× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Aedes mosquito has changed the character of the glittering city at night
hear-news
player
google_news print-icon

এডিস মশার চরিত্রকে বদলে দিয়েছে রাতের ঝলমলে শহর

এডিস-মশার-চরিত্রকে-বদলে-দিয়েছে-রাতের-ঝলমলে-শহর
আলোকিত শহরে এডিস মশা রাতেও মানুষকে কামড়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যদি দেখতাম এডিস মশা পুরোপুরি দিনে কামড়ায় তাহলে সবাইকে বলতে পারতাম অন্য সময়ে সেভাবে প্রটেকশন না নিলেও চলবে। সেই লক্ষ্যে আমরা গবেষণাটি করি। আর তা করতে গিয়ে দেখলাম সন্ধ্যার পর এমনকি রাতেও এডিস মশা কামড়াচ্ছে।’

ডেঙ্গুতে দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে চলতি বছর। চলতি বছরের হিসাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই জ্বরে মৃতের সংখ্যা ২১৩-এ পৌঁছেছে। গত ২২ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর আগে কোনো বছরেই ডেঙ্গুতে এত বেশি মানুষ মারা যাননি।

প্রচলিত ধারণা হলো, ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় শুধু কামড়ায়, রাত তাই নিরাপদ।

তবে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশারের গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধারণাটি একদম ভুল। এডিস মশা মানুষকে কামড়াতে পারে দিন-রাতের যেকোনো সময়।

রাজধানীর উত্তরা, আশকোনা, নিকুঞ্জ এলাকায় গত বছর থেকে তিন দফায় গবেষণা চালিয়েছেন ড. কবিরুল বাশার। এতে দেখা গেছে রাতের বেলাতেও মানুষের রক্ত শুষে নিতে বেপরোয়া এডিস মশা।

ড. কবিরুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এডিস মশার দুটি প্রজাতি আছে। একটি এলবোপিকটাস, আরেকটি এডিস ইজিপটাই। এডিস ইজিপটাই হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের প্রায় সব উষ্ঞ আদ্রীয় দেশের নগরেই এই মশা জন্মায়। নগরের বাড়ির আশপাশে, বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এরা ডিম পাড়ে।

এডিস মশা কেবল দিনের বেলায় মানুষকে কামড়ায় এমন ধারণা যাচাইয়ে গত বছর গবেষণা শুরু করেন কীটকত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার।

এডিস মশার চরিত্রকে বদলে দিয়েছে রাতের ঝলমলে শহর

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় একজন মানুষের শরীরের অনেকটা অংশ অনাবৃত রেখে বিভিন্ন সময়ে মশার ল্যান্ডিং পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মশা শরীরে বসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসপিরেটর দিয়ে তা ধরা হয়েছে। এভাবে মশা ধরার এক্সপার্ট আছেন।

‘মশা ধরে ধরে আমরা প্রতি ঘণ্টায় কোন মশার কখন পিক আওয়ার বা একটা মশা কোন সময়ে অ্যাকটিভ থাকে সেটি আমরা ক্যালকুলেট করেছি।’

আরও পড়ুন: বদলে গেছে ঢাকার মশা

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখতাম এডিস মশা পুরোপুরি দিনে কামড়ায় তাহলে সবাইকে বলতে পারতাম অন্য সময়ে সেভাবে প্রটেকশন না নিলেও চলবে। সেই লক্ষ্যে আমরা গবেষণাটি করি। আর তা করতে গিয়ে দেখলাম সন্ধ্যার পর এমনকি রাতেও এডিস মশা কামড়াচ্ছে।’

গবেষণার পদ্ধতি জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত একটা টিম কাজ করেছে। রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ছিল আরেকটি টিম। গত বছর থেকে তিন দফায় টানা কয়েক দিন ধরে চলেছে গবেষণা।

ড. কবিরুল মনে করছেন একসময়ে এডিস মশা শুধু দিনের বেলায় কামড়ালেও এখন এই বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি শহুরে জীবনে আলোয় ভাসা রাত দায়ী বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, 'পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশেই এখন রাতের বেলায় লাইটের প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রচুর পরিমাণে লাইট থাকে। একে বলা হয় লাইট পলিউশন বা আলো দূষণ। এই আলো দুষণের ফলে মশার আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে।

