× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Emore Family Guard to prevent online scams
hear-news
player
google_news print-icon

অনলাইন স্ক্যাম রোধে ইমোর ‘ফ্যামিলি গার্ড’

অনলাইন-স্ক্যাম-রোধে-ইমোর-ফ্যামিলি-গার্ড
ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনা করে, ইমো শীঘ্রই ‘ডিজঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ নামে আরেকটি ফিচার নিয়ে আসবে, যা ব্যবহারকারীদের অন্যদের সাথে চ্যাট করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর মুছে ফেলার সুযোগ করে দেবে।

ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত উপায়ে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সেবা দিতে ‘ফ্যামিলি গার্ড’ নামে ফিচার উন্মোচন করেছে ইমো।

ফিচারটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরও মজবুত করল প্ল্যাটফর্মটি।

এ ফিচারের ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের কাছের মানুষদের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এবং হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। সুরক্ষিত কোনো অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে যদি অস্বাভাবিক কোনো কর্মকাণ্ড দেখা যায় সেক্ষেত্রে অভিভাবকরা সেফটি অ্যালার্ট পাবেন। এর মাধ্যমে অভিভাবকরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করতে পারবেন।

বাংলাদেশে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সচেতনতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি, অনেকেই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ব্যাপারে অতোটা দক্ষ নন। যখন কোনো সুরক্ষিত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ঘটনা; যেমন: লগ-ইন করার চেষ্টা, ফোন নম্বর পরিবর্তন এবং অপরিচিত ডিভাইস বা লোকেশন থেকে অ্যাকাউন্ট ডিলিটের চেষ্টার মতো অপ্রত্যাশিত কোনো প্রচেষ্টা দেখা যাবে, তখনই সম্ভ্যাব্য এসব ঝুঁকি থেকে অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় অভিভাবকরা সেফটি অ্যালার্ট পাবেন।

সিকিউরিটি অ্যালার্ট পাওয়া মাত্রই ‘রিমাইন্ড ফ্রেন্ড’ বাটনে ক্লিক করতে পারবেন। এতে ওই ব্যবহারকারীর কাছে তাৎক্ষণিক বার্তা চলে যাবে। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় অভিভাবক ওই অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীর সাথে প্রাইভেটলি যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ফিচার ব্যবহার করে, ইমো ব্যবহারকারীরা সাইবার হামলা ও অনলাইন স্ক্যাম থেকে স্বাচ্ছন্দ্যদায়কভাবে ও সহজে তাদের কাছের মানুষদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনা করে, ইমো শীঘ্রই ‘ডিজঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ নামে আরেকটি ফিচার নিয়ে আসবে, যা ব্যবহারকারীদের অন্যদের সাথে চ্যাট করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর মুছে ফেলার সুযোগ করে দেবে।

আরও পড়ুন:
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিল ইমো
ইমো চ্যানেলে আন্তর্জাতিক রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসার প্রবৃদ্ধি
বন্যাদুর্গতদের ফ্রি ডাটা দিচ্ছে ইমো
লালপুর থেকে ৫ ‘ইমো হ্যাকার’ আটক
লাভ ইমোজিতে সাবধান!

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Saudi Aqua will produce solar power

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি অ্যাকোয়া

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি অ্যাকোয়া ময়মনসিংহ গৌরীপুরের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘সৌদি কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ারের এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য। বাংলাদেশ নানাভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে উৎসাহিত করছে।’

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য ১০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌদি আরবের কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ার (এসিডব্লিউএ)।

একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে এ লক্ষ্যে সোমবার নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক সই করেছে কোম্পানিটি।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সৌদি আরবের এসিডব্লিউএর বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে ক্লিন এনার্জি অর্জনে সহায়তা করবে।

‘সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সৌদি কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ারের এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য। বাংলাদেশ নানাভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে উৎসাহিত করছে।’

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা ও অ্যাকোয়া পাওয়ারের ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আয়াদ আল আমরি সই করেন।

