‘তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই’

‘তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নিউজবাংলার বিশেষ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান করেছে নিউজবাংলা।

‘তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই’ শিরোনামে শুক্রবার রাত ১০টায় এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থা চলার সময়ে ২০০৭ সালের ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে দেশে ফিরতে বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েও সফল হয়নি সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এরপর আরও দুই দফা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান শেখ হাসিনা।

নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজনে দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুকন্যার দক্ষ ও কুশলী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আলোচকেরা।

শেখ হাসিনা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ২০০৭ সালের পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, ‘সেই সময়টায় সেনাশাসিত একটা সরকার চেপে বসেছিল এবং শেখ হাসিনার মতো একজন নেত্রী যদি দাঁড়িয়ে না যেতেন তাহলে সেটা হয়ত মিয়ানমারের মতো চলতেই থাকত। আরো অনেক অঘটন আমাদের এই দেশে দেখতে হতো। আমি খুব কাছে থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি। তার সঙ্গে কাজ করেছি সেই সংকটকালে। তিনি ফিরে এলেন ২০০৭ সালে। তার কিছুদিনের মধ্যেই দেখলাম ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তিনি গ্রেপ্তার হলেন।’

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘জেলখানা থেকেও আমাদের সঙ্গে তার (শেখ হাসিনা) যোগাযোগ হতো এবং সেই সময়ে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি যে দিন বদলের সনদ তৈরি করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা জড়িত ছিলাম। তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে, ভবিষ্যতের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যাবেন সেসব বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছিলেন এবং নোট রাখছিলেন।

‘আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সুবিবেচনা দেখেছি। আমাদের বড়ই সৌভাগ্য যে এমন একজন নেত্রীকে আমরা পেয়েছি যিনি মানুষকে প্রধান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং তার সেই রূপকল্পের কথা, সেই রূপকল্পই শুধু নয়, তিনি আরও ভবিষ্যৎ দেখছেন, আরও অনেক দূর দেখতে পান শেখ হাসিনা। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তিনি ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়বার স্বপ্ন দেখছেন। যখন তিনি বিরোধী দলে ছিলেন তখনও তিনি এই সব বিষয় নিয়ে ভাবতেন।’

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমার বড়ই সৌভাগ্য হয়েছিল যে শুধু সেই দিন বদলের সনদ প্রণয়নের কথা না, পরবর্তীকালে তার সঙ্গে অর্থনৈতিক টিমে কাজ করবার। তিনি আমাদেরকে তার সেই যাত্রায় যুক্ত করেছিলেন এবং বাংলাদেশের যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সেটি তারই নির্দেশনায় এগিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি জনমুখী, মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক করার পুরো প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন।’

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ আজকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে। আমাদের প্রবাস আয় গত ১০ মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক দূর দেখতে পান। এবং সেই দেখতে পান বলেই তিনি কয়েকটি বিষয়ের উপরে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং আমার ধারণা আগামীতেও সেই গুরুত্বটি বজায় থাকবে।

‘২০০৮ সালে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে ডিজিটাল করবেন। সেখান থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং আগামী দিনের অর্থনীতি হবে ডিজিটাল, আগামী দিনের সমস্ত বিকাশ হবে ডিজিটাল এবং সেটার সূত্রপাত কিন্তু তিনিই করেছেন।’

মেগা প্রকল্পের উল্লেখ করে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘ইনফাস্ট্রাকচার যে দরকার এবং পদ্মা সেতু কী প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে সেই সাথেও আমরা জড়িত ছিলাম। আমরা দেখছি একজন সাহসী নেত্রী কেমন করে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি একটি প্রকল্পে বলেছেন যে, আপনাদের (বিশ্বব্যাংক) কোনো টাকা লাগবে না। আমরা আমাদের অর্থ দিয়েই এটা তৈরি করব এবং তিনি সেটা তৈরি করে দেখাচ্ছেন। এখন পদ্মা সেতু দৃশ্যমান।

‘একই সঙ্গে স্পেশাল ইকোনমিক জোন তিনি করেছেন। এই স্পেশাল ইকোনোমিক জোনগুলোর দিকে নজর দিলেই আমরা বুঝতে পারবো এগুলো বাংলাদেশের চেহারা বদলে ফেলবে।’

বঙ্গবন্ধুর গুণাবলি শেখ হাসিনার মাঝে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমি সেই দিনটির কথা ভুলতে পারব না। সেদিন সকালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তখনও আমরা জানি না এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা আসছে বা আরোপ হয়েছে। সেনা সদর থেকে একজন বিগ্রেডিয়ার টেলিফোন করে খুব রূঢ় ভাষায় বলতে চাইলেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের কোনো প্রতিবাদ, কোনো ধরনের কোনো আন্দোলনে যাবেন না। আপনাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈমিত্তিক কাজের মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখবেন।’

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরেই খবর আসতে শুরু করল যে, শেখ হাসিনাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই অনুযায়ী একটি প্রেসনোট জারি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এবং শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলছেন যে, এটি আমার আধিকার, আমি আমার দেশে ফিরে যাব, এবং দেশে ফিরে যাওয়ার পরে যদি তারা মনে করে আমার কোন অপরাধ আছে, তারা আমাকে জেলে দেবে, বিচার করবে। কিন্তু তারা আমাকে আমার দেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে না।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে বাধ্য হয়েছিল উল্লেখ করে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘২০০৭ সালের ৭ মে তারিখে তিনি দেশে ফিরে আসলেন। সে দিন বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনার বাসভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে লোকে-লোকারণ্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। ঠিক যে রকম দৃশ্য আমরা দেখেছিলাম ১৯৮১ সালে ১৭ মে তার প্রথম স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়।’

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘নেতৃত্বের গুণাবলির মাঝে আছে দূরদর্শিতা, দূরদৃষ্টি, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, বুঝতে পারা যে কীভাবে দেশকে ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তার সঙ্গে থাকতে হবে মানবিক সংবেদনশীলতা, মানবতাবোধ, মানুষকে ভালোবাসা। যেটি বঙ্গবন্ধুর মাঝে দেখেছি আমরা সব সময় এবং স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মাঝেও এই গুণগুলোই আমরা দেখতে পাই।’

নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের যাত্রা। টানা তিন মেয়াদে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ এখন আর স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ নয়; এখন উন্নয়নশীল দেশ।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন রূপকল্প ২০২১। সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার।

‘যে বাংলাদেশ এক সময় পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্রপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল; অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময়। এটা কেবলই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী এবং জাদুকরি নেতৃত্বের কারণে।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে এই ১২ বছরে। অনেক ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে গেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এখন ব্যাপক আলোচিত। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের এই সাফল্যের কথা দেশি-বিদেশি মানুষকে শোনান।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। ২০০৮-৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ধারাবাহিক অগ্রগতির পথ ধরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি। গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর চার বছরে এই হার ছিল ৭ শতাংশের উপরে।

‘তবে কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে, যা সারা দুনিয়াতেই কমেছে। তারপরেও বাংলাদেশে সেটা ছিল ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাথাপিছু আয়। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২০৬৪ ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৭৫৯ ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক যুগে মাথাপিছু আয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

‘অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি বেশ কিছুদিন ধরে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এখন তা কমে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে।’

রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয়। প্রতিবছরই বাড়ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। এমনকি, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটের আকার যেমন বেড়েছে, রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও তেমনি বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

‘কৃষিতেও সরকারে সাফল্য ঈর্ষণীয়। মহামারিতে বিভিন্ন খাতের ক্ষতি হলেও কৃষি খাতের তেমন ক্ষতি হয়নি আমাদের দেশে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমতে থাকাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতির মধ্যেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টায় বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। এগুলো সবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) ফিরে এসেছেন বলেই আমরা আজ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আজকে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। আমি নিজের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি, আমরা আগে যখন বিদেশে ট্রাভেল করতাম তখন আমাদের পাসপোর্ট একটা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হতো। আর এখন আমরা যখন ট্রাভেল করি, বিভিন্ন দেশে যাই, অন্য দৃষ্টিতে আমাদের দেখে। আমাদের এখনকার আইডেন্টিটি অনেক সম্মানের। শুধুমাত্র তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

‘আজকে নতুন বাংলাদেশের যে উন্নয়ন পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল…। আমি যখন আমার অফিসে বসি তখন জানাল দিয়ে দেখতে পাই ঢাকায় আট লেনের সড়ক হয়েছে। এটা কোনোদিন চিন্তা করা যায়নি। যদি তিনি না আসতেন তাহলে এগুলো স্বপ্নের মতো থেকে যেত। এই বাংলাদেশকে তার বাবা দিয়ে গিয়েছিলেন, আর নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা।’

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক দেশে সফর করার সুযোগ পেয়েছি। যে সম্মান আজকের বিশ্ব নেতৃত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেয়, সেটা তিনি অর্জন করে নিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজের চেয়ার থেকে উঠে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে কথা বলেছেন। এই সম্মানের জায়গায় বাংলাদেশকে তিনি এনে দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

মারা গেল মুন্সীগঞ্জে দগ্ধ ভাই-বোন

মারা গেল মুন্সীগঞ্জে দগ্ধ ভাই-বোন

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘দুই শিশু মারা গেছে। ভাই ইয়াছিন মারা গেছে রাত পৌনে ৮ টার দিকে। আর বোন নুহু আক্তার মারা গেছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। মরদেহ বার্ন ইউনিট মর্গে রাখা হয়েছে, বিষয়টি মুন্সিগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে। দগ্ধ দম্পতির অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মুন্সীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে। এরা সম্পর্কে ভাই-বোন।

বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার মোক্তারপুর এলাকার একটি ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হলে রাতে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো ছয় বছরের ইয়াসিন ও তিন বছরের নুহু আক্তার।

ইয়াসিনের শরীরে ৪৪ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তার ছোট বোন নুহু ৩২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘দুই শিশু মারা গেছে। ভাই ইয়াছিন মারা গেছে রাত পৌনে ৮ টার দিকে। আর বোন নুহু আক্তার মারা গেছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। মরদেহ বার্ন ইউনিট মর্গে রাখা হয়েছে, বিষয়টি মুন্সীগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে। দগ্ধ দম্পতির অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ কাউসার ও তার স্ত্রী শান্তা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকেন। ওই বাসাতেই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাউসারের ভগ্নিপতি মাসুদ মিয়া বলেন, কাউসার শাহ সিমেন্টের জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। আমাদের ধারণা সিগারেটের আগুন বা কোয়েলের থেকে আগুন ধরতে পারে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবু ইউসুফ জানান, হাজী জয়নালের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে কাউসারের ফ্ল্যাটের রান্না ঘরে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রান্নাঘর ও অন্য দুটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দগ্ধ হন কাউসারসহ তার পরিবারের চার সদস্য।

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল সম্মেলন উপলক্ষে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন এক পদপ্রত্যাশী। ছবি: ফেসবুক

ঢাবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিভি নেয়ার কথা থাকলেও আমরা রাত ১২টা পর্যন্ত সিভি জমা নিয়েছি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে একবার গণনা করা হয়েছিল। তখন ৩০৮টা সিভি জমা পড়েছে। এখন পর্যন্ত আমি আরও ২০-২২টা সিভি নিয়েছি। সর্বমোট প্রায় ৩৩০ জন পদ প্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়া শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল শাখার ৩৬টি পদের জন্য ৩৩০ জন পদ প্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ।

২৮ ডিসেম্বর থেকে ১৮টি আবাসিক হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়া হয়। এদিন ছিল জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার শেষ দিন।

জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিভি নেয়ার কথা থাকলেও আমরা রাত ১২টা পর্যন্ত সিভি জমা নিয়েছি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে একবার গণনা করা হয়েছিল। তখন ৩০৮টা সিভি জমা পড়েছে। এখন পর্যন্ত আমি আরও ২০-২২টা সিভি নিয়েছি। সর্বমোট প্রায় ৩৩০ জন পদ প্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।’

দপ্তর সম্পাদক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি পদ প্রত্যাশী রয়েছেন ফজলুল হক মুসলিম হলে। এই হল থেকে ৩১ জন পদ প্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে কম জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল থেকে। এই আবাসিক হলটি থেকে আটজন পদ প্রত্যাশী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

এতো বেশি পদ প্রত্যাশী থাকার কারণ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদপ্রত্যাশী বলেন, ‘দীর্ঘ চার বছর হল কমিটি নেই। এতো দীর্ঘ সময়ের কারণে অনেক পদ প্রত্যাশী তাদের ছাত্রত্ব শেষ করে ফেলেছে। আবার নতুন করে অনেকে পদ প্রত্যাশী তৈরি হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর হল কমিটি হওয়ার কথা। তবে চার বছর কমিটি না থাকায় প্রতি বছর নতুন নতুন পদ প্রত্যাশী তৈরি হওয়ায় সংখ্যাটা বেশি।’

এই পদ প্রত্যাশী বলেন, ‘এই সংখ্যা বেশি হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। সেটি হলো পদ প্রত্যাশী যারা হল সম্মেলনে পদ পাবেন না তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্ধিত কমিটিতে রাখা হয়। সেই কমিটিতে থাকার জন্যও অনেকে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়া শেষ হয়েছে। এসব জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আগামী দুই দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয়ভাবে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে সেটা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দেব। এছাড়া হল সম্মেলনের পরপরই আমরা কমিটি দিয়ে দিতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি।’

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

মাদ্রাসাশিক্ষকের পুরুষাঙ্গ কর্তন, ছাত্র আটক

মাদ্রাসাশিক্ষকের পুরুষাঙ্গ কর্তন, ছাত্র আটক

পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীর দাবি, মাদ্রাসাশিক্ষক আতাবুর রহমান বুধবার রাতে ছাত্রকে খাবারের দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। পথিমধ্যে বলাৎকারের চেষ্টা হলে ছাত্র পকেটে থাকা 'নেইল কাটার' দিয়ে শিক্ষকের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেয়ার অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে আবাসিক এক ছাত্রকে। ১৬ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষক ভর্তি হাসপাতালে।

নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবলু রহমান খান নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার রাতে উপজেলার বেতাগৈর ইউনিয়নের পলাশিয়া গ্রামে পুরুষাঙ্গ কর্তনের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষক আতাবুর রহমান বুধবার রাতে খাবারের দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান ছাত্রকে। পথিমধ্যে তিনি ছাত্রকে কাছে টেনে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত বোলাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বলাৎকারের চেষ্টা হলে ছাত্র পকেটে থাকা 'নেইল কাটার' দিয়ে শিক্ষকের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন। এরপর পালাতে গেলে লোকজন ছাত্রকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষক আতাবুরকে উদ্ধার করে এলাকার লোকজন হাসপাতালে নেন। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ঘটনার ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে খারুয়া ইউনিয়নের টাওয়াইল গ্রামে ওয়াজ মাহফিল চলছিল। মাদ্রাসা মাঠের সেই মাহফিলে অন্যদের পাশাপাশি অংশ নেন শিক্ষক ও ছাত্র। আবাসিক ছাত্রকে রাতে মাদ্রাসায় না পাঠিয়ে নিজ বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষক। তখন পথে ঘটে পুরুষাঙ্গ কর্তনের ঘটনা।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘মামলা করতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বাবা থানায় এসেছেন। মামলা হলে ছাত্রকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

‘পশ্চিমারা অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশের উন্নতি দেখছে’

‘পশ্চিমারা অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশের উন্নতি দেখছে’

সমাবেশে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘যে পাকিস্তান আমাদের শোষণ করে করাচি-ইসলামাবাদ গড়েছিল, সেই পাকিস্তান অর্থনীতিতে আমাদের অর্ধেকও না। আমাদের প্রতিবেশী বিশাল দেশ ভারতের চেয়ে আমাদের মাথাপিছু আয় বেশি। এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে।’

গত এক যুগে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেছেন, ‘পশ্চিমারা এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলত; কিন্তু গত ১২ বছরে বাংলাদেশের উন্নতি অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে দেখছে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের ছাতকে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে পাকিস্তান আমাদের শোষণ করে করাচি-ইসলামাবাদ গড়েছিল, সেই পাকিস্তান অর্থনীতিতে আমাদের অর্ধেকও না। আমাদের প্রতিবেশী বিশাল দেশ ভারতের চেয়ে আমাদের মাথাপিছু আয় বেশি। আর এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল আইসিটি এক্সলিন্স অ্যাওয়ার্ড ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অ্যাসোসিও লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করায় গণসমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর ছাত্রলীগ।
ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

ধর্মসাগরে বড়শিতে ধরা পড়ল ৪৩ কেজির ব্ল্যাক কার্প

ধর্মসাগরে বড়শিতে ধরা পড়ল ৪৩ কেজির ব্ল্যাক কার্প

বড়শিতে ধরা পড়েছে ৪৩ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ’বর্তমানে কুমিল্লা ধর্মসাগর দীঘিটি আমরা ৩০ জন অংশীদার মিলে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। প্রায় দিনই বড়শিতে মাছ ধরি। বৃহস্পতিবার বিকেলে দীঘিতে ছিপ ফেলি। রাত সোয়া ৮টার দিকে মাছটি বড়শিতে আটকায়। তবে ৪৩ কেজি ওজনের মাছটি পাড়ে তুলতে ৪৫ মিনিট সময় লাগে।’

কুমিল্লায় ধর্মসাগর দীঘিতে এক ব্যবসায়ীর বড়শিতে ধরা পড়েছে ৪৩ কেজি ওজনের একটি ব্ল্যাক কার্প মাছ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাহিদুল্লাহ রিপন নামের ব্যবসায়ীর বড়শিতে এ মাছ ধরা পড়ে।

মাছ ধরা পড়ার খবরে ভিড় করেন শতাধিক মানুষ। এত বড় ব্ল্যাক কার্প দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আকম বাহাউদ্দীন বাহারও।

এমপি বাহার বলেন, ’কুমিল্লা শহরে অনেক দীঘি আছে। তবে সবচেয়ে বড় দীঘিটি হলো ধর্মসাগর। এমন বড় মাছ ধর্মসাগরেই সম্ভব। আমার ধারণা, এমন আরও বড় মাছ আছে ধর্মসাগরে।’

ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ’বর্তমানে কুমিল্লা ধর্মসাগর দীঘিটি আমরা ৩০ জন অংশীদার মিলে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। প্রায় দিনই বড়শিতে মাছ ধরি। বৃহস্পতিবার বিকেলে দীঘিতে ছিপ ফেলি। রাত সোয়া ৮টার দিকে মাছটি বড়শিতে আটকায়। তবে ৪৩ কেজি ওজনের মাছটি পাড়ে তুলতে ৪৫ মিনিট সময় লাগে।’

রিপন বলেন, ’এত বড় মাছ আমি এর আগে দেখিনি। আজ নিজের বড়শিতে উঠেছে। খুব ভালো লাগছে।’

কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, ’ব্ল্যাক কার্প মাছ আমাদের দেশের নদী ও পুকুরে হয়। বিশেষ করে যেসব পুকুর দীঘিতে শামুক-ঝিনুক বেশি থাকে সেখানে ব্ল্যাক কার্প মাছ বেশি হয়। ধর্মসাগর দীঘিতে প্রচুর শামুক-ঝিনুক থাকায় এখানে ব্ল্যাক কার্প হয়।’

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

২০ দেশে পালন হবে ঢাকা-দিল্লি মৈত্রী দিবস

২০ দেশে পালন হবে ঢাকা-দিল্লি মৈত্রী দিবস

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য চলতি বছর মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন। সে সময় ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস (বন্ধুত্ব দিবস) হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ও ভারত ৬ ডিসেম্বর মৈত্রী দিবস পালন করতে যাচ্ছে । মজবুত সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের নির্দশন হিসেবে দিনটিকে স্মরণ করতে চায় দুই দেশ।

ঢাকা ও দিল্লি ছাড়া আরও ১৮ দেশে দিবসটি পালিত হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য চলতি বছর মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন। সে সময় ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস (বন্ধুত্ব দিবস) হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার দশ দিন আগে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা ও দিল্লি ছাড়াও বিশ্বের ১৮টি দেশে মৈত্রী দিবস পালন করা হবে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, কানাডা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মৈত্রী দিবসের এ আয়োজন ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন, একই সঙ্গে রক্ত ও ত্যাগ স্বীকারের ইতিহাস বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন

ঢামেকের সামনে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

ঢামেকের সামনে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

এসআই কাউসার আহমেদ বলেন, ‘কম্বল দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহ। আমরা সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দিয়েছি। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা যাবে বলে ধারণা করছি।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ভবন এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের দুই নম্বর ভবনের মসজিদের পাশে ফুটপাত থেকে প্রায় ৬০ বছর বয়সী ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাহবাগ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই)কাউসার আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনের মসজিদের পাশে ফুটপাত থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের আশেপাশের লোকজনের কাছে থেকে জানতে পেরেছি, এই এলাকায় তিনি ভবঘুরে ছিলেন। আসরের নামাজের সময় পর্যন্ত ওই বৃদ্ধা নড়াচড়া করছিলেন, কিছুক্ষণ পরে দেখি আর নড়াচড়া করেন না। তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকলে আমাদেরকে খবর দেয়া হয়। আমরা এসে ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করি। নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।’

এসআই কাউসার আহমেদ বলেন, ‘কম্বল দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহ। আমরা সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দিয়েছি। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা যাবে বলে ধারণা করছি।’

আরও পড়ুন:
ছবিতে নিউজবাংলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন নিউজবাংলার
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

শেয়ার করুন