ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে তথ্য চুরি, ভারতে মামলা

ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভারতের তদন্ত সংস্থা সিবিআই। ফাইল ছবি

ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে তথ্য চুরি, ভারতে মামলা

প্রতিষ্ঠান দুটি ‘দিস ইজ ইউর লাইফ’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাপের সাহায্যে ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে ভারতের নির্বাচন প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের।

ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে তথ্য চুরির অভিযোগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দুটি সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ও গ্লোবাল সায়েন্স রিসার্চের (জিএসআরএল) বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভারতের তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি ‘দিস ইজ ইউর লাইফ’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাপের সাহায্যে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে ভারতের নির্বাচন প্রভাবিত করেছে।

শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জেতার জন্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে ভাড়া করেছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এমন অভিযোগ করেছিলেন রবিশংকর। তথ্য চুরির জন্য দলটিকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সহায়তা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছিল কংগ্রেস।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের প্রায় ৫ লাখ ৬২ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সান্দার নিক্স।

২০১৮ সালে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মুখ খোলেন সাবেক কর্মীরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে তারা জানান, কোনো অনুমতি নেয়া ছাড়াই ফেসবুকের প্রায় পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরির জন্য ‘দিস ইজ ইউর লাইফ’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে জিএসআরএল।

ইনস্টল করার পরে অ্যাপটি ফেসবুকের স্বীকৃত নীতির বাইরেও বেআইনিভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ কর‍ত। এমনকি বয়স, কোন পেজে লাইক দেয়া আছে এমন তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মেসেজের তথ্য পর্যন্ত চুরি করা হত। ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতসারে অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করতে পারত অ্যাপটি। পরে সেই তথ্য তুলে দেয়া হয়েছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকার কাছে।

ফেসবুকের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে প্রাথমিকভাবে ৩৩৫ জন ব্যবহারকারী তাদের ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করেছিলেন। সেখান থেকেই তাদের সঙ্গে ফেসবুকে নানাভাবে যুক্ত থাকা আরও ৫ লাখ ৬২ হাজার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে সক্ষম হয় অ্যাপটি।

ভারতে প্রায় ২০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘ইভ টিজিংয়ের আইনি প্রতিকার’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘ইভ টিজিংয়ের আইনি প্রতিকার’

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয় ‘ইভ টিজিংয়ের আইনি প্রতিকার’ প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত, আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী এই শব্দগুলো নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা এক জন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

‘নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’’

অনুষ্ঠান চলাকালে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ অথবা ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে সরাসরি ফোন করতে পারবেন দর্শকরা। এ ছাড়াও যে কোনো সময়ে ফোন করে সমস্যা জানাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected] এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদ প্রকাশকদের অর্থ দিতে হবে ফেসবুক গুগলকে

অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদ প্রকাশকদের অর্থ দিতে হবে ফেসবুক গুগলকে

ফেসবুকের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার থেকে কয়েক দফা আলোচনা চালায় অস্ট্রেলিয়া সরকার। এতে টেক জায়ান্টগুলো লভ্যাংশের একটা হিস্যা সংবাদ প্রকাশকদের দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।

নিউজ কন্টেন্ট ইস্যুতে নতুন আইন পাস করল অস্ট্রেলিয়া। এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের কোনো কন্টেন্ট ফেসবুক, টুইটার, গুগলের মতো সাইটে শেয়ার করা হলে সেখান থেকে যে আয় হবে তার একটি অংশ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

১৭ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাসের পর গত বুধবার উচ্চকক্ষেও পাস হয় প্রস্তাবিত আইনটি।

শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই আইনের বিরোধিতা করে আসছে ফেসবুক। গত সপ্তাহে আইনটির প্রস্তাব হলে অস্ট্রেলিয়ার সব ধরনের নিউজ কন্টেন্ট ব্লক করে দেয় ফেসবুক। অবশ্য দুই দিন পর আলোচনা শুরু হলে তা আবার খুলে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

টেক জায়ান্টগুলো দাবি করেছিল, ইন্টারনেট-ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে এই আইনে তার প্রতিফলিত হয়নি। এ ছাড়া এই আইনে অযৌক্তিকভাবে তাদের ‘জরিমানা’ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংকট নিরসনে ফেসবুকের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকে কয়েক দফা আলোচনা চালায় অস্ট্রেলিয়া সরকার। এতে টেক জায়ান্টগুলো লভ্যাংশের একটা হিস্যা সংবাদ প্রকাশকদের দেবে বলে সমঝোতা হয়।

এর মধ্যে মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডকের প্রতিষ্ঠানগুলোর কন্টেন্ট ব্যবহারে তাদের অর্থ দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছিল গুগল।

শেয়ার করুন

সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার

সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ব্লগার কিউ জিমিং। ছবি: সংগৃহীত

লাদাখ সীমান্তে গত বছর ভারতের বিপক্ষে সংঘর্ষে নিহত চীনা সেনাদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্লগার কিউকে। এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই নিয়ে ছয়জনকে প্রেপ্তার করল চীন কর্তৃপক্ষ।

হিমালয়-অধ্যুষিত লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় গত বছর ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত চীনা সেনাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এক ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ৩৮ বছর বয়সী ব্লগার ওই সংঘর্ষ নিয়ে ‘বিদ্বেষপূর্ণভাবে সত্যকে বিকৃত করেছিল’।

বিবিসি লিখেছে, গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই নিয়ে ছয়জনকে আটক করল চীন কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের জুনে ভারত-চীন সীমান্তে ওই সংঘর্ষ হয়। এটি ছিল দেশ দুটির মধ্যে গত ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই। ভারত জানিয়েছিল, ওই সংঘর্ষে হাতাহাতিতে তাদের অন্তত ২০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

তবে নিজেদের সেনাদের মধ্যে হতাহত নিয়ে মুখ খুলছিল না চীন। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বেইজিং জানায়, গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কিউ জিমিং নামে জনপ্রিয় ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চীনা মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট ওয়েইবোতে ২৫ লাখ ফলোয়ার ছিল তার।

তবে কিউয়ের অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলার কারণে সেটি যাছাই করা যায়নি। গত সপ্তাহে ওয়েইবো জানিয়েছিল, কিউয়ের অ্যাকাউন্টটি এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে তারা।

বীর ও শহিদদের ব্যাপারে অপবাদ ঠেকাতে ২০১৮ সালে একটি আইন পাস করে চীন।

তবে কিউয়ের বিচার সম্প্রতি চীনের ফৌজদারি আইনে আনা সংশোধিত একটি ধারা অনুযায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

সংশোধিত ধারাটি কার্যকর হবে আগামী মাস থেকে। এই ধারায় দোষী ব্যক্তির তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ায় নিউজ কন্টেন্ট উন্মুক্ত ফেসবুকের

অস্ট্রেলিয়ায় নিউজ কন্টেন্ট উন্মুক্ত ফেসবুকের

গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য নিউজ কন্টেট ব্লক করেছিল ফেসবুক। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংবাদ প্রকাশকদের অর্থ দেয়ার বিধান রেখে করা প্রস্তাবিত আইনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তীব্র সমালোচনার মুখে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের ওপর নিউজ কন্টেন্ট শেয়ারে দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ফেসবুক।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের বরাতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য নিউজ কন্টেট ব্লক করে ফেসবুক।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংবাদ প্রকাশকদের অর্থ দেয়ার বিধান রেখে করা প্রস্তাবিত আইনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল ট্রেজারার জশ ফ্রিডেনবার্গ বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফেসবুকে যুক্ত হবে সংবাদ পরিষেবা।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন সংশোধন করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফেসবুকে নিউজ কন্টেন্ট ব্লক দেখতে পায় অস্ট্রেলিয়ানরা। ব্লক করা হয় দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য, জরুরি বিভাগ ও অন্যান্য পেজও।

অস্ট্রেলিয়ার বাইরের কোনো নিউজ কন্টেন্টও ফেসবুকের মাধ্যমে পড়া যাচ্ছিল না। ঢোকা যাচ্ছিল না দেশটির কোনো সংবাদমাধ্যম সাইটে। সরকার বলেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা ফেসবুকের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ হুমকির মধ্যে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আগ্রহী হওয়ায় বিশ্বের সব দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ প্রকাশকদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংবাদমাধ্যমের সুরক্ষায় ফেসবুক, টুইটার, গুগলের মতো টেক জায়ান্টগুলোকে লভ্যাংশের একটা হিস্যা সংবাদ প্রকাশকদের নিতে বাধ্য করে নতুন আইন পাস করার কথা বলেছিল অস্ট্রেলিয়া।

শুরু থেকেই প্রস্তাবিত গণমাধ্যম আইনের সমালোচনা করে আসছে ফেসবুক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। টেক জায়ান্টগুলোর দাবি, ইন্টারনেট ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে এই আইনে সেটা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইনে অযৌক্তিকভাবে তাদের ‘জরিমানা’ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এসবে কান না দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সুরক্ষায় প্রস্তাবিত গণমাধ্যম আইন পাস করার পথেই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। আইনটি গত বুধবার দেশটির আইনসভার নিম্নকক্ষে পাসও হয়।

শেয়ার করুন

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা’

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয় ‘অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা: আইন ও প্রতিকার’ প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

আফরিন জাহান খানের সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে পদ্মা ব্যাংকের সৌজন্যে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত, আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী এই শব্দগুলো নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা এক জন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

‘নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’’

অনুষ্ঠান চলাকালে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ অথবা ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে সরাসরি ফোন করতে পারবেন দর্শকরা। এ ছাড়াও যেকোনো সময়ে ফোন করে সমস্যা জানাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected] এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

সেপারেশন ও তালাক এক নয়

সেপারেশন ও তালাক এক নয়

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনে সেপারেশনকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। এটা অপ্রাতিষ্ঠানিক একটি বিষয়। সম্পূর্ণ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন।’

সেপারেশন বা স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকা এবং তালাক এক নয়। আইনি পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে নিউজবাংলার সাপ্তাহিক আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যারিস্টার ইসতিয়াক আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় শনিবারের আলোচনায় আইনজীবী মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেহেরবা সাবরীন তালাক নিয়ে আইনি বিধান-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন।

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, বাংলাদেশের আইনে সেপারেশনকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। এটা অপ্রাতিষ্ঠানিক একটি বিষয়। সম্পূর্ণ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন।

অনুষ্ঠানে এক দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে মিতি সানজানা বলেন, দেনমোহরের সঙ্গে তালাকের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অধিকার। যেকোনো সময়েই একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে এই টাকা চাইতে পারেন। সাধারণত তালাকের সময় এটি চাওয়ার কারণ হচ্ছে, সে সময় দুজনের মধ্যে একটি বিরোধ তৈরি হয়।

নারীর পক্ষ থেকেও যদি তালাক চাওয়া হয় তারপরেও এটি (দেনমোহর) থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন না। স্বামীর পক্ষ থেকে এটি দিতে গড়িমসি করা হলে পারিবারিক আদালতে মামলা করে ক্লেইম করা যাবে।

বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কাবিননামাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও বর্ণনা করেন মিতি সানজানা। তিনি বলেন, কাবিননামায় যে শর্তগুলো থাকবে সেটাই অধিকার। কনে পক্ষকেই বেশি করে লক্ষ রাখতে হয় যাতে শর্তগুলো ঠিকমতো লেখা হয়।

অনুষ্ঠানে মেহেরবা সাবরীন বলেন, বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কারণ, এটি পরে একটি আইনি দলিলে পরিণত হয়। একইভাবে বিয়ে বিচ্ছেদের নিবন্ধনও বাধ্যতামূলক।

নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে প্রতি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

অনুষ্ঠান চলাকালে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে সরাসরি ফোন করতে পারছেন দর্শকরা। এ ছাড়াও যেকোনো সময় ফোন করে সমস্যা জানাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected]এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

টুইটারের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের ‘যুদ্ধ’

টুইটারের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের ‘যুদ্ধ’

ভারতে আন্দোলনরত কৃষক। ছবি: এএফপি

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘ভারতে আপনাদের কোটি কোটি ফলোয়ার রয়েছে। এখানে আপনারা ইচ্ছামতো ব্যবসা ও টাকা কামাতে পারবেন। তবে ভারতের সংবিধান মেনে তা করতে হবে।’

কৃষক আন্দোলন ঘিরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের বিরোধ দিনকে দিন বাড়ছে। বিরোধ নিরসনে টুইটারের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তার ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়েছে।

বুধবারের ওই বৈঠকে টুইটারকে বলা হয়, ভারতে ব্যবসা করতে তাদেরকে স্বাগত। তবে টুইটারের নিজস্ব আইন ও নীতিমালা যা-ই থাকুক না কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই জায়ান্টকে ভারতের আইন মেনে চলতে হবে।

বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলন নিয়ে টুইট ও টুইটার অ্যাকাউন্টধারীদের ঘিরে বিজেপি সরকার ও টুইটারের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

দিল্লি সীমান্তে গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ কৃষক আন্দোলন চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে সহিংসতায় রূপ নেয়। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত হন। আহত হয় শ খানেক পুলিশ।

আন্দোলন দমাতে উত্তেজনাপূর্ণ হ্যাশট্যাগ, শিখ ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ অ্যাকাউন্ট ও ‘পাকিস্তান সমর্থিত’ টুইট সরাতে টুইটারকে আহ্বান জানায় ভারত সরকার।

ভারত সরকারের আইনি নোটিশে সাড়া দিয়ে আড়াই শটির মতো অ্যাকাউন্ট প্রথমে ব্লক করে টুইটার। কিন্তু ওইসব ব্লকের ক্ষেত্রে ‘ন্যায্যতা অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে ছয় ঘণ্টা পর অ্যাকাউন্টগুলো ফের চালু করে টুইটার।

বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টু্ইটারের এ পদক্ষেপে নাখোশ হয় মোদি সরকার। রূঢ় এক বিবৃতিতে টুইটারকে ওইসব অ্যাকাউন্ট আবার ব্লকের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করলে ভারতে কাজ করা টুইটারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এমনকি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডেরও হুমকি দেয়া হয়।

Twitter-image

বুধবার টুইটারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্ররোচনা ও সহিংসতাসংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে পাঁচ শর বেশি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়।

তবে একই সঙ্গে টুইটার জানায়, সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা সম্ভব না। কারণ এটা করলে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী মত প্রকাশে তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, ভুয়া খবর ও সহিংসতা ছড়ালে সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুক, টুইটারসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নামোল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে আপনাদের কোটি কোটি ফলোয়ার রয়েছে। এখানে আপনারা ইচ্ছামতো ব্যবসা ও টাকা কামাতে পারবেন। তবে ভারতের সংবিধান মেনে তা করতে হবে।

ভারত সরকারের উদ্দেশে ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও প্রযুক্তি নীতিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট মিডিয়ানামার সম্পাদক নিখিল পাহওয়া বলেন, সরকার যদি মনে করে টুইটার আইন ভঙ্গ করেছে, তাহলে বক্তৃতাবাজির বাইরে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। বিবৃতি দেয়া, বৈঠক করার তো কোনো প্রয়োজন দেখছি না যখন আপনারা মনেই করেন তারা আইন মানছে না? তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে কে আটকাচ্ছে?

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg