তাসনুভা-হোচিমিন শোনালেন রূপান্তরিত নারীর প্রেমের গল্প

player
তাসনুভা-হোচিমিন শোনালেন রূপান্তরিত নারীর প্রেমের গল্প

দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন ইসলাম (বাঁয়ে) এবং তাসনুভা আনান শিশির। ছবি: নিউজবাংলা

ভালোবাসা দিবসে নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘আমাদের প্রেম’ অনুষ্ঠানে নিজেদের ভালোবাসার গল্প বলেছেন দুজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির এবং হোচিমিন ইসলাম।

ভালোবাসা একটি ছোট্ট শব্দ হলেও এর মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে মনের গভীর অতল রহস্য। ভালোবাসা প্রকাশের ধরন বদলায় মানুষে মানুষে, এমনকি লিঙ্গভেদেও। আবার অনুভূতির তীব্রতা এবং প্রাপ্তিতেও আছে রকমফের।

ভালোবাসা দিবসে নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘আমাদের প্রেম’ অনুষ্ঠানে নিজেদের ভালোবাসার গল্প বললেন দুজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির এবং হোচিমিন ইসলাম।

তারা দুজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স প্রোগ্রাম জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী শিক্ষার্থী।

নাট্যকর্মী তাসনুভার জীবনে প্রথম প্রেম আসে ২০১২ সালে। তবে সমাজ, পরিবারসহ নানা কারণে সেই প্রেম এগোতে পারেনি বেশিদূর।

নার্সিং-এ পড়াশোনা করা হোচিমিন প্রথম প্রেমে পড়েন সেই ক্লাস ফাইভে। এখনও সেই তীব্র প্রেমের অনুভূতি তাকে নাড়া দেয়। তবে কেটে গেছে সেই প্রেমের সুর। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা থেকে গেলেও ঘর বাঁধার স্বপ্ন আর দেখেন না।

দুজনেই প্রেম প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পছন্দ করেন চিঠি লেখাকে। লিখেছেন বহু চিঠি। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির সংখ্যাও কম নয়।

এ ক্ষেত্রে তাসনুভার আছে মজার অভিজ্ঞতা। নানা হাত হয়ে চিঠি আসতে আসতে যুক্ত হয়েছে অনেক বাড়তি লাইন। এক চিঠিতে তাই পেতেন বহু মানুষের মনের কথা।

প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতি কি বিয়ে?

নিউজবাংলার এমন প্রশ্নে হোচিমিন বলেন, বিয়ে করলে প্রেম আর থাকে না। তা ছাড়া বিয়ের সময় মানুষের সিদ্ধান্ত সমাজ দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হয়। সমাজ কী ভাবল, কীভাবে দেখল সেটা ভাবা হয়। মানুষ এগুলোকে ঊর্ধ্বে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এর ঠিক বিপরীতটাই ভাবেন তাসনুভা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, প্রেমের পরিণতি হওয়া উচিত বিয়ে। আর দশটা মানুষের মতো তিনিও বিয়ে করে সংসারী হতে চান। কিন্তু এই সমাজব্যবস্থায় এক জন ট্রান্সজেন্ডার নারী বা পুরুষের বিয়ের গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিয়ে তো দূরের বিষয় নিজেদের পরিবারেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই দূরে থেকেও যে ভালোবাসা যায় সেটিই তাদের মেনে নিতে হয়েছে।

পুরুষের শরীরে আটকে পড়া দুই নারীই মনে করেন, বাংলাদেশে জেন্ডার শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। শুধু নারী আর পুরুষের মাঝেই যে জেন্ডার সীমাবদ্ধ নয় বা মানুষের যৌনতার যে নানা ধরন রয়েছে সেগুলো অনেকে জানেনই না। তাই যথেষ্ট জ্ঞান, পরিবেশ ও সুযোগের অভাবে পরিবার, সমাজের চাপে ট্রান্সজেন্ডারদের অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়।

উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম না পাওয়ায় সবাই তাদের কথাগুলো জানাতেও পারেন না। আবার অনেক সময় নিজেদের চিনতে, বুঝতে পারলেও সামর্থ্যের অভাবে ট্রান্সজেন্ডাররা কাঙ্ক্ষিত শরীরে রূপান্তরিত হতে পারেন না। কারণ ডাক্তার, সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, নিউরোলজিস্ট, সার্জারি এতো ধাপ পেরিয়ে যাওয়া সবার জন্য সম্ভব হয় না বলে জানান তাসনুভা।

‘Love is the most powerfull weapon in the world’ বলে মনে করেন হোচিমিন।তবে সমাজ মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবার আগেই তার লিঙ্গ, বর্ণ বিচার করা শুরু করে।

তিনি সমাজকে বলতে চান, 'মানুষকে মানুষের মতো করে মর্যাদা, ভালোবাসা দিতে হবে'।

ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি তার পরামর্শ, এই যে স্রোতের বিপরীতে তাদের পথচলায় হতে হবে কৌশলী। অপেক্ষা করতে হবে সঠিক সময়ের জন্য। এভাবেই তাদের এগোতে হবে।

ট্রান্সজেন্ডারদের গল্পগুলো, ভালো কাজগুলো তুলে আনলে মানুষের মাঝে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন হোচিমিন।

হোচিমিনের এই বক্তব্যে একমত হলেও তাসনুভার আক্ষেপ, বেশিরভাগ মানুষ তাদের গল্পগুলো দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন।

মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন আনার কার্যকর উপায় কী?

হোচিমিন বলেন, ‘সমাজের প্রতিটা মানুষ বুকে হাত দিয়ে বলুক, ভবিষ্যতে তাদের যে সন্তান আসবে সে এক জন নারী হবে অথবা পুরুষই হবে। যদি সেটা না পারেন, যদি আপনার আগত সন্তান আমাদের মতো হয় তখন কি আপনি আপনার সন্তানের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন? নাকি এখনই তার জন্য কথা বলা শুরু করবেন? প্রত্যেককেই তাদের অধিকারের জন্য কথা বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। ছবি; সংগৃহীত

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির সরকার চাইছে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরির চেষ্টা করছে দেশটি।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। তিনি জানুয়ারির ২৪ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক বিচারপতি গুলজার আহমেদের অধীনে তিনি কাজ করবেন।

দেশটিতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

দুই দিন আগে, সংসদীয় কমিটির সবার সম্মতিতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে আয়েশা মালিকের অবস্থান চার নম্বরে।

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টিই বিবেচনা করা হবে।

বিচারপতি আয়েশা এ মালিক ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকবেন।

এদিকে বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইশা, বিচারপতি মকবুল বাহার, বিচারপতি সর্দার তারেক মাসুদ ও পাকিস্তান বার কাউন্সিলের প্রতিনিধি আখতার হুসেইন সংসদীয় কমিটির এই মনোনয়নের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার নীতিই অনুসরণ করা উচিত।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

সেলিনা রদ্রিগেজ। বয়স মাত্র ১১ বছর। এই বয়সে সেলিনা ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটে প্রচণ্ড রকম আসক্ত হয়ে পড়ে। প্ল্যাটফর্ম দুটির কিছু ‘ভয়ংকর’ ফিচারে আসক্ত হয়ে গত বছরের জুলাইয়ে ‘আত্মহত্যা’ করে সেলিনা।

সেলিনাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এবং স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট রাজ্যে ঘটেছে মামলার এ ঘটনা।

শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ভয়ের মধ্যেই মামলার খবরটি সামনে এসেছে।

স্যোশাল মিডিয়া ভিক্টিম ল সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেলিনার মা ট্যামি তার শিশুসন্তানের আত্মহত্যার জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটিতে ‘চরম’ আসক্তির কথা বলেছেন।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়, সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সেলিনা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসা পেয়েছেন।

সেলিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে তাকে থেরাপি দিচ্ছিলেন যে চিকিৎসক, তিনি এর আগে কাউকে তিনি মাধ্যমে এত আসক্ত দেখেননি বলে দাবি করেন।

২০২১ সালের ২১ জুলাই সেলিনা আত্মহত্যা করার আগে ঘুমের অভাব ও বিষণ্ণতায় ভুগছিল।

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আসক্তি মূলত বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে।

মামলার অভিযোগের মধ্যে ছিল, সেলিনাকে যৌন শোষণমূলক সামগ্রীর অনুরোধ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সে শেয়ার করেছিল।

স্ন্যাপচ্যাটের মুখপাত্র সেলিনার মৃত্যুর বিষয়টিকে ‘বিধ্বস্ত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কমিউনিটির মানুষের সুস্থতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বিষয়টি নিয়ে বিবিসির প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

শিশুর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য অভিভাবকদের আপত্তির কারণে শিশুটির ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই শিশুর বাবা অটোরিকশাচালক। নগরীতে রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

এজাহারসূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। এর ভিডিও ধারণ করে সে। ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। পরদিন ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। আবাসনের ব্যবস্থা আছে বলে তিনি ভেবেছিলেন, মেয়ে এখানে নিরাপদে থাকবে।

মায়ের অভিযোগ, ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ফেরত দেয়া হয়েছে ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।

‘আমাকে বলল, “আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করেন।” আমি বললাম, আমার মেয়ের কোনো সমস্যা? তখন বললেন, “না, দূরে কোথাও ভর্তি করেন।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, আপনার মেয়ের সঙ্গে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি কী করবেন? তখন কোনো কথা বলছে না সে (মাদ্রাসা পরিচালক)।

‘আমাকে টাকাটা ফেরত দিয়ে মেয়েকে বের করে দিল। আমার মেয়ের কোনো সমস্যা দেখাতে পারছে না, খালি বলছে- “দূরে কোথাও ভর্তি করেন।”’

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে আমি ভুক্তভোগী হচ্ছি। সমাজের কাছে এত লাঞ্ছনা শুনতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। মেয়েটাকে সবাই খারাপ চোখে দেখছে। ছোট সেটাও কেউ বুঝছে না। ওই ঘটনাটাই তুলে ধরছে সবাই।’

মেয়েকে অন্য একটা স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানেও যদি কেউ কিছু বলে, আবার যদি বের করে দেয়, এই ভয় পাচ্ছি। এখন আমি একটা সুষ্ঠু বিচার চাই। যে আমার মেয়ের ক্ষতি করেছে তার যেন শাস্তি হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মেয়েটার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এসে অভিযোগ করে আমাকে বলেছিল যে, তার সমস্যা আছে। আমি নাকি যাকে তাকে ভর্তি নিয়ে নিচ্ছি। অভিভাবকদের আপত্তি থাকায় এই মেয়েটার ভর্তি বাতিল করতে হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়েছে।’

ধর্ষণের সেই মামলার বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদ বলেন, ‘শিশুটার মায়ের করা মামলাটা তদন্তাধীন। তদন্ত চলাকালে বেশি কিছু বলব না। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তারপর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ সারাহ গিল। ছবি: সংগৃহীত

সারাহ বলেন, একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

পাকিস্তানের একজন নেতৃস্থানীয় অধিকার কর্মী সারাহ গিল দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক হয়েছেন। ড. গিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জিন্নাহ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ (জেএমডিসি) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি সারাহ গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন।

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

সারাহ গিল বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ডাক্তার হিসেবে গর্বিত এবং আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, ‘একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

আমি ডাক্তার হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

যদিও তার সহপাঠীরা তার সম্পর্কে জানেন কিন্তু তার পরিবারের চাপে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময় পুরুষের পরিচয়েই ভর্তি হন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

কর্ণাটকের কলেজে হিজাবে বিধিনিষেধ

কর্ণাটকের কলেজে হিজাবে বিধিনিষেধ

কর্ণাটকের একটি কলেজে পাঠদানের সময় হিজাব বা নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের কর্ণাটকের উদুপির জেলার একটি সরকারি কলেজে গত ৩১ ডিসেম্বর পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ হয়। এতে মুসলিম ছাত্রীরা ক্লাস চলাকালে হিজাব বা নেকাব পরে থাকতে পারবেন না। তবে ক্লাস শেষে বা শুরুর আগে পর্দা করতে আপত্তি নেই।

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমের কর্ণাটকের একটি কলেজে ছাত্রীদের হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বড় হচ্ছে। নতুন করে কলেজের আরও সাত ছাত্রী প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পরই বিক্ষোভ শুরু করেন ছয় ছাত্রী। হিজাববিষয়ক নীতিমালা তুলে নিয়ে ছাত্রীরা মুসলিম শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সংগঠন ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

তবে কলেজের নীতিমালা মেনে চলতে আন্দোলনরতদের পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বি সি নাগেশ। এই ঘটনাকে নিয়ে বিরোধীরা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

উদুপির জেলার একটি সরকারি কলেজে গত ৩১ ডিসেম্বর পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ হয়। এতে মুসলিম ছাত্রীরা ক্লাস চলাকালে হিজাব বা নেকাব পরে থাকতে পারবেন না। তবে ক্লাস শেষে বা শুরুর আগে পর্দা করতে আপত্তি নেই।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের কলেজ নির্ধারিত ড্রেস কোড মেনে চলতে কড়াকড়ি আরোপ করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে এই কলেজছাত্রীদের ড্রেস কোড- চুড়িদার কিংবা দুপাট্টা। কিন্তু অনেক মুসলিম ছাত্রী এসবের ওপর হিজাব বা নেকাব পরে আসতেন।

কলেজ থেকে ঘোষণার পর পরই ছয় ছাত্রী এর বিরোধিতা করেন। শুরু করেন বিক্ষোভ। বুধবার তাদের সঙ্গে সংহতি জানান আরও সাত ছাত্রী।

এদিন সকালে উদিপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে জেলা কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভরত ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরামর্শ দেন, ড্রেস কোড মেনে চলার।

কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘৯৪ ছাত্রীর বিষয়টি মানতে সমস্যা নেই। তাই দয়া করে সবাই কলেজ কোড মেনে চলেন। বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে।

‘আসলে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিরোধীরা এসব করাচ্ছে। তারা কোনো ইস্যু পাচ্ছিল না। ভোটার টানতে তাই এই ঘটনাকে বড় করে তুলতে চাইছে তারা। কলেজের পোশাক নিয়ে সরকারের নির্ধারিত কোনো কোড নেই, তা সত্য। তবে ১৯৮৫ সালে সাউথ দিল্লি মিউনিসিপাল করপোরেশন (এসডিএমসি) কলেজ কোড বাধ্যতামূলক করে। সেই ধারায় অব্যাহত রাখতে চাইছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘৩৬ বছর ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। বেশির ভাগ মুসলিম ছাত্রীর এতে আপত্তি নেই। কেবল কয়েকজনের সমস্যা। তাদের অনুরোধ করব, ড্রেস কোড মেনে চলেন।’

এর আগে রোববার উগ্র ইসলামপন্থি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার কর্ণাটক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নাসির পাসা জানান, হিজাব ইস্যুতে কলেজ কর্তৃপক্ষ মুসলিম ছাত্রীদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।

চলতি মাসের শুরুতে পোশাক নিয়ে বিতর্ক শুরুর পর কোপ্পা জেলার একটি কলেজের ছাত্ররা জাফরান রঙের স্কার্ফ পরে ক্লাসে এসে হিজাব পরার প্রতিবাদ করেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

‘মন হিস্টোইরি’: তালেবান থেকে বাঁচা নারী ফুটবলারের আত্মজীবনী

‘মন হিস্টোইরি’: তালেবান থেকে বাঁচা নারী ফুটবলারের আত্মজীবনী

ডেনীয়  ভাষা ‘মন হিস্টোইরি’র বাংলা মানে হলো ‘আমার গল্প’। ছবি: সংগৃহীত

নাদিয়ার বাবা ছিলেন আফগান সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল। তালেবানরা যখন প্রথম দেশটিতে ক্ষমতায় আসে। সে সময় ২০০০ সালে এক প্রহসনের বিচারে তার বাবাকে হত্যা করা হয়। তখন নাদিয়ার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।

ডেনমার্কের নারী ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত মুখ এখন নাদিয়া নাদিম। অথচ জন্মসূত্রে তিনি একজন আফগান। জন্মেছিলেন হেরাত প্রদেশে।

তার বাবা ছিলেন আফগান সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল। তালেবান যখন প্রথম দেশটিতে ক্ষমতায় আসে। সে সময় ২০০০ সালে এক প্রহসনের বিচারে তার বাবাকে হত্যা করা হয়। তখন নাদিয়ার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।

তালেবানদের ক্রমশ চাপ প্রয়োগে সে সময় তার পরিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ডেনমার্কে আশ্রয় নেয়।

এ রকম একটি পারিবারিক পরিস্থিতিকে সঙ্গে নিয়ে আজ তিনি একজন অনুপ্রেরণা দানকারী নারী ক্রীড়াবিদ। শৈশবেই তিনি ভেঙে পড়তে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে ফুটবলকেই বেছে নিয়েছেন। হয়েছেন সর্বকালের সেরা আফগান নারী ফুটবলার।

শুধু ফুটবলই নয়, ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ডিগ্রি নিয়েছেন। কথা বলতে পারেন ১১টি ভাষায়। লিখেছেন নিজের আত্মজীবনী।

অনেক দিন ধরেই আমি ভাবছিলাম আমার কিছু বলা উচিত। এমন কিছু, যা আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই। আমার যাত্রা আমাকে পৃথিবীর অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে। সম্ভবত এই যাত্রায় শামিল হওয়া আপনার জন্য উপভোগ্য হবে।

ইন্ডিয়া.কমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেনমার্ক জাতীয় দলের হয়ে ৫ ফিট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘকায় স্ট্রাইকার নাদিয়া খেলেছেন ৯৯টি ম্যাচ। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে করেছেন ২০০টি গোল। চুক্তি ছিল ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবের সঙ্গে।

ডেনমার্কের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে ২০১৭ সালে হন নাইকির শুভেচ্ছা দূত। ফোর্বসও তাকে প্রভাবশালী নারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় ২০তম স্থান দিয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী নাদিয়া নাদিম বর্তমানে নারী ফুটবলের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের একজন।

অথচ অনেক প্রস্তাবই তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। যদি তা না করতেন, তিনি হতে পারতেন সবচেয়ে দামি নারী ফুটবলার।

নাদিয়া নাদিম সব সময়ই বলেন, তিনি অর্থের জন্য ফুটবল খেলেন না। ভবিষ্যতে ডাক্তারি করেই এর থেকে বেশি অর্থ তিনি রোজগার করতে পারবেন। তিনি ফুটবল খেলেন, খেলাটিকে ভালোবেসে।

সর্বশেষ তার ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে ডেনীয় ভাষায় লিখেছেন বই। নাম দিয়েছেন ‘মন হিস্টোইরি’। ডেনীয় ভাষা ‘মন হিস্টোইরি’র বাংলা মানে হলো ‘আমার গল্প’। অ্যামাজন, কিন্ডলের মত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে তার বই।

তার আত্মজীবনী সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমি ভাবছিলাম আমার কিছু বলা উচিত। এমন কিছু, যা আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই। আমার যাত্রা আমাকে পৃথিবীর অনেক জায়গায় নিয়ে গেছে। সম্ভবত এই যাত্রায় শামিল হওয়া আপনার জন্য উপভোগ্য হবে।’

তালেবান তার পিতাকে হত্যা করেছে, হুমকির মুখে ছেড়েছেন দেশ। হার মানেননি। ক্রমাগত নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন নাদিয়া নাদিম। তার এ যাত্রা যে রোমাঞ্চকর ও বেদনার, হারানোর ও প্রাপ্তির, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন

মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দিচ্ছে তালেবান

মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দিচ্ছে তালেবান

তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্চের মধ্যেই পুরো আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দেয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর আগস্টে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা নারীদের শিক্ষা বন্ধে কোনো ঘোষণা দেয়নি। যদিও দেশব্যাপী তালেবান যোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

আফগান নারীরা চাকরি ও পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মেয়েদের জন্য বন্ধ দেশটির মাধ্যমিক স্কুলগুলো। বারবার অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাদের। এমন অবস্থায় মার্চের মধ্যে দেশটিতে নারীদের জন্য সব স্কুল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তালেবান সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান সরকারের মুখপাত্র ও দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে আলাপকালে আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মার্চের মধ্যেই পুরো আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য স্কুলগুলোকে খুলে দেয়া হবে।

মুজাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার বিরুদ্ধে নই। নারী শিক্ষার বিষয়টি আসলে সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। আমরা এই বছরই এগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। ফলে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালু করা সম্ভব হবে।

অনেক রাজ্যেই নারীদের জন্য স্কুল খোলা আবার অনেক স্থানেই নারীদের স্কুল বন্ধ। এর কারণ অর্থনৈতিক সংকট। যেসব এলাকায় অধিক মানুষের বাস। সেসব এলাকা নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের নতুন পদ্ধতিও তৈরি করতে হবে।’

গত বছর আগস্টে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা নারীদের শিক্ষা বন্ধে কোনো ঘোষণা দেয়নি। যদিও দেশব্যাপী তালেবান যোদ্ধারা বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

এ ছাড়া তালেবান সরকার নারীদের দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও পুরুষসঙ্গী বাধ্যতামূলক করেছে। নারীদের বোরকা পরতে উৎসাহিত করতে প্রচার চালিয়ে আসছে দেশটির পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়।

এর আগে আফগানিস্তানে নারীশিক্ষায় তালেবানের পদক্ষেপ ‘খুবই হতাশাজনক’ ও ‘পশ্চাৎমুখী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি।

কাতার যে প্রক্রিয়ায় ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে, সেদিকে নজর দিতেও তালেবান নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

শেয়ার করুন