× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য শিল্প ইভেন্ট উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন মানসিক স্বাস্থ্য অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ ইউরোপ ব্লকচেইন ভাষান্তর অন্যান্য ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিশেষ
যেভাবে রক্ষা পেল ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ
google_news print-icon

যেভাবে রক্ষা পেল ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ

যেভাবে-রক্ষা-পেল-৭-মার্চের-ভাষণের-ভিডিওটেপ
আমজাদ আলী খন্দকার। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ একটি ট্রাংকে ভরে লুকিয়ে ঢাকার বাইরে দোহারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ধানের গোলায় সেটি লুকিয়ে রাখা হয়। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক ভাষণের কোনো ভিডিওচিত্র থাকত না।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আরও এক দিক থেকে ছিল অনন্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের আগে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভিডিও রেকর্ডেড ভাষণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার সেই ভাষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাত বাঙালি কর্মকর্তা। শুধু ভিডিওচিত্র ধারণই নয়, এটি ডেভেলপের পাশাপাশি সংরক্ষণও তারা করেছিলেন।

২৫ মার্চ কালরাতের পর অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সরকারি দপ্তর থেকে তারা সেই ভিডিওটেপ গোপনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করেছেন তারা। সে সময় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ক্যামেরা সহকারী ছিলেন আমজাদ আলী খন্দকার। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভিডিওটেপ সরিয়ে কীভাবে তারা দোহারের একটি বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন, সে গল্প তিনি বলেছেন নিউজবাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আশিক হোসেনের কাছে।

একাত্তরে তো আপনারা পাকিস্তান সরকারের কর্মচারী। তারপরও ৭ মার্চের ভাষণ ধারণ করলেন কীভাবে? আর কোনো বিভাগ কি আপনাদের সঙ্গে ছিল?

৭ মার্চ কিন্তু একদিনে আসেনি। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের পথেই ৭ মার্চ এসেছে। এই ভাষণ ধারণ করার জন্য আমাদের পরিচালকের নেতৃত্বে দুই দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমরা কে কী করব, সেগুলো আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। আমরা তখন মূলত ছিলাম পূর্ব পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ফিল্ম ডিভিশনের স্টাফ। আমরাই এটা করেছি। তখন পাকিস্তানের আরও কিছু সংস্থা, যেমন ডিএফপি ছিল। তারা কিন্তু এ কাজ করেনি। তারা কিন্তু মাঠের ধারেকাছেও আসেনি। আমরা ফিল্ম ডিভিশন এ কাজটা করেছি। আমাদের ফিল্ম ডিভিশনের পরিচালক ছিলেন আবুল খায়ের (খ্যাতিমান অভিনেতা) সাহেব। ক্যামেরাম্যান ছিলেন জি জেড এম এ মবিন, এম এ রউফ। অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলাম আমি, এস এম তৌহিদ আর সৈয়দ মইনুল আহসান। দুইজন ছিল লাইটবয়; জুনায়েদ আহমেদ আর একজন হাবিব। লাইটবয়রা আমাদের সহযোগিতা করত। আর আমাদের পরিচালক জানত, কে কী কাজ করতে পারে।

মঞ্চে মূল কাজটা কীভাবে করলেন? কার কী দায়িত্ব ছিল? প্রস্তুতিই বা শুরু করলেন কীভাবে?

মবিন সাহেব ছিলেন ফিল্মের ক্যামেরাম্যান মূলত। আর আমি ছিলাম এফডিসির রাইজিং ক্যামেরাম্যান। পরিচালক মনে করলেন, এই দুজনকে যদি মঞ্চে দিই তাহলে তারা ভালো রেকর্ড করতে পারবে। আমাদের দুজনকে মঞ্চে দিলেন। রউফ সাহেব আর তৌহিদকে দায়িত্ব দিলেন, তারা ঘুরে ঘুরে ছবি নেবে। আর মইনুলকে দিলেন এই যে টেপ রেকর্ডার বসবে, সেইটা চালুর দায়িত্ব।

যেভাবে রক্ষা পেল ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ

তখন কলরেডি ছিল। তারা আগের দিন পুরো মাঠে শত শত মাইক বসিয়েছে। তারা হাইভোল্টেজ লাইন এনেছিল। আমরা ক্যামেরা চালাব কারেন্ট দিয়ে, ব্যাটারি দিয়ে যদি চালাই, তাহলে সে ক্যামেরায় অনেক আওয়াজ হবে, কখন ব্যাটারি বসে যাবে আমরা বুঝতে পারব না।

সিংক মোটর বলে একটি জিনিস আছে। সেটা দিয়ে আমরা ক্যামেরা চালালাম, যাতে করে কোনো শব্দ না পায়। সাউন্ডপ্রুফ ক্যামেরা নিয়ে গেলাম। কারণ, আমাদের ক্যামেরায় যদি আওয়াজ হয়, একটা লোকও মাঠে থাকবে না। এত আওয়াজ হবে, সব মানুষ চলে যাবে। এর জন্য আগের দিন বিকেলে একটা কয়েল তার নিয়ে গেলাম কলরেডির কাছে। তখন যারা কাজ করছিল, তারা আমাকে আর লাইন দেবে না। পরে কলরেডির মালিক আসার পরে আমরা লাইন পেলাম। তো তখনই ভিডিওধারণের জন্য লাইন টেনে রাখা হলো।

পরের দিন ৭ মার্চ, সকাল ৭টায় ক্যামেরা নিয়ে মাঠে চলে গেলাম।

যেভাবে রক্ষা পেল ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ

৭ মার্চ সকালে যখন রেসকোর্স ময়দানে গেলেন, তখন কী দেখলেন? আপনাদের ভয় করেনি?

সকালে মাঠে গিয়ে দেখি, মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। একদিকে কালীমন্দির, এদিকে টিএসসি, একদিকে ঢাকা ক্লাব আর ওদিকে হাইকোর্ট। তখন তো কোনো গাছপালা ছিল না। পুরো মাঠ ছিল খালি। তো আমরা গিয়ে দেখলাম, পুরো মাঠ মানুষ দিয়ে ভরে গেছে। আমরা তখন ক্যামেরা-ট্যামেরা লাগিয়ে সব রেডি করে রেখেছি।

এর মধ্যে একটা গুজবও ছিল যে, বোমা মেরে সব উড়িয়ে দেবে। প্রস্তুতিও নাকি ছিল। আমরা তো তখন ভয় পেয়েছি। এই যে সাতজনের নাম বললাম, আমরাই প্রথম প্রকাশ্যে মাঠে এসেছি। আর কেউ কিন্তু আসেনি। তখন আমরা পাকিস্তান সরকারের কর্মচারী। গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরা উপস্থিত ছিল। তারা আমাদের দেখেছে যে আমরা কাজ করছি। ভয় ছিল, ধরে নিয়ে যাবে। তবে সাহস ছিল, বঙ্গবন্ধু আমাদের যেভাবেই হোক বের করে নিয়ে আসবে। আটকে রাখতে পারবে না। আর মরে গেলে তো মরেই গেলাম।

এভাবেই আমরা কাজ করলাম। ভয় আমাদের ছিল না। যখন একবার কাজের নেশায় চলে গিয়েছি, তখন আর ভয় নাই। তখন চিন্তা, কীভাবে ফোকাস থাকবে।

যারা ফিল্মের ক্যামেরাম্যান তারা বুঝবে কী কষ্ট করে আমরা এ কাজটা করেছি। ম্যাগাজিন, ফিল্ম চেঞ্জিং। ব্যাগ সব সাইডে রাখা আছে। অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন সাইডে আছে। আমাদের ৫০০ ফিট লোড করলে মাত্র ৫ মিনিট শ্যুট করা যায়। এক ঘণ্টা শ্যুট করা যায় এ পরিমাণ ফিল্ম আমাদের কাছে ছিল।

যেভাবে রক্ষা পেল ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটেপ

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সেই মুহূর্তের কথা আপনার মুখে শুনতে চাই।

