শিশুদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে   জাকারবার্গকে চিঠি

অনলাইনে আসক্ত বিপুলসংখ্যক শিশু সঠিক বয়স লুকিয়ে ব্যবহার করছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জাকারবার্গকে চিঠি

সিসিএফসির মতে, ইনস্টাগ্রামের বর্তমান সংস্করণটিও শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। এতে অ্যাকাউন্ট খুলতে কোটি কোটি শিশু বয়সের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এদের সুরক্ষায় ফেসবুকপ্রধানের এগিয়ে আসা উচিত।

ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর নির্ধারণ করা উচিত বলে মত দিয়েছে একটি অলাভজনক পরামর্শক সংস্থা।

ক্যাম্পেইন ফর আ কমার্শিয়াল-ফ্রি চাইল্ডহুড (সিসিএফসি) নামের সংস্থাটি ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে লেখা চিঠিতে এমন মত দিয়েছে।

চিঠিতে শিশুদের উপযোগী ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাকারবার্গের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে সিসিএফসি জানায়, জনপ্রিয় অ্যাপ ইনস্টাগ্রামের নতুন সংস্করণ ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের উপযোগী হবে বলা হলেও এটি আদতে তাদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে। শৈশব থেকেই তারা স্মার্টফোনে বন্দি হয়ে পড়বে।

গত মাসে বাজফিড নিউজ প্রথম জানায়, কৈশোর না পেরোনো শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রামের একটি সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক।

সিসিএফসি বলছে, ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রচার সবচেয়ে গুরুত্ব পায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি কিশোর-কিশোরীদের ব্যক্তিজীবন এবং সমৃদ্ধি ও বিকাশের পথে আগে থেকেই বড় বাধা।

১৩ বছরে পা রাখার আগে ও পরের সময়ে শিশু-কিশোররা সামাজিক যোগাযোগ, নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝতে শেখে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে অনলাইন জগতে আরও বেশি ঝুঁকে গেলে তারা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হবে।

সিসিএফসির মতে, ইনস্টাগ্রামের বর্তমান সংস্করণটিও শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। এতে অ্যাকাউন্ট খুলতে কোটি কোটি শিশু বয়সের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এদের সুরক্ষায় ফেসবুকপ্রধানের এগিয়ে আসা উচিত।

ইনস্টাগ্রামে কম বয়সীদের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইনে গোপনীয়তা রক্ষাসহ বিভিন্ন আইনের পরিপন্থি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী যে শিশুরা এখনই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে, তারা পরবর্তী সময়ে অ্যাপটির শিশু সংস্করণের সীমিত সুবিধায় আগ্রহী হবে না বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

এতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে শারীরিক স্থূলতা, বিষণ্নতা, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ছে; কমছে মানসিক বিকাশ, আনন্দ-উৎসাহ-উদ্দীপনা আর ঘুমের পরিমাণ। সবগুলোর সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীলতার সম্পৃক্ততা পেয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুবান্ধব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ কিশোর-কিশোরী এসব প্ল্যাটফর্মে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে লাইক কিংবা সামাজিক মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পেতে বিশেষ ভঙ্গিতে সেলফি তোলার মানসিক চাপে থাকে মেয়েশিশুরা।

সিসিএফসির লেখা এ চিঠিতে সই করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড ক্রাইম প্রিভেনশন, নরওয়েজিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি, কনজিউমার ফেডারেশন অব আমেরিকাসহ অর্ধশতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিশু মনোবিজ্ঞানী, মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’

প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শবনম ফারিয়া সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: ‘লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতা’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়া সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী এই শব্দগুলো নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা এক জন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

‘নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’’

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/nwsbn24 এবং ইমেইল [email protected] এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করানোর লড়াই

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করানোর লড়াই

করোনা আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করাতে গেলে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করে মা। ছবি: এনডিটিভি

বাবাকে পানি দিতে গেলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকা মেয়েটিকে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তার মা। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাবাকে পানি পান করাতে মায়ের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের এক কিশোরীকে।

বাবাকে পানি দিতে গেলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকা মেয়েটিকে পেছন থেকে টেনে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তার মা।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিটি অন্ধ্র প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বিজয়ওয়াড়ায় কাজ করতেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনি নিজ গ্রাম শ্রীকাকুলামে ফিরে যান।

আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন স্থানীয় লোকজন। পরে নিজ বাড়ির লোকজনের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বাধায় তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে এক কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। কিন্তু ঘরটিতে ছিল না খাবার, পানিসহ প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্র।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পানির জন্য একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে একটি বোতলে পানি নিয়ে বাবাকে পান করাতে যান। সে সময় তার মা পেছন থেকে টেনে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন।

কাছে গেলেই করোনা আক্রান্ত হবে, এমন ভয়েই তার মা টেনে সরাচ্ছিলেন বলে বলতে শোনা যায় ভিডিওতে। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়ে তার বাবাকে পানি পান করাতে সক্ষম হয়।

যে ব্যক্তি ভিডিওটি করেছেন তাকে বলতে শোনা যায়, কোনো হাসপাতালেই আর বেড খালি নেই।

ভিডিও ধারণকারীকে আরও বলতে শোনা যায়, পরিবারের সবাই পজিটিভ হওয়ার পরই ওই ব্যক্তির কাছে গেছেন।

ওই দৃশ্য ধারণ করার কিছু পরই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিটির মৃত্যু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশে বেশ দূরত্ব রেখে অসংখ্য লোকজন মৃত্যুপথযাত্রীকে দেখছেন। দৃশ্য ধারণকারী কিংবা লোকটির পরিবারের সদস্যদের কেউই সহায়তায় এগিয়ে যায়নি।

অন্ধ্র প্রদেশে মঙ্গলবার ২০ হাজার মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

পিপিই পরে ঘেমে একাকার, ছবি ভাইরাল চিকিৎসকের

পিপিই পরে ঘেমে একাকার, ছবি ভাইরাল চিকিৎসকের

পিপিই খোলার পর ঘেমে একাকার চিকিৎসক সহিল। এ সংক্রান্ত একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি: টুইটার

গুজরাটের তরুণ চিকিৎসক সহিল মাকওয়ানা তার টুইটারে একটি ছবি শেয়ার করেছেন দীর্ঘ সময় পিপিই পরে থাকার। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ১৭ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে।

ভারতের কেরালায় গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথম একজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর শরীরে করোনা ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে দেশটিতে বাড়তেই থাকে সংক্রমণ। এখন ভারতে দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়েছে তিন হাজার। আর শনাক্ত হচ্ছে প্রায় চার লাখ রোগী।

এই মহামারিতে দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা ঠিক রাখতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। এ কাজ করতে গিয়ে তারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পিপিই পরে থাকায় শারীরিকভাবে নানা সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে এই পোশাকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা।

গুজরাটের এক তরুণ চিকিৎসক সহিল মাকওয়ানা তার টুইটারে এমন একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দীর্ঘ সময় পিপিই পরার পর ঘামে ভেজা দেখা যায় তার শার্ট।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই নেট দুনিয়ায় তা ভাইরাল হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ১৭ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে।

জিএমইআরএস মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক সহিল এনডিটিভিকে বলেন, ‘এটি খুবই গরম ও আর্দ্র দিন ছিল। আমি পিপিই পরে রাউন্ড শেষ করে আমার কক্ষে গিয়ে রোগীর ওষুধ লিখি।

‘আমি ভাবলাম, এ সময় একটি ছবি নিই যে, আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা কী কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’

প্রথম ছবিটি সহিলের পিপিই পরা অবস্থার। দ্বিতীয়টি পিপিই ছাড়া। এতে দেখা যায়, ঘামে তার শরীর ভেজার পাশাপাশি চুল ছিঁড়ে গেছে।

তিনি টুইটে লেখেন, ‘দেশের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত।’

এনডিটিভিকে সহিল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর চাপের বিষয়ে বলেন, ‘এত এত চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় যে, আমরা এখন বাড়িতেও যেতে পারি না। বাড়ি গেলেও পরিবারের সবাইকে আক্রান্ত করার শঙ্কা থাকে। আমরা একটা যুদ্ধ করছি; আমরা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারছি না। ‌

‌‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের এখানে কিছুই নেই। আমার মা-বাবা আহমেদাবাদে। আমি সাধারণত প্রায় প্রতি সপ্তাহে সেখানে যেতাম। এখন পারি না।’

সহিল তার কথায় নারী সহকর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘অনেকের ছোট ছোট বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের ছাড়াই তাদের এখানে দিনের পর দিন থাকতে হচ্ছে; এত কষ্ট করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, নারীদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

মহামারিতে সুরক্ষিত থাকতে সহিল লোকজনকে বাসায় অবস্থানের অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে সুযোগ হলেই টিকা নেয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে

লাইভের মাঝখানে ঢুকে পড়া মারুফ (বাঁয়ে) এবং তার জখম চোখের ভাইরাল ছবি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়া মারুফকে পরে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর শিশুটিকে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত সপ্তাহে তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

পুরান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকায় এক সাংবাদিকের লাইভের মাঝে ঢুকে পড়ে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা পথশিশু মারুফ এখন আছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকা থেকে গত ২৪ এপ্রিল মারুফকে উদ্ধার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে শিশুটিকে অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

আশ্রয়কেন্দ্রে মারুফ কেমন আছে, তাকে পুনর্বাসনে কর্তৃপক্ষ কতটা আন্তরিক- তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অধিদপ্তর ও আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকা থেকে ১৯ এপ্রিল দুপুরে ফেসবুকে লাইভ করেন সময়ের কণ্ঠস্বর নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান প্রতিবেদক পলাশ মল্লিক।

তার কথা বলা প্রায় শেষের দিকে ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে পথশিশু মারুফ। সে বলে ওঠে, ‘এই যে লকডাউন দিছে, মানুষ খাবে কী? সামনে ঈদ। এই যে মাননীয় মন্ত্রী একটা লকডাউন দিছে, এটা ভুয়া। থ্যাঙ্কু।’

পরদিন মারুফের চোখে জখমসহ একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ওই ছবি শেয়ার করে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ তোলেন, লকডাউন নিয়ে সরকারি অবস্থানের বিরোধিতা করার কারণেই তাকে পুলিশ বা ছাত্রলীগ কর্মীরা মারধর করেছে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, মারুফের সঙ্গে তার এলাকার পথশিশুদের মারামারিতেই জখমের ঘটনাটি ঘটে। সাংবাদিক পলাশের লাইভের পরদিন এক ব্যক্তি শিশুটির সঙ্গে আদালত এলাকায় একটি সেলফি তোলেন। সেই সেলফি থেকে শিশুটির ছবিটি কেটে নিয়ে ‘মনগড়া’ অভিযোগ তুলে ভাইরাল করা হয় ফেসবুকে।

আরও পড়ুন: লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়া মারুফকে পরে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর শিশুটিকে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত সপ্তাহে তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল আশ্রয়কেন্দ্রে।

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে
মারুফকে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের গোদানাইল আশ্রয়কেন্দ্রে

এই আশ্রয়কেন্দ্রের উপপরিচালক কামরুন নাহার আরজু সোমবার নিউজবাংলাকে জানান, অন্য শিশুদের মতোই মারুফকে খাবার, পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

কামরুন নাহার বলেন, ‘এই কেন্দ্রে থাকা ২০৯ শিশুর মতোই মারুফ সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসলামি শিক্ষা (আরবি) পড়ছে। এরপরে সেখান থেকে ফিরে নাস্তা করে তার নির্ধারিত হাউসে থাকছে। সারাদিন খেলাধুলা, পুকুরে সাতার কাঁটা ও আশ্রয়কেন্দ্রের সহপাঠীদের সঙ্গে সময় পার করছে শিশুটি।’

করোনাভাইরাসের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রের স্কুল এখন বন্ধ। কামরুন নাহার জানান, কেন্দ্রে যে নিয়ম রয়েছে সেটি মেনেই শিশুরা ভেতরে চলাফেরা করছে। মারুফও এখানে আসার পর নিয়ম মানছে।

কামরুন নাহার বলেন, ‘ভবঘুরে শিশুদের এখানে রাখা হয়। বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমে তারা এখানে আসে। এই কেন্দ্রে তাদের শিক্ষার পাশাপাশি পরিচর্যা করা হয়। আমরা শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করি। কারও পরিচয় শনাক্ত করা গেলে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।’

এ আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি গেটে ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী দিন-রাত পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

মো. আশিক নামের এক নিরাপত্তাকর্মী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফেসবুকে মারুফকে প্রথম দেখেছি। তবে কখনও সে এখানে আসবে ভাবিনি। এখানে আসার পর মারুফের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে।

‘সোমবার দুপুরেও দেখেছি মারুফ ভেতরে এক সহপাঠীর কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছে। সকালে তাকে খেলতে দেখেছি। এখানে আসার পর তাকে নতুন পোশাক দেয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।’

ভাইরাল সেই পথশিশু মারুফ এখন হাসছে, খেলছে
সাংবাদিক পলাশ মল্লিকের লাইভের মাঝে ঢুকে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে ভাইরাল হয় মারুফ

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান সরদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে মারুফকে এ কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এখানে থাকা অন্য শিশুদের মতো তাকেও যত্ন করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি এখানে তার মানসিক পরিবর্তন পরিবর্তন ঘটবে।’

অন্যদিকে, ঢাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রুকনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে সমাজসেবা আশ্রয়নের আওতায় প্রতিটি শিশু খুব যত্নে থাকে। কারণ যাদের আশ্রয় দেয়া হয়, তারা স্বাভাবিক শিশু নয়, এমনকি স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের পাওয়া যায় না। তাদেরকে আর ১০টা শিশুর মতো গড়ে তুলতে সমাজসেবার লোকজনের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই।

‘শিশু মারুফকেও বাড়তি যত্নের মধ্যে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া তাকে যেন মাদকের নেশা আর তাড়া না করে বেড়ায়, সে জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চার অনুশীলন করানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

মায়ের জীবন বাঁচাতে মেয়েদের চেষ্টা

মায়ের জীবন বাঁচাতে মেয়েদের চেষ্টা

ফুসফুসে কৃত্রিমভাবে বাতাস দিয়ে মারে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন দুই মেয়ে। ছবি: এনডিটিভি

‌সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে অভিযোগ করতে শোনা যায়, অক্সিজেন-স্বল্পতা ও হাসপাতালে জনবল ঘাটতির কথা।

মায়ের জীবন বাঁচাতে দুই মেয়ে মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া চেষ্টার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলার একটি সরকারি হাসপাতালের। সেখানে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা মায়ের জীবন বাঁচাতে দুই মেয়ে এমন মরিয়া চেষ্টা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে অভিযোগ করতে শোনা যায়, অক্সিজেন-স্বল্পতা ও হাসপাতালে জনবল ঘাটতির কথা।

সাধারণত অজ্ঞান ব্যক্তিদের ফুসফুসে বাতাস পৌঁছে দেয়ার জন্য মুখে মুখ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়।

জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার আহতিশাম আলী বলেন, ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসক তাকে দেখেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে সঙ্গে সঙ্গেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শম্ভু কুমার ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা মেডিক্যাল কলেজে ওই নারীর কাছে পৌঁছান ও পরীক্ষা করেন।

মহারাজ সুহেলদেব মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একে সাহনি রোববার বলেন, ওই নারীকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় বলে তার পরিবার দাবি করে।

সাহনি বলেন, ‘সে সময় তার চিকিৎসা শুরু করা যেত, তবে তিনি তার আগেই মারা যান।’

‘মৃত্যু হলেও তার মেয়েরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় মুখে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।’

সাহনি দাবি করেন, তাদের হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই।

ভারতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে দেশের বেশির ভাগ হাসপাতালে অক্সিজেনের সংকট দেখা দেয়। অক্সিজেন-স্বল্পতায় অনেক হাসপাতালে একসঙ্গে অনেক রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মেডিক্যাল অক্সিজেন তৈরির দেশটি অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন দেশও সাহায্য হিসেবে ভারতে অক্সিজেন পাঠিয়েছে।

তবে ওই নারী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কেউ।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

নয়া দামানের সবশেষ কাভারের গায়িকা তোশিবা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

‘হায়রে হায়রে হায়, ও মুজা খালি গান গাইতে থাকো, সারা সিলেটোর লাগি একটা গান গাও না কেনে বা?’ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এই কথাগুলোর পরই শোনা যায় একটি নারীকণ্ঠ গেয়ে ওঠে, ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা/ বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া/ দামান বও দামান বও।’

‘সারা সিলেটোর লাগি’ গাওয়ার কথা বলা হলেও এই গান আর শুধু ‘সারা সিলেটোর লাগি’ থাকেনি। বরং প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজার সংগীতায়োজনে এই গানটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সিলেট অঞ্চলে গীত হয়ে আসা ‘নয়া দামান’ গানে এখন মজেছে সবাই।

‘নয়া দামানের’ এই পুনর্জাগরণের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেটেরই এক তরুণী। তার কণ্ঠে ভর করেই সিলেট অঞ্চলের এই বিয়ের গানটি এখন ভাইরাল। গানের সঙ্গে সেই তরুণীও এখন সবার পরিচিত। তার নামও আর কারও অজানা নয়। তিনি তোশিবা বেগম।

সিলেটি তরুণী তোশিবা সদ্য এইচএসসি পাস করেছেন। গান গাইতে ভালো লাগলেও শেখা হয়নি কখনো। তবে দরদ দিয়ে গাওয়ায় গানগুলো হৃদয় কাড়ছে সবার। তার গায়কীতে মুগ্ধ শ্রোতারা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কথা হয় তোশিবার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় তার গানের জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প।

তোশিবা জানান, গান না শিখলেও ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে গান করেন। মূলত সিলেট অঞ্চলের লোকগানই করে থাকেন। বছর দুয়েক ধরে ফেসবুকে খালি গলায় গাওয়া নিজের কিছু কিছু গান আপলোড করা শুরু করেন। অনেকে তা পছন্দ করে।

ধীরে ধীরে তার গাওয়া গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর ৭-৮ মাস আগে থেকে টিকটক ব্যবহার শুরু করেন। টিকটকে পছন্দের কিছু গানের ২ থেকে ৩ লাইন গাইতেন। দ্রুতই টিকটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের সেই ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে তোশিবার গাওয়া গানটি। মুজার সংগীতায়োজনে এই গানে বাঁশি বাজিয়েছেন মীম।

তোশিবা বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে ‘আইলারে নয়া দামান’ গানের দুই লাইন গেয়ে টিকটকে দিয়েছিলাম। অনেক মানুষ এটা পছন্দ করে। এটি দেখে মুজা ভাই (প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজা) যোগাযোগ করেন। তিনি তার সঙ্গে এই গানটি করার প্রস্তাব দেন। আমি এতে সম্মত হই।’

মাসখানেক আগে নয়া দামান গানের ‘মুজা ফিচারিং তোশিবা’ ভার্সন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন মুজা।

এরপরের গল্প তো সবার জানা। নেটিজেনদের মাঝে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।

শনিবার পর্যন্ত মুজার ইউটিউব চ্যানেলে এই গান শুনেছেন অর্ধকোটি শ্রোতা। এই গানের সঙ্গে খুলনার এক কনের নাচের ভিডিও ধারণ করে ইউটিউবে আপলোড করে ছায়াছবি নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। সেই ভিডিও দেখেছেন কোটি খানেক দর্শক।

আর করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের ভিডিও তো সবার মোবাইলে মোবাইলে।

আগেকার দিনে শিল্পীদের তারকা হওয়ার মাধ্যম ছিল শুধু রেডিও-টেলিভিশন। জনপ্রিয় শিল্পীদের অনেকগুলো অ্যালবাম বের হতো। বছরজুড়ে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে গান গাইতেন।

কয় বছর আগেও এটিই ছিল বাস্তবতা। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন আর শিল্পী হওয়ার জন্য রেডিও-টেলিভিশনের আশায় বসে থাকতে হয় না, প্রযোজকদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরতে হয় না।

প্রতিভা ও ইচ্ছা থাকলে সহজেই নিজের গান পৌঁছে দিতে পারেন মানুষের কাছে। পেয়ে যেতে পারেন তারকাখ্যাতি।

যেমন, তোশিবার কথাই ধরা যাক। রেডিও-টেলিভিশন তো দূরে থাক, জীবনে কোনো দিন কোনো অনুষ্ঠানেও গান করেননি। বের হয়নি কোনো অ্যালবাম। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তার সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।

তোশিবা বেগম

তোশিবার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। ‘তোশিবা বেগম’ নামের ওই ইউটিউব চ্যানেলে তিনি নিজের গাওয়া গান আপলোড করেন।

এ ছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ইমরানের চ্যানেল ‘মেড ইন বাংলাদেশের’ জন্য ৪-৫টা গান গেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে ‘দুই আনার পিরীত’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তোশিবাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। এখন থাকেন সিলেটের খাদিমপাড়ায়। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেজো তোশিবার লক্ষ্য সিলেটের গান সারা বিশ্বে তুলে ধরা।

তোশিবা বলেন, ‘আমি সিলেটের পুরোনো গানগুলি গাইতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সিলেটের গানের বিপুল ভান্ডার তুলে ধরতে চাই। তবে ঠিক রাখতে চাই মূল সুর ও কথা, যাতে এগুলো বিকৃত হতে হতে হারিয়ে না যায়।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, তোশিবার গাওয়া এই রিমিক্সে তিনি গানের মূল সুর নষ্ট করেছেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি মূল সুর নষ্ট করিনি। রিমিক্স করা হয়েছে কিন্তু গানের সুর ঠিক রাখা হয়েছে।’

হঠাৎ করে পাওয়া এই তারকাখ্যাতি কেমন লাগে জানতে চাইলে তোশিবা বলেন, ‘সবাই নাম জানছে, গান শুনছে, প্রশংসা করছে। এটা ভালো লাগে। তবে আগামীতে আরও ভালো করতে চাই।’

তবে এই গান নিয়ে আক্ষেপও আছে তোশিবার। গানটি তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার নাম তেমন আসছে না।

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে।

‘ছায়াছবির অনেক আগে আমি টিকটকে গানের মাত্র দুই লাইন দিয়েছিলাম। সেটায় দুই লাখ ভিউ হয়েছে। মুজার চ্যানেলেও প্রচুর ভিউ হয়েছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

পুনশ্চ: ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

গত ৩০ এপ্রিল ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে শিরোনামে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে নয়া দামান গানের উৎস, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, সময়কাল এই তথ্যগুলো খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবেদনে লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ ‘গীতিকারের নাম না থাকায় এটি লোকগান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তবে ২০১৩ সালে আমাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মা দিব্যময়ী দাশের রচনা বলে জানিয়েছিলেন। অবশ্য সে গানের কথায় দামান শব্দের বদলে জামাই শব্দ রয়েছে।’

পণ্ডিত রামকানাই দাশের মেয়ে কাবেরী দাশও এমন তথ্য জানিয়েছেন, যা ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রামকানাই দাশের বড় বোন শিল্পী সুষমা দাশ বলেছেন, এই গান কার লেখা তা তিনি জানেন না।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনটি পড়ে শুক্রবার রাতে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন রামকানাই দাশের কানাডাপ্রবাসী ছেলে পিনুসেন দাশ।

তিনি বলেন, ‘এই গানটি আমার ঠাকুরমা দিব্যময়ী দাশের। আমি ছোটবেলা থেকেই এটা শুনে আসছি। আমার বাবা রামকানাই দাশ বিভিন্ন বই ও সাক্ষাৎকারে তা বলে গেছেন। বাবা গীতিকার হিসেবে দিব্যময়ী দাশের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন জায়গায় এই গান গেয়েছেনও। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক বা কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।’

দিব্যময়ী দাশের মেয়ে সুষমা দাশের না জানা প্রসঙ্গে পিনুসেন বলেন, ‘তার (সুষমা দাশ) অনেক ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়। এরপর তিনি স্বামীর বাড়ি চলে যান। ফলে ঠাকুরমার সব গান সম্পর্কে তিনি না-ও জানতে পারেন। এ ছাড়া ঠাকুরমার গানগুলো আমার বাবাই খুঁজে খুঁজে বের করেছেন।’

নিজের বড় বোনের বরাত দিয়ে পিনুসেন বলেন, ‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। তবে আমার বড় বোনের কাছে শুনেছি, আমার বাবার ছাত্রী এয়ারুন্নেছা খানম আমাদের বাড়ি থেকে গানটি নিয়ে এসে রেডিওতে গেয়েছিলেন।’

সুমনকুমার দাশকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রামকানাই দাশ বলেছেন, দিব্যময়ী দাশের লেখা গানের প্রথম লাইন ছিল ‘আইলারে নয়া জামাই’। এয়ারুন্নেছা গেয়েছেন ‘আইলারে নয়া দামান’। বর্তমানে দামান শব্দটিই গানে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

শব্দ বদলে ফেলা হলেও তখন কেন কোনো প্রতিবাদ করা হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিনুসেন বলেন, ‘তখন বাবা আপত্তি করেছিলেন। তবে আরও জোরালো প্রতিবাদ করা দরকার ছিল।’

রেডিওর আর্কাইভে এই গানের গীতিকারের জায়গায় সংগৃহীত লেখা থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেডিওর তালিকাভুক্ত না হলে গীতিকারের নাম লেখা থাকে না।’

তোশিবাও বলেন, ‘এই গানটি দিব্যময়ীর বলে আমি শুনেছি। গান গাওয়ার সময় তার নাম উল্লেখ করা উচিত।’

তবে তোশিবাও জামাইয়ের পরিবর্তে দামান শব্দ ব্যবহার করেই গান গেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন

মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

ইন্দোনেশিয়ায় মাস্ক পরা নিয়ে প্র্যাংক করায় দুই বিদেশিকে দেশত্যাগের আদেশ

ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নির্দেশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পাসপোর্ট জব্দ করেছে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালিতে এক বিদেশি তরুণী মজার ছলে সুপারমার্কেটে প্রবেশ করেছিলেন মাস্কের আদলে মুখে রং মেখে। সঙ্গে থাকা তার বন্ধুর ধারণ করা মোবাইল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ওঠে সমালোচনার ঝড়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

ভাইস ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানিজ-আমেরিকান তরুণ জোস প্যালের লিন ও রুশ তরুণী লিয়া সি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, লিয়া সির মুখে শুরুতে কোনো মাস্ক ছিল না। এ কারণে তিনি একটি সুপারমার্কেটে ঢুকতে ব্যর্থ হন।

তবে এরপর সার্জিক্যাল মাস্কের আদলে নাক থেকে চিবুক পর্যন্ত হালকা নীল রঙ করে সুপারমার্কেটে ঢোকেন লিয়া সি। বিষয়টি কারও চোখে ধরা পড়ছে কিনা, মজা করে সেটাই যাচাই করতে চেয়েছিলেন তিনি ও তার বন্ধু।

সুপারশপে প্রবেশের পর তাদের ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁকা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছেন তারা।

ভিডিওতে লিন মজা করে হাঁটতে হাঁটতে বলেন, ‘তুমি কি খেয়াল করেছ যে তোমাকে কেউ আলাদাভাবে খেয়াল করছে না?’

উত্তরে সি বলেন, ‘একদম আসল মাস্কের মতো করেই মাস্ক এঁকেছি যে!’

প্রতিক্রিয়ায় লিন বলেন, ‘কেউ বোঝেনি যে এটা আসল মাস্ক নয়। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীরাও। অবিশ্বাস্য ঘটনা!’

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত, তখন স্বাভাবিকভাবেই এমন মজা ভালোভাবে নেননি বেশিরভাগ মানুষ।

তুমুল বিতর্কের মুখে ইউটিউব থেকে ভিডিও ক্লিপটি মুছে দিয়েছেন লিন ও সি। তবে এর পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাদের।

ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নির্দেশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পাসপোর্ট জব্দ করেছে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় বালির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজ দেশের বা বিদেশি- কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেই এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ প্রত্যাশিত নয়। জনস্বাস্থ্য ও অন্যদের সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যে কাউকে প্রয়োজনে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেবে কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ব্যবস্থা আগেও নিয়েছি আমরা। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও নেব।’

বিষয়টি নিয়ে ছবি ও সংক্ষিপ্ত ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন লিন ও সি। মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা দুজনেই ক্ষমা চেয়েছেন।

লিন জানান, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে মানুষকে বিনোদন দেয়াই তার কাজ।

আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি যে বিষয়টি এতোটা নেতিবাচক মন্তব্য উস্কে দেবে। আমরা ক্ষমা চেয়েছি। প্রতিজ্ঞা করছি যে ভবিষ্যতে আর এমন করব না। বরং মাস্ক পরায় উৎসাহিত করছি।’

তবে এতেও নমনীয় হয়নি ইন্দোনেশীয় প্রশাসন। দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যাদের কাছে মজার বিষয়, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৫২১ জনের।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

শেয়ার করুন