× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

hear-news
player
google_news print-icon

সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে

সোশ্যাল-মিডিয়া-মরে-গেছে
এখন আমরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তি সব সময় আদর্শ কমিউনিটি তৈরির জন্য একে অপরের সঙ্গে একত্র হয় না। বরং এই নেটওয়ার্কগুলোর পক্ষে কোনো গণহত্যাকে উসকে দেয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট সৃষ্টি করা, মানুষকে উগ্রবাদী করা, কোনো দেশকে ব্ল্যাকআউট করা ও নির্দিষ্ট জনসংখ্যার ওপর নজরদারি করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

টুইটার অধিগ্রহণের পর ইলন মাস্কের ধ্বংসযজ্ঞ আর ফেসবুকের ১০ বছর মেয়াদি মেটাভার্স তৈরির পরিকল্পনার পর বিনিয়োগকারীদের অসন্তুষ্টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকের জন্য।

অনেকেই শঙ্কায় ভুগছেন, মাস্ক হয়তো টুইটার ধ্বংস করে দেবেন। তবে এ নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এরই মধ্যে মরে গেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, গত এক দশক ধরে আমরা যে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ হিসেবে জানি, সেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের সঙ্গে টাম্বলার বা আরও পেছনে গেলে মাইস্পেস- এগুলোর অধিকাংশকেই নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের অনলাইন যোগাযোগের মডেল দিয়ে পেছনে ফেলে দিচ্ছে।

বহু বছরের বিতর্কের কারণে ফেসবুক নিজস্ব চাপেই ধসে পড়েছে। ইনস্টাগ্রাম অনেকে এখনও ব্যবহার করেন, তবে বন্ধুর চেয়ে অগণিত বিজ্ঞাপনের কারণে এর প্রতি মানুষের অপছন্দ বাড়ছে। আর মাস্ক টুইটার দখল করে নেয়ার পর প্ল্যাটফর্মটি থেকে অনেকেই বের হওয়ার চেষ্টায় আছেন। ফাঁস হওয়া রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন দাবিও করা হয়েছে, টুইটার আদতে এখন এক ‘মৃত্যুপুরী’। কারণ এর ৯০ শতাংশ ট্রাফিক আসে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে, আর এসব ‘হেভি ইউজাররা’ এখন আর প্রতিদিন পোস্ট করছেন না।

মার্ক জাকারবার্গ চেয়েছিলেন ব্যবহারকারীরা এখন মেটাভার্স বা ওয়েব থ্রিতে চলে আসবেন, সেটাও হচ্ছে না। এ দুটোই বিকেন্দ্রীকৃত, টোকেন ও ক্রিপ্টোনির্ভর ইন্টারনেট। এটি নিয়ে বিনিয়োগকারী, ক্রিপ্টো মালিক ও পুঁজিপতিরা বেশ হইচই ও পিরামিড স্কিম তৈরি করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, এ থেকে তারা আরও ধনী হবেন।

তবে এর বদলে সবাই এখন ইউটিউব, টিকটক, টুইচ ও অসংখ্য নতুন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। তারা প্রচলিত বহুমুখী ও শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত আলোচনার স্ট্রাকচারসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মের বিকল্প হিসেবে একমুখী প্ল্যাটফর্ম বেছে নিচ্ছেন। তারা পছন্দ করছেন ‘সম্প্রচার’ মডেল, যেখানে পারস্পরিকতার চেয়ে একজন কন্টেন্ট নির্মাতা ও তার দর্শক রয়েছেন।

ইন্টারনেটে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বা দুই নম্বরে থাকা টিকটকই এখন ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’। যে কেউ টিকটক বানাতে পারেন, কিন্তু একে আদতে লঘু ব্যবহারের (passive consumption) জন্য তৈরি করা হয়েছে। টিকটকে ইনফ্লুয়েন্সার ও সেলিব্রিটি মডেল তৈরি হয়ে গেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রিয় নির্মাতাদের ফলো করেন বা পরোক্ষভাবে তাদের তৈরি কন্টেন্ট ব্যবহারকারীদের ফর ইউ পেজে প্রদর্শিত হয়। ইনস্টাগ্রামও এদিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যদিও ব্যবহারকারীরা একে অপছন্দ করেন।

আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদায়ে শোকাহত হতে পারি বা এই পরিবর্তন কেন হচ্ছে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। এর একটা কারণ হতে পারে, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোর অর্থ উপার্জন করা উচিত নয় এবং লাভের আশায় তারা নানা পথ অবলম্বন করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথবা এ-ও বলা যেতে পারে এখন সত্যিকার অর্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলে কিছু নেই, কখনও ছিল না।

আদতে যা আছে আর আমরা মাঝে মধ্যে যেটা উপভোগ করি সেটা হলো যোগাযোগের নেটওয়ার্কগুলোর একটি সিরিজ। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের আসলে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই’, আদতে এগুলো ভোগনির্ভর এবং অনুমোদনের মুখাপেক্ষী নয় এমন বন্ধন ও গ্রুপের নেটওয়ার্ক।

এটাকে এমনভাবেই দেখা যেতে পারে যে একক কোনো ইন্টারনেট নেই। যা রয়েছে তা হলো জোড়া দেয়া ডিজিটাল ভুবন ও নেটওয়ার্ক, যাদের প্রত্যেকের আলাদা ইতিহাস, ভূরাজনীতি, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও প্রণোদনা রয়েছে। এগুলোকে আমরা একসঙ্গে ইন্টারনেট বলি।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যেভাবে ব্যবহৃত হয় সেটার এক ধরনের সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন ব্রাউজ করা, কেনাকাটা করা, ভিডিও দেখা ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো সাম্প্রতিক উন্নয়ন যেগুলো আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার একেবারে ভিন্ন ধরনের অবকাঠামো, আইন, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সৃষ্টির সময়ে ধারণা করা হচ্ছিল, ইন্টারনেটের শক্তি, বৈশ্বিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও অন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা একটা জায়গা তৈরি করতে পারব, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৈরি হতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটি হবে এমন এক স্থান যেখানে আমরা পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারব, বন্ধুরা কী করছে জানতে পারব, নতুন বন্ধু বানাতে পারব, নতুন পরিচয় গ্রহণ করতে পারব ইত্যাদি ইত্যাদি। এটি আশ্চর্যজনক সরলমনা একটি চিত্র।

এখন আমরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তি সব সময় আদর্শ কমিউনিটি তৈরির জন্য একে অপরের সঙ্গে একত্র হয় না। বরং এই নেটওয়ার্কগুলোর পক্ষে কোনো গণহত্যাকে উসকে দেয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট সৃষ্টি করা, মানুষকে উগ্রবাদী করা, কোনো দেশকে ব্ল্যাকআউট করা ও নির্দিষ্ট জনসংখ্যার ওপর নজরদারি করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে অনেকটা সময় ধরে। বছরের পর বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের বেছে নেয়া বন্ধু ও যাদের অনুসরণ করছি তাদের পোস্টের অবাধ প্রবাহ ছিল আমাদের ফিডে। আর এখন আমরা সবচেয়ে বেশি যা দেখতে পাচ্ছি, তা অ্যালগরিদম নির্বাচন করে দেয় ও বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের পোস্টগুলোকে উৎসাহিত করতে বা প্রচার করতে অর্থ প্রদান করে। একে খুব কমই ‘সামাজিক’ বলা যেতে পারে- এখানে লক্ষ্য হলো ব্যস্ততা বাড়ানো ও পেজে ধরে রাখা।

এরপরেও আমরা প্রযুক্তির দিকে এভাবে তাকাই যেন এটি এমন এক হাতিয়ার যা দিয়ে শান্তিপূর্ণ, আদর্শ সমাধান সম্ভব। আমরা মনে করি সঠিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স–এআই) দেয়া নির্ভুল এলগরিদম কন্টেন্টের যথাযথতাকে নিশ্চিত করবে, বৈশিষ্ট্যকে যাচাই করবে ও নিখুঁতভাবে বাছাই করবে, ভুল তথ্যের প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে না ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে আমাদের মনোযোগ ফেরাতে সহায়তা করবে।

