তরুণদের ৮৪ শতাংশই ফেসবুকে আসক্ত

তরুণদের ৮৪ শতাংশই ফেসবুকে আসক্ত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ বয়সীদের ওপর চালানো এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, এদের ৮৪ শতাংশই দৈনিক ২ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করেন। গবেষকেরা বলছেন, ৩০ মিনিটের বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দেশে তারুণ বয়সীদের বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার কারণে এসব তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিষণ্নতায় ভোগার হার বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ বয়সীদের ওপর চালানো এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, এদের ৮৪ শতাংশই দৈনিক ২ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করেন। ২ ঘণ্টার কম সময় ব্যয় করেন প্রায় ১৫ শতাংশ তরুণ-তরুণী।

তরুণ বয়সীদের সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন এ জরিপ চালিয়েছে ২ হাজার ২৬ জন ব্যক্তির ওপর। অংশগ্রহণকারীদের সবচেয়ে বড় অংশ ১ হাজার ৭২০ জন ছিলেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। এ ছাড়া এতে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৪৩ জন অংশ নেন। ৩১- ৩৫ বছর বয়সী ছিলেন ৬৩ জন। মোট অংশগ্রহণকারী নারী ১ হাজার ২৯৩ জন বা ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তৃতীয় লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার ছিলেন শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।

মূলত দেশে তরুণ বয়সীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে জরিপটি চালানো হয়। এতে তাদের মানসিক চাপ, ঘুমের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়েও তথ্য নেয়া হয়।

গত শনিবার জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে সংগঠনটি, যার শিরোনাম ছিল ‘আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তরুণদের ভাবন’।

এতে দেখা যায়, দৈনিক ছয় ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করেন ২৭ শতাংশ তরুণ তরুণী। ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ দৈনিক ৪-৬ ঘণ্টা ও ৩১ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ-তরুণী দৈনিক ২-৪ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। দৈনিক সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন ১৪.৯ শতাংশ।

ওই জরিপে গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দৈনিক গড়ে ৩০ মিনিটের বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সিংহভাগই ফেসবুক ব্যবহার করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ২০২০ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) জরিপে দেখা যায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। তার মধ্যে ফেসবুক ব্যবহার করেন ৮৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে দেখা যায়, তরুণ বয়সীদের ঘুমের পরিমাণ কমে আসছে। ২৩.৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বলেছেন, তাদের পরিমিত বা পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। ৭৬.১ শতাংশ বলেছেন তাদের পরিমিত ঘুম হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশ জানায়, গত মার্চ মাসে তারা করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার হার সংক্রান্ত একটি জরিপ পরিচালিত করে। সেখানে তারা দেখতে পায়, আত্মহননকারীদের প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ফলে তরুণ বয়সীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার কারণ খুঁজতে এ জরিপ পরিচালনা করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সাইকোলজিস্ট এবং প্লে থেরাপিস্ট মোস্তাক ইমরান বলেন, ‘দিনের অধিকাংশ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের ঘুম কম হচ্ছে, বিষণ্ণতা ও হতাশা বাড়ছে, আত্মহত্যার হারও বাড়ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের ও তাদের পরিবারের মনোসামাজিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার শর্তে জামিন
ভারতে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম থেকে উধাও ৩ কোটি ২০ লাখ পোস্ট
মেয়েদের ফেসবুক আইডি হ্যাক যে কৌশলে
অনলাইন শপিংয়ের চার ফিচার আনল ফেসবুক
গুগল-অ্যামাজনের পর ভ্যাট নিবন্ধন নিল ফেসবুক

শেয়ার করুন

মন্তব্য