পিপিই পরে ঘেমে একাকার, ছবি ভাইরাল চিকিৎসকের

পিপিই খোলার পর ঘেমে একাকার চিকিৎসক সহিল। এ সংক্রান্ত একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি: টুইটার

পিপিই পরে ঘেমে একাকার, ছবি ভাইরাল চিকিৎসকের

গুজরাটের তরুণ চিকিৎসক সহিল মাকওয়ানা তার টুইটারে একটি ছবি শেয়ার করেছেন দীর্ঘ সময় পিপিই পরে থাকার। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ১৭ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে।

ভারতের কেরালায় গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথম একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর শরীরে করোনা ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে দেশটিতে বাড়তেই থাকে সংক্রমণ। এখন ভারতে দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়েছে তিন হাজার। আর শনাক্ত হচ্ছে প্রায় চার লাখ রোগী।

এই মহামারিতে দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা ঠিক রাখতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। এ কাজ করতে গিয়ে তারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পিপিই পরে থাকায় শারীরিকভাবে নানা সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে এই পোশাকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা।

গুজরাটের এক তরুণ চিকিৎসক সহিল মাকওয়ানা তার টুইটারে এমন একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দীর্ঘ সময় পিপিই পরার পর ঘামে ভেজা দেখা যায় তার শার্ট।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই নেট দুনিয়ায় তা ভাইরাল হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ১৭ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে।

জিএমইআরএস মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক সহিল এনডিটিভিকে বলেন, ‘এটি খুবই গরম ও আর্দ্র দিন ছিল। আমি পিপিই পরে রাউন্ড শেষ করে আমার কক্ষে গিয়ে রোগীর ওষুধ লিখি।

‘আমি ভাবলাম, এ সময় একটি ছবি নিই যে, আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা কী কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’

প্রথম ছবিটি সহিলের পিপিই পরা অবস্থার। দ্বিতীয়টি পিপিই ছাড়া। এতে দেখা যায়, ঘামে তার শরীর ভেজার পাশাপাশি চুল ছিঁড়ে গেছে।

তিনি টুইটে লেখেন, ‘দেশের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত।’

এনডিটিভিকে সহিল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর চাপের বিষয়ে বলেন, ‘এত এত চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় যে, আমরা এখন বাড়িতেও যেতে পারি না। বাড়ি গেলেও পরিবারের সবাইকে আক্রান্ত করার শঙ্কা থাকে। আমরা একটা যুদ্ধ করছি; আমরা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারছি না। ‌

‌‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের এখানে কিছুই নেই। আমার মা-বাবা আহমেদাবাদে। আমি সাধারণত প্রায় প্রতি সপ্তাহে সেখানে যেতাম। এখন পারি না।’

সহিল তার কথায় নারী সহকর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘অনেকের ছোট ছোট বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের ছাড়াই তাদের এখানে দিনের পর দিন থাকতে হচ্ছে; এত কষ্ট করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, নারীদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

মহামারিতে সুরক্ষিত থাকতে সহিল লোকজনকে বাসায় অবস্থানের অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে সুযোগ হলেই টিকা নেয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রকাণ্ড ব্যাঙে ভূরিভোজ

প্রকাণ্ড ব্যাঙে ভূরিভোজ

মানুষের বাচ্চার সমান ব্যাঙ পাওয়া গেছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে। ছবি: এবিসি অস্ট্রেলিয়া

সলোমন ও পাপুয়া নিউ গিনি অঞ্চলে এই কর্নুফার গিফি ব্যাঙ বনমোরগ নামেই পরিচিত। স্থানীয় লোকজন এটি শিকার করেন। এ ব্যাঙের মাংসের দাম যেমন বেশি, তেমনি সুস্বাদু। 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সলোমন দ্বীপপুঞ্জে নতুন ধরনের এক ব্যাঙ দেখে ভয় পেতে শুরু করেছিলেন লোকজন। মানুষের বাচ্চার আকারের সেই ব্যাঙের ভয় কাটিয়ে তারা বরং শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সেই অঞ্চলের লোকজনের কাছে সেসব ব্যাঙ অন্যতম সুস্বাদু ও দামি খাবারে পরিণত হয়েছে।

দেশটির হোনিয়া অঞ্চলের জিমি হুগো নামের এক ব্যক্তি সেই ব্যাঙের ছবি পোস্ট করেন ইন্টারনেটে। ছবিতে দেখা যায়, এক শিশু তার দুই হাতে ধরে রেখেছে ব্যাঙটি।

ছবিটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সেটি ভাইরাল হয়েছে। মানুষের জন্যই এই প্রজাতির ব্যাঙ বিলুপ্তির পথে বলে অনেকেই দাবি করছেন।

একটি কাঠকলের মালিক হুগো জানান, তার কাঠ মিলের কর্মীরা শূকর শিকারে গিয়ে সেই ব্যাঙ দেখতে পান। এরপরই তিনি ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করেন।

ছবি দিয়ে হুগো লেখেন, ‘আমি যেখানে থাকি, সেখানে এটাকে বনমোরগ বলে।’

মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়। হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে ছবিতে।

আকারে মানুষের বাচ্চার সমান ব্যাঙটিকে বনমোরগ বলে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের লোকজন। ছবি: এবিসি অস্ট্রেলিয়া

একজন সেখানে মন্তব্য করেন, এটাই সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও মিলেনেশিয়া অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ব্যাঙ।

হুগো এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমি প্রথমে মনে করেছিলাম খুব অল্প মানুষ ব্যাঙটি দেখেছেন। কিন্তু পরে খেয়াল করি, অনেক অনেক মানুষ সেটি দেখেছেন।

‘অনেক মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি তো মুগ্ধ হয়ে গেছি।’

সলোমন ও পাপুয়া নিউ গিনি অঞ্চলে এই কর্নুফার গিফি ব্যাঙ বনমোরগ নামেই পরিচিত। স্থানীয় লোকজন এটি শিকার করেন। এ ব্যাঙের মাংসের দাম যেমন বেশি, তেমনি সুস্বাদু।

হুগো বলেন, ‘এটি বনমোরগ এবং খেতে খুবই সুস্বাদু।’

সামাজিক মাধ্যমে এত বড় ব্যাঙ দেখে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করলেও বিশেষজ্ঞরা এর আকার নিয়ে অবাক হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের উভচর ও সরীসৃপ সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানের কিউরেটর জোডি রাওলি বলেন, ‘আমি এর আগে কখনও এতবড় ব্যাঙ দেখিনি। এই আকারের ব্যাঙ পাওয়া খুব অস্বাভাবিক।’

সলোমন দ্বীপপুঞ্জের জীববিজ্ঞানী প্যাট্রিক পিকাচা বলেন, কর্নুফার গ্রিফি বিশ্বের বড় জাতের ব্যাঙগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটির হদিস পাওয়া যায় সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নিউ ব্রিটেনের বিসমার্ক আর্কিপ্লেগোতে।

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

পিপিইর পর বোরকায় সেই যুবক

পিপিইর পর বোরকায় সেই যুবক

মানসিক ভারসাম্যহীন সেই যুবকের পোশাক ঠিক করে দিচ্ছেন সুজন নামের এক ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা

আকাশ জানান, গোপনে ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করা হলেও অনেক ভিউ, শেয়ার হয়েছে। কমেন্টও করেছেন অনেকে। পরে জানতে পারেন সাহায্যকারী ব্যক্তির নাম সুজন। তিনি নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা।

কুড়িয়ে পাওয়া পিপিই পরে ঘুরে বেড়ানো বরিশালের সেই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে এবার দেখা গেছে বোরকায়।

তবে বোরকাটি ঠিকভাবে পরতে না পারায় এক পথচারী মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে সেটি ঠিক করে দিয়েছেন। সঙ্গে থাকা অন্যান্য পোশাকগুলোও ব্যাগে ভরে দেন। এরপর দেন অল্প কিছু টাকাও।

নগরীর নতুনবাজার এলাকার ভূঁইয়া পেট্রল পাম্পের সামনে বুধবার সন্ধ্যার পর এমন দৃশ্যের দেখা মেলে।

এ ঘটনা ভিডিও করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন আকাশ দাস নামের এক যুবক।

ক্যাপশনে লেখেন, ‘আপনার মতো মানুষের দেখা পাওয়া অনেক কষ্টকর ভাইয়া।’

একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের সঙ্গে অপরিচিত সেই ব্যক্তির এমন ব্যবহার অনেকেরই নজর কাড়ে।

নিউজবাংলাকে আকাশ জানান, গোপনে ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করা হলেও অনেক ভিউ, শেয়ার হয়েছে। কমেন্টও করেছেন অনেকে। পরে জানতে পারেন সাহায্যকারী ব্যক্তির নাম সুজন। তিনি নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহৃত পিপিই ও নানা সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় তাকে। এ নিয়ে নিউজবাংলায় একটি সংবাদও প্রকাশ হয়।

এরপর হাসপাতালের করোনা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘এত বড় এই হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নাজুক। সেখানে করপোরেশন বর্জ্য নিতে চাচ্ছে না বলে শুনেছি। তা ছাড়া যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী করোনা ইউনিটে ব্যবহার করছেন, তাদের সেগুলো নিজ দায়িত্বে নষ্ট করা কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা দরকার।

‘তা না হলে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তির মতো অনেকেই সেগুলো কুড়িয়ে নিতে পারেন। এতে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা অনেক।’

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

মেয়ের মরদেহ কাঁধে ৩৫ কিলোমিটার

মেয়ের মরদেহ কাঁধে ৩৫ কিলোমিটার

মেয়ের মরদেহ নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছান বাবা।

হেঁটে মেয়ের লাশ হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে ধীরপতি বলেন, ‘আমরা সকাল ৯টার দিকে হাঁটা শুরু করে হাসপাতালে পৌঁছাই বিকেল ৪টা নাগাদ। খাটিয়ায় মরদেহ তুলে সেটি একটি গাছের ডাল দিয়ে ঘাড়ে করে নিয়ে আসতে হয়েছে। এখন আমার অবস্থাও ভালো না। তবে কারও কাছেই কোনো সহায়তা পাইনি।’

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী আত্মহত্যা করে ৫ মে। খবর পেয়ে পুলিশ রাজ্যের সিংরৌলি জেলার গাধাই গ্রামে সেই বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়।

ময়নাতদন্ত করতে হবে জানিয়ে মেয়েটির পরিবারকে মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে পুলিশ। ওই হাসপাতাল ছিল গাধাই গ্রাম থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে।

পরিবারটির আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, মরদেহ তারা কোনোভাবেই গাড়িতে করে নিতে পারেনি।পুলিশও মরদেহ নেয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় মেয়েটির বাবা ধীরপতি সিং গন্ডকে।

তিনি মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে নেয়ার জন্য অনেকের কাছেই গাড়ি চেয়ে অনুরোধ জানান। কিন্তু কেউ গাড়ির ব্যবস্থা করেনি। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় খাটিয়ায় করে মেয়ের মরদেহ নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন ধীরপতি।

৩৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে পৌঁছাতে তার সাত ঘণ্টা সময় লাগে। তাকে সহায়তা করেন আরও কয়েকজন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিংরৌলি জেলার সেই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

হেঁটে মেয়ের লাশ হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে ধীরপতি বলেন, ‘আমরা সকাল ৯টার দিকে হাঁটা শুরু করে হাসপাতালে পৌঁছাই বিকেল ৪টা নাগাদ। খাটিয়ায় মরদেহ তুলে সেটি একটি গাছের ডাল দিয়ে ঘাড়ে করে নিয়ে আসতে হয়েছে। এখন আমার অবস্থাও ভালো না। তবে কারও কাছেই কোনো সহায়তা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘বাড়ির এক কিলোমিটার দূরেই একটি সড়ক আছে হাসপাতালে যাওয়ার। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল একটি গাড়ির ব্যবস্থা করার।’

এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অরুণ সিং বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে হাসপাতালে বা থানায় নেয়ার জন্য তাদের কাছে কোনো বাজেট নেই। তাই কোনো যানবাহন জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’

প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শবনম ফারিয়া সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়া সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী এই শব্দগুলো নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা এক জন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

‘নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’’

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/nwsbn24 এবং ইমেইল [email protected] এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করানোর লড়াই

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করানোর লড়াই

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করাতে গেলে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করে মা। ছবি: এনডিটিভি

বাবাকে পানি দিতে গেলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকা মেয়েটিকে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তার মা। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করাতে মায়ের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের এক কিশোরীকে।

বাবাকে পানি দিতে গেলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকা মেয়েটিকে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তার মা।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিটি অন্ধ্র প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বিজয়ওয়াড়ায় কাজ করতেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি নিজ গ্রাম শ্রীকাকুলামে ফিরে যান।

আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন স্থানীয় লোকজন। পরে নিজ বাড়ির লোকজনের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাধায় তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে এক কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। কিন্তু ঘরটিতে ছিল না খাবার, পানিসহ প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্র।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পানির জন্য একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে একটি বোতলে পানি নিয়ে বাবাকে পান করাতে যান। সে সময় তার মা পেছন থেকে টেনে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন।

কাছে গেলেই করোনা আক্রান্ত হবে, এমন ভয়েই তার মা টেনে সরাচ্ছিলেন বলে বলতে শোনা যায় ভিডিওতে। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়ে তার বাবাকে পানি পান করাতে সক্ষম হয়।

যে ব্যক্তি ভিডিওটি করেছেন তাকে বলতে শোনা যায়, কোনো হাসপাতালেই আর বেড খালি নেই।

ভিডিও ধারণকারীকে আরও বলতে শোনা যায়, পরিবারের সবাই পজিটিভ হওয়ার পরই ওই ব্যক্তির কাছে গেছেন।

ওই দৃশ্য ধারণ করার কিছু পরই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিটির মৃত্যু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশে বেশ দূরত্ব রেখে অসংখ্য লোকজন মৃত্যুপথযাত্রীকে দেখছেন। দৃশ্য ধারণকারী কিংবা লোকটির পরিবারের সদস্যদের কেউই সহায়তায় এগিয়ে যায়নি।

অন্ধ্র প্রদেশে মঙ্গলবার ২০ হাজার মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে

লাইভের মাঝখানে ঢুকে পড়া মারুফ (বাঁয়ে) এবং তার জখম চোখের ভাইরাল ছবি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়া মারুফকে পরে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর শিশুটিকে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত সপ্তাহে তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

পুরান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকায় এক সাংবাদিকের লাইভের মাঝে ঢুকে পড়ে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা পথশিশু মারুফ এখন আছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকা থেকে গত ২৪ এপ্রিল মারুফকে উদ্ধার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে শিশুটিকে অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

আশ্রয়কেন্দ্রে মারুফ কেমন আছে, তাকে পুনর্বাসনে কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিক- তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অধিদপ্তর ও আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকা থেকে ১৯ এপ্রিল দুপুরে ফেসবুকে লাইভ করেন সময়ের কণ্ঠস্বর নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান প্রতিবেদক পলাশ মল্লিক।

তার কথা বলা প্রায় শেষের দিকে ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে পথশিশু মারুফ। সে বলে ওঠে, ‘এই যে লকডাউন দিছে, মানুষ খাবে কী? সামনে ঈদ। এই যে মাননীয় মন্ত্রী একটা লকডাউন দিছে, এটা ভুয়া। থ্যাঙ্কু।’

পরদিন মারুফের চোখে জখমসহ একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ওই ছবি শেয়ার করে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ তোলেন, লকডাউন নিয়ে সরকারি অবস্থানের বিরোধিতা করার কারণেই তাকে পুলিশ বা ছাত্রলীগ কর্মীরা মারধর করেছে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, মারুফের সঙ্গে তার এলাকার পথশিশুদের মারামারিতেই জখমের ঘটনাটি ঘটে। সাংবাদিক পলাশের লাইভের পরদিন এক ব্যক্তি শিশুটির সঙ্গে আদালত এলাকায় একটি সেলফি তোলেন। সেই সেলফি থেকে শিশুটির ছবিটি কেটে নিয়ে ‘মনগড়া’ অভিযোগ তুলে ভাইরাল করা হয় ফেসবুকে।

আরও পড়ুন: লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়া মারুফকে পরে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর শিশুটিকে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত সপ্তাহে তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে
মারুফকে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের গোদানাইল আশ্রয়কেন্দ্রে

এই আশ্রয়কেন্দ্রের উপপরিচালক কামরুন নাহার আরজু সোমবার নিউজবাংলাকে জানান, অন্য শিশুদের মতোই মারুফকে খাবার, পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

কামরুন নাহার বলেন, ‘এই কেন্দ্রে থাকা ২০৯ শিশুর মতোই মারুফ সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসলামি শিক্ষা (আরবি) পড়ছে। এরপরে সেখান থেকে ফিরে নাস্তা করে তার নির্ধারিত হাউসে থাকছে। সারাদিন খেলাধুলা, পুকুরে সাতার কাঁটা ও আশ্রয়কেন্দ্রের সহপাঠীদের সঙ্গে সময় পার করছে শিশুটি।’

করোনাভাইরাসের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রের স্কুল এখন বন্ধ। কামরুন নাহার জানান, কেন্দ্রে যে নিয়ম রয়েছে সেটি মেনেই শিশুরা ভেতরে চলাফেরা করছে। মারুফও এখানে আসার পর নিয়ম মানছে।

কামরুন নাহার বলেন, ‘ভবঘুরে শিশুদের এখানে রাখা হয়। বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমে তারা এখানে আসে। এই কেন্দ্রে তাদের শিক্ষার পাশাপাশি পরিচর্যা করা হয়। আমরা শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করি। কারও পরিচয় শনাক্ত করা গেলে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।’

এ আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি গেটে ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী দিন-রাত পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

মো. আশিক নামের এক নিরাপত্তাকর্মী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফেসবুকে মারুফকে প্রথম দেখেছি। তবে কখনও সে এখানে আসবে ভাবিনি। এখানে আসার পর মারুফের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে।

‘সোমবার দুপুরেও দেখেছি মারুফ ভেতরে এক সহপাঠীর কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছে। সকালে তাকে খেলতে দেখেছি। এখানে আসার পর তাকে নতুন পোশাক দেয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।’

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে
সাংবাদিক পলাশ মল্লিকের লাইভের মাঝে ঢুকে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে ভাইরাল হয় মারুফ

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান সরদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে মারুফকে এ কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এখানে থাকা অন্য শিশুদের মতো তাকেও যত্ন করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি এখানে তার মানসিক পরিবর্তন পরিবর্তন ঘটবে।’

অন্যদিকে, ঢাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রুকনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে সমাজসেবা আশ্রয়নের আওতায় প্রতিটি শিশু খুব যত্নে থাকে। কারণ যাদের আশ্রয় দেয়া হয়, তারা স্বাভাবিক শিশু নয়, এমনকি স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের পাওয়া যায় না। তাদেরকে আর ১০টা শিশুর মতো গড়ে তুলতে সমাজসেবার লোকজনের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই।

‘শিশু মারুফকেও বাড়তি যত্নের মধ্যে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া তাকে যেন মাদকের নেশা আর তাড়া না করে বেড়ায়, সে জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চার অনুশীলন করানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

শেয়ার করুন