অবহেলায় তৈরি গরিবের আশ্রয়

অবহেলায় তৈরি গরিবের আশ্রয়

ময়মনসিংহে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর বানাতে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। বারান্দা, পিলারসহ ঘরের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। এসব ঘরে বসবাস করছেন না তালিকাভুক্ত অনেক অসহায়।

ঘর মিলেছে, তবে বেড়েছে ভোগান্তি। নেই বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে খুশি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের লোকজন। কিন্তু গরিবের এ ঘর তৈরিতে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ মিলছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী ময়মনসিংহে ৪ হাজার ৭০৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ১৩ উপজেলায় ১ হাজার ৩০৫টি গৃহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় ৬৪৫টি ঘর নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

এসব ঘর বানাতে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। বারান্দা, পিলারসহ ঘরের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে ঘর তৈরিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া ঘরগুলোতে নেই বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন-ব্যবস্থা। ফলে ঘরে বসবাস করছেন না তালিকাভুক্ত অনেক অসহায়।

তারা নানা কারণে মুখ না খুললেও নান্দাইলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন ঘর পরিদর্শনে গিয়ে কাজের মান দেখে নিজেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

অবহেলায় তৈরি গরিবের আশ্রয়

নান্দাইল উপজেলার ৫ নম্বর গাঙ্গাইল ইউনিয়নের শিয়ালধরা বাজারের কাছে গিয়ে দেখা যায়, পাশের জমির উচ্চতায় পাঁচটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করায় নিচের দিকে ঝুলে গেছে কয়েকটি বারান্দা। এক ঘরের চাল অন্য চালের ওপর পড়েছে।

এ ছাড়া ৮ নম্বর সিংরইল ইউনিয়নের বোরাঘাটে ৯টি ঘর তৈরিতে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। কোনোটির বারান্দা, পিলারে এরই মধ্যে ফাটল ধরেছে। ৯ নম্বর আচারগাঁও ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে তৈরি করা ঘরগুলোতেও দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে ফাটল। নলকূপ বসানো হয়নি বলে অন্যদের বাড়ি থেকে পানি এনে খেতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি। এসব সমস্যার কথা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো জানালেও নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি কেউ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন চিত্র শুধু নান্দাইলে নয়। ময়মনসিংহ সদরের চর দক্ষিণপড়া এলাকায় দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো হুমকির মুখে। কারণ, ঘরগুলোর একেবারে পাশেই নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ব্রহ্মপুত্র নদের মাটি দেদার কাটছে অনেকে। এতে করে ঘরগুলোর পাশে কোথাও জমেছে পাহাড়সম মাটি, আবার কোথাও অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাটি কেটে ঘরের আরও কাছে এলেই হুমকিতে পড়তে পারে ঘরগুলো।

অবহেলায় তৈরি গরিবের আশ্রয়

এ ছাড়া অন্যান্য উপজেলায় নির্মিত ঘরগুলোর কিছু অংশে ফাটল রয়েছে বলে জানা গেছে। নলকূপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বসবাস করছেন না তালিকাভুক্ত অনেক অসহায়।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুস্তাফিজুর রহমান শনিবার (২২ মে) দুপুর ১টায় নিউজবাংলাকে বলেন, উপজেলার ১২ নম্বর আমিরাবাড়ি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৮টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোতে ছিল না বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন-ব্যবস্থা। তাই এসব অসহায় লোকজনের দুর্ভোগ লাঘবে ইতিমধ্যে তিনি এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন: ‘১০ নম্বর শেরপুর ইউনিয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের যে ঘর দিয়েছেন, তা পরিদর্শনে যাই। যারা এই ঘরগুলো তদারকি করে বানিয়েছেন, তাদের অনেক গাফিলতি আছে। এখনও বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির ব্যবস্থা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রশাসনিক তদারকিতে এই ঘরগুলো নির্মাণ হয়েছে। কোনো জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি এই নির্মাণকাজে, কিন্তু কেন? এখন এই নিম্নমানের নির্মাণকাজের দায় কে নিবে?’

অবহেলায় তৈরি গরিবের আশ্রয়

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান সমালোচনা শুরু হয়। অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান কমেন্ট করে লিখেছেন: ‘খুবই দুঃখজনক। কে কাকে অভারলুক করে পকেট ভারী করবে সে চিন্তাই যেন ব্যস্ত। তাতে আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ কেন পিছিয়ে থাকবেন, সুযোগ পেয়েছেন পকেট ভরেছেন। তাদের দায়বদ্ধতা নেই কিন্তু জনপ্রতিনিধি সম্পৃক্ত থাকলে আরও ভালো কিছু হতো বলে মনে হয়।’

আর জে মিন্টু নামে আরেকজন লিখেছেন: ‘মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নে দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা। ঘরের সামনে নেই মাটি, বৃষ্টি হলে পানি জমবে। বর্তমানে ঘরে থাকছে না কেউ। বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করছি।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক খাসজমি প্রদান করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধা পাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। পরিবহনে প্রতি ঘরের জন্য আরও ৪ হাজার টাকা খরচ ধরা হয়েছে। টিনের চাল, দেয়াল ও মেঝে পাকা বাড়িগুলো সরকার নির্ধারিত নকশায় নির্মাণ করা হয়। বাড়িতে থাকছে রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, ইউলিটি স্পেসসহ অন্যান্য সুবিধা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তালিকাভুক্ত গৃহহীনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় ঘরের চাবি। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় ৬৪৫টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৭৫টি ঘর নির্মাণ চলছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘অনেক স্থানে বিদ্যুৎ ও পানি না থাকার বিষয়টি সুরাহার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে। ঘরের ত্রুটি নিয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তথ্য অনুযায়ী সব তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ঘরে উঠেছেন।’

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর যে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি ছড়াচ্ছে, সেই একই ভ্যারিয়েন্ট ২০১৯ সালে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৮২। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জনের, যাদের মধ্যে ছয় জন মারা যান। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। সেবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি, যাদের মধ্যে মারা যান ১৭৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারও ডেঙ্গুর টাইপ থ্রি বেশি মানুষকে আক্রান্ত করছে। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এবার ডেঙ্গুর টাইপ সি-তে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এখনকার রোগীদের যে লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তা হল দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। তবে অন্য উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই মাথা ব্যথা, চোখ জ্বলা, বমি, পাতলা পায়খানা এগুলো হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আরেক সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যেসব রোগী দেখেছি তাদের হাই ফিভার রয়েছে। কিছু কিছু রোগীর বমি ও ডায়রিয়া রয়েছে। যদিও এটা গতবারও ছিল।’

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের আসলে চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি, টাইপ ফোর। এবার ডেঙ্গু টাইপ থ্রি দিয়ে জ্বরটা বেশি হচ্ছে।

এ বছর কেনো সেরোপাইট থ্রি বেশি সক্রিয়, সেই প্রশ্নে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘এই চারটার মধ্যে কোনো একটা ভাইরাসের বিস্তার কোনো বছর বেশি হয়। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি হয়েছিল। গত বছরেও এই টাইপ থাকলেও তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল।’

ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে কোনটি বেশি প্রাণঘাতী, সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় সবগুলোই এক রকমের। তবে কিছু টাইপ বেশি সংক্রামক, যেমন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রমিত করে। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি ছড়িয়েছিল, তাই বলা যায় এটার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।’

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘ঢাকা থেকে আক্রান্ত অনেক রোগী গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ফলে সেখানেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। কারণ অন্যান্য জেলাতেও এডিস মশা আছে। আক্রান্তকে কামড়ানোর পর ভাইরাস মশা থেকে আবার সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপটাই মশার মাধ্যমে সাধারণত ছড়ায়। আরেকটি আছে এডিস এলবোপিকটাস, তবে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে এডিস ইজিপটাই ডেঙ্গুর বাহক।’

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড মহামারির মধ্যে করোনা ও ডেঙ্গু নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন তাদের অনেকেরই স্বাস্থ্য জটিলতা বেশি। আগামীতে এ ধরনের রোগী বাড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ডেঙ্গু বিপর্যয় উদ্বিগ্ন করে তুলেছে চিকিৎসকদের। তারা বলছেন, দুটি রোগের আক্রমণ একসঙ্গে হলে চিকিৎসা পদ্ধতির জটিলতা বাড়ে। এতে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় আক্রান্ত রোগীর।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৫। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৮২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড মহামারির মধ্যে করোনা ও ডেঙ্গু নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন তাদের অনেকেরই স্বাস্থ্য জটিলতা বেশি। আগামীতে এ ধরনের রোগী বাড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা আলাদা হওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে রক্ত জমাটের প্রবণতা থাকে। তবে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। ফলে দুটি রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিতেও পার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা এবং ডেঙ্গু একসঙ্গে ভয়াবহ হতে পারে। দুইটা যখন একসঙ্গে থাকবে তখন কিছু জিনিস বেড়ে যেতে পারে, যদি কেয়ারফুল না হওয়া যায়। মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় দুইটা একসঙ্গে হলে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসে। রোগীদেরও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সন্দেহ করতে হবে। আমরাও ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’

ডা. টিটো মিঞা বলেন, ‘কোনো কোনো ডেঙ্গুতে কোনো বিপদ থাকে না। কারণ সব ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীর ব্লিডিং হয় না। তবে ব্লিডিং থাকলে আর যদি করোনা থাকে তবে ব্লাড সিনাপ ব্যবহারের দরকার নেই। প্লাটিলেট কমে গেলে ভীত হওয়া যাবে না যতক্ষণ না ব্লিডিং হয়।’

তিনি জানান, কেউ একসঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে করোনা আক্রান্ত হিসেবেই মৃত্যু নথিভুক্ত হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুইটা (করোনা ও ডেঙ্গু) একসঙ্গে হলে একটা বড় ইফেক্ট তো হবেই। এ ধরনের পেশেন্টকে ট্রিটমেন্টের জন্য করোনা হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

এ ধরনের ক্ষেত্রে জটিলতার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুতে যদি ব্লিডিং থাকে, সে রকম ক্ষেত্রে আসলেই কঠিন অবস্থা হবে।’

তবে খুব বেশি উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা বা ডেঙ্গু যেটাই হোক না কেন, সেটি কিন্তু সব ক্ষেত্রে খারাপ না। বেশিরভাগ রোগীই বাসায় থেকে ভালো হচ্ছে।

‘দুটি একসঙ্গে হলেই যে খুব খারাপ হবে, তা নয়। তবে খারাপ হতে পারে। ডেঙ্গুর হেমোরেজিক রোগী বেশি খারাপ হয়, যেটাকে শক সিনড্রোম বলে।’

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর

ডেঙ্গু ও করোনার লক্ষণ প্রায় কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে এখন অবহেলা করা যাবে না। অনেকেই বাসায় ওষুধ খান। তবে শুধু নাপা খেতে হবে। অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

‘কেউ একসঙ্গে দুটো পজেটিভ হলে অবশ্যই ডাক্তার সিনড্রোম দেখে ওষুধ দেবেন। যেহেতু এটা ভাইরাস, এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তাই আলাদা আলাদা লক্ষণ অনুযায়ী সেবা দিতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারও যদি করোনা ও ডেঙ্গু একসঙ্গে হয় তাহলে কোনোভাবেই তার বাসায় থাকা উচিত হবে না। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

এ ধরনের রোগীদের বিপরীতমুখী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে জানিয়ে এ অধ্যাপক বলেন, ‘করোনাতে রক্ত জমাট বাঁধার একটা প্রবণতা থাকে। আমরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ দিচ্ছি। অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। তাই রক্ত পাতলা করার ওষুধ দিলে ব্লিডিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব ক্ষেত্রে একটু কন্ট্রোভার্সিয়াল কন্ডিশন দাঁড়িয়েছে।’

একসঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা আক্রান্ত রোগী এখন পর্যন্ত অনেকটা কম হলেও চিকিৎসকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এ সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাছে এখন দিনে ১০টা জ্বরের রোগী এলে তার মধ্যে তিনটা বা চারটা করোনার রোগী পাচ্ছি। সেই সঙ্গে দুই থেকে তিনটা ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি।

‘তবে প্রতিদিন না হলেও এক-দুই দিন পর একজনকে পাচ্ছি, যার দুইটাই পজেটিভ আছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন অনেক হচ্ছে যে, ডেঙ্গুর জন্য ট্রিটমেন্ট নিতে গিয়ে কেউ করোনা পজেটিভ হয়েছে। আবার একইভাবে করোনা চিকিৎসা চলার সময় ডেঙ্গু পজেটিভ হয়েছে। এখন যদি ডেঙ্গু কন্ট্রোল করা না যায়, তবে মারাত্মক সমস্যা হবে।’

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

রিকশাচালক শাফী যেভাবে ভাইরাল ইউটিউবার

রিকশাচালক শাফী যেভাবে ভাইরাল ইউটিউবার

ইউটিউবার শফিকুল ইসলাম ওরফে শাফী।

বেশি উপার্জনের আশায় ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শাফী। কেনেন পুরোনো একটি স্মার্টফোন। সেটি দিয়ে কিছুদিন কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও আপ করেন। সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। ‘ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই তিনি ইউটিউবারের পরিচিতি পান।

মোংলার রিকশাচালক শফিকুল ইসলাম ওরফে শাফী। বেশি উপার্জনের আশায় নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে বিতর্কিত বিভিন্ন ভিডিও আপ করে ‘হইচই’ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য মনগড়া ও উসকানিমূলক বিভিন্ন ভিডিও আপ করার কথা আদালতেও স্বীকার করেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘শান্তির আহ্বান’-এর সাবস্ক্রাইবার ৩ লাখ ২ হাজার। একই নামে ফেসবুক পেজে ফলোয়ার সংখ্যাও কাছাকাছি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মোংলা বন্দরের শ্রমিক ফজলুল হকের ছেলে শাফীর সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসায় যাতায়াত ছিল। আর্থিক সংকটে মাদ্রাসা ছেড়ে রিকশা চালানো শুরু করেন তিনি; ভ্যান-টমটম চালানোও বাদ দেননি। একটা পর্যায়ে বেশি উপার্জনের জন্য মোংলা থেকে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে। সেখানে কিছুদিন রিকশা চালানোর পর চাকরি নেন একটি পোশাক কারখানায়।

পরে রাজধানী ঢাকায় এসেও পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তাতেও সুবিধা করতে না পেরে বেশি উপার্জনের আশায় ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কেনেন পুরোনো একটি স্মার্টফোন। সেটি দিয়ে কিছুদিন কৌতুক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিও আপ করেন। সেগুলোর আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। ‘ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই তিনি ইউটিউবারের পরিচিতি পান।

এরপর আরও বেশি উপার্জনের লোভে কোরআন-হাদিস নিয়ে অপব্যাখ্যা দিয়ে একের পর এক ভিডিও আপ করতে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত ভিডিও আপ করে মাসে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করতেন শাফী।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করেন তিনি। এ অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিএমপির সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপকমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আল কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিউ বাড়াতে সরকার ও ধর্ম নিয়ে মিথ্যা, মনগড়া ভিডিও বানিয়ে আপলোড করার অভিযোগে শাফীকে ২৮ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের কর্মকর্তারা জানান, শাফীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত শত শত ভিডিও বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই রিকশাচালক গুগল থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ করতেন। পরে সেগুলোতে ভয়েস দিয়ে বিতর্কিত ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপ করতেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত নানা ইস্যুকে পুঁজি করতেন তিনি। এভাবে ‘বিকৃত ভিডিও’ বানিয়ে ভিউয়ার ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর চেষ্টা করতেন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে তার ‘শান্তির আহ্বান’ নামে ফেসবুক পেজের সন্ধান পাওয়া যায়। এই পেজ থেকে বিভিন্ন হাদিস অস্বীকার করা হতো। হাদিসের অপব্যাখ্যা করে ভিডিও শেয়ার করা হতো। ‘শান্তির আহ্বান’ নামেরই ইউটিউব চ্যানেল থেকেও একই ধরনের কনটেন্ট আপ করা হতো।

শাফী জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার ইউটিউব চ্যানেলে দিতেন। চ্যানেলটি ব্রাউজ করে আরও দেখা গেছে, আলোচিত প্রায় সব ঘটনা নিয়েই ভিডিও বানাতেন তিনি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনগড়া বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে ছবি যুক্ত করতেন শাফী।

এসব ভিডিওর মাধ্যমে ধর্ম, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী নানা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালান তিনি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়। সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপের নেতৃত্বে ২৮ জুলাই ঝালকাঠি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার মোবাইল ফোনে ‘শান্তির আহ্বান’ নামের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। ইউটিউব চ্যানেলটিতে এ ধরনের পাঁচ শতাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য মনগড়া ও উসকানিমূলক ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও প্রচারের কথা স্বীকার করেছেন শাফী।

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ নিউজবাংলাকে জানান, রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে প্রায় সব অভিযোগই স্বীকার করেছেন তিনি। মোংলায় রিকশা চালিয়ে তেমন আয় না হওয়ায় ২০০১ সালের দিকে চট্টগ্রামের কলসি দিঘিরপাড় এলাকায় চলে যান শাফী। সেখানে কিছুদিন রিকশা চালানোর পর একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

সম্পর্কের অবনতি হলে ২০১১ সালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় চলে যান। সেখানকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেখানেও আরেক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেম হয়। ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। কিছুদিন পর শাফীর বাবা ঢাকায় তার বাসায় আসেন। কিছুদিন থাকার পর তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের শেষ দিকে স্ত্রীসহ মোংলায় মায়ের কাছে চলে যান শাফী।

সেখানে গিয়ে রিকশা, ভ্যান ও টমটম যখন যেটা সুবিধাজনক মনে হতো সেটাই চালাতেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি বাবা হন। উপার্জন কম হওয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানাটানিতে পড়েন। এ অবস্থায় চলতে থাকলে ২০১৮ সালের দিকে একটি পুরোনো স্মার্টফোন কেনেন। ফেসবকু, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ব্যবহার শুরু করেন। কিছুদিন পর জানতে পারেন, ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়। সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখা শুরু করেন।

পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, শাফী ভ্যান-রিকশা চালানোর পাশাপাশি অবসর সময়ে ইউটিউবের ভিডিওতে দেখানো টিউটরিয়াল অনুসরণ করতে থাকেন। কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেসব চ্যানেলে আপ করা ভিডিওগুলোর পর্যাপ্ত ভিউ হচ্ছিল না। সেসব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারও কম থাকায় অর্থ পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে সেগুলো ওই সব চ্যানেলে আপ করতে থাকেন। কিন্তু সেগুলোও ভাইরাল না হওয়ায় অর্থ পেতেন না। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ‘শান্তির আহ্বান’ নামে আরও একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন।

এই চ্যানেলের জন্য গুগল ও ফেসবুক থেকে কিছু ইসলামিক আর্টিকেল সংগ্রহ করেন। সেগুলোর সঙ্গে নিজের মনগড়া বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপ করতে থাকেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরেকটি ছেলে হয় তাদের; বেড়ে যায় সংসারের খরচও। তখন ইউটিউব থেকে উপার্জনের জন্য আরও মনোযোগী হন। এর মধ্যে এক সন্তানের চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভিডিওর ভিউ বাড়াতে মনগড়া ও উসকানিমূলক আরও ভিডিও আপ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ‘ইমাম মাহদীর আগমের আলামত’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপ করেন, যেটি ভাইরাল হয়। এরপর গুগল ও ফেসবুক থেকে ‘ইমাম মাহদী’-সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্টকেল নিয়ে নিজের মনগড়া বক্তব্য জুড়ে ভিডিও বানাতে থাকেন। এর আগে তিনি প্রায় এক বছর ইউটিউব থেকেই ভিডিও এডিটিং শেখেন। কীভাবে ভিডিও আপলোড ও থাম্বনেল করতে হয় তাও শিখে নেন।

পুলিশ কর্মকর্তা ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ জানান, ইউটিউব চ্যানেল খোলা থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটিং, আপলোড, থাম্বনেল বানানো, অ্যাডসেন্সের সঙ্গে চ্যানেল যুক্ত করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে টাকা উত্তোলন পর্যন্ত সবকিছুই ইউটিউব থেকে শেখেন। তার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার তিন-চার মাস পর ‘শান্তির আহ্বান’ চ্যানেল অর্থ উপার্জনের উপযুক্ত হয়। তবে ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় স্ত্রীকে দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের মোংলা শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।

এই ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রথম উপার্জন হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা তোলেন তারা। এরপর প্রায় প্রতি মাসেই ৩০-৪০ হাজার টাকা করে তুলেছেন। এ পর্যায়ে ভ্যান ও রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে ইউটিউবের প্রতি আরও মনোযোগী হন শাফী। এর মধ্যে ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে একটি ভিডিও আপ করেন। সেই ভিডিওটিও ভাইরাল হয়। তখন থেকেই তিনি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও তৈরি করতে থাকেন। তার আয়ও বাড়তে থাকে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো নিয়ে কথা বললে তেমন ভিউ হয় না। এ জন্য শাফী ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই সরকারবিরোধী ভিডিও বানিয়ে আপ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। যে ভিডিওতে তিনি মনগড়া নানা প্রশ্ন রেকর্ড করেন আর প্রধানমন্ত্রীর কথা কেটে কেটে জোড়া লাগান। একইভাবে কোরআনের একটি সুরারও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপ করেন।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে

কম টাকায় উন্নত সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ফ্ল্যাটে থাকবেন মিরপুরের বস্তিবাসীরা। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে এই জায়গা। ভাড়া মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। 

বস্তিতে মাসে ভাড়া গুণতে হয় প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেখানে সুবিধা সীমিত। ঝড় বৃষ্টিতে কষ্টের সীমা থাকে না। সেই দিন এখন শেষ হতে চলছে রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাউনিয়াবাদ, কলাবাগান এলাকার ৩০০ বস্তিবাসীর। তারা এখন কম টাকায় উন্নত সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ফ্ল্যাটে থাকবেন।

মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব বস্তিবাসীর জন্য রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশন ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন।

১৪ তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে। লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে এই জায়গা।

এই প্রথম বস্তিবাসীদের নিয়ে এমন উন্নত বাসস্থানের চিন্তা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস আলী মোল্লা ও প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লটারির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্ধারণ করে দেন।

মঙ্গলবার সকালে দশটি বাসে করে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে তাদের হাতে তুলে দেবেন স্বপ্নের দলিল।

প্রকল্প পরিচালক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মাঝে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এছাড়া সাথে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। সেটি এখনও নির্ধারণ হয়নি।

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এখানে যে তিনটি ভবনে তারা উঠবেন, সেগুলোর প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষের পথে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হবে।’

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ তলা পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এই তিনটির তিনশটি ফ্ল্যাটে উঠবেন বস্তিতে থাকা ছিন্নমূল মানুষেরা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট। এক একটি ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িং রুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। দুপাশে ফাঁকা জায়গা। পেছনের দিকে বেড়িবাঁধ অংশের খাল। সামনে প্রশস্ত সড়ক।

ভবনে কাজ করছেন এমন নির্মাণ শ্রমিকেরা নিউজবাংলাকে জানান, মোটামুটি সব কাজ শেষের দিকে। এখন শুধু জানালার গ্লাস, কিছু কিছু অংশে টাইলস, লিফট, ফ্ল্যাটের দরজা লাগানো বাকি আছে। এগুলো বাদে প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলে প্রতি বর্গফুটে ভাড়া আসে সাড়ে ১১ টাকার কাছাকাছি আর পুরো ফ্ল্যাটের দৈনিক ভাড়া আড়াইশ টাকা। পাশেই যারা এখন বস্তিতে আছেন, ১০০ বর্গফুট ঘরের জন্য ভাড়া গুণতে হয় প্রায় ২ হাজার টাকার কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের ভাড়া দাঁড়ায় ২০ টাকা। তবে সেখানে বাড়তি কোনো সুবিধা নেই। বরং যে কোনো সময় উচ্ছেদ আর আগুন আতংকে দিন পার করতে হয়।

ফ্ল্যাট পেয়েছেন এমন কয়েকজন যদিও ভাড়া নিয়ে একটু আপত্তি করেছেন, তবে তারা খুশি এমন আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ঘর পেয়ে।

যে জমিতে ভবন তোলা হয়েছে, সেখানে একসময় বস্তিতে থাকতেন শাহানা বেগম। এখন তিনি পাশের কলাবাগান বস্তিতে থাকেন। তাকে ফোন দেয়া হয়েছে লটারিতে উপস্থিত থাকার জন্য।

কীভাবে ফ্ল্যাট পেয়েছেন জানতে চাইলে শাহানা বলেন, ‘আমি এইখানেই থাকতাম আগে। বর্তমানে পাশের কলাবাগান বস্তিতে থাকি। আমার নাম আছে। কাইল (গতকাল) ফোন দিছিল আসার জন্য। আতি আইছি। আজ ফ্ল্যাট দিব।’

বস্তির চেয়ে কম ভাড়ায় উন্নত ফ্ল্যাটে


রীনা বেগম পাশের কলাবাগান বস্তিতেই থাকেন। তবে এই জায়গা উচ্ছেদ করার পর ফ্ল্যাটের জন্য তিনিও আবেদন করার সুযোগ পান। রীনা বেগমের স্বামী নেই। বাচ্চাদের নিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করেন। ভাড়া দিতে হবে জেনে একটু কষ্ট পেয়েছেন। তবে ফ্ল্যাটে সব সুবিধা আছে জেনে খুশি তিনি।

রীনা বলেন, ‘আমাগো প্রধানমন্ত্রী যদি একটু ভাড়াডা কমাইতো, তাইলে আরও ভালা হইত।’

শুক্কুর শেখ ভাড়া কত তা এখনও জানেন না। তবে ফ্ল্যাট পেয়েছেন এতেই খুশি তিনি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পুরো প্রকল্পে জমির পরিমাণ ছয় বিঘা। এই জমিতে আগে বস্তি ছিল। ২০১৭ সালে তা ভেঙে ফেলা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়।

কীভাবে বস্তির মানুষ নির্ণয় করা হয়েছে

যেখানে বস্তি ভেঙে ভবন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে আগে যারা ছিলেন, তারা অনেকেই অভিযোগ করছেন, তারা ভবনে থাকার জন্য অনুমতি পাননি। তবে নিউজবাংলা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে, শুধু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে বস্তি হিসেবে ঠিকানা দেয়া আছে, শুধু তাদেরকেই যাচাই-বাছাই করে যোগ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন তিনশ জনকে প্রাথমিক ধাপে ফ্ল্যাট দেয়া হবে। যারা পান নি, তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে বাকি ২৩৩টি ফ্ল্যাট দেয়া হবে।

এই ভবনের আশেপাশে আরও কয়েকটি বস্তি রয়েছে। সেখানে ভাড়া থাকছেন অনেকে, যারা আগে এই প্রকল্পের আশপাশেই থাকতেন। তাদের অভিযোগ, তাদের ঘর ভেঙে ফেলা হলেও ফ্ল্যাটের তালিকায় নাম ওঠেনি। বস্তি ভেঙে ফেলার পর সবাইকে ফ্ল্যাটের আবেদন করার কথা বলা হয়। সে সময় সবাই ফ্ল্যাটের আবেদন করেন।

এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শুধুমাত্র বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট দেয়া হবে। অনেকেই বস্তি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তবে তারা প্রকৃত বস্তিবাসী নন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে বস্তির ঠিকানা দেয়া আছে, শুধু তারাই ঘর পাবেন।’

তাবেদুন নবী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, এই উপমহাদেশেই এটা প্রথম। আমাদের কাছ থেকে এই প্রকল্পের যাবতীয় বিষয় ইন্ডিয়ান হাইকমিশন নিয়েছে। তারাও তাদের দেশে উত্তরাখণ্ড ও ঝাড়খণ্ডে এমন আবাসন গড়ে তুলবে।’

তবে তাবেদুন নবী ফ্ল্যাটের ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। নিউজবাংলা আরও কয়েকটি সূত্র থেকে ভাড়া সাড়ে ৭ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল ও সমন্বয় উইংয়ের সদস্য কাজী ওয়াসিফ আহমাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা এখানে আগে থাকতেন, তাদের জীবন ব্যবস্থা ভালো করার জন্য সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের মতো সব সুবিধা থাকবে। এখানে প্রতিটি ভবনে লিফট, জেনারেটর, বিদ্যুতের সাব স্টেশনসহ আধুনিক সব সুবিধা পাওয়া যাবে।’

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মতে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ছয়টি প্রকল্প রয়েছে। বস্তিবাসী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত পাঁচটি আবাসন প্রকল্পের ২ হাজার ৪১৬টি ফ্ল্যাট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। এগুলো আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল ও মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ

শাটডাউনের মাঝে রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিকদের। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তৈরি পোশাকমালিকরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আদেশ এসেছে জুন ও জুলাই মাসে। এ রপ্তানি আদেশ বাঁচাতেই সরকারকে বুঝিয়ে দেশে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো তড়িঘড়ি করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে তৈরি পোশাকের প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশি টাকায় এর পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর সিংহভাগ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে।

শর্ত অনুযায়ী, এসব ক্রয়াদেশ চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিপমেন্ট করতে হবে।

করোনার লকডাউনে দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় বায়ারদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ক্রয়াদেশ পূরণে শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ উৎপাদন-সক্ষমতা অনুযায়ী, ক্রয়াদেশ পাওয়া বেশির ভাগ কারখানার শিডিউল আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। আরও ক্রয়াদেশ পাইপলাইনে রয়ে গেছে। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় শঙ্কিত ছিলেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, শিডিউল অনুযায়ী শিপমেন্ট ডেলিভরি যাতে কোনো অবস্থাতেই হেরফের না হয়। যদি এ রকম কোনো আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের আগেভাগেই জানিয়ে দিতে, যাতে তারা এই অর্ডার সময় থাকতেই প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে পারেন।

তা ছাড়া প্রথমবারের মতো ভারত ও মিয়ানমারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। আগে থেকেই চীন থেকে স্থানান্তরিত বিপুল পরিমাণ অর্ডারও বাংলাদেশে এসেছে। প্রতিনিয়ত আসছে। ফলে এসব ক্রয়াদেশের শিডিউল রক্ষার চাপ উদ্যোক্তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তাদের হাতে কারখানা চালু এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প ছিল না।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্বের অনেক ক্রয়াদেশ যেখানে বাতিল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের পাওয়া এই বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ তৈরি পোশাক খাতের সংকট দূর ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই শুধু সহায়ক হবে না, বরং করোনায় সৃষ্ট দেশের মন্দা অর্থনীতির উত্তরণেও সহায়ক হবে। এ কারণে এই বিপুল ক্রয়াদেশ তারা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাননি।

মূলত রপ্তানি আদেশ বাঁচাতেই সরকারকে বুঝিয়ে দেশে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো তড়িঘড়ি করে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
রোববার থেকে আবারও চালু হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলো

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার কারখানা খোলা হলেও প্রথম দিন শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকালে শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশ, দুপুরের পর তা ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়।

এক প্রশ্নে জবাবে তিানি বলেন, ‘১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাঁচাতে কারখানা খোলা হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনে কারখানা চালু থাকা অবস্থায় ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

‘এ ধারার রপ্তানি অব্যাহত রাখা গেলে শুধু জুলাইতেই সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব হতো। কিন্তু গত আট দিন কারখানা বন্ধ থাকায় সেটি হয়নি।

‘দিন যত যাচ্ছে, রপ্তানির ক্রয়াদেশ এবং শিপমেন্টের তাগিদ তত বাড়ছে। এখনই যে হারে রপ্তানি আদেশ রয়েছে, তা যদি গড় হিসাবে কমপক্ষে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারই ধরি, তাহলেও উদ্যোক্তাদের হাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ রয়েছে। ফলে কারখানা খোলা জরুরি ছিল। সেটি খুলেছে, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। তবে লকডাউন শিথিল না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ শ্রমিকের উপস্থিতির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শ্রমিকরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে কর্মস্থলে হাজির হলেই হলো।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি হওয়া লকডাউনের প্রজ্ঞাপনে গত ২৩ জুলাই থেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে টানা আট দিন বন্ধ থাকে সব পোশাক কারখানা। যদিও এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত ও পরে ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধেও চালু ছিল তৈরি পোশাক কারখানা। ওই সময়েই (জুন-জুলাই) মূলত এই বিপুল পরিমাণ অর্ডার পায় পোশাকশিল্পের মালিকরা।

কারখানা খোলার পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ
শনিবার ফেরিগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয় বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। কারণ এই সময়ে লেট সামারের ক্রয়াদেশ সরবরাহে চাপ থাকে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে শীতকালীন বস্ত্রের চাহিদার প্রায় শতভাগ কার্যাদেশও পাওয়া যায় এই তিন মাসের উৎপাদন, জাহাজীকরণ ও সরবরাহ পর্যায় থেকে।

এ ছাড়া প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বড়দিন’। বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বড়দিনের উৎসব ঘিরেও তৈরি পোশাকের আরেকটা বড় চাহিদা তৈরি হয় বিশ্বব্যাপী। ফলে বায়ারদের প্রয়োজনীয় আগাম কার্যাদেশও দেয়া হয় এই তিন মাসের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও সরবরাহে বরাবরই বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। এ বছর অবশ্য ভিয়েতনাম শীর্ষ ২-এ উঠে যায়। পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সব সময়ই বাংলাদেশ পেয়ে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমাদের হাতে কারখানা খোলা ও উৎপাদন অব্যাহত রাখা ছাড়া উপায় ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ এ কারণে যে, সরকার সার্বিক বাস্তবতা আন্তরিকভাবে অনুভব করে অর্থনীতি বাঁচাতে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে উদ্যোক্তা, শ্রমিক-কর্মচারী তথা সবার আর্থিক সংকট দূর হবে। অর্থনীতিও সচল থাকবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানার উৎপাদন চালিয়ে যাব। হাতে প্রচুর কাজ। উৎপাদন চালু থাকলে বায়ারদের শিডিউল মেনে আমরা সব ক্রয়াদেশের শিপমেন্ট দিতে সক্ষম হব। এর মাধ্যমে চলতি বছর পোশাক খাতে ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, আমরা তার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হব।’

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীনের তিনজিয়ান শহরে বৈঠকের আগে তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুল ঘানি বারাদারকে স্বাগত জানাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: এএফপি

চীন ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের বামপন্থিরা নতুন এই মেরুকরণকে কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে বেশ কিছু দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, কেউ কেউ চীন প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সখ্য নিয়ে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘোষণার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান এখনও দেশটির ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও প্রতিদিনই আফগান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে তারা। দখল করছে নতুন নতুন এলাকা।

ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইতোমধ্যে কট্টরপন্থি তালেবানের সঙ্গে দেনদরবার ও দর-কষাকষিতে জড়িয়ে পড়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। এর বাইরে নেই বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনও।

আফগানিস্তানে তালেবানের অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রার মধ্যেই গোষ্ঠীটির প্রথম কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে চীন সফর করেছেন এই গোষ্ঠীর সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার। চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর তিয়ানজিনে বুধবার তার নেতৃত্বে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় তালেবানের নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই ঘনিষ্ঠতাকে চীন-তালেবান ‘মধুচন্দ্রিমা’ হিসেবে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

আরও পড়ুন: চীন-তালেবান মধুচন্দ্রিমা কেন

চীন ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের বামপন্থিরা নতুন এই মেরুকরণকে কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে বেশ কিছু দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, কেউ কেউ চীন প্রসঙ্গ এড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সখ্য নিয়ে।

রুশপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির নেতারা সম্প্রতি চীন সফর করে এসেছেন।

দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে প্রশ্ন ছিল, চীন ও তালেবানের বন্ধুত্বকে কীভাবে দেখছেন তিনি।

‘এই বিষয়ে ডিটেইল খবর আমি জানি না’ এমন মন্তব্য করে সেলিম বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আর কয়টা বৈঠক করেছে (তালেবানরা)? আমেরিকার সঙ্গে তারা এক লক্ষ বৈঠক করেছে। এটা হাইলাইট করেন।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

চীনের তিনজিয়ান শহরে তালেবান নেতাদের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: টুইটার

এমন প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিবি সভাপতি। বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে তালেবানের আঁতাত গড়ে উঠছে। আর এটা ডাইভার্ট করার জন্য হয়ত আপনাদের দিয়ে এটা লেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে তো খুবই উত্তপ্ত অবস্থা। আমেরিকানরা প্রক্সি হিসেবে তালেবানদের দিয়ে হয়ত অনেক কিছু করিয়েছে, পাকিস্তানও তালেবানদের সঙ্গে লিংকডআপ হয়ে আছে।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব নতুন বিপদ ডেকে আনে কি না, এমন প্রশ্নে এই বাম নেতা বলেন, ‘সেটা তো চীনের জন্যও একটা বিরাট বিপদের জায়গা হয়ে যাবে, আমাদের জন্যেও বিপদের জায়গা হয়ে যাবে। গোটা এশিয়া রিজিওনের জন্যও এটাই হবে।

‘আমাদেরও খুব বিচলিত থাকা উচিত, চীনেরও বিচলিত থাকা উচিত। সমস্ত বিশ্ব মানবতার এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত ও বিচলিত থাকা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকা, তালেবান ও পাকিস্তান যে এক্সেস গড়ে উঠছে সেইটার ভয়ংকর পরিণতি সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। প্রত্যকটা দেশ প্রত্যেকটা মানুষের এই অশুভ আঁতাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষও খুবই শংকিত। যে সীমিত যেটুকু সুযোগ তাদের হয়েছে লেখা-পড়ার সেটা তো আবার…।

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয় সেটা হলো স্টেট টু স্টেট রিলেশনের একটা জায়গায় চীন আসছে।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?

আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা দখলের দাবি করেছে তালেবান। ছবি:এএফপি

এই সম্পর্ক কী রকম, তার ব্যাখ্যা করে এই বামপন্থি নেতা বলেন, ‘উইঘুর নিয়ে তো চীন একটু … ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা আমেরিকানদের পক্ষ থেকে চাপে আছে। আবার চীনের সঙ্গে আছে আফগানিস্তানের একটা সীমানা, আবার এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানি পশতুদের একটা এথনিক সম্পর্ক আছে, আবার তাদের ভূমির সম্পর্কও আছে। …চীনের ইউঘুর এবং ভারতের কাশ্মীর এই দুটোই তালেবানদের যে উগ্রচিন্তা তা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায় কিনা সে ব্যাপারে দুটো দেশই ভাবছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাবনা হচ্ছে, চীন এই জায়গায়টায় মোস্টলি এটা ভাবছে যে, ভবিষ্যতের আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে জিওপলিটিক্যাল, জিওমিলিটারি এবং জিও ইকোনোমি স্ট্রাকচারের গুরুত্বটা অনেক বেশি। তার সঙ্গে তালেবানদের এই উগ্রতা তাদের দেশেও কোনো প্রভাব ফেলে কি না তার জন্য সর্কতামূলক বন্ধুত্ব, সেটা তারা মেইনটেইন করার চেষ্টা করছে।

‘চীন মুখে সমাজতন্ত্রের কথা যতই বলুক, ভেতরে অন্তবস্তুতে এই জায়গায় বিরাট এক ডিপারচার হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন: বিশ্ব পরাশক্তিদের আগ্রহের কেন্দ্রে তালেবান

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করিনি। তবে, আমার মন্তব্য বলতে পারি। তালেবানদের সঙ্গে চীনের যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ বা বৈঠক এটা প্রধানত ভূ-রাজনৈতিক। এই অঞ্চলে যে জিও পলিটিক্যাল পরিস্থিতি, সেটা বিবেচনা করেই তালেবানদের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ বা আলাপ আলোচনা সেটা হয়েছে।

