20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ভালো আছি খুব ভালো

হরেক রকমের পণ্য নিয়ে আলাউদ্দীন ফকির

ভালো আছি খুব ভালো

নিজের পেশা নিয়ে কোনো ধরনের লজ্জা বা কষ্ট নেই আলাউদ্দীন ফকিরের। ভোগেন না কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায়ও। আপনার এই পেশার নাম কি- জানতে চাইলেই হাসতে হাসতে বললেন, ‘হকারি।’

ঘাড়ে লোহার পাইপের সঙ্গে ধানের খড় পেঁচানো আড়াই ফুটের দণ্ড। তাতে থরেথরে সাজানো হরেক রকম ছুরি, কাঁচি, ভ্রমর, টেস্টার, স্ক্রু ড্রাইভারসহ ৭০-৮০ ধরনের পণ্য। এ নিয়েই সারা দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান আলাউদ্দীন ফকির।

মঙ্গলবার দুপুরে তার সঙ্গে দেখা হয় মগবাজারের এক মোটরবাইক ওয়ার্কশপে। প্রায় ৬০ বছর বয়সী আলাউদ্দীন জানান, তিনি রাজধানীতে থাকেন কাপ্তান বাজারে মহাজনের ফ্ল্যাটে। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কড়ইতলা গ্রামে।

বাড়িতে কে কে আছেন জানতে চাইতেই হেসে বলেন, ‘বাড়িতে চারজন ঝিপুর। দুই জন ছেলে, দুইজন মেয়ে। আর বউ তো আছেই। তা আর কইতাম কী।’

নিজের পেশা নিয়ে কোনো ধরনের লজ্জা বা কষ্ট নেই আলাউদ্দীন ফকিরের। ভোগেন না কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায়ও। আপনার এই পেশার নাম কি- জানতে চাইলেই হাসতে হাসতে বললেন, ‘হকারি।’

আলাউদ্দীন ফকির জানান, এই ব্যবসায় জড়িয়েছেন বছর চল্লিশেক আগে। এই ব্যবসার এখন আর চল নেই। মানুষ এখন বিভিন্ন দোকান, মার্কেট, সুপারশপ বা শোরুমে গিয়েই এসব পণ্য কেনে। তারপরও তার মতো কিছু মানুষ পথে ঘুরে ঘুরে এ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। লাভের পরিমাণও কমে গেছে। দেশীয় পণ্যের জায়গা করে নিয়েছে চীন, ভারত ও তাইওয়ানের পণ্য।

আলাউদ্দীন বলেন, ‘আগে দিনে দুই হাজার টাকার মাল বেচলে অর্ধেকই লাভ হতো। এখন ব্যবসার গোমোর ফাঁস হয়ে গ্যাছে। আগে যে জিনিস ১২০ টাকা বেচতাম, এখন তা ৮০ টাকায় বেচতে হয়।

‘এখন দিনে ১৮শ থেকে দুই হাজার টাকার মাল বেচতে পারি; লাভ হয় ৬০০-৮০০ টাকা।’

আলাউদ্দীন কাপ্তান বাজারে মহাজন ‘রাসেল ভাই’র যে ফ্ল্যাটে থাকনে, সেখানে আরো ১২ জন থাকেন। তারাও তার মতো এসব পণ্য নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েন রাজধানীর অলিগলিতে।

আলাউদ্দিন জানান, মহাজনের ফ্ল্যাটে থাকায় বাসা ভাড়া দিতে হয় না। খাওয়ার খরচ দিতে হয়। তাদের নিজেদের কোনো পুঁজি লাগে না। মহাজনই ৭০-৮০ প্রকারের পণ্য দেন; সেগুলোর দামও ধরে দেন। বিক্রি করে মহাজনের টাকা শোধ করে লাভ তুলতে হয়।

এজন্য ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হয় রাজধানীর অলিগলি। সবমিলে দিনে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। কিছুক্ষণ পরপর নিতে হয় বিশ্রাম। না হলে শরীর চলে না।

রাজধানীর পাশাপাশি মাঝেমধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী, জয়দেবপুর এবং নারায়ণগঞ্জ শহরেও ছুটে যান আলাউদ্দীন।

সময় পেলে চলে যান আড়াইহাজারের গ্রামের বাড়ি।

সবমিলে কেমন আছেন জানতে চাইলে তৃপ্তির হাসি হেসে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আল্লাহ চালায়। ভালো রাখছে। ভালো চলি। খুব ভালো।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য