বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

নাগরিক কোনো সুযোগসুবিধাই ছিল না ছিটমহলের বাসিন্দাদের। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অংশ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো স্বাভাবিক নাগরিক জীবন পেয়েছে তারা। ছয় বছরে কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ার মানুষের জীবন কতখানি বদলে গেছে, ঘুরে দেখেছেন আমাদের প্রতিনিধি।

বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের যে ১১১টি ছিটমহল ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া। এটির আয়তন ৬ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের পর দাসিয়ারছড়া এখন বাংলাদেশের ভূখণ্ড।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ হেড কাউন্টিং ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানে ১ হাজার ৩৬৪টি পরিবারের ৬ হাজার ৫২৯ জনের বসবাস।

১৫ মে দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা গেছে মাত্র ছয় বছরে অনেক বদলে গেছে এখানকার বাসিন্দাদের ৬৮ বছরের বঞ্চনার জীবন।

ছিটমহলে থাকাকালীন এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধুনিক ঘরবাড়ি তো দূরের কথা চলাচলের কোনো রাস্তাঘাটই ছিল না। নদী, খাল, ডোবা এমনকি জমির আলের ভেতর দিয়ে মানুষজন কোনোমতে যাতায়াত করত।

দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের অলিগলিতে এখন প্রশস্ত পাকা রাস্তা। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। সুদৃশ্য মসজিদ-মন্দির, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সেন্টার, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, সরকারের নানারকম উদ্যোগে বদলে গেছে এক নতুন জনপদ দাসিয়ারছড়া।

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন অফিস জানিয়েছে, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি দাখিল মাদ্রাসা, দুটি কলেজ, ডিজিটাল আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কালীর হাটে কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার, ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি মসজিদ, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মন্দির, ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটারের একটি ব্রিজ, ৭টি বক্স কালভার্ট, ৩৫টি ইউড্রেন, ১টি কবরস্থান, শ্মশানঘাট ২টি, টিউবওয়েল ৩৮৪টি, কাঁচাপাকা ল্যাট্রিন ১ হাজার ১৫০টি স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে হতদরিদ্র পরিবারের ১০টি বসতবাড়ি নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শতভাগ বিদ্যুতের সংযোগ, দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। ইউনিসেফের অর্থায়নে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি স্থাপন করেছে ১৫টি প্রাক্প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে ১৪টি মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র। সেখানকার বাসিন্দাদের দেয়া হয়েছে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও স্মার্টকার্ড।

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে চালু করা হয়েছে নানারকম উদ্যোগ। তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সেখানে ডি-সেট সেন্টার চালু করেছে আইসিটি বিভাগ। অনলাইনে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসেবা দেয়া হচ্ছে। করা যাচ্ছে ভিসা আবেদনও। এমনকি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাও চালু হয়েছে সেখানে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেকার যুব ও যুব মহিলাদের দেওয়া হয়েছে নানা পেশায় প্রশিক্ষণ।

এখানকার বাসিন্দা সলিমুদ্দি শেখ বলেন, ‘বাপ-দাদা থেকে চৌদ্দগোষ্টি এখানে আছি। কী যে কষ্ট করি আচিলোং, সেটা হামরা জানি। যকন সিটোত আচিনোং তখন কিছু আচিল নে, এলা সোউগ হইচে। আস্তা, পুল, স্কুল-কলেজ, মাদরেসা সব হইচে। বাজারোত থাকি ব্যাংকের মাধ্যমে টাহাও পাঠপার পাই। হামরা অনেক ভালো আছি।’

আব্দুর রহমান নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা আগে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারি নাই। রাস্তা ছিল না। জমির আইল দিয়ে বের হইছি। এখন কত বড় বড় সড়ক হইছে। নদী পার হইলে সাইকেল ঘাড়ে নেয়া লাগত। এখন বড় ব্রিজ দিছে সরকার। আমরা সবাই মিলে শান্তিতে আছি।’

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার মণি বলে, ‘আগে আমাদের ভাইবোনেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মিথ্যা ঠিকানা দিয়া পড়ালেখা করছে। এখন আমরা আর মিথ্যা ঠিকানা দিই না। বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে পড়ালেখা করছি। বই ও উপবৃত্তি সব পাই।’

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

দাসিয়ারছড়া সমন্বয়পাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্কুল-কলেজে এখনও বিল বেতন পাইনি। আশা করছি, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।’

মুদি ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হওয়ার আট বছর আগ থেকে আমাদের ভারত যাওয়া বন্ধ হয়। আমরা সেখানে গেলেই গ্রেপ্তার হতাম। অনেকেই জেল খেটেছে। বাংলাদেশে গেলেও জেলে যেতে হয়েছে। সেটা থেকে যেমন মুক্তি পেয়েছি, তেমনি আমাদের অনেকের ছেলের চাকরি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আনারুল ইসলামের বিজিবিতে বিনা টাকায় বিনা সুপারিশে চাকরি হয়েছে। এমন অনেকের পুলিশ, আর্মিতেও চাকরি হচ্ছে। বাংলাদেশ না হলে এটা সম্ভব হতো না। আমরা এখন গর্বের সহিত বসবাস করছি।’