‘ঢাকার ক্ষেত্রে হয়তো সেটাই হয়েছে। ফলে এডিস মশা এখন দিনের পাশাপাশি রাতের বেলাতেও কামড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে রাতের বেলায় এত আলো ছিল না। ইলেকট্রিসিটির ব্যবহার কিন্তু আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। নগরে দেখা যায় পুরো নগরী সন্ধ্যার পরে আলোকিত। একটা আগে এতটা ছিল না।

‘এত ঘনবসতিও ছিল না, এত ইলেকট্রিসিটি ছিল না। ফলে হয়তো ধীরে ধীরে এডিস মশার মধ্যে অ্যাডাপটেশনটা হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছাড়াল দুই শ, ১৩ দিনেই ৬১
দূষিত বাতাসে থমকে যেতে পারে হৃদযন্ত্র
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু
শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো এশিয়ায় ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে দেশে আরও ৬ মৃত্যু

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Transforming plastic polyethylene into fuel

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর! স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব।’

প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে তেল-গ্যাস উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।

স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন তিনি। পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য প্লাস্টিককে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরের গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে গবেষণায় তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন।

গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রথমে মাটি থেকে সিলিকা অ্যালুমিনা ভেঙে ক্যাটালিস্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই ক্যাটালিস্ট দিয়ে প্লাস্টিককে ভেঙে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন জাতীয় জ্বালানি তেল তৈরি করেছি। এই জ্বালানি তেল দিয়ে ছোট ও মাঝারি নৌকার ইঞ্জিনও চালনা করা সম্ভব। এ ছাড়া জেনারেটরের মাধ্যমে এ জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে অনেক প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকে। এসব পরিবেশের জন্য হুমকি এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। এই প্লাস্টিক পলিথিন ধুয়ে পরিষ্কার করে জ্বালানি উৎপাদনের উপযোগী করা সম্ভব। মাটি ও প্লাস্টিক দুটি উপাদানই আমাদের হাতের কাছে পাওয়া যায়। এতে করে খুব অল্প খরচে সরকার চাইলে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেল উৎপাদন করতে পারবে।’

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। কারণ জ্বালানির বেশির ভাগ অংশ ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিন থেকে আসে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন রয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী এবং অন্যান্য নদী ও খাল থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তা ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিনে রূপান্তরিত করা যাবে। সেই সঙ্গে পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাবও কমে যাবে।’

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যাবে বলে দাবি গবেষকদের। বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মাধমে দূষণ কাটিয়ে বর্জ্য প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তর করে এর সংকটও মোকাবেলা করা যাবে। এই জ্বালানিকে বাণিজ্যিকভাবেও উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এই অধ্যাপক।

গবেষণা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাবে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তহবিল বা বাজেট পেলে বড় আকারে গবেষণা করার চেষ্টা করব।’

গবেষণা প্রকল্পটি ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ইনঅর্গানিক কেমিস্ট্রি, ওয়াইলি’ নামের একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল একক ব্যবহারের বর্জ্য পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর করে পরিবেশ রক্ষা করা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এই গবেষণা প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাফীস আহমেদ, ড. জয়ন্ত কুমার সাহা এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত চন্দ্র রায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল রহমান ও জুনায়েদ মাহমুদ শুভ গবেষণায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Artemis mission opens human journey to Mars

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপন আর্টেমিস প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য। ছবি: সংগৃহীত
নাসা বলছে, আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিতের জন্য বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালানো হবে। এরপর চাঁদ ও এর চারপাশ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ফাইভ পর্যন্ত মিশনের ছক চূড়ান্ত হয়েছে।

আর্টেমিস ওয়ান মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বিজয় নিশান আরও সংহত হতে যাচ্ছে। তবে গোটা আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য আরও উচ্চাভিলাষী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে মানুষের মঙ্গলগ্রহে পৌঁছানোর অভিযান। কারণ কয়েক ধাপের আর্টেমিস মিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য চাঁদের বুকে বসে মঙ্গলে পৌঁছানোর কৌশল নির্ধারণ।

আর্টেমিস প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হবে বেশ কয়েকটি ধাপে, যার মধ্যে মিশন ওয়ানের আওতায় বুধবার চাঁদের চারপাশের কক্ষপথের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে ওরিয়ন স্পেসক্রাফট।

সব ঠিক থাকলে ২৫ দিন পর পৃথিবীতে ফিরে আসবে এই স্পেসক্রাফট। এটি অবতরণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসগরের বুকে।

আর্টেমিস প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। এতে সহায়তা করছে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ), জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জেএএক্সএ) এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)।

চলমান আর্টেমিস ওয়ান মিশনে পাঠানো হয়েছে মানুষবিহীন স্পেসক্রাফট। তবে ২০২৪ সালে আর্টেমিস টু মিশনে যে স্পেসক্রাফট পাঠানো হবে, তাতে থাকবে মানুষ। ওই মিশনও ঘুরপাক খাবে চাঁদের চারপাশে। ফলে চন্দ্রপৃষ্ঠে পড়বে না মানুষের পায়ের ছাপ।

তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিকঠাক থাকলে পরের বছর ২০২৫ সালে আর্টেমিস থ্রি মিশনে পাঠানো নভোচারীরা পা রাখবেন চাঁদের বুকে।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো সেভেন্টিন মিশনের পর আর্টেমিস থ্রি মিশনেই প্রথমবার চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। শুধু তা-ই নয়, ওই মিশনটি আরও দুটি কারণেও নতুন ইতিহাসের জন্ম দেবে।

আর্টেমিস থ্রি মিশনে স্পেসক্রাফটে থাকা একজন নারী এবং একজন অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী অবতরণ করবেন চাঁদের বুকে। তারা সেখানে থাকবেন প্রায় সাড়ে ছয় দিন। এরপর ফিরে আসবেন মূল স্পেসক্রাফটে, যেখানে থাকবেন আরও দুই নভোচারী।

নাসা বলছে, আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিতের জন্য বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালানো হবে। এরপর চাঁদ ও এর চারপাশ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ফাইভ পর্যন্ত মিশনের ছক চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রথম ধাপে বুধবার শুরু করা আর্টেমিস ওয়ানের মাধ্যমে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) এবং মানুষবিহীন ওরিয়ন স্পেসক্রাফটের পরীক্ষামূলক যাত্রা করেছে।

কোনো স্পেসক্রাফকে মহাকাশে পাঠাতে বর্তমানে ব্যবহৃত যেকোনো লঞ্চ ভেহিকেলের মধ্যে এসএলএসকে সর্বোচ্চ ভরবহন ক্ষমতার বলে দাবি করছে নাসা। স্পেস শাটলের উত্তরসূরি এই এসএলএসে যুক্ত করা হয়েছে এখনকার সময় পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিধর রকেট।

এসএলএসের রকেটের ক্ষমতা সম্পর্কে নাসা বলছে, কোনো মহাকাশযানকে চাঁদে পৌঁছাতে হলে উৎক্ষেপণের সময় শক্তিশালী রকেটের প্রয়োজন, যাতে এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে উপেক্ষা করে সুনির্দিষ্ট গতিপথে থাকতে পারে। আর্টেমিস ওয়ান মিশনের স্পেস লঞ্চ সিস্টেমে (এসএলএস) ব্যবহৃত রকেট সর্বোচ্চ ৮৮ লাখ পাউন্ড ধাক্কা (থ্রাস্ট) তৈরিতে সক্ষম।

আর্টেমিস মিশনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এসএলএস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। এর মধ্যে প্রথম চারটি মিশনের পর স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাপনা ডিপ স্পেস ট্রান্সপোর্ট এলএলসিতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের একটি যৌথ উদ্যোগ হলো এই ডিপ স্পেস ট্রান্সপোর্ট এলএলসি।

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা
আর্টেমিস ওয়ান মিশন যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে

আর্টেমিস ওয়ান মিশনের লক্ষ্য এসএলএসের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং চাঁদের চারপাশের কক্ষপথে ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে ঘুরপাক খাইয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। ওরিয়ন ক্যাপসুল পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগেই সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা হবে, এরপর প্যারাসুট খুলে নামবে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে।

এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে আর্টেমিস টু মিশনে ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকবেন চারজন নভোচারী। ওই মিশনে মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে ঘুরপাক খেয়ে ফিরে আসবে পৃথিবীতে।

পরের বছর আর্টেমিস থ্রি মিশনে চাঁদের বুকে পা রাখবেন দুই নভোচারী। মিশনটি পরিচালনার আগে চাঁদের কাছাকাছি একটি কক্ষপথে হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম (এইচএলএস) স্থাপন করবে নাসা। সেই এনআরএইচওতে পৌঁছানোর পর ওরিয়নের চার নভোচারীর মধ্যে দুজন সেখান থেকে ক্যাপসুলের মাধ্যমে চাঁদে অবতরণ করবেন। বাকি দুজন থাকবেন মূল মহাকাশযানে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই নভোচারী চন্দ্রপৃষ্ঠে সাড়ে ছয় দিন থাকার পর ফিরে আসবেন ওরিয়নে। এরপর চার নভোচারী রওনা দেবেন পৃথিবীতে।

এর দুই বছর পর ২০২৭ সালের আর্টেমিস ফোর মিশনেও থাকবেন নভোচারীরা। তারা চাঁদের চারপাশের কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান লুনার গেটওয়ে স্টেশনে অবতরণ করবেন। নভোচারীরা যাওয়ার আগেই এসএলএসের মাধ্যমে পাঠানো ওয়ানবি ব্লকের সাহায্যে তৈরি হবে দুটি গেটওয়ে মডিউল।

পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশন এবং তারপরের অন্য মিশনগুলোতেও থাকবেন নভোচারীরা। তারা চাঁদে আবাসস্থল নির্মাণ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং সম্পদ আহরণের সরঞ্জাম সক্রিয় করার দায়িত্ব পাবেন। একইসঙ্গে চাঁদ থেকে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিও শুরু হবে।

নাসার অ্যাপলো মিশনের মাধ্যমে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চাঁদে অবতরণ করেছিলেন নভোচারীরা। আর এবারের আর্টেমিস মিশনে চাঁদ পেরিয়ে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে দেয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য রয়েছে।

জানিয়ে রাখা ভালো, আর্টেমিস হলেন গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর জমজ বোন এবং গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী চাঁদের দেবী।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত
ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
এসএলএস উৎক্ষেপণের নতুন ক্ষণ জানাল নাসা
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Air pollution can cause cardiac arrest

দূষিত বাতাসে থমকে যেতে পারে হৃদযন্ত্র

দূষিত বাতাসে থমকে যেতে পারে হৃদযন্ত্র
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, উচ্চমাত্রার দূষণের সংস্পর্শে আসার ৩ থেকে ৫ দিন পরে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমতে শুরু করে। ফলে বোঝা যায়, হৃদযন্ত্রের ওপর বাতাসের ক্ষুদ্র কণার প্রভাব স্বল্পমেয়াদি।

দূষিত বাতাসে ভেসে বেড়ানো অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা মানুষের হৃদযন্ত্র আকস্মিক বিকল করে দেয়ার (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সিঙ্গাপুরে আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ভয়াবহ আশঙ্কা জানিয়েছেন একদল বিজ্ঞানী।

গবেষণায় মানুষের চুলের প্রস্থের চেয়ে কমপক্ষে ২৫ গুণ ছোট বস্তু বা পিএম২.৫ কণার স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যালোচনা করেছেন বিজ্ঞানীরা। আকারে অত্যন্ত ছোট হওয়ার কারণে এগুলো নিশ্বাসের সঙ্গে সহজেই মানবদেহে প্রবেশ করে। দেখা গেছে এসব কণা অটোইমিউন রোগসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।

২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত ১৮ হাজার রোগীর স্বাস্থ্যগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে গবেষণায়। দেখা গেছে অন্তত ৪৯২টি ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র আকস্মিক বিকল হওয়ার পেছনে বাতাসে পিএম২.৫-এর বেশি ঘনত্ব দায়ী।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনইউএস মেডিক্যাল স্কুলের মহামারি বিশেষজ্ঞ জোয়েল আইক বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের বাইরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সঙ্গে পিএম২.৫-এর একটি স্বল্পমেয়াদি সংযোগের পরিষ্কার প্রমাণ খুঁজে পেয়েছি। এ কারণে প্রায়ই আকস্মিক মৃত্যু ঘটে থাকে।’

তবে এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আমরা কেবল দূষণের মাত্রা এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে অনুমান করতে পারি। আমাদের একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে বায়ুমান সম্পর্কিত তথ্যের সঙ্গে একজন ব্যক্তি কতটা মাত্রায় সেটি গ্রহণ করেছেন তা নিশ্চিত করা যায় না।’

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকির সঙ্গে দূষিত বায়ুর সম্পর্কের বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ অবশ্য রয়েছে গবেষণায়। গবেষণা পরিচালিত এলাকার প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে গড়ে দৈনিক পিএম২.৫ ঘনত্ব ছিল ১৮.৪৪ মাইক্রোগ্রাম। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রতি ঘনমিটারে এই ঘনত্ব এক মাইক্রোগ্রাম কমলে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ৪ শতাংশ কমে যায়। আর প্রতি ঘনমিটারে ৩ মাইক্রোগ্রাম ঘনত্ব কমলে এই ঝুঁকি কমে ৩০ শতাংশ।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, উচ্চমাত্রার দূষণের সংস্পর্শে আসার তিন থেকে পাঁচ দিন পরে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমতে শুরু করে। ফলে বোঝা যায়, হৃদযন্ত্রের ওপর বাতাসের ক্ষুদ্র কণার প্রভাব স্বল্পমেয়াদি। এ কারণে জীবনরক্ষা ও হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে শহরের বাতাস পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে গবেষণায়।

জোয়েল আইক বলেন, ‘গবেষণার ফল থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বাতাসে ২.৫ মাইক্রোগ্রাম বা এর চেয়ে ছোট কণার উপস্থিতি কমানো গেলে সিঙ্গাপুরবাসীর আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কমবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর চাপও কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
৭ মাস কোমায় থাকা সাফিয়ার সন্তান প্রসব
যে বাবল ফাটবে না এক বছরেও
গর্ভে শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটি সারানো কতটা সম্ভব?
নাক দিয়েও দেখতে পায় কুকুর
ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Hand grown artificial nose placed on womans face

হাতে গজানো কৃত্রিম নাক নারীর মুখে স্থাপন

হাতে গজানো কৃত্রিম নাক নারীর মুখে স্থাপন নারীর হাতে প্রোসথেটিক পদ্ধতির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে নাক তৈরি করা হয়। ছবি: তুলুজ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল
ন্যাজাল ক্যাভিটি ক্যানসারে আক্রান্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর তুলুজের বাসিন্দা ওই নারী ২০১৩ সালে রেডিওথেরাপি ও ক্যামোথেরাপি নেয়ার সময় নাক হারান। তখন নাকের স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এরপর চিকিৎসকদল তার হাতে কৃত্রিম নাক তৈরির কাজ শুরু করেন।

নারীর হাতে থ্রি-ডি প্রিন্টারের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে নাক তৈরি করে তা সফলভাবে তার মুখমণ্ডলে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফ্রান্সের এক দল চিকিৎসক এমন অসাধ্য সাধন করেছেন। ক্যানসারের চিকিৎসায় নাকসহ মুখের একাংশ হারিয়েছিলেন ওই নারী।

ন্যাজাল ক্যাভিটি ক্যানসারে আক্রান্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর তুলুজের বাসিন্দা ওই নারী ২০১৩ সালে রেডিওথেরাপি ও ক্যামোথেরাপি নেয়ার সময় তার নাক হারান। তখন নাকের স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এর পর প্রায় এক দশক তিনি নাক ছাড়াই দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন।

একপর্যায়ে চিকিৎসকদল তার হাতে কৃত্রিম নাক তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রোসথেটিক পদ্ধতির মাধ্যমে এই নাক তৈরিতে কয়েকবার তারা ব্যর্থও হয়েছিলেন।

তুলুজ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের বিশেষজ্ঞরা ওই নারীর শরীর থেকে কোষ নিয়ে থ্রি-ডি ফরম্যাটে অবয়ব তৈরি করে তা গজানোর জন্য স্থাপন করা হয় তার বাম হাতে। সেটি ধীরে ধীরে নাকের আকৃতি পায়। দুই মাসের মধ্যে এটি প্রতিস্থাপনের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়।

তুলুজ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কৃত্রিমভাবে তৈরি করা অঙ্গটি সফলভাবে প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে অধ্যাপক অ্যাগনেস ডুপ্রেট-বোরিস এবং ডা. বেঞ্জামিন ভাইরেল নেতৃত্ব দেন। জটিল এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই নাকের সঙ্গে শরীরের রক্তনালীর সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন শুরু হয়েছে কৃত্রিম নাকে।

আরও পড়ুন:
গর্ভে শিশুর হৃদযন্ত্রে ত্রুটি সারানো কতটা সম্ভব?
নাক দিয়েও দেখতে পায় কুকুর
ঢাবির গবেষণা মেলায় আরবি হরফের কঙ্কাল কীভাবে
সন্তান পরিবর্তন আনে বাবাদের মস্তিষ্কেও
হঠাৎ ব্রেকআপ? সামলাবেন কীভাবে?

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Ryan got free treatment worth 22 crore rupees

বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান

বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান বিরল স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় রাজধানীর শ্যামলীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ২৩ মাস বয়সী রাইয়ানকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে নব উদ্ভাবিত ২২ কোটি টাকার ওষুধ। ছবি: নিউজবাংলা
নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে জিন থেরাপির চিকিৎসা এই প্রথম। তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির আবিষ্কার ও সীমিত পরিসরে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নোভার্টিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা জানায়, লটারির মাধ্যমে প্রতি মাসে তারা দুটি ওষুধ বিনা মূল্যে দেবে। তারই একটি পেয়েছে শিশুটি।’

সাধারণ পরিবারের সন্তান রাইয়ান। বয়স দুই বছরও হয়নি। অথচ শিশুটি এমন এক রোগে আক্রান্ত, যার চিকিৎসা তিন বছর আগেও ছিল না। তবে সৌভাগ্যই বলতে হবে। রাইয়ান এই রোগের চিকিৎসা পেয়েছে বিনা মূল্যে, যে ওষুধটির দাম ২২ কোটি টাকা।

রাইয়ানের এই চিকিৎসার মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি মাইলফলকও স্থাপিত হয়েছে। বিরল এক স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় রাজধানীর শ্যামলীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ২৩ মাস বয়সী এই শিশুকে দেয়া হয়েছে নব উদ্ভাবিত জিন থেরাপি। দেশের ইতিহাসে এমন চিকিৎসা এই প্রথম।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন সাফল্য নিয়ে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি বলেন, “নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে রাইয়ান নামের এক শিশুকে নিয়ে আসা হয়। শিশুটি স্নায়ু রোগ ‘স্পাইনাল মাস্কুলার এট্রফি’-তে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এই রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরল ঘটনা। কারণ তিন বছর আগেও এই রোগের কোনো চিকিৎসা দেশে ছিল না।”

ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অ্যাক্টিভিটিগুলো ব্রেইন বা মস্তিষ্ক থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে যে স্নায়ু আমাদের হাত-পা ও মাংসপেশির কার্যক্রমের জন্য স্পাইনাল কর্ড থেকে আসে, সেটা জন্মগতভাবে ড্যামেজ থাকে।

‘এই রোগের কয়েকটি ধরন আছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি এবং টাইপ ফোর। টাইপ ওয়ানে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত দুই বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যায়। টাইপ টু-এর ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে এই রোগে আক্রান্তরাও বেশিদিন বাঁচে না।’

এই নিউরোলজিস্ট বলেন, ‘রাইয়ানের বয়স যখন সাত মাস তখন ওকে আমাদের কাছে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ডায়াগনসিস করি যে শিশুটি স্পাইনাল মাস্কুলার এট্রফিতে আক্রান্ত। পরবর্তী সময়ে সেটাই ধরা পড়ে।

‘আমরা ভাবছিলাম শিশুটির জন্য কী করতে পারি, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রফেসর নারায়ণ সাহা জানতে পারেন জিন থেরাপি সম্পর্কে। আমরাও তখনই প্রথম জানতে পারি যে নোভার্টিজ নামে একটি কোম্পানি এটি আবিষ্কার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ২০১৯ সালে এটি অনুমোদন দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর চিকিৎসাও শুরু হয়েছে।’

ভাগ্যবান রাইয়ান

আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি জেনেটিক রোগ। টাইপ অনুযায়ী এই রোগ বিভিন্ন বয়সে হতে পারে। তবে শিশুকালেই সাধারণত এর উপস্থিতি বোঝা যায়। কারণ এই রোগের কারণে শিশুর নড়াচড়া ও স্বাভাবিক ডেভেলপমেন্ট সঠিকভাবে হয় না।

‘স্পাইনাল মাস্কুলার এট্রফি রোগের চিকিৎসা এত ব্যয়বহুল যে আমাদের মতো দেশে তা সবার ক্ষেত্রে সম্ভব না। তখন আমরা নোভার্টিজের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের জানায়, দরিদ্র রোগীদের জন্য প্রতি মাসে দুজনকে ওষুধটি তারা লটারির মাধ্যমে বিনা মূল্যে দেবে। আমরা নোভার্টিজকে বলি রাইয়ানের নামটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।’

রাইয়ান সেই ভাগ্যবান যার নাম লটারির মাধ্যমে সিলেক্ট হয়। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ওষুধটি বাংলাদেশে পৌঁছে। এই জিন থেরাপি দেয়ার পর শিশুটি ভালো আছে। কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া হয়নি।’

ব্যয় কত?

অধ্যাপক আরিফুল জানান, ওষুধটির দাম ২২ কোটি টাকা। এত বেশি দাম কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেকের মেধা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে ওষুধটি আবিষ্কার করা হয়েছে। এ জন্য অনেক রিসার্চ করতে হয়েছে। কয়েকটি ট্রায়ালের মাধ্যমে এই বিরল রোগের ওষুধটি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে।

ওষুধটি এখন‌ও সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। যেকোনো ওষুধ যেগুলো ব্যাপক গবেষণার মধ্য দিয়ে আবিষ্কার হয় সেসবের দাম প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাভবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে শুরুর দিকে এতটা ব্যয়বহুল হলেও ধীরে ধীরে দাম কমে আসবে আশা করা যায়।’

রাইয়ানকে চিকিৎসা দেয়া আরেকজন চিকিৎসক জোবায়দা পারভীন বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে রাইয়ানকে ২৫ অক্টোবর আমরা এই চিকিৎসা দেই। শিশুটি যে রোগ নিয়ে এসেছে, এ রকম লক্ষ্মণ দেখা দিলে শুরুতেই কোনো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। অনেকে বুঝতে পারে না বলে দেরি করে ফেলে। এতে অবস্থা আরও জটিল হতে পারে।’

তিনিও জানান, এই জিন থেরাপি দেয়ার পর শিশু রাইয়ান এখন ভালো আছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেডে খেলছে রাইয়ান। স্বজনরা পাশে বসে ওকে দেখছেন।

শিশুটি এমন রোগে আক্রান্ত তা কীভাবে বুঝতে পারলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রাইয়ানের দাদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম থেইকা নড়াচড়া কম কইর তো। ঘাড় শক্ত আছিল না। ডাক্তার যখন কইল চিকিৎসা নাই, তখন আমরা আশা ছাইড়া দিছিলাম। পরে এই লটারির কথা জোবায়দা আপা জানাইল।’

এখন কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, থেরাপি দেয়ার পর শিশুটি আগের চেয়ে ভালো আছে। নড়াচড়াও করছে বেশ ভালোভাবে।

আরও পড়ুন:
‘দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলেন’ শিক্ষক রোকসানা
বিয়ে বিচ্ছেদের সংঘাত থামাতে গিয়ে বৃদ্ধ খুন

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
The blood made in the laboratory was given to the human body

গবেষণাগারে বানানো রক্ত মানবশরীরে

গবেষণাগারে বানানো রক্ত মানবশরীরে প্রতীকী ছবি
এমনও অনেক রোগ আছে যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত দিতে হয় নির্দিষ্ট সময় পর পর। সিকেল সেল অ্যানিমিয়া ওই রোগগুলোর একটি। এতে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে।

রক্তের অভাবে জীবন বিপন্ন হওয়ার দিন বোধ হয় শেষ হতে চলেছে। বিজ্ঞান সহজ করে দিচ্ছে সে পথ। প্রথমবারের মতো গবেষণাগারে বানানো রক্ত দেয়া হয়েছে মানবশরীরে।

যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে দুজন মানুষের শরীরে ওই রক্ত প্রবেশ করিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি

খুব অল্প পরিমাণে রক্ত ব্যবহার করা হয়েছে এ পরীক্ষায়। এখন বিজ্ঞানীরা তাদের ওপর পর্যবেক্ষণ করছেন। রক্তের সেলের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সহজে মেলে না এমন রক্তের গ্রুপের মানুষ আছে পৃথিবীতে। তাদের কথা চিন্তা করেই গবেষণায় বেশ জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এমনও অনেক রোগ আছে যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত দিতে হয় নির্দিষ্ট সময় পর পর। সিকেল সেল অ্যানিমিয়া ওই রোগগুলোর একটি। এতে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে।

এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট এবং ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ নেতৃত্বে চলছে রক্ত নিয়ে এই গবেষণা। প্রাথমিকভাবে দুই দুজন স্বেচ্ছাসেবী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, সব মিলিয়ে এতে অংশ নেবেন ১০ জন।

চার মাসের ব্যবধানে এই স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে দুই ধরনের অর্থাৎ সাধারণ রক্ত ও গবেষণাগারে বানানো রক্ত প্রবেশ করানো হবে। এর ফলের ওপর নির্ভর করেই এগোবে গবেষণা। গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখছেন, গবেষণাগারে বানানো রক্তকোষ দিয়ে স্বাভাবিক রক্তকোষের কাজগুলোকে ঠিকভাবে করানো যায় কি না।

এর আগেও অবশ্য কৃত্রিম রক্ত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্য এই রক্তকোষ দিয়ে মানবদেহের রক্তের অভাব পূরণ সম্ভব হলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য অকার্যকর বিষয়টি। তবে এবার আশাবাদী গবেষকরা।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাসলে ট্রয়ী বলেন, ‘এমন কয়েকটি রক্তের গ্রুপ আছে, যা সত্যি বিরল। এসব কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা ভবিষ্যতে যতটা সম্ভব রক্ত তৈরি করতে চাই।’

তবে এই গবেষণা আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব প্রেক্ষাপটে সব মিলিয়ে বাধা পেরিয়ে গবেষণাটি সফল হলে তা হবে সভ্যতার জন্য এক বড় অবদান।

আরও পড়ুন:
৩৬ বছরে ১১৮ বার রক্ত দিয়ে দেশসেরা
দেশে ব্লাড ব্যাংকের অভাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রক্তদানে এখনও বড় ঘাটতি, মরণোত্তর চক্ষুদান নাজুক

মন্তব্য

p
উপরে