দশটি আর্টিক্যাল-সংবলিত নন বাইন্ডিং এই সমঝোতা স্মারকে অ্যাকোয়া পাওয়ার বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা করবে এবং পিডিবি প্রশাসনিক সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎসচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসেফ আল দুহাইলান বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ সাফল্য নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বই

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Information of 48 million WhatsApp users leaked

বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৪৮ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস

বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৪৮ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ভারতের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্যও ফাঁস হয়েছে, যা অনলাইনে বিক্রি করার জন্য রাখা হয়েছে।

৪৮ কোটি ৭০ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাইবার নিউজ। এক প্রতিবেদনে তারা বলেছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৪টি দেশের সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য রয়েছে সেখানে।

হ্যাক করা তথ্য বিক্রির জন্য অনলাইনে তোলা হয়ছেন। সাইবার নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু আমেরিকান নাগরিকদের ডেটাবেজটি কিনতে চাইলে হ্যাকারকে সাত হাজার ডলার দিতে হবে। অন্যদিকে ব্রিটেনের ডেটাসেটের দাম হাঁকা হয়েছে ২৫০০ ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারের হাতে রয়েছে। এগুলো কত দামে বিক্রি করা হবে, সেটা জানা যায়নি।

তথ্য বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রমাণ হিসেবে ১০৯৭টি নম্বর শেয়ার করেছে। সাইবার নিউজ নম্বরগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে, সেগুলো সবই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের।

এটাই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির ঘটনা।

বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ভারতের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে, যা অনলাইনে বিক্রি করার জন্য রাখা হয়েছে।

স্প্যামিং, ফিশিং, আইডেন্টিটি থেফট এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ কার্যকলাপের জন্য এই ডেটাবেজ ব্যবহার করতে পারে হ্যাকাররা।

নিজের নম্বর হ্যাকারের লিস্টে আছে কি না, সেটা জানার কোনো উপায় আপাতত নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ। এর আগেও একবার হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেবার ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল ফোন নম্বর, ব্যবহারকারীর নাম, অবস্থানসহ অন্যান্য তথ্য।

আরও পড়ুন:
ইমো হ্যাকার চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার
অন্যের পণ্য ‘লোভনীয় ছাড়ে’ বিক্রি করছে হ্যাকাররা!
ভারতে মুঠোফোন হ্যাক, অস্বীকার করল কেন্দ্র
মেয়েদের ফেসবুক আইডি হ্যাক যে কৌশলে
নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে যুবক আটক

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Ransomware is one of the most common cybercrime threats

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার
গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবন ও সাইবার নিরাপত্তার গ্লোবাল লিডার সফোস আজ তাদের ২০২৩ সালের থ্রেট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কীভাবে সাইবার হুমকি একটা ল্যান্ডস্কেপে পৌঁছে নতুন করে এটি বাণিজ্যিকীকরণ এবং হামলাকারীদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে ফেলছে। অপরাধ করার উদ্দেশ্যে ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এতে প্রবেশে করার ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা সরিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে র‍্যানসামওয়্যার অপারেটররা তাদের চাঁদাবাজির নতুন কৌশল বের করছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সাইবার অপরাধের হুমকিগুলোর মধ্যে একটি।

জেনেসিসের মতো অপরাধমূলক আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলো দীর্ঘদিন ধরে ম্যালওয়্যার এবং ম্যালওয়্যার স্থাপনের পরিষেবা (ম্যালওয়্যার-অ্যাস-এ-সার্ভিস) কিনছে, পাশাপাশি চুরি হওয়া ক্রেডেনশিয়াল এবং অন্য সব ডেটা প্রচুর পরিমাণে বিক্রিও করেছে।

গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

২০২২ সালে এসে এই ‘পরিষেবা হিসাবে’ মডেলটি প্রসারিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে প্রাথমিক সংক্রমণ থেকে শনাক্তকরণ এড়ানোর উপায়গুলোসহ সাইবার ক্রাইম টুলকিটের প্রায় প্রতিটি দিক খুব সহজলভ্য হয়েছে।

