পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

সেতুর ৩৯তম স্প্যানের নিচে খননযন্ত্র বসিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। স্প্যানের গোড়ায় মেশিন বসিয়ে রাতদিন চলছে বালু তোলার কাজ। একের পর এক বাল্কহেড (বালুবাহী ট্রলার) সেই উত্তোলিত বালু বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন চলছে। তিনটি খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রতিষ্ঠান। এই বালু দিয়ে করা হচ্ছে একটি সরকারি প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজ।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে, তাদের বালু উত্তোলন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু সেতু এলাকা দিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বালু তোলার নয়।

বালু তোলার কাজটি করছে মেসার্স খোকন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৪-এর খ ও গ ধারা অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ।

বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের পদ্মা নদী ঘুরে দেখা যায়, সেতুর ৩৯তম স্প্যানের নিচে খননযন্ত্র বসিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। স্প্যানের গোড়ায় মেশিন বসিয়ে রাতদিন চলছে বালু তোলার কাজ। একের পর এক বাল্কহেড (বালুবাহী ট্রলার) সেই উত্তোলিত বালু বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

খননযন্ত্রে দাঁড়িয়ে বাল্কহেডের সিরিয়াল করছিলেন খোকন কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার মো. জসিম উদ্দিন। সাংবাদিকদের দেখে তিনি ছুটে আসেন। তিনি একটি কাগজ দেখিয়ে বলেন, ‘বালু তোলার আমাদের লিখিত অনুমতিপত্র আছে।’

পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

দুই পৃষ্ঠার সেই অনুমতিপত্র পড়ে দেখা যায়, সেটিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শুধু নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। বালু তোলার অনুমতির কোনো উল্লেখ নেই।

সুপারভাইজার মো. জসিম উদ্দিনকে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, ‘এর বাইরে আমার কাছে আর কোনো কাগজ নাই। অফিসে থাকতে পারে।’

অপরিকল্পিত বালু তোলার ফলে পাশেই পাইনপাড়া চরে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। বালু উত্তোলনরোধে চরের ১১০ পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর করেছেন লিখিত আবেদন।

ওই চরের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘ডেজার দিয়ে রাইত দিন কাটতাছে। এইয়া লইয়্যা অনেক কিছু অইয়া গ্যাছে। হ্যারা মানতেই আছে না। চুরি করইরা কাটলেও কাইট্যা নেয়। হ্যারা যদি আমাগো এমন ক্ষ্যাতি না করত, তাইলে আমাগো ক্ষ্যাতি অইত না। অহন পোলাহান লইয়া কোনো উপায় নাই। চরের মানুষ আমরা ধানি আলোডি করি। হেইয়া সব বাঙ্গোনে শ্যাষ।’

পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি প্রকল্পের স্বার্থে বালু তোলার প্রয়োজন হতো, সে ক্ষেত্রে সমীক্ষা করে নকশা অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে খনন হতো। কিন্তু কোনোভাবেই সমীক্ষা এবং নকশা ছাড়া খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা যাবে না। এতে প্রকল্পের (পদ্মা সেতু) ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।’

এ বিষয়ে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের উন্নয়নকাজে পদ্মা সেতু এলাকার চ্যানেল ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনুমতি চাইলে সরকারি ওই প্রকল্পের স্বার্থে নৌযান চলাচলের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন করছে কি না, বিষয়টি আমার জানা নাই।’

শরীয়তপুর ও মাদারীপুর দুই জেলা নিয়ে ১২০ একর জমিতে নির্মাণ হচ্ছে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি। শুরু হয়েছে সেটির ভূমি উন্নয়নকাজ। প্রকল্প এলাকায় ফেলা হবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ ঘনমিটার বালু। নির্মাণ করা হবে সীমানাপ্রাচীর। পদ্মা নদী থেকে উত্তোলিত বালু ফেলা হচ্ছে এ প্রকল্প এলাকায়।

পদ্মা সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

এটির কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খোকন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রকল্পে বালু ক্রয়ের মূল্য প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নকাজ।

এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করছেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আবুল বাশার। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অঞ্চলে কোনো বালুমহাল না থাকায় কোনো রয়্যালিটি ছাড়া আমরা বালু উত্তোলন করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। শরীয়তপুর এবং মাদারীপুরেও বালুমহাল না থাকায় সরকারকে রয়্যালিটি দেয়ার সুযোগ নেই। দেয়ার সুযোগ থাকলে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতাম এবং তার বরাবর আবেদন করতাম।’

জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান জানান, নদী থেকে কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুরে বালুমহাল নেই, তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নদী থেকে বালু তুলে প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই সব আইন ভঙ্গকারীদের ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ: বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা

ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ: বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা

খুলশীতে শনিবার ডেমু,বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

রেলওয়ে থানার ওসি নাজিম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি চালিত অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও অটোরিকশা রেললাইনের উপর উঠে যায়। তাই মামলার একমাত্র আসামি বাসচালক। তবে তাকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।’

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে ডেমু ট্রেন, বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহতের ঘটনায় বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় বাস চালককে আসামি করা হলেও তাকে এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে দাড়িয়ে থাকা সিএনজি চালিত অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও অটোরিকশা রেললাইনের উপর উঠে যায়। তাই মামলার একমাত্র আসামি বাসচালক। তবে তাকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।’

এর আগে শনিবার দুপুরে রেলওয়ে পুলিশের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল গফুরকে প্রধান করে এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) ও চট্টগ্রামের রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তাকেও তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় গেটম্যানের কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ঝাউতলা এলাকায় ডেমু ট্রেন, বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলসহ তিনজন নিহত হন। এতে আহত হন অন্তত ছয়জন।

নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কনস্টেবল মনির হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। বাকি দুজন নগরীর হামজারবাগ এলাকার সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ ও পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সাতরাজ উদ্দিন।

দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, একটি ডেমু ট্রেন ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাচ্ছিল। এ সময় জাকির হোসেন রোডের ওই লেভেল ক্রসিংয়ের দুই দিকের গেট আটকানো ছিল।

তবে এর মধ্যেও একটি অটোরিকশা উল্টোপথে লাইন অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এর পেছনে একটি বাসও লাইনের ওপর উঠে যায়। এসময় ট্রেনটি বাস ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের নামে মামলার নথি হাইকোর্টে

রাজারবাগ পিরের নামে মামলার নথি হাইকোর্টে

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এ দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে পিরের মামলা সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করেন সুপারিনটেনডেন্ট।

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানসহ তার সঙ্গীদের নামে করা মামলা সংক্রান্ত নথি পাওয়া যাচ্ছে না শোনার পর দ্রুত তা খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রিট দাখিল সেকশনের সুপারিনটেনডেন্টকে রোববার দুপুর ২টার মধ্যে এসব নথি আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে সে নথি উপস্থাপন করেন সুপারিনটেনডেন্ট।

পরে শুনানি শেষে দুই বিচারপতির বেঞ্চ কিছু নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে সিআইডি, দুদক, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করলে রাজারবাগের পির ও সঙ্গীদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।

উচ্চ আদালত রাজারবাগ পিরের কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দেয়।

রাজারবাগ পিরের বিষয়ে সিআইডির প্রতিবদনের আলোকে কোনো ভুক্তভোগী চাইলে মামলা করতে পারবে বলেও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আদালতে দুটি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এমাদুল হক বশির।

পির দিল্লুর রহমানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় গত ২ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়। এতে দিল্লুরসহ শাকিরুল কবির, ফারুকুর রহমান ও মফিজুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের পক্ষে আইনজীবী এমাদুল হক বশির আবেদনটি করেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হওয়ার বিরুদ্ধে কাঞ্চন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত সিআইডিকে একরামুলের বিরুদ্ধে হওয়া ৪৯ মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রুলসহ আদেশ দেয়।

পরে সিআইডির প্রতিবেদনে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে পির দিল্লুর সিন্ডিকেটের করা হয়রানিমূলক মামলার তথ্য উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পিরের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে সিটিটিসি এবং হাইকোর্টে রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

মন্ত্রীদের ভাষা সুস্থ-সভ্য নয়: বিএনপি

মন্ত্রীদের ভাষা সুস্থ-সভ্য নয়: বিএনপি

প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি বিএনপির ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। শুধু বিএনপি-বিএনপি-বিএনপি। আপনারা বলে থাকেন, বিএনপি নাকি নাই; বিএনপি যদি না-ই থাকে তাহলে বিএনপিকে নিয়ে এত দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা যেসব কথা বলেন সেগুলো কোনো সুস্থ্য-সভ্য মানুষের ভাষা হতে পারে না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলেন, কোনো সুস্থ-সভ্য মানুষ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে এ কথা বলেন ফখরুল।

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান সম্পর্কে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দেন। সে বিষয়টিকেই সামনে এনে এসব কথা বলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরইমধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে। এতে দল এবং দলেও বাইরেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি বিএনপির ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। শুধু বিএনপি-বিএনপি-বিএনপি। আপনারা বলে থাকেন, বিএনপি নাকি নাই; বিএনপি যদি না-ই থাকে তাহলে বিএনপিকে নিয়ে এত দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?’

সমবেশে মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে বলেন, ‘তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তার সাজা দেয়া হয়েছে। যেখানে লোয়ার কোর্ট থেকে দেয়া হয়েছিল ৫ বছর সাজা, সেখানে হাইকোর্টে দেয়া হয়েছে ১০ বছর। এতেই বোঝা যায় কীভাবে রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছেন। কীভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করছেন। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই রাষ্ট্রকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। সে কারণে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের কথা মুখে বলে, বিশ্বাস করে না। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে তারা একই কাজ করে আসছে। এক সময় গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাকশাল গঠন করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নেত্রী বলে আমরা বলছি না, বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, আপোষহীন ভূমিকার জন্য দেশের মানুষই তার মুক্তি চায়।’

শ্রমিকরা সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে অবহেলিত উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, যারা ক্ষমতায় আছে তারা বড় মানুষদের কথা চিন্তা করেন। যাদের মিল আছে, ফ্যাক্টরি আছে তাদেরকে প্রণোদনা দেন। কিন্তু যারা মিল ফ্যাক্টরিগুলোর চালু রেখেছেন, গাড়ির চাকা চালু রেখেছেন তাদেরকে কোনো প্রণোদনা দেননি।

‘সরকার উন্নয়ন কথা বলে। এই উন্নয়ন কাদের হচ্ছে? সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। সে জন্য দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই জন্য বলছি না। এই সরকারকে সরাতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

বিদেশি সিগারেটসহ চীনা নাগরিক আটক

বিদেশি সিগারেটসহ চীনা নাগরিক আটক

কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, স্টেশন কামান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উর হকের নেতৃত্বে শাহপরীর দ্বীপের সমুদ্র এলাকায় একটি ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় চীনা নাগরিক ইয়াপেংকে আটক করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বিদেশি সিগারেটসহ এক চীনা নাগরিককে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

রোববার বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ।

তিনি জানান, বিসিজি স্টেশন কামান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উর হকের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরীর দ্বীপের সমুদ্র এলাকায় একটি ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় চীনা নাগরিক ইয়াপেংকে আটক করা হয়।

মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, আটক চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ 

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট পরিদর্শনে গিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্ডারে আমরা পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এখনও দেশে সে রকম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি যে আমাদের লকডাউনের চিন্তা করতে হবে। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে।

‘যারা বিদেশ থেকে আসবেন তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। আমি আহ্বান করব, বিশেষ করে সংক্রমিত আফ্রিকাতে যারা আছেন আপনার এই মুহূর্তে দেশে না এলে ভালো হয়। কারণ আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে হলে এখন যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওমিক্রন: ‘এখনই সীমান্ত বন্ধের পরিকল্পনা নেই’
সাভারে নবনির্মিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘ওমিক্রন প্রতিরোধে আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব আমরা নিচ্ছি। আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে যারা আফ্রিকা থেকে আসছে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে আসতে হবে এবং ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে এলেও পরীক্ষা করে আসতে হবে।

‘ঢাকায় অনেকগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার কথা বলা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই হাজার বর্গফুটের আরটিপিসিআর ল্যাব ছিল। সেটির আয়তন বাড়িয়ে তিন হাজারের বেশি বর্গফুটের করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা, বসা, খাওয়া ও নামাজসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউ প্রস্তুত রেখেছি। সব জেলা শহর ও বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।

‘জনবল বাড়ানোর জন্য ৮ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিৎসক নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিকা কর্মসূচিও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টিকার ডোজ দেয়া হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে গৃহকর্মীকে খুন: পিবিআই

স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে গৃহকর্মীকে খুন: পিবিআই

গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআই জানতে পারে, গৃহকর্মী ওই নারী খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর দিয়াবাড়ির ঝাউবন থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, ওই নারী খুন হয়েছেন। তিনি ছিলেন গৃহকর্মী।

গৃহকর্তার সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়েছেন এমন সন্দেহে তার স্ত্রী ওই গৃহকর্মীকে খুন করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অফিসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহে নিয়মিত গৃহকর্মী পারভীনকে নির্যাতন করতেন গৃহকর্ত্রী। গত ১ নভেম্বর ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে পারভীনকে গৃহকর্ত্রী লাঠি দিয়ে বেদম পেটান। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু হয় পারভীনের। তিনি এক সন্তানের জননী, বাড়ি দিনাজপুরে।

পরে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী পরামর্শ করে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে তাদের ড্রাইভারের সহায়তায় প্রাইভেট কারে করে তুরাগ দিয়াবাড়ী এলাকায় ঝাউবনে ফেলে আসা হয় মরদেহটি।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের নাম-ঠিকানা ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ শনাক্তের পর পিবিআইয়ের তদন্ত দল তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তার গ্রামের বাড়িতে স্বামী মোমিনুলসহ অন্য আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন জানা যায় ভিকটিম পারভীন এক-দেড় বছর আগে অভাবের তাড়নায় স্বামী-সন্তানসহ ঢাকা শহরে চলে আসেন। গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্তে আরও জানা যায় ওই গৃহকর্মীর স্বামী ঢাকায় রিকশা চালাতেন। ঐ বাসায় কাজ নেয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না তিনি। একদিন তার স্ত্রী ফোনে জানান, তাকে গৃহকর্ত্রী মারধর করে আটকে রেখেছেন। এ সংবাদ পেয়ে স্বামী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর তিনি একদিন ঐ বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসেন, কিন্তু এরপর আর কোনো দিন দেখা করতে পারেননি। পরে গত অক্টোবরে তিনি তার গ্রামের বাড়ি চলে যান।’

জিজ্ঞাসাবাদে ওই গৃহকর্মীর স্বামী পিবিআইকে জানান, ঐ বাসায় তার স্ত্রী ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। কাজ নেয়ার পর থেকে গৃহকর্তা প্রতি মাসে তাকে মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে এক হাজার টাকা করে পাঠাতেন। বাকি টাকা জমা থাকত, কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিতেন না।

হত্যার শিকার নারীর স্বামী মোমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এই মামলায় দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ গোপন করার কাজে সহায়তা করায় ড্রাইভার রমজান আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন

কালো ব্যাজ নিয়ে সোমবার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা

কালো ব্যাজ নিয়ে সোমবার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা

সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় রোববার ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ঠিক দুপুর ১২টায় সড়কে নাইম আর মাইন উদ্দিনসহ যারা মারা গিয়েছে, তাদের জন্য শোক প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং মুখে কালো কাপড় বাঁধব।’

সড়কে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রোববার রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এ কর্মসূচি শেষে সোমবার একই জায়গায় দুপুর ১২টায় নাইম আর মাইন উদ্দিনের মতো সড়কে প্রাণ হারানো লোকজনের জন্য শোক প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর রোববার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। বেলা ১টা ৫ মিনিটে তারা অবস্থানস্থল থেকে চলে যায়। ওই সময় তাদের হাতে ছিল নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র।

ব্যঙ্গচিত্রে নানা স্লোগানের মধ্যে আছে, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘গণপরিবহনে হাফ পাস চাই’, ‘জাতির ভবিষ্যৎ মরলে কে গড়বে সোনার বাংলা’।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া খিলগাঁও সরকারি মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা আমাদের যে ১১ দফা দাবি আছে, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কারও বিপক্ষে না। আমরা সবার হয়ে এই আন্দোলন করছি। অথচ আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

‘এসব অপপ্রচার করে আমাদের থামিয়ে দেয়া যাবে না। আমরা আমাদের চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি আর যাব।’

সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে সোহাগী বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ঠিক দুপুর ১২টায় সড়কে নাইম আর মাইন উদ্দিনসহ যারা মারা গিয়েছে, তাদের জন্য শোক প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং মুখে কালো কাপড় বাঁধব।’

এর আগে শনিবার সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতি লাল কার্ড দেখায় ১১ দফা দাবিতে রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর ওই দিন দুপুর ১২টার পর পরই অবস্থান নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তারা লাল কার্ড উঁচিয়ে সড়ক ও পরিবহন খাতের লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুষ আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজ আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘রেফারি’ দাবি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানায়।

সোহাগী বলেন, ‘যখন ফুটবল খেলা হয়, খেলোয়াড়রা ভুল করলে লাল কার্ড দেখায়। আমরা সেই রেফারিদের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছি।

‘আমরা দেখাতে চাই বাংলার মাটিতে দুর্নীতি হচ্ছে, যে মাটিতে ছাত্রসমাজ বড় বড় আন্দোলন করেছে। আজ আবার ২০২১ সালে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।’

আরও পড়ুন:
চরাঞ্চলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
অবৈধ বালু তোলায় হুমকিতে মেঘনাতীর

শেয়ার করুন