চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রূপ বদলে দিয়েছে ফুল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। হলুদ আর নীলচে বেগুনি ফুলে ছেয়ে আছে ব্যস্ত মহাসড়ক।

মহাসড়ক বেয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছে বাস-ট্রাক, পিকআপ। এক পাশ দিয়ে যাচ্ছে। আরেক পাশ দিয়ে আসছে। মাঝে সড়ক বিভাজক।

কুমিল্লা অংশের মহাসড়ক বিভাজকে এখন ফুলের মেলা। মনোমুগ্ধকর হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুলে বিমোহিত পথচারী, যাত্রী ও চালকরা। সেই সাথে লাল কৃষ্ণচূড়া-পলাশ, রাধাচূড়া, কদম ফুলে মন জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে গাছগুলো। ডালে ডালে হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুল দোল খাচ্ছে। পথচারী ও বাহন চালকেরা এসব গাছের ছায়ার বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। পাখির কলকাকলিতে মুখর সড়ক।

মহাসড়কের কুমিল্লার আলেখারচর এলাকায় ট্রাক থামিয়ে সড়ক বিভাজকের ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ট্রাকচালক আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভাই কী কমু, খুবই সুন্দর লাগে ফুলডি। যহন টেরাক চলাইয়া যাই, ফুলডি দেখলে মনে একটা শান্তি শান্তি লাগে।’

যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার হয়ে যায় সারোয়ার হোসেনের। গনগনে রৌদ্র। চাকা সারাইয়ের কাজ শেষ করে সড়ক বিভাজকের সোনালু ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। বলেন, ‘ফুলগাছডির লাইগা হাইওয়েডারে অহন বিদেশ-বিদেশ লাগে। মনে হয় অন্য দেশের রাস্তায় গাড়ি চালাইতেছি।’

বাসচালক আবদুল মুমিন বলেন, ‘এই গাছডি একদিক দিয়া ফুল ফুইট্টা সুন্দর হয়। আরেক দিক দিয়া আমড়ার লাইগা উপকারী। ফুলগাছডির লাইগা রাইতের বেলা রোডের একদিকের আলো আরেক দিকে আইয়ে না।’


চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া পর্যন্ত হাইওয়ের ১০৪ কিলোমিটার কুমিল্লা জেলার। মহাসড়কের বিভাজকটি এখন ফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ‘নিঃসন্দেহে ফুলগাছ ও গাছের ফুলগুলো এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে। ক্লান্ত শ্রান্ত হলে এই ফুলগাছগুলো আমাদের চোখেমুখে শান্তির প্রলেপ মেখে দেয়।’


চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেচ্ছা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে যে সোনালু-কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে তা সত্যি নান্দনিক। তবে আমার পরামর্শ থাকবে মহাসড়কের বিভাজকে গুল্মজাতীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ রোপণের, যেগুলো ডালপালা মেলে না।

‘পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের মাটিতে নাইন-ও-ক্লক, গন্ধরাজ ফুলও লাগানো যেতে পারে। আর মহাসড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে কৃষ্ণচূড়া, হিজল, কদম, চালতা, বকুলগাছ রোপণ করা উচিত। এই গাছগুলো ডালপালা মেলে। সড়কের পাশে এই বৃক্ষগুলো রোপণ করলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না।’

আরও পড়ুন:
জল-সবুজের শহর

শেয়ার করুন

মন্তব্য