হরিণ ময়ূর বিক্রি করছে জাতীয় চিড়িয়াখানা

হরিণ ময়ূর বিক্রি করছে জাতীয় চিড়িয়াখানা

চিত্রা হরিণপ্রতি ৭০ হাজার টাকা, আর ময়ুরের দাম ২৫ হাজার টাকা ঠিক করেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

বন্ধের সময়ে নিরিবিলি পরিবেশে প্রাণীর প্রজনন বেড়েছে। পাশাপাশি যত্নের মান উন্নয়ন হওয়ায় কমেছে প্রাণী মৃত্যু। ফলে বেশ কিছু প্রাণীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হরিণ ও ময়ূর বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ধারণক্ষমতার চেয়ে সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিত্রা হরিণ ও ময়ূর বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে হরিণপ্রতি দাম ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা, আর ময়ূরের দাম ২৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে আবেদন জমা পড়েছে ১২টি, এর মধ্যে আটজন হরিণ কিনবেন ও চারজন কিনবেন ময়ূর।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখে গত ১ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। এর আগে গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ২০ মার্চ থেকে প্রায় সাত মাস বন্ধ ছিল চিড়িয়াখানার দরজা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্ধের সময়ে নিরিবিলি পরিবেশে প্রাণীর প্রজনন বেড়েছে। পাশাপাশি যত্নের মান উন্নয়ন হওয়ায় কমেছে প্রাণী মৃত্যু। ফলে বেশ কিছু প্রাণীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হরিণ ও ময়ূর বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত বছর ২০ মার্চ থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধের সময় ১১৬টি শাবক উপহার দিয়েছিল চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ৪২টি নতুন পশুপাখি সংযোজিত হয়েছে। পরে ১ এপ্রিল থেকে আবারও বন্ধ চিড়িয়াখানার দরজা। এই অবকাশেও বেশ কিছু প্রাণী বাচ্চা দেবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

আরও পড়ুন: একান্ত সময়ে চিড়িয়ার রোমান্টিক মুড

বিশেষ অনুমতি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতরের পরিবেশ ঘুরে দেখেছে নিউজবাংলা। এ সময় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে লকডাউন মানুষের জীবনে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা নিয়ে এলেও চিড়িয়াখানার প্রাণীরা আছে নির্বিবাদে। নিরিবিলি পরিবেশে তৈরি হয়েছে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ, সঙ্গী আর সঙ্গিনীর মাঝে বেড়েছে সখ্য।

হরিণ ময়ূর বিক্রি করছে জাতীয় চিড়িয়াখানা
ইমু পাখিরও ১৪টি বাচ্চা এসেছে চিড়িয়াখানায়

চিড়িয়াখানার পরিচালক আব্দুল লতিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দর্শনার্থীর উৎপাত না থাকায় প্রাণীদের সেক্সুয়াল ডিজায়ার বেড়ে গেছে। তাদের মধ্যে প্রজননক্ষমতাটাও বেড়ে গেছে। এর ফলে কোনো কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে তিন মাস পরে, কোনোটা ছয় মাস পরে, আবার কোনোটা এক বছর পরে বাচ্চা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন প্রাণীর মৃত্যুহার কমিয়ে এনেছি। এর ফলে যেসব প্রাণী জন্মগ্রহণ করছে, তাদের স্বাভাবিক নিয়মেই বড় করে তুলছি। তবে কিছু প্রাণীর প্রজননক্ষমতা অনেক বেশি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিত্রা হরিণ। এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে আমরা দু-তিনটি চিত্রা হরিণের বাচ্চা পাচ্ছি না।’

হরিণের সংখ্যা এখন ধারণক্ষমতার অনেক বেশি জানিয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের তিনটি হরিণের শেড রয়েছে। সেখানে যদি ৫০টি করেও রাখা হয়, তাহলে আমাদের দেড় শটি হরিণ পালনের সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের বাজেটও সেভাবে দেয়া হচ্ছে। তবে এখন প্রায় সাড়ে তিন শ চিত্রা হরিণ এখানে আছে।’

আরও পড়ুন: করোনায় চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের ‘হানিমুন’

হরিণ বিক্রির চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কীভাবে বিক্রি করা যায় সেটি এখন ভাবছি। ইতিমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি সরকারের অনুমোদিত দামেই এক জোড়া চিত্রা হরিণ (পুরুষ ও মেয়ে) ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হবে।’

হরিণ ময়ূর বিক্রি করছে জাতীয় চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানার নিরিবিলি পরিবেশে ভালোই কাটছে জেব্রার

একই অবস্থা ময়ূরের ক্ষেত্রেও। চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৭৮টি নীল ময়ূর রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার বেশি।

আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এক জোড়া (পুরুষ ও মেয়ে) ময়ূরের দাম পড়বে ৫০ হাজার টাকা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১২টি আবেদন পেয়েছি। এর মধ্যে হরিণের জন্য আটটি ও ময়ূরের জন্য চারটি। আমি তাদের প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়েছি। এখন তারা বন বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে এলে আমরা তাদের কাছে বিক্রি করব। তবে এগুলো লালন-পালনের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। এসব প্রাণীর স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’

হরিণ ও ময়ূর বিক্রি করলেও অন্যান্য বাড়তি প্রাণীর ক্ষেত্রে ‘বিনিময়’-এর সিদ্ধান্ত চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের। আব্দুল লতিফ জানান, আন্তর্জাতিকভাবে যে নিয়ম আছে তা মেনে দেশের বাইরেও বিনিময় করা যেতে পারে। আবার কিছু প্রাণী দেশের ভেতরে সাফারি পার্ক ও ডুলাহাজারা পার্কেও পাঠানো হতে পারে।

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এলডিসির সুবিধা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘকে বাংলাদেশের আহ্বান

এলডিসির সুবিধা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘকে বাংলাদেশের আহ্বান

জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বৈঠক। ছবি: সৌজন্যে

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বৈঠক করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলোতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো যেসব সুবিধা পায়, তা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও যেন অব্যহত থাকে— তা নিশ্চিত করার ওপর জাতিসংঘে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানায়।

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বৈঠক করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

দুই সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

নিউ ইয়র্কে সরকারি সফরকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ সহিদ, জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাপতি কোলেন ভিক্সেন কিলাপাইল, স্বল্পোন্নত দেশ, ভূ-বেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের উচ্চ প্রতিনিধি ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল কোর্টিনে র‌্যাট্রে, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সচিব রোন্যাল্ড ম্যোলেরাসের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা করেন।

গত ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের রেজুলেশন গৃহীত হওয়ার পরপরই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বৈঠকগুলোতে কাতারের দোহায় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় ৫ম এলডিসি সম্মেলনে গ্রহণের জন্য ‘এলডিসির দেশগুলোর পরবর্তী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক ডকুমেন্টটির নেগোসিয়েশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগ যেমন ‘সাসটেইন্যাবল গ্রাজুয়েশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ এবং ‘এনহ্যান্সড গ্রাজুয়েশন মনিটরিং’ সম্পর্কে অবহিত করেন; যা উত্তরিত দেশগুলোর যে কোনো সংকটে বা কাঙ্খিত অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ভূমিকা রাখবে।

দোহা কর্ম-পরিকল্পনার নেগোসিয়েশনে নেতৃত্বদানের জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি রবার্ট রে-এর প্রশংসা করেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হয়। শান্তি সরকারের একার পক্ষে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ প্যানেল আলোচনা শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মেলনে ৫০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৬০ জন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। আর বাকি ৪০ জন সশরীরে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রোববার বিকেলে এ সম্মেলন শেষ হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।

‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী যে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা দিয়েছেন, সম্মেলন থেকে আমরা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা দিতে চাই। আমরা চাই, এই বার্তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক। পৃথিবীতে টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, সহনশীলতা- এগুলো আমরা তুলে ধরব।’

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনই রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে কিছুদিন ধরে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলন করতে থাকা শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্র-ছাত্রীদের উসকানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।

‘তারপরও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনই রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

বাসভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এসব ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাসভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। পরের দিন থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হয় হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কোনো হাফ পাস থাকবে না।

তবে রাস্তা ছাড়ছেন না রামপুরার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে দু-তিন ঘণ্টার জন্য নিয়ম করে রামপুরার ব্রিজে অবস্থান নেন তারা। এতে বাড্ডা-এয়ারপোর্ট রোডে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

রাস্তা ছেড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্যান্ডামিকের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্ষতি হয়েছে তাদের। তারা এখন পড়াশোনায় মনোনিবেশ করুক- এটাই আমাদের চাওয়া।’

শিক্ষার্থীদের গণপরিবহনে হাফপাস ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দেখা গেছে অনেক সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির কাগজপত্র নেই। বিষয়টি সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর নজরে আনা হলে, তিনি সমস্যার কথা স্বীকার করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এগুলো আছে, সমস্যা আছে। সমস্যা যে নেই, তা না। এগুলো নজরে আসছে, এগুলো সমাধানে পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে।’

আন্দোলনের উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাওয়া হয় মন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনগত ব্যবস্থা যেভাবে নেয়া হয় সেভাবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিষয়টি তো আমার হাতে নেই। তদন্ত করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

সারা দেশে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছাড়েন তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ গেইট এলাকায় সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরমুখী সড়ক অবরোধ করেন।

এসময় ওই সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশেই অবস্থান নিয়ে হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকেও সরে যায় শিক্ষার্থীরা।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সারা দেশের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আমরা তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছি বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ সড়ক, গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে। দাবির মুখে সরকার বিটিআরসির সব বাসে হাফ ভাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানায়।

পরে বাস মালিক সমিতিও রাজধানীতে বাসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানোসহ কয়েকটি শর্তে হাফ ভাড়া কার্যকর করে। তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যই হাফ ভাড়া দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারপর থেকেই বিক্ষোভ চলছে।

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

‘জাওয়াদ’ আঘাত হানবে অন্ধ্রপ্রদেশে, বাংলাদেশে হবে বৃষ্টি

‘জাওয়াদ’ আঘাত হানবে অন্ধ্রপ্রদেশে, বাংলাদেশে হবে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার দিক সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন না ঘটালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ছাড়া তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে শনিবার জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানবে। এরপর কিছুটা দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হবে। যার প্রভাবে বাংলাদেশের ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার দিক সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন না ঘটালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ছাড়া তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে শনিবার নিউজবাংলাকে জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে ৮০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। এরপর কিছুটা দিক পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে যেতে পারে। তারপর আরও কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ থাকবে। বাংলাদেশে এর প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ কমে বৃষ্টি হবে। তারপরও আমরা দেখছি, যদি দিক পরিবর্তন করে তাহলে বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। সেটি আমরা খেয়াল রাখছি।’

ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার এবং মোংলা থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে। আর মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সে সঙ্গে গভীর সমুদ্রে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ৬ ঘণ্টায়, ৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপত্তম থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, পুরী থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

৫ ডিসেম্বর তা পুরী উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এর পর তা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। তার পরই তা ক্রমে এগিয়ে আসতে পারে বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায়। কিন্তু বাংলায় যখন আসবে, তখন তার শক্তি কতটা থাকবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানায় আলিপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোনসংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘জাওয়াদ’। নামটি প্রস্তাব করেছিল সৌদি আরব।

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানি জার্সি-পতাকা প্রতিরোধের ঘোষণা

দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানি জার্সি-পতাকা প্রতিরোধের ঘোষণা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজে গ্যালারিতে পাকিস্তানি পতাকার বাড়াবাড়ি রকম উপস্থাপনা ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশে।

হামজা রহমান অন্তর বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে পতাকাবিষয়ক রাষ্ট্রদ্রোহী আইনের মতো আমাদের দেশেও আইন থাকতে হবে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক স্বদেশে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’

প্রথম টেস্টের পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচেও বাংলাদেশের কেউ পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে এলে বা জার্সি পরলে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘পাকিস্তানি দালাল রুখবে তারুণ্য’ নামের একটি সংগঠন।

এর আগেও তারা ঢাকায় টি-২০ ম্যাচ ও চট্টগ্রামে অবস্থান নিয়েছিল।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হামজা রহমান অন্তর জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি জার্সি ও পতাকাবাহীদের প্রতিহত করবেন।

অন্তর বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের কোনো নাগরিকের তার নিজ দেশের সমর্থনের বিরোধিতা কখনোই করি না। বাংলাদেশে এসে অবশ্যই তারা তাদের নিজ পতাকা, জার্সি পরতে পারে। আমরা শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের বিপক্ষে।’

সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের খেলায় বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের পাকিস্তানের পতাকা ও জার্সি নিয়ে স্লোগান দেয়ার অর্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করা।

হামজা রহমান অন্তর আরও বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে পতাকাবিষয়ক রাষ্ট্রদ্রোহী আইনের মতো আমাদের দেশেও আইন থাকতে হবে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক স্বদেশে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা গৃহীত হবে।’

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শিক্ষানীতি বদলালেও মৌলিক বিষয় ঠিক রাখতে হবে

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও অ্যালামনাই সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনলে মৌলিক বিষয় যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি এই তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই আলোচনায় ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘আমাদের একটি শিক্ষানীতি আছে। তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন করে আবার নাকি শিক্ষানীতি করা হবে।

‘আমরা ‍যদি এ রকম দুই বছর বা পাঁচ বছর পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই তাহলে শিক্ষার্থীদের কী অবস্থা হবে। তারা এক ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যাচ্ছে। আমার মনে হয় একটি মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যায়। মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে পরিবর্তনের কথা ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও বলা আছে।’

ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘শিক্ষার মান এবং মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। মূল্যবোধের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার। তবে দক্ষতা ছাড়া শুধু মূল্যবোধ থাকলে হবে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক থেকে মূল্যবোধ ও দক্ষতার ওপর জোর দেয়া না হলে তা সম্ভব হবে না।’

শুক্রবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মুজাম্মেল হক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে পাকিস্তানও সৃষ্টি হতো না। বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। আজ যারা পাকিস্তানি তারা ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের জীবনমান ও চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার যে বিষয়গুলো পরিবর্তন হচ্ছে সে ক্ষেত্রেও দৃষ্টি দিতে হবে। চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।’

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। ছাত্র-ছাত্রীরা যেরকম অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে শিক্ষকরাও তাদের পাশে থেকেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই সম্পর্ক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। আজ আমরা ছাত্র-শিক্ষকের যে সম্পর্ক দেখি তা কাম্য নয়।’

ডাকসুর সাবেক এই সহসভাপতি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করব, সেটা যদি নির্ধারণ করতে না পারি তাহলে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে আবার আমরা ছিটকে পড়ব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, অ্যালামনাইসহ সবাই মিলে আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উজ্জ্বল করব- শতবর্ষের আজকের আয়োজন থেকে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ গড়তে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি। তবে এ জন্য আমাদের বাড়তি মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই আমাদের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের রয়েছে।’

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ। এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যেসব প্রকাশনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে আমরা হয়তো সেভাবে সেগুলো রেকর্ড করতে পারছি না। আমরা এগুলো রেকর্ড করতে পারলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নিশ্চয়ই আরো অনেক ওপরে উঠে যাবে।’

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে একটি বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এই সংসদ মনে করে, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই ঐতিহ্যনির্ভর’ শীর্ষক এই বিতর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিতর্ক শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাহিদ আফরোজ সুমি। এই পর্বে নাটক পরিবেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সংগীত পরিবেশন করে। ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম এবং শুভ্র দেব একক সংগীত পরিবেশন করবেন। ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন দলছুটের বাপ্পা মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
এবার বন্ধ জাতীয় চিড়িয়াখানা
করোনা: ১৪ দিনের জন্য বন্ধ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

শেয়ার করুন