বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান মনে করছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব–আইপিওতে যত বেশি কোম্পানি আসবে বিনিয়োগকারীদের তত বেশি অংশগ্রহণ বাড়বে পুঁজিবাজারে। বাড়বে বাজারের গভীরতা।
তার মতে, আইপিও-ই হচ্ছে পুঁজিবাজারের প্রাণ, তবে মানসম্মত কোম্পানির আসতে হবে।
ছায়েদুর রহমান বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই গতিশীলতা ফিরেছে পুঁজিবাজারে। কমিশন পুনর্গঠন হওয়ার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটে যে সুবিধা দিয়েছেন তার কারণেও তারল্য বেড়েছে পুঁজিবাজারে।
করোনা সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানো পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএমবিএ সভাপতি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন সুমন।
পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কোন বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেয়া উচিত?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন–বিএসইসি পুনর্গঠনে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। পুঁজিবাজারে নেতৃত্ব যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিএসইসির এই পুনর্গঠিত কমিশনই প্রমাণ করেছে।
চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন পুঁজিবাজারের ভালো করার জন্য ধারাবাহিক যে চেষ্টা চালাচ্ছে- তার সুফল আমরা পাচ্ছি।
বিদায়ী বছরের শেষ দিনে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে এবং ২০২১ সালে ২ হাজার কোটি টাকার নিয়মিত লেনদেন হবে বলে আশা করছি।
বাজার চাঙা করতে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি। যেখানে অনিয়ম হয়েছে সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
বাজার সম্প্রসারণে অনেক সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজের শাখা চালু বহুদিন বন্ধ ছিল, সেগুলো ফের চালু করা হয়েছে। দেশের বাইরেসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বুথ স্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এগুলো বাজারের জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এখন ইচ্ছা করলে আমরা বিদেশে গিয়ে পুঁজিবাজারে অপারেট করতে পারব। এরই মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান দুবাইতে ডিজিটাল আউটলেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পরবর্তীতে বড় বড় হাউজগুলো এগিয়ে আসবে। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে আগ্রহী হবেন।
বন্ড মার্কেট অবহেলিত। এর উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী?
বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে আগে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও সমন্বয় না থাকায় সুফল পাওয়া যায়নি। বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান আসার পর এটি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ চলছে। বাজারে নতুন আসা ইসলামী শরিয়া বন্ড ‘সুকুর’ নিয়ে কাজ চলছে। ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। এখন সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে আশা করছি, এই বাজার আরও সক্রিয় হবে।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
অনেকেরই ধারণা, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাজ শুধু পুঁজিবাজারে নতুন ইস্যু নিয়ে আসা। এটা ঠিক নয়। আমাদের অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম কাজ হচ্ছে বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়া।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক মার্চেন্ট ব্যাংককে প্রতি দুই বছর অন্তর একটি কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব-আইপিওতে আনতে হবে, কিন্তু বর্তমানে আমরা তা পারছি না।
কারণ, অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরে ১০ থেকে ১২টা নতুন কোম্পানি আইপিওতে আসে। অথচ মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৩টি। এ হিসাবে বর্তমানের চেয়ে আরও অনেক কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার কথা। আমরা সন্ধান করলেও আগ্রহী নয় কোম্পানিগুলো। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শেয়ার ইস্যুর কোটা পূরণ করতে পারছে না।
নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় পেছনে কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো নতুন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এখন আলোচনা চলছে ঘন ঘন আইপিওর অনুমোদন দিলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকবে। গত বছর যখন বাজার মন্দা চলছিল তখন আইপিও বন্ধ করে দেয়া হয়।
এখন আইপিও দ্রুত অনুমোদন পাচ্ছে। ফলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বাজার বড় হলে আইপিও কোনো বিষয় না। আইপিও হচ্ছে বাজারের প্রাণ। আইপিও বাড়লে নতুন বিনিয়োগকারী আসবে, নতুন ফান্ড তৈরি হবে। বাজারের গতিশীলতা বাড়াবে।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সবসময় নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানির সন্ধান করে। কোনো কোম্পানি আসতে না চাইলে জোর করে নিয়ে আসা ঠিক হবে না।
আমরা চাই, পুঁজিবাজারে বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্তির চেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো আসুক। ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানি আসলে বাজারে গভীরতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। দেশের অর্থনীতির উন্নতি হবে।
পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে ১৫ হাজার কোটি টাকার দুটি আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে বিএসইসি। এ তহবিলের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলুন।
এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজারে তারল্য বাড়ানো। দীর্ঘসময় পুঁজিবাজার নেতিবাচক থাকার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সক্ষমতা কমে গেছে। এটা বাড়ানোর সহজ পন্থা হচ্ছে তহবিল গঠন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিএসইসি সেটা নিয়ে কাজ করছে।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিনিয়োগের সুযোগ রেখেছেন। এতে করে অর্থের জোগান বাড়বে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দিক থেকেও তহবিল আসবে।
অনেকেই বলেন স্থিতিশীল পুঁজিবাজার দেখতে চাই। বাস্তবে সেটা কখনও সম্ভব নয়। কারণ, পুঁজিবাজার সব সময় গতিশীল। পুঁজিবাজার যদি স্থিতিশীল হয় তাহলে কেউ এখানে বিনিয়োগ করবে না। পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম কমবে, না হয় বাড়বে। দাম কমলে আপনি কিনবেন, আর বাড়লে বিক্রি করবেন। এটাই স্বাভাবিক প্রবণতা বাজারের। আমরা চাই গতিশীল পুঁজিবাজার।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে পুঁজিবাজারের ক্ষতি সম্পর্কে বলুন।
সাড়ে তিনশর মতো ব্রোকারেজ হাউজ। ৬৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক। ৪০টির মতো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি রয়েছে। করোনা মহামারির প্রভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। লেনদেনে কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে গেছে।
শেয়ারের সমবণ্টন, ডিজিটাল বুথ পরিচালনাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। বাজার চাঙা করতে এসব পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখবে?
যে কোনো বিষয় শুরুর আগে আমরা নেতিবাচক চিন্তা করি। তা না করে ইতিবাচক কাজ করা উচিত।
ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাজ হচ্ছে বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট করে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়া। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
১৯৯৬ সালের কেলঙ্কারি ও পরবর্তী ২০১০ সালে বাজারে মহাধসের জন্য যে সব ভুল-ত্রুটি ছিল, তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাহলে সমস্যাগুলো আর সামনে আসবে না। ঝুঁকি থাকবে, তবে সেই ঝুঁকি হবে বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক।
সবার জন্য শেয়ারের সমবণ্টনের নতুন ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত হবে না। এটি কার্যকর হলে শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যে কিছুটা হেরফের হবে। যদি শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় তাহলে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়াই উত্তম।
অনেক উদ্যোগ নিয়েও কারসাজি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?
পুঁজিবাজারে একটা শ্রেণি আছে যারা ট্রেডিংয়ের (লেনদেনের) সঙ্গে সম্পৃক্ত। যারা ট্রেড করে তাদের আচরণ আর যারা বিনিয়োগ করে তাদের আচরণ এক হবে না। বুঝতে হবে কোনটা কারসাজি, আর কোনটা কারসাজি না।
বিনিয়োগের জন্য কারো মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া যাবে না। কারসাজি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানোর সুযোগ আছে।
বিএসইসি এসব বিষয়ে অনেক সচেতন। সংস্থাটি সফটওয়ারে আধুনিকায়ন করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসই তাদের ওয়েবসাইটে আলাদা একটি জায়গা রেখেছেন যেখানে অভিযোগ দেয়া যায় এবং সেগুলো প্রতিদিনই মনিটরিং করা হয়।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
জেনেশুনে, বুঝে, যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করতে হবে। কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না। দ্রুত লাভবান না হয়ে সুচিন্তিতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করা উচিত। তা হলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। দ্রুত লাভবান হতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে না। তাহলে কারসাজির ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন বছরে পুঁজিবাজার থেকে প্রত্যাশা অনেক। এখন আমাদের বাজারের যে পরিধি, যে পরিমাণ বিনিয়োগকারী আছেন, যে পরিমাণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আছে, তাতে প্রতিদিন লেনদেন
দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। দেশে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। কিন্তু পুঁজিবাজারে তিনশ কোম্পানি তালিকাভুক্ত। আরও বিপুল সংখ্যক কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। এতে করে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
সার্বিকভাবে পুঁজিবাজার সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
বিদায়ী ২০২০ সালের শেষ দিকে বাজার তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ শতাংশ। বাজার মূলধন বর্তমানে ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। দৈনিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও অনেক উন্নতি হয়েছে। আইপিওতে অগ্রগতি হয়েছে। শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম (ফ্লোর প্রাইস) বেঁধে দেয়ায় কোভিড-পরবর্তী শেয়ার বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা সারাদেশে দিনব্যাপী মেডিক্যাল ক্যাম্পের আওতায় জনসাধারণকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) দেশজুড়ে একযোগে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় দিনব্যাপী এই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকগণ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ফ্রি মেডিক্যাল সেবা গ্রহণ করেন।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড ওয়ালটন প্লাজায় ফিতা কেটে মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম। সে সময় তিনি ওয়ালটন প্লাজার হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রজেক্টের আওতায় গ্রাহকদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নাম্বার (০৯৬০৬-৯৯০০২৯) উদ্বোধন করেন। সদ্য চালু হওয়া এই হটলাইন নাম্বারে কল করে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকগণ।
ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আওতায় রোগিদের ব্যবস্থাপত্র এবং ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছিলো রক্তদান কর্মসূচী। ওয়ালটন প্লাজা থেকে সংগৃহীত রক্ত ব্যবহার করা হবে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবায়।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন প্লাজা ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজাগুলোতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে দিনব্যাপী ক্রেতাসাধারণসহ সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা পলিসি’সহ গ্রাহকবান্ধব বিভিন্ন প্রোগ্রামের আওতায় ওয়ালটন প্লাজার মাধ্যমে সারা বছরই ক্রেতাসাধারণের জন্য নানাবিধ বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটা ক্রেতাদের জন্য আমাদের দায়িত্বশীলতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সারা দেশে একযোগে চলমান দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা, ওয়ালটনের এসব প্রোগ্রাম অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য ব্র্যান্ড ও কোম্পানিও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে উৎসাহিত হবে।
ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ওয়ালটন হাই-টেকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আঞ্জুম, ওয়ালটন প্লাজার হেড অব এইচআর মো. ফয়সাল ওয়াহিদ, ওয়ালটন প্লাজার চিফ সেলস এক্সিকিউটিভ এম এম নাজমুল হাসানসহ চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীগণ। অনলাইনে যুক্ত হন সারাদেশের সকল ওয়ালটন প্লাজার প্রতিনিধিবৃন্দ।
ওয়ালটন প্লাজার এমডি মোহাম্মদ রায়হান বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে ওয়ালটন প্লাজা শুধু পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা করে না, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এভাবেই জনমানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ওয়ালটন প্লাজা।
তিনি জানান, শুধু বাংলাদেশেই নয়; বিশ্বে একমাত্র ওয়ালটন প্লাজাই ক্রেতাদের জন্য ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ পরিচালনা করছে। ব্যতিক্রমী ও মহৎ এই নীতির আওতায় দেশের যে কোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারীদের দেয়া হচ্ছে সুরক্ষা কার্ড। কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় সুরক্ষা কার্ডধারীর মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ওয়ালটন প্লাজা। প্রদত্ত আর্থিক সহয়তার মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনাদায়ী কিস্তির টাকা সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট নগদ টাকা সুরক্ষা কার্ডধারী বা তার পরিবারকে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মৃত্যুবরণকারী সুরক্ষা কার্ডধারীর পরিবারের যোগ্য সদস্যদের ওয়ালটনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশব্যাপী ইতোমধ্যে দেড় সহ¯্রাধিক কিস্তি ক্রেতা ও গ্রাহকের পরিবারকে তিন কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়াও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে আরো বেশ কিছু গ্রাহকের পরিবার।
উল্লেখ্য, ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনা গ্রাহকদের সেবা দিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ওয়ালটন প্লাজা। এর আওতায় স্বনামধন্য হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবন বীমা, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা কার্ডধারীদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা ও মূল্যছাড়সহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়ালটন প্লাজা। প্রতিটি ওয়ালটন প্লাজায় সুরক্ষা কার্ডধারী গ্রাহকদের মেডিক্যাল সেবা প্রদানের জন্য সারাবছরই নিয়োজিত রয়েছেন ওয়ালটনের নিয়োগপ্রাপ্ত ‘হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ অফিসার’। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় সুরক্ষা কার্ডধারী গ্রাহকণের জন্য রয়েছে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ ২৪ জুন বুধবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত বছরের ব্যালেন্স শিট অনুমোদিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ারুল হক ও স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান।
এজিএমে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) এবং মোঃ আব্দুল হান্নান, এমপি; নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ডঃ মোঃ রেজাউল কবির; পরিচালকবৃন্দ এ. এস. এম. ফিরোজ আলম, এম. আমানউল্লাহ, আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি; ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও ড. তাপস চন্দ্র পাল, কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম, ব্যাংকের উদ্যোক্তাবৃন্দ, শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে ২০২৫ সালের অর্জিত সাফল্যকে গ্রাহকদের আস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য রেগুলেটরি সংস্থার সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান। তিনি উন্নত প্রযুক্তি, সুষ্ঠু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার সাফল্য তুলে ধরেন। একই সাথে, ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে ব্যাংকের দূরদর্শী নীতিমালা গ্রহণ ও আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান স্বাগত বক্তব্যে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালে ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও কমিয়ে আনতে ব্যাংক দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়া, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাব্য বিভিন্ন কৌশল তিনি তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বৈচিত্রময় উদ্ভাবনী ব্যাংকিং-এর দিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আরও জোর দিবে, যাতে করে নিরবচ্ছিন্ন গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১.১০ টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪.৩৫ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নীট অপারেটিং ক্যাশফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৫.৯৫ টাকা।
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও শাহ মোঃ সোহেল খুরশীদ, এসইভিপি মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মোঃ আব্দুল আউয়ালসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও সম্পৃক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে চট্টগ্রাম শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং চলমান উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপনার কৌশল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা ফিল্ড ভিজিটে অংশ নিয়ে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাসা-বাড়িতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, ভাঙারিওয়ালাদের কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সরবরাহ করা সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ। এছাড়া, এ সময় ইপসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং ইপসা’র সহযোগিতায় চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে একটি সমন্বিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩,০০০ জনের বেশি বর্জ্যকর্মী ও সংগ্রাহককে প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং ১,৮২৭ জনকে গ্রুপ ইনস্যুরেন্স সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। উদ্যোগটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলার করে প্রবাসী আয় জমা হয়েছে দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের জুনের প্রথম ২৩ দিনে এসেছিল ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে (জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত) দেশে মোট ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৮০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক রেকর্ড সৃষ্টির চিত্র দেখা গেছে বিগত কয়েক মাসেও। গত মে মাসে দেশে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে এপ্রিল মাসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসের আয়টি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালীন মাসিক রেকর্ড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (৩০.৩২ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এটি ছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বর্তমান অর্থবছরে সেই ধারা বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকানসহ মোট ১৬টি নতুন ব্যবসায়ী খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই নতুন রাজস্ব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি ভ্যাট বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। রাজস্ব আয়ের এই গতিধারা অব্যাহত রাখতে এবং পরিধি বাড়াতে নতুন নতুন উৎস ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত এই তালিকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে সরাসরি সুনির্দিষ্ট করের কাঠামোর বাইরে ছিল।
ভ্যাটের আওতায় আসতে যাওয়া এই ১৬টি খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মুদির দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র এবং জুতার দোকান। তালিকায় আরও রয়েছে হার্ডওয়্যার, ডেকোরেটরস, এবং মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ ও ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান। এছাড়া পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্টের দোকানগুলোকেও এই করের অধীনে আনা হচ্ছে। ফার্নিচার শোরুম, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্টুরেন্টগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ভ্যাট প্রদানের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যয় নির্বাহের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। ব্যবসায়িক এই খাতগুলোকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের কাঠামোর আওতায় আনা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়িক লেনদেনে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত মেমোরি চিপ বিক্রিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। বাজারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ প্রজন্মের ‘হাই ব্যান্ডউইডথ মেমোরি’ (এইচবিএম৪) চিপের বিক্রি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং বাণিজ্যিকভাবে এই অত্যাধুনিক এইচবিএম৪ চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী জুনের শেষ নাগাদ কেবল এই চিপ থেকেই স্যামসাংয়ের মোট আয় ১২০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মূলত এআই সিস্টেমের জটিল কম্পিউটিং কাজ দ্রুততর করতে এবং বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেসিংয়ের গতি বাড়াতে এই এইচবিএম চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্যামসাংয়ের এই বিশেষ চিপগুলো মূলত পরবর্তী প্রজন্মের এআই এক্সিলারেটরের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার আসন্ন ‘ভেরা রুবিন’ প্ল্যাটফর্মটি অন্যতম।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে পঞ্চম প্রজন্মের এইচবিএম৩ই চিপের আধিপত্য থাকলেও, আধুনিক এআই অ্যাপ্লিকেশনের চাহিদার কারণে এইচবিএম৪ চিপই আগামী দিনে ব্যবসার প্রধান উৎস হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্যামসাং কর্তৃপক্ষ বছরের দ্বিতীয় ভাগে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ আরও ব্যাপক আকারে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারে আসার প্রথম বছর শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন চিপ থেকে স্যামসাংয়ের বার্ষিক আয় ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
শিল্প খাতের সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এইচবিএম চিপের বাজার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এই খাতের মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলারে। এআই প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান জয়যাত্রা স্যামসাংয়ের জন্য নতুন এক স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাজুসের ‘প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বিক্রি হবে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
স্বর্ণের ধারাবাহিকতায় কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় নেমে এসেছে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এই আকস্মিক দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য