আলমগীর নামে এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের অনেক সফল কৃষক আছে। কৃষি অফিস অনেক কৃষককে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিভিন্ন জাতের ধান ও সবজি চাষ করে আমাদের দাসিয়ারছাড়ায় অনেকেই এখন সফল কৃষক। সরকার আমাদের অনেক দিয়েছে।’

ছয় বছরে মামলা একটি

সাবেক ছিট মহলের পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল মান্নান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একসময়ে এই দাসিয়ারছড়ায় যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরাই বিচার-সালিশ করতাম। জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা যা আছে, সবই আমরা দেখতাম। এখন বাংলাদেশ হবার পর অনেক ভালো আছি। এই জুলাই মাস এলে ৬ বছর হবে বাংলাদেশ হবার। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ছোট কামাত গ্রামে জমি নিয়ে মারামারি হয়েছে। দুই পক্ষ থানায় গিয়ে মামলা করেছে। আমরা আবার সেটি সমাধান করে দিয়েছি। দুই পক্ষ মামলা তুলে নিয়েছে। সেই থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি এখানে।’

ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজিব কুমার রায় বলেন, ‘সেখানে আইনশৃঙ্খলা ভালো আছে। কোনো অভিযোগ থানায় আসে না। এ ছাড়া আমরা সেখানে নিয়মিত পুলিশ টহল পাঠাই। আগে একটি ফাঁড়ি ছিল। এখন সেটিও নেই। আমরা তুলে নিয়েছি।’

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

সৌহার্দ্য সম্প্রীতি

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় বাংলাদেশ অংশের দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সভাপতি আলতাফ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, যখন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হয়, তখন বাংলাদেশ থেকে ৬৫টি পরিবারের ১০৭ জন হিন্দু এবং ১০০ জন মুসলিম ভারতে যায়। তাদের আমরা সহযোগিতা করি। ভারত থেকে কেউ এখানে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কালীতলা বাজারে একটি মসজিদ আছে। তার ঠিক ১০০ গজ দূরে একটি বড় মন্দির আছে। যে যার ধর্ম পালন করছে। কোনো অসুবিধা নেই। আজানের সময় মসজিদে আজান হয় আর হিন্দু ভাইয়েরা তাদের সময়মতো পূজা করেন। আমরা মুসলিম-হিন্দু মিলে অনেক ভালো আছি। সরকার আমাদের ভালো রেখেছে।’

এখনও যে সমস্যা

দাসিয়ারছড়ায় এখনও ভূমি জটিলতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ১ হাজার ৬৪৩ একর ও সরকারি খাসখতিয়ানভুক্ত ৯ একর জমির প্রাক্ জরিপ শেষ করে খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানায় খাজনা খারিজ জটিলতা থাকায় কেউ জমি বিক্রি এবং ক্রয় করতে পারছেন না। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চান দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দারা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্যান্য ইউনিয়নের মতো এখানেও সরকারের সকল দপ্তরের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা রাস্তাঘাট অগ্রাধিকার দিয়ে করা হয়েছে। আমরা সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কাজ করেছি। এ ছাড়া পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে সরকার সব ধরনের সহযেগিত করছে। উন্নয়ন করছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে।’ জমি-সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে জানান তিনি।

বদলে গেছে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

ছিটমহল যেভাবে তৈরি হয়

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য সিরিল রেডক্লিফকে সভাপতি করে একটি কমিশন গঠন করা হয়। ওই কমিশন ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট সীমানা নির্ধারণের নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

ইতিহাস বলছে, তৎকালীন জমিদার, নবাব ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কারণে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়। রেডক্লিফের কমিশন ভারতের কোচবিহার ও রংপুর এলাকার ছিটমহলগুলোর কোনো সমাধানে আসতে পারেনি এবং ছিটমহলগুলো রেখেই সীমানা নির্ধারণ হয়।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নূন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ছিটমহল সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন। কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছিটমহল নিয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ‘মুজিব-ইন্দিরা’ স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তি দীর্ঘ সময় নানা কারণে বাস্তবায়ন না হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয়। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশ পায় এবং সবচেয়ে বড় ছিটমহল দাসিয়ারছড়া বিলুপ্ত হয়ে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়। চলতি বছরের জুলাই এলে এই চুক্তির ৬ বছর পূর্ণ হবে।

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

প্রতীকী ছবি

দেশের হাইকোর্ট একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও নাকচ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক সব সময় ধর্ষণ নয়’

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালত রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

কী আছে আইনে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ মিমাংসা করায় জটিলতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি অংশের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ এও এই ধারাটি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার ব্যাখ্যায় প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি’ আদায়ের বিষয়টিকে ‘ধর্ষণ’ বলে গণ্য করার কথা থাকলেও আদালতে ‘বিয়ের প্রলোভনকে’ প্রতারণা হিসেবে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

হাইকোর্টের রায় নিয়ে আইনজীবীদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সবার ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, প্রতারণা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন মিলন করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুইজন যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, সম্মতিতে মিলন হয়, তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না।’

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলকে বলেন, ‘আদালত ঠিক রায়ই দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে মামলা হলে সেটি ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী হিসেবে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়ে থাকে। পরে কোনো এক পর্যায়ে দেখে যে সুবিধা হচ্ছে না, তখনই মামলা মোকদ্দমা করা হয়। ধরেন কোনো পুরুষ সম্পর্কে জড়ানোর পরে যদি সে তার পছন্দসই অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখনই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে দেন। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো, এখানে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, প্রতারণা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত।’

এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে ১৬ বছর উল্লেখ আছে, এ ক্ষেত্রে এটি ১৮ বছর করা উচিত ছিল।’

রাশনা ইমাম বলেন, ‘এমনিতেই ধর্ষণের মামলা অনেকভাবে টেকে না। তার মধ্যে প্রথমত অনেক নারী অভিযোগ দায়ের করতে চান না। দ্বিতীয়ত, থানায় গেলেও দেখা যায় ভিকটিম উল্টো হয়রানি শিকার হন। তৃতীয়ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামি খালাস পেয়ে যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুরো আইনটিই সংশোধন ও সময়োপযোগী করা উচিত।’

যা বলেছে ভারতের আদালত

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট গত বছর একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে আদালত বলে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখার প্রতিটি ঘটনাকেই ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সবশেষ গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলে, একসঙ্গে থাকা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না। আদালত বলেছে, ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সম্পর্ক ভেঙে দেয়া উচিত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌনমিলনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

নিজের তৈরি ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্রের পাশে তাহের মাহমুদ তারিফ। ছবি: নিউজবাংলা

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে বাবা আব্দুস সালামের মৃত্যুর সময় অক্সিজেন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাহের মাহমুদ তারিফকে। অক্সিজেনসংকটেই মারা যান তার বাবা। এর কিছুদিন পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়; বাড়তে থাকে অক্সিজেনের চাহিদাও। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য গবেষণা শুরু করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ।

গবেষণায় সফলও হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তারিফ। করোনা মোকাবিলায় স্বল্প খরচে অক্সিজেন তৈরির জন্য ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্র তৈরি করেছে সে।

বৃহস্পতিবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে দেখায় তারিফ। টানা এক বছরের চেষ্টায় যন্ত্রটি তৈরি করতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

তারিফ বলে, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবার আগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। আহত ফুসফুস বাতাস থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহের সামর্থ্য হারাতে থাকে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এ কারণে করোনা আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হয়।’

অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তারিফ জানায়, ডায়নামো দিয়ে বাতাসকে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে ঢোকানো হয়। বাতাসে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো পৃথক করতে জিওলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। জিওলাইটের মাধ্যম বাতাস থেকে অক্সিজেনকে এক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানকে আরেক দিক দিয়ে বের করা হয়।

তারিফ জানায়, এই যন্ত্রের মাধ্যমে ২৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সংরক্ষণ করা যাবে। এটি দিয়ে একজন মানুষকে টানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যাবে। এরপর ৫-১০ মিনিট বিরতির নিয়ে আরও সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘তারিফের এ কাজে আমরা সবাই উৎসাহ দিয়েছি। প্রাথমিক সাফল্য এসেছে। এখন ল্যাব টেস্ট করা হবে। ল্যাব টেস্টে দেখতে হবে, তারিফের আবিষ্কৃত যন্ত্রে উৎপাদিত অক্সিজেনের মধ্যে বাতাসের অন্য কোনো উপাদান আছে কি না।’

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অক্সিজেন ঘাটতি ও এর জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে অল্প খরচে প্ল্যান্ট তৈরি করেছে তারিফ। বাতাস থেকে অক্সিজেন আলাদা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।’

তিনি বলেন, ‘তারিফের অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রটি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টে সাফল্য এলে বড় পরিসরে বড় প্ল্যান্ট করে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কম খরচে দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাবনার সাধারণ সম্পাদক আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৯৫-১০০ শতাংশ। এই মাত্রা ৯৩ শতাংশের কম হলে সতর্ক হতে হয় এবং ৯২ শতাংশের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন দেয়া হয়। যাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০-৯১ শতাংশে এসেছিল, এ রকম কয়েকজনকে তারিফের অক্সিজেন প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮-৯৯ শতাংশে ওঠানো সম্ভব হয়েছে বলে তারিফ জানিয়েছে।

তারিফের এই যন্ত্রের সফলতা বিশ্ববিদ্যালগুলোর ল্যাব টেস্টেও আসবে বলে আশা করছেন আকসাদ আল মাসুর।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হলো যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন গ্যাস সংগ্রহ করা। গ্যাস সংগ্রহের পরে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং শতকরা পরিমাণ বের করা। এ জন্য সংগ্রহ করা গ্যাসের শতকরা বিশুদ্ধতা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষার ফলের পরে বলা যাবে এটি রোগীর জন্য ব্যবহার উপযোগী কি না।

এ ব্যাপারে কথা হয়েছে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি জানান, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তারিফের অক্সিজেন কনসেনট্রেটরটি পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এবং ল্যাব টেস্ট করার পর যন্ত্রটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল।

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

পিরোজপুরে এক দশকে বেড়েছে কাঠের আসবাবপত্রের চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা

চমৎকার এসব কাঠের আসবাব তৈরি করে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে কর্মসংস্থান। তবে আসবাবপত্রের দোকানমালিকরা বলছেন, চাহিদা থাকলেও ঠিকমতো মুনাফা করতে পারছেন না তারা।

পিরোজপুরে এক দশকে বেড়েছে কাঠের আসবাবপত্রের চাহিদা। এই শিল্পে কাজ করে সংসার চলছে জেলার শত শত মানুষের।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে কাঠের খাট, শো-কেস, ওয়্যারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।

চমৎকার এসব কাঠের আসবাব তৈরি করে যেমন বেকারত্ব দূর হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে কর্মসংস্থান। তবে আসবাবপত্রের দোকানমালিকরা বলছেন, চাহিদা থাকলেও ঠিকমতো মুনাফা করতে পারছেন না তারা।

শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে উকিলপাড়া বা কাঁচাবাজার। এখানে দেখা মেলে সারি সারি সেগুন কাঠের আসবাব আলমারি, সোফা, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল-চেয়ারে সাজানো দোকানগুলোর।

দোকানের পেছনেই রয়েছে আসবাস তৈরির কারখানা। বছর জুড়েই চলে আসবাব তৈরির কাজ। কারখানাগুলোতে দিনভর চলে হাতুড়ি কিংবা করাত দিয়ে কাঠ কাটার শব্দ।

পদ্মা ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী প্রিন্স দেউড়ী বলেন, ‘আমাদের এই বাজারে সেগুন কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা বেশি। শতভাগ সেগুন কাঠের ফার্নিচার তৈরি হয় আমার কারখানায়।’

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

তিনি জানান, সেগুন কাঠের জোগান আসে সুন্দরবন ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে। জোত পারমিট ও বন বিভাগের নিলাম ডাকের মাধ্যমে কাঠ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে বড় গাছ কেনাবেচার হাট স্বরুপকাঠি থেকেও বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় ক্রেতাদের পছন্দের মতো আসবাব।

প্রিন্স দেউড়ী জানান, স্থানীয় ক্রেতাদের চেয়ে বেশি ক্রেতা ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। আসবাব তৈরির পর বিভিন্ন পরিবহনে ক্রেতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

শুধু শহরে নয়, এভাবে কাঠের তৈরি শত শত কারখানা গড়ে উঠেছে পুরো জেলায়। তবে উপজেলা পর্যায়ের আসবাবের দোকান ও জেলা শহরের আসবাবের দোকানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো দামের।

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

জেলা শহরে প্রতি ঘনফুট সেগুন কাঠের দাম পড়ে মানভেদে ১৫০০-৩৫০০ টাকা। আর উপজেলা পর্যায়ে ১২০০-২৬০০ টাকায় একই মানের সেগুন কাঠ পাওয়া যায়। এ কারণে ক্রেতারা গ্রামপর্যায়ের দোকান থেকে বেশি আসবাব সংগ্রহ করেন।

কাঠমিস্ত্রি প্রিন্স দেউড়ী আরও জানান, কাঠ ও রঙের দাম বেশি হওয়ায় আসবাবপত্র বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে নিম্নমানের আসবাবও বাজারে আসায় দাম দিয়ে কিনছেন না ক্রেতারা। তাই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্প সুদে সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প বাঁচতে পারে।’

কাঠশিল্পের সংগঠন শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় কমপক্ষে ৪৩২টি কাঠের আসবাব তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব আসবাবপত্রে দারুণ কাজ ও নকশা থাকায় দ্রুত বাড়ছে আসবাবপত্রের কদর।

কাঠের আসবাবে চলছে সংসার

কাঠ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গঠন হয়েছে পিরোজপুর কাঠশিল্প শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনটির সভাপতি আশিষ দাস বলেন, ‘কাঠ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমরা সব সময় কাছ করছি। সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি বাইরের নিম্নমানের আসবাব যেন কেউ বিক্রি করতে না পারে। তাহলে আমরা বাঁচবো, শ্রমিক বাঁচবে।’

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘জেলায় কাঠশিল্পের দোকানগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। স্বল্প সুদে শ্রমিকদের ব্যাংক ও এনজিওগুলো আর্থিক সহযোগিতা করবে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

একই সঙ্গে মজার এবং নির্মম বিষয় হলো, ব্যান্ডটির কোনো লাইনআপ নেই। কারণ, ব্যান্ড-সদস্যদের অনেকেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান বা অন্য কোনো কারাগারে চলে যান। আবার অনেকেই নতুন করে যুক্ত হন ব্যান্ডে। এভাবেই লাইনআপ ছাড়া চলছে ব্যান্ডটি।

ডিসেম্বর, ২০১৮…

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ কয়েদিদের জন্য কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে। যার মধ্যে ছিল একটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটার, এক জোড়া তবলা, একটি হারমোনিয়াম, একটি বাঁশি এবং একটি টাম্বুরিন। উদ্দেশ্য, কয়েদিদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা। কেউ নিশ্চিত ছিলেন না, এর ফল কী হতে যাচ্ছে।

তিন বছর পর…

একটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটারের জায়গায় এখন চারটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটার। আর হারমোনিয়াম তিনটি, বাঁশি পাঁচটি। এসেছে একটি বৈদ্যুতিক কি-বোর্ড ও একটি ড্রাম প্যাড। রেকর্ডিংয়ের জন্য এখন একটি মাইকও আছে। আছে একটি এমিপ্লিফায়ার ও এক জোড়া স্পিকার।

ব্যান্ডের জন্ম…

সবাইকে অবাক করে দিয়ে একটি অসাধারণ ফল বেরিয়ে এসেছে এই উদ্যোগ থেকে। জন্ম নিয়েছে একটি ব্যান্ড। তার নাম ‘কাকতাল’। ব্যান্ডের সদস্যরা সবাই কারাবন্দি এবং এদের কেউই পেশাদার ছিলেন না। ফেলে আসা জীবনের কিছু অংশে তারা সংগীতে আগ্রহী ছিলেন।

ব্যান্ডটির এখন ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে গানও রয়েছে অনেকগুলো। সব কটি গানের কথা ও সুর করেছে কাকতাল ব্যান্ডের সদস্যরা।

ব্যান্ড সদস্য…

গোলাপ শাহীন (ভোকাল), আরমান (ভোকাল/গিটার), তরঙ্গ জোসেফ কস্তা (গিটার), প্রান্ত (ভোকাল/কী-বোর্ড), কাজল (ভোকাল/গিটার), মামুন (হারমনিয়াম), নাসির (তবলা), দেলোয়ার (বাঁশি/কি-বোর্ড), তারিফ (বাঁশি), জীবন (ভোকাল), পারভেজ (ড্রাম প্যাড/ভোকাল), জয়দেব (ভোকাল/ড্রাম প্যাড), সাদি (গিটার), রুমাত (গিটার/ভোকাল), আসিফ (গিটার/ভোকাল)।
ব্যান্ড কাকতাল: জেলখানায় জন্ম যার

এরা ছাড়াও অনেকেই তাদের সৃজনশীলতা এবং মেধা দিয়ে এই ব্যান্ডকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে ‘কাকতাল’ প্রতিষ্ঠায় যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন আসিফ ইকবাল। তিনিও কারাবন্দি।

একই সঙ্গে মজার এবং নির্মম বিষয় হলো, ব্যান্ডটির কোনো লাইনআপ নেই। কারণ, ব্যান্ড-সদস্যদের অনেকেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান বা অন্য কোনো কারাগারে চলে যান। আবার অনেকেই নতুন করে যুক্ত হন ব্যান্ডে। এভাবেই লাইনআপ ছাড়া চলছে ব্যান্ডটি।

ইউটিউবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল জেল, কেরানীগঞ্জ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে চর্কি নামের একটি গান রয়েছে। সেই গানের ডিটেইলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বিষয়টি যাচাই করতে নিউজবাংলা কথা বলে সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষের সঙ্গে। তিনি চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে পিন্টু ঘোষ বলেন, ‘হ্যাঁ। সেখানে একটি ব্যান্ড রয়েছে, যার নাম কাকতাল। ব্যান্ডের সবাই কারাবন্দি। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মুগ্ধ তাদের সঙ্গে কথা বলে। সবচেয়ে যে জিনিসটি ভালো লেগেছে সেটা হলো, জীবন নিয়ে তাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।’

পিন্টু ঘোষ আরও বলেন, ‘কারাগারে অনেক মেধাবীও আছেন কিন্তু। তাদের লেখা গান বা সুর শুনলে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। এটা বন্দিরাও বলে যে, ভালো চিন্তা করলে ভালো কিছু করা যায়। তাদের ইচ্ছা, কারগার থেকে বের হয়ে কাজ করবেন, পরিশ্রম করে জীবন সাজাবেন।’

পিন্টু ঘোষ জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য সে-ই একদিনই কারাগারে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানের পর কিছু কথা হয়েছে কারাবন্দিদের সঙ্গে। আয়োজন দেখে ভালো লেগেছে তার।

বিষয়টি জানতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুভাষ কুমার ঘোষের সঙ্গেও কথা বলে নিউজবাংলা।

সুভাষ কুমার ঘোষ নিউজবাংলাকে ব্যান্ডের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিতে পারলেও কেন্দ্রীয় কারাগারে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কাজের বেশ কিছু তথ্য দেন।

সুভাষ কুমার বলেন, ‘আমি এখানে ৯ মাস হলো জয়েন করেছি। তার আগে থেকেই কারাগারে সাংস্কৃতিক কাজ হয়ে আসছিল। যারা সংগীতের যে জায়গায় ভালো, তারা সেই কাজটি করে। কারাগারে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাইরের শিল্পীদের পাশাপাশি কয়েদিদেরও গানসহ অন্যান্য মননশীল কাজে যুক্ত করার সুযোগ দেয়া হয়।’

সুভাষ কুমার ঘোষ আরও বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মননচর্চা কেন্দ্র বলে একটি জায়গা রয়েছে। যারা সৃজনশীল কাজে আগ্রহী, তারা সেখানে গিয়ে তাদের সেই কাজগুলোর বিকাশ করতে পারে।’

সুভাষ কুমার জানান, দেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় ঢাকায়ই এই কাজগুলো বেশি হয়। কারণ, এখানে কাজের পরিধি বেশি, জায়গাও বড়, কয়েদির সংখ্যাও বেশি।

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অবনতিতে ধুঁকছে ঢাকা

স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অবনতিতে ধুঁকছে ঢাকা

ইআইইউ বলছে, ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা মানের অবনতি হয়েছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) দুটি বছরের তালিকার তুলনা করলে দেখা যায়, স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো ছাড়া প্রতিটি মানদণ্ডেই ঢাকার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। অবনতি ঘটা মানদণ্ডগুলো হলো, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ‘বসবাসযোগ্য শহর’ এর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এবার ১৩৭।

বিশ্বে বসবাসযোগ্য ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ), সেটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে দুই বছরের ব্যবধানে ঢাকায় স্থিতিশীলতা এবং অবকাঠামোগত সেবা অপরিবর্তিত আছে। বাকি সব মানদণ্ডেই অবনতি ঘটেছে এই শহরের।

অবনতি ঘটা মানদণ্ডগুলো হলো, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং শিক্ষা। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ‘বসবাসযোগ্য শহর’ এর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এবার ১৩৭।

ঢাকার নিচে রয়েছে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোর্সবি, নাইজেরিয়ার লাগোস ও সবশেষে সিরিয়ার দামেস্ক।

ইআইইউর বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ড। এর পরের অবস্থানে জাপানের ওসাকা। তৃতীয় অবস্থানে আছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড।

কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে 'দ্য গ্লোবাল লিভাবিলিটি ইনডেক্স ২০২১' প্রকাশ করেছে ইআইইউ। এগুলো হলো স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।

সূচকে এবার ১৩৭ নম্বরে থাকা ঢাকার মোট পয়েন্ট ৩৩.৫। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকা পেয়েছে ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে স্বাস্থ্যে ১৬.৭, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩০.৮, শিক্ষায় ৩৩.৩ ও অবকাঠামোতে ২৬.৮ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।

২০১৯ সালে এ তালিকার ১৩৮ নম্বরে ছিল ঢাকা, তার আগের বছর বাংলাদেশের রাজধানী তালিকার ১৩৯ নম্বরে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি ইআইইউ।

২০১৯ সালের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেবার ঢাকার সামগ্রিক পয়েন্ট ছিল ৩৯.২। মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতায় ঢাকা পেয়েছিল ৫৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে স্বাস্থ্যে ২৯.২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০.৫, শিক্ষায় ৪১.৭ ও অবকাঠামোতে ছিল ২৬.৮ পয়েন্ট। দুটি বছরের তুলনা করলে দেখা যায় স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামো ছাড়া প্রতিটি মানদণ্ডেই ঢাকার পরিবেশের অবনতি ঘটেছে।

এবারের তালিকায় বাসযোগ্য শহরের শীর্ষে থাকা অকল্যান্ডের পয়েন্ট ৯৬। শহরটি স্থিতিশীলতায় ৯৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৯৫.৮, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৯৭.৯, শিক্ষায় ১০০ ও অবকাঠামোতে ৯২.৯ পয়েন্ট পেয়েছে।

ইআইইউ বলছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দিতে শহরগুলো কতটা সক্ষম ছিল, সেটি জরিপে এবার অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহর কোভিড ১৯ এর ধাক্কা অল্প সময়ের মধ্যেই সামলে নিয়েছে এবং এই শহরের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক।

করোনা মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের কৌশলের প্রশংসা করে ইআইইউ বলছে, করোনা মাহামারির শুরুতেই সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া এবং আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকায় দেশটি প্রেক্ষাগৃহ, রেস্তোঁরা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক আকর্ষণ উন্মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়।

অকল্যান্ডে শিক্ষার্থীরা শতভাগ স্কুলে যেতে পারায় শহরটি শিক্ষা সূচকে ১০০ স্কোর পেয়েছে। এর ফলে অকল্যান্ড তার আগের ষষ্ঠ অবস্থান থেকে তালিকার প্রথমে উঠে গেছে। একই কারণে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনও আগের ১৫তম অবস্থান থেকে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।

আর জোরাল স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে জাপানি শহর ওসাকা ও টোকিও যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ স্থান পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

লাচ্ছির নাম ‘এলাহীর শরবত’

লাচ্ছির নাম ‘এলাহীর শরবত’

এলাহী তালুকদারের লাচ্ছির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে মাদারীপুরজুড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

গরুর দুধ, পেঁপে, কলা, দই, চিনি আর বরফ দিয়ে লাচ্ছি বানান মাদারীপুরের এলাহী তালুকদার। ক্রেতাদের কাছে দাম রাখেন ৩০ টাকা। লাচ্ছি বিক্রি করেই মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয় এলাহীর। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে আগের দোকানের পাশেই নতুন আরেকটি দোকান করেছেন তিনি।

অভাব-অনটনের কারণে ৩০ বছর আগে ভিটেমাটি ছেড়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে মাদারীপুরে শিবচরে আসেন এলাহী তালুকদার। জীবিকার তাগিদে ফেরি করে আচার বিক্রি শুরু করেন তিনি।

১৩ বছর আচার বিক্রির পর ২০০৪ সালে শিবচর বাজারের সিনেমা হল এলাকায় একটি শরবতের দোকান দেন এলাহী। সেখানে এক ধরনের বিশেষ লাচ্ছি বানান তিনি। ‘এলাহীর শরবত’ নামে পরিচিত এই লাচ্ছিটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে মাদারীপুরজুড়ে।

গরুর দুধ, পেঁপে, কলা, দই, চিনি আর বরফ দিয়ে লাচ্ছি বানান এলাহী তালুকদার। ক্রেতাদের কাছে দাম রাখেন ৩০ টাকা। লাচ্ছি বিক্রি করেই মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয় এলাহীর। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে আগের দোকানের পাশেই নতুন আরেকটি দোকান করেছেন তিনি।
লাচ্ছির নাম ‘এলাহীর শরবত’

প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মাদবরের চর, বন্দরখোলা, সন্যাসীর চর, চান্দের চর এবং শেখপুর বাজার থেকে দুধ, কলা, পেঁপে, বেল, দেশি হাঁস-মুরগির ডিম সংগ্রহ করেন এলাহী তালুকদার।

বিকেল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দোকানে বসে ব্লান্ডারের সাহায্যে শরবত তৈরি করেন। শুধু শরবতই নয়, তার দুই দোকানে সিদ্ধ ডিম, পাউরুটি, দই চিড়াও বিক্রি হয়।

ব্যবসার চাপ বাড়ায় দুই দোকানে অতিরিক্ত চার কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। আগামীতে ব্যবসা আরও বাড়িয়ে সেখানে তিনি ফালুদা বিক্রি করবেন বলেও জানান এলাহী।

বিয়ে, জন্মদিন, নানা সামাজিক অনুষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় নানা অনুষ্ঠানেও ডাক পড়তে শুরু করেছে এলাহীর শরবতের। তার তৈরি দইও এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে শিবচরসহ শরীয়তপুরের জাজিরা, মাদারীপুর সদর ও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানুষের কাছে।

এলাহী তালুকদারের দোকানে শরবত খেতে আসা মাদারীপুর সদরের কলাগাছীয়ার মনোজ তালুকদার বলেন, ‘প্রতিদিনই আমি এলাহী ভাইয়ের দোকানে আসি। কোনোদিন শরবত খাই আবার কোনো দিন দই চিড়া। এখানে গ্রামের খাঁটি জিনিস পাওয়া যায়। তাই রেগুলার আসি।’

৩০ বছর আগের সেই অভাব আর নেই এলাহী তালুকদারের। শিবচর পৌরসভার ডিসি রোড এলাকায় ছয় শতাংশ জমি কিনে গড়েছেন নতুন বসতি।

এলাহী বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে তার সঙ্গেই ব্যবসায়। ছোট ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে পড়ছেন।

এলাহী তালুকদার বলেন, ‘একসময় অনেক কষ্ট করছি। দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া আচার বিক্রি করতাম।

‘কষ্ট করছি। তাই আজ ভালো আছি।’

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন

দেনায় ডুবছে বিমান

দেনায় ডুবছে বিমান

বেবিচক ও পদ্মা অয়েলের কাছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বকেয়া ৬ হাজার কোটির বেশি। দীর্ঘদিন বকেয়া ফেলে রাখায় মাশুল বেড়ে টাকার অঙ্কও বেড়েছে। 

করোনাভাইরাসে এমনিতেই বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তার ওপর চেপে বসেছে দেনার বোঝা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিভিন্ন ফি ও পদ্মা অয়েলের কাছ থেকে জ্বালানি কেনা বাবদ প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ছাড়িয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা।

বেবিচক ও পদ্মা অয়েল বলছে, সম্প্রতি বিমান বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও তা নিতান্তই কম।

বেবিচকের চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক হিসাবে দেখা যায়, দেশি এয়ারলাইনসগুলোর কাছে বিভিন্ন ফি বাবদ প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ৫ হাজার ১৮৯ কোটি ৯৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ টাকা। এর মধ্যে বিমানের কাছেই প্রতিষ্ঠানটি পাবে ৪ হাজার ৩১৫ কোটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৫ টাকা। অবশিষ্ট টাকা পাওনা আছে পাঁচ বেসরকারি এয়ারলাইনসের কাছে। এর মধ্যে তিনটির দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যক্রম নেই।

চালু থাকা দুই বেসরকারি এয়ারলাইনস নভো এয়ার এবং ইউএস-বাংলার কাছে বেবিচকের পাওনা ২০ কোটি ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৭ টাকা। আর বন্ধ থাকা রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার এবং জিএমজি এয়ারের কাছে বেবিচক পাবে ৮৫৪ কোটি ৭৪ লাখ তিন হাজার ৭১৪ টাকা।

সাধারণত দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও আকাশে উড্ডয়নের সময় রাডার ও নেভিগেশন সেবা, বিমানবন্দর ব্যবহার, বিমানবন্দরে পার্কিং ও হ্যাঙ্গার, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিধানসহ এয়ারলাইনসগুলোকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে বেবিচক। এ ধরনের অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল সেবার জন্য নির্দিষ্ট হারে মাশুল দিয়ে থাকে এয়ারলাইনসগুলো।

নির্দিষ্ট সময়ে মাশুল দিতে ব্যর্থ হলে এয়ারলাইনসকে দিতে হয় ৭২ শতাংশ সারচার্জ। বেবিচকের টাকা দীর্ঘদিন পরিশোধ না করায় চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েছে বিমানের সারচার্জ।

মূল বকেয়া ৯২০ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ২৬৬ টাকা। চক্রবৃদ্ধি হারে এ টাকায় সারচার্জ এসেছে ৩ হাজার ১২৮ কোটি ২৪ লাখ ৭ হাজার ৫৮৪ টাকা।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বিমান বকেয়া শোধের উদ্যোগ নিলেও সেটা নিতান্তই কম।

তিনি বলেন, ‘যে এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইটে আছে (যেমন: বিমান, তারপরে ইউএস-বাংলা এবং নভো এয়ার) অবশ্য টাকা দিয়ে যাচ্ছে ভালো। বিমানও দিচ্ছে। কিন্তু তাদের দেয়ার পরিমাণটা অনেক কম। আমরা তাদের কাছে যে পরিমাণ টাকা পাব, তার চেয়ে অনেক কম তারা দিচ্ছে।’

এদিকে এয়ারলাইনসের জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের কাছেও বিপুল পরিমাণে টাকা বাকি পড়েছে বিমানের।

পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের কাছে এভিয়েশন ফুয়েল বা জেট ফুয়েলের দাম বাবদ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা পাবে তারা।

পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, সম্প্রতি কিস্তিতে পাওনা শোধ করা শুরু করেছে বিমান। তিনি বলেন, ‘বিমানের প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার মতো বাকি আছে। পাওনা দিতে তারাও চেষ্টা করছে। আপনারা তো জানেন তাদের অবস্থা। ফ্লাইট বন্ধ, আয় কমে গেছে।

‘তারপরেও তারা নতুনভাবে যেটা নিচ্ছে, সেগুলো তারা নিয়ম মেনেই পরিশোধ করছে। আর বকেয়া টাকা তারা কিস্তিতে শোধ করছে। তারা চেষ্টা করছে শোধ করার। তবে বিমান ছাড়া অন্য কোনো এয়ারলাইনসের কাছে কোনো বাকি নেই। অন্যরা সময়মতোই টাকা শোধ করেছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকেই একের পর এক সংকুচিত হয়ে এসেছে বিমানের আকাশ। এর ফলে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশই ব্যবহার করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

তার ওপর প্রতিনিয়তই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও লিজের টাকা শোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফ্লাইট না চালিয়েও গুনতে হচ্ছে এয়ারপোর্ট পার্কিং ফিসহ সরকারের অন্যান্য মাশুল।

বিমানের বহরে বর্তমানে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে নিজস্ব ১৫টি আর ভাড়ায় আনা হয়েছে ছয়টি।

নিজস্ব উড়োজাহাজের মধ্যে আছে ছয়টি বোয়িং সেভেন এইট সেভেন ড্রিমলাইনার, চারটি ট্রিপল সেভেন, দুটি সেভেন থ্রি সেভেন ও তিনটি ড্যাশ এইট মডেলের উড়োজাহাজ। ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে চারটি সেভেন থ্রি সেভেন ও দুটি ড্যাশ এইট।

সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার আগে উড়োজাহাজের দৈনিক গড় ব্যবহার ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ ঘণ্টায়। আন-অডিটেড হিসাবে গত বছরের এপ্রিল থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিমানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি টাকা।

পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা অয়েলের কাছে যে বকেয়া আছে, সেটাকে আমরা আমাদের আয় থেকে প্রতি মাসে কিছু কিছু করে অ্যাডজাস্ট করে দিচ্ছি। এখন নতুন করে আমরা যে জ্বালানি তাদের কাছ থেকে নিচ্ছি, সেগুলো কিন্তু আমরা বাকি রাখছি না।’

তিনি বলেন, ‘বেবিচকের বিষয়টি হচ্ছে তাদের সাথে কিছু লিজ এগ্রিমেন্ট আছে; কিছু রেন্ট এগ্রিমেন্ট আছে। এগুলো অনেকদিন ধরেই আছে। এখন লিজ এবং রেন্টের বিষয়টি নিয়ে কখনো কখনো সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দিয়েছে। লিজ হলে এক রকম আর রেন্ট হলে রেটটা আরেক রকমভাবে নির্ধারিত হয়।

‘সেটা আমরা এক রকম করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। সেটার জবাব আসলে তখন আমরা অ্যাডজাস্ট করব।’

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এককথায় বলতে গেলে সবগুলো এগ্রিমেন্টই লিজ। কিন্তু তারা কোথাও কোথাও রেট হিসেবে দেখিয়েছে। সে হিসেবে টাকা দবি করেছে। আমরা এটা একটা ইউনিক ফর্মে আনতে চাচ্ছি।

‘সেটা কয়েক জায়গায় অ্যাড্রেস করা হচ্ছে। এটা এক রকম হয়ে গেলে আমরা লিজ মানি হলে লিজ মানি দেব, রেন্ট হলে রেন্ট দেব। পুরো বিষয়টির একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচল পাঁচ বছরে

শেয়ার করুন