তার আগে আমাদের এ প্রশ্ন করতে হবে, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতে কী বুঝি? একে রক্ষা করতে যে হাতিয়ারগুলো দরকার সেগুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

গত ১০ বছর ধরে বড় বড় কোম্পানিগুলো যেভাবে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ নামটিকে ব্যবহার করেছে তা হলো এটা এমন কিছু প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির সংখ্যাকে বিজ্ঞাপনদাতার আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, নতুন পণ্য ও সার্ভিসের সঙ্গে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার রাজস্বের জন্য সুবিধা দেয়া হয় এবং এমন আরও অনেক কিছু।

এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে সমস্ত সংযোগ প্রক্রিয়ার ডেটা জমা রাখে। যা অন্য কোম্পানি কিনে নেয় যাতে তারা প্রাসঙ্গিক পণ্য ও সার্ভিস অফার করতে পারে।

এটাও আসলে প্রকৃত সত্য নয়। এ সমস্ত কিছুর পেছনে থাকা রাজনৈতিক অর্থনীতির দিকে তাকালে ভয়াবহ কিছু দৃশ্য চোখে পড়বে। সামাজিক মিডিয়ার প্রতিটি প্রধান বিষয় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ও পরিচালিত।

আমরা যে ডেটা তৈরি করি, যে ডেটা সেন্টারগুলো এটি জমা রাখে, যে অ্যালগরিদমগুলো একে বিশ্লেষণ করে, যে সার্ভারগুলো একে হোস্ট করে, অ্যানালিস্টদের যে দল একে চিহ্নিত, বাছাই ও তার সঙ্গে ইন্টরঅ্যাক্ট করে, যে তার দিয়ে তথ্য ভ্রমণ করে, যে প্ল্যাটফর্ম আমরা ব্যবহার করি, তাদের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কোনোটিই আমাদের নয়।

এমনকি বিকল্প পদ্ধতি বিকাশের জন্য আমরা যে ডেটা ব্যবহার করতে পারি সেগুলোও এমন কোম্পানি জমা রাখে যারা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক মডেলে কাজ করে এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে। সেই ডেটা নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য আমরা যে কম্পিউটেশনাল রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারি সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে টেক কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন। অথবা রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন, যারা ইন্টারনেট অবকাঠামোকে বাণিজ্যযোগ্য আর্থিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।

আমাদের যে প্ল্যাটফর্মগুলো রয়েছে, যেগুলো মৃতপ্রায় বা মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে সেগুলোকে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ বা ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কস’ বললে ভুল হবে। কারণ এ থেকে মনে হয়ে যে, এগুলো হয়ত সামাজিকতার ওপর নির্ভরশীল কোনো প্ল্যাটফর্ম। আদতে আমরা এমন কিছু তৈরি করেছি যা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত সিস্টেম এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাহিদা, আগ্রহের কারণে সামাজিক সম্পর্কের প্রতিরূপ অফার করে।

যে প্ল্যাটফর্মগুলো শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে তার বদলে সত্যিকার অর্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটাই যারা একমুখী সম্প্রচার মডেলকে সহজভাবে গ্রহণ করতে, আবিষ্কার করতে ও সেটি নিয়ে জরুরি কাজ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে অন্য অ্যাপগুলো জনপ্রিয় সেখান থেকে আমরা যেসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা যায় বা বাতিল করা যায় তার আভাস পেতে পারি। উদাহরণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের কথা বলা যায়। এটি ব্রাজিল বা ভারতের মতো দেশে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফেসবুক এখনও হোয়াসঅ্যাপের মালিক। হোয়্যাটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপনদাতাদের আয়কে (বা অতিরিক্ত রাজস্বের পথ তৈরির চেষ্টা) সফলভাবে নগদীকরণ করেনি ও পুনর্গঠিত হয়নি। তবে এটিও বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য ও জনতার সহিংসতা ছড়ানোর দোষে দুষ্ট।

বিকল্প অন্বেষণের অর্থ হতে পারে যে ম্যাস্টোডনের মতো কিছুর দিকে অগ্রসর হওয়া। মাস্কের টুইটার দখলের পর থেকে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি এখনও ত্রুটিমুক্ত হওয়া থেকে অনেক দূরে। একটি বাস্তব বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য মানবিক বিশৃঙ্খলা ও ছলচাতুরির ঝুঁকি ও ধাক্কা সামাল দিতে হবে। এমন নয় যে আমরা এখন তা করছি না।

আরও পড়ুন: টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় প্রভাবশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোর পেছনে থাকা সমস্ত জটিল সিস্টেম।

এত কিছুর পরেও এটা ঠিক, আমরা যে যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোকে বলি ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’, সেটা আজ আধিপত্য বিস্তার করছে। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে শীতল যুদ্ধের ভূরাজনীতি সিলিকন ভ্যালির জন্ম দিয়েছে।

আমরা যাকে ইন্টারনেট বলি তার পেছনেও রয়েছে সামরিক সহযোগিতা। এটি এমন এক বিশ্ব যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনীতি একটি নজরদারি ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে, যেন উৎপাদন ও ভোগ পুঁজিবাদের একটি স্বর্ণযুগ বজায় থাকে। আমাদের এই বিশ্ব এমন যেখানে একক নেতৃত্বের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুবিধা বা প্রাধান্য পায় মুনাফাখোর, একচেটিয়া ব্যবসায়ী ও সম্পদ ব্যবস্থাপকের স্বার্থ।

এগুলোর কারণে আমরা সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারব সে রকম একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হবে বিষয়টি তেমন নয়। সেটার বদলে আমরা অন্যদেরকে কী পরিমাণে দেখি ও আমাদেরকে দেখে আরও সক্রিয়ভাবে বৃহত্তর, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে লাভ করতে হয় তা খুঁজে বের করতে আগ্রহী (পাশাপাশি সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী)। মৌলিক কোনো পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সত্যিকার অর্থে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাব না।

আরও পড়ুন:
প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের
চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন টুইটার প্রতিষ্ঠাতা
টুইটারের সব কার্যালয় বন্ধ করলেন মাস্ক
ভারতীয়দের ছাঁটাই শুরু করেছে টুইটার
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টুইটারের কর্মী ছাঁটাই শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
US school finds turning off phones results in fewer bathroom trips

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটিতে ফোন বন্ধে মিলছে সুফল, কমেছে ওয়াশরুমে যাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটিতে ফোন বন্ধে মিলছে সুফল, কমেছে ওয়াশরুমে যাওয়া স্মার্টফোন হাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
পিটার বেক বলেন, বাসায় স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা সামনাসামনি কথা বলাটাই পুরো ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় প্রয়োজনের কথা বলতে গিয়েও জটিলতায় পড়ছিল তারা।

করোনা সংকট কাটিয়ে ওঠার পর খুলে দেয়া হলেও আর আগের চেহারায় ফিরছিল না যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটি। ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীদের ছিল না মনোযোগ। সামনাসামনি সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলাতেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছিল না।

এই সংকট কাটাতে স্কুলে বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল ফোনের ব্যবহার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা কর্মচারী; সবার জন্যই চালু হয় এক নিয়ম। এতেই মিলেছে সুফল। আর ওয়াশরুমে গিয়ে ফোন টিপতে টিপতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল সেটাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

উত্তর-পশ্চিম ম্যাসাচুসেটসের বাক্সটন স্কুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান পিটার বেকের বরাত দিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট

পিটার বেক বলেন, বাসায় স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা সামনাসামনি কথা বলাটাই পুরো ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় প্রয়োজনের কথা বলতে গিয়েও জটিলতায় পড়ছিল তারা।

এমন পরিস্থিতিতে স্কুলে সবার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, ক্যাম্পাসের পুরো ১১৪ একরের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারীদের কেউই আইফোন বা অ্যান্ড্রোয়েড ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সময় থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হলে এর সুফল মিলতে থাকে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

স্কুলপ্রধান পিটার বলেন, শিক্ষার্থীরা সমৃদ্ধ হচ্ছে। তারা পরিবর্তনের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। পরিবর্তন দরকার ছিল, তবে এটা সম্ভব হবে ভাবিনি।

তিনি জানান, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যে ফোন তারা ব্যবহার করছে, এটা ছাড়া তাদের কীভাবে চলবে তা নিয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর যেসব শিক্ষার্থীর বাড়ি স্কুলের পাশে তাদের বাড়িতে ফোন রেখে আসতে হয়। আর দূরের শিক্ষার্থীদের ফোন জমা রাখতে হয় স্কুলে। সেমিস্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত এমন অবস্থা চলে।

ফোন নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে স্কুলের ওয়েব সাইটে বলা হয়, এখন সাধারণ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। শুধু কথা বলা ও মেসেজ পাঠানো যায় এমন ফোন ব্যবহার করতে পারছে তারা।

ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা যায়, ই-মেইলে ঢোকা যায় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করা যায়- এমন ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই কার্যকর রয়েছে। তবে স্কুল শেষে কেউ চাইলে ডেস্কটপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।

পিটার বেক বলেন, তারা একাডেমিক কাজে আরও বেশি সময় ব্যয় করছে। শিল্পের মাধ্যমে সৃজনশীলভাবে নিজেদের প্রকাশ করছে। একে অন্যকে জানছে।

একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। তারা অনেক সময় দরকার না হলেও মেসেজ ও টিকটক চেক করার জন্য বিশ্রামাগার ব্যবহার করত। ওয়াশরুমে গিয়ে বেশি সময় ব্যয় করত এই ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে। এটা কমেছে।

আরও পড়ুন:
আলট্রা-স্লিম ডিজাইনের বাজেট স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০
শিশুর মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানোর উপায়
দেশের বাজারে এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Find old WhatsApp messages with date search

তারিখ সার্চ দিয়ে খুঁজে নিন হোয়াটসঅ্যাপের পুরোনো মেসেজ

তারিখ সার্চ দিয়ে খুঁজে নিন হোয়াটসঅ্যাপের পুরোনো মেসেজ ছবি: সংগৃহীত
আপাতত কিছু আইফোন ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ বিটা ভার্সনে ফিচারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বিটা ভার্সনেও ফিচারটি চালু হবে।

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম হোয়াটসঅ্যাপ। নিয়মিত নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হয় মেটার মালিকানাধীন এই অ্যাপটিতে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আসছে তারিখ দিয়ে পুরোনো মেসেজ খুঁজে পাওয়ার সুবিধা।

ব্যক্তিগত চ্যাট বক্স কিংবা গ্রুপ মেসেজের ক্ষেত্রে তারিখ দিয়ে সার্চ করেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সেই দিনের কথোপকথনে। তবে এখনই সুবিধাটি সবাই উপভোগ করতে পারবেন না। আপাতত কিছু আইফোন ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ বিটা ভার্সনে ফিচারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বিটা ভার্সনেও ফিচারটি চালু হবে।

চলুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে তারিখ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে পুরোনো মেসেজ।

  • প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কিংবা গ্রুপ চ্যাট ওপেন করুন।
  • সার্চ উইনডোতে গিয়ে ক্যালেন্ডার আইকনে টাচ করুন।
  • যে তারিখের মেসেজ পড়তে চান, সেই তারিখটি বেছে নিন।
  • স্ক্রল ব্যাক করলেই একলাফে সেই দিনের মেসেজে পৌঁছে যাবেন।

আরও পড়ুন:
আইওএস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হিস্ট্রি নেয়া যাবে অ্যান্ড্রয়েডে
স্ক্রিনশট ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ সংরক্ষণ
হোয়াটসঅ্যাপে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক চালু করবেন যেভাবে
হোয়াটসঅ্যাপের অযাচিত গ্রুপ এড়াবেন যেভাবে
ভারতে কাঠগড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
When will Apples folding iPhone?

কবে আসবে ফোল্ডিং আইফোন?

কবে আসবে ফোল্ডিং আইফোন? অ্যাপল ফ্লিপের কাল্পনিক ছবি। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, আইফোন ফ্লিপ নামের এই ফোল্ডিং আইফোনটি ২০২৪ সালে বাজারে আসতে পারে।

অনেক আগেই ফোল্ডিং স্মার্টফোন বাজারে এনেছে স্যামসং। বলতে গেলে ফোল্ডিং মোবাইল ফোনের রাজ্যে স্যামসংই রাজা।

অ্যাপল অনেক আগে থেকেই কাজ করছে ফোল্ডিং আইফোন নিয়ে। নাম আগেই রাখা হয়ে গেছে। অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, আইফোন ফ্লিপ নামের এই ফোল্ডিং আইফোনটি ২০২৪ সালে বাজারে আসতে পারে। অনেকে বলছেন, এর নাম হবে আইফোন এয়ার। যদিও অ্যাপল এখনও এই বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে নেট দুনিয়ায় নিয়মিত ফাঁস হচ্ছে নানা রকম তথ্য। আইফোন ফ্লিপ নিয়ে তেমনই কিছু তথ্য থাকছে আজ।

কবে আসবে বাজারে

আগেই বলেছি, অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, আইফোন ফ্লিপ আসবে ২০২৪ সালে। তবে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক রিপোর্ট জানাচ্ছে, আইফোন ১৫ সিরিজের সঙ্গেই বাজারে আসতে পারে আইফোন ফ্লিপ। যদিও এসব প্রশ্নে নিরব টেক জায়ান্ট অ্যাপল।

ডিসপ্লে ধরন

ফোল্ডেবল ডিসপ্লে ব্যবহার হবে আইফোন ফ্লিপে। এলসিডি অথবা ওএলইডি ভিত্তিক ডিসপ্লে হতে পারে সেটি। ডিসপ্লের আকার সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। এ দিকে আইপ্যাড মিনির ডিসপ্লে সমান অর্থাৎ চার ইঞ্চি আকারের আরেকটি ছোট ফোল্ডেবল আইফোনও বাজারে আনতে পারে অ্যাপল।

দেখতে কেমন হবে

আইফোন ফ্লিপ দেখতে কেমন হবে সম্পর্কে অ্যাপল কোন তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে অনেকেই কল্পনা থেকে আইফোন ফ্লিপ এর ডিজাইন প্রকাশ করছেন নেট দুনিয়ায়। তেমনই দুইটি ডিজাইন দেখে নিন।

কবে আসবে ফোল্ডিং আইফোন?

কবে আসবে ফোল্ডিং আইফোন?

দাম কত হবে

আইফোনের দাম অন্যসব ফোনের চেয়ে ঢেড় বেশি। আইফোন ফ্লিপ এর ক্ষেত্রেও সেই ধারা বজায় থাকবে বলেই মনে হয়। গবেষকরা বলছেন, কমপক্ষে ২ হাজার আমেরিকান ডলারে বিক্রি হতে পারে এক একটি আইফোন ফ্লিপ। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ২ লক্ষ টাকার সমান।

আরও পড়ুন:
আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন
পুরোনো ডিজাইনে নতুন আইফোন ১৩ উন্মোচন
আইফোনে স্টোরেজ ১ টেরাবাইট!
বিমান থেকে পড়েও অক্ষত আইফোন
ফাইভজি স্পিডে আসছে আইফোন ১২

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Be careful online campaign to keep young people safe online

তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে টিকটকের ক্যাম্পেইন ‘সাবধানে অনলাইনে’

তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে টিকটকের ক্যাম্পেইন ‘সাবধানে অনলাইনে’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, কেলেঙ্কারি, জালিয়াতিসহ সাইবার অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে তরুণদের আরও বেশি জানাতে, টিকটক ও জাগো ফাউন্ডেশন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও তরুণদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করবে।

শীর্ষস্থানীয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ‘সাবধানে অনলাইনে’ নামে নতুন ক্যাম্পেইন চালু করেছে। ছয় মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য দেশের তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং প্ল্যাটফর্মটির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, কেলেঙ্কারি, জালিয়াতিসহ সাইবার অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে তরুণদের আরও বেশি জানাতে, টিকটক ও জাগো ফাউন্ডেশন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও তরুণদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করবে।

কর্মশালার পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা সেশনের মাধ্যমে স্থানীয় যুব সম্প্রদায়কে তথ্যও দেওয়া হবে। এই ইন্টারেক্টিভ সেশনে ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ার নানামুখী ব্যবহার, সাইবার বুলিং থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় এবং যুব উন্নয়নে ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেসব জেলায় অনলাইন নিরাপত্তা সেশনের অংশ হিসেবে, অংশগ্রহণকারীদের তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি এবং শেয়ার করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। মূলত এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক নিরাপদ ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করা হবে।

এই কর্মশালায় অংশ নিতে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন এই ওয়েবসাইটে। ক্যাম্পেইনটি ১৬ জেলা থেকে কয়েক শ তরুণ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ক্ষমতায়ন করবে; সেই সঙ্গে প্রকল্পটির মাধ্যমে তাদের বৃহৎ পরিসরে সেগুলো প্রচার করবে।

টিকটকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তার ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কারণ টিকটক তার প্ল্যাটফর্মে অনুপযুক্ত কনটেন্ট শেয়ার করার প্রচেষ্টাকে সক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করতে এবং প্রতিরোধ করার জন্য নীতি ও প্রটোকল বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্ট থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে ক্রমাগত তার ফিচার উন্নত ও শক্তিশালী করছে। জাগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে টিকটকের এই অংশীদারত্ব ডিজিটালি নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য সঠিক পথে আরেকটি পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন:
নতুন প্রজন্মের প্রিয় বিনোদন মাধ্যম এখন টিকটক
টিকটক বানিয়ে শাস্তির মুখে ১৩ পুলিশ
নীতিমালা লঙ্ঘন: বাংলাদেশ থেকে ৫০ লাখ ভিডিও সরাল টিকটক
ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সিইউবির কর্মশালা
টিকটকের ফ্যামিলি পেয়ারিং ফিচারে শক্তিশালী নিরাপত্তা

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Human brain chip implant trial within 6 months

নিউরালিংকের চিপ মস্তিষ্কে বসবে ৬ মাসের মধ্যে

নিউরালিংকের চিপ মস্তিষ্কে বসবে ৬ মাসের মধ্যে নিউরালিংকের চিপ। ছবি: সংগৃহীত
চলাফেরা কিংবা যোগাযোগে অক্ষম বা দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য কিছু করার চেষ্টা অনেক আগে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইলন মাস্ক। অবশেষে বুধবার সুখবর জানালেন তিনি।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য দারুণ খবর দিল বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি চিপ তৈরি করেছে, যেটির সাহায্যে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তারা।

চলাফেরা কিংবা যোগাযোগে অক্ষম বা দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য কিছু করার চেষ্টা অনেক আগে থেকেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইলন মাস্ক। অবশেষে বুধবার সুখবর জানালেন মাস্ক।

মাস্কের বিশ্বাস, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মানব মস্তিষ্কে চিপ লাগানোর ট্রায়াল শুরু হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মস্তিষ্কে স্থাপন করা হবে এটি; এতে তারা চলাফেরা এবং যোগাযোগে সক্ষম হবে।

এর আগে শূকর ও বানরের মস্তিষ্কে নিউরালিংক ডিভাইস সফলতার সঙ্গে স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, ডিভাইসটি স্থাপন ও অপসারণ একেবারেই নিরাপদ।

মাস্ক টুইটে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাই। নিশ্চিত হতে চাই এটি ভালোভাবে কাজ করবে। আমরা চিপ-সংক্রান্ত বেশির ভাগ কাগজপত্র যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে (এফডিএ) জমা দিয়েছি। সম্ভবত ছয় মাসের মধ্যে আমরা নিউরালিংক চিপ লাগানোর ট্রায়াল শুরু করতে পারব।’

২০২১ সালের এপ্রিলে মানব মস্তিষ্কে চিপ বসানোর বিষয়ে সর্বশেষ প্রেজেন্টেশন দিয়েছিল নিউরালিংক। ওই সময় চিপ লাগানো একটি বানরকে তার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে গেম খেলতে দেখা যায়।

মানব মস্তিষ্কের জন্য চিপ তৈরির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে নিউরালিংক প্রতিষ্ঠা করেন মাস্ক। তার আশা, এই চিপ পার্কিনসন, ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করবে।

গত বছরের শেষে মাস্ক জানান, ২০২২ সালের কোনো একসময়ে নিউরালিংক মানবদেহে চিপ স্থাপন করবে।

এদিকে সিঙ্ক্রোন নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও মাইক্রোচিপ তৈরির কাজ করছে। তাদের এই চিপ পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের যোগাযোগে সাহায্য করবে। গত বছরের জুলাইয়ে এটি এফডিএর অনুমোদন পায়। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই চিপ যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ার চারজনের মস্তিষ্কে বসানো হয়েছে।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
iPhone 15 series has a Sony camera

আইফোন ১৫ সিরিজে থাকছে সনি ক্যামেরা

আইফোন ১৫ সিরিজে থাকছে সনি ক্যামেরা ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ১৫ তে থাকবে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান সনির তৈরি ক্যামেরা। সনির নাগাসাকি কারখানায় তৈরি হবে ক্যামেরাগুলো।

২০২৩ সালে আইফোন ১৫ বাজারে আনতে কাজ শুরু করেছে অ্যাপল। ক্যামেরার দিকে আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে, আইফোন ১৫ তে থাকবে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান সনির তৈরি ক্যামেরা। সনির নাগাসাকি কারখানায় তৈরি হবে ক্যামেরাগুলো।

এই ক্যামেরায় থাকবে অ্যাডভান্সড সেন্সর। সেন্সরের প্রতিটি পিক্সেলে সাধারণ সেন্সরের তুলনায় দ্বিগুণ স্যাচুরেশন সিগন্যাল লেভেল থাকবে। ফলে ছবিতে ওভার এক্সপোজ অথবা আন্ডারএক্সপোজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসবে। ফলে আলোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেও মুখের সবকিছু স্পষ্ট বোঝা যাবে।

আইফোন ১৪ প্রো মডেলে সেভেন পি লেন্স ব্যবহার করা হলেও আইফোন ১৫ প্রোতে থাকবে এইট পি লেন্স। অন্যদিকে আইফোন ১৫ আল্ট্রা মডেলে থাকবে ১০এক্স টেলিফটো ক্যামেরা। সেখানে পেরিস্কোপ লেন্স ব্যবহার করার সম্ভাবনা আছে।

আরও পড়ুন:
আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন
পুরোনো ডিজাইনে নতুন আইফোন ১৩ উন্মোচন
আইফোনে স্টোরেজ ১ টেরাবাইট!
বিমান থেকে পড়েও অক্ষত আইফোন
ফাইভজি স্পিডে আসছে আইফোন ১২

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Saudi Aqua will produce solar power

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি অ্যাকোয়া

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি অ্যাকোয়া ময়মনসিংহ গৌরীপুরের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘সৌদি কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ারের এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য। বাংলাদেশ নানাভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে উৎসাহিত করছে।’

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য ১০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি আরবের কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ার (এসিডব্লিউএ)।

একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে এ লক্ষ্যে সোমবার নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক সই করেছে কোম্পানিটি।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সৌদি আরবের এসিডব্লিউএর বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে ক্লিন এনার্জি অর্জনে সহায়তা করবে।

‘সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সৌদি কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ারের এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য। বাংলাদেশ নানাভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে উৎসাহিত করছে।’

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা ও অ্যাকোয়া পাওয়ারের ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আয়াদ আল আমরি সই করেন।

দশটি আর্টিক্যাল-সংবলিত নন বাইন্ডিং এই সমঝোতা স্মারকে অ্যাকোয়া পাওয়ার বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা করবে এবং পিডিবি প্রশাসনিক সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎসচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসেফ আল দুহাইলান বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ সাফল্য নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বই

মন্তব্য

p
উপরে