‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

player
‘সাইবার হয়রানি’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এর চতুর্থ পর্ব প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় প্রতি শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

এবারের পর্বের বিষয় ‘সাইবার হয়রানি’। এ নিয়ে আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী এই শব্দগুলো নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

‘নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’’

অনুষ্ঠান চলাকালে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে সরাসরি ফোন করতে পারবেন দর্শকেরা। এ ছাড়াও যে কোনো সময়ে ফোন করে সমস্যা জানাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ www.facebook.com/nwsbn24 এবং ইমেইল [email protected] এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করাপশন ইন মিডিয়ায় অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টের রুল

করাপশন ইন মিডিয়ায় অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টের রুল

আইনজীবী নিগার সুলতানা বলেন, ‘দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে করাপশন ইন মিডিয়া নিউজ করেছে। লন্ডন থেকে সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এটি করেছেন বলে জেনেছি। তার কার্যকলাপ বন্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে।’

দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত করাপশন ইন মিডিয়া পেজে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে অপপ্রচার বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুলে দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদককে নিয়ে সম্প্রতি প্রচার করা মানহানিকর ভিডিও সাত দিনের মধ্যে অপসারণে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিগার সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।

আইনজীবী নিগার সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক কাজী এরতেজা হাসানের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে করাপশন ইন মিডিয়া নিউজ করেছে। লন্ডন থেকে সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এটি করেছেন বলে জেনেছি। তার কার্যকলাপ বন্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে বিটিআরসিতে দেয়া এ বিষয়ের আবেদনটি সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে।’

রুলের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্যসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট নয়জনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?

বাসে এক যাত্রীর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে আসেন ফাতেমা তুজ জোহরা রিপা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

ফেসবুকে ভাইরাল বাসযাত্রী নারীর নাম ফাতেমা তুজ জোহরা রিপা। বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। রিপা রামগঞ্জ মডেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক রিপা ২১ জানুয়ারি রাতে রামগঞ্জ থেকে ঢাকা আসছিলেন। এ সময় ঘটে আলোচিত ওই ঘটনা।

বাসের মধ্যে ‘সরকারবিরোধী মন্তব্য’ করার জের ধরে দুই পুরুষ যাত্রীর সঙ্গে এক নারীর তীব্র বিতণ্ডার ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।

ফেসবুক লাইভে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, সরকারের সমালোচনা তিনি সহ্য করবেন না। যারা এটা করছেন তাদের সবাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে। বাসের অনেকে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিওর একপর্যায়ে বাসের আরও কয়েকজন যাত্রীকে ওই নারীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়।

পরে বাসের যাত্রাবিরতিতে ‘সরকারের সমালোচনাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত বাসযাত্রী আরেকটি ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার রেশ শেষ পর্যন্ত পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। পুলিশ বাস থামিয়ে সবার বক্তব্য নিয়েছে এবং ওই নারী ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

সেই রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকামুখী বাসে প্রকৃতপক্ষ কী ঘটেছিল, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে উত্তেজিত যে নারীকে দেখা গেছে, তার পরিচয়ও খোঁজা হয়েছে।

এতে বেরিয়ে এসেছে আলোচিত ওই নারীর নাম ফাতেমা তুজ জোহরা রিপা। বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। রিপা রামগঞ্জ মডেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী ফাতেমা তুজ জোহরা রিপা

উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক রিপা বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকাতেই থাকেন। গত ২১ জানুয়ারি রাতে রামগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার সময় ঘটে আলোচিত ওই ঘটনা।

এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাতে লাঠিসহ রিপার একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সে সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের হামলায় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরুসহ ২৫ জন আহত হন। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক রিপা অংশ নেন সেই হামলায়।

এ ছাড়া ২০১৯ সালের এপ্রিলে রামগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপির সঙ্গে সভামঞ্চে ওঠা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নেমে যেতে বলা হয়। রিপা নামতে রাজি না হলেও পরে তাকে বাধ্য করা হয়। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করে ভাইরাল হয়েছিলেন রিপা।

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
রামগঞ্জে ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার পর রিপার কান্নার লাইভ ফেসবুকে ভাইরাল হয়

বারবার বিভিন্ন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়া রিপা কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে। গত ২১ জানুয়ারি বাসে কী ঘটেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। রিপার দাবি, পুলিশ আসার পর তিনি ক্ষমা চাননি, উল্টো অভিযুক্ত যাত্রী ভুল স্বীকার করেছেন।

নিউজবাংলা কার্যালয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাসে উত্তেজিত হওয়ার কারণ তুলে ধরেন এই তরুণী। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাস চলার সময় আমার পাশের সিটের যাত্রী ফোনে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সরকারকে নিয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে, আমি যেহেতু ছাত্রলীগ করি আমার খারাপ লাগবেই।

‘তিনি (পাশের যাত্রী) ফোনটা রাখার পরে আরও বাজে ভাষায় কথা বললেন। শেখ হাসিনা আপাকে নিয়ে আরও নোংরা ভাষায় কথা বলেছেন। তখন আমি আমার রাগটা কন্ট্রোল করতে পারিনি। আমি প্রতিবাদ করেছি, ফোনে লাইভ দিয়েছি।’

রিপা বলেন, ‘সরকারের বদনাম যেখানে হয়, সব সময় আমি প্রতিবাদ করি। আমি নতুন প্রতিবাদ করিনি, আগেও করেছি, এখনও করছি, ভবিষ্যতেও করব। সরকারকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার স্বাধীনতা মানুষের আছে কিন্তু কাউকে নিয়ে খুবই নোংরা ভাষায় কথা কেউ বলতে পারে না। সে জন্যই আমি প্রতিবাদটা করেছি।’

পাশের সারির আসনে বসা যাত্রী ফোনে কথা বলার সময় কীভাবে শুনলেন- এমন প্রশ্নে রিপার জবাব, ‘এটা তো পাবলিক প্লেস, এখানে তো ফোনের কথা শোনা যাবেই, পাশের সিট যেহেতু আমি তো শুনবই।’

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
বাসে ফেসবুক লাইভে উত্তেজিত রিপা

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করছেন। তবে রিপার দাবি, এতে তার বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়নি।

কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় ভাইরাল হলে সেটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হবেই। আর বিরোধী দল তো সেটা নিয়ে সমালোচনা করবেই। জামায়াত-শিবির-বিএনপি এরা তো সমালোচনা করবেই।

‘আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে। কখনও কোনো সরকার এত উন্নয়ন করেনি। এত উন্নয়ন ভোগ করে, এত সুবিধা ভোগ করে সরকারের বদনাম করা বা সরকারকে নিয়ে নোংরা ভাষায় মন্তব্য করা ঠিক না।’

ফেসবুক লাইভে বাসের যাত্রীদের জামায়াত-শিবির-বিএনপির সমর্থক আখ্যায়িত করার কারণ জানতে চাইলে রিপা বলেন, ‘আমি সবাইকে জামায়াত-শিবির বলিনি, যারা আমার সঙ্গে বাসের মধ্যে ঝগড়া করেছিল তাদেরকে বলেছি।’

‘আমার পাশের সিটে যে লোকটা নেত্রীর বদনাম করছিল, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কেন সরকারের বদনাম করছেন, নোংরা ভাষায় কেন কথা বলছেন? এ সময় তার পিছনের সিটে একজন হুজুর ছিলেন, তিনি লাফিয়ে উঠে আমাকে খারাপ ভাষায় গালমন্দ করছিলেন। আমি তাকে বললাম আমি তো আপনার সঙ্গে কথা বলছি না, যিনি সরকারের বদনাম করেছেন ওনার সঙ্গে কথা বলছি। এতে আপনার সমস্যা কী, কিন্তু উনি খারাপ ভাষায় আমার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছিলেন পেছন থেকে।’

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
নিউজবাংলা কার্যালয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা রিপা

বাসের আরও কয়েক যাত্রী বিতণ্ডায় যোগ দিয়েছিলেন দাবি করে রিপা বলেন, ‘আরেকটা ছেলে ছিল, সেও আমাকে গালমন্দ করছিল। আমার মনেই হয়েছিল ওনারা বিএনপি। ওনারাও বললেন আমরাও ছাত্রলীগ করতাম একসময়, আমরাও আওয়ামী লীগ করতাম, আসলে কিন্তু ভুল। কোনো ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ সমর্থক জননেত্রী শেখ হাসিনার বদনাম করতে পারেন না, নোংরা ভাষায় গালি সাপোর্ট করতে পারেন না।’

ভিডিওতে প্রাণ হারানোর শঙ্কা জানানোর কারণ জানতে চাইলে রিপা বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল তারা তিনজন পুরুষ। তারা পরবর্তীতে একত্রিত হয়ে আমার ওপর হামলা করবেন এবং ওনারা বলেছিলেন যে বাসের লাইটটা বন্ধ করে দেন। তখন আমার খারাপ লেগেছিল। আমি একজন নারী, বাসের ভেতরে এত পুরুষের মধ্যে লাইটটা বন্ধ করে দেয়া কি ঠিক হবে!

‘পরবর্তীতে ওনারা বাসের হেলপারকে বলেছিলেন ওনার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে যান এবং লাইটটা বন্ধ করে দিয়ে যান। এটাও বলেছিলেন এটাকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেন এবং ওনারা আমাকে ধাক্কা দিতেও এসেছিলেন। ওনারা আমার সঙ্গে খুবই নোংরা ভাষায় গালমন্দ করেছিলেন। তখনই আমার মনে হয়েছিল আমার ওপর একটা হামলা হতে পারে।’

নিজের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিয়ে রিপা বলেন, ‘আপনারা জানেন বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে শিবির-বিএনপি-জামায়াত এরা সরকারের বদনাম করে। তাদের অভ্যাসই হলো বদনাম করা, তাই আমরা প্রতিবাদ করলে এই বদনামগুলো করতে পারবে না। আমি প্রতিবাদ করেছি, কাল আবার আরেকজন প্রতিবাদ করবেন। এভাবে প্রতিবাদ করলে তারা আর বদনাম করতে পারবে না। আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত।’

লাইভ শেষ করার পরের ঘটনা জানিয়ে রিপা বলেন, ‘যখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম তারা আমার হাত থেকে ফোনটা টেনে নিয়ে যাবে এবং আমাকে আক্রমণ করার সম্ভাবনা আছে, তখন লাইভটা কেটে দিয়েছি। এরপর আমি ট্রিপল নাইনে কল করেছি।

‘লাইভটা দেখার পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সোহেল রানা শান্ত ভাইও ট্রিপল নাইনে কল করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে ফোন দিয়েছিলেন আমার নিরাপত্তার স্বার্থে।’

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?

৯৯৯-এ কল করার পর লালমাই হাইওয়ে পুলিশ বাসটি থামায় বলে জানান রিপা।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ রাস্তার পাশে তেলের পাম্পে গাড়িটি দাঁড় করিয়ে ওই যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমাকেও করেছিল। আমি কে বা কোথা থেকে এসেছি- জানতে চেয়েছে। এটা ওনারা জানতে চাইতেই পারেন। যারা ছিল সবাইকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। একপর্যায়ে ওনারা (বাসের কয়েক যাত্রী) ক্ষমা চেয়েছেন।’

রিপা বলেন, ‘পরে পুলিশ বলল, আপনি ভিডিওটা ডিলিট করে দেন। যেহেতু ওনারা ক্ষমা চেয়েছেন, আপনিও ক্ষমা করে দেন। আমি তখন ভাবলাম, ক্ষমা করে দেই, ভুল তো মানুষেরই হয়। ওনারা বলেছেন, পরবর্তীতে এই ভুল হবে না, তারা সরকারের বদনাম করবেন না।’

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
বাসের যাত্রাবিরতির সময় ফেসবুকে পাল্টা লাইভ করেন রিপার পাশের যাত্রী

ভাইরাল হতে এমন লাইভের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিপা বলেন, ‘যারা বলছেন, আমি ভাইরাল হওয়ার জন্য এমন ভিডিও করেছি তারা ভুল বলছেন। আমি ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবির-ছাত্রদল ঠেকানোর জন্য লাঠি হাতে নিয়েছিলাম। তখনও ভাইরাল হয়েছি। তবে আমার ভাইরাল হওয়ার কোনো শখ নেই। আমি প্রতিবাদ করি, প্রতিবাদী মেয়ে। আগেও প্রতিবাদ করতাম।’

২০১৯ সালের ঘটনা নিয়ে রিপা বলেন, ‘ডাকসুতে ভিপি নুরুর সঙ্গে ছাত্রদল-শিবিরের কিছু ছেলে ছিল। ওনারা ওখানে ৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার বলে স্লোগান দিচ্ছিল। আসলে ৭৫-এর হাতিয়ার বললে আমাদের কষ্ট হয়, আমাদের খারাপ লাগে। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, ছাত্রলীগ করি আমাদের খারাপ লাগবেই।

‘এ সময় দুই পক্ষই স্লোগান দিচ্ছিল। ওনারা আমাদের ওপর প্রথম হামলা করেন। তারাই আগে লাঠি হাতে নিয়েছিলেন, পরে আমিও লাঠি হাতে নিয়েছিলাম। আমি লাঠি হাতে নিয়েছিলাম ছাত্রদলকে ঠেকাব বলে। ওখানে আমি একা মেয়ে ছিলাম, তাই নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি লাঠি হাতে নিয়েছিলাম।’

বাসে ‘সরকারবিরোধী’ যাত্রীতে কেন ক্রুদ্ধ রিপা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাঠি হাতে রিপার ছবি ভাইরাল হয় ২০১৯ সালে

বাসে ভাইরাল ভিডিওর পাশাপাশি ‘আহত রিপার’ একটি ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে। সেই ছবি দিয়ে অনেকের দাবি, সেদিন বাসে হামলার শিকার হন রিপা।

তবে রিপা জানান ছবিটি কয়েক মাস আগের। তিনি বলেন, ‘এটা ২০২১ সালের অক্টোবরের ২১ তারিখের ছবি। আমি খাগড়াছড়িতে গিয়েছিলাম। তখন এক ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায়। সেই ঘটনার ছবি দিয়ে এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

(লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকামুখী বাসে রিপার সহযাত্রীর পরিচয় ও তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তবে সোমবার পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। ওই যাত্রীর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। পাঠকের কাছে তার পরিচয় ও অবস্থানের তথ্য থাকলে জানানোর অনুরোধ করছে নিউজবাংলা কর্তৃপক্ষ।)

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একযোগে পদত্যাগের হুমকির তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে। এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। এর মধ্যে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে।

এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক শরিফুল হাসান তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে শনিবার বিকেলে লিখেছেন, ‘৩৪ জন একযোগে পদত্যাগ করলে এই জাতি খুব খুশি হবে। কিন্তু ৩৪ জন তো দূরের কথা, একজনও পদত্যাগ করবেন না। বরং যেকোনো মূল্যে পদে থাকতে এরা কী করেন, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। এদের মতো আত্মমর্যাদাহীন খুব কম আছে। মর্যাদা থাকলে এরা নিজেরাই চলে যেতেন!’

একযোগে উপাচার্যদের পদত্যাগের হুমকির তথ্যের উৎস জানতে চাইলে শরিফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক সুপন রায়। এরপর সেই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকম শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সুপন রায়ের স্ট্যাটাস ও আমাদের সময় ডটকমের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
ফেসবুকে সাংবাদিক সুপন রায়ের স্ট্যাটাস

সাংবাদিক সুপন রায় ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসটি দেন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে। এতে তিনি লেখেন, ‘৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করবেন! প্রচণ্ড অস্বস্তিতে আছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় আজ ৩৪ উপাচার্য একত্রে বসেছেন। বক্তব্য রেখেছেন ২২ জন। সম্মানজনক সমাধান জরুরি।’

সুপন রায়ের এই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২৯ মিনিটে ‘সুপন রায়: ৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করব!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমাদের সময় ডটকম। এই প্রতিবেদনে সুপন রায়ের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য এতে নেই।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
সুপন রায়ের স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এর পরই বিষয়টি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে। সংবাদকর্মী মুকিমুল আহসান হিমেল ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘৩৪ জন ফরিদ নাকি এক হয়েছিলেন ভার্চুয়ালি। ঐতিহাসিক এই ফরিদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত- পদত্যাগ করতে হলে ৩৪ জন উপাচার্য একসাথেই করবেন। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা ফরিদের তরে!’

কাজল দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘কত বড় কালপ্রিটরা এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় চালায় দেখেন। ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন, সাস্টের ভিসির পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। দরকার হলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন। কীভাবে এরা ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন, একবার ভাবেন। দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এখন আন্দোলনে নামা উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাল, ডাল কিংবা গার্মেন্টস মালিকদের সিন্ডিকেইটবাজির বিষয় নয়। এইসব মাফিয়া ভিসির হাত থেকে ক্যাম্পাস সুরক্ষা করতে গণজোয়ারের বিকল্প নেই।’

রাজু নুরুল নামে একজন লিখেছেন, ‘শাহজালালের ভিসিকে পদত্যাগ করতে হলে নাকি ৩৪ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একযোগে পদত্যাগ করবেন। এটা শোনার পর থেকে আমি শুধু নিলুফার ইয়াসমিনের গাওয়া সেই গানটাই বারবার শুনছি- এত সুখ সইবো কেমন করে...’

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
৩৪ উপাচার্যের একযোগে পদত্যাগের গুজব ছড়িয়েছে ফেসবুকে

তবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দাবি, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান তারা নেননি।

উপাচার্যদের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ৩৪ জন উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি বা এ বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’

ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই বৈঠকে ছিলাম। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমানও ছিলেন ওই বৈঠকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল কি পরশু বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের একটি সভা হয়েছিল। তবে আমি মিটিংয়ের একদম শেষে জয়েন করেছি।’

৩৪ উপাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। সবার শেষে জয়েন করাতে অনেকের বক্তব্যও শুনতে পাইনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো মিটিংয়ে ছিলাম না। এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তো আমাকে জানানো হতো।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সভার আমন্ত্রণ পেয়েছি। তবে অসুস্থ থাকায় উপস্থিত ছিলাম না।’

সংবাদিক সুপন রায় কোন উৎস থেকে এমন তথ্য পেলেন তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রজাতির বসবাস প্রবাল প্রাচীরে। তাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রবাল প্রাচীরকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। সামুদ্রিক দূষণ ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রবাল প্রাচীরগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতিমধ্যে প্রবাল প্রাচীরের সুরক্ষায় বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

আর এই সিদ্ধান্তকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। তিনি এক টুইটবার্তায় লেখেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশে নতুন প্রতিষ্ঠিত সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করায় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায় ও এনজিওগুলোকে ধন্যবাদ। এটি জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে এবং যেটি বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপের প্রাণীদের মূল আবাসস্থল হবে।

উল্লেখ্য, হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও।

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধে পদক্ষেপ নিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধে পদক্ষেপ নিন

ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

গুজব নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যদি গত সাত-আট বছরের পরিসংখ্যান দেখি, তাহলে দেখতে পাই, আমাদের দেশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, গুজব রটেছে, রটানো হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তার প্রায় সবগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা সে বিষয়টি তুলে ধরেছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি রোধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন চলছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, জেলা প্রশাসকরা হচ্ছেন মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমেই সরকারি সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসক সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘আজকে যে সেশনটি একটু আগে শেষ করলাম, সেখানে যে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে, তার মধ্যে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্রায় ৯ কোটি মানুষ ব্যবহার করে। সেটি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন প্রচারের বড় ক্ষেত্র, তেমনি অপপ্রচার রটানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় ক্ষেত্র।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যদি গত সাত-আট বছরের পরিসংখ্যান দেখি, তাহলে দেখতে পাই, আমাদের দেশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, গুজব রটেছে, রটানো হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তার প্রায় সবগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা সে বিষয়টি তুলে ধরেছি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় নানা বিভ্রান্তিমূলক খবর পরিবেশন করে। সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা করা হয়। সে বিষয়গুলো ডিসিদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তারা যেন এসব বিষয়ে তৎপর থাকেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

ব্রিফিংয়ে সম্প্রচার নীতিমালা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো আইপিটিভি বা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কেউ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে না, কিন্তু দেখা যায় আইপিটিভির মাধ্যমে এখনও কোনো কোনো জায়গায় খবর পরিবেশন করা হচ্ছে। নিয়মিত সংবাদ বুলেটিন পরিবেশন করা হয় এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমেও সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা হচ্ছে।

‘এটি আমাদের সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী করতে পারে না; যে সম্প্রচার নীতিমালা আমাদের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসকদের কাছে সেসব কথা বলেছি। অনেকগুলো আইপিটিভি দেখা যায় যে, স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয়। মানুষ তাদেরকে চিনে এবং তারা নিয়মিত খবর প্রচার করছে। তারা তো সেটা পারে না। আমরা জেলা প্রশাসকদের বলেছি যেটি, সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী তারা পারেন না; তারা যেন এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

বিদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচার (ক্লিনফিড) বাস্তবায়ন করায় ডিসিদের ধন্যবাদ জানান তথ্যমন্ত্রী।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের আমি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে ধন্যবাদ জানিয়েছি। গত বছরের অক্টোবর থেকে ক্লিনফিড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা যেভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। এখনও তাদের এ বিষয়ে নজর রাখতে বলেছি।

‘বিশেষ করে ক্যাবল নেটওয়ার্ক যারা পরিচালনা করে, তারা যেন কোনোভাবে স্থানীয় চ্যানেল হিসেবে টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন প্রচার না করে; সেসব বিষয় যেন জেলা প্রশাসকরা নজরে রাখেন।’

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

প্রেমিকার মাকে কিডনি দিয়েও টিকল না সম্পর্ক

প্রেমিকার মাকে কিডনি দিয়েও টিকল না সম্পর্ক

উজেইল মার্টিনেজ। ছবি: সংগৃহীত

টিকটকে কয়েকটি ভিডিও আপলোড করে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন মার্টিনেজ। বলেন, ‘সম্পর্কে আমার মতো ভুল যেন কেউ না করেন। মানুষের দুইটা কিডনি থাকে, আমার এখন একটা। বিষয়টা সব সময় অনুভব করি।’

প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকাকে। তার কষ্ট মেনে নিতে পারতেন না মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা উজেইল মার্টিনেজ। আবেগি মার্টিনেজ একদিন জানতে পারেন প্রেমিকার মা ভুগছেন কিডনি জটিলতায়।

সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি পেশায় শিক্ষক মার্টিনেজ। নিজের একটি কিডনি দান করেন প্রেমিকার মাকে। জীবন ফিরে পান ওই নারী।

কিন্তু এত সব করেও প্রেমিকার মন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কিডনি দানের এক মাসের মধ্যে ব্রেকআপ হয়ে যায় তাদের।

মার্টিনেজের দাবি, সিদ্ধান্তটা তিনি নন, নিয়েছিলেন তার প্রেমিকা। এর কিছুদিনের মধ্যে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মার্টিনেজের সাবেক প্রেমিকা।

দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, টিকটকে কয়েকটি ভিডিও আপলোড করে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন মার্টিনেজ।

তিনি বলেন, 'সম্পর্কে আমার মতো ভুল যেন কেউ না করেন। মানুষের দুইটা কিডনি থাকে, আমার এখন একটা। বিষয়টা সব সময় অনুভব করি।’

মার্টিনেজের ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়েছে। এরই মধ্যে দেখা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। সেখানে সহমর্মিতা জানিয়েছেন অনেকেই। পরামর্শ দিয়েছেন, উপযুক্ত কাউকে বেছে নিয়ে জীবনকে এগিয়ে নিতে।

মেক্সিকোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ফলাও করে ছাপা হয়েছে মার্টিনেজের গল্প।

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন

ফেসবুকে তসলিমা ‘মৃত’, টুইটারে ক্ষোভ

ফেসবুকে তসলিমা ‘মৃত’, টুইটারে ক্ষোভ

মঙ্গলবার তসলিমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রিমেমবারিং দেখাচ্ছে।

ফেসবুকে একটি অপশন রয়েছে যার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের মালিক একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারবেন, যাতে তিনি মারা গেলে সেটা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়। আর তার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই ফেসবুক ‘রিমেমবারিং’ অপশনটি চালু করে দেয়। যাতে ফ্রেন্ডলিস্ট ও ফলোয়ারে থাকা সবাই তার মৃত্যু সম্পর্কে জানতে পারে।

আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট জানাচ্ছে তিনি মারা গেছেন। তার আইডিতে ‘রিমেম্বারিং’ লিখে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। কারও মৃত্যু হলে এই ব্যবস্থা নেয় তারা।

বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে ঝড় তোলার মধ্যেই তসলিমা সামাজিক যোগাযোগের আরেক মাধ্যম টুইটারে বক্তব্য দিয়ে তসলিমা জানান, তিনি বেঁচে আছেন বেশ ভালোভাবেই।

মঙ্গলবার তসলিমা নাসরিনের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টের টাইমলাইনে যেতে দেখা যায়, রিমেমবারিং দেখাচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওই অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গেছেন।

ফেসবুকে একটি অপশন রয়েছে যার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের মালিক একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারবেন, যাতে তিনি মারা গেলে সেটা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়। আর তার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েই ফেসবুক ‘রিমেমবারিং’ অপশনটি চালু করে দেয়। যাতে ফ্রেন্ডলিস্ট ও ফলোয়ারে থাকা সবাই তার মৃত্যু সম্পর্কে জানতে পারে।

তবে তার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে গিয়ে অবশ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি বেঁচে আছেন। বরং ফেসবুককাণ্ডে ক্ষোভ ঝেরেছেন।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে একটি টুইটে তিনি লিখেন, ‘@Meta @fbsecurity @facebookapp @MetaNewsroom @Facebook আমি বেঁচে বর্তে আছি। কিন্তু তুমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে স্মরণীয় করে ফেলেছ। কী এক বিষাদময় খবর! কীভাবে তুমি এটা করতে পারলে? দয়া করে, আমার অ্যাকাউন্ট আমাকে ফিরিয়ে দাও।’

ফেসবুকে তসলিমা ‘মৃত’, টুইটারে ক্ষোভ
ফেসবুকের সমালোচনা করে তসলিমার টুইট

এর এক ঘণ্টা আগে ফেসবুকের এমন আচরণের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে আরও একটি টুইট করেন তসলিমা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘#ফেসবুক আমাকে হত্যা করেছে। আমি জীবিত। এমনকি আমি অসুস্থও না, শয্যাশায়ীও না, হাসপাতালেও ভর্তি হইনি। কিন্তু আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মেমোরিয়ালাইজড করে ফেলেছে ফেসবুক।’

নারী অধিকার ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য ও বই লিখে আলোচিত তসলিমা নিজের দেশ থেকে বহু দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সামাজিকমাধ্যমের সুবাদে তার নানা বক্তব্য ও অবস্থান গোপন থাকছে না মোটেও।

তসলিমার বিষয়ে তার বিরোধীরাও তুমুল আগ্রহ বোধ করেন। তিনি কোনো বক্তব্য দিলেই সেটি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

আগের দিন রাতে তসলিমা এক স্ট্যাটাসে তার মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছিলেন। জানিয়ে রাখেন, মৃত্যুর পর তার দেহ ব্যবহার হবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায়।

মৃত্যু নিয়ে আগের দিনের স্ট্যাটাস

তসলিমার আইডি রিমেমবারিংয়ে দেয়ার পর তার মৃত্যুর গুঞ্জন আরও ছড়িয়ে যাওয়ার কারণ আগের দিন ফেসবুকে তার দেয়া একটি স্ট্যাটাস।

সেদিন তিনি লেখেন, ‘আমি চাই আমার মৃত্যুর খবর প্রচার হোক চারদিকে। প্রচার হোক যে আমি আমার মরণোত্তর দেহ দান করেছি হাসপাতালে, বিজ্ঞান গবেষণার কাজে। কিছু অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কারও জীবন বাঁচুক। কারও চোখ আলো পাক। প্রচার হোক, কিছু মানুষও যেন প্রেরণা পায় মরণোত্তর দেহ দানে।

‘অনেকে কবর হোক চান, পুড়ে যাক চান, কেউ কেউ চান তাঁদের শরীর পোড়া ছাই প্রিয় কোনো জায়গায় যেন ছড়িয়ে দেয়া হয়। কেউ কেউ আশা করেন, তাদের দেহ মমি করে রাখা হোক। কেউ আবার বরফে ডুবিয়ে রাখতে চান, যদি ভবিষ্যতে প্রাণ দেওয়ার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়!’

ফেসবুকে তসলিমা ‘মৃত’, টুইটারে ক্ষোভ
আগের দিন তসলিমা তার সম্ভাব্য মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন

তসলিমা জানান, অসুখ-বিসুখে তিনি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত করবেন।

তিনি লেখেন, ‘কোনো প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে তার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। ঠিক যেমন বিশ্বাস নেই কোনো কুসংস্কারে।’

জীবনের একটি মুহূর্তের মূল্যও তসলিমার কাছে অনেক জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তাই কোনো মুহূর্তই হেলায় হারাতে চাই না।’

পরকাল বলে কিছু নেই উল্লেখ করেন তসলিমা। বলেন, ‘মরার পর আমরা কিন্তু কোথাও যাই না। পুনর্জন্ম বলে কিছু নেই। মৃত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি। আমার জীবন আমি সারা জীবন অর্থপূর্ণ করতে চেয়েছি। মৃত্যুটাও চাই অর্থপূর্ণ হোক।’

আরও পড়ুন:
‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে আইনি পরামর্শ শনিবার নিউজবাংলায়
এবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ নিয়ে পরামর্শ দেবেন তারানা-মিতি
নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ছাড়াল ২ লাখ
আপনার আইন, আপনার অধিকার নিয়ে নিউজবাংলায় তারানা-সানজানা

শেয়ার করুন