রোহিঙ্গা শিবিরে তিন বছরে ২০ অগ্নিকাণ্ড

কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে তিন বছরে অন্তত ২০টি অগ্নিকাণ্ড দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা শিবিরে তিন বছরে ২০ অগ্নিকাণ্ড

সবশেষ ২২ মার্চ উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১১ জন রোহিঙ্গার প্রাণ যায়, আহত হন অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। প্রায় ছয় ঘণ্টায় আগুন ৯, ১০, ১১ নম্বর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। ঘর পুড়েছে অন্তত ১০ হাজার। নিঃস্ব হয়েছেন ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকাণ্ড খুব পরিচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন বছরে শিবিরগুলোতে ছোট-বড় ২০টির বেশি আগুন লাগার ঘটনা দেখেছে রোহিঙ্গারা।

এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে অগ্নিকাণ্ডগুলোর সূত্রপাত অজানাই থেকে যাচ্ছে।

সবশেষ ২২ মার্চ উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১১ জন রোহিঙ্গার প্রাণ যায়, আহত হন অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। প্রায় ছয় ঘণ্টায় আগুন ৯, ১০, ১১ নম্বর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। ঘর পুড়েছে অন্তত ১০ হাজার। নিঃস্ব হয়েছেন ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় চলে গেলেও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা-ও বলা যাচ্ছে না। যদিও বলা হচ্ছে, এ ঘটনায় গঠিত সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ড রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া টেকনাফে প্রায় তিন বছরে অন্তত ২০ অগ্নিকাণ্ড দেখেছে সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ১১ জুলাই উখিয়া কুতুপালং ট্রানজিট পয়েন্ট এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ওই দিনের আগুনে স্ত্রী ও তিন সন্তান হারান রোহিঙ্গা শরণার্থী আব্দুর রহমান।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি বুধবার টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে ৫৫২টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তিন হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়ে।

এর কয়েক দিন পর ১৭ জানুয়ারি উখিয়া সফি উল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা শরণার্থী ১৭ নম্বর শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে চারটি লার্নিং সেন্টার পুড়ে যায়।

গত ১৯ মার্চ শুক্রবার উখিয়া কুতুপালং ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আগুনে এনজিওর কয়েকটি হাসপাতাল পুড়ে যায়।

১৭ মার্চ বুধবার টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে যায়। সেখানে আরও অন্তত পাঁচবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

২০২০ সালে আগুনে রোহিঙ্গাদের প্রায় এক হাজার বসতঘর ছাই হয়ে যায়। এছাড়া হাসপাতাল, দোকানপাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা পুড়ে যায়।

২০২০ সালের ১২ মে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬০০ বসতঘর পুড়ে যায়। এর কয়েক দিন পর ১৭ মে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে ৩৫০টি বসতঘর ও ৩০ টি দোকান পুড়ে যায়।

৮ অক্টোবর উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে ৫০টির বেশি বসতঘর পুড়ে যায়। একই বছরের ২৬ এপ্রিল উখিয়া কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ দোকান পুড়ে যায়। ১ এপ্রিল টেকনাফের হোইয়ক্যং চাকয়ারকুল রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্কুলসহ ১৫টি বসতঘর ছাই হয়। ২০১৯ সালের আরও বেশ কয়েকটি আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো বারবার অগ্নিকাণ্ডের জন্য রোহিঙ্গারাই দায়ী। তারা নিজ দেশে ফেরত যেতে চায় না বলে বারবার এ ধরনের কর্মকাণ্ড লিপ্ত হয়।

তারা বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে রোহিঙ্গারা জড়িত এমনকি অনেক রোহিঙ্গাকে আগুন লাগিয়ে দেয়ার সময় হাতেনাতে ধরার পরও তা তদন্তে ওঠে আসে না অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবারই অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে দায় সেরেছে প্রশাসন। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে স্থানীয়দের বাসা বাড়িতে থাকতে দেয়া না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২২ মার্চের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে উখিয়া বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাঝি ছৈয়দ জানান, কীভাবে আগুন লেগেছে জানি না। তবে এ ঘটনায় তার ব্লকের শতাধিক বসতঘর ও দোকান পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

আগুন লাগার কারণ জানিয়ে একই শরণার্থী ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা নারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অইনলাইগ্গেদে হিন লই একেক জনে একেক ডইল্লাহ হতা হর কেচ্ছুয়ে হয়দে অইনধরাই দিয়ে আর কেচ্ছুয়ে হয়দে গ্যাসর চুলাতো অইন লাইগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অইনর দাউ দাউ গরি জ্বইলে দে এক্কান জিনিসও গররতো বাইর গরি নপারি। চোখর সামনে বেগ্গিন পু্রি গেইয়। এহন পযন্ত অল্প কিছু সাহায্য সহযোগিতা পাইয়ি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়ার স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বারবার অগ্নিকাণ্ডের জন্য মূল কারণ যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার। রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে প্রতিটি ঘরে দুই থেকে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও এগুলো ব্যবহার সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। যার কারণে ক্যাম্পে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটেছে।

উখিয়া পাংলখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা পরিকল্পিত। এখনও পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

২২ মার্চের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থার কথা জানিয়ে উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর ক্যাম্প ইনচার্জ তানজিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘরবাড়ি পুড়ে যায় রোহিঙ্গারা ফের ক্যাম্পে আসতে শুরু করেছে। তারা তাবু দিয়ে ঘর তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২২ মার্চ অগ্নিকাণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ড রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।’

বালুখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে কারও যদি দোষত্রুটি পাওয়া যায়, কেউ যদি কর্তব্যে অবহেলা থাকে বা কারও দুরভিসন্ধি থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। ছবি: সংগৃহীত

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া, কেনাকাটার প্রতিটি ধাপে হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম।

সরকারি আইন ও বিধি না মেনেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো-সিএমএসডি) প্রায় ৯ কোটি টাকার করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি কার্যাদেশ ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই এসব কিট কেনা হয়েছে।

এর আগে গত বছরেও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ৩৪৩ কোটি টাকার বিল আটকে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, সেই সমালোচনা রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কোনো রকম চুক্তি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান তার ‘পছন্দের কোম্পানির’ কাছ থেকে এক লাখ কিট কিনেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে সম্প্রতি ৯ কোটি টাকায় ১ লাখ কিট কিনেছে সিএমএসডি। এসব কিট গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়েছে। এর আগে ৬ মে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এ ব্যাপারে অনাপত্তি দেয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে যে কোনো সরবরাহ নেয়ার আগে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন পেতে হয়। আনুষ্ঠানিক দর কষাকষির পর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তাব ঠিক করে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর বিধান রয়েছে।

এই অনুমোদন পাওয়ার পর নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড জারি করে কার্য সম্পাদন জামানত ও কার্য সম্পাদন চুক্তি করে সরবরাহ নেয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে এক লাখ কিট কেনার ক্ষেত্রে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে তার একক সিদ্ধান্তে জিএস বায়োটককে কিট সরবরাহের অনুমতি দেন। কিট সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটিই অস্বচ্ছ হওয়ায় এখানে ব্যাপক দুর্নীতির শংকা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি সরবরাহ কাজে কোনো প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। তবে নতুন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের করোনা কিটের রিএজেন্ট নিয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

কিটের কার্টন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, জিএস মূলত একটি গার্মেন্টস কোম্পানি। সিএমএসডি পরিচালকের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনো যোগ্যতা ছাড়াই এই কোম্পানি কিট সরবরাহ করেছে।

করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট আমদানি করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসি বা অনাপত্তি নিতে হয়। নিউজবাংলার হাতে আসা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসিতে দেখা যায়, কিট সরবরাহকারী প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিনের সানসিউর কোম্পানি। তবে সরাসরি তাদের কাছ থেকে না এনে হংকংয়ের জাইলি ইন্ডস্ট্রি কোম্পানি নামে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এগুলো দেশে আনা হয়েছে।

হংকং থেকে কিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে এনওসি নেয়া হয় ২৩ এপ্রিল। এই এনওসি দেয়ার পূর্ব শর্ত হিসেবে ওয়ার্ক অর্ডার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। তবে এগুলো এনওসি পেয়েছে জিএস বায়োটেক।

অভিযোগ আছে, ক্রয় কমিটি থেকে শুরু করে মূল্য যাচাই কমিটিতে একটি একটি চক্র রয়েছে, যার সবাই সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের ঘনিষ্ঠ।

প্রতিষ্ঠানটির আগের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কেনাকাটার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, কখনও কখনও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় অনুমোদন, অধিদপ্তর অনুমোদন, ক্রয় কমিটি ও মূল্য যাচাই কমিটির মিটিং, নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড ইস্যু, কার্যাদেশ চুক্তি সবই একই তারিখে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, আবু হেনা মোর্শেদ জামান সব ধরনের জরুরি কেনাকাটায় একক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। সবশেষ এক লাখ কিট কেনায় অনিয়মের তথ্য পেয়ে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল মহাখালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর পরিদর্শন করে। সেখানকার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৯ মে জিএস বায়োটেকের কাছ থেকে থেকে এক লাখ পিসিআর কিট বুঝে নিয়েছেন স্টোর কিপার। তবে তার কাছে কোনো ওয়ার্ক অর্ডার বা আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। শুধু জিএস বায়োটেকের একটি অসম্পূর্ণ চালান কপি পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) উপসচিব শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি নই। আমি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখানে অ্যাটাচমেন্টে আছি। কোনো অনিয়মের বিষয়ে জানতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষেরর কাছ থেকে জেনে নেন।’

অন্যদিকে, সিএমএসডির উপ-পরিচালক তউহীদ আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্টি পণ্যের কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম হলে এবং সেক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা দেখব।’

নতুন প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে করোনা কিটের মতো স্পর্শকাতর পণ্য সংগ্রহ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু প্রেসক্রাইবড ফরম্যাট আছে, কোনো কিছু কিনতে হলে সেভাবে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিটিউ একটা প্রতিষ্ঠান আছে, তার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড ডক্যুমেন্ট তৈরি করা থাকে, এই ডক্যুমেন্টস অনুযায়ী কারও যদি লাইসেন্স না থাকে বা অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে তাহলে অটোমেটিক্যালি বাদ পড়ে যাবে। অভিজ্ঞতা না থাকলে তার এগেইন্সেটে একটা পয়েন্ট থাকে।’

তউহীদ আহমদ বলেন, ‘এ বছর টেন্ডার দিয়ে কোনো মালামাল সংগ্রহ করা হয় নাই। যে কয়টা মালামাল কেনা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পারমিশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

বিতর্ক ওঠা এক লাখ কিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপিএম (ডাইরেক্ট পার্চেজ মেথড) পদ্ধতিতে আনা হলে সেটা আমার দেখার বিষয় না, এ বিষয়ে ডিরেক্টরের কাছে জানতে পারেন।’

গত বছর কার্যাদেশ ছাড়া কেনাকাটার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কার্যাদেশ ছাড়া জিনিসপত্র আনায় সমস্যা হয়েছে। বিল-টিল আটকে আছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল করা তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈকত সাহার মোবাইল ফোনে কল করেও সাড়া পায়নি নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো

পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল চায় এয়ারলাইনসগুলো

পাবনার ঈশ্বরদীসহ কয়েকটি বিমানবন্দর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশে বর্তমানে আরও ছয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে প্রতিদিন ফ্লাইট ওঠানামা করছে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর মধ্যে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

দেশের তিন জেলায় তিনটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সংস্কার করে ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। এর পাশাপাশি পটুয়াখালীর এয়ারস্ট্রিপ সচল ও খুলনার খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ ও পার্বত্য এলাকায় একটি নতুন এয়ারস্ট্রিপ তৈরির আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

যেসব বিমানবন্দর সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলো হলো পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শমসেরনগর।

পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। একসময় এ বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চালাত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীর অভাবে ১৯৯৬ সালে ৩ নভেম্বর বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর ১৭ বছর পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর এই বিমানবন্দরে ফ্লাইট শুরু করে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। পরের বছর ২০১৪ সালের ২৯ মে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে বিমানবন্দরটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বিমানবন্দরটি।

ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ এলাকার বিমানবন্দরটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বন্দরটি সচল ছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে এটি সংস্কার করে চালুর একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে সে উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন হয়নি। বিমানবন্দরটির যে রানওয়ে রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৭২০ ফুট।

মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দরটিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি। বর্তমানে বন্দরটি ব্যবহার হচ্ছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণের কাজে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করি বাগেরহাটের বিমানবন্দরটা অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে, এটা অবশ্যই তৈরি করা উচিত। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা ছোটখাটো এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা উচিত।

‘ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালীতে যে এয়ারস্ট্রিপ রয়েছে, এগুলোকে সংস্কার করে চালু করা। একই সাথে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে যে বিমানবন্দর আছে, সেটিকে সংস্কার করে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশে বর্তমানে আরও ছয়টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে প্রতিদিন ফ্লাইট ওঠানামা করছে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর মধ্যে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

এ ছাড়া খুলনায় খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সরকার। তবে এটি এখন স্থগিত রয়েছে।

খান জাহান আলী বিমানবন্দর সম্বন্ধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুলনার খান জাহান আলী বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের চিন্তা ছিল এটা পিপিই বা সরকারি- বেসরকারি অংশীদারত্বে নির্মাণ হবে। এটার বিষয়ে ভারতীয় একটি ফার্ম স্টাডিও করেছে। তারা দেখেছে পিপিইতে করলে এটার ভায়াবিলিটি কতটা হবে।

‘তারা দেখেছে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে টাকা দিয়ে বিমানবন্দর নির্মাণ করলে খুব বেশি লাভজনক হচ্ছে না। তারা কিছু সাজেশন দিয়ে বলেছিল, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভর্তুকি দিতে হবে অথবা যাত্রীরা পার টিকেটে অতিরিক্ত টাকা দিলে এটাকে লাভজনক করা যাবে। এজন্য এই প্রকল্প আপাতত স্থগিত আছে।’

এই মুহূর্তে দেশে নতুন কোনো বিমানবন্দরের চাহিদা আছে কি না, তা জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, ‘সার্ভিস না থাকলে ডিমান্ড আছে কি না সেটা বোঝা যাবে না। গত ৫ বছর আগেও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট চলত না। এখানে ফ্লাইট দেয়া হয়েছে। এখন এত ডিমান্ড যে ফ্লাইটে কুলানো যাচ্ছে না।

‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পারসপেকটিভ থেকে আমরা যেটা বুঝি, এই বিমানবন্দরগুলো করলে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।’

বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর হিসাবে প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ অ্যাভিয়েশনের বাজার বাড়ছে সাত থেকে আট শতাংশ হারে। চাহিদা পূরণ করতে গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানসহ তিনটি এয়ারলাইনস তাদের বহরে যুক্ত করেছে বেশ কয়েকটি নতুন উড়োজাহাজ।

বেসরকারি খাতে দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১৫ সালে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১২ হাজার। ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখে। আবার ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়।

‘এই দুই বছর গড়ে ১৯ থেকে ২০ লাখ যাত্রী অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত করেছে। এ হিসাবে আমরা দেখছি স্বাভাবিক সময়ে এ অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে সাত থেকে আট শতাংশ হারে। এ অবস্থায় যদি পাবনার ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দর অন্তত চালু করা যায় তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার আরও বাড়বে।’

তবে এখনই দেশে নতুন কোনো বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিমানবন্দরের চাহিদা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কম সময়ে ভ্রমণ করতে চায়।

‘আমাদের এই বিমানবন্দরগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছিল। বর্তমানে আমাদের এয়ারলাইনসগুলোর বহরে যে উড়োজাহাজ রয়েছে, এগুলো এখানে নামতে পারবে না। বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং একেবারে নতুন করেই করতে হবে। বর্তমান রানওয়েতে এগুলো চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে ইপিজেড হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে, সব মিলিয়ে এখানে এয়ারপোর্ট করার মতো। যে জায়গাগুলোতে বিমানবন্দর ছিল, এগুলো পরিচালনার ব্যপারে আমরা অনেকগুলো কাজে হাত দিয়েছি। কিন্তু আপাতত যেগুলো চালু আছে, সেগুলো আপগ্রেড করার কাজকেই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। এগুলো শেষ হলে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অন্যগুলোও হবে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

তালগাছে বাবুইয়ের সংসার

তালগাছে বাবুইয়ের সংসার

কুমিল্লার সদর উপজেলার গোমতী নদী বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকায় তাল ও খেঁজুর গাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা। বর্ষার আগে আগে পাখিগুলো নতুন বাসা বানাতে ব্যস্ত।

বিস্তীর্ণ ধানি জমির প্রান্তর। তার পাশে রয়েছে ছোট ছোট নালা-খাল। এসব খালের পাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছ। গাছে বাসা তৈরিতে ব্যস্ত বাবুই পাখির দল।

আগামী আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের আগেই এসব পাখির বাসায় আসবে নতুন অতিথি। তাই সুন্দর মজবুত বাসা বানাতে ব্যস্ত বাবুই দম্পতি। বাবুই পাখির সংসার পাতার এমন দৃশ্য এখন কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে।

জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খালপাড়ের তালগাছে বাসা তৈরিতে ব্যস্ত সহস্রাধিক বাবুই পাখি। দিনভর ধানিজমি থেকে বাসা তৈরির খড়কুটো সংগ্রহ করে পাখিগুলো। ঠোঁটে করে নিয়ে আসা সেসব খড় দিয়ে জটিল বুননে বাসা তৈরি করে তারা।

রামপুর গ্রামের যুবক মো. রুবেল জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে তার গ্রামে বাবুই পাখির বাসা তৈরি ও ডিম ফুটে ছানা বের হতে দেখেছেন।

রুবেল বলেন, ‘আমরা যহন ছুডু আছিলাম, হেই সময় থাইক্কা দেখতাছি বাইল্লা (বাবুই) পইক আমরার গেরামের তালগাছডির বাসা বান্ধে। আমরা এডিরে বিরক্ত করি না।’

রামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান বলেন, একসময় রামপুরসহ আশপাশের গ্রামে প্রচুর তালগাছ ছিল। সেইসব গাছে আশ্রয় নিত চিল-শকুন। বর্ষার আগে তালগাছে বাসা বাঁধত বাবুই পাখি। বাবুই পাখিরা দিনরাত কিচিরমিচির করত। এখন তালগাছ কমে গেছে। বাবুই পাখিও নেই।

বাবুই বেঁধেছে ঘর তালগাছের ডালে

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ কুমার বাড়ৈ বলেন, ‘বাবুই দলবদ্ধ প্রাণী। কলোনি করে থাকতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাবুই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই।’

বাবুই পাখি সাধারণত তাল, নারিকেল, খেজুর, রেইনট্রি ও কড়ইগাছে বাসা বাঁধে। বাসা উল্টানো কলসের মতো। এরা খুবই পরিশ্রমী পাখি। দুই রকম বাসা তৈরি করে বাবুই। স্ত্রী পাখির জন্য তৈরি বাসা একমুখওয়ালা হয়। যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে স্ত্রী পাখি নিরাপদে ডিম পাড়া, ডিমে তা দেয়া থেকে শুরু করে ছানার যত্ন করতে পারে।

কুমিল্লা গোমতীর নদীর দুই পাড়ে ও চরে দেখা যায় প্রচুর তালগাছ। খাবারের পর্যাপ্ততার কারণে বাবুই পাখি আশ্রয় নিয়েছে সেসব তালগাছে। সদর উপজেলার শাহপুর, গোলাবাড়ী, বুড়িচংয়ের বালিখাড়া, বুড়বুড়িয়াতে প্রচুর বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়। ওইসব এলাকার তাল ও খেজুরগাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা দেখা গেছে।


বাবুই বেঁধেছে ঘর তালগাছের ডালে

গোমতীপাড়ের কৃষক মোজাহিদ মিয়া বলেন, ১০-১২ বছর আগে হাজার হাজার তালগাছ আছিল। আমরা ক্ষেতে কাম করতাম। বহুত বাইল্লা তালগাছে জাগা না পাইয়া অইন্য গাছেও বাসা বানাত। কত বাইল্লা যে আছিল, আল্লায় কইতে পারব। অহন তালগাছ, খেজুরগাছ কমতে কমতে আগের মতো বাইল্লাও দেহি না।’

পাখি বিশেষজ্ঞ রইস উদ্দিন বলেন, ‘বাবুই পাখি উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে তালগাছ, খেজুরগাছে ও কড়ুইগাছে, যেন মানুষসহ অন্য প্রাণী সহজে নাগাল না পায়। তবে মানুষের আগ্রাসী আচরণের কারণে দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা কমে আসছে। কিছুদিন আগেও ধান খাওয়ার অভিযোগে শত শত বাবুই পাখি ও ছানা পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অমানবিক। কারণ বাবুই পাখি পরিবেশের জন্য খুব গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

চেনা মহাসড়ক অচেনা লাগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রূপ বদলে দিয়েছে ফুল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। হলুদ আর নীলচে বেগুনি ফুলে ছেয়ে আছে ব্যস্ত মহাসড়ক।

মহাসড়ক বেয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছে বাস-ট্রাক, পিকআপ। এক পাশ দিয়ে যাচ্ছে। আরেক পাশ দিয়ে আসছে। মাঝে সড়ক বিভাজক।

কুমিল্লা অংশের মহাসড়ক বিভাজকে এখন ফুলের মেলা। মনোমুগ্ধকর হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুলে বিমোহিত পথচারী, যাত্রী ও চালকরা। সেই সাথে লাল কৃষ্ণচূড়া-পলাশ, রাধাচূড়া, কদম ফুলে মন জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের আলেখারচর, কালাকচুয়া, চান্দিনায় সড়ক বিভাজকের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে গাছগুলো। ডালে ডালে হলুদ সোনালু ও বেগুনি-নীল জারুল ফুল দোল খাচ্ছে। পথচারী ও বাহন চালকেরা এসব গাছের ছায়ার বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। পাখির কলকাকলিতে মুখর সড়ক।

মহাসড়কের কুমিল্লার আলেখারচর এলাকায় ট্রাক থামিয়ে সড়ক বিভাজকের ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ট্রাকচালক আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভাই কী কমু, খুবই সুন্দর লাগে ফুলডি। যহন টেরাক চলাইয়া যাই, ফুলডি দেখলে মনে একটা শান্তি শান্তি লাগে।’

যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার হয়ে যায় সারোয়ার হোসেনের। গনগনে রৌদ্র। চাকা সারাইয়ের কাজ শেষ করে সড়ক বিভাজকের সোনালু ফুল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। বলেন, ‘ফুলগাছডির লাইগা হাইওয়েডারে অহন বিদেশ-বিদেশ লাগে। মনে হয় অন্য দেশের রাস্তায় গাড়ি চালাইতেছি।’

বাসচালক আবদুল মুমিন বলেন, ‘এই গাছডি একদিক দিয়া ফুল ফুইট্টা সুন্দর হয়। আরেক দিক দিয়া আমড়ার লাইগা উপকারী। ফুলগাছডির লাইগা রাইতের বেলা রোডের একদিকের আলো আরেক দিকে আইয়ে না।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহনীয় রূপ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া পর্যন্ত হাইওয়ের ১০৪ কিলোমিটার কুমিল্লা জেলার। মহাসড়কের বিভাজকটি এখন ফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ‘নিঃসন্দেহে ফুলগাছ ও গাছের ফুলগুলো এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে। ক্লান্ত শ্রান্ত হলে এই ফুলগাছগুলো আমাদের চোখেমুখে শান্তির প্রলেপ মেখে দেয়।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহনীয় রূপ


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেচ্ছা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভাজকে যে সোনালু-কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে তা সত্যি নান্দনিক। তবে আমার পরামর্শ থাকবে মহাসড়কের বিভাজকে গুল্মজাতীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ রোপণের, যেগুলো ডালপালা মেলে না।

‘পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের মাটিতে নাইন-ও-ক্লক, গন্ধরাজ ফুলও লাগানো যেতে পারে। আর মহাসড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে কৃষ্ণচূড়া, হিজল, কদম, চালতা, বকুলগাছ রোপণ করা উচিত। এই গাছগুলো ডালপালা মেলে। সড়কের পাশে এই বৃক্ষগুলো রোপণ করলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

শত বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ডানা মেলা তমাল

শত বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ডানা মেলা তমাল

তমালগাছের পাতা লম্বা-আয়তাকার যা দেখতে অনেকটা পানপাতার মতো। ফুল আকারে বেশ ছোট ও সাদা রঙের। এদের পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদা আলাদা। পুরুষ ফুল ৪ সেন্টিমিটার চওড়া, একসঙ্গে ছোট ছোট থোকায় কয়েকটি থাকে। স্ত্রী ফুল ১ সেন্টিমিটার চওড়া ও এককভাবে বিন্যস্ত থাকে।

তমাল রূপসী বাংলার নান্দনিক ছায়াতরুর অন্যতম। প্রকৃতির গুণমুগ্ধ কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় অসংখ্যবার তমালতরুর কথা বলেছেন। আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘কোন তমালের কাননতলে মধ্যদিনের তাপে; বনচ্ছায়ার শিরায় শিরায় তোমার সুর কাঁপে।’

এ ছাড়া বৈষ্ণব কবিতা, লোকগীতি, এমনকি সংস্কৃত কাব্যেও তমালগাছকে বেশ মর্যাদাসীন বৃক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের সাহিত্যের একটি বিশেষ অংশজুড়ে তমালের প্রশস্তি থাকলেও বস্তুত গাছটি দুর্লভ।

মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের বাজার এলাকায় রয়েছে শতবর্ষের সাক্ষী এক তমালগাছ। নবগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে এর অবস্থান। নদীর হিমেল বাতাসে ছুঁয়ে যাচ্ছে তমালগাছের ছায়া। সেই শীতল ছায়ায় বসে এই গরমে মন জুড়ান পথিকরা।

তবে স্থানীয় অনেকেই জানেন না এই মহিরুহের নাম। যারা জানেন তারা যত্নে আগলে রেখেছেন। পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে অক্ষত রেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোকারম বলেন, ‘আমার বয়স আশি হয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকে গাছটি এভাবেই দেখছি। এমনকি আমার বাবাও গাছটি এভাবে দেখেছেন বলে শুনেছি। তারা নেই। কিন্তু গাছের নিচে তাদের বসে বিশ্রাম নেয়ার গল্প শুনেছি। এই গাছ সেই স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলে।’

গাছটির পাশেই কাপড়ের দোকানি হাফিজ। তিনি জানান, গাছটির ছায়া খুব ঠান্ডা। অনেক বছর ধরে এখানেই আছে। পুরান গাছ বলে জানি। কিন্তু নাম তমাল তা জানতাম না।’

তমালগাছটির নিচে রয়েছে প্রণব অধিকারীর চায়ের দোকান। বাবা নির্মল অধিকারীও এখানে ৩৫ বছর চা বিক্রি করে গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর ছেলে প্রণব চায়ের দোকানটি ধরে রাখেন। বাবার স্মৃতিবিজড়িত এই তমালগাছের নিচে এলে তার মনে পড়ে যায় বাবার কথা, ঠাকুরদার কথা।

মাগুরা তমাল গাছ

প্রণবের দোকানে চা খেতে খেতে একজন বলেন, ‘গাছটি বাতাসে দোল খায়। শীতল বাতাস গায়ে লাগে। গরম নেই সেই বাতাসে। খুব গরম পড়লি আমরা এই চায়ের দোকানে বসে গাছের ছায়ায় থাকি।’

মাগুরা জেলায় এ রকম বয়স্ক তমালগাছ দেখা যায় না। যা দু-একটি ছিল, তা এখন কাটা পড়ে গেছে পাকা দালান নির্মাণে। একমাত্র শত্রজিৎপুরে দেখা এই বয়স্ক গাছটিই মাগুরাতে পুরোনো তমালগাছ।

সেজন্য এটির যত্ন দরকার বলে মনে করেন শত্রজিৎপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, তমাল ‘Diospyros cordifolia’ মাঝারি আকৃতির গাছ। ঘন কালো গাঁটযুক্ত কাণ্ড। এই কাণ্ড কখনও কখনও কণ্টকিত, আঁকাবাঁকা ও ছড়ানো শাখা-প্রশাখাগুলো ছত্রাকৃতির। এর ছায়া খুব শীতল। শত্রজিৎপুর বাজার এলাকাতেই এ গাছটি দেখা যায়।

তিনি আরও জানান, অনেকে এই দুর্লভ গাছকে চেনেন না। এর পাতা লম্বা-আয়তাকার যা দেখতে অনেকটা পানপাতার মতো। ফুল আকারে বেশ ছোট ও সাদা রঙের। এদের পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদা আলাদা।

পুরুষ ফুল ৪ সেন্টিমিটার চওড়া, একসঙ্গে ছোট ছোট থোকায় কয়েকটি থাকে। স্ত্রী ফুল ১ সেন্টিমিটার চওড়া ও এককভাবে বিন্যস্ত থাকে।

এই গাছের ফল গোলাকার, হলুদ রঙের এবং গাবের মতোই বৃতিযুক্ত। কাঠের রং লালচে-হলুদ রঙের এবং দৃঢ় ও শক্ত। পাতা ও ফল মাছের বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আদি আবাস মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের উষ্ণ অঞ্চলে। বীজ থেকে খুব সহজেই চারা জন্মে। সুদর্শন ছায়াবৃক্ষ হিসেবে চারপাশে আরও প্রচুর পরিমাণে তমালতরু থাকা প্রয়োজন বলে পরামর্শ দেন কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

মিতু হত্যার পর বাবুলের তিন বিয়ে

মিতু হত্যার পর বাবুলের তিন বিয়ে

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু ও দুই সন্তানের সঙ্গে বাবুল আকতার। ফাইল ছবি

মিতুর মা জানান, চট্টগ্রামে থাকার সময় ওয়েল ফুডে চাকরি করা এক নারীর সঙ্গে বাবুলের পরিচয় হয়। মিতু মারা যাওয়ার পর ওই নারীকে ঢাকায় এনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন তিনি। এরপর খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করেন বাবুল। সবশেষ ৪-৫ মাস আগে কুমিল্লার এক মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন।

মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন তার স্বামী পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আকতার। এর মধ্যে দুজনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, বর্তমানে একজনের সঙ্গে সংসার করছিলেন তিনি।

মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ বুধবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মিতু মারা যাওয়ার আগে বাবুর (বাবুল আকতার) সঙ্গে ভারতের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মিতু কৌশলে সেটা জেনে যায়। শুধু ওই নারী নয়, আরও কয়েক জনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যাদের মধ্যে দুই জনকে নিয়ে মিতুর মৃত্যুর পর সে সংসার করেছে। আরেকটি বিয়ে করেছে পারিবারিকভাবে।’

মিতুর মা জানান, চট্টগ্রামে থাকার সময় ওয়েল ফুডে চাকরি করা এক নারীর সঙ্গে বাবুলের পরিচয় হয়। মিতু মারা যাওয়ার পর ওই নারীকে ঢাকায় এনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন বাবুল। এক পর্যায়ে ওই নারী বাবুলকে ছেড়ে চলে যান।

এরপর খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করেন বাবুল। তবে ওই সংসারও বেশি দিন টেকেনি। সবশেষ ৪-৫ মাস আগে কুমিল্লার এক মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন। মিতুর মায়ের অভিযোগ কুমিল্লার মেয়েটির সঙ্গেও বাবুলের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে থাকছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের ৫ জুন মিতুকে হত্যার পর বাবুল আকতার দুই সন্তানকে নিয়ে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায় শ্বশুরের বাসায় ওঠেন। মিতুর মা নিউজবাংলাকে বলেন, সে সময় বাবুলের কান্না ও ‘নিখুত অভিনয়’ তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল। তবে সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবুল সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা ভাঙতে শুরু করে।

শাহেদা মোশাররফ বলেন, ‘তিন বছর আগে হঠাৎ করেই সে (বাবুল) আমাদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আমার দুই নাতিকে নিয়ে চলে যায়।’

মিতুর দুই সন্তান নানা-নানির থেকে বিচ্ছিন্ন

মিতুর মা শাহেদা মোশাররফ অভিযোগ করেন, তাদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বাবুল তার দুই ছেলে-মেয়েকে নানা-নানির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। তিন বছরে এক বারের জন্যও মিতুর বাবা-মার সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি।

মিতুর ছেলে রাজধানীর একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে বলে জানান শাহেদা মোশাররফ। আর মেয়েকে সম্প্রতি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহেদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়ে মারা যাওয়ার পর তার দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের বাকি সময় পার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবুল ওদের আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখছে। আমাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয় না, কথা বলতে দেয় না, আমাদের ফোন রিসিভ করে না। বাসায় গেলে দারোয়ান দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

‘অথচ মিতুর বিয়ের পর ওর থাকা-খাওয়া সবকিছুর ব্যবস্থা করতাম আমরা। ওরা অন্যের বাসায় যাতে না থাকে সেজন্য আমরা ঢাকায় বাসা করে দিলাম। বিসিএসে পুলিশ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই ওরা থাকত।’

মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ। ছবি: নিউজবাংলা

দুই নাতির জিম্মা চান নানা-নানি

মিতুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাবুল আকতার। বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন মিতুর বাবা-মা।

মিতুর মা বলেন, ‘এখন ওদের কী হবে? এই দুইটা মুখে দিকে তাকিয়ে কটা দিন বাঁচতে চাইছিলাম। বাবু আমাদের সঙ্গে ওদের থাকতে দিলো না। আলাদা করে দিছে। বাচ্চাগুলো সৎ মার কাছে আছে। আমরা ওদের লালন-পালন করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, এই দুই শিশুকে আমাদের কাছে থাকতে দেয়া হোক।’

মিতুর বাবা-মা নিরাপত্তা শঙ্কায়

বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে মামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন মিতুর মা শাহেদা মোশাররফ।

তিনি বলেন, ‘পরশু দিন (সোমবার) মিতুর বাবাকে পিবিআইয়ের ঢাকা অফিসে যেতে বলা হয়। আমরা এই মামলা নিয়ে আশা ছেড়ে দিছিলাম। বিকেলে মিতুর বাবা বাসায় ফিরে এসে, শুধু বলল, মিতুর জন্য দোয়া করো, ভালো খবর আছে। আমাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। এরপর ভোররাতে সেহরি করে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু এই খবরটা আমরা কাউকে জানতে দেইনি। ভয় ছিল, বাবুল বা বাবুলের লোকজন জানতে পারলে কোনো ঝামেলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাবুলকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর থেকেই ভয়ে আছি। গেট এখন বন্ধ করে রাখি। বাসায় আমার আরেক মেয়ে ও মেয়ের স্বামী তাদের সন্তানসহ থাকে। তাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভয় হচ্ছে।’

মামলাটি নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়ায় এবার সঠিক বিচারের আশা দেখছেন মিতুর মা। তিনি বলেন, ‘বাবুলের অবৈধ সম্পর্ক মিতু জেনে গিয়েছিল, এটা কি তার অপরাধ। ওকে নিয়ে সংসার না করতে চাইলে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিত। কিন্তু ওকে কেন হত্যা করল? ও (বাবুল) পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে মেরেছে, আমরা সঠিক বিচার চাই।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মাহমুদা খাতুন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। মিতুর স্বামী চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তখনকার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আকতার সে সময় ঢাকায় ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামে। ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামে গিয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন বাবুল আক্তার। তার অভিযোগ ছিল, জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

মিতু হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ২০১৬ সালের ২৪ জুন খিলগাঁওয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আকতারকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরেই ছড়িয়ে পড়ে, বাবুলকে পুলিশ বাহিনী থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

এর দেড় মাস পর বাবুল আকতার ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর মিতুর বাবা-মাও তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ ছিল প্রায় নিশ্চুপ। এরপর আদালতের নির্দশনায় গত বছর এ মামলার দায়িত্ব ডিবির কাছ থেকে বুঝে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রায় দেড় বছরের চেষ্টায় নতুন ক্লু পেয়ে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে পিবিআই। মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুলই এখন নতুন করে হওয়া মামলার মূল আসামি।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় বুধবার নতুন এই হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। এতে বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পিবিআই।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

ঘৃণার জবাব ভালোবাসায় দিলেন চঞ্চল চৌধুরী

ঘৃণার জবাব ভালোবাসায় দিলেন চঞ্চল চৌধুরী

ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা ছবি

চঞ্চল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাদের বিদ্বেষের জবাব ফেসবুকেই দিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তারা প্রতিবাদ করছেন। আমার ও আমার মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন। দেশে এই মানুষদের সংখ্যাই এখনও বেশি। এই মানুষেরাই আমাদের আশার জায়গা।’

মা দিবসে নিজের মায়ের সঙ্গে একটি ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। মা-ছেলের হাসিমাখা মুখ। মিষ্টি ছবি। কিন্তু এমন সুন্দর ছবিতেও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন অনেকে। গুণী এই অভিনেতার ধর্মপরিচয় নিয়ে তারা কটাক্ষ করেন।

ফেসবুকে দেয়া ছবিতে চঞ্চলের মায়ের কপালে ও সিঁথিতে ছিল সিঁদুর- বাঙালি হিন্দু নারীদের যেমন থাকে! মায়ের সিঁদুরশোভিত কপাল দেখেই চঞ্চলের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক মন্তব্য ছুড়ে দেন অনেকে।

উগ্রবাদীদের এমন মন্তব্যে বিব্রত হলেও চঞ্চল চৌধুরী মনে করেন, বিদ্বেষ পোষণকারীরা সংখ্যায় একেবারেই সামান্য।

চঞ্চল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাদের বিদ্বেষের জবাব ফেসবুকেই দিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তারা প্রতিবাদ করছেন। আমার ও আমার মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন। দেশে এই মানুষদের সংখ্যাই এখনও বেশি। এই মানুষেরাই আমাদের আশার জায়গা।’

ফেসবুকের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে সোমবার দুপুরে কথা হয় চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ধর্মের কারণে পরিচিত না। কর্মের মাধ্যমে পরিচিত। আমার যা কিছু অর্জন, যা কিছু পরিচিতি সব আমার কাজের কারণে। এ দেশের মানুষজনই আমাকে ভালোবেসে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। ফলে আমার ধর্মীয় পরিচয় কী সেটা মুখ্য বিষয় নয়। কর্মই আমার মূল পরিচয়।’

যারা ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তাদের প্রতি বিশেষ কোনো মন্তব্য নেই চঞ্চলের। বলেন, ‘এদের নিয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাই না। এটা তাদের ক্ষুদ্রতা-দীনতার প্রকাশ। এসব রুচিহীন মন্তব্যকারীদের জন্য আমার করুণা হয়।’

চঞ্চল চৌধুরী আগেও ফেসবুকে বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘এগুলো একটা পরিকল্পনার অংশ। মানুষজনকে বিব্রত করার জন্য একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধভাবে এসব করে থাকে। এরা সংখ্যায় সামান্য হলেও সংঘবদ্ধ।’

চঞ্চল চৌধুরী মনে করেন এই গোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে ভালো মানুষদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। ধর্ম নিয়ে উগ্রতাকে সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে। ভালো মানুষেরা সংগঠিত না থাকার সুযোগ এই গোষ্ঠী নিচ্ছে বলেও মনে করেন চঞ্চল।

ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নয়, বরং মুক্তমনা মানুষই এখানে সবচেয়ে সংখ্যালঘু। যারা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখেন, মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করেন- তারাই দিন দিন সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছেন।

চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো আমার ধর্ম বেছে নেইনি। জন্মসূত্রে আমি তা পেয়েছি, কিন্তু আমার কর্মের দায় আমার। মানুষের কর্ম দিয়ে তার বিচার হবে।’

মনপুরা, আয়নাবাজি এমন অনেক দর্শকনন্দিত ছবির এই অভিনেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘পৃথিবী অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সভ্যতা সবদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা এখনো ক্ষুদ্রতা ধারণ করে আছি। নিজের ভেতরের এই দীনতাকে জয় করতে না পারলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।’

চঞ্চল বলেন, ‘আমার কাজ আপামর মানুষের জন্য। কোনো বিশেষ ধর্ম বা গোষ্ঠীর মানুষের জন্য না। একজন শিল্পী কোনো ধর্মের নন। তিনি সকল মানুষের।’

এর আগে ফেসবুকেই বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকারীদের জবাব দেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি লেখেন, ‘ভ্রাতা ও ভগ্নিগণ। আমি হিন্দু নাকি মুসলিম তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কী? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘‘মানুষ"। ধর্ম নিয়ে এ সকল রুচিহীন প্রশ্ন ও বিব্রতকর আলোচনা সকল ক্ষেত্রে বন্ধ হোক। আসুন, সবাই মানুষ হই।'

উগ্রবাদীদের উদ্দেশে চঞ্চল চৌধুরীর এই জবাব ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। অনেকেই চঞ্চলের এই বক্তব্য ও মায়ের সঙ্গে তার ছবি শেয়ার করে বিদ্বেষপোষণকারীদের সমালোচনা করছেন। অনেক নির্মাতা-অভিনেতাও দাঁড়িয়েছেন চঞ্চলের পাশে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ভাষায় হচ্ছে কোরআনের অনুবাদ
ভাসানচর পরিদর্শন করলেন ১০ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার
ষষ্ঠ ধাপের ২য় পর্যায়ে ভাসানচরে আরও ২১৪৭ রোহিঙ্গা
উখিয়ায় বাজারে আগুন, নিহত ৩ রোহিঙ্গা
ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে আরও ২১২৮ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন