কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা

player
কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা

৫৪টি দেশের আন্তর্জাতিক এ জোটের সঙ্গী হওয়াকে অসাধারণ অর্জন হিসেবে দেখছে নিউজবাংলার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কমনওয়েলথের বৈশ্বিক কোনো কর্মসূচির প্রচার সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই অর্জন নিউজবাংলার পেশাদার সাংবাদিকতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

যাত্রা শুরুর পাঁচ মাসের মধ্যেই নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম সঙ্গী হয়েছে বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক জোট কমনওয়েলথের। জোটের এবারের ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে এশিয়ার সংবাদমাধ্যম হিসেবে মিডিয়া পার্টনার থাকছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমটি।

কমনওয়েলথের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্নোবার আব্বাসি রোববার নিউজবাংলাকে এক ইমেইল বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জোটের ওয়েবসাইটেও তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

৫৪টি দেশের আন্তর্জাতিক এ জোটের সঙ্গী হওয়াকে অসাধারণ অর্জন হিসেবে দেখছে নিউজবাংলার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কমনওয়েলথের বৈশ্বিক কোনো কর্মসূচির প্রচার সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই অর্জন নিউজবাংলার পেশাদার সাংবাদিকতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

১০ মার্চ হবে এবারের কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২১ অনুষ্ঠান। তবে করোনার কারণে সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া প্রথমবার ভার্চুয়ালি হবে অনুষ্ঠানটি।

পুরস্কারের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি দেশের ২০ তরুণের চূড়ান্ত তালিকা আগেই প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ। এর মধ্যে আছেন স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখা বাংলাদেশের ফয়সাল ইসলামও।

তালিকায় থাকা ২০ তরুণ উদ্ভাবক, অধিকারকর্মী, উদ্যোক্তা সবাইকে দেয়া হবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২১। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং নিজ সম্প্রদায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় দেয়া হবে এ স্বীকৃতি।

এই পুরস্কারের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের মধ্যে ৪৩ দেশ থেকে ১ হাজার আবেদন পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে ২০ জনকে চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

২০ জনের মধ্যে আবার আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ, কানাডা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাঁচ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে আঞ্চলিক বিজয়ী ঘোষণা করবে কমনওয়েলথ। এর মধ্য থেকে একজনকে করা হবে ‘কমনওয়েলথ ইয়াং পার্সন অব দ্য ইয়ার-২০২১’।

২০ জনের প্রত্যেকেই পাবেন ট্রফি, সনদপত্র ও ১ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। আঞ্চলিক বিজয়ীরা পাবেন ৩ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড; আর সেরাদের সেরা পাবেন ৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।

কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা
কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড।

বাংলাদেশের ফয়সাল ইসলাম তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আলোচনায় আসেন। ‘সেইফহুইল’ নামের তার প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা এখন ১০টি। গ্রামীণ জনপদে হাজারো মানুষকে নামমাত্র মূল্যে সেবা দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া কল্যাণমূলক কাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতের এলিনা আলম, পাকিস্তানের সৈয়দ ওমর আমির ও মালয়েশিয়ার মোগেশ সাবাবাথির।

ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে তালিকায় আছেন বার্বাডোসের তাহির বুলবুলিয়া, গ্রানাদার বেভন শ্যাডেল চার্লস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ডাউসের চার্লস ও গায়ানার জুবিলান্তে কাটিং।

ইউরোপ ও কানাডা অঞ্চল থেকে আছেন সাইপ্রাসের দিয়াগো আরমান্দো অ্যাপ্রিকিও, যুক্তরাজ্যের সিয়েনা কাস্টেলন, ব্র্যাডলি হেসলপ ও ইলেনর ম্যাকলনটোশ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামোয়া থেকে আছেন মাসেলিনা লুটা, টোঙা ইলায়সেন লোলোহিয়া মানু, ফিজির শানাল সিভান ও অস্ট্রেলিয়ার টিম লো সুর্ডো।

কমনওয়েলথের এই আয়োজনে এশীয় অঞ্চলের অফিশিয়াল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে নিউজবাংলার ওয়েববসাইটে খবর প্রকাশের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

এ বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত এশীয় অঞ্চলের কমনওয়েলথ তাদের প্রচারে ফ্লেয়ার্স, ব্রশিয়ার, প্রেসরিলিজ, ডিজিটাল মিডিয়ায় নিউজবাংলার লোগো ব্যবহার করবে।

কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা

গত বছরের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংবাদ পরিবেশনের ব্যতিক্রমী ধরন ও তাৎক্ষণিক তথ্যের নির্ভরশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকের মনোযোগ কেড়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

সেই সঙ্গে নানা ধরনের অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট অনলাইন এই সংবাদমাধ্যমকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানের মানুষটির জন্য তথ্য, বিশেষত ‘সংবাদ’ এর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায় টিম নিউজবাংলা।

এই যাত্রায় পাঠক-দর্শকের আস্থা ও ভালোবাসাই নিউজবাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি। সামনের দিনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ কনটেন্ট নিয়ে পাঠক-দর্শকের আরও কাছে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি কর্মী।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

জমজমাট জামাই মেলা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের মেয়ের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এখনও সেই প্রচলন আছে।

গাজীপুরের কালিগঞ্জের বড়গাঁও গ্রামের জামাই জাকির হোসেন। পৌষ সংক্রান্তিতে শুক্রবার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাবেন বলে জামাই মেলায় এসেছেন মাছ কিনতে।

অনেক স্টল ঘুরে শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার টাকায় একটি আইড় মাছ কিনে রওনা দেন জাকির। বলেন, ‘প্রতিবছরই মেলায় মাছ কিনতে আসি। শ্বশুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা, তাই এলাকার সব জামাইদের নজর এখন বিনিরাইলের মাছের মেলার দিকে।’

নাম জামাই মেলা হলেও এটি মূলত মাছের হাট। কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের বিনিরাইল গ্রামে এই মেলা বসে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে। এলাকায় প্রচলিত আছে, এ দিন জামাইরা এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাবেন শ্বশুরবাড়িতে। আবার জামাই আপ্যায়নে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও এই মেলা থেকেই মাছ কিনবেন। মাছ নিয়ে মোটামুটি জামাই-শ্বশুরের মধ্যে প্রতিযোগিতাই চলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে এই মেলা চলে আসছে। মেলা ঘিরে জামাই-শ্বশুরদের মাছ কেনার দৌঁড়ঝাপের কারণে এটি জামাই মেলা নামেই পরিচিত পেয়েছে।

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

সরেজমিনে শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, সহস্রাধিক দোকানে নানা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন তারা। তাদের সংগ্রহে আছে চিতল, কাতল, রুই, বাগাড়, আইড়, বোয়াল, শাপলা পাতা, কোরাল, সামুদ্রিক কাইক্কা, গলদা চিংড়ি ও রূপচাঁদা। আছে নানা জাতের দেশী মাছও।

হাঁক-ডাক দিয়ে নানাভাবে ক্রেতাদের আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বিক্রেতা।

১৫০ কেজি ওজনের একটি ও ১২০ কেজি ওজনের দুটি শাপলাপাতা মাছ নিয়ে বসেছেন রাজন মিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই মেলা উপলক্ষে সপ্তাহখানেক ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করি। এবারও মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ এনেছি আমি। মেলায় মাছ বিক্রির পাশাপাশি এই উৎসবে আমরাও আনন্দ করি।

‘যেহেতু মাছের আকৃতি অনেক বড়, তাই কেউ একা এই মাছ কিনতে পারে না। প্রতি কেজি মাছ ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।’

মেঘনা নদীর ৩০ কেজির কাতল মাছ নিয়ে এসেছেন নরসিংদীর রঞ্জিত চন্দ্র বর্মন।

তিনি বলেন, ‘কাইক্কা, আইড়, বাগাড়, কোরাল, বোয়ালসহ বড় বড় মাছ সংগ্রহ করেছি মেলা উপলক্ষে। ২৭ কেজির একটা বাগাড় মাছ এনেছি। ৩০ হাজার টাকা দাম উঠলেই বিক্রি করব।’

মাছ কেনাবেচায় জমজমাট জামাই মেলা

স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন নিগার সুলতানা। তিনি বলেন, ‘ইউটিউব-ফেসবুকে এই জামাই মেলার কথা প্রচুর শুনেছি। আমার স্বামী কালিগঞ্জে চাকরি করায় এবারই প্রথম মেলায় আসা হয়েছে। মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও মেলায় ঘুরতে এসে ভালো লাগছে।’

দিনব্যাপী এই মেলা মাছকেন্দ্রিক হলেও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বসে নানা পণ্যের স্টল। সেগুলোও দিনভর ছিল জমজমাট।

জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জানান, এই মেলা ঐতিহ্যকে বহন করে আসছে প্রায় আড়াইশ বছর ধরে। এ বছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের মেয়ের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এখনও সেই প্রচলন আছে।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

ভুকরাভাতের দিন পূজা অর্চনা শেষে হিন্দুরা সকাল থেকে মাঠে মাটির চুলা তৈরি ও রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। কেউ আনেন খড়ি বা জ্বালানি, কেউ পানি, কেউ আনেন খাদ্যপণ্য। দলে দলে ভাগ হয়ে তারা রান্না করেন।

ফসলের বিশাল মাঠ। ধান উঠে যাওয়ায় মাঠ এখন ফাঁকা। সেখানে জ্বলছে সারি সারি চুলা।

কিছুদূর পর পর দল বেঁধে কেউ রান্না করছেন, কেউ করছেন জোগাড়। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে মাঠ যেন বিশাল এক রান্নাঘর।

এ দৃশ্য দেখা গেছে শুক্রবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৌতন্যপুর গ্রামে। এ আয়োজন হিন্দু সম্প্রদায়ের, অনেকটা পিকনিকের মতো। স্থানীয়ভাবে একে বলে ভুকরাভাত। মূলত পৌষ উৎসবই এটি।

ভুকরাভাতের দিন পূজা অর্চনা শেষে হিন্দুরা সকাল থেকে মাঠে মাটির চুলা তৈরি ও রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। কেউ আনেন খড়ি বা জ্বালানি, কেউ পানি, কেউ আনেন খাদ্যপণ্য। দলে দলে ভাগ হয়ে তারা রান্না করেন।

মাঠে যেতেই দেখা মিলল একটি দলের। তাতে আছেন দিপ্তি, দিপালী, শিখা, টুম্পাসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন। এর মধ্যে দিপ্তি লুচি ভাজছেন, তাকে লুচি বানিয়ে দিচ্ছেন শিখা, টুম্পা ও অনন্যা। আরেক চুলায় দিপালী ভাত চড়িয়েছেন।

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

দিপালী বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই পৌষ মাসের শেষ দিনে এমন আয়োজন করে থাকি। পৌষ মাসের শুরুর দিনেই আমার টুস পূজা করি। সেটি ৩০ তারিখে বিসর্জন দিয়ে সকালে স্নান করে এখানে একসঙ্গে মিলে আনন্দ করে খাই। আমরা কিছু কিছু করে টাকা তুলে আর সবার বাড়ি থেকে চাল-ডাল তুলে এই ভুকরাভাত করি।’

লুচি ভাজতে ভাজতে দিপ্তি বললেন, ‘এটা আমাদের কাছে অনেক আনন্দের দিন। এই দিনেই আমরা বাড়ির বাইরে আনন্দ করে খেয়ে থাকি। প্রতি বছরই এই দিনে আমরা মাঠে একসঙ্গে নেচে-গেয়ে খেয়ে আনন্দ করি।’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা হয় আরেক দলের সঙ্গে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রান্না করছেন, কয়েকজন গান বাজিয়ে নাচছেন। মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশুরা।

রান্না শেষ হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। পুকুর থেকে তুলে আনা শাপলাপাতা বিছিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে সবাই মিলে খেতে বসে। তাদের তৈরি নানা পদের মধ্যে আছে বুন্দিয়া, লুচি, ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও দই।

ভুকরাভাতে আসা জয় চাঁদ মণ্ডল বলেন, ‘এই দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় এক মাস আগে থেকে। এই দিনে মূলত পূজার পরই আনন্দ শুরু হয়। একে আমরা পৌষ পর্বও বলে থাকি। আমাদের বিশ্বাস, এই পূজা আর উৎসবের মাধ্যমে অসুখ থেকে মুক্তি মেলে। এটা আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই হয়ে আসছে। এখন আমরা করছি। আমাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিরা করছে।’

মাঠজুড়ে ‘ভুকরাভাত’

ভুকরাভাতের আয়োজন শেষ হয় গোধূলীলগ্নে, কিশোর-তরুণদের নাচ-গানের মধ্য দিয়ে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যে যার মতো হাঁড়ি-পাতিল গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

পৌষ বিদায়ে কোল সম্প্রদায়ের ঝুমুর নাচ। ছবি: নিউজবাংলা

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরের ঝিলিম ইউনিয়নের কয়েক গ্রামজুড়ে বাস কোল সম্প্রদায়ের। তাদের পৌষসংক্রান্তি উদযাপন বরাবরই জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

ঝিলিম ইউনিয়নের চাতরাপাড়া, ফিল্টিপাড়া, বিলকৈলঠাসহ কোলদের কয়েকটি গ্রামে শুক্রবার উদযাপন করা হয়েছে পৌষ বিদায়ের উৎসব। তারা একে বলে সাকরাইত।

সকাল থেকেই কোল গ্রামগুলো ছিল উৎসবমুখর। প্রতিটি বাড়িতে রান্না হয় মুখরোচক নানা খাবার। উঠান-দেয়াল তারা রাঙিয়ে তোলেন আলপনায়।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

বিকেলে পাড়ার মাঠ মেতে ওঠে কোলদের ঐতিহ্যবাহী খেবেলখেচা বা ঝুমুর নাচে।

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।

‘আত্মীয়স্বজন বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সবাই একসঙ্গে আনন্দ করি। সব মিলিয়ে এবার ভালোই কাটল সাকরাইত।’

এই সাকরাইত উৎসব দেখতে শুক্রবার জেলা শহর থেকে দর্শনার্থীরা যান ঝিলিম ইউনিয়নে।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারাহ উলফাৎ রহমান অর্পিতা বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় কোলদের গ্রামে আসা। তারা অনেক আন্তরিক। তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে। কোলদের নিজস্ব ভাষার কয়েকটা শব্দও জানা হয়েছে আমার। সব মিলিয়ে বিকেলটা ভালোই কেটেছে।’

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

তর্ক বাংলায় সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতা

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। ছবিটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

তর্ক বাংলার প্রথম সাহিত্য বক্তৃতা হবে শুক্রবার।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘মার্কিন প্রাচ্য ব্যবসায় ও বাঙালি মুসলমান’ বিষয়ে বিকেল ৪টায় বক্তৃতা দেবেন লেখক, গণবুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ার কারণে বক্তৃতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।

এটি গত ৭ জানুয়ারি বাংলামোটরের রাহাত টাওয়ারের সপ্তম তলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্যবিধি ও জনসচেতনতার জন্য সলিমুল্লাহ খানের বক্তৃতাটি অনলাইনে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় রয়েছে বই বিক্রি ও বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বাছাই বই’।

অনলাইনে বক্তৃতাটি সরাসরি দেখা যাবে তর্ক বাংলার ফেসবুক পেজ, তর্ক বাংলার অফিশিয়াল পেজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহর ফেসবুক পেজ ও তার ইউটিউব পেজে

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

পৌষ পার্বণ উৎসবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাখন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চিত্রটি উপস্থাপিত হতে দেখে আনন্দিত হয়েছি। লোকক্রীড়া, লোকজ উৎসব প্রভৃতি সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে যথার্থ প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

হাতে হাত রেখে হাঁটছেন মৌলভি, পুরোহিত, খ্রিষ্টান পাদ্রি ও বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাদের সঙ্গে আছেন গ্রাম্য মাস্তান, বাউল, নাপিত, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগ আয়োজিত পৌষ পার্বণ উৎসবে এমন সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বিনির্মাণ।

‘সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে’ জীবনানন্দ দাশের কবিতার চরণ প্রতিপাদ্য ধরে সাজানো হয় চবির পৌষ পার্বণের অনুষ্ঠানমালা।

বুধবার দুপুর ১২টায় পৌষ পার্বণ উপলক্ষে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢোল-বাদ্যের তালে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে বাংলা চত্বরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। স্টলে স্টলে পরিবেশন করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হরেক স্বাদের পিঠা।

সাজানো পিঠাগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষীর, পাটিসাপটা, ছাঁচ পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পুরি, নারিকেল পাকন, মিষ্টির মাখন, জামাই পিঠা, মুখ রঙিন, দুধচিতই, মাংসের ঝাল পিঠা, আফলাতুল, চিকেন রোল, ঝিনুক, পাটিসাপটা, খেজুর পিঠা, তেলের পিঠা, ভাপা পিঠা, ডিবি পিঠা, ডিম পিঠা, ভাজা পুলি, তালের বড়া, পাকন পিঠা, চিকেন পুলি ও গোলাপ পিঠা। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয় পিঠা উৎসব।

পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ


বাংলা বিভাগের সভাপতি শফিউল আযম (ডালিম) পৌষ পার্বণ ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাখন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে চিরায়ত বাংলার অসাম্প্রদায়িক চিত্রটি উপস্থাপিত হতে দেখে আনন্দিত হয়েছি। লোকক্রীড়া, লোকজ উৎসব প্রভৃতি সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে যথার্থ প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বেলা ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা দেশীয় গানে নৃত্য, লোকজ গান, নাটিকা, আবৃত্তি, পুঁথি পাঠ করেন অনুষ্ঠানে। পৌষের পড়ন্ত বিকেলে গানের দল সরলার সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

সাকরাইন উৎসবের আগের দিন পুরান ঢাকায় ঘুড়ি কেনার ধুম পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়। এই দিনে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রংবেরং ফানুশে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী এলাকা।

পুরান ঢাকার অলি-গলিতে চলছে সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। বাহারি ঘুড়িতে ছেয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পুরান ঢাকার আকাশ। উৎসবের আগের দিন চলছে ঘুড়ি, নাটাই, ফানুশ, আতবাজির সরঞ্জাম কেনার ধুম।

বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায় সাকরাইন আয়োজনে শেষ প্রস্তুতি চলছে পুরান ঢাকায়। সূত্রাপুর, নবাবপুর, শ্যামবাজার, ধূপখোলা, শাঁখারি বাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, ফরাশগঞ্জ, সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা, লালবাগ, চকবাজার, মুরগীটোলা, ধোলাইখালসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে সাকরাইনের আমেজ। বিভিন্ন স্থান ও ছাঁদগুলোতে দেখা যায় ঘুড়ি ওড়ানোর রিহার্সালও।

ধূপখোলার ঘুড়ির দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের ঘুড়ি। এর মধ্যে রয়েছে চোখদার, রকদার, গরুদার, ভোমাদার, কাউঠাদার, মাছলেঞ্জা, ফিতালেঞ্জা, একরঙা, চানতারা, সাপঘুড়ি, প্রজাপতি, পেঁচা, বাক্স ঘুড়ি।

আঁতশবাজির মধ্যে আছে পাঁচ শট, বারো শট, একুশ শট, বত্রিশ শট, আশি শট, একশ বিশ শট, দেড়শ শট, কদম ফুল, তারা শট, ঝর্ণা, ব্যাটারি বোম, চকলেট বোম, শলতা বোম, রকেট বোম, পাতা বোম, ২৮ বোম, ফ্লেম টর্চ।

ফানুশেরও মধ্যেও রয়েছে হরেক রকম পদ। যেমন গোল ফানুস, হার্ট ফানুস, চারকোণা ফানুস।

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

তবে বিধিনিষেধ থাকায় আতশ বাজি ও ফানুশ বিক্রিতে দোকানিরা সাবধানতা অবলম্বন করছেন। পুলিশের ভয়ে অনেকটা লুকিয়ে লুকিয়ে এসব পণ্য বিক্রি করছেন তারা।

রাধামাধব ভাণ্ডার শ্রী কাক্কেশ্বর জানান, তার দোকানে বিভিন্ন রঙের, দামের ও ধরনের ঘুড়ি রয়েছে। সর্ব নিম্ন ৬ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ টাকার ঘুড়িও আছে। দাম ফিক্সড। তবে ১০০০ বা এর বেশি পিস নিলে প্রতিটি ঘুড়িতে ১ টাকা করে কম রাখা হচ্ছে। আর সুতার দাম সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার পর্যন্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এখন আবার লকডাউনের চিন্তাভাবনা করছে। আর এখন যদি লকডাউন দিয়ে দেয়, তাহলে বেচা কেনা কমে যাবে। উৎসবের আমেজও থাকবে না। এ ছাড়া সাকরাইনের দিনও আমাদের বেচা কেনা হয়।’

প্রতি বছর সাকরাইনে লক্ষাধিক ঘুড়ি বিক্রি করেন শাঁখারি বাজারের ব্যবসায়ীরা। লাখ লাখ টাকার ঘুড়ি, নাটাই, সুতা বিক্রি হয় এই বাজারে। চশমাদার, কাউটাদার, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি, চক্ষুদার, ঈগল, সাদা ঘুড়ি, চারবোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভ ঘুড়ি, ৩ টেক্কা, মালাদার, দাবা ঘুড়ি, বাদুর, চিল, অ্যাংগ্রি বার্ডসসহ নানা আকৃতির ঘুড়ি বিক্রি হয়।

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

সাধারণ ঘুড়ির দাম ৮ থেকে ২৫ টাকা। বিদেশি ও নকশা ঘুড়ির দাম ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। নানা রকমের বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, লোহা নাটাই, কাঠের নাটাই, চাবাডি নাটাই বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ড্রাগন সুতা, ভুত সুতা, বিলাই সুতো, ঘুড়ি উড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের এই সুতা বিক্রি হয়ে থাকে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য আছে বিভিন্ন ধরনের সুতা। এর মধ্যে ক্যাঙ্গারু, বিচ্ছু, ড্রাগন সুতা ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য খুবই ভালো। সুতা গজ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। মান অনুযায়ী ৬০০ গজ সুতা ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

ঘুড়ি উড়ানোর জন্য বিভিন্ন আকারের নাটাই রয়েছে। নাটাই সাধারণত দুই ইঞ্চি থেকে সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা একটি নাটাইয়ের সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া রুপার ও লোহার তৈরি নাটাই পাওয়া যায়। সেগুলোর দাম বেশি।

শাঁখারী বাজারের ব্যবসায়ী শঙ্খ শ্রী ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী তারক রায় বলেন, ‘ভালোই বেচা কেনা চলছে আমাদের। আমাদের পাইকারি কাস্টমার বেশি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে ঘুড়ি নিয়ে যান। দোকানে ৮ থেকে ১০ রকমের ঘুড়ি রয়েছে। নাটাই, সুতা ও ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’

করোনা না থাকলে বিক্রি আরও বেশি হতো বলে দাবি এই ব্যবসায়ীর। বলেন, ‘‘করোনাভাইরাসের কারণে গত বারের ন্যায় এবার ও ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। অর্ডার কমে গেছে, তারপরও মোটামুটি চলছে। আমরা বছরজুড়েই ঘুড়ি-নাটাইয়ের ব্যবসা করি। সাকরাইন উপলক্ষে একটা অন্যরকম আমেজ সৃষ্টি হয় ব্যবসায়। আমাদের মূল ক্রেতা তরুণ-তরুণী। এবার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পরিবার থেকে শিশুদের হাতে সেভাবে টাকা দেয়া হচ্ছে না।’

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

শাখারি বাজারে গেন্ডারিয়া থেকে ঘুড়ি কিনতে এসেছে মিরাজ ও তার বন্ধু আরমান। দুজনই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা জানান, তাদের কাছে এই উৎসব অনেক ভালো লাগে। প্রতিবছর জানুয়ারি মাস আসলে আনন্দ লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ান, কাটাকাটি করেন।

নারিন্দার থেকে হৃদয় বাবু তার সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ঘুড়ি কিনতে। তিনি বলেন, ‘এক সময় আমরা ঘুড়ি উড়িয়েছি। এখন আমাদের বাচ্চাদের সময়, তাই তাদের জন্য প্রতিবছর ঘুড়ি কিনে দিতে হয়।’

মুজাহিদ বিল্লাহ নামের স্থায়ী এক বাসিন্দা জানান, ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি তারা পৌষ সংক্রান্তির পিঠা উৎসব করে থাকেন। এই উৎসবে তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াতও দিয়ে থাকেন।

শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়। এই দিনে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রংবেরং ফানুশে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী এলাকা।

পুরান ঢাকা ছাড়াও ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এই উৎসব পালন করা হয়। আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সাকরাইন পালন করলেও এখন বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে সব ধর্মের মানুষ এটি পালন করে।

জানা যায়, পুরান ঢাকায় পুরনো যেসব উৎসব যুগের পর যুগ পালিত হয়ে আসছে, তার মধ্যে এই সাকরাইন অন্যতম। এই সংক্রান্তিতে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। দেশ থেকে দেশান্তর হয়ে আস্তে আস্তে এটি পুরান ঢাকার একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

সাকরাইনের সাজে সেজেছে পুরান ঢাকা

প্রাচীন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৭৪০ সালের পৌষ মাসের শেষ এবং মাঘ মাস শুরুর সন্ধিক্ষণে মোঘল আমলে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি উৎসবের প্রচলন চালু হয়। কালের পরিক্রমায় দিনটি পুরান ঢাকাইয়াদের একটি অন্যতম উৎসব এবং আমেজে পরিণত হয়েছে।

সূত্রাপুর অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা আরফিন সানজু বলেন, ‘পুরান ঢাকার সাকরাইন একটি ঐতিহ্য, যা ১৭০০ সালের থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে। ১৪ জানুয়ারি প্রতি বছর উৎসবটি পালন করা হয়ে থাকে। আমরা সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছি, এটা আমাদের কাছে এটি অন্যতম আনন্দের দিন। আমরা ঢাকাইয়ারা সব সময় এই ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তবে পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা রইছউদ্দীন বলেন, ‘উড়ন্ত আগুন তথা ফানুস, ডিজে-লাউড স্পিকার, আতশবাজি ও শব্দ দূষণমুক্ত সাকরাইন (ঘুড়ি উৎসব) চাই।’

৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রহমান মিয়াজি বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে মহল্লাভিত্তিক সাকরাইনের উৎসব হয়, সেটা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সিটি করপোরেশন থেকে আমরা এখনও কোনো প্রোগ্রাম পাইনি।’

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

হাশেম উৎসবে পদক পেলেন দুই শিল্পী

হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের জনক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৫তম জন্মজয়ন্তীতে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাশেম উৎসব’।

এই উৎসবে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক ও ছায়ানটের শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শীলকে ‘মোহাম্মদ হাশেম পদক-২০২২’ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে গুণীজন পদক ছাড়াও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গুনিজনদের হাতে পদক তুলে দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম।

এর আগে বিকাল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে ‘গণমানুষের শিল্পী মোহাম্মদ হাশেম’ শিরোনামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানছুরুল হক খসরু।

এবার উন্মুক্ত পরিবেশে সকাল সাড়ে ৯টায় হাশেম উৎসব উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। সকাল ১০টায় শুরু হয় মোহাম্মদ হাশেমের গানের প্রতিযোগিতা। দুপুর দেড়টায় শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে বিকাল ৩টায় শোভাযাত্রা বের করা হয়।

উৎসব ঘিরে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বসেছিল শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ গণমানুষের মিলন মেলা। ছিল দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

সন্ধ্যায় একই মঞ্চে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। রাত ৮টায় হাশেমের সৃষ্টি ও বর্নাঢ্য জীবনের ওপর সাজ্জাদ রাহমান ও সানজিদা সুলতানা নির্মিত আলাদা দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পরপরই সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

নোয়াখালীর প্রধান সংগীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, রয়্যাল ডিস্ট্রিক ভাই/হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’ সহ হাজারও গানের গীতিকার ও সুরকার মোহাম্মদ হাশেমের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১০ জানুয়ারি। সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাড়ি।

২০২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোহাম্মদ হাশেম। মাইজদী শহরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ে কোর্ট মসজিদের পাশে তিনি সমাহিত।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন