মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল

মামুনুল হকের কথিত তৃতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির গাজীপুরর বানার হাওলা গ্রামের বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল

আমার বড় ভাই ও ভাবি দুজনেই মারা গেছেন। তারা দুই ভাই, দুই বোন। বড় ভাতিজা প্রবাসে আছেন ১৬ বছর। ছোট ভাতিজা শাহজাহান বাড়ি দেখাশোনা করেন। বড় বোনকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। ছোট ভাতিজি জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি রাজধানীর উত্তরার এশিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স পাস করে এখন বাসায় আছে: লিপির চাচা।

রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী আর আরও এক নারীর সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর তাকে তৃতীয় স্ত্রী দাবি করা হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের কোনো কিছুই স্পষ্ট না।

কথিত তৃতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির বাড়ি গাজীপুরর কাপাসিয়ার বানার হাওলা গ্রামে গিয়ে স্বজন আর প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও পাওয়া গেল না বিস্তারিত কোনো তথ্য।

মামুনুলের সঙ্গে কথিত বিয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না লিপির চাচা হিরন মিয়া।

মামুনুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা ভাই মো. শাহজাহান ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। ঘরে ঝুলছে তালা। স্বজনরাও জানেন না তিনি কোথায়।

৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে সঙ্গীনি জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল হক। দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন বললেও নাম হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন আমিনা তাইয়্যেবা হিসেবে। তবে তাইয়্যেবা আসলে তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর নাম।

মামুনুলের এই দাবি সেই রাতেই প্রশ্নের মুখে পড়ে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন টেলিফোনালাপে। আমিনা তাইয়্যেবাকে কল তরে মামুনুল সেদিন বলেন, সঙ্গীনি শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই কথা (দ্বিতীয় বিয়ে) বলতে বাধ্য হয়েছেন।

ওই রাতেই আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে মামুনুলের ফোনালাপ ফাঁস হয়। আর শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় তার নতুন এই সঙ্গীনির নাম।

শনিবার মো. শাহজাহান মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করে জানান, সেদিন সকালে মামুনুল তাকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে বলেছেন, তার বোনকে বিয়ে করেছেন।


শাহজাহান জানিয়েছেন ৭ এপ্রিল শেষবারের মতো কথা হয়েছে তার বোনের সঙ্গে। মামুনুল জানিয়েছেন, এখন তিনি তার বোনের বাসায় আছেন।

বোন লিপিকে উদ্ধার করে অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ করেছেন শাহজাহান।

লিপির বিষয়টি নিয়ে জানতে কাপাসিয়ার বানার হাওলা গ্রামে গিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।

গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। সেখানে কেউ নেই।

গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। আলাপ হয় শাহজাহানের বাড়ির ভাড়াটে নিলুফা আক্তারের সঙ্গেও। গত মাসেই তিনি সেখানে উঠেছেন।

নিলুফা বলেন, ‘গত কয়েক দিন জান্নাত আপাকে বাড়িতে দেখতে পাচ্ছি না। তিনি প্রায় সময় বাড়ির বাইরে গেলে পর্দা করে যেতেন। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। তারা ভাই-বোন সবাই অনেক মিলে চলাফেরা করে।’

কথা হয় শাহজাহানের ছোট চাচা হিরন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বড় ভাই ও ভাবি দুজনেই মারা গেছেন। তারা (লিপি) দুই ভাই, দুই বোন। বড় ভাতিজা প্রবাসে আছেন ১৬ বছর। ছোট বাতিজা শাহজাহান বাড়ি দেখাশোনা করেন।

‘বড় বোনকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। ছোট ভাতিজি জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি রাজধানীর উত্তরার এশিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স পাস করে এখন বাসায় আছে।’

মামুনুল হকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে-এটা জানতেন কি?

এমন প্রশ্নে লিপির চাচা বলেন, ‘তা জানি না। পত্রিকায় ও টিভিতে যা দেখেছি এতটুকুই। তবে, গত কয়েক দিন জান্নাতকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর জন্যই, তারা সবাই বাড়িতে নাই। সবাই ঢাকায় আছে।’


জান্নাতের ছোট ভাই শাহজাহানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর থেকেই তিনি ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।

জিডির তদন্ত নিয়ে ‘তথ্য নয়’

মামুনুলের বিরুদ্ধে লিপির ভাই যে জিডি করেছেন, তার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত কী তথ্য পাওয়া গেল- জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, ‘সেনসিটিভ ইস্যু হওয়ায় আমরা এই বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে পারব না। থানার একজন অফিসারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার তদন্ত পরবর্তী ফলাফলেই কী করা উচিত, সেই দিকনির্দেশনা দেবে।’

শাহজাহানের জিডির পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মইনুল ইসলাম। তিনি সোমবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিডির পর তদন্তের জন্য আদালত থেকে অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমরা এখনও অনুমতি পাইনি।’

মামুনুল চুপ

কথিত দ্বিতীয় বিয়ের দাবি নিয়ে চাপের মুখে পড়ার পর মামুনুল হক বারবার ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। রিসোর্ট থেকে এসেই তিনি চার ভাইকে নিয়ে ফেসবুকে লাইভে এসেছেন।

পরদিন একটি ‘মানবিক বিয়ে’র কথা বলে বড় আকারের পোস্ট দিয়েছেন।

এ ছাড়া ফেসবুকে লাইভে এসে ‘আল্লাহর গজবের’ চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।

তার সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতারাও জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় বসে কথিত বিয়ের ‘বৈধতা’ দিয়েছেন।

তবে কথিত তৃতীয় বিয়ের বিষয়ে মামুনুল হক চুপ, তার সংগঠন হেফাজত কিছুই বলছে না।

বিষয়টি জানতে মামুনুল হকের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সোনারগাঁর রিসোর্ট-কাণ্ডের পর থেকে তিনি নিজে ফেসবুক লাইভে আসা বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া ছাড়া কোনো কথা বলছেন না সাংবাদিকদের সঙ্গে।

গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি। শরিয়তে একজন মুসলিম পুরুষকে চার চারটি বিয়ে করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। দেশি আইনেও চার বিয়ে করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা কোনো অনুৎসাহ নেই। কাজেই আমি যদি চারটি বিবাহ করি, তাতে কার কী?’

মামুনুল বিয়ের দাবি করলেও তার স্ত্রী যে এগুলো জানতেন না, সেটি এখন স্পষ্ট। আর স্ত্রীর কাছে লুকানোর বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তের মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে যে, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য, স্ত্রীকে খুশি করবার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত ক্ষেত্রে সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’

‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’

ঈদের ছুটিতে সন্তানদের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে বন্ধ দেখে জিরাফের ছবির সঙ্গে ছবি তুলছে কয়েকজন শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের মতো এই ঈদেও বন্ধ চিড়িয়াখানা। তবে বিষয়টি না জানার কারণে ঈদের দিন থেকে এখনও অনেক মানুষ এসে ভিড় করছেন। গেট বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তারা।

‘আমরা কুমিল্লা থেকে আইলাম কষ্ট কইরা। ট্যাকা বাড়াইয়া নেন, তাও ঢুকতে দেন। আমাদের না দেন, বাচ্চা দুইটারে একটু ঢুকতে দেন।’

‘গেটটা একটু খুলে দেন, বেশি দূর যাব না, হরিণের খাঁচা পর্যন্ত যাইতে দেন। একটা ছবি তুলে চলে আসুক।’

‘সবই তো খোলা। এইটা খুলে না কেন? আপনাদের বড় স্যার কে আছে? ডাকেন কথা বলি। বন্ধ জানলে কি আইতাম টাকা, সময় খরচ কইরা? আসছি যখন একটু ঢুকতে দেন।’

এভাবেই রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকার জন্য কর্তব্যরত গার্ডদের কাছে আকুতি করতে দেখা গেছে।

প্রতি বছর ঈদের সময়টাতে এখানে মানুষের ঢল নামে। প্রিয়জনদের নিয়ে ঢাকার বাইরে থেকেও ঘুরতে আসেন অনেকে। কিন্তু এবার সেখানে বাধা হয়েছে ‘লকডাউন’।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের মতো এই ঈদেও বন্ধ চিড়িয়াখানা। তবে বিষয়টি না জানার কারণে ঈদের দিন থেকে এখনও অনেক মানুষ এসে ভিড় করছেন। গেট বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন তারা।

ঈদেও বন্ধ ছিল জাতীয় চিড়িয়াখানা
চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও গেটের সামনে শিশুদের খেলনা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন অনেক দোকানি। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার বেলা ১১টার পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেখা যায়, চিড়িয়াখানায় এসে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন শত শত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাইক, রিকশা, সিএনজি, প্রাইভেট কার ও বাসে করে চিড়িয়াখনায় আসছেন দর্শনার্থীরা। আগতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি হলেও, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষকেও আসতে দেখা যায়।

গেট বন্ধ পেয়েও ফিরে যেতে চাইছিলেন না অনেকেই। টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কর্তব্যরত গার্ডদের ভেতরে ঢুকতে দেয়ার জন্য কেউ কেউ অনুরোধ করেন। কেউ আবার তর্কে জড়ান।

একটু পরপর চিড়িয়াখানায় দায়িত্বশীল কর্মচারী, আনসার সদস্যরা বাঁশি ফুঁকিয়ে আগতদের সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

গেট খুলবে, এমন অপেক্ষোয় থেকেও অনেক পরিবার সন্তানদের দেখাতে পারেননি চিড়িয়াখানা। ছবি: নিউজবাংলাৃ

আগতরা বলছেন, সরকারের উচিত ছিল, চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি ভালোভাবে প্রচার করা। তাহলে ঘুরতে এসে টাকাও অপচয় হতো না। সময়ও নষ্ট হতো না।

এদিকে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার চিড়িয়াখানা অনেক আগে থেকে বন্ধ রেখেছে। পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে। তারপরেও যারা না জেনে চলে আসছেন, তাদেরকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে কর্তব্যরত গার্ড ইউছুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইজ তো তাও কম। ঈদের দিন তো মাইনষের জন্য হাঁটার রাস্তাও আছিল না।’

‘যখন শুনছে ঢোকা যাইবো না, মারামারি লাগাই দিছিল। আমগোর লগে কাইজ্জা শুরু করছে। আমগোর তো কিছু করার নাই। খারাপও লাগে বুঝছেন। ছোড ছোড পোলাপাইন আইয়া আইয়া ফেরত গেছে সব। সুযোগ থাকলে ঢুকবার দিতাম।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টারের সামনে দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে গার্ডদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় আমিন হাসানকে।

নারায়নগঞ্জ থেকে ছেলে মেয়েদের নিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসেন আমিন। এসে গেট বন্ধ দেখায় গার্ডদের অনুরোধ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে যান তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি দোকান বন্ধ রাইখা আইছি পোলাপান নিয়া ঘুরতে। এখন ঢুকতে দিব না। মাইয়াডা বড় বইনের থেকে ফোন নিয়া আইছে ভালো ক্যামেরার। বাঘের লগে ছবি তুলব। এইডা ঠিক কইরা জানাইব না? তাইলে এই সময়টা কি নষ্ট হয়? টাকাও নষ্ট।’

আমিনের মতো এমন শত শত মানুষ হতাশা নিয়ে ফেরত গিয়েছেন।

দুপুরের পরপর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসেন সালাম মিজি।

‘ট্যাকা বাড়ায়া নেন, তাও চিড়িয়াখানায় ঢুকতে দেন’
বন্ধ চিড়িয়াখানায় হরিণদের খেতে দেয়া হয়েছে কচি ঘাস। ছবি: সাইফুল ইসলাম

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ে বর্ণমালা শেখার সময় বইয়ে হরিণ দেখে একদিন বলেছিল, ছবি তুলবে হরিণের সঙ্গে। সময় পাইনি, আনা হয়নি। ভাবছিলাম, আজকের বিকেল এখানেই কাটাব। বন্ধ তাতো আর জানতাম না। এখন কখন কী খুলছে, কখন কী বন্ধ হচ্ছে তা ঠিক আন্দাজ করা যায় না। জানা থাকলে হয়ত অন্য পরিকল্পনা করা যেত।’

এদিকে শুধু চিড়িয়াখানা নয়, পাশে বোটানিক্যাল গার্ডেনও বন্ধ রয়েছে। সেখানেও পাওয়া গেল দর্শনার্থীর ভিড়।

বিকেল ৩টার দিকে চারটি বাইক নিয়ে ঘুরতে আসেন রাফিদ হাসান ও তার বন্ধুরা। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায়, গেটের সামনে গ্রুপ সেলফি তুলে ফেরত গেছেন।

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও প্রবেশ করতে পারেননি দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রাফিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভেবে আসলাম চিড়িয়াখানায় একটা ব্লগ করব। তারপরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে ফটোশ্যুট করার ইচ্ছে ছিল। এসে দেখি বন্ধ। জানলে হয়ত, এদিকে না এসে ১০০ ফিট নতুন রাস্তায় যাওয়ার প্ল্যান করতাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আব্দুল লতীফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লকডাউনের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত পাঁচ মাস ধরে চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে সাত মাস বন্ধ ছিল।

‘তবে আমরা প্রস্তুত। যখনই সরকার দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমোদন দিবে, তখনি আবার চিড়িয়াখানা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিব।’

শেয়ার করুন

ব্যস্ততা ফেরেনি অফিসে

ব্যস্ততা ফেরেনি অফিসে

ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সকালে অনেক দপ্তরই বন্ধ ছিল সচিবালয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর অনেক সরকারি ও বেসরকারি অফিসে রোববার উপস্থিতি ছিল কম। অনেকেই এখনও ঢাকায় ফেরেনি।

ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে শনিবার। তবে কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেনি রাজধানী। বর্ধিত লকডাউন আর পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ঢাকায় ঢুকতে বেগ পেতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষের।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আজ রবিবার অফিসে যোগ দেয়ার কথা। খুলছে ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজারও।

রাজধানীর অনেক সরকারি ও বেসরকারি অফিসে রোববার উপস্থিতি ছিল কম। অনেকেই এখনও ঢাকায় ফেরেনি।

যারা রাজধানীতে ঈদ করেছেন, তাদের অনেকেই লকডাউনের জন্য রোস্টার সুবিধা নিয়ে অফিস করছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় কর্মস্থল সচিবালয়ে সকালে অনেক দপ্তরই খোলা হয়নি। আনাগোনা দেখা যায়নি সরকারি কর্মকর্তাদের। প্রয়োজনে অফিসে এসেছেন কেউ কেউ।

এবার ঈদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ না করতে সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস করতে বলায় ছুটি শেষের প্রথম দিন কর্মব্যস্ততা ছিল না।

এদিকে আন্তজেলা পরিবহন বন্ধ থাকায় রাজধানীতে ঢোকার পয়েন্টগুলোতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষকে। ঘরমুখো মানুষজন ঢাকামুখী হচ্ছে। তবে সেটিও সীমিত আকারে।

গত ১৩ মে বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। এবার ঈদ শুক্রবার হয়াতে আলাদাভাবে ছুটি পায়নি কর্মজীবী মানুষ। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছুটি শেষ করেই ফেরার পালা ছিল তাদের।

প্রতি ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার তাড়া থাকলেও গত বছর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য সেটি বন্ধ আছে। ২৩ মে থেকে স্কুল কলেজের ছুটি বাড়িয়ে ২৯ মে করেছে সরকার।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধে সীমিত পরিসরে খোলা আছে ব্যাংক। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে লেনদেন। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যাংকে রোস্টার আকারে কাজ করতে হয়েছে। আমার রোস্টারে আমি ছুটি পেয়েছি। তাই এখনও ঢাকায় ফেরা হয়নি।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরোয়ার বাধন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এখনও কুমিল্লা থেকে আসতে পারিনি। আমার অফিস লকডাউনের কারণে রোস্টার হিসেবে চলেছে। ঈদের পর যোগদান করার কথা থাকলেও পরিবহন সমস্যার কারণে সেটি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে আজ ঢাকায় ফিরব। সোমবার থেকে অফিস করব।’

ঈদের আগে বাস-ট্রেন-লঞ্চে যাত্রী পারাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে মানুষ নিজেদের মতো করে বাড়ি যায়। ফেরি ঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

শেয়ার করুন

মিথেনের ‘হটস্পট’ মাতুয়াইল: সত্যি নাকি অতিরঞ্জন?

মিথেনের ‘হটস্পট’ মাতুয়াইল: সত্যি নাকি অতিরঞ্জন?

মাতুয়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আর্বজনার ভাগাড়কে মিথেন গ্যাস নিঃসরণের হটস্পট হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যম। ছবি: নিউজবাংলা

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও। তবে মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে বিপুল মিথেন নিঃসরণের বিষয়টি মানতে রাজি নন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশনেরও দাবি, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’। এমন অবস্থায় মাতুয়াইলের ভাগাড়ের প্রকৃত চিত্র ঘুরে দেখেছে নিউজবাংলা।

বাংলাদেশের আকাশে মিথেন গ্যাসের বিশাল আস্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একটি প্রতিবেদনে, ঢাকার মাতুয়াইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আর্বজনার ভাগাড়কে মিথেন গ্যাস নিঃসরণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাটের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন জার্মেইনের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গ জানায়, মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার কেজি মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ ঘটছে। প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি যে পরিমাণ বায়ুদূষণ ঘটায়, তার সমান দূষণ ঘটাচ্ছে মাতুয়াইলের মিথেন।

মিথেন বর্ণহীন, গন্ধহীন একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। পরিবেশবিদদের মতে, গত ২০ বছরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে পরিবেশের ৮০ গুণ বেশি ক্ষতি করেছে মিথেন। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে এই গ্যাস।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে প্যারিসভিত্তিক কেয়রোজ এসওএস নামের প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছর মিথেন নিঃসরণকারী শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও। তবে মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে বিপুল মিথেন নিঃসরণের বিষয়টি মানতে রাজি নন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশনেরও দাবি, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’। এমন অবস্থায় মাতুয়াইলের ভাগাড়ের প্রকৃত চিত্র ঘুরে দেখেছে নিউজবাংলা।

মাতুয়াইলে প্রতিদিন ২৮০০ টন বর্জ্য

অবিভক্ত ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৮৯ সালে মাতুয়াইল ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে স্থাপন করা হয় আবর্জনার ভাগাড়। ২০০৬ সালে আরও ৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ভাগ হওয়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় পরে আরও জমি অধিগ্রহণ করা হয়। মাতুয়াইলের মতোই আরেকটি আবর্জনার ভাগাড় রয়েছে আমিন বাজারের বলিয়ারপুরে, তবে এটির নিয়ন্ত্রণ উত্তর সিটি করপোরেশনের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের নিউজবাংলাকে জানান, মাতুয়াইলে এখন সব মিলিয়ে ১৮১ একর জমিতে দিনে প্রায় ২৮০০ টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, আর্বজনার স্তূপের পর স্তূপ তৈরি করে রীতিমতো ময়লার পাহাড় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন নতুন স্তূপের নিচে চাপা পড়ছে শ শ টন পুরোনো আর্বজনা।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক বা ভ্যানে আবর্জনা আনা হয় এই দুটি ভাগাড়ে। ভাগাড়ে পৌঁছানোর পর একের পর এক আবর্জনা আনলোড করেন গাড়িচালকেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেলে দেয়া আবর্জনা ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ওলোট-পালট করা হচ্ছে। আর সেসব থেকে প্লাস্টিক, লোহাজাতীয় দ্রব্য কুড়াচ্ছেন দরিদ্র কিছু মানুষ।

মাতুয়াইল আবর্জনা ভাগাড়ের দায়িত্বরত কয়েকজন নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত শ ট্রাক আর্বজনা নিয়ে আসে এখানে। বর্তমানে উত্তর দিক দিয়ে ভরাট করে সামনে এগোচ্ছে। আবর্জনার স্তূপের চাপে ভরাট অংশের বেশির ভাগই কঠিন অবস্থায় রয়েছে। জলাভূমি বা পচনশীল পরিবেশ কম থাকায় গ্যাস নির্গমণের সুযোগ তেমন নেই।

আবর্জনার এই ভাগাড় থেকে পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে জীবিকা চালান, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। ভাগাড় থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নিঃসরণের বিষয়টি চোখে পড়েছে কি না, সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তারা।

আব্দুল আলিম নামের একজন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে এইখানে আবর্জনার মধ্যে দুইবার আগুন ধরছে। এতে সবাই ভাবছে কি না কি হইছে। এইডা নিয়া শুনলাম বিদেশে রিপোর্ট হইছে। গুজব ছড়াইছে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে গ্যাসের কোনো ঘটনা না। ঘটনা হইলো কয়েক মাস আগে সিটি করপোরেশন মাতুয়াইলের এইখানে টোকাই পোলাপাইন ঢোকা নিষেধ করছিল। গেট দিয়ে আনসাররা ভিতরে ওগো ঢুকতে দেয় নাই। এর লাইগা পোলাপাইন রাগ হইয়া শয়তানি কইরা আগুন লাগাইছিল। আগুন লাগার পরে ঘটনা হাতড়াইতে হাতড়াইতে বিষয়ডা আমরা ট্যার পাইছি।’

তিনি বলেন, ‘এইখানে যেসব পোলাপাইন কামকাজ করে, বোতল প্লাস্টিক টোকায় হ্যারা খুবই বিটলা। রাতের বেলা ঢুইকা বিড়িবুড়ি খাইয়া আগুন ধরাইয়া দিছিল। ভেতরে এমন অবস্থা যে, কেউ বিড়ি খাইয়া ফেললেও আগুন ধইরা যাইব। আর এক জায়গায় আগুন ধরলে আস্তে আস্তে ছড়ায়ে পড়ে, কারণ সব তো পলিতে (পলিথিন) ভরা।’

দিলরুবা আক্তার নামের আরেকজন বলেন, ‘এখানে গ্যাস-ট্যাস কইত্তে আইব! আমরা হারা (সারা) বছর কাম করি, কই কিছুই তো দেহি না। মানুষ খাইয়া কাম পায় না, আজগুবি কথা ছড়ায়।’

অল্প কিছু জায়গায় বুদবুদ দেখিয়ে দিলরুবা বলেন, ‘ওইগুলো তো ময়লার গাদ। বুদবুদিগুলারে যদি গ্যাস কইয়া থাকে তাইলে গ্যাস। যেইহানে ময়লা-আর্বজনা পানির মইধ্যে পড়ছে সেইহানে ময়লাগুলা পইচ্চা গাদ হইছে। আর ওগুলা থেইক্কা বুদবুদ বাইর হয়। অন্য কিচ্ছু না। হেরম কিছু হইলে আমরা এইহানে টিকতে পারতাম?’

দিলারা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘এখানে আইলে এমনতি গন্ধ লাগে। লাগবই তো। আর্বজনার মধ্যে আইলে কি সেন্ট (সুগন্ধ) পাইব? কিন্তু আমাগো এখন আর গন্ধ লাগে না, রোগ–বালাইও হয় না। এখানে যারা কাম করে খোঁজ নিয়া দ্যাহেন কারো ঘা-পাচড়াও নাই।’

স্থানীয় চা-দোকানি ফাহাদ আলী ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আট বছরের মধ্যে এই ভাগাড়ের মধ্যে কখনো কোনো দুর্ঘটনা দেখি নাই, আবার শুনিও নাই। তয় হঠাৎ হঠাৎ বিরাট দুর্গন্ধ আসে। প্রতিদিন পচা-পাইচকো ফেললে ওগুলার তো একটা তেজ আছে। মনে হয় ওই তেজটাই বের হয়।’

স্থানীয় একজন প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘এখানে (মাতুয়াইল) যদি মিথেন গ্যাস বের হতো, তাহলে তো আমিন বাজারের বলিয়ারপুরেরও আর্বজনার ভাগাড়েরও একই অবস্থা হওয়ার কথা। বলিয়ারপুর তাহলে কেন হটস্পট হলো না?’

সিটি করপোরেশনের দাবি, প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্লুমবার্গের রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আমাদের কাছে একটা ফলস ইনফরমেশন মনে হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিটিং করছি। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাতুয়াইল একটি আবর্জনার ভাগাড়। আর তাই সেখান থেকে মিথেন গ্যাস একেবারেই যে নিঃসরণ হয় না, তা নয়। তবে রিপোর্টটা যেভাবে হয়েছে, সেটা সত্য না।’

মো. বদরুল আমিন বলেন, ‘এক-দেড় মাস আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেটা হলো, ওখানে যারা কাজ করে অর্থাৎ প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসপত্র কুড়ায়, সীমানাপ্রাচীর দেয়ার পর আমরা তাদের ভাগাড়ে ঢুকতে নিষেধ করেছিলাম। কারণ, ময়লা-আর্বজনার মধ্যে অনেক কিছু পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে সিটি করপোরেশনের একটা আয় আসতে পারে। সে জন্য স্পটটিকে আমরা ইজারা দিতে চেয়েছিলাম।

‘এ জন্য ওখানে যে দুই আড়াই শ লোক আবর্জনা কুড়ায় তাদের ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছিল। এতে তারা ওখানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানতে পেরেছি।’

প্রতিবেদনের দাবির সঙ্গে ভিন্নমত বিশেষজ্ঞদের

বুয়েট অধ্যাপক ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু ওটা এত ব্যাপকভাবে উঠে যে একটা ক্লাউড তৈরি করতে পারে, সেটা আমাদের ধারণাতে ছিল না। এটা শতভাগ যৌক্তিক বা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। এ ব্যাপারে আরও অনুসন্ধান করা দরকার।’

ভিন্নমতের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মিথেন গ্যাস যে শুধু ময়লার স্তূপ থেকে হয় বিষয়টি এমন না। বর্জ্য থেকে তো এমনিতেই বের হয় মিথেন। এর বাইরে গরুর গোবর থেকে হয়, গাড়ি থেকে একটা অংশ বের হয়, ধান ক্ষেত থেকে বের হয়।

‘ব্লুমবার্গ যেটা করছে বলে জানতে পেরেছি সেটা তো স্যাটালাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ। আমাদের তো তেমন সাপোর্ট নেই। সেই সাপোর্ট থাকলে আমরা এখনই বিষয়টা নিয়ে খোলসা হতে পারতাম।’

তবে মাতুয়াইলে বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরেও জোর দিচ্ছেন ড. ইজাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা মাতুয়াইলকেন্দ্রীক একটা প্রকল্প করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম সরকারকে। যেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ওয়েস্টেজ ম্যানেজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশন রাজি হয়নি, কারণ তাদের ওখান থেকে বড় একটা আয় আসে হয়ত।

‘আমার ধারণা আমাদের এখানে আর্বজনা ওপেন ডাম্পিং হয় বলে বিদেশি সংস্থা এমন কিছু বলার সুযোগ পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে হলে হয়ত এমনটা নাও শোনা যেতে পারত।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম জানান, ময়লা থেকে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হবে, এমনটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ‘যে সংবাদটা এসেছে সেটা যে প্রমাণিত সত্য তা বলা যাবে না। তবে এটাকে স্যাম্পল হিসেবে ধরে কারিগরি কমিটি করে সরকারিভাবে আর্ন্তজাতিক স্ট্যান্ডার্ডে আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারণ দূষণ যে হয় সেটা তো আমরা অস্বীকার করি না, কিন্তু বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো অপবাদ নেয়া ঠিক হবে না।’

ড. শামসুল আলমও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনকে ‘অতিরঞ্জন’ মনে করছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে দূষণের ব্যাপারটা যে আছে বা হচ্ছে সেটা তো কারও অজানা না। কিন্তু ব্লুমবার্গ যে তথ্য দিচ্ছে সেটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। মাতুয়াইলকে হটস্পট বলাটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।’

এ ধরনের আলোচনা এড়াতে ছোট ছোট ওয়েস্টেজ ডিসপোজাল ইউনিট বসিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘এটা করা গেলে দূষণও ঠেকানো যাবে, আবার আর্বজনাকেও কাজে লাগানো যাবে।’

শেয়ার করুন

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। ছবি: সংগৃহীত

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া, কেনাকাটার প্রতিটি ধাপে হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম।

সরকারি আইন ও বিধি না মেনেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো-সিএমএসডি) প্রায় ৯ কোটি টাকার করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি কার্যাদেশ ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই এসব কিট কেনা হয়েছে।

এর আগে গত বছরেও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ৩৪৩ কোটি টাকার বিল আটকে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, সেই সমালোচনা রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কোনো রকম চুক্তি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান তার ‘পছন্দের কোম্পানির’ কাছ থেকে এক লাখ কিট কিনেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে সম্প্রতি ৯ কোটি টাকায় ১ লাখ কিট কিনেছে সিএমএসডি। এসব কিট গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়েছে। এর আগে ৬ মে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এ ব্যাপারে অনাপত্তি দেয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে যে কোনো সরবরাহ নেয়ার আগে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন পেতে হয়। আনুষ্ঠানিক দর কষাকষির পর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তাব ঠিক করে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর বিধান রয়েছে।

এই অনুমোদন পাওয়ার পর নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড জারি করে কার্য সম্পাদন জামানত ও কার্য সম্পাদন চুক্তি করে সরবরাহ নেয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে এক লাখ কিট কেনার ক্ষেত্রে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে তার একক সিদ্ধান্তে জিএস বায়োটককে কিট সরবরাহের অনুমতি দেন। কিট সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটিই অস্বচ্ছ হওয়ায় এখানে ব্যাপক দুর্নীতির শংকা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি সরবরাহ কাজে কোনো প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। তবে নতুন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের করোনা কিটের রিএজেন্ট নিয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

কিটের কার্টন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, জিএস মূলত একটি গার্মেন্টস কোম্পানি। সিএমএসডি পরিচালকের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনো যোগ্যতা ছাড়াই এই কোম্পানি কিট সরবরাহ করেছে।

করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট আমদানি করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসি বা অনাপত্তি নিতে হয়। নিউজবাংলার হাতে আসা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসিতে দেখা যায়, কিট সরবরাহকারী প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিনের সানসিউর কোম্পানি। তবে সরাসরি তাদের কাছ থেকে না এনে হংকংয়ের জাইলি ইন্ডস্ট্রি কোম্পানি নামে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এগুলো দেশে আনা হয়েছে।

হংকং থেকে কিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে এনওসি নেয়া হয় ২৩ এপ্রিল। এই এনওসি দেয়ার পূর্ব শর্ত হিসেবে ওয়ার্ক অর্ডার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। তবে এগুলো এনওসি পেয়েছে জিএস বায়োটেক।

অভিযোগ আছে, ক্রয় কমিটি থেকে শুরু করে মূল্য যাচাই কমিটিতে একটি একটি চক্র রয়েছে, যার সবাই সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের ঘনিষ্ঠ।

প্রতিষ্ঠানটির আগের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কেনাকাটার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, কখনও কখনও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় অনুমোদন, অধিদপ্তর অনুমোদন, ক্রয় কমিটি ও মূল্য যাচাই কমিটির মিটিং, নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড ইস্যু, কার্যাদেশ চুক্তি সবই একই তারিখে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, আবু হেনা মোর্শেদ জামান সব ধরনের জরুরি কেনাকাটায় একক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। সবশেষ এক লাখ কিট কেনায় অনিয়মের তথ্য পেয়ে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল মহাখালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর পরিদর্শন করে। সেখানকার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৯ মে জিএস বায়োটেকের কাছ থেকে থেকে এক লাখ পিসিআর কিট বুঝে নিয়েছেন স্টোর কিপার। তবে তার কাছে কোনো ওয়ার্ক অর্ডার বা আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। শুধু জিএস বায়োটেকের একটি অসম্পূর্ণ চালান কপি পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) উপসচিব শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি নই। আমি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখানে অ্যাটাচমেন্টে আছি। কোনো অনিয়মের বিষয়ে জানতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষেরর কাছ থেকে জেনে নেন।’

অন্যদিকে, সিএমএসডির উপ-পরিচালক তউহীদ আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্টি পণ্যের কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম হলে এবং সেক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা দেখব।’

নতুন প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে করোনা কিটের মতো স্পর্শকাতর পণ্য সংগ্রহ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু প্রেসক্রাইবড ফরম্যাট আছে, কোনো কিছু কিনতে হলে সেভাবে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিটিউ একটা প্রতিষ্ঠান আছে, তার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড ডক্যুমেন্ট তৈরি করা থাকে, এই ডক্যুমেন্টস অনুযায়ী কারও যদি লাইসেন্স না থাকে বা অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে তাহলে অটোমেটিক্যালি বাদ পড়ে যাবে। অভিজ্ঞতা না থাকলে তার এগেইন্সেটে একটা পয়েন্ট থাকে।’

তউহীদ আহমদ বলেন, ‘এ বছর টেন্ডার দিয়ে কোনো মালামাল সংগ্রহ করা হয় নাই। যে কয়টা মালামাল কেনা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পারমিশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

বিতর্ক ওঠা এক লাখ কিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপিএম (ডাইরেক্ট পার্চেজ মেথড) পদ্ধতিতে আনা হলে সেটা আমার দেখার বিষয় না, এ বিষয়ে ডিরেক্টরের কাছে জানতে পারেন।’

গত বছর কার্যাদেশ ছাড়া কেনাকাটার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কার্যাদেশ ছাড়া জিনিসপত্র আনায় সমস্যা হয়েছে। বিল-টিল আটকে আছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল করা তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈকত সাহার মোবাইল ফোনে কল করেও সাড়া পায়নি নিউজবাংলা।

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো

পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো

পাবনার ঈশ্বরদীসহ কয়েকটি বিমানবন্দর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশে বর্তমানে আরও ছয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে প্রতিদিন ফ্লাইট ওঠানামা করছে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর মধ্যে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

দেশের তিন জেলায় তিনটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সংস্কার করে ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। এর পাশাপাশি পটুয়াখালীর এয়ারস্ট্রিপ সচল ও খুলনার খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ ও পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন এয়ারস্ট্রিপ তৈরির আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

যেসব বিমানবন্দর সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলো হলো পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শমসেরনগর।

পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। একসময় এ বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চালাত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীর অভাবে ১৯৯৬ সালে ৩ নভেম্বর বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর ১৭ বছর পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট শুরু করে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। পরের বছর ২০১৪ সালের ২৯ মে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে বিমানবন্দরটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বিমানবন্দরটি।

ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ এলাকার বিমানবন্দরটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বন্দরটি সচল ছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে এটি সংস্কার করে চালুর একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে সে উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন হয়নি। বিমানবন্দরটির যে রানওয়ে রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৭২০ ফুট।

মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দরটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি। বর্তমানে বন্দরটি ব্যবহার হচ্ছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণের কাজে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করি বাগেরহাটের বিমানবন্দরটা অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে, এটা অবশ্যই তৈরি করা উচিত। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা ছোটখাটো এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা উচিত।

‘ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালীতে যে এয়ারস্ট্রিপ রয়েছে, এগুলোকে সংস্কার করে চালু করা। একই সাথে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে যে বিমানবন্দর আছে, সেটিকে সংস্কার করে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশে বর্তমানে আরও ছয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে প্রতিদিন ফ্লাইট ওঠানামা করছে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর মধ্যে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

এ ছাড়া খুলনায় খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সরকার। তবে এটি এখন স্থগিত রয়েছে।

খান জাহান আলী বিমানবন্দর সম্বন্ধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুলনার খান জাহান আলী বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের চিন্তা ছিল এটা পিপিই বা সরকারি- বেসরকারি অংশীদারত্বে নির্মাণ হবে। এটার বিষয়ে ভারতীয় একটি ফার্ম স্টাডিও করেছে। তারা দেখেছে পিপিইতে করলে এটার ভায়াবিলিটি কতটা হবে।

‘তারা দেখেছে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে টাকা দিয়ে বিমানবন্দর নির্মাণ করলে খুব বেশি লাভজনক হচ্ছে না। তারা কিছু সাজেশন দিয়ে বলেছিল, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভর্তুকি দিতে হবে অথবা যাত্রীরা পার টিকেটে অতিরিক্ত টাকা দিলে এটাকে লাভজনক করা যাবে। এজন্য এই প্রকল্প আপাতত স্থগিত আছে।’

এই মুহূর্তে দেশে নতুন কোনো বিমানবন্দরের চাহিদা আছে কি না, তা জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, ‘সার্ভিস না থাকলে ডিমান্ড আছে কি না সেটা বোঝা যাবে না। গত ৫ বছর আগেও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট চলত না। এখানে ফ্লাইট দেয়া হয়েছে। এখন এত ডিমান্ড যে ফ্লাইটে কুলানো যাচ্ছে না।

‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পারসপেকটিভ থেকে আমরা যেটা বুঝি, এই বিমানবন্দরগুলো করলে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।’

বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর হিসাবে প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ অ্যাভিয়েশনের বাজার বাড়ছে সাত থেকে আট শতাংশ হারে। চাহিদা পূরণ করতে গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ তিনটি এয়ারলাইনস তাদের বহরে যুক্ত করেছে বেশ কয়েকটি নতুন উড়োজাহাজ।

বেসরকারি খাতে দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১৫ সালে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১২ হাজার। ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখে। আবার ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়।

‘এই দুই বছর গড়ে ১৯ থেকে ২০ লাখ যাত্রী অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত করেছে। এ হিসাবে আমরা দেখছি স্বাভাবিক সময়ে এ অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে সাত থেকে আট শতাংশ হারে। এ অবস্থায় যদি পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দর অন্তত চালু করা যায় তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার আরও বাড়বে।’

তবে এখনই দেশে নতুন কোনো বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিমানবন্দরের চাহিদা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কম সময়ে ভ্রমণ করতে চায়।

‘আমাদের এই বিমানবন্দরগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছিল। বর্তমানে আমাদের এয়ারলাইনসগুলোর বহরে যে উড়োজাহাজ রয়েছে, এগুলো এখানে নামতে পারবে না। বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং একেবারে নতুন করেই করতে হবে। বর্তমান রানওয়েতে এগুলো চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে ইপিজেড হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে, সব মিলিয়ে এখানে এয়ারপোর্ট করার মতো। যে জায়গাগুলোতে বিমানবন্দর ছিল, এগুলো পরিচালনার ব্যপারে আমরা অনেকগুলো কাজে হাত দিয়েছি। কিন্তু আপাতত যেগুলো চালু আছে, সেগুলো আপগ্রেড করার কাজকেই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। এগুলো শেষ হলে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অন্যগুলোও হবে।’

শেয়ার করুন

তালগাছে বাবুইয়ের সংসার

তালগাছে বাবুইয়ের সংসার

কুমিল্লার সদর উপজেলার গোমতী নদী বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকায় তাল ও খেঁজুর গাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা। বর্ষার আগে আগে পাখিগুলো নতুন বাসা বানাতে ব্যস্ত।

বিস্তীর্ণ ধানি জমির প্রান্তর। তার পাশে রয়েছে ছোট ছোট নালা-খাল। এসব খালের পাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছ। গাছে বাসা তৈরিতে ব্যস্ত বাবুই পাখির দল।

আগামী আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের আগেই এসব পাখির বাসায় আসবে নতুন অতিথি। তাই সুন্দর মজবুত বাসা বানাতে ব্যস্ত বাবুই দম্পতি। বাবুই পাখির সংসার পাতার এমন দৃশ্য এখন কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে।

জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খালপাড়ের তালগাছে বাসা তৈরিতে ব্যস্ত সহস্রাধিক বাবুই পাখি। দিনভর ধানিজমি থেকে বাসা তৈরির খড়কুটো সংগ্রহ করে পাখিগুলো। ঠোঁটে করে নিয়ে আসা সেসব খড় দিয়ে জটিল বুননে বাসা তৈরি করে তারা।

রামপুর গ্রামের যুবক মো. রুবেল জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে তার গ্রামে বাবুই পাখির বাসা তৈরি ও ডিম ফুটে ছানা বের হতে দেখেছেন।

রুবেল বলেন, ‘আমরা যহন ছুডু আছিলাম, হেই সময় থাইক্কা দেখতাছি বাইল্লা (বাবুই) পইক আমরার গেরামের তালগাছডির বাসা বান্ধে। আমরা এডিরে বিরক্ত করি না।’

রামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান বলেন, একসময় রামপুরসহ আশপাশের গ্রামে প্রচুর তালগাছ ছিল। সেইসব গাছে আশ্রয় নিত চিল-শকুন। বর্ষার আগে তালগাছে বাসা বাঁধত বাবুই পাখি। বাবুই পাখিরা দিনরাত কিচিরমিচির করত। এখন তালগাছ কমে গেছে। বাবুই পাখিও নেই।

বাবুই বেঁধেছে ঘর তালগাছের ডালে

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ কুমার বাড়ৈ বলেন, ‘বাবুই দলবদ্ধ প্রাণী। কলোনি করে থাকতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাবুই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই।’

বাবুই পাখি সাধারণত তাল, নারিকেল, খেজুর, রেইনট্রি ও কড়ইগাছে বাসা বাঁধে। বাসা উল্টানো কলসের মতো। এরা খুবই পরিশ্রমী পাখি। দুই রকম বাসা তৈরি করে বাবুই। স্ত্রী পাখির জন্য তৈরি বাসা একমুখওয়ালা হয়। যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে স্ত্রী পাখি নিরাপদে ডিম পাড়া, ডিমে তা দেয়া থেকে শুরু করে ছানার যত্ন করতে পারে।

কুমিল্লা গোমতীর নদীর দুই পাড়ে ও চরে দেখা যায় প্রচুর তালগাছ। খাবারের পর্যাপ্ততার কারণে বাবুই পাখি আশ্রয় নিয়েছে সেসব তালগাছে। সদর উপজেলার শাহপুর, গোলাবাড়ী, বুড়িচংয়ের বালিখাড়া, বুড়বুড়িয়াতে প্রচুর বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়। ওইসব এলাকার তাল ও খেজুরগাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা দেখা গেছে।


বাবুই বেঁধেছে ঘর তালগাছের ডালে

গোমতীপাড়ের কৃষক মোজাহিদ মিয়া বলেন, ১০-১২ বছর আগে হাজার হাজার তালগাছ আছিল। আমরা ক্ষেতে কাম করতাম। বহুত বাইল্লা তালগাছে জাগা না পাইয়া অইন্য গাছেও বাসা বানাত। কত বাইল্লা যে আছিল, আল্লায় কইতে পারব। অহন তালগাছ, খেজুরগাছ কমতে কমতে আগের মতো বাইল্লাও দেহি না।’

পাখি বিশেষজ্ঞ রইস উদ্দিন বলেন, ‘বাবুই পাখি উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে তালগাছ, খেজুরগাছে ও কড়ুইগাছে, যেন মানুষসহ অন্য প্রাণী সহজে নাগাল না পায়। তবে মানুষের আগ্রাসী আচরণের কারণে দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা কমে আসছে। কিছুদিন আগেও ধান খাওয়ার অভিযোগে শত শত বাবুই পাখি ও ছানা পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অমানবিক। কারণ বাবুই পাখি পরিবেশের জন্য খুব গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

শেয়ার করুন

চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রূপ বদলে দিয়েছে ফুল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। হলুদ আর নীলচে বেগুনি ফুলে ছেয়ে আছে ব্যস্ত মহাসড়ক।

মহাসড়ক বেয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছে বাস-ট্রাক, পিকআপ। এক পাশ দিয়ে যাচ্ছে। আরেক পাশ দিয়ে আসছে। মাঝে সড়ক বিভাজক।

কুমিল্লা অংশের মহাসড়ক বিভাজকে এখন ফুলের মেলা। মনোমুগ্ধকর হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুলে বিমোহিত পথচারী, যাত্রী ও চালকরা। সেই সাথে লাল কৃষ্ণচূড়া-পলাশ, রাধাচূড়া, কদম ফুলে মন জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে গাছগুলো। ডালে ডালে হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুল দোল খাচ্ছে। পথচারী ও বাহন চালকেরা এসব গাছের ছায়ার বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। পাখির কলকাকলিতে মুখর সড়ক।

মহাসড়কের কুমিল্লার আলেখারচর এলাকায় ট্রাক থামিয়ে সড়ক বিভাজকের ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ট্রাকচালক আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভাই কী কমু, খুবই সুন্দর লাগে ফুলডি। যহন টেরাক চলাইয়া যাই, ফুলডি দেখলে মনে একটা শান্তি শান্তি লাগে।’

যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার হয়ে যায় সারোয়ার হোসেনের। গনগনে রৌদ্র। চাকা সারাইয়ের কাজ শেষ করে সড়ক বিভাজকের সোনালু ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। বলেন, ‘ফুলগাছডির লাইগা হাইওয়েডারে অহন বিদেশ-বিদেশ লাগে। মনে হয় অন্য দেশের রাস্তায় গাড়ি চালাইতেছি।’

বাসচালক আবদুল মুমিন বলেন, ‘এই গাছডি একদিক দিয়া ফুল ফুইট্টা সুন্দর হয়। আরেক দিক দিয়া আমড়ার লাইগা উপকারী। ফুলগাছডির লাইগা রাইতের বেলা রোডের একদিকের আলো আরেক দিকে আইয়ে না।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহনীয় রূপ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া পর্যন্ত হাইওয়ের ১০৪ কিলোমিটার কুমিল্লা জেলার। মহাসড়কের বিভাজকটি এখন ফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ‘নিঃসন্দেহে ফুলগাছ ও গাছের ফুলগুলো এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে। ক্লান্ত শ্রান্ত হলে এই ফুলগাছগুলো আমাদের চোখেমুখে শান্তির প্রলেপ মেখে দেয়।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহনীয় রূপ


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেচ্ছা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে যে সোনালু-কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে তা সত্যি নান্দনিক। তবে আমার পরামর্শ থাকবে মহাসড়কের বিভাজকে গুল্মজাতীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ রোপণের, যেগুলো ডালপালা মেলে না।

‘পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের মাটিতে নাইন-ও-ক্লক, গন্ধরাজ ফুলও লাগানো যেতে পারে। আর মহাসড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে কৃষ্ণচূড়া, হিজল, কদম, চালতা, বকুলগাছ রোপণ করা উচিত। এই গাছগুলো ডালপালা মেলে। সড়কের পাশে এই বৃক্ষগুলো রোপণ করলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না।’

শেয়ার করুন