২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সপ্রবাসী চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রকাশ রায় ও সংগীতশিল্পী আরিফ রানার সঙ্গে হাজির হই প্যারিসের অভিজাত পাড়ার এক বাড়িতে। এই বাড়িতে থাকেন এক বাঙালি কবি ও গবেষক। তখনই তার বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি। নাম পৃথীন্দ্রনাথ মুখার্জী। ভারতীয় বংশদ্ভূত এই ফরাসির সঙ্গে বাংলাদেশেরও রয়েছে নাড়ির সম্পর্ক।
বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় তার পূর্বপুরুষের ভিটে। ‘বাঘা যতীন’ নামে উপমহাদেশে পরিচিত বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নাতি তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখার জন্যে যে বিদেশি বন্ধুদের আমরা খেতাব দিয়েছি, তিনি তাদের একজন। অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় এসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। সেবার তার হয়ে পদক গ্রহণ করেছিলেন ঢাকায় সে সময়ের ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
প্যারিসের বাঙালি কমিউনিটির সবার প্রিয় ‘পৃথীনদা’ তিনি। জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হলেও তার পূর্বপুরুষের ভিটা বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায়। ফরাসি দর্শন, সাহিত্য, ভারতীয় দর্শন ও ইতিহাসের গবেষক হিসেবে তিনি পেয়েছেন ফরাসি সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, পদক ও ফরাসি একাডেমি খেতাব। কবিতায় রয়েছে তার দারুণ দখল। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পেয়েছেন অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক কাহিনিচিত্র।
সেদিনের আড্ডায় এ গুণী পণ্ডিত বলছিলেন, প্যারিসে বসবাসের শুরুতেই ফরাসি মূল স্রোতের গুণীজনদের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। যদিও শেষ বয়সে এসে ধরা দিয়েছেন ‘বাঙাল’ বা বাঙালিদের কাছে।
সাত বছর বয়সেই টাইফয়েডের কারণে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন পৃথীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। কেবল প্রবল মানসিক শক্তির কারণে হুইল চেয়ার ঠেলে ঠেলে উঠে গেছেন সাফল্যের শিখরে। আড্ডায়ও দারুণ ‘জোশ’ তার। বলে চলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার জড়িয়ে পড়ার গল্প।
তিনি বলেন, তার নানাবাড়ি কুষ্টিয়া আর নিজেদের আদি বাড়ি সেকালের যশোরে, যা বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার অংশ। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঘা যতীনের সেই ভিটায় জাদুঘর ও ক্যান্টনমেন্ট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার পর সে সম্ভাবনা গেছে তিমিরে মিলিয়ে। বাকি সব সম্পত্তিসহ বাঘা যতীনের ভিটেবাড়ি হয়েছে বেদখল।
পৃথীন্দ্রনাথ বলেন, ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তার রক্তেও যুদ্ধে যাওয়ার নেশা ধরেছিল। তিনি তখন প্যারিস সরকারের ফেলো হিসেবে গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ব্যস্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো, ফরাসি রেডিও এবং টেলিভিশনের প্রযোজক হিসেবে। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, সবই মিছে। বারবার মনে হচ্ছিল বাপ-ঠাকুরদার ভিটে রক্ষায় অংশ নেওয়া উচিত এই যুদ্ধে।
তিনি বলেন, ‘করণীয় ঠিক করতে না পেরে একদিন গেলাম প্যারিসের ভারতীয় দূতাবাসে। ভারতের রাষ্ট্রদূত আমাকে জানালেন, ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি প্যারিসে থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার পরামর্শ দিলেন। কষ্ট হলেও আমি সেই পরামর্শ মেনে নিলাম। কারণ মন পড়েছিল, বর্ষাস্নাত তাল-হিজলের দেশের সবুজ গ্রামে, যেখান দিয়ে হলিউডি সিনেমার দৃশ্যের মতো বৃষ্টিতেও ধোঁয়া ওড়ে।’
পৃথীন বলেন, এরপরই শামসুর রাহমান, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলামসহ বাংলা ভাষার কবিদের কবিতা দ্রুত ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করে ফেলেন তিনি। রেডিওতে সেই কবিতাগুলো জনপ্রিয় আবৃত্তিকারদের দিয়ে আবৃত্তি করাতেন। টেলিভিশনেও আবৃত্তি করাতেন ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পীদের দিয়ে। রেকর্ডগুলো বিক্রি করে তহবিল জোগাড় হতো মুজিবনগর সরকারের জন্য।
কেবল তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিলো মদঁ পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কবিতা লেখেন।
ফরাসি ও ইংরেজি পত্রিকায় প্রতিদিনই কলাম লিখতেন পৃথীন্দ্রনাথ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ও পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত ছাপছিলেন যুদ্ধের ভয়াবহতা আর নিষ্ঠুরতার কথা। এভাবেই ফরাসি দেশে বাংলাদেশের পক্ষে মতামত গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
সরাসরি ময়দানেও যুদ্ধ করতে পারতেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের পক্ষে সে সময় বহির্বিশ্বে মতামত তৈরি করাও ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন।
দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে ১৯৭৩ সালে পৃথীন্দ্রনাথ ঢাকায় এসেছিলেন। সেই স্মৃতি হাতড়ে আনন্দে চিকচিক করে ওঠে তার চোখ। বঙ্গবন্ধুর নাম বলে করজোড় কপালে ছুঁয়ে বলে ওঠলেন, ‘যে আগুন আমাদের এত দূর এগিয়ে এনেছে, তাকে প্রণাম। আমার দাদুর শিষ্যরা কলকাতায় তার গুরু ছিলেন।’
তার উদ্যোগে জ্যাঁ পল সার্ত্র, আন্দ্রে মালরোর মতো মহান ফরাসি দার্শনিকদের তিনি বাংলাদেশের সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন। মালরো বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধের জন্য একটি আর্ন্তজাতিক ব্রিগেডও গঠন করেছিলেন। তিনি নিক্সনকেও চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার শেষ পর্যন্ত সেই কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পদক দিয়েছে। ফরাসি সরকার দিয়েছে ‘নাইট’ উপাধি। তবে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার একটাই, আর সেটা বাংলাদেশ সরকারের দেয়া মৈত্রী পুরস্কার।
একাত্তরে আটক হয়েছিলেন পৃথীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যয়। সে আরেক গল্প।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর জঁ ক্যা নামে এক জেদি লড়াকু ফরাসি তরুণ এক দুঃসাহসিক কাণ্ড করেছিলেন। প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরে একটি পাকিস্তানের বিমান জিম্মি করেছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই তরুণ। উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাহায্য পাঠাতে ফরাসি সরকারকে বাধ্য করা।
১৭ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু নিয়ে বিমানটি লন্ডন থেকে প্যারিস, রোম ও কায়রো হয়ে করাচি যাচ্ছিল। এর মধ্যে পাঁচ যাত্রী প্যারিস থেকে ওঠার কথা। ওই পাঁচ জনের সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করে উড়োজাহাজে উঠে বসেন জঁ ক্যা।
বেলা তখন ১১টা ৫০ মিনিট। পাইলট আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি হিসেবে বিমানটি চালু করতেই পকেট থেকে পিস্তল বের করে জঁ ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কেউ তার নির্দেশ অমান্য করলে সঙ্গে থাকা বোমা দিয়ে পুরো বিমানবন্দর উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন তিনি। ওয়্যারলেস কেড়ে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে জঁ নির্দেশ দেন বিমানটিতে যাতে ২০ টন ওষুধ ও চিকিত্সা সামগ্রী তুলে তা যুদ্ধাহত ও বাংলাদেশি শরণার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও তার সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নাড়াতে পারেনি।
প্যারিসের সব পুলিশ যেন সেই দিন অরলি বিমানবন্দরে এসে হাজির হয়েছিল।
জঁ ক্যাকে ছাড়াতে গিয়ে বিমানবন্দরে আটক হন পৃথীন্দ্রনাথ। আটক অবস্থাতেই জানতে পারেন দীর্ঘ আট ঘণ্টার অপারেশন শেষে পাকিস্তান এয়ারলাইনসের (পিআইএ) বিমানটিকে জঁ-এর কাছ থেকে মুক্ত করেছে পুলিশ। জঁকে গ্রেফতার করে অরলি পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়া হয়।
‘বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অস্ত্র হাতে নিতে আমি প্রস্তুত’ – এমন ঘোষণা দিয়ে তখন ফ্রান্সসহ ইউরোপজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী লেখক আন্দ্রে মালরো। জঁ গ্রেফতার হয়েছেন খবর পেয়ে তিনিও ছুটে গিয়েছিলেন অরলি পুলিশ স্টেশনে। ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে কথা বলে গলের মন্ত্রিসভার মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী মালরো পৃথীন্দ্রনাথকে থানা থেকে মুক্ত ককরেন। এরপর মালরো নামেন জঁ-এর মুক্তির লড়াইয়ে।
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অপহরণের পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখীপুর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত সেঁজুতি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার (২০ জুন) রাতেই শিশুটির বাবা ফালু চন্দ্র সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের একাধিক সদস্যের দাবি, গত রোববার (২১ জুন) রাতে তাদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল আসে। ফোনে সেঁজুতিকে জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত সেঁজুতির মা শোভা চন্দ্র বলেন, ‘আমার অনেক শত্রু আছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আমার ছোট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে। একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়, বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি)’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।’
ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপক্ষীয়-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অন্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবেন।
প্রসঙ্গত, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চার সদস্যকে ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা নগর থেকে ওই গোষ্ঠীর আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নগরের খালিশপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মহানগরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ জুন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছিল।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে ঢাকা মহানগরের বংশাল এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন বরিশালের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন (২৯), যিনি বর্তমানে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় ভাড়া থাকতেন; মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামের বাসিন্দা তুষার শিকদার (৩৮), যিনি সোনাডাঙ্গার শেখপাড়া মেইন রোড এলাকায় বসবাস করতেন; সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কারপাসডাঙ্গা গ্রামের মো. আসিফ (২৫), যিনি নগরের নবীনগর এলাকায় থাকতেন এবং খুলনা সদরের টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত বি কোম্পানি নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরের একটি এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, একটি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা মহানগরে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন ঘটনায় ঘুরেফিরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে।
ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এতে অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ঢাকায় ভূমিকম্পের এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কোভিদ গণমাধ্যমকে জানান, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকায়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর মিরপুর থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জুন সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের কিছু উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় একই ধরনের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে সেই ভূকম্পনের তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সময় গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ইমনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কোফিনু এলাকার তল্লাশি চালিয়ে গাছের নিচ থেকে ঘাসঢাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস টাইমস।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১২ জুন নিখোঁজ হন ইমন। ওই দিন দেশটির লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে।
মরদেহটি উদ্ধারের পর সাইপ্রাস পুলিশ জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ইমনের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মোবাইল ফোন থেকে মেসেজ পাঠিয়ে পরিবার কাজ থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল।
পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কোফিনু এলাকায় ইমনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে। পরে মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আরেক বাংলাদেশি ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ইমনকে অপহরণ ও হত্যা করে মরদেহ ঘাস চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনু এলকার একটি গাছের কথাও জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেটি নিখোঁজ ইমনের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি একটি গাছের নিছে ঘাসঢাকা অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রোববার বিকেল ৩টার দিকে কোফিনু এলাকার একটি রেস্টহাউসের কাছ থেকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থানও ওই এলাকাতেই শনাক্ত হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে মরদেহটি ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল।
স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান জর্জ চারালাম্বুস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক একাই এ অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেই স্থানটিও পুলিশকে জানিয়েছেন। মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় মৃত্যুর সঠিক সময়কাল ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে নিখোঁজের রাতেই হত্যা করা হয়েছিল।
চারালাম্বুস আরও বলেন, পুলিশ বর্তমানে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং ঘটনাটি সমাধানের কাছাকাছি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজনের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান, প্রযুক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়েছে।
এদিকে সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা নগরীর ছোটরায় ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে নিহত ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার (২২ জুন) রাতে নগরীর মফিজাবাদ কলোনীতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রশাসক। তিনি বলেন, “গতকাল রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার স্মৃতির মুখটা চোখে ভেসে উঠেছে। আমার নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে থাকা ভাঙা স্ল্যাব চিহ্নিত করে অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমি চাই না আর কোনো পরিবারকে স্মৃতির পরিবারের মতো এমন শোক বয়ে বেড়াতে হোক। কুমিল্লা নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না।”
এ সময় নগরীর দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
স্মৃতির বাবা-মায়ের হাতে হাত রেখে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে নিহত শিশুর বাবা বিল্লাল হোসেনের হাতে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই নিভে যায় তার ছোট্ট জীবনের প্রদীপ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মন্তব্য