‘পরিষেবা হিসাবে’ অর্থনীতির বিস্তৃতির সঙ্গে, আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার অপরাধী বাজারগুলো ক্রমবর্ধমান একটি পণ্য হয়ে উঠছে এবং সেটি মূলধারার ব্যবসার মতোই কাজ করছে৷ সাইবার অপরাধ ‘বিক্রেতারা’ কেবল তাদের পরিষেবার বিজ্ঞাপনই দিচ্ছে না বরং স্বতন্ত্র দক্ষের আক্রমণকারীদের চাকরিতে নিয়োগের অফারও করছে৷ সাইবার ক্রাইম অবকাঠামো যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি করে র‍্যানসামওয়্যার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠেছে।

গত এক বছর, র‍্যানসমওয়্যার অপারেটররা উইন্ডোজ ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সম্ভাব্য আক্রমণ পরিষেবা বাড়াতে কাজ করছে।

এমনকি এসব ক্ষেত্রে তাদের যেন শনাক্ত করা না যায় সে জন্য রাস্ট এবং গো-এর মতো নতুন ভাষাগুলোর সঙ্গে এটি মানিয়ে নেয়া শুরু করেছে। কিছু গ্রুপ, বিশেষ করে লকবিট ৩.০ তাদের ক্রিয়াকলাপগুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চাঁদাবাজির জন্য আরও ‘উদ্ভাবনী’ উপায় তৈরি করছে।

আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি শুধুমাত্র র‍্যানসমওয়্যার এবং ‘পরিষেবা হিসাবে’ এটি শিল্পের বৃদ্ধিকেই উৎসাহিত করেনি বরং ক্রেডেনশিয়াল চুরির চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন বা অনভিজ্ঞ অপরাধীদের আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের ‘ক্যারিয়ার’ শুরু করতে ক্রেডেনশিয়াল চুরি একটি অন্যতম সহজ উপায় হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে জানলেন ঢাবির সামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীরা
যত বেশি ডেটাবেজের ব্যবহার তত বেশি ঝুঁকি: আইজিপি
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ
সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তায় নারী পুলিশ

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
This time 10 thousand workers will be laid off Google

এবার ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে গুগল!

এবার ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে গুগল! প্রতীকী ছবি
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘যখন আপনার কাছে আগের তুলনায় কম কর্মী থাকে, তখন আপনার কাজ করার জন্য সমস্ত সঠিক জিনিসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

কিছুদিন আগেই অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। এর আগে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে ফেসবুকও। এবার গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে অ্যালফাবেট। যারা প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করতে পারছে না তাদেরকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। আগামী বছরের শুরুতেই এই ছাঁটাই শুরু হবে। এরইমধ্যে টিম ম্যানেজারদের কাছে কর্মীদের নতুন মূল্যায়ন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ছিল গুগলের। তবে এবার কোম্পানিটি ৬ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

গুগল বা অ্যালফাবেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলেও সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সে সময় পিচাই বলেন, ‘যখন আপনার কাছে আগের তুলনায় কম কর্মী থাকে, তখন আপনার কাজ করার জন্য সমস্ত সঠিক জিনিসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

দ্য ইনফরমেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির সময় অনলাইনে কার্যক্রম বাড়ায় বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে মহামারি কমে গেলে তারা এটি আর ধরে রাখতে পারেনি। উল্টো কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে কোম্পানিগুলো।

ফেসবুক এরইমধ্যে ১১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। যা কোম্পানিটির মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া সম্প্রতি টুইটারও কোম্পানিটির ৬০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে।

এদিকে বাইরের বিনিয়োগকারীদের চাপে ছাঁটাইয়ের পথে এবার হাঁটছে গুগলও।

বিনিয়োগকারী কোম্পানি টিসিআই ফান্ড ম্যানেজমেন্ট সম্প্রতি গুগলকে কর্মী ছাঁটাইয়ের আহ্বান জানায়। ২০১৭ সাল থেকে কোম্পানি ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়গ করেছে অ্যালফাবেটে।

টিসিআই ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জানায়, অ্যালফাবেট কিছু কর্মীকে খুব বেশি পারিশ্রমিক দেয়।

আরও পড়ুন:
গুগলকে ফের জরিমানা করল ভারত
বাজে প্রশ্নে সাড়া দেবে না গুগল  
মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
‘মানুষের মতো অনুভূতি’ আছে ল্যামডার
গুগল চশমায় যেকোনো ভাষার অনুবাদ

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
New blue ticks on Twitter suspended

টুইটারে নতুন করে নীল টিক প্রদান স্থগিত

টুইটারে নতুন করে নীল টিক প্রদান স্থগিত ছবি: সংগৃহীত
মাস্ক এক টুইট বার্তায় জানান, ফেইক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে যত সময় লাগবে ততদিন নতুন করে নীল টিক সাবক্রিপশন দেয়া বন্ধ থাকবে।

টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, টুইটার সাময়িকভাবে নতুন করে নীল টিক দেয়ার সেবা বন্ধ করেছে। কিছুদিন পর সেবাটি আবার চালু হবে

মাস্ক এক টুইট বার্তায় জানান, ফেইক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে যত সময় লাগবে ততদিন নতুন করে নীল টিক সাবক্রিপশন দেয়া বন্ধ থাকবে।

বার্তায় তিনি আরও জানান, আগামীতে ব্যক্তি ও সংগঠনের জন্য নীল রংয়ের পাশাপাশি অন্যান্য রংয়ের টিক দেয়ার সম্ভাব‍না রয়েছে। আগে নীল টিক চিহ্নটি রাজনীতিবিদ, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ত্ব, সাংবাদিক এবং পাবলিক ফিগারদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

মাস্ক আরও জানান, গত সপ্তাহে ১.৬ মিলিয়ন টুইটার ব্যবহারকারী বেড়েছে।

সম্প্রতি টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের পাশে ভেরিফিকেশন চিহ্ন হিসেবে নীল টিকের জন্য মাসে ৮ ডলার ফি নির্ধারণ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নতুন মালিক ইলন মাস্ক।

আরও পড়ুন:
ছাঁটাই হওয়া কর্মীকে টুইটারের উপহার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে সমর্থন করতে বললেন মাস্ক
টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?
প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের
চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন টুইটার প্রতিষ্ঠাতা

মন্তব্য

চাকরি আছে টুইটারে

চাকরি আছে টুইটারে টুইটার কার্যালয়ে গত ২৭ অক্টোবর কর্মব্যস্ত ইলন মাস্ক। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

টুইটারের মালিকানা নেয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কর্মীদের বিপত্তির মুখে পড়া ইলন মাস্ক এবার প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মীদের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে

আগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) সরিয়ে নিজেই এই পদে আসা ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ও বিপণন বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে পদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি।

এমন একদিনে ইলন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলেন, যেদিন বিপণন বিভাগে কর্মী ছাঁটাই হবে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

একই সঙ্গে সান ফ্রান্সিসকো থেকে টুইটারের কার্যালয় টেক্সাসে সরিয়ে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই বলেও জানান তিনি।

নানা ঘটনার পর গত ২৭ অক্টোবর টুইটার কেনেন ইলন মাস্ক। প্রথমেই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতিবিষয়ক প্রধান বিজয়া গাড্ডেকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি। একে একে তিনি সব মিলিয়ে সাড়ে ৭ হাজার কর্মীর দুই-তৃতীয়াংশই ছাঁটাই করেছেন।

কর্মীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবারের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে দিয়েছেন ইলন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি ওই ঘোষণা দেন।

বৈঠকে টুইটারে ইলন মাস্ক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে। বাসায় বসে আর কাজ করার সুযোগ নেই। অফিসে ফ্রি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে।’

টুইটার অফিসে ফ্রি ওয়াইফাই সেবাও বন্ধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত যারা মেনে নেবেন, তারাই এখানে চাকরি করতে পারবেন। না চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন।

এতদিন একই সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন। সবশেষ দায়িত্ব নেন টুইটারের।

আরও পড়ুন:
কথা রাখলেন মাস্ক, টুইটারে ফিরলেন ট্রাম্প
সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে
টুইটার অফিসে ফ্রি খাওয়ার দিন শেষ

মন্তব্য

শিশুরা এখন অনেক বেশি জানে

শিশুরা এখন অনেক বেশি জানে অনেক অভিভাবক মনে করেন, ডিজিটাল ডিভাইস শিশুদের অগ্রসরমান করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সময় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, তার ইতিবাচকতা গ্রহণ করেই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে শিশুদের পরিবারের বাইরে একটা বড় বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি তাদের শিক্ষনকে এগিয়ে দিচ্ছে।

অফিস যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলেন অনির্বাণ বসু। হালকা শীতের সময় শরীর টানছিল বলে টেবিলে রাখা লোশন হাতে মাখছিলেন তিনি। এ সময় তার ছোট ভাই সাত বছরের ঈশান বলে বসল, ‘তুমি এই লোশন ব্যবহার করছ কেন? এটা তো বেবি লোশন। এটা কি তোমার ব্যবহার করার কথা?’

হতভম্ব অনির্বাণ তার ভাইকে বলেন, ‘বেবি লোশন তাতে সমস্যা নেই কোনো।’ জবাবে ঈশান বলে, ‘বেবি লোশন তো ১৮ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তুমি তো তারও চেয়েও বড়।’

ঈশানের মতো এখনকার শিশুরা শুধু লোশন নয়, অনেক কিছুই জানে। এক দশক আগেও ঈশানের বয়সী শিশুদের কাছে এসব বিষয় ছিল কল্পনারও বাইরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে এই গুণগত পরিবর্তনটি এসেছে।

প্রযুক্তির এই সময়ে এসে শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন অধিকাংশ বাবা-মা। সন্তানকে সামলে রাখতে পারেন না ভেবে অপরাধবোধেও ভোগেন অনেকে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুদের মনে ভিডিও গেমের ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি। ভিডিও গেম বুদ্ধি শানিয়ে তোলে শিশুদের।

জার্নাল অফ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ায় টিনএজ শিশুরা অন্যদের কণ্ঠস্বরকে আমলে নিতে শুরু করে বলেই মায়ের কণ্ঠ বাড়তি গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। এতে করে অনেক পিতা-মাতা মনে করেন শিশু অবাধ্য হয়ে উঠেছে।

বর্তমান প্রজন্মে শিশুদের জানার ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অন্যান্য বছরের মতোই এ বছর রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ’।

শিক্ষণের ক্ষেত্রে শিশুরা এখন আগের চেয়ে বেশি অগ্রসর হয়ে উঠছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, ডিজিটাল ডিভাইস মূলত শিশুদের অগ্রসরমান করে তুলেছে, আবার অনেকেই এটার নেতিবাচক দিক খুঁজে পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজ এবং অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে শিশুরা যেভাবে বড় হচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তির ব্যবহার বা প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা মূলত সময়ের বৈশিষ্ট্য। এখান থেকে বের হয়ে আসা বা প্রযুক্তি পরিহার করলে সেখানে পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘যে সময় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, তার ইতিবাচকতা গ্রহণ করেই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে শিশুদের পরিবারের বাইরে একটা বড় বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তি।’

প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মনস্তাত্ত্বিক পরিপক্বতার জায়গাটি আগে থেকেই সংগঠিত হয় বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশ্লেষক। তিনি বলনে, ‘শিশুরা তাদের নির্দিষ্ট বয়সের আগেই অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার আগেই মানসিক বয়সের দিক থেকে এগিয়ে থাকে। ৩০ বছর আগে যে শিশু বড় হয়েছে আর এখন যে শিশু বড় হচ্ছে, দুটোর মধ্যে তারতম্য থাকবে। আগামী ৩০ বছর পরেও যে শিশু জন্ম গ্রহণ করবে, সে আরও বেশি ফাস্ট হবে চিন্তায় বা উপলব্ধিতে।’

তিনি বলেন, ‘একটা শিশুকে আগে পৃথিবী সম্পর্কে, সমাজ সম্পর্কে, তার আচরণ সম্পর্কে জানতে হলে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। বই পড়া, বড়দের কাছ থেকে বোঝা বা শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করত। সেই সুযোগ সবার আছে কী নেই সেটা একটা ব্যাপার ছিল, কিন্তু এখন প্রযুক্তির কারণে সেটা উন্মুক্ত হয়েছে।

‘প্রযুক্তিতে নেতিবাচক বিষয় থাকলেও আমরা কিন্তু ইতিবাচক বিষয়গুলোকে সামনে আনার কথা বলি।’

এখন সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকদের আচরণের ধরনে পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে একটা রক্ষণাত্মক বিষয় ছিল। সেই জায়গায় এখন পরিবর্তন এসেছে। এখন শাসনের পরিবর্তে বুঝিয়ে বলার প্রবণতা বাড়ছে। বাবাদের সহজাত যে আচরণ আমরা জেনেছি, যে বাবারা একটু মেজাজি হবেন, তা কিন্তু এখন দেখা যায় না। তারা নমনীয়ভাবে কথা বলেন। আর এখন পিতা-মাতারাও প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটার তাগিদ অনুভব করেন।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গভারনেন্স বিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের শিশুদের তুলনায় এখনকার শিশুরা অনেক এগিয়ে আছে। আর এটার বড় কারণ তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে অফলাইন কানেকটিভিটি বেশি ছিল, যেটি এখন অনলাইনকেন্দ্রিক হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন বড়দের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগ বেড়েছে। আগে ভয় পেলেও এখন তাদের মধ্যে সেই ভয় কাজ করে না। অন্যদিকে বিশ্বায়নের কারণে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসাতেও অভ্যস্ত হচ্ছে তারা।’

এগুলোর নেতিবাচক দিক থাকলেও মামুন মনে করেন, ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে তাদের গাইড করা উচিত।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশুদের জ্ঞানের পরিধি বেড়েছে। তারা এখন আগের চেয়ে বেশি জানে, তবে এটার ইতিবাচকতার সঙ্গে নেতিবাচক প্রভাবও অনেক বেশি।’

তিনি বলনে, ‘উন্নত বিশ্বে শিশুদের আমাদের মতোই প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে সেটাকে ফিল্টার করা হয়। এমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন থাকে যা তাদের ইতিবাচক বিষয়গুলো শেখাতে পারে। আমাদের দেশেও সেটা করা উচিত। আকাশসীমার পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। মা-বাবাকেও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। সেটার ওপর নির্ভর করে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের বই পড়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ নিয়াজ মোহাম্মদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যখন একটা প্রজন্ম থেকে আর একটা প্রজন্মে যাই, তখন কিছু পরিবর্তন আসে। আর এটাকে সব সময় ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না।’

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলনে, ’৯০-এর দশকে আমরা যারা বড় হয়েছি, তখন প্রথম টেলিভিশন পেলে আমরা কিন্তু সেখানে সময় দিয়েছি। তখন কিন্তু অভিভাবকরা বলতেন টেলিভিশনের কারণে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে বা চোখের সমস্যা হচ্ছে। তবে তখন বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলাতে অথবা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ বেড়েছিল। এটা শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশে সাহায্য করেছে।

‘এখন ইন্টারনেট প্রযুক্তি এসেছে। আমরা যদি এখন শিশুদের দূরে রাখি, তাতে সে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়বে। তারা এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন দেখি বাবা-মায়েরা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন শিশুদের সঙ্গে। আমরা শিশুদের বলতে পারব কোনটা আমরা গ্রহণ করব বা বর্জন করব। ফেসবুক বা ইউটিউবের কনটেন্ট অনেক ক্ষেত্রে লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।’

শিশু বয়সে বিকাশমান মস্তিষ্ক থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে মোবাইলে অনেক কিছু আমার বুঝতে কষ্ট হলেও আমার সন্তানের ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর এই সময়টা শিক্ষণের বয়স। এমন অনেক দেখা গেছে যে শিক্ষক বা পিতা-মাতা সন্তানের সহযোগিতা নিয়ে জুম বা অনলাইন সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, এই প্রজন্ম এগিয়ে আছে বলে।’

আরও পড়ুন:
‘শিশুদের হাতে মোবাইল দেয়া যাবে না’
পথশিশুদের জন্য ‘কার্নিভাল অফ হোপ’

মন্তব্য

p
উপরে