থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটিং, আপলোড, থাম্বনেল বানানো, অ্যাডসেন্সের সঙ্গে চ্যানেল যুক্ত করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে টাকা উত্তোলন পর্যন্ত সবকিছুই ইউটিউব থেকে শেখেন। তার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার তিন-চার মাস পর ‘শান্তির আহ্বান’ চ্যানেল অর্থ উপার্জনের উপযুক্ত হয়। তবে ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় স্ত্রীকে দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের মোংলা শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।

এই ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রথম উপার্জন হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা তোলেন তারা। এরপর প্রায় প্রতি মাসেই ৩০-৪০ হাজার টাকা করে তুলেছেন। এ পর্যায়ে ভ্যান ও রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে ইউটিউবের প্রতি আরও মনোযোগী হন শাফী। এর মধ্যে ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে একটি ভিডিও আপ করেন। সেই ভিডিওটিও ভাইরাল হয়। তখন থেকেই তিনি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও তৈরি করতে থাকেন। তার আয়ও বাড়তে থাকে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো নিয়ে কথা বললে তেমন ভিউ হয় না। এ জন্য শাফী ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই সরকারবিরোধী ভিডিও বানিয়ে আপ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। যে ভিডিওতে তিনি মনগড়া নানা প্রশ্ন রেকর্ড করেন আর প্রধানমন্ত্রীর কথা কেটে কেটে জোড়া লাগান। একইভাবে কোরআনের একটি সুরারও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপ করেন।

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে

কম টাকায় উন্নত সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ফ্ল্যাটে থাকবেন মিরপুরের বস্তিবাসীরা। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে এই জায়গা। ভাড়া মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। 

বস্তিতে মাসে ভাড়া গুণতে হয় প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেখানে সুবিধা সীমিত। ঝড় বৃষ্টিতে কষ্টের সীমা থাকে না। সেই দিন এখন শেষ হতে চলছে রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাউনিয়াবাদ, কলাবাগান এলাকার ৩০০ বস্তিবাসীর। তারা এখন কম টাকায় উন্নত সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ফ্ল্যাটে থাকবেন।

মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব বস্তিবাসীর জন্য রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশন ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন।

১৪ তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে এই জায়গা।

এই প্রথম বস্তিবাসীদের নিয়ে এমন উন্নত বাসস্থানের চিন্তা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস আলী মোল্লা ও প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লটারির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্ধারণ করে দেন।

মঙ্গলবার সকালে দশটি বাসে করে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে তাদের হাতে তুলে দেবেন স্বপ্নের দলিল।

প্রকল্প পরিচালক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মাঝে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এছাড়া সাথে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। সেটি এখনও নির্ধারণ হয়নি।

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এখানে যে তিনটি ভবনে তারা উঠবেন, সেগুলোর প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষের পথে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হবে।’

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ তলা পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এই তিনটির তিনশটি ফ্ল্যাটে উঠবেন বস্তিতে থাকা ছিন্নমূল মানুষেরা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট। এক একটি ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িং রুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। দুপাশে ফাঁকা জায়গা। পেছনের দিকে বেড়িবাঁধ অংশের খাল। সামনে প্রশস্ত সড়ক।

ভবনে কাজ করছেন এমন নির্মাণ শ্রমিকেরা নিউজবাংলাকে জানান, মোটামুটি সব কাজ শেষের দিকে। এখন শুধু জানালার গ্লাস, কিছু কিছু অংশে টাইলস, লিফট, ফ্ল্যাটের দরজা লাগানো বাকি আছে। এগুলো বাদে প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলে প্রতি বর্গফুটে ভাড়া আসে সাড়ে ১১ টাকার কাছাকাছি আর পুরো ফ্ল্যাটের দৈনিক ভাড়া আড়াইশ টাকা। পাশেই যারা এখন বস্তিতে আছেন, ১০০ বর্গফুট ঘরের জন্য ভাড়া গুণতে হয় প্রায় ২ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের ভাড়া দাঁড়ায় ২০ টাকা। তবে সেখানে বাড়তি কোনো সুবিধা নেই। বরং যে কোনো সময় উচ্ছেদ আর আগুন আতংকে দিন পার করতে হয়।

ফ্ল্যাট পেয়েছেন এমন কয়েকজন যদিও ভাড়া নিয়ে একটু আপত্তি করেছেন, তবে তারা খুশি এমন আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ঘর পেয়ে।

যে জমিতে ভবন তোলা হয়েছে, সেখানে একসময় বস্তিতে থাকতেন শাহানা বেগম। এখন তিনি পাশের কলাবাগান বস্তিতে থাকেন। তাকে ফোন দেয়া হয়েছে লটারিতে উপস্থিত থাকার জন্য।

কীভাবে ফ্ল্যাট পেয়েছেন জানতে চাইলে শাহানা বলেন, ‘আমি এইখানেই থাকতাম আগে। বর্তমানে পাশের কলাবাগান বস্তিতে থাকি। আমার নাম আছে। কাইল (গতকাল) ফোন দিছিল আসার জন্য। আতি আইছি। আজ ফ্ল্যাট দিব।’

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে


রীনা বেগম পাশের কলাবাগান বস্তিতেই থাকেন। তবে এই জায়গা উচ্ছেদ করার পর ফ্ল্যাটের জন্য তিনিও আবেদন করার সুযোগ পান। রীনা বেগমের স্বামী নেই। বাচ্চাদের নিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করেন। ভাড়া দিতে হবে জেনে একটু কষ্ট পেয়েছেন। তবে ফ্ল্যাটে সব সুবিধা আছে জেনে খুশি তিনি।

রীনা বলেন, ‘আমাগো প্রধানমন্ত্রী যদি একটু ভাড়াডা কমাইতো, তাইলে আরও ভালা হইত।’

শুক্কুর শেখ ভাড়া কত তা এখনও জানেন না। তবে ফ্ল্যাট পেয়েছেন এতেই খুশি তিনি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পুরো প্রকল্পে জমির পরিমাণ ছয় বিঘা। এই জমিতে আগে বস্তি ছিল। ২০১৭ সালে তা ভেঙে ফেলা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়।

কীভাবে বস্তির মানুষ নির্ণয় করা হয়েছে

যেখানে বস্তি ভেঙে ভবন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে আগে যারা ছিলেন, তারা অনেকেই অভিযোগ করছেন, তারা ভবনে থাকার জন্য অনুমতি পাননি। তবে নিউজবাংলা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে, শুধু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে বস্তি হিসেবে ঠিকানা দেয়া আছে, শুধু তাদেরকেই যাচাই-বাছাই করে যোগ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন তিনশ জনকে প্রাথমিক ধাপে ফ্ল্যাট দেয়া হবে। যারা পান নি, তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে বাকি ২৩৩টি ফ্ল্যাট দেয়া হবে।

এই ভবনের আশেপাশে আরও কয়েকটি বস্তি রয়েছে। সেখানে ভাড়া থাকছেন অনেকে, যারা আগে এই প্রকল্পের আশপাশেই থাকতেন। তাদের অভিযোগ, তাদের ঘর ভেঙে ফেলা হলেও ফ্ল্যাটের তালিকায় নাম ওঠেনি। বস্তি ভেঙে ফেলার পর সবাইকে ফ্ল্যাটের আবেদন করার কথা বলা হয়। সে সময় সবাই ফ্ল্যাটের আবেদন করেন।

এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শুধুমাত্র বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট দেয়া হবে। অনেকেই বস্তি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তবে তারা প্রকৃত বস্তিবাসী নন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে বস্তির ঠিকানা দেয়া আছে, শুধু তারাই ঘর পাবেন।’

তাবেদুন নবী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, এই উপমহাদেশেই এটা প্রথম। আমাদের কাছ থেকে এই প্রকল্পের যাবতীয় বিষয় ইন্ডিয়ান হাইকমিশন নিয়েছে। তারাও তাদের দেশে উত্তরাখণ্ড ও ঝাড়খণ্ডে এমন আবাসন গড়ে তুলবে।’

তবে তাবেদুন নবী ফ্ল্যাটের ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। নিউজবাংলা আরও কয়েকটি সূত্র থেকে ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল ও সমন্বয় উইংয়ের সদস্য কাজী ওয়াসিফ আহমাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা এখানে আগে থাকতেন, তাদের জীবন ব্যবস্থা ভালো করার জন্য সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের মতো সব সুবিধা থাকবে। এখানে প্রতিটি ভবনে লিফট, জেনারেটর, বিদ্যুতের সাব স্টেশনসহ আধুনিক সব সুবিধা পাওয়া যাবে।’

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মতে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ছয়টি প্রকল্প রয়েছে। বস্তিবাসী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত পাঁচটি আবাসন প্রকল্পের ২ হাজার ৪১৬টি ফ্ল্যাট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। এগুলো আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল ও মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত।

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

শাটডাউনের মাঝে রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিকদের। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তৈরি পোশাকমালিকরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আদেশ এসেছে জুন ও জুলাই মাসে। এ রপ্তানি আদেশ বাঁচাতেই সরকারকে বুঝিয়ে দেশে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো তড়িঘড়ি করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে তৈরি পোশাকের প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশি টাকায় এর পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর সিংহভাগ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে।

শর্ত অনুযায়ী, এসব ক্রয়াদেশ চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিপমেন্ট করতে হবে।

করোনার লকডাউনে দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় বায়ারদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ক্রয়াদেশ পূরণে শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ উৎপাদন-সক্ষমতা অনুযায়ী, ক্রয়াদেশ পাওয়া বেশির ভাগ কারখানার শিডিউল আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। আরও ক্রয়াদেশ পাইপলাইনে রয়ে গেছে। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় শঙ্কিত ছিলেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, শিডিউল অনুযায়ী শিপমেন্ট ডেলিভরি যাতে কোনো অবস্থাতেই হেরফের না হয়। যদি এ রকম কোনো আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের আগেভাগেই জানিয়ে দিতে, যাতে তারা এই অর্ডার সময় থাকতেই প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে পারেন।

তা ছাড়া প্রথমবারের মতো ভারত ও মিয়ানমারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। আগে থেকেই চীন থেকে স্থানান্তরিত বিপুল পরিমাণ অর্ডারও বাংলাদেশে এসেছে। প্রতিনিয়ত আসছে। ফলে এসব ক্রয়াদেশের শিডিউল রক্ষার চাপ উদ্যোক্তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তাদের হাতে কারখানা চালু এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প ছিল না।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অনেক ক্রয়াদেশ যেখানে বাতিল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের পাওয়া এই বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ তৈরি পোশাক খাতের সংকট দূর ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই শুধু সহায়ক হবে না, বরং করোনায় সৃষ্ট দেশের মন্দা অর্থনীতির উত্তরণেও সহায়ক হবে। এ কারণে এই বিপুল ক্রয়াদেশ তারা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাননি।

মূলত রপ্তানি আদেশ বাঁচাতেই সরকারকে বুঝিয়ে দেশে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো তড়িঘড়ি করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
রোববার থেকে আবারও চালু হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলো

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার কারখানা খোলা হলেও প্রথম দিন শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকালে শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশ, দুপুরের পর তা ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়।

এক প্রশ্নে জবাবে তিানি বলেন, ‘১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাঁচাতে কারখানা খোলা হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনে কারখানা চালু থাকা অবস্থায় ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

‘এ ধারার রপ্তানি অব্যাহত রাখা গেলে শুধু জুলাইতেই সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব হতো। কিন্তু গত আট দিন কারখানা বন্ধ থাকায় সেটি হয়নি।

‘দিন যত যাচ্ছে, রপ্তানির ক্রয়াদেশ এবং শিপমেন্টের তাগিদ তত বাড়ছে। এখনই যে হারে রপ্তানি আদেশ রয়েছে, তা যদি গড় হিসাবে কমপক্ষে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারই ধরি, তাহলেও উদ্যোক্তাদের হাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ রয়েছে। ফলে কারখানা খোলা জরুরি ছিল। সেটি খুলেছে, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। তবে লকডাউন শিথিল না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ শ্রমিকের উপস্থিতির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শ্রমিকরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে কর্মস্থলে হাজির হলেই হলো।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি হওয়া লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে গত ২৩ জুলাই থেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে টানা আট দিন বন্ধ থাকে সব পোশাক কারখানা। যদিও এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত ও পরে ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধেও চালু ছিল তৈরি পোশাক কারখানা। ওই সময়েই (জুন-জুলাই) মূলত এই বিপুল পরিমাণ অর্ডার পায় পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
শনিবার ফেরিগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয় বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। কারণ এই সময়ে লেট সামারের ক্রয়াদেশ সরবরাহে চাপ থাকে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে শীতকালীন বস্ত্রের চাহিদার প্রায় শতভাগ কার্যাদেশও পাওয়া যায় এই তিন মাসের উৎপাদন, জাহাজীকরণ ও সরবরাহ পর্যায় থেকে।

এ ছাড়া প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বড়দিন’। বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বড়দিনের উৎসব ঘিরেও তৈরি পোশাকের আরেকটা বড় চাহিদা তৈরি হয় বিশ্বব্যাপী। ফলে বায়ারদের প্রয়োজনীয় আগাম কার্যাদেশও দেয়া হয় এই তিন মাসের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও সরবরাহে বরাবরই বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। এ বছর অবশ্য ভিয়েতনাম শীর্ষ ২-এ উঠে যায়। পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সব সময়ই বাংলাদেশ পেয়ে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমাদের হাতে কারখানা খোলা ও উৎপাদন অব্যাহত রাখা ছাড়া উপায় ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ এ কারণে যে, সরকার সার্বিক বাস্তবতা আন্তরিকভাবে অনুভব করে অর্থনীতি বাঁচাতে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে উদ্যোক্তা, শ্রমিক-কর্মচারী তথা সবার আর্থিক সংকট দূর হবে। অর্থনীতিও সচল থাকবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানার উৎপাদন চালিয়ে যাব। হাতে প্রচুর কাজ। উৎপাদন চালু থাকলে বায়ারদের শিডিউল মেনে আমরা সব ক্রয়াদেশের শিপমেন্ট দিতে সক্ষম হব। এর মাধ্যমে চলতি বছর পোশাক খাতে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, আমরা তার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হব।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীনের তিনজিয়ান শহরে বৈঠকের আগে তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুল ঘানি বারাদারকে স্বাগত জানাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: এএফপি

চীন ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের বামপন্থিরা নতুন এই মেরুকরণকে কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে বেশ কিছু দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, কেউ কেউ চীন প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সখ্য নিয়ে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘোষণার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান এখনও দেশটির ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও প্রতিদিনই আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে তারা। দখল করছে নতুন নতুন এলাকা।

ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইতোমধ্যে কট্টরপন্থি তালেবানের সঙ্গে দেনদরবার ও দর-কষাকষিতে জড়িয়ে পড়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। এর বাইরে নেই বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনও।

আফগানিস্তানে তালেবানের অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রার মধ্যেই গোষ্ঠীটির প্রথম কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে চীন সফর করেছেন এই গোষ্ঠীর সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার। চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর তিয়ানজিনে বুধবার তার নেতৃত্বে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় তালেবানের নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই ঘনিষ্ঠতাকে চীন-তালেবান ‘মধুচন্দ্রিমা’ হিসেবে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

আরও পড়ুন: চীন-তালেবান মধুচন্দ্রিমা কেন

চীন ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের বামপন্থিরা নতুন এই মেরুকরণকে কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে বেশ কিছু দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, কেউ কেউ চীন প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সখ্য নিয়ে।

রুশপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির নেতারা সম্প্রতি চীন সফর করে এসেছেন।

দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে প্রশ্ন ছিল, চীন ও তালেবানের বন্ধুত্বকে কীভাবে দেখছেন তিনি।

‘এই বিষয়ে ডিটেইল খবর আমি জানি না’ এমন মন্তব্য করে সেলিম বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আর কয়টা বৈঠক করেছে (তালেবানরা)? আমেরিকার সঙ্গে তারা এক লক্ষ বৈঠক করেছে। এটা হাইলাইট করেন।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীনের তিনজিয়ান শহরে তালেবান নেতাদের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: টুইটার

এমন প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিবি সভাপতি। বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে তালেবানের আঁতাত গড়ে উঠছে। আর এটা ডাইভার্ট করার জন্য হয়ত আপনাদের দিয়ে এটা লেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে তো খুবই উত্তপ্ত অবস্থা। আমেরিকানরা প্রক্সি হিসেবে তালেবানদের দিয়ে হয়ত অনেক কিছু করিয়েছে, পাকিস্তানও তালেবানদের সঙ্গে লিংকডআপ হয়ে আছে।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব নতুন বিপদ ডেকে আনে কি না, এমন প্রশ্নে এই বাম নেতা বলেন, ‘সেটা তো চীনের জন্যও একটা বিরাট বিপদের জায়গা হয়ে যাবে, আমাদের জন্যেও বিপদের জায়গা হয়ে যাবে। গোটা এশিয়া রিজিওনের জন্যও এটাই হবে।

‘আমাদেরও খুব বিচলিত থাকা উচিত, চীনেরও বিচলিত থাকা উচিত। সমস্ত বিশ্ব মানবতার এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত ও বিচলিত থাকা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকা, তালেবান ও পাকিস্তান যে এক্সেস গড়ে উঠছে সেইটার ভয়ংকর পরিণতি সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। প্রত্যকটা দেশ প্রত্যেকটা মানুষের এই অশুভ আঁতাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষও খুবই শংকিত। যে সীমিত যেটুকু সুযোগ তাদের হয়েছে লেখা-পড়ার সেটা তো আবার…।

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয় সেটা হলো স্টেট টু স্টেট রিলেশনের একটা জায়গায় চীন আসছে।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলের দাবি করেছে তালেবান। ছবি:এএফপি

এই সম্পর্ক কী রকম, তার ব্যাখ্যা করে এই বামপন্থি নেতা বলেন, ‘উইঘুর নিয়ে তো চীন একটু … ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা আমেরিকানদের পক্ষ থেকে চাপে আছে। আবার চীনের সঙ্গে আছে আফগানিস্তানের একটা সীমানা, আবার এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানি পশতুদের একটা এথনিক সম্পর্ক আছে, আবার তাদের ভূমির সম্পর্কও আছে। …চীনের ইউঘুর এবং ভারতের কাশ্মীর এই দুটোই তালেবানদের যে উগ্রচিন্তা তা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায় কিনা সে ব্যাপারে দুটো দেশই ভাবছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাবনা হচ্ছে, চীন এই জায়গায়টায় মোস্টলি এটা ভাবছে যে, ভবিষ্যতের আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে জিওপলিটিক্যাল, জিওমিলিটারি এবং জিও ইকোনোমি স্ট্রাকচারের গুরুত্বটা অনেক বেশি। তার সঙ্গে তালেবানদের এই উগ্রতা তাদের দেশেও কোনো প্রভাব ফেলে কি না তার জন্য সর্কতামূলক বন্ধুত্ব, সেটা তারা মেইনটেইন করার চেষ্টা করছে।

‘চীন মুখে সমাজতন্ত্রের কথা যতই বলুক, ভেতরে অন্তবস্তুতে এই জায়গায় বিরাট এক ডিপারচার হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন: বিশ্ব পরাশক্তিদের আগ্রহের কেন্দ্রে তালেবান

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করিনি। তবে, আমার মন্তব্য বলতে পারি। তালেবানদের সঙ্গে চীনের যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ বা বৈঠক এটা প্রধানত ভূ-রাজনৈতিক। এই অঞ্চলে যে জিও পলিটিক্যাল পরিস্থিতি, সেটা বিবেচনা করেই তালেবানদের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ বা আলাপ আলোচনা সেটা হয়েছে।

‘অর্থাৎ আঞ্চলিক রাজনীতিতে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পরে আফগানিস্তানে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেই পরিস্থিতে চীনের আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পারে।

‘দ্বিতীয়, তালেবানদের সঙ্গে পরবর্তীতে এই অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে তারা একটা কৌশলগত বোঝাপড়া গড়ে তোলা যায় কি না সেই লক্ষ্যে সম্ভবত এই যোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনা।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?
আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরের রাস্তায় কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

তিনি বলেন, ‘চীনের যে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড নীতি, সেখানে আফগানিস্তানকে এক্টিভলি যুক্ত করা যায় কি না, তাদেরকে (তালেবান) কৌশলগত পার্টনার হিসেবে ভবিষ্যতে নেয়া যায় কিনা সেটাও সম্ভবত চীনা সরকারের বিবেচনার মধ্যে আছে। এখানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বা তাদের যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ সেটা বোধহয় তাদের বড় বিবেচনায় নেই।

‘আরেকটি হচ্ছে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পরে চীনের উইঘুর মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পড়ে, এটাও চীনের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার একটা বড় বিষয় আছে।’

সাকি বললেন, ‘আমি বামপন্থি না’

চীন-তালেবান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করতেই হেসে উড়িয়ে দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ কোথায় না খেয়ে আছে, এখন শ্রমিকদের এই অবস্থা, আর কোথায় তালেবান!’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কী বলবো বলেন। আমি বামপন্থি না। এটা নিয়ে সিপিবিকে জিজ্ঞেস করেন অথবা বাম জোটের সমন্বয়কে জিজ্ঞেস করেন। আমরা তো গণ মানুষের রাজনীতি করি। আমরা মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ধারায় গণ মানুষের রাজনীতি করি।’

আরও পড়ুন:
উপকূল রক্ষায় ২১ দফা দাবি
কুড়িগ্রামে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৩০ মিটার
কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ হবে: প্রতিমন্ত্রী
টেকসই বাঁধের দাবিতে প্রতীকী লাশ
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শিগগিরই মেরামত করা হবে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

শেয়ার করুন