কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা

কমনওয়েলথের সঙ্গী নিউজবাংলা

৫৪টি দেশের আন্তর্জাতিক এ জোটের সঙ্গী হওয়াকে অসাধারণ অর্জন হিসেবে দেখছে নিউজবাংলার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কমনওয়েলথের বৈশ্বিক কোনো কর্মসূচির প্রচার সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই অর্জন নিউজবাংলার পেশাদার সাংবাদিকতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

যাত্রা শুরুর পাঁচ মাসের মধ্যেই নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম সঙ্গী হয়েছে বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক জোট কমনওয়েলথের। জোটের এবারের ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে এশিয়ার সংবাদমাধ্যম হিসেবে মিডিয়া পার্টনার থাকছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমটি।

কমনওয়েলথের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্নোবার আব্বাসি রোববার নিউজবাংলাকে এক ইমেইল বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জোটের ওয়েবসাইটেও তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

৫৪টি দেশের আন্তর্জাতিক এ জোটের সঙ্গী হওয়াকে অসাধারণ অর্জন হিসেবে দেখছে নিউজবাংলার কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কমনওয়েলথের বৈশ্বিক কোনো কর্মসূচির প্রচার সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই অর্জন নিউজবাংলার পেশাদার সাংবাদিকতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

১০ মার্চ হবে এবারের কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২১ অনুষ্ঠান। তবে করোনার কারণে সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া প্রথমবার ভার্চুয়ালি হবে অনুষ্ঠানটি।

পুরস্কারের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি দেশের ২০ তরুণের চূড়ান্ত তালিকা আগেই প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ। এর মধ্যে আছেন স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখা বাংলাদেশের ফয়সাল ইসলামও।

তালিকায় থাকা ২০ তরুণ উদ্ভাবক, অধিকারকর্মী, উদ্যোক্তা সবাইকে দেয়া হবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২১। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং নিজ সম্প্রদায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় দেয়া হবে এ স্বীকৃতি।

এই পুরস্কারের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের মধ্যে ৪৩ দেশ থেকে ১ হাজার আবেদন পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে ২০ জনকে চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

২০ জনের মধ্যে আবার আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ, কানাডা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাঁচ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে আঞ্চলিক বিজয়ী ঘোষণা করবে কমনওয়েলথ। এর মধ্য থেকে একজনকে করা হবে ‘কমনওয়েলথ ইয়াং পার্সন অব দ্য ইয়ার-২০২১’।

২০ জনের প্রত্যেকেই পাবেন ট্রফি, সনদপত্র ও ১ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। আঞ্চলিক বিজয়ীরা পাবেন ৩ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড; আর সেরাদের সেরা পাবেন ৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।

কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড।

বাংলাদেশের ফয়সাল ইসলাম তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আলোচনায় আসেন। ‘সেইফহুইল’ নামের তার প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা এখন ১০টি। গ্রামীণ জনপদে হাজারো মানুষকে নামমাত্র মূল্যে সেবা দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া কল্যাণমূলক কাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতের এলিনা আলম, পাকিস্তানের সৈয়দ ওমর আমির ও মালয়েশিয়ার মোগেশ সাবাবাথির।

ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে তালিকায় আছেন বার্বাডোসের তাহির বুলবুলিয়া, গ্রানাদার বেভন শ্যাডেল চার্লস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ডাউসের চার্লস ও গায়ানার জুবিলান্তে কাটিং।

ইউরোপ ও কানাডা অঞ্চল থেকে আছেন সাইপ্রাসের দিয়াগো আরমান্দো অ্যাপ্রিকিও, যুক্তরাজ্যের সিয়েনা কাস্টেলন, ব্র্যাডলি হেসলপ ও ইলেনর ম্যাকলনটোশ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামোয়া থেকে আছেন মাসেলিনা লুটা, টোঙা ইলায়সেন লোলোহিয়া মানু, ফিজির শানাল সিভান ও অস্ট্রেলিয়ার টিম লো সুর্ডো।

কমনওয়েলথের এই আয়োজনে এশীয় অঞ্চলের অফিশিয়াল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে নিউজবাংলার ওয়েববসাইটে খবর প্রকাশের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

এ বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত এশীয় অঞ্চলের কমনওয়েলথ তাদের প্রচারে ফ্লেয়ার্স, ব্রশিয়ার, প্রেসরিলিজ, ডিজিটাল মিডিয়ায় নিউজবাংলার লোগো ব্যবহার করবে।

গত বছরের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংবাদ পরিবেশনের ব্যতিক্রমী ধরন ও তাৎক্ষণিক তথ্যের নির্ভরশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকের মনোযোগ কেড়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

সেই সঙ্গে নানা ধরনের অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট অনলাইন এই সংবাদমাধ্যমকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানের মানুষটির জন্য তথ্য, বিশেষত ‘সংবাদ’ এর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চায় টিম নিউজবাংলা।

এই যাত্রায় পাঠক-দর্শকের আস্থা ও ভালোবাসাই নিউজবাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি। সামনের দিনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ কনটেন্ট নিয়ে পাঠক-দর্শকের আরও কাছে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি কর্মী।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২০ কালভার্টে ২৫ লাখ ঘুষ, তবু বিল দিতে গড়িমসি

২০ কালভার্টে ২৫ লাখ ঘুষ, তবু বিল দিতে গড়িমসি

বরগুনার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়েও বিল না দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদাররা। ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানানোয় তাড়াহুড়ো করে বিলের টাকা না দিয়ে জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ২০টি কালভার্ট নির্মাণকাজে দুই ধাপে তিনি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিযোগ।

ঘুষ নিয়েও বিল দেয়ায় গড়িমসি করায় গত সোমবার ঠিকাদাররা প্রায় তিন ঘণ্টা পিআইও ওলিউল ইসলামকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।

ঠিকাদাররা জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০টি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেয়া হয়। জুন-জুলাই মাসে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়।

সে সময় আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বরগুনা সদরের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মফিজুর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওলিউল ইসলামকে বরগুনা সদরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়।

খালেক এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘মফিজুর রহমান দায়িত্বে থাকাকালীন ২০টি কালভার্টের কাজের মোট ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিলের বিপরীতে তিন ধাপে আমাদের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। ওলিউল ইসলাম যোগদানের পর ঠিকাদাররা বাকি বিলের জন্য কয়েক দফা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পিআইও ওলিউল বিল পাইয়ে দেয়ার জন্য আমাদের কাছে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।’

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার দেড় বছরের বেশি সময় আমরা বিলের জন্য অপেক্ষা করি। নিরুপায় হয়ে আমরা ২০টি কাজের ২০ ঠিকাদার বৈঠক করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে সম্মত হই। টাকা নিয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন পিআইও ওলিউল ইসলাম।

‘জানুয়ারি মাসে আমরা চারজন ঠিকাদার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ওলিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন ও অধিদপ্তরের ডিপিডি আলতাফ হোসেনের পিওন তাহের মিয়ার কাছে টাকা দিতে বলেন। আমরা ওলিউল ইসলামের উপস্থিতিতে তাহেরের কাছে টাকা দিয়ে দিই। তাহের ওই টাকা ওলিউল ইসলামের বাসায় পৌছে দেন।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে তাহের মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে বগুড়া সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। বরগুনা সদরের পিআইও ওলিউল ইসলামকে দেয়া ঘুষের টাকা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিআইও ওলিউল ইসলাম আমার পরিচিত, তবে তার বাবদ আমি বরগুনার ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষের কোনো টাকাপয়সা গ্রহণ করিনি।’

ওই কাজের অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাঁই এন্টারপ্রাইজের লিটন শরীফ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দুই বছর বিলের জন্য অপেক্ষা করছি। ধারদেনা করে ওলিউল ইসলামকে ঘুষ দিয়েও তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করছি। একই কাজে বরগুনার অন্য সব উপজেলার বিল পরিশোধ হয়েছে। এমনকি জামানতের টাকাও তুলে নিয়েছেন অনেকে। বরগুনা সদরের দায়িত্বে থাকা পিআইও ওলিউল ইসলাম ঘুষ নেয়ার পরও আমাদের বিল পরিশোধে গড়মসি করছেন।

‘তিনি দায়িত্বে থাকলেও বরগুনায় অফিস করেন না। আমরা ফোনে কল করায় তিনি আমাদের অনেকের নম্বর ব্লাক লিস্টেড করে রেখেছেন। সোমবার তিনি বরগুনা কার্যালয়ে এসেছেন এমন খবর পেয়ে আমরা গিয়ে তার কাছে বিলের টাকা চাই। কিন্তু তিনি ফের গড়মসি শুরু করেন। খবর পেয়ে অন্য ঠিকাদাররাও কার্যালয়ে এসে বিলের দাবিতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।’

জায়েদা এন্টারপ্রাইজ নামে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাবু জোমাদ্দার বলেন, ‘ঠিকাদারি কাজে এসে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দেখেছি। কিন্তু ওলিউল এমনই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, যে টাকা ছাড়া এক পাও নড়েন না। কাজের ধাপে ধাপে তাকে ঘুষ দিতে হয়। এরপরও চূড়ান্ত বিল পরিশোধে ঘুষ দাবি করেন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা তাকে ঘুষ দিয়েছি। কিন্ত তিনি বিল নিয়ে ঘোরাচ্ছেন।’

ঠিকাদারদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ওলিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ওলিউল বলেন, ‘প্রকল্পের কাজের সময় মফিজুর রহমান দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বদলি হওয়ার কারণে কাগজপত্রের বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমি নতুন করে কাজের কাগজপত্র গুছিয়ে হেড অফিসে পাঠিয়েছি। হেড অফিস থেকে টাকা দিলেই আমি তাদের টাকা শোধ করে দেব।’

তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এক পয়সাও ঘুষ নিইনি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।’

বিলের আগেই জামানত ফেরত

ঠিকাদারদের তোপের মুখে বুধবার পিআইও ওলিউল ইসলাম কাজের চূড়ান্ত বিল প্রদানের আগেই জামানাতের টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে ঠিকাদাররা জানিয়েছেন।

খালেক এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঘুষের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার জন্য পিআইও ওলিউল ইসলাম আমাদের ডেকে জামানতের টাকা ফেরত দিয়েছেন।’

রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘আমার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জামানত ফেরত দিয়েছেন।’ ঠিক একইভাবে ওই প্রকল্পের ২০টি কালভার্টের কাজের ঠিকাদারদের সবার টাকাই ফেরত দেয়া হয়েছে বলে রিয়াজ জানান।

বিলের আগে জামানত ফেরত দেয়ার প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পিআইও ওলিউল ইসলাম বলেন, ‘বিল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কাজের বিপরীতে চূড়ান্ত বিল প্রদানের প্রতিবেদন পেয়েছি। সে কারণে ঠিাকাদারদের জামানত ফেরত দেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ঘুষ নেয়ার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

উদ্যানের গাছ কাটায় ক্ষোভ, সরকার বলছে ‘মহাপরিকল্পনা’

উদ্যানের গাছ কাটায় ক্ষোভ, সরকার বলছে ‘মহাপরিকল্পনা’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৫ দিন ধরে অর্ধশতাধিক পুরোন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা পড়েছে উদ্যানের পুরনো গগণ শিরিষ, সেগুনের মতো গাছও। এছাড়া, কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে আরও শতাধিক গাছ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন বুধবার দুপুরে উদ্যানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধনও করেছে।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, উদ্যানের ভিতরে রেস্তোরাঁ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য কাটা হচ্ছে অনেক পুরোন গাছ। তবে সরকার এক ব্যাখ্যায় বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য উদ্যানে কিছু গাছ কাটা পড়লেও নতুন করে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানো হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৫ দিন ধরে অর্ধশতাধিক পুরোন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা পড়েছে উদ্যানের পুরনো গগণ শিরিষ, সেগুনের মতো গাছও। এছাড়া, কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে আরও শতাধিক গাছ।

উদ্যানের বিভিন্ন জায়গায় কেটে ফেলা গাছের গুড়ি দেখা গেছে। টিএসসি প্রান্তের গেট দিয়ে উদ্যানে ঢুকতেই চোখে পড়ে বেশ কিছু গাছের গায়ে লাল রং দিয়ে ক্রস চিহ্ন। এগুলোও কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, উদ্যানের সবগুলো প্রবেশপথসহ বিভিন্ন জায়গায় রেস্তরাঁ নির্মাণের জন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে।

উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, উদ্যানের তিনটি অংশে মাটি কেটে গোল বৃত্তাকার নকশা করা হয়েছে। সেসব নকশার মাঝে যে গাছগুলো পড়েছে সেগুলো ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। আর আশপাশে আরও গাছের গায়ে ক্রস চিহ্ন রয়েছে।

গাছ কাটার প্রতিবাদে পরিবেশবাদী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সরব হয়েছেন। উদ্যানে বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাকিরকে দেখা যায় গাছের ডাল-পালা কুড়িয়ে পাখির বাসার মতো শিল্পকর্ম বানাতে।

জাকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাছ কাটার এই জায়গাতেই কদিন আগে একটি পাখির বাসা পড়ে থাকতে দেখেছি। সেটি আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই এভাবে আমি প্রতিবাদ করছি।’

গাছ কাটার প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহম্মদ আকাশ হোসেন কাগজ দিয়ে মানুষ আকৃতি বানিয়ে মানববন্ধনের মতো করে সেগুলো সেঁটে দিচ্ছিলেন গাছের গায়ে। আকাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা গাছ কাটতে আসবে তাদের চোখের সামনে এই প্রতীকী মানববন্ধন ধরা পড়বে। মনে হবে অসংখ্য মানুষ যেন হাতে হাত রেখে গাছ কাটতে বাধা দিচ্ছে। আমরা তো পরিবেশ হত্যা মেনে নিতে পারি না, আবার দিনরাত বসে থেকে গাছ পাহারা দেয়াও সম্ভব না। তাই আমি এভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

গাছ কাটার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ, মানববন্ধন করে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মধ্যে নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উন্নয়নের নামে বাণিজ্যের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে এভাবে মেরে ফেলা আমরা মানতে পারি না। একান্তই যদি গাছ কাটার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমরা কয়েক গুণ বেশি গাছ লাগানোর দাবি জানাচ্ছি।’

গাছ কাটার কারণ কী

উন্নয়ন কাজের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী শামিম আখতার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্থাপনা হবে। নিয়মের মধ্যে থেকে সরকার নির্দেশনা অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে।’

তবে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে বুধবার বিকেলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ যেমন, পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।’’


সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু গাছ কাটা হলেও প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথা জানানো হয় বিবৃতিতে। এতে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব কার্যক্রমের বিষয়ে ‘খণ্ডিত তথ্য’ প্রচার হওয়ায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৌন্দর্যবর্ধন বৃক্ষরোপনের মধ্যে নিহিত, নিধনে নয়। আধুনিক নকশায় গাছ রেখেই সুন্দর পরিকল্পনা করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ঢাকার ফুসফুসের মতো কাজ করে। এই সবুজ অঞ্চল ধ্বংস করে অন্যান্য কাঠামো বানানো ভয়ঙ্কর রকমের অপরাধ। পুরানো গাছগুলো যারা নির্বিচারে কাটছেন তারা অবশ্যই অপরাধ করছেন।’

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

রায়হান ‘হত্যার’ পূর্বাপর

রায়হান ‘হত্যার’ পূর্বাপর

সিলেটে বন্দরবাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে মৃত্যু হওয়া রায়হান আহমেদ।

অবশেষে প্রায় সাত মাস পর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা পড়ল। অভিযুক্তরা হলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেকে এলাহি, হাসান উদ্দিন, পুলিশের কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান।

সিলেটে বন্দরবাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর পর পুলিশ দাবি করে এই ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই। কিন্তু পরিবারের দাবি ছিল পুলিশই রায়হানকে হত্যা করেছে।

প্রায় সাত মাস পর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জমা দেয়া অভিযোগপত্রে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে পুলিশকেই।

রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও চার পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার কাছে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

রায়হান ‘হত্যা’:

নগরের আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমেদকে ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কাস্টঘর সুইপার কলোনি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান এই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ও তার সহকারীরা। শেষ রাতের দিকে এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল থেকে নিজের চাচাকে ফোন করে রায়হান।

এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে আসার জন্য চাচাকে অনুরোধ করেন। ফজরের নামাজের আগেই টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে হাজির হন তার চাচা। তবে তখন তাকে রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।

এরপর ১১ অক্টোবর সকালে তার চাচা আবার ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থ হয়ে পড়ায় রায়হানকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতপালে পাঠানো হয়েছে। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রায়হানের মরদেহ দেখতে পায় পরিবার।

পুলিশের দাবি:

রায়হানের মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাই করার সময় গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বন্দরবাজার ফাঁড়ির কর্মকর্তা ও সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশ করা হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ:

‘নগরীতে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীর মৃত্যু’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যখন এমন খবর প্রকাশ হচ্ছিল, তখন ভিন্ন তথ্য সামনে আনে রায়হানের পরিবার ও আখালিয়া এলাকাবাসী।

রায়হানের বাসার সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে তারা জানান, ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে টাকার জন্য নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করেছে পুলিশ।

পরিবারের এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এরপর রায়হান হত্যার বিচার দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো সিলেটজুড়ে।

আইনি প্রক্রিয়া শুরু:

ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে ১২ অক্টোবর বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ১১ অক্টোবর রাতে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এরপর আরও চার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।

তদন্তে পিবিআই, আকবর পলাতক:

কোতোয়ালি থানা থেকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় পিবিআইকে। দায়িত্ব পেয়ে তারা প্রথমে কবর থেকে রায়হানের মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

রায়হানের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও শরীরে আঘাতের চিহ্নের বিষয়টি এসেছিল।

এরপর পিবিআই বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে ফাঁড়ির কর্মকর্তা এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে। গ্রেপ্তারের আগে এদের সবাইকেই বরখাস্ত করেছিল মহানগর পুলিশ।

এদিকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় এসআই আকবর। আকবর ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন ওঠে।

আকবর গ্রেপ্তার:

নানা সমালোচনা ও তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা পুলিশ। ভারতে পালানোর সময় সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তবে আরেকটি সূত্র জানায়, ভারতের সীমান্তের ভেতরে স্থানীয় খাসিয়ারা আকবরকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে এসে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আকবরকে কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে ভারতের একটি খাসিয়া পল্লীতে আটকের একটি ভিডিও ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

আকবরকে গ্রেপ্তারের পরদিন ১০ নভেম্বর তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। এর আগে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য পুলিশ সদস্যদেরও রিমান্ডে নেয়া হয়। তবে রিমান্ড শেষে তারা কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

সিলেটজুড়ে তীব্র আন্দোলন:

পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর বিচার দাবিতে সিলেটজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আকবর পালিয়ে যাওয়ার পর এ আন্দোলন আরও তীব্র হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আকবর পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তীব্র ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়ে সিলেট মহানগর পুলিশ।

ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন রায়হানের মা সালমা বেগম। আমরণ অনশনেও বসেন তিনি।

সমালোচনার মুখে সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকেও বদলি করা হয়।

অবশেষে অভিযোগপত্র:

মামলার তদন্তকাজে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে পিবিআই। আদালত থেকেও রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে এই সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি জমা দেয়ার সময় ৩০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়। তবে করোনার অজুহাতে এই সময়ের মধ্যেও অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়নি।

তদন্তকারী সংস্থাটির পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগপত্র দেয়ার ঘোষণা দিয়েও পরে পিছিয়ে যায়। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয় রায়হানের পরিবারে। অবশেষে প্রায় সাত মাস পর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা পড়ল।

আকবর ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা হলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেকে এলাহি, হাসান উদ্দিন, পুলিশের কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান।

নোমানের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও রায়হানকে নির্যাতনের আলামত ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পিবিআইয়ের সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান নিউজবাংলাকে জানান, অভিযুক্ত পাঁচজনই কারাগারে। নোমান শুধু পলাতক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার সংশ্লিষ্টতা পায়নি পিবিআই।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলে স্পিডবোট

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলে স্পিডবোট

‘মেইন ভাড়া কিন্তু মোরা ২৫০ টাহাই পাই। আর বাহি ২৫০ টাহা যায় মালিক সমিতির ধারে। হেরা পুলিশসহ অনেক দিক ম্যানেজ করে।’

লকডাউন উপেক্ষা করে বরিশালের বিভিন্ন রুটে নৌ-পুলিশকে ম্যানেজ করে স্পিডবোট চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার এ তথ্য জানিয়েছেন খোদ স্পিডবোট চালকরাই। তবে নৌ-পুলিশের দাবি, বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোনো কিছুতে নৌ-পুলিশকে ম্যানেজ করা যায় না।

বরিশাল থেকে ভোলা ও মেহেন্দিগঞ্জ রুটে যাত্রী পরিবহন করে থাকে কয়েক শ স্পিডবোট। ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে নৌপথে যাত্রী পারাপারেও।

তবে বরিশালের এসব রুটে তিন দিন বন্ধ থাকার পর ফের যাত্রী পরিবহন শুরু করে স্পিডবোটগুলো। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা স্পিডবোটগুলোতে ভাড়াও নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ।

স্পিডবোটের কয়েকজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বরিশাল সদর নৌ-থানার পুলিশ প্রতিদিনই টাকা নেয় তাদের কাছ থেকে। জড়িত রয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারাও। তাদের ম্যানেজ করেই চালাতে হয় স্পিডবোট।

তারা আরও জানান, নৌ-পুলিশকে ম্যানেজ করেন ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা স্পিডবোট মালিক সমিতির সঙ্গেও যুক্ত। পার্সেন্টেজ নিয়ে তারা ম্যানেজের কাজটি করেন।

স্পিডবোট চালক সিদ্দিক বলেন, ‘বরিশাল থেকে ভোলায় নরমালে যাত্রী ভাড়া ২৫০ টাহা হইলেও লকডাউনের মধ্যে অনেক দিক ম্যানেজ কইরা চালাইতে হয়। তাই ভাড়া এহন ৫০০ টাহা নেওয়া হয়।

‘মেইন ভাড়া কিন্তু মোরা ২৫০ টাহাই পাই। আর বাহি ২৫০ টাহা যায় মালিক সমিতির ধারে। হেরা পুলিশসহ অনেক দিক ম্যানেজ করে।’

আলামিন নামে আরেক চালক জানান, বরিশাল থেকে ভোলা আর মেহেন্দিগঞ্জ ছাড়াও চরবাড়িয়া, চরমোনাইসহ বেশ কয়েকটা রুটে অবৈধভাবে স্পিডবোট চালানোয় যুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। ওগুলার কোনো ঘাট নেই। যেখানে ঝামেলা হয়, সেখান থেকে সরিয়ে আরেক জায়গায় ঘাট দেয়া হয়। পুলিশকে ঠিক রাখতে পারলে চালাতে পারে, না হলে পারে না। তাদের ঘাটটিও এভাবে পুলিশকে টাকা দিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, ‘আগের চাইতে ভাড়া এহন ডাবল। রোগী লইয়া আইলেও এহন ভাড়া ডাবল। তয় এক্সট্রা যে টাহা নেই মোরা, হেয়া মোগো দেতে হয় মালিক সমিতিরে। হেরা আবার হেইয়া ভাগ কইরা পুলিশ আর আওয়ামী লীগ নেতাসহ ওই বিআইডব্লিউটিএর অফিসার গো দেয়।’

তবে স্পিডবোট মালিক-চালক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলামের দাবি, রোগী ছাড়া তারা স্পিডবোট চালান না। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখেই বোট ছাড়ে। পুলিশ বা কাউকে তারা টাকা দেন না। মূলত লাহারহাট থে‌কে বোট ছে‌ড়ে ভোলা বা মে‌হে‌ন্দিগ‌ঞ্জে যায়। আবার ভোলা, মে‌হে‌ন্দিগঞ্জ, হিজলা থে‌কে ব‌রিশা‌লে বোট আ‌সে রোগী নি‌য়ে।

বোটচালকদের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বরিশাল নৌ-সদর থানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক অলোক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নৌ-পুলিশকে কেউ ম্যানেজ করে না। আমাদের নজরদারি রয়েছে। যে কথা বা অভিযোগ উঠেছে, নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে সেগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাসকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

সিরামের টিকা পেলে, দ্বিতীয় ডোজ চীনা টিকায় নয়

সিরামের টিকা পেলে, দ্বিতীয় ডোজ চীনা টিকায় নয়

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় ডোজ’ হিসেবে চীন-রাশিয়ার টিকা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। নতুন করে যারা টিকা নিতে আগ্রহী, তাদের ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ হিসেবেই প্রয়োগ করা হবে এই দুই দেশের টিকা।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় চীন ও রাশিয়ার টিকা জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন এই দুই দেশের টিকা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় ডোজ’ হিসেবে প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। নতুন করে যারা টিকা নিতে আগ্রহী, তাদের ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ হিসেবেই প্রয়োগ করা হবে চীন ও রাশিয়ার টিকা।

অন্যদিকে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর যারা দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকবেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে আট সপ্তাহের জায়গায় ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বাড়তি এই সময়ের মধ্যেই সিরাম থেকে টিকার পর্যাপ্ত জোগান পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের উপহারের টিকার ৫ লাখ ডোজ আগামী সোমবারের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। তবে প্রথমেই গণহারে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে ওষুধ প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে টিকার কার্যকারিতা যাচাই ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে প্রথমে ১ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে চীনের টিকা।

এর আগে ভারতের সিরামের টিকা আনার পরেও একইভাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এবারও রাজধানীর কিছু হাসপাতাল নির্ধারণে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে ১ হাজার মানুষের ওপর চীনের টিকা প্রয়োগ করে মান যাচাই ও এক সপ্তাহ ধরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চীনের টিকা প্রথম ডোজ হিসেবেই প্রয়োগ করা হবে। রাজধানীর কিছু হাসপাতালে এগুলো প্রথমে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। তবে সেই হাসপাতালগুলো এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা হলে বেইজিং থেকে যেকোনো দিন দেশে আসবে চীনের সিনোফার্ম উৎপাদিত ‘বিবিআইবিপি-কোরভি’ টিকা। এ ছাড়া রাশিয়ার টিকা ‘স্পুৎনিক ভি’ এর ৪০ লাখ ডোজও আসার কথা রয়েছে এ মাসেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চীনের টিকা আমরা যেকোনো দিন পেতে পারি। এ ছাড়া মে মাসের মধ্যে আমরা ওই দেশ থেকে আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা আনার চেষ্টা করছি। যাতে যারা এই টিকা নেবেন তারা যেন (দ্বিতীয় ডোজ) মিস না করেন।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কাছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রয়েছে, সেগুলো তাদের অনেকে ব্যবহার করেনি। তাদের কাছ থেকে এই টিকা পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সিনোফার্মের টিকা আমদানি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন কোনো আইনি বাধা নেই। আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়তো গণহারে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পারি।’

তিনি জানান, সিরামের টিকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আনা হলেও চীনের টিকা দুই সরকারের চুক্তির আওতায় আনা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে টিকা দেয়া হয়েছে ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ ডোজ। সরকারের কাছে টিকার মোট মজুত ছিল ১ কোটি ৩ লাখ। সে হিসাবে আর মাত্র ১৫ লাখ টিকা অবশিষ্ট রয়েছে।

প্রতিদিন এখন গড়ে দেড় লাখের উপরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মজুত শেষ হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে।

এদিকে, সময়মতো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না পেলে যারা প্রথম ডোজ হিসেবে এই টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ পেতে আট সপ্তাহের জায়গায় ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জটিলতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা সিরামের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের আট সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। তবে যদি কোনো কারণে দেরি হয়, যে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা যদি না আসে, তবে আমরা দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

এই সময়ের মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জটিলতা কেটে যাবে বলে আশা করছেন ফ্লোরা।

দুই ডোজের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর কি না জানতে কিছু দেশে গবেষণা চলছে।

যুক্তরাজ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ ধরনের একটি গবেষণায় ৮০০ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর অ্যাস্ট্রেজেনেকা ও ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা হয়। এই গবেষণার ফল নিশ্চিত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দেশে এ ধরনের কোনো গবেষণা না থাকায় সিরামের টিকা দিয়েই দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর সিনোফার্ম বা স্পুৎনিক ভি’র টিকা দেয়া যাবে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, প্রথম ডোজ যে কোম্পানির টিকা দেয়া হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজে সেটি ব্যবহার করাই ভালো।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

বিল-মেলিন্ডা গেটসের অঢেল সম্পদের কী হবে

বিল-মেলিন্ডা গেটসের অঢেল সম্পদের কী হবে

জানোডু ২.০ নামের এই বাড়িতে ২৭ বছর কাটিয়েছেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস। ছবি: সংগৃহীত

বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিপুল সম্পত্তি থেকে তাদের তিন সন্তান- জেনিফার, রোরি ও ফিবি পাবেন মাত্র ১ কোটি ডলার করে। বাকি সম্পত্তি চলে যাবে গেটস ফাউন্ডেশনের কাছে, ব্যবহার হবে জনকল্যাণে।

ফোর্বসের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বিল গেটস এখন চতুর্থ। তবে মেলিন্ডার সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের পর সম্পদের ভাগবাঁটোয়ারা হয়ে গেলে তার নাম তালিকার ১৭-তে নেমে যেতে পারে।

বিল-মেলিন্ডার যৌথ সম্পদের তালিকা যেমন দীর্ঘ, তেমনি বিস্ময়কর।

যে বাড়িতে দীর্ঘ ২৭ বছর এই দম্পতি পার করেছেন, তার নাম জানোডু ২.০। দাম ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ফোর্বস সাময়িকীর হিসাবে এ দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি ডলার।

এর মধ্যে জানোডু ছাড়াও রয়েছে দ্য ভিঞ্চির শিল্পকর্ম, কয়েকটি প্রাইভেট জেট বিমান, বিলাসবহুল বাড়ি এবং ব্র্যান্ডেড কারের বিশাল বহর।

বিল গেটসের কৃষিজমির পরিমাণও কিন্তু কম নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ পরিমাণ বেসরকারি কৃষিজমির মালিক তিনি।

এই বিপুল সম্পত্তি থেকে এ দম্পতির তিন সন্তান-জেনিফার, রোরি ও ফিবি পাবেন মাত্র ১ কোটি ডলার করে। বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বাকি সম্পত্তি চলে যাবে গেটস ফাউন্ডেশনের কাছে, ব্যবহার হবে জনকল্যাণে।

প্রাসাদসম বাড়ি

এ দম্পতির বিলাসবহুল বাড়ি আছে ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াইয়োমিংয়ে। তবে তাদের প্রধান বাড়িটি জানোডু ২.০। ওয়াশিংটনের সিয়াটলে এর অবস্থান। ৬৬ হাজার বর্গফুটের এ ম্যানশনের পাশেই লেক ওয়াশিংটন।

১৯৮৮ সালে বিল যখন এ বাড়িটি কেনেন তখন দাম ছিল ২০ লাখ ডলার। এর পর সাত বছর ধরে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ করে বাড়িটিকে নিজের স্বপ্নের প্রাসাদে পরিণত করেছেন বিল।

গত মাসে শেষবারের মতো একসঙ্গে জুম মিটিংয়ে অংশ নেন বিল-মেলিন্ডা

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সে সময় লেকের পাড়ে এ ধরনের নির্মাণযজ্ঞ নিয়ে বিলের প্রতিবেশীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তবে বিনা মূল্যে গাড়ি ধোয়ার ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশীদের টুকটাক কাজে নিজের নির্মাণকর্মীদের যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের মন জিতে নেন বিল।

জানোডু ২.০-এর এখনকার বাজারদর ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ বাড়িতে যেমন অবারিত প্রকৃতি আছে, তেমনি আছে প্রযুক্তি। বাড়িতে ইনডোর-আউটডোর পুল আছে। পুলে আন্ডার ওয়াটার মিউজিক সিস্টেম রয়েছে। আর ফ্লোরগুলোতে রয়েছে ফসিল ডিজাইন।

পাঁচ একরের এই প্লটে একটি কৃত্রিম সমুদ্র রয়েছে। এতে স্যামনসহ বহু ধরনের মাছ সাঁতার কাটে। সৈকতের বালু আনা হয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে।

ডেইলি মেইল অনলাইন জানায়, ম্যানশনটি সাত বেডরুমের। বাথরুম আছে ১৮টি। শৈল্পিকভাবে সাজানো হোম থিয়েটারে আসন ২০টি। খাবার ঘরের আকার ১ হাজার বর্গফুট, আসন ২৪টি।

বড় সমাবেশের জন্যও বাড়িতে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ওই হলে একসঙ্গে ২০০ মানুষ পার্টি করতে পারেন।

বাড়ির লাইব্রেরির আয়তন ২ হাজার ১০০ বর্গফুট। বিল অবশ্য নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বলে মনে করেন লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চির একটি বৈজ্ঞানিক নোটবইকে। বিয়ের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে নিলাম থেকে ৩ কোটি ডলার দিয়ে কোডেক্স নামে এই নোটবইটি কেনেন তিনি। এটি রাখার জন্য লাইব্রেরির আলাদা একটি কর্নার সাজানো হয়েছে।

বিল-মেলিন্ডার বাড়ির লাইব্রেরি

বাসিন্দাদের পছন্দ অনুসারে বাড়ির তাপমাত্রা, সংগীত ও আলোর পরিবর্তন হয়। প্রতিটি রুমের জন্যই আছে স্বতন্ত্র এ ব্যবস্থা।

এ ছাড়া বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বাকি বাড়িগুলোর মধ্যে ওয়াইয়োমিংয়ের ৪৯২ একর এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ২২৮ একরের ওপর র‍্যাঞ্চ রয়েছে।

অফুরন্ত কৃষিজমি

বিল গেটস ঠিক কী কারণে কৃষিজমিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন তা এক রহস্য। ১৮টি রাজ্যে ২ লাখ ৪২ হাজার একর কৃষিজমি রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি মালিকানার ভিত্তিতে বিল গেটসের কাছেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি। অবশ্য সব ধরনের জমির হিসাব বিবেচনায় নিলে তিনি এখনও দেশটির শীর্ষ ১০০ ভূমি মালিকের তালিকায় নেই।

বিলাসবহুল গাড়িবহর

গাড়ির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে বিলের। তার সিয়াটলের বাড়িতে ৩০টি গাড়ি রাখার গ্যারাজ রয়েছে। শুধু গাড়ির শখ নয়, গতি পরীক্ষাতেও বিশেষ আগ্রহী তিনি। একবার গতির পরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটান। পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে গারদে পোরে। পরে অবশ্য জামিনে ছাড়া পান।

পোরশে ৯৩০ টার্বো

গেটসদের সংগ্রহে আছে একটি পোরশে ৯৩০ টার্বো, একটি জাগুয়ার এক্সজে৬ এবং একটি ফেরারি ৩৪৮। বিলের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান গাড়ি হচ্ছে পোরশে ৯৫৯। এই মডেলের গাড়ি পুরো বিশ্বে আছে মাত্র কয়েক শ। গাড়িটির জন্য তিনি ১৩ বছর অপেক্ষা করে ছিলেন। সেটি কাস্টমসেও পড়ে ছিল দীর্ঘদিন। যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহারের জন্য আইনে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হয়।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিল তার শেষ গাড়িটি কেনেন। পোরশে টাইক্যান—ইলেকট্রিক গাড়িটি বিলের সংগ্রহে প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি।

প্রাইভেট জেট

সময় বাঁচায় বলে এ বাহনের প্রতিও বিলের আগ্রহ তুমুল। গেটসদের দুটি সাড়ে ৬ কোটি ডলারের গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর, দুটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৩৫০, একটি সেসনা সি প্লেন এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার রয়েছে।

গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর

বিস্ময়কর শিল্পকর্ম সংগ্রহ

শিল্পকর্মের প্রতি আগ্রহের জন্য বিশেষ খ্যাতি রয়েছে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের। তাদের সংগ্রহে থাকা কোডেক্সের কথা আগেই বলা হয়েছে। এ ছাড়া উইনস্লো হোমারের তেলচিত্র ‘লস্ট অন দ্য গ্র্যান্ড ব্যাংকস’ তিনি কেনেন ১৯৯৮ সালে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়ে।

কোডেক্স

পরের বছর ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়ে কেনেন জর্জ বিলোসের পোলো ক্রাউড। ২ কোটি ডলার দিয়ে কিনেছেন চাইল্ড হাসামের দ্য রুম অব ফ্লাওয়ারসহ আরও বহু চিত্রকর্ম।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন

এখনও ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয় সন্দ্বীপবাসী

এখনও ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয় সন্দ্বীপবাসী

ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে সন্দ্বীপবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। এই অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও নানা ঝক্কি পোহাতে হয় সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের। ছোট নৌযানে কোনোমতে সন্দ্বীপ পৌঁছানো গেলেও তীরে নেমে মূল সড়কে উঠতে কাদায় ঢাকা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় যাত্রীদের।

‘প্রচণ্ড ঢেউ আর বাতাসে স্পিডবোটে পানি আছড়ে পড়ছিল। বোটটি ডুবে যাচ্ছে, এমন মনে হচ্ছিল। যাত্রীরা ভয় পেয়ে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে শুরু করেন। সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে স্পিডবোটে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন সন্দ্বীপের বাসিন্দা কামরুজ্জামান রাসেল।

সন্দ্বীপের অপু ইব্রাহিম নিয়মিত এই পথে চলাচল করেন। তিনি জানালেন, বর্ষা আসায় এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র। জীবনবাজি রেখেই এখন স্পিডবোটে চলাচল করতে হয়।

সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। এই অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও নানা ঝক্কি পোহাতে হয় সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের। ছোট নৌযানে কোনোমতে সন্দ্বীপ পৌঁছানো গেলেও তীরে নেমে মূল সড়কে উঠতে কাদায় ঢাকা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় যাত্রীদের।

২০১২ সালে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অংশে দুটি জেটি নির্মাণ করলেও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া জেটি কোনো কাজে আসছে না। নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই এটি ভেঙে পড়ে যায়।

সাড়ে চার হাজার ফুট দীর্ঘ জেটিটির অবশিষ্ট আছে মাত্র দুই হাজার ফুট। অথচ এই জেটি ব্যবহার বাবদ প্রতিবছর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিওটিএ) ৪০ লাখ টাকা টোল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সন্দ্বীপ নৌপথের ঘাটগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। ভেঙে যাওয়া জেটির বিষয়ে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল বলেন, এটি সংস্কারের কোনো বাজেট নেই।

কুমিরা অংশে থাকা জেটিও ব্যবহার হচ্ছে কেবল জোয়ারের সময়। ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই সন্দ্বীপের মানুষের।

স্পিডবোটে সমুদ্র পাড়ি

সন্দ্বীপের কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, কোমরপানিতে নেমে যেতে হয় যাত্রীদের। এরপর কাদা মাড়িয়ে পাড়ে উঠতে হয়। স্পিডবোট কিংবা অন্য নৌযানে উঠতে-নামতে হলে অবৈধ লালবোট ব্যবহার করতে হয়।

শুধু জেটির সমস্যা নয়, সন্দ্বীপ রুটে রয়েছে নৌযান সংকটও। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ রুটে চলাচল করা তিনটি যাত্রীবাহী জাহাজ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৮ সালে সেগুলো বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এখন জোড়াতালি দিয়ে চলা মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিডবোটগুলোই যাত্রীদের ভরসা।

তার ওপর স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী বোটে যাত্রী আনা–নেয়াসহ নানা অভিযোগ তো আছেই। ফলে একপ্রকার জিম্মি হয়েই ওই পথে চলাফেরা করতে হচ্ছে হাজারও যাত্রীকে। এসব কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে নৌ-দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।

স্পিডবোটে সমুদ্র পাড়ি

এই রুটে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল। সেদিন হারিয়েছিল ১৮টি তাজা প্রাণ।

জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। কোনো স্থায়ী নৌযান না থাকায় উত্তাল সমুদ্রে কখনো অবৈধ স্পিডবোট, কখনো কাঠের নৌযানে যাতায়াত করতে হয়।

অভিযোগ আছে অবকাঠামোগত সংকটেরও। সন্দ্বীপের বাসিন্দা ও রুটটিতে নিয়মিত চলাচলকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এই রুটে চলাচলকারীদের জন্য নেই মানসম্মত টয়লেট। পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনির অভাবে বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজতে হয় যাত্রীদের। যাত্রীর মালামাল নিয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম না থাকায় অতিরিক্ত টিকিট খরচ দিয়ে সেগুলো আনা-নেয়া করতে হয়। এ ছাড়া নারী-পুরুষের আলাদা টিকিট কাউন্টার নেই বলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

তিনি বলেন, পুরোনো নৌযান হওয়ায় মাঝপথে আবার বিভিন্ন সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। শীতকালে যাত্রী পারাপার নিরাপদ হলেও বর্ষাকালে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে নিয়মিত মালামাল নিয়ে যান ব্যবসায়ী রহমান মিয়া। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তাল থাকায় কখন বোট ছাড়বে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অনেকটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে চলতে হয় এখানকার মানুষদের। আর শীত কিংবা গ্রীষ্মে সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে চলে স্পিডবোট। এরপর যতই জরুরি হোক, চলাচলের কোনো উপায় নেই। এ ধরনের অনুন্নত এবং ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার কবলে পড়ে চরম ভোগান্তি হচ্ছে দ্বীপবাসীদের।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শাব্বির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বিআইডব্লিউটিসিকে অনুরোধ করেছি যাতে এই রুটে নিয়মিত জাহাজ পরিচালনা করে। কিন্তু সংস্থাটি আমাদের জানিয়েছে তাদের জাহাজ সংকট। এ জন্য রুটটিতে জাহাজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পারাপারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সতর্কতার জন্য ঘাটের ইজারাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে জেলা পরিষদ। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি মানে না। তারা কোনোমতে সাগর পার হওয়ার চিন্তা করে। এ জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (যাত্রী ও প্রশাসন) শেখ মু. নাসিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মেঘনা মোহনায় অবস্থিত প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপে বসবাস প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের। পাঁচ শ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উত্তর-দক্ষিণে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে সন্দ্বীপের প্রবাসীরাই।

আরও পড়ুন:
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন মিতি-মেহেরবা
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ

শেয়ার করুন