বঙ্গবন্ধু আসলেন। এত মানুষ হয়েছে, কিন্তু কারও মুখে কোনো কথা নেই। এই যে মাইকে বলে ডানে আসেন বামে আসেন, বসেন, এসব কোনো কথা বলতে হয়নি। সব একদম সাইলেন্ট। মানুষের চিন্তাটা এ রকম ছিল যে, এই যে এত দিনের এক আন্দোলন, এত সংগ্রাম হয়েছে, এটা তার ফসল। আজকে তিনি কী নির্দেশ দেন তা শুনে বাড়ি যাব। সবাই সেটা শুনতেই এসেছে। একটা কথাই মানুষ শুনতে এসেছে যে, বঙ্গবন্ধু কী বলেন। এ জন্যই সবাই চুপ করে বসে ছিল। বঙ্গবন্ধু আসলেন একদম বীরের মতো। মঞ্চে উঠলেন। আশেপাশে যারা ছিল, কারও সাথে কোনো কথা না বলে সরাসরি ডায়াসে এসে চশমা রেখে উনি ভাষণ শুরু করলেন। একটানা বলে গেলেন। কারও কোনো স্লিপও নিলেন না, কারও কোনো ইশারাও শুনলেন না। কী বলবেন, আগে থেকে কোনো কিছু ঠিকও করা ছিল না। থাকে না, মানুষের ভাষণ লেখা থাকে। এ রকম কিছুই ছিল না। উনি অনর্গল ওনার কথা বলে গেলেন। আর যা বললেন, তা তো রেকর্ডে আছেই, আপনারা শুনেছেন। তখন পাকিস্তান আমল। তার মধ্যেও তিনি বললেন স্বাধীনতার কথা।

রেকর্ড তো করলেন। তারপর এটা ডেভেলপ করলেন কীভাবে? কেউ সন্দেহ করেনি?

আমরা ভাষণ রেকর্ড করলাম। আমাদের অফিস ছিল সচিবালয়ের ২২ নম্বর শেডে। অর্ধেকটা আমাদের, আর বাকিটা অন্য ডিপার্টমেন্টের। এখন সমস্যা হলো এই যে, বঙ্গবন্ধুর নামে কীভাবে ফিল্মগুলো ডেভেলপ করে আনব। ক্যামেরাম্যানের দায়িত্ব হলো শ্যুট করে দেয়া। এখন ডেভেলপের দায়িত্ব তো আমাদের ওপরে। তখন ডেভেলপ করতে হতো এফডিসিতে। এফডিসিতে গেলাম। কিন্তু ফিল্মের উপরে লিখব কী? সে বছর একটা সাইক্লোন হয়েছিল। তো একটা ফিল্মের উপর লেখলাম, ‘সাইক্লোন’। অন্যগুলো কোনোটাতে ‘নির্বাচন’। এভাবে লিখে ‘এক’, ‘দুই’ দিয়ে আমরা ডেভেলপে দিতাম। তারপর সেগুলো রক্ষণও আমরাই করতাম। পরিচালকের একটা আলমারি ছিল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হতো। আমরা এভাবেই ফিল্ম প্রসেস করে নিয়ে আসলাম।

২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইটের সময় বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হলেন। দেশের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নিল সেনাবাহিনী। তখন তো তারা অনেক নথি নষ্ট করে ফেলে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রক্ষা পেল কীভাবে?

২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে গেল পাকিস্তানিরা। এরপর আর্মিরা প্রায় সব অফিসের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল। সচিবালয়ে আর্মির আনাগোনা বেড়ে গেল। একদিন আমাদের পরিচালক (আবুল খায়ের) ডেকে বললেন, ‘আমজাদ, তোমাকে একটা দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সেটা এই মুহূর্তে এবং আজই।’ আমি বললাম, ‘কী করতে হবে স্যার।’ তিনি আমাকে নানা কারণে অনেক বিশ্বাস করতেন। যা হোক, আমাকে বললেন, ‘তুমি এখনই সদরঘাট যাও।’ তখন সবকিছু কিনতে হলে সদরঘাট যেতে হতো। আমাকে তিনি বললেন, ‘সদরঘাট থেকে একটা ট্রাংক নিয়ে এসো।’ টাকা দিয়ে দিলেন, আমি ৪২ ইঞ্চির একটি বড় কালো ট্রাংক নিয়ে আসলাম। উনাকে দেয়ার পরে এটাতে ভরলেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, যেটা আমরা ৭ মার্চ রেকর্ড করেছিলাম, সেটা। এর সাথে কাজী নজরুল ইসলামের উপরে একটা ডকুমেন্টারি আমরা করেছিলাম গোপনে, সেটা। সাথে বঙ্গবন্ধুর আরও কিছু ছবি ট্রাংকে ভরলেন। এরপর আমাকে বললেন, ‘তোমাকে আজই বের হয় যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যাব?’ বললেন, ‘জয়পাড়া যাবা।’ কোথায় যেতে হবে ঠিকানা দিয়ে দিলেন। আমি বললাম, ‘স্যার আমার বাবার সাথে একটু দেখা করে আসি।’ উনি আমাকে পয়সা দিয়ে বললেন, ‘যাও।’ আমি বাবাকে বললাম, ‘বাবা, আমার আসতে দুই দিন দেরি হবে, চিন্তা করবেন না।’ ফিরে আসার পর আমাকে তিনি (আবুল খায়ের) রুমের ভেতর নিয়ে গেলেন। আমার হাতটা ধরে ঝাঁকি দিয়ে বললেন, ‘আমজাদ! আল্লাহ হাফেজ!’ তার চোখগুলো এত বড়বড় হয়ে গেল। উনি জানতেন, এই ছেলে যদি বের হয়ে যায়, আর ধরা পড়ে, তাহলে এখনই শেষ হয়ে যাবে। আর ফিরে আসবে না।

সারা শহরে তখন আর্মির প্রহরা। এর মধ্যে বের হলেনই বা কীভাবে?

প্রথম যে সংকটটা হলো: সচিবালয় থেকে বের হব কীভাবে? সব জায়গায় তো পাঞ্জাবিরা আছে, বিহারিরা আছে। গেট পাস দিবে কে? যে গেট পাস দেবে, সেই তো পরে ধরা পড়বে। এখন তাহলে গেট পাস ছাড়াই আমাকে বের হতে হবে। কিন্তু কীভাবে? তখন ২ নম্বর গেটে একজন সার্জেন্ট ছিলেন ফরিদ, বাঙালি। তার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তাকে আমি বললাম, বের হতে চাই, এই হচ্ছে ব্যাপার। সে যেহেতু বাঙালি, আমাদের বিষয়ে সব সে জানত আর কী। তো আমাকে বলল, ‘ঠিক আছে অসুবিধা নাই, তুমি বেবি নিয়ে আসো, আমি তোমাকে বের করে দেব।’ দ্বিতীয় গেট দিয়ে তখন শুধু ঢোকা যায়, বের হওয়া যায় না। ফরিদ করল কী, পল্টন থেকে যে গাড়িগুলো আসছিল ওগুলোকে আটকে দিয়ে আমাকেসহ বেবিটা বের করে দিল। আমার সাথে যারা চাকরি করত, অনেককেই বললাম, ‘আমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আয়।’ কিন্তু কেউ আসল না। আমি একাই আল্লাহর নাম নিয়ে বের হয়ে গেলাম। বেবিওয়ালাও বুঝল, এটা মনে হয় বিশেষ ব্যবস্থা। সে-ও কোনো দিকে না তাকিয়ে দিল এক টান।

প্রেস ক্লাবের সামনে আর্মি একটা বড় ট্রাকের উপরে বসে আছে। তার নিচ দিয়েই বেবিটা চলে গেল। ওরা আমাকে ডাকলও না, আমিও তাকালাম না। ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ করতে করতে চলে গেলাম।

কার্জন হল, চানখাঁর পুলের সামনে দিয়ে গেলাম চকবাজার। চকবাজার গিয়ে একটু স্বস্তি পেলাম। কিছু লোকজন দেখা যায়। আর সব রাস্তা ফাঁকা। আর্মি টহল দিচ্ছে। এখান থেকে সোয়ারি ঘাটে যাওয়ার পর দুটো ছেলে এগিয়ে এলো ট্রাংক নিতে। আমি তাদের বললাম, ‘তোমরা পারবা না। বড় কাউকে ডাকো।’ পরে একজন এলো। ট্রাংক নিয়েই বলে উঠল, ‘ইসমে কেয়া হ্যায় ইতনা ওজন।’ আমি বললাম, ‘নিয়ে যা, কোনো কথা কইস না। আমাকে পার করে দে আগে।’ এখান থেকে এভাবে জিঞ্জিরা পর্যন্ত গেলাম। সেখানে দেখি, শয়ে শয়ে লোক জীবন নিয়ে পালাচ্ছে। বোঝেন না, জীবনের ভয়ে ওরা পালায়, আর আমি ছুটছি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঁচাতে।

দেখলাম একটা বাস ছেড়ে দিচ্ছে। আমি সেটার পেছনে জোরে এক থাপ্পড় দিলাম। তখন তরুণ ছিলাম, চেহারার মধ্যে একটা অন্য রকম ইয়ে ছিল। ড্রাইভার তখন পেছনে তাকিয়ে আমাকে দেখল, কী বুঝল জানি না। বাস থামিয়ে দিল। আমাকে ইঙ্গিত দিল উপরে তুলে দেন। আমি বাসের ছাদে উঠে পড়লাম। তারপরেও কিন্তু শান্তি পেলাম না। ভয় হলো (আর্মি) যদি আমার পিছু নেয়, যদি দেখে ফেলে তাহলে কী হবে?

তখন এক বাঙালি অন্য বাঙালিকে খুব সহযোগিতা করত। জিঞ্জিরা থেকে গেলাম বক্সনগর নামে একটা জায়গা আছে, সেখানে। এই পর্যন্তই বাস যেত, তারপরে আর যেত না। রাস্তা ছিল দুই পাশে ইট বিছানো, সেটা দিয়েই বাস যেত। সেখানে নামার পরে ট্রাংক নামালাম। এখন যদি নৌকায় উঠি, তাহলে আমাকে যদি চেক করে, তাহলে তো দৌড়াতে পারব না। আমি করলাম কী, একটা ঘোড়াওয়ালা ঠিক করলাম। সেখান থেকে গেলাম জয়পাড়া মজিদ দারোগার বাড়ি, দোহার থানায়। সেখানে গিয়ে উঠি।

এদিকে (আবুল খায়ের) খায়ের সাহেব তো আমাকে বিদায়ের সাথে সাথে বের হয়ে আমাকে পায়নি। এত জলদি যে আমি বের হয়ে যাব, এটা উনি চিন্তা করেননি। আমাকে না পেয়ে আবার তিনি গেছেন পাগল হয়ে। তিনি মনে করেছেন, আমাকে মনে হয় ধরে নিয়ে গেছে, মেরে ফেলেছে। আমার যেই বাড়িতে যাওয়ার কথা তিনিও সেই বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। এদিকে আমিও পৌঁছেছি। আমি তো ওখানে গিয়ে বলিনি, বলেছি অফিসের কাগজপত্র। এটার মধ্যে কী আছে, এত কিছু বলিনি।

এটা কার বাড়ি ছিল?

এটা ছিল জয়পাড়া মজিদ দারোগার বাড়ি। আমি বলেছি, স্যার পাঠিয়েছেন, কিছু কাগজপত্র আছে। এদিকে খায়ের সাহেব চলে এসেছেন। আমাকে দেখে বলেন, ‘ও এসেছ তুমি?’ বললেন, বসো। আমরা ওখানে খাওয়াদাওয়া করলাম। পরের দিন সকালে সেখান থেকে চলে এলাম।

ট্রাংকটা কি তাহলে মজিদ দারোগার বাসাতেই ছিল শেষ পর্যন্ত?

কিছুদিন ছিল মজিদ দারোগার বাসায়। তারপর খায়ের সাহেবের ফ্যামিলির কেউ তো আর তখন ঢাকায় নেই। দোহারের চরকোশায়ই নামে একটা গ্রাম আছে, জয়পাড়ার পাশেই। আমাকে (তিনি) বললেন, ‘তুমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে আসো। চরকোশায়ই দানেশ খাঁর বাড়িতে চলে এসো।’

দানেশ খাঁর ভাই উমেদ খাঁ আমার পরিচিত ছিলেন। দানেশ খাঁ যে তারই ভাই, এটা তখনও আমি জানতাম না। একদিন পর তার ফ্যামিলি নিয়ে ফিরলাম। তিনি যে পরের দিনই কলকাতা চলে যাবেন, এই কথাটা আবার আমার থেকে গোপন করে গেছেন। আমাকে শুধু বলেছে, ‘যা ঘটবে, শুধু ছবি তুলে রাখবা।’ এই দায়িত্বটা দিয়ে গিয়েছিলেন।

আমাদের মধ্যে কিছু নন-বেঙ্গলি ছিল। তারা বলত যে, ‘আমজাদ, তুমি বঙ্গবন্ধুর ভাষণও সরালা, আবার পরিচালককেও সরায় দিলা।’

আমি ভয় পেলাম। যদি এসব প্রকাশ করে দেয়, আমি তো মরে যাব। তখন আমি আত্মগোপনে এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে গেলাম। পরে অবশ্য ফিরে আসি।

তাহলে ভাষণের ভিডিওটা কোথায় ছিল? চরকোশাই?

ভাষণটা তো চরকোশাই নিয়ে গেল। উমেদ খাঁর ধানের গোলায় চলে গেল ওটা। খায়ের সাহেব যখন কলকাতায় চলে গেলেন, সেখানে বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করে মুক্তিবাহিনী পাঠিয়ে ওটাকে নিয়ে যান ভারতে। যুদ্ধ চলাকালে পুরো সময় ওটা ভারতেই ছিল। অনেকে জানে না কোথায়। দেশ যখন স্বাধীন হলো, তখন উনি ওটা নিয়ে দেশে ফিরলেন।

আরও পড়ুন:
ওআইসিভুক্ত ৫৭ দেশের শিল্পীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ইয়ুথ আর্ট কম্পিটিশন’
‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ৫২ বর্ষপূর্তিতে ডাকটিকিট অবমুক্ত
বঙ্গবন্ধুর ২১ ফেব্রুয়ারি ও বাংলা ভাষাপ্রীতি
ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
The body of the housewife in Meherpur was found on the Mirpur rail line

মেহেরপুরের গৃহবধু স্বপ্নার মরদেহ মিললো মিরপুর রেল লাইনে

মেহেরপুরের গৃহবধু স্বপ্নার মরদেহ মিললো মিরপুর রেল লাইনে

বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সনাক্ত হলো গৃহবধুর সপ্নার পরিচয়।

গতকাল কুষ্ঠিয়ার মিরপুরের ট্রেন লাইন থেকে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ।

পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ রাখা হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

তার পরিচয় সনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া হয় ছবি।

ছবি দেখে সনাক্ত হয় গৃহবধু মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের পুরাতন মটমুড়া গ্রামে মোবাইল মেরামতকারী সুজনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী স্বপ্না।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের রাজধানী পাড়ার মৃত রেজাউল হকের মেয়ে স্বপ্নার সাথে মটমুড়া গ্রামের সুজনের বিয়ে হয় প্রায় ১ যুগ আগে। সুজন স্বপ্নার সংসারে রয়েছে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে।

স্বপ্নার মৃত্যুতে শোকে ভাসছে দুটি পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনরা।

সপ্নার মৃত্যুর সংবাদে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন স্বামী সুজন আলী।

স্বপ্নার শাশুড়ি জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বিকেলে সে পাশের বাড়িতে যায়। ফিরে এসে জানতে পারে তার পুত্রবধু স্বপ্না বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুনতে পাই স্বপ্নার মৃত্যুও খবর।

গৃহবধু স্বপ্নার মা জানিয়েছে তার মেয়ের সাথে দুদিন কোন কথা হয়নি। শনিবার রাত ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবেশীরা স্বাপ্নার ছবি দেখে তাকে দেখালে সে তার মেয়ে স্বপ্নাকে চিনতে পারে। আমি এখন কি করবো? আমার সাথে এম কি হলো? যে সে নিজ জেলা ছেড়ে অন‍্য জেলায় গিয়ে আত্মহত্যা করলো।

মন্তব্য

বিশেষ
The writ hearing challenging Farhads candidacy in Daksu Tuesday

ডাকসুতে ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট, শুনানি মঙ্গলবার

ডাকসুতে ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট, শুনানি মঙ্গলবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জি এস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসান আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম এই রিট করেন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আদালতের আজকের কার্যতালিকার ২৮৫ নম্বর ক্রমিকে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছিল। তবে ব্যস্ত কার্যসূচির কারণে আদালত তাৎক্ষণিক শুনানি না করে মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

মন্তব্য

বিশেষ
Habiganj was arrested on charges of rape

হবিগঞ্জে প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

হবিগঞ্জে প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

হবিগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মো. আকবর আলী (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

রবিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র‌্যাব-৯। গ্রেপ্তার চুনারুঘাট উপজেলার উসমানপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ মার্চ ভুক্তভুগীর সঙ্গে একই বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামী তার শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাবাকে জানান। পরে বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের ৫ অক্টোবর থেকে একই গ্রামের আবু তাহের ও আকবর আলী বিভিন্ন সময়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন।

গত ৮ মে তাকে মেডিক্যাল টেস্ট করানো হলে জানা যায়, ২৭ সপ্তাহ ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা তিনি।

এ ঘটনায় গত ১১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প গতকাল শনিবার উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতি. পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গ্রেপ্তার আকবরকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

বিশেষ
Bhairabs fire fears about a loss of around Rs 1 crore in the fire 

ভৈরবে অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা 

ভৈরবে অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে পড়লো দুইটি পিও জুতার ফ্যাক্টরি। পরবর্তীতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (৩০ আগষ্ট) রাত পোনে ৯টার দিকে পৌর শহরের লক্ষীপুর এলাকার উসমান মোল্লার মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরের লক্ষ্রীপুর এলাকার উসমান মার্কেটের অগ্নিকান্ডে ঈগল পিও ফুটওয়ার ও চেইন্স পিও ফুটওয়ের ফ্যাক্টরির সকল যন্ত্রাংশ ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানান বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পরে। তবে কারখানা দুইটির কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল ও সরঞ্জাম পুড়েছে।

স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, রাত পোনে নয়টা আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অনেক চেষ্টা করে রাত সাড়ে ১২ টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় দোকানদার ইকরাম মোল্লা রানা বলেন,আমার দোকান হচ্ছে এই ফ্যাক্টরির বিপরীত পাশের এক কোণায়। যখন দেখতে পেলাম দুইটা লোক দৌড় দিয়ে এদিকে আসলো তখন আমি সামনে গিয়ে দেখি ফ্যাক্টরির দরজা জানালা বন্ধ কিন্তু ভিতরে আগুন দাঊ দাঊ করে ধরতেছে। সবাই ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু কারও কাছে ফোন না থাকার কারণে সঠিক সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে দেরি হয়ে গেছে। যদি সঠিক সময় খবর দিতে পারতো তাহলে হয়তো বেশী আগুন লাগতো না।

ফ্যাক্টরি জায়গার মালিক আবুল বাশার বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে একটি টিম পরে আরো একটি টিম এসে কাজ করেন।

দেখাযায় আগুন প্রথমে চেইন্স ফ্যাক্টরিতে লাগে। আর ফ্যাক্টরিতে ঢোকার পরে দেখা যায় ধোয়া আর ধোয়া। পরে এই আগুন সাথের ঈগল ফ্যাক্টরি আগুন লাগলে পরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। অনেক চেষ্টার পরে রাত সাড়ে বারোটায় নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দেখা যায় স্থাপনা ছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে।

ঈগল ফুটওয়্যারের সহকারী পরিচালক মো: সুহাস জানান, আরামকো, ঈগল ও চেইন্স তিনটি ফ্যাক্টরি একসাথে ছিলো। চেইন্স ফ্যাক্টরিতে ধোয়া দেখতে পেলে ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষ না থাকায় ও ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে দেরি হয়ে যায়। ততক্ষনে চেইন্স ফ্যাক্টরির সকল কিছু পুড়ে যায়। আর আমাদের ফ্যাক্টরিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে আর সকল কিছু পুড়ে যায়। আমাদের প্রায় ৩-৪ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো: আল-আমিন মিয়া বলেন, আগুন লাগার খবর মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তাড়াতাড়ি আসি। এসে দেখি দুটো ফ্যাক্টরি আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এতে করে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে। প্রায় সময় এসব ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে কিন্তু কেন এমন হয় তার কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা চায় যে এ-ই পর্যন্ত যতো ক্ষতি হয়েছে সরকার যেন একটু নজর দেয়।

পিও ফুটওয়্যার এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম বাচ্চু বলেন, খবর পেয়ে জানতে পেরে এসে দেখি আগুনে দুটো ফ্যাক্টরির সকল মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে শীতের সিজন হিসেবে তাদের অনেক মালামালের তৈরির কার্যক্রম ছিলো কিন্তু আগুনে সব শেষ। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এই ক্ষতি যেন অনুদানের মাধ্যমে পুষিয়ে দেয় সেই দাবী জানাচ্ছি।

ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর রাজন আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে চলে আসি। প্রায় দুই ঘন্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। আগুনে দুটো ফ্যাক্টরি চেইন্স ফুটওয়্যার ও ঈগল ফুটওয়্যারের সকল কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়। আর সামনের ৫-৬ টি দোকানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে দুটো ফ্যাক্টরির কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এছাড়া কি কারণে আগুন লাগতে পারে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট কিংবা কোন মিশিনারিজ চালু হওয়া থাকলে হয়তো আগুন লাগতে পারে। পরে তদন্ত করে জানতে পারবো।

মন্তব্য

বিশেষ
Six members of the smuggling mobile cycle in Gulistan rescued 4 phones

গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১০৩ ফোন

গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১০৩ ফোন

রাজধানীর গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ।

অভিযানে ১০৩টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৬৮টি অ্যান্ড্রয়েড এবং ৩৫টি বাটন ফোন রয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আব্দুল মান্নান (৫০), মো. সিয়াম মিয়া (১৮), মো. আব্দুর রহমান (১৮), মো. সাজু মিয়া (২১), মো. আব্দুল্লাহ ইবনে আল মাকসুদ আরাফাত (২০), নাজমুল ইসলাম (১৮), মো. আব্দুল (১৮), মো. রাকিব (১৮), মো. রেজাউল হক (৫৫) ও মো. আশরাফুল (১৯)।

গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শনিবার গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য

বিশেষ
Dr Yunus is sitting in a special meeting with three parties today

তিন দলের সঙ্গে আজ বিশেষ বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস

তিন দলের সঙ্গে আজ বিশেষ বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় তিনি বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সাড়ে ৪টায় জামায়াতের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হবে। শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। গত ২১ জুলাই মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে বিক্ষোভের পর দলগুলোকে বৈঠকে ডেকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন সরকারপ্রধান। পরের দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একই বার্তা দেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ আগস্ট তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে যখনই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখনই দলগুলোকে ডেকে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গত এক বছরে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচবার করে বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে।

শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এই ভিপির মাথায় আঘাত লেগেছে, ভেঙেছে নাকের হাড়।

এ পরিস্থিতিতে দলগুলোকে আবার ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির পর সামনে অন্য দলগুলোকেও বৈঠকে ডাকা হতে পারে। অতীতেও এ রীতি দেখা গেছে। গতকাল সরকারের বিবৃতিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে সরকার। জুলাই সনদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের কারণে ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা– এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ।

তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও গতকাল বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।

বৈঠকে যাবেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুলের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাচ্ছে। জামায়াতই প্রথম ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল। নির্বাচনের সময় নিয়ে জামায়াতের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোট হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।

এর আগে প্রেস সচিব জানান, শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। এতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; জনগণের প্রতি যা অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।

মন্তব্য

বিশেষ
Narayanganj

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়ের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়ের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ফতুল্লার শিহাচর বড় বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- শিয়াচর এলাকার আমির আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে লামিয়া (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮ টার দিকে পাম্প নিয়ে বাড়ির পেছনে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সেচতে যান রোকসানা বেগম ও তার মেয়ে লামিয়া। এসময় পাম্পের সংযোগ তার লিকেজ হয়ে রোকসানা বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে শরীরে স্পর্শ করলে তার মেয়ে লামিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মা ও মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি খুব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে