× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিশেষ
একযুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৪২ রায়ে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড
google_news print-icon

এক যুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: ৪২ রায়ে ৭১ মৃত্যুদণ্ড

এক-যুগে-আন্তর্জাতিক-অপরাধ-ট্রাইব্যুনাল-৪২-রায়ে-৭১-মৃত্যুদণ্ড
একাত্তরে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক যুগে ট্রাইব্যুনাল থেকে যুদ্ধাপরাধে ৪২টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১০৩ জন; এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে ৭১ জনের। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ছয়জনের।

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পেরিয়ে ১২ বছরে পদার্পণ করল বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ)। প্রায় এক যুগে ট্রাইব্যুনাল থেকে যুদ্ধাপরাধে ৪২টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১০৩ জন; এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে ৭১ জনের।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার জায়গা অনেকখানি পূরণ হয়েছে এমন দাবি করছে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা। তবে হতাশার কথাও বলছেন বিচারপ্রার্থী, সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার এক যুগে প্রত্যাশ-প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। এখনও যেসব মামলায় বিচার চলছে সেগুলো শেষ হলে তবেই পূর্ণতা পাবে।’

আপিল বিভাগের সাবেক এই বিচারপতি বলছেন, দেশের মানুষ যে ধরনের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের দাবি করেছিলেন, তার ফলাফল তারা পেয়েছেন। বিভিন্ন বাধাবিপত্তির পরও ট্রাইব্যুনাল থেকে সাফল্যজনক বিচারে অগগ্রতি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

অপ্রতুল জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট নিয়ে এত অল্প সময়ে এতগুলো মামলার রায়কে অবিস্মরণীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সানাউল হক। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঘটনার ৪০ বছর পর বিচার শুরু করেও বিচারে যে অগগ্রতি হয়েছে, তা বিশ্বের মধ্যে একটি ইতিহাস হয়েছে বলে আমি মনে করি। এই বিচারের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে। আর এ জন্য আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং সাক্ষীদের সাহসী ভূমিকার অবদান রয়েছে।’

আরও যেসব মামলা বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন আছে সেগুলো দ্রুত সময়ে শেষ হবে বলে প্রত্যাশা করেন সানাউল হক। তবে সাক্ষী সুরক্ষা আইন না থাকায় ভবিষ্যতে সাক্ষীরক্ষায় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলেও মনে করছেন তিনি।

তদন্ত সংস্থার প্রধান বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত শতভাগ সক্ষমতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে তদন্ত সংস্থা। আমাদের দেয়া প্রত্যেকটি মামলার প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামিদের সাজা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শতভাগ সাজা হয়েছে। এটাই আমাদের তদন্ত সংস্থার অর্জন।’

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একাত্তরে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হয়েছে। কিছু কার্যকর হয়েছে। এখনও চলছে। আমরা যে বিচার করতে পেরেছি, এটাই আমাদের সফলতা।

‘অনেক প্রতিকূলতা দূর করে আমরা বিচারকাজকে এগিয়ে নিয়েছি। এই বিচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেকে সার্থক বলেও মনে করছি। যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেকটা এগিয়ে আছি। তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

হায়দার আলী জানান, এখনও যে পরিমাণ মামলা পেন্ডিং আছে সেগুলো শেষ করতে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল চালু করা দরকার। করোনার কারণে বিচারে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতাও তৈরি হয়েছে।

এক যুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: ৪২ রায়ে ৭১ মৃত্যুদণ্ড
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ। ফাইল ছবি

তবে ট্রাইব্যুনালের অর্জন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রচুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরকার প্রথম দিকে এর প্রতি আন্তরিক থাকলেও রহস্যজনকভাবে পরে কেন জানি ভাটা পড়েছে।

‘হঠাৎ করে দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে একটি ট্রাইব্যুনাল করে দেয়া হলো। এরপর বিভিন্ন সময় প্রসিকিউটরসহ জনবল এবং লজিস্টিক সংকট হলেও সেটি আর পূর্ণ করা হয়নি। এখন পুরো বিষয়টি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশারও সৃষ্টি হয়েছে।’

শাহরিয়ারের মতে, ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু বিচার হলেও সংগঠন হিসেবে পাকিস্তান হাইকমিশন এবং জামায়াতের বিচার অধরাই রয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণেই শেখ হাসিনা ইতিহাসে বেঁচে থাকবেন। দ্রুত এ বিচার শেষ করতে বিভাগীয় পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা দরকার।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। প্রথমে একটি ট্রাইব্যুনাল থাকলেও বিচারকাজে গতি আনতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর দুজন বিচারপতির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ট্রাইব্যুনাল ২ নাম নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমে এলে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুটি ট্রাইব্যুনালকে একীভূত করে পুনরায় একটি করা হয়। এরপর থেকে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে।