‘অর্থাৎ আঞ্চলিক রাজনীতিতে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পরে আফগানিস্তানে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেই পরিস্থিতে চীনের আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পারে।

‘দ্বিতীয়, তালেবানদের সঙ্গে পরবর্তীতে এই অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে তারা একটা কৌশলগত বোঝাপড়া গড়ে তোলা যায় কি না সেই লক্ষ্যে সম্ভবত এই যোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনা।’

চীন-তালেবান বন্ধুত্ব: বাংলাদেশের বামপন্থিদের কী অবস্থান?
আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরের রাস্তায় কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

তিনি বলেন, ‘চীনের যে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড নীতি, সেখানে আফগানিস্তানকে এক্টিভলি যুক্ত করা যায় কি না, তাদেরকে (তালেবান) কৌশলগত পার্টনার হিসেবে ভবিষ্যতে নেয়া যায় কিনা সেটাও সম্ভবত চীনা সরকারের বিবেচনার মধ্যে আছে। এখানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বা তাদের যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ সেটা বোধহয় তাদের বড় বিবেচনায় নেই।

‘আরেকটি হচ্ছে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পরে চীনের উইঘুর মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পড়ে, এটাও চীনের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার একটা বড় বিষয় আছে।’

সাকি বললেন, ‘আমি বামপন্থি না’

চীন-তালেবান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করতেই হেসে উড়িয়ে দেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ কোথায় না খেয়ে আছে, এখন শ্রমিকদের এই অবস্থা, আর কোথায় তালেবান!’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কী বলবো বলেন। আমি বামপন্থি না। এটা নিয়ে সিপিবিকে জিজ্ঞেস করেন অথবা বাম জোটের সমন্বয়কে জিজ্ঞেস করেন। আমরা তো গণ মানুষের রাজনীতি করি। আমরা মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ধারায় গণ মানুষের রাজনীতি করি।’

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

বিএনপিও সয়লাব ভুঁইফোড় সংগঠনে

বিএনপিও সয়লাব ভুঁইফোড় সংগঠনে

ভুঁইফোড় নানা সংগঠনের পোস্টার-ব্যানারে সয়লাব বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির নামের ছত্রছায়ায় শতাধিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছু সংগঠন উধাও হয়ে যায়। তবে নতুন নতুন সংগঠনও গড়ে উঠতে থাকে।

শুধু আওয়ামীলীগ নয়, দলের নাম ব্যবহার করে ভুঁইফোড় সংগঠন নিয়ে বিব্রত বিএনপিও। বিশেষ করে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দলটির নামের ছায়ায় গজিয়ে উঠেছিল বহু সংগঠন।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও জাতীয়তাবাদের নাম ব্যবহার করে এ রকম সংগঠনের সংখ্যা শতাধিক ছড়িয়ে যায়। দলের বিভিন্ন ইস্যুতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করত তারা।

তবে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রায় বেশির ভাগই উধাও।

তবে অনেক ভুঁইফোড় সংগঠনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। এরকম প্রায় ৬০-এর বেশি ভুঁইফোড় সংগঠনের খোঁজ পাওয়া গেছে, যাদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি। সেই সাথে বিব্রতও।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলের অনুমোদনহীন এসব সংগঠন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বেড়ায়। এদের উদ্দেশ্য জিয়ার আদর্শ না। এ সব সংগঠন নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।’

‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নিয়ে সতর্ক বিএনপি

ইতোমধ্যে ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মর্মে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি ‘শহীদ জিয়া ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, সংগঠনটির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা নাই। সংগঠনটি বিএনপির এফিলিয়েটেড কোনো সংগঠন নয়।’

বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিএনপিরও ছিল কর্মজীবী দল

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামক একটি সংগঠন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি।

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তার ছত্রছায়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল নামেও একটি সংগঠন সক্রিয় ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সংগঠনের সভাপতি মো. লিটন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

ফেসবুকে এখনও এই সংগঠনের নামে একটি পেজও রয়েছে, যেখানে ৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার। তবে ২০১৬ সালের পর এই পেজ থেকে আর কোনো পোস্ট করা হয়নি।

ভার্চুয়াল ও বিদেশের ভুঁইফোড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য

গত মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস বিএনপির সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নোটিশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সময় জুড়ে দলীয় কর্মসূচি না থাকায় বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে ভার্চুয়াল আলোচনা ও টক শো চলছে। এসব আলোচনা ও টকশোতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, যারা দেশে ও বিদেশে অবস্থান করছেন, তারা বিভিন্ন সময় তাদের মতামত তুলে ধরছেন। এতে ক্ষুব্ধ দলের নীতি নির্ধারকরা।

কারও কারও বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দলীয় অনুমোদন নেই এমন কোনো সংগঠনের আলোচনা সভায় কেউ যেন কথা না বলেন, সে বিষয়ে সতর্কতা জারির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বিএনপির ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পর যেসব সংগঠন গড়ে ওঠে, সেগুলো হলো: জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল, সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদ, জিয়া সেনা, স্বদেশ জাগরণ পরিষদ, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদ, দেশপ্রেমিক ফোরাম, জিয়া স্মৃতি সংসদ, জিয়া নাগরিক ফোরাম, জিয়া আদর্শ একাডেমি, তৃণমূল দল, জিয়া পরিষদ, জিয়া ব্রিগেড, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেবা দল, জাতীয়তাবাদী বন্ধু দল, খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ, শহীদ জিয়াউর রহমান আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদ, জাতীয়তাবাদী কৃষি আন্দোলন।

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছু সংগঠন উধাও হয়ে যায়। তবে নতুন নতুন আরও সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে।

২০১৩ সালে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর বাইরে আর কোনো সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।

২০১৭ সালে এরকম ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দেয় বিএনপি।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন