করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্বে ২০২০ সালে প্রাণ হারিয়েছে ১৬ লাখের বেশি মানুষ। দেশে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়েছে। বয়সের ভারে বা অন্যান্য রোগে ভুগেও এ বছর মারা গেছে অনেক মানুষ। দেশ-বিদেশে সুপরিচিত অনেক মুখ হারিয়ে গেছে চিরতরে।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বেশ কয়েকজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এ বছর হারিয়েছে দেশ। এসব মৃত্যু তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা।
করোনায় স্থবির সময়ের মধ্যে এসব মৃত্যুতে তাড়িত হয়েছে গোটা জাতি। মৃত্যুর তারিখ অনুযায়ী তাদের অনেকের নাম গ্রন্থিত করেছে নিউজবাংলা।
বর্ষীয়ান রাজনীতিক আহমেদ আলী
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী মারা যান ১০ জানুয়ারি। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা উত্তর স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন আহমেদ আলী। কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রথম প্রশাসক আহমেদ আলী বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
নব্বইয়ের কবি মাহমুদ টোকন
৪ ফেব্রুয়ারি কোলন ক্যানসারে মৃত্যু হয় কবি মাহমুদ টোকনের। বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। মাহমুদ টোকনের কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘মাটির স্বর্গ’, ‘আলো ও অন্ধকারের মাঝখানে’, ‘বিমূর্ত ইস্তেহার’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ‘রক্তফুলের দিন’ নামে একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাসও রয়েছে তার।
কবি আশরাফ সিদ্দিকী
কবি ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী মারা যান ১৯ মার্চ। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। লোকসংস্কৃতিতে অবদান রাখায় তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। একুশে পদক ও ইউনেসকো পুরস্কারও রয়েছে তার অর্জনের ঝুলিতে। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যানও ছিলেন।
ক্রিকেটার রেজা-ই-করিম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম কার্যনির্বাহী সম্পাদক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-করিম মারা যান ২২ মার্চ। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাংলাদেশে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের এক জন ছিলেন তিনি।
প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধুরী
২৮ এপ্রিল প্রকৌশলী ও জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী মারা যান। বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। গত কয়েক দশকে দেশে যেসব বড় বড় ভৌত অবকাঠামো হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এই অধ্যাপক।
চলচ্চিত্র অভিনেতা রানা হামিদ
ঢালিউডের বেশ কয়েকটি আলোচিত ছবির অভিনেতা রানা হামিদ মারা যান ৯ মে। পাকস্থলীর ক্যান্সার ও কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। নব্বই দশকে একাধিক ছবিতে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেতা চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলেন। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
১৪ মে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷ তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর৷ বাহাত্তরের কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সদস্য আনিসুজ্জামান আমৃত্যু বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি শিক্ষকতা করেছেন।
সুরকার আজাদ রহমান
১৬ মে চলে যান বিখ্যাত সুরকার আজাদ রহমান। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’- এমন অনেক গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সংগীত পরিচালককে বাংলা খেয়ালের প্রবর্তক বলা হয়। বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশ হয়েছে তার লেখা বই ‘বাংলা খেয়াল’।
নৃত্যশিল্পী হাসান ইমাম
১৫ মে নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক হাসান ইমাম মারা যান। বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এ নৃত্যশিল্পী পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নৃত্য-নাটকে কাজ করে ব্যাপক প্রশংসিত হন।
গণিতের অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাস
১৮ মে একুশে পদকপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাস মারা যান। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি আমৃত্যু মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন।
শিল্পপতি আবদুল মোনেম
৩১ মে বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল মোনেম খান মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মোনেম গ্রুপের প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের নির্মাণ ব্যবসায় অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম
১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। টানা দুই সপ্তাহ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানেন তিনি। নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর৷
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ
১৩ জুন রাতে মারা যান ৭৪ বছর বয়সী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ। অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকেরা। শেখ আব্দুল্লাহ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বদরউদ্দিন আহমদ কামরান
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান ১৫ জুন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
সাংবাদিক কামাল লোহানী
২০ জুন মারা যান সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনন্য ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা আল্লাহ মালিক কাজেমী
২৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আল্লাহ মালিক কাজেমী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত ডেপুটি গভর্নর পদে চাকরি শেষ করে ২০০৮ সালে চুক্তিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। বৈদেশিক বাজার ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, তারল্য ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি প্রণয়নসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বিচরণ ছিল।
ট্রান্সকম গ্রুপ চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান
১ জুলাই দেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান মারা যান। ৭৫ বছর বয়সী লতিফুর করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকেই গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। সফল ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেরও মালিক ছিলন।
সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর
৬ জুলাই মারা যান কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ১০ মাস ক্যানসারে ভুগে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রে অসাধারণ সব গানে কণ্ঠ দিয়ে অগণিত শ্রোতার মন জয় করেন এই শিল্পী।
অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যু হয় ৯ জুলাই। ৭৭ বছর বয়সী এই নেতা থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন সাহারা খাতুন।
শীর্ষ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল
১৩ জুলাই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম বাবুল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। নুরুল ইসলাম বাবুল বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও গড়ে তোলেন।
সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ
১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি যুক্ত ছিলেন অনেক গবেষণাধর্মী কাজে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত তার অনেক বই বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা যান ২৭ জুলাই। তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। ৬ জুলাই ইসরাফিল আলমের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ১৫ জুলাই করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী
৯ আগস্ট গীতিকবি আলাউদ্দিন আলী মারা যান। অসংখ্য কালজয়ী গানের সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’ ও ‘বন্ধু তিন দিন তোর’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মা গো’ প্রভৃতি।
চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর
১৫ আগস্ট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর। চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান তিনি। স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে। দীর্ঘদিন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঔপন্যাসিক রাহাত খান
২৮ আগস্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করা রাহাত খান ‘অমল ধবল চাকরি’, ‘ছায়াদম্পতি’, ‘শহর’, ‘হে শূন্যতা’, ‘হে অনন্তের পাখি’, ‘মধ্য মাঠের খোলোয়াড়’, ‘এক প্রিয়দর্শিনী’, ‘মন্ত্রিসভার পতন’, ‘দুই নারী’, ‘কোলাহল’-এর মতো উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ লিখেছেন।
অভিনেতা সাদেক বাচ্চু
১৪ সেপ্টেম্বর অভিনেতা সাদেক বাচ্চু মারা যান। বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পান। ৬৬ বছর বয়সী এ অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তার করোনা ধরা পড়ে।
সাবেক ক্রিকেটার এএসএম ফারুক
১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার এএসএম ফারুক মারা যান। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় এমসিসির বিপক্ষে যে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখে বাংলাদেশ, ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে খেলেছিলেন ফারুক।
হেফাজত আমির আহমদ শফী
১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের সর্বোচ্চ নেতা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার প্রধান শাহ আহমদ শফী মারা যান। বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। নারী শিক্ষার বিরোধিতা, ব্লগারদের নাস্তিক আখ্যায়িত করে বক্তব্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর এর বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে মাঠে নেমে আহমদ শফী সারা দেশে পরিচিতি পান।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম
২৭ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। অনেক চাঞ্চল্যকর মামলায় আইনি লড়াইয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেব কাজ করেন তিনি।
চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম
৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক মনসুর উল করিম মারা যান। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন এই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। সত্তরের দশকের শুরু থেকে দেশের চিত্রশিল্পে অসামান্য অবদান রাখায় সরকার ২০০৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
ভাষা আন্দোলনের কর্মী আবদুল মালেক
১৬ অক্টোবর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সৈয়দ আবদুল মালেক মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র থাকাকালে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখা সৈয়দ মালেক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
ব্যারিস্টার রফিকুল হক
২৪ অক্টোবর মারা যান সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক। তিনি শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।
কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত
১ নভেম্বর চির বিদায় নেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক’, ‘কোনো একদিন ভুবনডাঙায়’, ‘ভুবনডাঙার মেঘ ও নধর কালো বেড়াল’।
ফুটবলার বাদল রায়
২২ নভেম্বর মারা যান জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বাদল রায়। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত। মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলেন ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। জেতেন পাঁচটি লিগ শিরোপা।
অধ্যাপক হিমেল বরকত
২২ নভেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হিমেল বরকত মারা যান। মাত্র ৪২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ছোট ভাই হিমেল।
অভিনেতা আলী যাকের
২৭ নভেম্বর দেশবরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের মারা যান। চার বছর ধরে ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মৃত্যুর চার দিন আগে আক্রান্ত হন করোনায়। ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’র মতো দর্শকপ্রিয় অনেক টিভি নাটকেও অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান আলী যাকের। বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন। বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ছোট পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চেও দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন আলী যাকের।
সরোদবাদক ওস্তাদ শাহাদাত
২৮ নভেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান। বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। সংগীতে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক পান। বাবা ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী ও সেতার বাদক ছিলেন।
ইতিহাসবিদ রতন লাল
১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রতন লাল চক্রবর্তী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘দি ব্লাক আগস্ট অব ১৯৭৫’, ‘রাজরোষ’সহ তার সম্পাদিত গবেষণামূলক বইয়ের সংখ্যা অন্তত ৩৫টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিতব্য ‘হিস্ট্রি অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটি’ গ্রন্থের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
সংগীতার প্রতিষ্ঠাতা সেলিম খান
১০ ডিসেম্বর করোনায় মারা যান দেশের প্রথিতযশা ও বড় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার প্রধান সেলিম খান। বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। আশির দশকে তার হাত ধরে দেশের শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার জন্ম। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহু জনপ্রিয় গান বাজারে এসেছে।
পারটেক্সের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম
২৩ ডিসেম্বর মারা যান পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ হাসেম। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। হাসেম তামাকপণ্যের কেনাবেচার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর আয়রন, স্টিল, সিমেন্ট, চিনি, চাল, মসলা, গম, লবণ, দুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পারটেক্স গ্রুপ।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন
২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন মারা যান। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক আশির দশকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ মেয়াদের সরকারের সময় তিনি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর দয়িত্ব পান।
অভিনেতা আব্দুল কাদের
২৬ ডিসেম্বর ক্যানসারে ভুগে ৬৯ বছর বয়সে মারা যান অভিনেতা আবদুল কাদের। বাটার শীর্ষস্থানীয় এই কর্মকর্তা মঞ্চনাটক থেকে টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করেন।
বিশ্বজুড়েও চেনা মুখের বিদায়
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অনেক পরিচিত মুখ হারিয়ে গেছে করোনার বছরে।
বলিউড অভিনেতা ইরফান খান
২৯ এপ্রিল বলিউড অভিনেতা ইরফান খান মারা যান। বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। লাইফ অফ পাই ও স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। বাংলাদেশে বহুল আলোচিত লচ্চিত্র ‘ডুব’-এর মূল ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেন।
বলিউড তারকা ঋষি কাপুর
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে ৩০ এপ্রিল বলিউডের আরেক নক্ষত্র ঋষি কাপুর মারা যান। বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। সত্তর ও আশির যুগে ‘লায়লা মজনু’, ‘কার্জ’, ‘প্রেমরোগ’, ‘নাগিনা’, ‘চাঁদনি’, ‘হিনা’, ‘বোল রাধে বোল’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘কাভি কাভি’র মতো অজস্র দর্শকনন্দিত সিনেমা তিনি উপহার দিয়েছেন। নতুন শতাব্দীতেও থেমে যায়নি তার বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন।
‘ফানা’, ‘নমস্তে লন্ডন’, ‘লাভ আজ কাল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। বক্স অফিসে তার শেষ ছবি ছিল ‘দ্য বডি’।
সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য্য
২৫ জুন চলে যান ‘মেম সাহেব’ খ্যাত সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য্য। বাংলাদেশে জন্ম নেয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই নন্দিত লেখক ৮৯ বছরের জীবদ্দশায় ২৫ বছর সাংবাদিকতা করেছেন। ১৫০টিরও বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি।
মার্কিন তারকা চ্যাডউইক বোসম্যান
২৮ আগস্ট মারা যান ‘ব্ল্যাক প্যানথার’-খ্যাত জনপ্রিয় মার্কিন তারকা চ্যাডউইক বোসম্যান। কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন ৪৩ বছর বয়সী এ তারকা। ২০১৩ সালে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন। ‘ব্ল্যাক প্যানথার’ ছাড়াও ‘দ্য ফাইভ ব্লাডস’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘ম্যাসেজ ফ্রম দ্য কিং’, ‘গডস অফ ইজিপ্ট’, ‘দ্য কিং হোল’, ‘মার্শাল’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়
৩১ আগস্ট ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন প্রণব।
জেমস বন্ডের শন কনরি
৩১ অক্টোবর অস্কারজয়ী স্কটিশ অভিনেতা স্যার শন কনরি মারা যান। ৯০ বছর বয়সী এই তারকা অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন জেমস বন্ড ছবিতে অভিনয়ের জন্য। অভিনয় করেছেন সাতটি জেমস বন্ড স্পাই থ্রিলারে। তিনি ছিলেন জেমস বন্ড সিরিজের প্রথম নায়ক। ‘নাইট’ খেতাবে ভূষিত হন অসামান্য অভিনয়ের জন্য।
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
১৫ নভেম্বর চলে যান ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনয় জগতের কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৮৫ বছরের জীবনে ছয় দশকের বেশি সময় অভিনয় করেছেন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে দর্শক দেখেছে তার অনবদ্য শৈলী।
‘ফুটবল ঈশ্বর’ ডিয়েগো ম্যারাডোনা
২৫ নভেম্বর বিদায় নেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের অন্যতম ডিয়েগো ম্যারাডোনা। হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ৬০ বছর বয়সী বিশ্বনন্দিত ফুটবল মহাতারকা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন এই অধিনায়ককে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে রয়েছে নানা ধরনের মিথ।
কোরিয়ান চলচ্চিত্রকার কিম কি দুক
১১ ডিসেম্বর মারা যান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোরিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা কিম কি দুক। করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। অসাধারণ নৈপুণ্যের সঙ্গে ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ মর্যাদাপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
নাটোর জেলার উত্তরা গণভবনে এখন হৈমন্তি আর ম্যাগনোলিয়ার ভরা মৌসুম। সাতটি করে হৈমন্তি আর ম্যাগনোলিয়ার রুপে রসে গন্ধে অনন্য হয়ে উঠেছে উত্তরা গণভবনের আঙিনা। এছাড়া দুটি হোয়াইট এলামন্ড গন্ধ বিলিয়ে যাচ্ছে। ফুলের কানে ভ্রমরের গুঞ্জনে মোহনীয় চারিদিক।
অপরুপ স্থাপত্য শৈলীর রাজপ্রাসাদ আর বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসা অসাধারণ সব সামগ্রীর সংগ্রহশালাকে ছাড়িয়ে যায় গণভবনের দুষ্প্রাপ্য কিছু গাছের সমাহার। এর বেশির ভাগটাই ফুল গাছ। এরমধ্যে পারিজাত, ম্যাগনোলিয়া, নাগালিঙ্গম, এগপ্লান্ট, হোয়াইট এলামন্ড, সুরভিকা আর হৈমন্তি অন্যতম। এসব ফুল গাছের উপস্থিতি জানান দেয়, উত্তরা গণভবন শুধু রাজপ্রাসাদই নয় সুবিশাল পুষ্প সাম্রাজ্যও বটে।
এরমধ্যে পারিজাত চক্রাকারে পাতার রঙ পাল্টিয়ে লাল রঙের ফুলের থোকায় পরিণত হয় বসন্তে। এগপ্লান্টে প্রায় সারা বছর দু’একটা ফুল থাকলেও শীত আর বর্ষা এর ভরা মৌসুম। নাগালিঙ্গম আর ম্যাগনোলিয়া বসন্তে ফুটলেও বিস্তৃতি বর্ষাকাল পর্যন্ত। সুরভিকা ফোটে মূলত শীতকালে। গ্রীষ্মের তাপদাহকে উপেক্ষা করে হোয়াইট এলামন্ড তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে এখন।
আর বসন্তে পাতা হারিয়ে হৈমন্তি গাছগুলো হয়ে পড়ে বিবর্ণ। বসন্তের শেষার্ধে ফুল আসতে শুরু করলেও গ্রীষ্মে হৈমন্তির রুপ হয়ে ওঠে অপরুপ। সারাগাছ জুড়ে ফুল আর ফুল, কোন পাতা নেই। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে এ যেন শুভ্র সুন্দর শান্তির পরশ। গ্রীষ্মের এই ফুল সুবাস ছড়াবে অন্তত দুই মাস। এটিই হৈমন্তির ভরা মৌসুম। শরতে আরো একবার হৈমন্তি শুভ্র সুন্দর হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে এত ফুলের প্রাচুর্য আর সুবাস তখন থাকে না।
গণভবনের সিংহ দুয়ার পেরিয়ে সোজা এগিয়ে গেলে ইটালিয়ান গার্ডেনের প্রবেশপথের আগে দাঁড়িয়ে আছে একটি হৈমন্তি। ইটালিয়ান গার্ডেনে একটি, হরিণনিবাসে একটি, সংগ্রহশালার সাথে একটি, রাজপ্রাসাদের সামনে দুইটি হৈমন্তি গাছ। আর রাণীমহলে একটি হৈমন্তি গাছ। ধীরে বর্ধনশীল হৈমন্তির সাতটি গাছের মধ্যে রাজপ্রাসাদের সামনের গাছটি ফুলে ফুলে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
দুষ্প্রাপ্য গাছের তালিকায় আছে ম্যাগনোলিয়া। এর সংখ্যাও সাতটি। কুমার প্যালেস এর সাথে একটি ছাড়া অন্য ছয়টি ইটালিয়ান গার্ডেনে। কাঁঠাল পাতার মত প্রায় পাঁচ মিটার উঁচুতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাগনোলিয়ার প্রতিটি গাছে শত শত ফুলের কলি আর ফুল। বিরাট আকৃতির সাদা ফুল অকৃপণভাবে সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। ইটালিয়ান গার্ডেনকে সুশোভিত করে রাখে অতিকায় দুটো হোয়াইট এলামন্ড। এখন শুধু সুশোভিতই নয় সারা গাছ জুড়ে সাদা ঝিরিঝিরি ফুল রাশি পুরো গার্ডেনকে সুরভিত করে রেখেছে।
জেলা প্রশাসক ও উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসমা শাহীন বলেন, হৈমন্তী, ম্যাগনোলিয়া আর হোয়াইট এলামন্ড গণভবনকে সুশোভিত সুরভিত করে রেখেছে। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর উত্তরা গণভবনের আঙিনা। সৌন্দর্য পিপাসুদের মধ্যে অনেকেই গ্রীষ্মের এই তাপদাহে এসব ফুল গাছের তলায় দু’দণ্ড শান্তির পরশ খুঁজে পাচ্ছেন। দুষ্প্রাপ্য এসব গাছের সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন সদা সচেষ্ট।
ঢাবি ছাত্রী আনিকা মেহেরুন্নেসা শাহি। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন আনিকা মেহেরুন্নেসা শাহি। তার ইচ্ছা ছিল এলাকায় বিচারক হয়ে ফেরার; ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়ার। সে ইচ্ছা অপূর্ণ রেখে সোমবার লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এ ছাত্রী।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি ছাত্রীনিবাস থেকে রবিবার রাতে ঝুলন্ত অবস্থায় আনিকাকে উদ্ধার করে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।
আনিকার বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে। সেখানে সোমবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, তার শতবর্ষী দাদা আলহাজ সোলাইমান আলী মণ্ডল হতভম্ব হয়ে এদিক-সেদিক দেখছেন। কান্না থামছিল না ফুফু আক্তার বানুর।
আনিকার এমন মৃত্যুতে বিস্মিত পরিবারের সদস্য ছাড়াও প্রতিবেশীরা চেয়েছেন ঘটনার রহস্য উদঘাটন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন আনিকা মেহেরুন্নেসা শাহি। ২৪ বছরের এ তরুণী ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ২০২০-২১ সেশনে ভর্তি হন ঢাবির দুর্যোগ বিজ্ঞান ও স্থিতিস্থাপকতা বিভাগে।
এ বিভাগের পড়াশোনা শেষ করে আইনের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বিচারক হতে চেয়েছিলেন আনিকা।
গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনে নওগাঁয় সম্মুখসারিতে ছিলেন আনিকা। পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলায় মাইক হাতে অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে সড়কে দাঁড়ান তিনি।
সুষ্ঠু তদন্ত দাবি
পরিবারসহ এলাকাবাসীর দাবি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আনিকার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক।
বকুল নামের একজন মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি আনিকার মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলছিল, কিন্তু অর্ধেক মেঝেতে লেগে ছিল। আমার জানা মতে একটা ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল।
‘আমরা ঢাকায় আছি। তার বাবা পাগল হয়ে গেছে। তবে আমরা যখন যাই, তখন দেখি লক ভাঙা ছিল। মনে হয় তাকে কেউ নামানোর চেষ্টা করেছিল।’
বুটেক্স ছাত্র আটক
আনিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) এক ছাত্রকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বাহিনীর ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন ঢাবির এ ছাত্রী। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
নওগাঁয় অনিয়ম করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিইসি) বীজ ও সারের ডিলারশিপ নিয়েছেন সরকারি কলেজের প্রভাষক ও কৃষি কর্মকর্তা। তাদের স্বজনদেরও একই সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন তারা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ অনুসারে, একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়ে অন্য কোথাও থেকে কোনো ধরনের সুযোগ- সুবিধা নেওয়ার বিধান নেই। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি একের অধিক ডিলারশিপ নিতে পারবেন না।
অন্যদিকে আচরণ বিধিমালার ১৭ (১) নম্বর ধারায় বলা হয়, ‘এই আইনের অন্য বিধান অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যবসায় জড়াতে পারবেন না অথবা দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনো কাজ কিংবা চাকরি নিতে পারবেন না।’
অনিয়মে যুক্তদের ভাষ্য
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী নওগাঁতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ফজলে রাব্বি। তিনি তার স্ত্রী সম্পা বেগমের নামে বিএডিসির বীজের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়ে কৌশলে ডিলারশিপ বিক্রি করে খাচ্ছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই নওগাঁ শহরে বসবাস করলেও তারা পোরশা উপজেলায় ‘সাইফ ট্রেডার্স’ নামের ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স নিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্পা বেগম তার নামে লাইসেন্স স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নওগাঁ বসবাস করলেও পোরশায় আমার দোকান রয়েছে। ওখানে একটি ছেলে আছে। সে দোকান চালায়।’
দোকানের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী রাব্বি নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি করেন। তিনি সব বলতে পারবেন।’
সাইফ ট্রেডার্স নামের কোনো দোকান পোরশা বাজারে পাওয়া যায়নি। দোকানের সঠিক ঠিকানা কোথায় জানতে চাইলে সম্পা কোনো সদুত্তর না দিয়ে কথা না শোনার ভান করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফজলে রাব্বির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই লাইসেন্সটা আমার স্ত্রী সম্পার নামে করা আছে।’
নিয়মিত বীজ তোলেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভাই অফিসে আসেন, চা খেয়ে যান। আপনাদের অনেক সাংবাদিক আসে; চা খেয়ে যায়।
‘সবার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। আপনি অফিসে আসেন, চা খেয়ে যান।’
ওই বক্তব্যের পর সংযোগটি কেটে দেন তিনি।
এদিকে জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার মেসার্স জিমান ট্রডার্স নামে নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক ফারুক হোসেন নিয়ে রেখেছেন বিএডিসির সার লাইসেন্সের ডিলারশিপ। প্রোপাইটারে জায়গায় রয়েছে তার নিজের নাম।
তার ছেলে জিমানের নামে নিয়ামতপুর বাজারে রয়েছে দোকান। নিয়মিত বিএডিসির সার ও বীজ তুলে বিক্রি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘লাইসেন্সটা অনেক আগে করা ছিল। তখন আমার কলেজ সরকারি হয়নি। ২০১৮ সালে আমার কলেজ সরকারি হয়েছে।’
‘তাহলে দীর্ঘ সাত বছর ধরে সরকারি ডাবল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন। এটার সুযোগ রয়েছে কী?’
উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একাধিক জায়গা হতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা আমার অন্যায় হয়েছে। আমি তিন মাস আগে ডিসি অফিসে লাইসেন্স বাতিলের আবেদন জানিয়েছি।’
এদিকে ধারাবাহিকভাবে গত মাসেও সরকারি গুদাম থেকে সার তুলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সটা আমার ছেলের নামে হস্তান্তর করা হবে। তার প্রক্রিয়া চলছে।’
অপরদিকে ধামইরহাট উপজেলার ধামইরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তৌহিদুল ইসলাম তার নিজ নামে নিয়ে রেখেছেন বিসিআইসির সার ডিলারশিপ। সরকারি গুদাম থেকে নিয়মিত সার তুলে উপজেলার আমাইতাড়া বাজারে বিক্রি করছেন তিনি।
এ বিষষে জানতে ধামইরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তৌহিদুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আসলে ওটা অনেক আগে করা হয়েছিল। পরে আমার কলেজ সরকারীকরণ হয়।
‘সরকারি একাধিক জায়গা হতে সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি বেআইনি হয়েছে। আমি লাইসেন্সটা ট্রান্সফার করে দেব।’
‘আপনি তো এখনও নিয়মিত সার তোলেন।’ এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আসলে এখন ইরি-বোরো মৌসুম চলছে তো। তাই একটু তুলতেছি।’
যা বলছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা
ডিলারশিপের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে বিএডিসি কিংবা বিসিআইসির ডিলারশিপ লাইসেন্স নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা এটা করতে পারে না।’
‘আপনার অধিদপ্তরে এমন অনেকে রয়েছে। তাহলে তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?’
এমন প্রশ্নে প্রোগ্রামের ব্যস্ততার কথা বলে ফোন লাইন কেটে দেন এ কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল বলেন, ‘ইউএনও, কৃষি অফিস যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটিকে প্রস্তাব পাঠাই। তারপর অনুমোদন দেওয়া হয়।
‘সরকারি চাকরি করে বিএডিসি কিংবা বিসিআইসির ডিলারশিপ লাইসেন্স নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পূর্ব অনুমতিও নিতে পারত এ ক্ষেত্রে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’
আরও পড়ুন:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অজ্ঞাত মুখোশধারীরা গত রবিবার রাতের বেলায় জমিদার বাড়ির পুরোহিতকে ধরে নিয়ে জঙ্গলে বেঁধে রাখে। টাকা-পয়সা এবং জমিদারেরও খোঁজ করে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে ডাকাত আতঙ্কে রয়েছেন বাড়ির লোকজন।
মুখোশধারীরা ঘণ্টা তিনেক ধরে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষ ও আশপাশে তল্লাশি চালানোর কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে।
এতে দেখা যায়, রবিবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে জমিদার বাড়ির পুরোহিত বাদল ভট্টাচার্য ও তার স্ত্রী নেলী চক্রবর্তী ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে দুজন মুখোশধারী ধরে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে গাছের সঙ্গে পুরোহিতকে বেঁধে ফেলে।
জমিদার বাড়ির পুরোহিত বাদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাতে ঘুমানোর আগে স্ত্রীকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। এর মধ্যেই দুজন মুখোশধারী আমাদেরকে ধরে বাড়ির পাশে জঙ্গলে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। এ সময় মুখোশধারীরা জমিদার কোন ঘরে জানতে চায়। সিন্দুকের খোঁজও চায় তারা।
‘বাড়ির তিন তলায় ওঠার চেষ্টাও করে। ঘণ্টা তিনেক ধরে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষ ও আশেপাশে তল্লাশি চালায়।’
বাড়ির কেয়ারটেকার স্বপন সাহা বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত জমিদার বাড়িতে চাকরি করছি। দেশের বিভিন্ন জায়গার লোকজন এখানে ঘুরতে আসেন। পুরো বাড়ি তাদের ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করি।
‘কিন্তু অতীতে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। এই ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।’
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটিতে জমিদারের একমাত্র শেষ বংশধর মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী বসবাস করছেন। নিঃসন্তান ব্যক্তিটির স্ত্রী কিছুদিন আগে লোকান্তরিত হন। বাড়িটিতে বর্তমানে তিনি ছাড়া কয়েকজন কর্মচারী ও পুরোহিত অবস্থান করছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়িটিতে অজ্ঞাত কয়েকজন মুখোশধারী হানা দেয়। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে চারজনকে দেখা যায়।
বাড়ির মালিক মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী বলেন, ‘মুখোশধারীরা হয়তো ধনদৌলত নিতে কিংবা আটকে রেখে টাকা-পয়সা দাবি করতে চেয়েছিল। তবে বাড়ির লোকজন সজাগ হয়ে যাওয়ার মুখোশধারীরা সেটা করতে পারেনি।’
জানতে চাইলে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন:
ধর্মঘটে বুধবার সকাল ৮টা থেকে নওগাঁর সব পেট্রল পাম্প বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। কোলাজ: নিউজবাংলা
বিনা নোটিশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, বগুড়ার আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এবং পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ’ সব পেট্রল পাম্প বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে।
এ ধর্মঘটে বুধবার সকাল ৮টা থেকে নওগাঁর সব পেট্রল পাম্প বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরা।
কী বলছেন ভুক্তভোগীরা
যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী লোকজনও। তাদের একজন বেসরকারি সিম কোম্পানির কর্মী আল-আমিন।
তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে সকাল সাড়ে আটটায় মোটরসাইকেল নিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে তেল শেষ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আধা কিলোমিটার ঠেলে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় পেট্রল পাম্পে নিয়ে আসি।
‘পাম্প বন্ধ থাকায় আবার ঠেলে নিয়ে চলে যেতে হয়। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
আবদুল মান্নান নামের এক বাইকচালক বলেন, ‘আমি জানতাম না পেট্রল পাম্প মালিকদের ধর্মঘট চলছে। পেট্রল পাম্পে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। তেল দেওয়া হচ্ছে না।
‘এখন তেল ছাড়া আমরা কীভাবে চলি? আগে জানানো হলে তাও সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’
নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে অবস্থিত মেসার্স সাকিব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অনেকেই অফিসগামী মোটরসাইকেল আরোহী ও জ্বালানিচালিত বিভিন্ন যানবাহনগুলো পাম্পে এসে বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যানবাহন চালকদের। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান যানবাহন চালকরাও।
‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এবং পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ’ সকল পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আমাদেরও বন্ধ রাখতে হয়েছে।’
প্রেক্ষাপট
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সওজ বগুড়া। ওই সময় সান্তাহারের হামিম ফিলিং স্টেশন ও আনিকা ফিলিং স্টেশনে তেলের মিটার উচ্ছেদ করা হয়।
তারা জানান, পূর্বঘোষণা, নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক চিঠি না দিয়ে এ উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এবং পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ’ সব পেট্রল পাম্প বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ট্রেন না পেয়ে খুলনা থেকে দূরপাল্লার যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ছবি: নিউজবাংলা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেন ব্যবহার করেন। হঠাৎ করে রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সুযোগে বাসের ওপর বাড়তি যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাসের টিকিটের মূল্য বেড়ে গেছে।
খুলনা থেকে নওগাঁ যাওয়ার জন্য সকালে রেলওয়ে স্টেশনে এসেছিলেন কয়েকজন শ্রমিক।
তারা জানান, খুলনা থেকে নওগাঁ যেতে তারা সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে কোনো টিকিট পাননি। বাসে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। তাতে ভাড়া গুনতে হবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ পথে নিয়মিত ভাড়া ৫০০ টাকার বেশি নয়।
শ্রমিকদের একজন সান্তনু বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা কয়েকজন এখানে এসে বসে আছি। কয়েকজন গিয়ে বাসের খোঁজ নিয়েছে; কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
‘অতিরিক্ত ভাড়ায় আমরা যেতে পারছি না। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি ট্রেন চালু হয় কি না। না হলে সন্ধ্যার দিকে বাসে করে রওনা দেব।’
সান্তনুর মতো অনেক দূরপাল্লার যাত্রীকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা বাসে করে গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন।
খুলনা থেকে উত্তরবঙ্গে দৈনিক একাধিক ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস খুলনা থেকে রাজশাহী, রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস খুলনা থেকে চিলাহাটি, মহানন্দা এক্সপ্রেস খুলনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রকেট এক্সপ্রেস খুলনা থেকে পার্বতীপুর, নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস খুলনা থেকে গোয়ালন্দ ঘাট, বেনাপোল ও মোংলা কমিউটার খুলনা থেকে বেনাপোল যাতায়াত করে।
এ ছাড়া সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস খুলনা থেকে ঢাকাতে যাতায়াত করে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এর মধ্যে কোনো ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যায়নি। ফলে হাজার হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে এসে ফিরেছেন।
রেলওয়ের রানিং স্টাফরা মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এ সুবিধা সীমিত করা হয়।
ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বুধবার রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি পূরণের আলটিমেটাম দেয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় সোমবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সোমবার রাত ১২টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ। আজ কোনো ট্রেন চলেনি। টিকিট বুকিং দেওয়া যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
এ সমস্যার সমাধান কবে হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
ঝালকাঠির আদালত ভবনের বাইরের এবং ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। কোলাজ: নিউজবাংলা
দীর্ঘদিনেও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে নব্বইয়ের দশকে নির্মিত ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি।
এমন পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালতে কর্মরতদের।
সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থদের অবহিত করে গণপূর্ত বিভাগের ঝালকাঠি অফিস ২০১৯ সালে চিঠি চালাচালি করলেও বিষয়টি এখনও ফাইলবন্দি।
ভবনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণের দাবি আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর জরাজীর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৫ নভেম্বর বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠান।
ভবন পরিদর্শনকালে তিনজন উপসহকারী প্রকৌশলী, গণপূর্তের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ উপস্থিত ছিলেন। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি সংগ্রহ করেছে নিউজবাংলা।
কী ছিল পরিদর্শন কপিতে
ঝালকাঠি গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী অনিরুদ্ধ মন্ডল, মো. বদরুজ্জামান, মো. ইমরান বিন কালাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল-মাসুম স্বাক্ষরিত ওই পরিদর্শন কপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ভবনটির দুই তলায় করিডোরের বেশ কিছু স্থানে ছাদের কনক্রিট স্প্যানিং হয়ে খসে পড়ছে। এ ছাড়াও নলছিটি কোর্ট রুমের পরিদর্শনকারীদের বসার ওপরের ছাদের অংশ খসে পড়েছে। এ সমস্ত স্থানে মরিচা পড়ে রড উন্মুক্ত হয়ে আছে। দ্বিতীয় তলা এবং নিচ তলার করিডোরের বেশ কিছু বিম ও কলামে ফাটল লক্ষ করা গেছে।
‘ভবনটির নিচ তলায় হাজতখানার ছাদের বেশ কিছু অংশসহ করিডোরের বিভিন্ন অংশে ছাদের কনক্রিট স্প্যানিং হয়ে খসে পড়েছে। এসব স্থানেও মরিচা পড়ে রড বের হয়ে আছে। নিচ তলার বিভিন্ন কলাম এবং বিমের ফাটল লক্ষ করা গেছে। কিছু স্থানে কলাম ফেটে রড বের হয়ে গেছে।’
পরিদর্শন প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ‘ভবনটির দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত ১৯৮৯-৯০ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীকালে ২০০৪-০৫ সালে তৃতীয় তলার উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বিম কলামে ফাটল থাকায় এবং ছাদের কনক্রিট খসে পড়ায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগের মতামতসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রয়োজন।’
প্রতিটি কক্ষই ঝুঁকিপূর্ণ
সম্প্রতি জজ আদালত ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, ভবনের ছাদের ওপর থেকে খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ফাটল ধরেছে অনেক পিলারেও। ভারি বৃষ্টি এলেই ছাদ ও দেয়াল চুষে পানি পড়ে মেঝেতে। নষ্ট হয়ে যায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
দীর্ঘদিনেও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় তিন তলা ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিচারকের এজলাস, খাসকামরা, পেশকার, সেরেস্তাদারের কক্ষ, নকল কক্ষ, হাজতখানাসহ প্রতিটি কক্ষই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যেই চলছে আদালতের কার্যক্রম। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
যা বলছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা
আদালতের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে কথা হয় আবদুর রহমান, তৈয়ব আলী, কামরুল ইসলাম, মুরাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে।
তাদের একজন বলেন, ‘আদালত ভবনের ভিতরে প্রবেশের পর কার্যসম্পাদন করে বের হওয়া পর্যন্ত আমরা থাকি আতঙ্কে। প্রায় সময়ই ছাদের পলেস্তারা খসে নিচে পড়ে।
‘বর্ষায় তো বারান্দায় পানি জমে যায়। দেয়ালে পানি চুষে অনেক ফাইল নষ্ট হয়ে যায়।’
আইনজীবী মানিক আচার্য্য বলেন, ‘ভবনটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তার সংস্কার করছে না কর্তৃপক্ষ। বিচারকরা যদি ভালো পরিবেশে বিচারকার্য পরিচালনা করতে না পারে, তাহলে বিচারকার্যে মনোনিবেশও করতে পারেন না।
‘ঝালকাঠির বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ সকলেই আমরা এ ভোগান্তিতে রয়েছি। বিভিন্ন সময়ে উচ্চপদস্থদের বিষয়টি অবগত করলেও এখনও কোনো ভূমিকা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’
আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট ফয়সাল বলেন, ‘ড্যামেজড ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। ইতোপূর্বে জরাজীর্ণ আদালত ভবনের ছাদের ও দেয়ালের আস্তর খসে অনেকের ওপর পড়েছে।
‘আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা এবং নতুন ভবন নির্মাণ অথবা টেকসই সংস্কারের জন্য গণপূর্তের চিঠি চালাচালি হলেও দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাইনি। জনস্বার্থে দ্রুত নতুন আদালত ভবন নির্মাণ জরুরি।’
আইনজীবী আক্কাস সিকদার বলেন, ‘বর্তমানে এ আদালতে ১৬ হাজার দেওয়ানি মামলা এবং দেড় হাজার ফৌজদারি মামলা চলমান। ইতোপূর্বে জরাজীর্ণ আদালত ভবনের ছাদের ও দেয়ালের আস্তর খসে অনেকের ওপর পড়েছে।
‘আদালত ভবনের নিচ তলায় হাজতখানার পশ্চিম দিকে মসজিদের সামনে একাধিকবার ধসে পড়েছে ছাদের অংশ। এখন এই ভবন অস্থায়ী সংস্কার না করে এটি ভেঙে এখানে নতুন ভবন করা উচিত।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘নব্বই দশকে দোতলা জজ আদালত ভবনটি নির্মাণের পর ২০০৬ সালে এর ওপর আরও এক তলা বর্ধিত করে তৃতীয় তলায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে নিচ তলার অনেক পিলারে ফাটল ধরেছে। ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আদালতের স্টাফ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা রয়েছেন আতঙ্কে।
‘হাজতখানা সরিয়ে পার্শ্ববর্তী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে নেওয়া হয়েছে। ভবনে আগতদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। দ্রুত এটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।’
জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ ঝালকাঠির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম ও বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আমানুল্লাহ সরকার একই ধরনের বক্তব্য দেন।
তাদের একজন বলেন, ‘ভবন পরিদর্শনের রিপোর্ট ২০১৯ সালে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন ভবনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে আছে।
‘সেখান থেকে অর্ডার হলেই গণপূর্ত বিভাগ টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য কার্যসম্পাদন করবে।’
ক্যাপশন: ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ভেতরের জরাজীর্ণ অংশ। ছবি: নিউজবাংলা
আরও পড়ুন:
মন্তব্য