বর্তমানে বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি ট্রাইব্যুনাল চলমান আছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ৪২টি মামলায় ১০৩ জনের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। বিচারাধীন আছে ৩৮টি মামলা, যার আসামিসংখ্যা ২৩২ জন। এ ছাড়া আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০টি মামলা। যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

এক যুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: ৪২ রায়ে ৭১ মৃত্যুদণ্ড
ট্রাইব্যুনালের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয় জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর। ফাইল ছবি: এএফপি

ফাঁসি কার্যকর ছয়জনের

ফাঁসি কার্যকর হয়েছে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মুহম্মদ কামারুজ্জামান, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী ও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর।

এর মধ্যে কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে রায় দেয়। এ রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। আন্দোলনের মুখে আইন সংশোধন করে সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। ওই আপিলের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দিয়েছিল। পরে আপিল বিভাগ তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। এরপর থেকে জামায়াতের এই নেতা কারাবাস করছেন।

কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল। একই বছরের ২২ নভেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদেরকে। পরের বছরের ১০ মে ফাঁসি দেয়া হয় মতিউর রহমান নিজামীকে। ২০১৬ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় মীর কাসেম আলীর।

ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ৭১ জনের। আমৃত্যু কারাবাস দেয়া হয়েছে ২২ জনকে, যাবজ্জীবন সাজা হয় চারজনের। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় ছয়জনের এবং খালাস পান একজন।

এক যুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: ৪২ রায়ে ৭১ মৃত্যুদণ্ড
ফাঁসিতে ঝুলতে হয় আরেক জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে। ফাইল ছবি: এএফপি

সালভিত্তিক রায়

২০১০ সালের ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা হলেও রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। এর আগে মামলার তদন্ত শুরু হয়ে অভিযোগ গঠন, তারপর সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ। এরপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে রায় শুরু হয়। ওই বছরে দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে মোট ৯টি রায় ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে ছয়টি, ২০১৫ সালে ছয়টি, ২০১৬ সালে ছয়টি, ২০১৭ সালে দুইটি, ২০১৮ সালে ছয়টি, ২০১৯ সালের ছয়টি এবং ২০২১ সালে (২৩ মার্চ পর্যন্ত) একটি। করোনার কারণে ২০২০ সালে ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনো মামলার রায় আসেনি।

এক যুগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: ৪২ রায়ে ৭১ মৃত্যুদণ্ড
যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি হয়েছে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে বর্তমানে আপিলে বিচারের অপেক্ষায় আছেন ৩০ জন। তারা হলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম (ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে), জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মো. কায়সার, মোবারক হোসেন (আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা), আব্দুল জব্বার, মাহিদুর রহমান, সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, খান মো. আকরাম হোসেন, ফোরকান মল্লিক, ওবায়দুল হক (তাহের), আতাউর রহমান ননী, মজিবুর রহমান (আঙ্গুর মিয়া), মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, শামসুল হক, এস এম ইউসুফ আলী, মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিল্লাল হোসেন, মো. মোসলেম প্রধান, মো. আব্দুল লতিফ, ইউনুছ আহমেদ, আমীর আহম্মেদ ওরফে আমীর আলী, মো. জয়নুল আবেীদন, মো. আব্দুল কুদ্দুস, হামিদুর রহমান আজাদ, এ গনি ওরফে এ গনি হাওলাদার, মো. রিয়াজ উদ্দিন ফকির, মো. আকমল আলী তালুকদার, মো. ইসহাক সিকদার, মো. আব্দুল কুদ্দুস ও মো. মাহবুবুর রহমান।

অন্যদিকে তদন্ত সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, তদন্তাধীন আছে ২৮টি মামলা। যার আসামিসংখ্যা ৪০ জন। তদন্ত সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা রয়েছে ৬৯০টি।

আরও পড়ুন:
মহেশখালী আ. লীগের মেয়র প্রার্থী প্রত্যাহার দাবি
যুদ্ধাপরাধে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল এই দিন
আইনি জটিলতায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থবির

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
Minister hopes black market of train tickets will be closed forever

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ হবে, আশা মন্ত্রীর

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ হবে, আশা মন্ত্রীর প্রতীকী ছবি
মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ট্রেনের টিকেটে কালোবাজারি থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। আশা করি চিরতরে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে।’

সরকারের তৎপরতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম।

মুক্তিযুদ্ধকালীন রণাঙ্গনের স্মৃতি বিজড়িত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষলোটাকা গ্রাম পরিদর্শনকালে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন দাবি করেন বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ট্রেনের টিকেটে কালোবাজারি থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। আশা করি চিরতরে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে।’

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমি এই ষলোটাকা গ্রামে রাতযাপনও করেছি। দেশ স্বাধীনতার বড় একটা ভূমিকা ছিল এই গ্রামের মানুষের।’

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে মুজিবনগর থেকে মেহেরপুর রেললাইন স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ রেললাইন স্থাপনকাজ দ্রুত শুরু হবে।

রেলপথমন্ত্রী সড়কপথে দুপুরে মেহেরপুরে পৌঁছালে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু সালেহ মো. নাজমুল হক সাগর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও গাংনী পৌরসভার মেয়র আহম্মেদ আলী।

আরও পড়ুন:
ঝালকাঠির নলছিটিতে থামবে ট্রেন, দখিনা জনপদে হচ্ছে ১২টি স্টেশন
ফেনীতে ট্রাক-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬
ফেনীতে রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রাক-ট্রেন সংঘর্ষ, নিহত ২
মুন্সীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু
ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম থেকে চলবে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন

মন্তব্য

বিশেষ
The fire may spread to 6 divisions including Dhaka

বিস্তৃত হতে পারে ঢাকাসহ ৬ বিভাগের দাবদাহ

বিস্তৃত হতে পারে ঢাকাসহ ৬ বিভাগের দাবদাহ মাথায় কাপড় দিয়ে উত্তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা এক ব্যক্তির। ফাইল ছবি
তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে ‍মৃদু দাবদাহ চলছে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এটি বিস্তার লাভ করতে পারে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন বার্তা দিয়েছে।

পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ নিয়ে বলা হয়, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:
গরম কমছে
দুই দিন কমে মঙ্গলবার থেকে বাড়তে পারে গরম
দিনে আরও বাড়তে পারে গরম
দিনে গরম বাড়বে
বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি, আরও ঘামবে মানুষ

মন্তব্য

বিশেষ
Opportunity to check popularity in upazila elections Tajul

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওই সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যে কেউ চাইলে প্রার্থী হতে পারেন, তবে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কোথাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।’

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যেও দেশের মানুষ তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। দেশে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে।’

ওই সময় মন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষের সক্ষমতা ও রুচি উন্নত হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। যোগ্যরাই টিকে থাকে। তাই মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য।’

সমাজে সবাইকে সৎ আচরণ অনুশীলন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে।’

ঈদ পুনর্মিলনী সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দিন, হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, লক্ষ্ণণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সেলিম কাদের চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচসাসহ কাউন্সিলররা। অনুষ্ঠান শেষে তারা এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ওই সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, বিএনপি আসে নিতে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা মোদির
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
জিম্মি নাবিকরা ভালো আছেন, তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বিশেষ
Sadarghat launch tragedy Five accused on three day remand

সদরঘাট লঞ্চ ট্র্যাজেডি: তিন দিনের রিমান্ডে পাঁচ আসামি

সদরঘাট লঞ্চ ট্র্যাজেডি: তিন দিনের রিমান্ডে পাঁচ আসামি সদরঘাটে এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চটির ছিঁড়ে যাওয়া দড়ির আঘাতেই আশপাশে থাকা পাঁচজন প্রাণ হারান। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/নিউজবাংলা
রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) আবদুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে দুই লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লেগে রশি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় হওয়ায় মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার ও ম্যানেজার। বাকি দুজন এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের মাস্টার।

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা চৌধুরী হিমেল শুক্রবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির বাবুল নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার সদরঘাট নৌ পুলিশের সদস্যরা আসামিদের আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশি রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক নকীব অয়জুল হক। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) আবদুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) সেলিম হাওলাদার (৫৪), ম্যানেজার ফারুক খান (৭০), এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার (চালক) মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার (চালক) মনিরুজ্জামান (২৮)।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ২টা ৫৫ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনালের ১১ নম্বর পল্টুনে এমভি তাসরিফ-৪ নোঙর করা অবস্থায় এমভি ফারহান-৬-এর চালক বেপরোয়া গতিতে লঞ্চ চালিয়ে ১১ নম্বর পন্টুনে ঢোকার সময় তাসরিফ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে তাসরিফ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। সেটি দ্রুত গতিতে এসে পন্টুনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের আঘাত করলে তারা নদীতে পড়ে যায়। এতে এক পরিবারের তিনজনসহ পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফারহান এবং তাসরিফ লঞ্চের দায়িত্ব অবহেলা আছে।

লঞ্চ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের প্রয়াত আবদুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে সাইমা (৩)। প্রাণ হারানো বাকি দুজন হলেন পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মৃত প্রত্যেকের নমিনির কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে পাঁচ যাত্রী নিহত
ঈদের সকালে হরিয়ানায় স্কুলবাস উল্টে ৬ শিশু নিহত, ‘মদ্যপ ছিলেন’ চালক
নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
চট্টগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২
শেষ কর্মদিবসে সদরঘাট ছেড়েছে যাত্রীভর্তি লঞ্চ

মন্তব্য

বিশেষ
The Prime Minister wished the countrymen a happy New Year

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন, বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।’

দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসুন নতুন বছরে অতীতের সকল ব্যর্থতা-দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি।’

রোববার ১৪৩১ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে শুক্রবার দেয়া বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সংবলিত এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

‘বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন, বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।’

প্রধানমন্ত্রী কবি সুফিয়া কামালের ভাষায় উচ্চারণ করে বলেন,

পুরাতন গত হোক! যবনিকা করি উন্মোচন

তুমি এসো হে নবীন! হে বৈশাখ! নববর্ষ!

এসো হে নতুন।

শুভ নববর্ষ!

আরও পড়ুন:
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফল ও মিষ্টি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

বিশেষ
There is a heat wave there is no chance of rain

বইছে তাপপ্রবাহ, নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা

বইছে তাপপ্রবাহ, নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা ফাইল ছবি
ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

অধিদপ্তর বলছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শনিবাার ও পরদিন সারা দেশে একই অবস্থা বিরাজ করবে। এই সময়ে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এই সময়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের পূর্বাংশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন দিনাজপুরে ১৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন:
মেঘ মেঘ করবে, হতে পারে বৃষ্টিও
ঈদের দিনে ‘সহনশীল’ থাকতে পারে আবহাওয়া
কেমন থাকতে পারে ঈদের দিনের আবহাওয়া

মন্তব্য

বিশেষ
Sadarghat accident Five arrested including master manager of two launches

সদরঘাটে দুর্ঘটনা: দুই লঞ্চের মাস্টার ম্যানেজারসহ পাঁচজন আটক

সদরঘাটে দুর্ঘটনা: দুই লঞ্চের মাস্টার ম্যানেজারসহ পাঁচজন আটক ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্য লঞ্চের সঙ্গে এমভি ফারহান-৬। ছবি: মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/নিউজবাংলা
নৌ পুলিশের ঢাকা জোনের এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, আটককৃতদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে বৃহস্পতিবার লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুই লঞ্চের মাস্টার ও ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

আটক পাঁচজন হলেন এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের দুই মাস্টার ও একজন ম্যানেজার এবং এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের দুই মাস্টার।

রাতে তাদের আটক করা হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানান নৌ পুলিশের ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস।

এসপি গৌতম জানান, আটককৃতদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আটক পাঁচজন হলেন এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. মনিরুজ্জামান (২৪) এবং এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. আবদুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. সেলিম হাওলাদার (৫৪) ও ম্যানেজার মো. ফারুক খাঁন (৭৬)।

যেভাবে দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদুল ফিতরের দিন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পন্টুনের সামনে ঢাকা থেকে ভোলাগামী এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি টিপু নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে নোঙর করা ছিল। লঞ্চ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের চেষ্টা চালায়। ওই সময় এমভি ফারহান-৬ লঞ্চটি এমভি টিপু-১৩কে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরবর্তী সময়ে এমভি টিপু-১৩ ধাক্কা দেয় এমভি তাসরিফ-৪-কে। ওই সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়।

তারা আরও জানান, ছিঁড়ে যাওয়া সেই দড়িটিই পন্টুনের আশপাশে থাকা পাঁচজনকে সজোরে আঘাত করে। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে কর্মরত প্রধান ডোম মোহাম্মদ মিলন শেখ জানান, পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে মাথায় আঘাত লেগে।

এদিকে লঞ্চের দড়ির আঘাতে পাঁচজনের প্রাণ যাওয়ার পর ধুয়েমুছে স্বাভাবিক করা হয়েছে সদরঘাটের পন্টুন। এ দুর্ঘটনায় সদরঘাট সাময়িক থমকে গেলেও দেড় ঘণ্টা পরই শুরু হয় স্বাভাবিক কার্যক্রম। দুর্ঘটনায় জড়িত এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের যাত্রীদের এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চে তুলে দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির ক্রয় ও সংরক্ষণ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন কমিটির সদস্য।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে প্রাণ হারানো প্রত্যেক ব্যক্তির স্বজনের কাছে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২
শেষ কর্মদিবসে সদরঘাট ছেড়েছে যাত্রীভর্তি লঞ্চ
ময়মনসিংহে এক দিনে সড়কে ঝরল ৮ প্রাণ
সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়
ময়মনসিংহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২

মন্তব্য

p
উপরে