× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
What you can do if you want to make a plastic bottle into a diamond
hear-news
player
google_news print-icon

প্লাস্টিক বোতলকে হীরা বানাতে চাইলে যা করতে পারেন

প্লাস্টিক-বোতলকে-হীরা-বানাতে-চাইলে-যা-করতে-পারেন
বিশেষ পরিবেশের সাহায্যে প্লাস্টিক থেকে হীরা বানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এটি কোনো গালগল্প নয়, একেবারে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া তথ্য। কৃত্রিমভাবে পৃথিবীতে বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে প্লাস্টিক পলিইথাইলিন টেরেপথ্যালেট বা পেট-কে হীরায় পরিণত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সফট ড্রিংকস গলায় ঢেলে বোতলটি ছুড়ে ফেলছেন যত্রতত্র। আজকাল বোতলজাত পানির চাহিদাও দেদার। এসব বোতলের পানি খেয়েও আমরা বোতল ফেলে দিই যেখানে-সেখানে। এসব প্লাস্টিক পলিইথাইলিন টেরেপথ্যালেট (পিইটি বা পেট) বোতল পরিবেশ দূষণে বড় ভূমিকা রাখছে। জলাধার করে তুলছে প্রাণের অনুপযুক্ত।

পৃথিবীর জন্য মহা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে এই পেট বোতল। এগুলো যুগের পর যুগ ধরেও পচে না, ফলে তৈরি হয়েছে অক্ষয় জঞ্জালের বিভীষিকা।

এবার কোনো এক বিশেষ যানে চেপে চলুন পৃথিবী থেকে ২৮৮ কোটি কিলোমিটার দূরের গ্রহ ইউরেনাসে। হাতে সময় থাকলে সফট ড্রিংকস গলায় ঢালতে ঢালতে আরও খানিকটা এগিয়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৩২ কোটি কিলোমিটার দূরের গ্রহ নেপচুনেও ঢুঁ মারতে পারেন। এতক্ষণে পেট বোতলের ড্রিংকস শেষ হয়ে এলে সেটি ছুড়ে ফেলুন ইউরেনাস বা নেপচুনের বুকে।

কী ঘটবে সেখানে?

বিশেষ কোনো ব্যবস্থায় ওখানে কিছুদিন কাটাতে পারলে নিশ্চিতভাবে আপনার চোখ কপালে উঠবে। কারণ নিদারুণ অবহেলায় যে বোতলটি ছুড়ে ফেলেছিলেন, সেটি ততদিনে হীরা হয়ে উঠেছে!!

এটি কোনো গালগল্প নয়, একেবারে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পাওয়া তথ্য। ওই দুটি গ্রহের মতোই পরিবেশ কৃত্রিমভাবে পৃথিবীতে তৈরি করে প্লাস্টিক পলিইথাইলিন টেরেপথ্যালেটকে হীরায় পরিণত হতে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞানীদের জানা ছিল, সৌরজগতের দুটি গ্রহ নেপচুন ও ইউরেনাসে রয়েছে হীরকখণ্ডের ছড়াছড়ি। এমনকি নিয়মিত সেখানে হীরার বৃষ্টিও হয়।

আমরা জানি, পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড চাপ ও তাপে হাইড্রোকার্বন হীরায় পরিণত হয়। তবে ইউরেনাস ও নেপচুনে হীরা গঠনের প্রক্রিয়া একেবারেই আলাদা।

জার্মানি ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী ২০১৭ সালে ল্যাবরেটরিতে ওই গ্রহ দুটির মতো কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে পলিস্টিরিন (স্টাইরোফোম) থেকে ছোট হীরার খণ্ড তৈরি করতে সক্ষম হন। একে তারা নাম দিয়েছেন ন্যানো-ডায়মন্ড।

পাঁচ বছর পর তারা আবারও একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এবার ব্যবহার করা হয়েছে আমাদের অতি পরিচিত প্লাস্টিক পলিইথাইলিন টেরেপথ্যালেট (পিইটি বা পেট)। মিনারেল ওয়াটার বা সফট ড্রিংকসের বোতল তৈরিতে পেট প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহার রয়েছে।

গবেষণার ফল শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক পিয়ার রিভিউ জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গবেষণাটি শুধু মহাকাশ নিয়ে আমাদের জ্ঞানভান্ডারকেই সমৃদ্ধ করবে না, একই সঙ্গে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক ব্যবহার করে ন্যানো-ডায়মন্ড তৈরিতেও সহায়ক হবে।

গবেষক দলের প্রধান ও জার্মানির হেলমহোল্ট-জেনট্রুম ড্রেসডেন রোজেনডর্ফ গবেষণাগারের বিজ্ঞানী ডমিনিক ক্রাউস জানান, শুরুতে তিনি ও তার সহ-গবেষকরা পলিস্টিরিন (স্টাইরোফোম) থেকে ন্যানো-ডায়মন্ডস তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ এতে নেপচুন ও ইউরেনাসের পরিবেশের মতো সমানুপাতিক কার্বন ও হাইড্রোজেন বিদ্যমান।

তারা পলিস্টিরিনকে লাইন্যাক কোহেরেন্ট লাইট সোর্স নামের এক ধরনের উচ্চশক্তির এক্স-রে লেজার দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। ক্যালিফোর্নিয়ার এসএলএসি ন্যাশনাল অ্যাক্সেলেটরি ল্যাবরেটরিতে এ পরীক্ষা চালানো হয়। পলিস্টিরিনকে লেজার দিয়ে আঘাত করার ফলে এর তাপমাত্রা বেড়ে ৫ হাজার কেলভিনে (৮ হাজার ৫৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে) পৌঁছায়। একই সঙ্গে একে ১৫০ গিগাপ্যাসক্যাল চাপে সংকুচিত করে ফেলা হয়। এ তাপ ও চাপ ইউরেনাস ও নেপচুনের ছয় হাজার মাইল অভ্যন্তরের চাপ ও তাপের সমান।

দ্রুত দুইবার লেজার দিয়ে আঘাতের ফলে আণুবীক্ষণিক হীরা তৈরি করতে পারলেও বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক উপাদান এতে নেই। আর সেই উপাদানটি হলো অক্সিজেন। এ কারণেই এবারের গবেষণায় পেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে।

পেট-এ হাইড্রোজেন ও কার্বনের পাশাপাশি অক্সিজেনের মিশ্রণও রয়েছে, যা ওই গ্রহ দুটির অভ্যন্তরের পরিবেশের আরও কাছাকাছি।

ক্রাউস বলেন, “ওই পরিবেশের রাসায়নিক অবস্থা খুবই জটিল ও প্রতিরূপ তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। বিজ্ঞানীরা জানেন, এমন পরিস্থিতি তৈরির সময় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমরা কিছু ক্ষেত্রে দেখছিলাম, অক্সিজেনের উপস্থিতি হাইড্রোজেন থেকে কার্বনকে আলাদা করতে ও হীরা তৈরিতে সাহায্য করে। তবে গবেষণায় উল্টো কিছুও ঘটতে পারত।’

তত্ত্বকে প্রমাণের জন্য ক্রাউস ও তার দল এক টুকরো পেট প্লাস্টিককে আগের মতোই অত্যধিক চাপ ও তাপের মধ্যে রাখেন। তবে এবার তারা যোগ করেছিলেন এক্স-রের ছোট কৌণিক বিচ্ছুরণ।

ক্রাউস বলেন, ‘আমরা দেখতে পেলাম, অক্সিজেনের উপস্থিতি হীরা তৈরিতে সাহায্য করছে, বাধা দিচ্ছে না। এটি থেকে বোঝা যায় ইউরেনাস ও নেপচুনে হীরার বৃষ্টি হওয়া সম্ভব। আমরা এও দেখেছি, উচ্চচাপ ও সময়ের সঙ্গে হীরার আকৃতি বড় হচ্ছে।’

তবে গবেষণাটির মূল বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য ছিল সৌরজগতের বরফময় দুই গ্রহ নেপচুন ও ইউরেনাসের চরম আবহাওয়ায় কী করে হীরার বৃষ্টি হয় সেটা জানা। ক্রাউস ও তার দলের ধারণা, এতদিন তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব বলে ধরে নেয়া বিশেষ ধরনের এক পানি তারা তৈরি করতে পেরেছেন।

বিশেষ এ পানির নাম সুপার-আয়নিক ওয়াটার। ২০১৮ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার-আয়নিক ওয়াটার তরল ও কঠিনের মাঝামাঝি অদ্ভু ত এক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ ধরনের পানি দিয়েই নেপচুন, ইউরেনাসের মতো বরফময় গ্রহের ভূত্বকের আবরণ তৈরি হয়েছে।

পৃথিবীতে এর কোনো ব্যবহার না থাকলেও মহাকাশের অনেক বস্তুর অদ্ভু ত চৌম্বক ক্ষেত্র কেন থাকে সেটির ব্যাখ্যা এ থেকে পাওয়া যায়।

ক্রাউসের মতে, বিশালাকৃতির বরফময় গ্রহে ন্যানো ডায়মন্ড খুঁজে পাওয়ার অর্থ- ওই গ্রহের পরিবেশে সুপার-আয়নিক ওয়াটারের মাত্রা বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষায় হীরার সঙ্গে যে সুপার-আয়নিক ওয়াটার তৈরি হয়েছে তার প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা দেখেছি, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থেকে কার্বন আলাদা হচ্ছে এবং গ্রহের ভেতর বিশুদ্ধ পানি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে ওই গ্রহগুলোতে হীরার বৃষ্টির পাশাপাশি সুপার-আয়নিক ওয়াটার তৈরির সম্ভাবনাও থাকছে।’

আরও পড়ুন:
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
মানুষ কেন উড়তে পারে না?
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই
পাথরকে ‘সেক্সটয়’ বানিয়ে বানরের স্বমেহন
অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
The freedom fighters son made his wife a sister to take advantage of the quota

কোটা সুবিধা নিতে স্ত্রীকে বোন বানালেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

কোটা সুবিধা নিতে স্ত্রীকে বোন বানালেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা সুবিধা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রে মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরকে বাবা এবং শাশুড়িকে মা হিসেবে তথ্য দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হকের ৮ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সোনালী খাতুন নামে কোনো সন্তান নেই। এই নামে তার পুত্রবধূ আছেন। তিনি আনিছুর রহমানের স্ত্রী।’

আছে একাধিক সন্তান, প্রতিবেশীরাও জানেন তারা স্বামী-স্ত্রী। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তারা ভাই-বোন!

কোটা এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা নিতে স্ত্রীকে বোন বানানোর এমন তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে ছোট ভাইকে ভোটার আইডি এবং শিক্ষা সনদ জালিয়াতি করে রেলওয়েতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে আনিসুরের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জনায়, নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কুটিনাওডাঙ্গা আমিরটারী তালবেরহাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হকের ৮ ছেলে-মেয়ে।। তাদের মধ্য সবার বড় আনিছুর রহমান। তিনি রংপুর বেতারে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন।

২০০৭ সালে জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুরা বাজার এলাকার মৃত রবিউল ইসলামের মেয়ে সোনালী খাতুনকে বিয়ে করেন আনিসুর। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সোনালী সবার ছোট। আনিছুর-সোনালী দম্পতির ঘরে জমজসহ বর্তমানে তিন সন্তান রয়েছে।

তবে বিয়ের পর উপজেলার সাপখাওয়া দাখিল মাদরাসায় নিজের শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা হিসেবে তথ্য দিয়ে ২০১০-১১ সেশনে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন সোনালী। ২০১৩ সালে ওই মাদরাসা থেকে জিপিএ-২.৯৪ পেয়ে দাখিল পাশ করেন তিনি।

পরে দাখিল পাসের সনদ ও ভুয়া জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে ২০১৪ সালে ভোটার হন সোনালী। সনদ অনুসারে মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুর আইনুল হককে নিজের বাবা ও শাশুড়ি জামিলা বেগমকে নিজের মা হিসেবে তথ্য দেন তিনি।

সোনালী আনিসুরের বোন নয় দাবি করে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জহুরুল হক বলেন, ‘আনিছুর রহমান আমার বাল্যবন্ধু। সোনালী খাতুন তার স্ত্রী। উলিপুর উপজেলায় সোনালীর বাবার বাড়ি।’

আনিছুর রহমানের ছোট ভাই খালেক জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি দেখে নিশ্চিত করেন সোনালী খাতুন তার ভাবী। তিনি স্বীকার করেন, মুক্তিযোদ্ধা বাবার সুযোগ সুবিধা পেতেই তার ভাই এমনটি করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হকের ৮ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সোনালী খাতুন নামে কোনো সন্তান নেই। এই নামে তার পুত্রবধূ আছেন। তিনি আনিছুর রহমানের স্ত্রী।’

অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, স্ত্রীকে বোন বানানোর বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে। তার স্ত্রী এমনটি করেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে আনিসুরের স্ত্রী সোনালী খাতুন কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৪ সালে ভোটার হালনাগাদ করার সময় সোনালী খাতুন এসএসসি সনদ এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দিয়ে ভোটার হন। তথ্য গোপন করার বিষয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি।

এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ভোটার তালিকা আইন ও বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান আনোয়ার হোসেন।

এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হকের দুই ছেলে আনিছুর রহমান এবং আজিজুল হক তথ্য গোপন করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ আছে। এনআইডিতে দুই ভাইয়ের একই নাম হলেও আলাদা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১২ সালে রংপুর বেতারে অফিস সহায়ক পদে চাকরি নেন আনিছুর। আর ২০১৪ সালে রেলওয়ের ওয়েম্যান পদে অষ্টম শ্রেণি পাশের যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরি পান আনিসুরের ছোট ভাই আজিজুল হক।

চাকরি নিতে তথ্য গোপনের আশ্রয় নেন আজিজুল। এ ক্ষেত্রে তিনি তার আগের ভোটার আইডি সংশোধন করেন।

বড় ভাই আনিসুরের সব তথ্য ব্যবহার করে তিনি এনআইডি সংশোধন করেন। পড়াশুনা না করেও তিনি বড় ভাই আনিছুর রহমানের অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদ ব্যবহার করেন।

আগের ভোটার আইডিতে আজিজুল হকের জন্ম সাল ছিল ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল। পেশা ছিল কৃষক। নতুন আইডিতে তার জন্মের সাল-তারিখে লেখা ১৯৮২ সালের ৭ জুলাই।

জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য গোপন করে নাম পরিবর্তন করলেও স্বাক্ষর পরিবর্তন করেননি আজিজুল হক।

২০১৪ সালে এনআইডিতে তথ্য গোপন করে চাকরি করার সংবাদ গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। পরে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন দুই ভাইয়ের নামে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলার নির্দেশ দেয়।

২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন।

আরও পড়ুন:
সন্তানকে মৃত দেখিয়ে ভাতা তোলেন মুক্তিযোদ্ধার বাবা
ভাতা পান নকল মুক্তিযোদ্ধা, আসলের সন্তানরা দ্বারে দ্বারে
প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করেন না তামান্না
সাড়ে ২৪ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা পাচ্ছেন স্মার্ট আইডি
ব্যবহার হচ্ছে না ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলো

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Woman in hospital with dog poop in her mouth

মুখের ভেতর পোষা কুকুরের মলত্যাগ, হাসপাতালে নারী

মুখের ভেতর পোষা কুকুরের মলত্যাগ, হাসপাতালে নারী আদরের বেলের সঙ্গে আমান্ডা গোম্মো (বাঁয়ে) এবং হাসপাতালের বিছানায়। ছবি: এসডাব্লিউএনএস
অবিশ্বাস্য বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে যাওয়া আমান্ডা বলেন, ‘বেলে খুব জঘন্য কাজ করেছে। আমি পরের কয়েক ঘণ্টা পাগলের মতো আচরণ করেছি। মুখ থেকে কুকুরের মলের স্বাদ কোনোভাবেই দূর করা যাচ্ছিল না।’  

চিহুয়াহুয়া প্রজাতির কুকুরটিকে ভালোবেসে নাম দেয়া হয়েছে ‘বেলে’। ব্রিটিশ নারী আমান্ডা গোম্মোর মেয়ের পালন করা কুকরটি বাড়ি মাতিয়ে রাখে সারাক্ষণ। ওর দুষ্টুমি আমান্ডার মনকেও জয় করে নিয়েছিল।

তাই বলে বেলে যে এমন অপকর্ম ঘটিয়ে বসবে ঘূর্ণাক্ষরেও মাথায় আসেনি মা-মেয়ের।

আমান্ডার ক্ষোভ-বিস্ময় এখনও কাটছে না। ভাবতেই পারছেন না, কেন এমন দুর্মতি হয়েছিল বেলের। যাকে আদর-যত্নে আগলে রেখেছিলেন সেই কুকরই কিনা মলত্যাগের জায়গা হিসেবে বেছে নিল তার মুখ!

ঘুমিয়ে থাকায় ককুরের সেই মল বিনা বাধায় পৌঁছে যায় আমান্ডার পেটে। এরপর যা হওয়ার কথা, তাই হয়েছে। পেটে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে কুকুরপ্রেমী এই নারীকে। পুরোপুরি সুস্থ হতে লেগেছে তিনটি দিন।

আমান্ডা গোম্মো সাউথ ওয়েস্ট নিউজ সার্ভিসকে (এসডাব্লিউএনএস) জানিয়েছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘আমি ও বেলে প্রতিদিনের মতো দুপুরে ঘুমাচ্ছিলাম। কোনো এক কারণে সে সময় ও (বেলে) মারাত্মক ডায়েরিয়ায় ভুগছিল।

‘সে যাই হোক, ঘুমের সময়ে আমি হা করে ছিলাম। হঠাৎ ধড়মড় করে জেগে দেখি, বেলে আমার মুখের মধ্যে মলত্যাগ করে দিয়েছে।’

এর পরের কয়েক ঘণ্টায় আমান্ডার পেটে ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে শেষপর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

অবিশ্বাস্য বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে যাওয়া আমান্ডা বলছিলেন, ‘বেলে খুব জঘন্য কাজ করেছে। আমি পরের কয়েক ঘণ্টা পাগলের মতো আচরণ করেছি। মুখ থেকে কুকুরের মলের স্বাদ কোনোভাবেই দূর করা যাচ্ছিল না।’

ঘটনার পর আমান্ডার মেয়ে বেলেকে প্রাণীচিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে কিছু পরীক্ষার পর যা জানতে পারেন সেটি পরিস্থিতিকে আরও উৎকণ্ঠার দিকে নিয়ে যায়। কুকুরটির পেটে কৃমিজাতীয় পরজীবীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

আতংকিত আমান্ডার পেটে ব্যথা দূর করতে শুরুতে কিছু ওষুধ ও প্রচুর তরল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। তবে এতে কাজ না হওয়ায় দিন কয়েক পর তাকে কাছের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা শেষে মোটামুটি সুস্থ হন এই নারী।

আমান্ডা বলেন, ‘অসুস্থতা ও ডায়রিয়ার কারণে আমি প্রচণ্ড পানিশূন্য হয়ে পড়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে বলা হয়, মুখে কুকুরের মলত্যাগের কারণে আমি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণে ভুগছি এবং এমন ঘটনা এর আগে চিকিৎসকেরা কখনও শোনেননি।‘

সুখবর হলো আমান্ডার মেয়ের পোষা কুকুরও এখন ভালো আছে, বেশ কিছু এন্টিবায়োটিক ওর পেটের সমস্যাও দূর করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
আরামে ঘুম পাড়াবে ৫৩ লাখ টাকার বালিশ
পুরুষ তেলাপোকার কষ্ট ঘোচাবে কে?
বিশ্বের সবচেয়ে থুত্থুড়ে বুড়ো কুকুর ‘পেবলস’
সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল
সাইবেরিয়ান হাস্কি কুকুরের খামারে সফল শহীদুল

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Auto driver won 25 crores in 500 rupees lottery

৫০০ রুপির লটারিতে অটোচালক জিতলেন ২৫ কোটি

৫০০ রুপির লটারিতে অটোচালক জিতলেন ২৫ কোটি পুরস্কারের অনুষ্ঠানে অনুপ ও তার স্ত্রী। ছবি: দ্য হিন্দু
কীভাবে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ তিনি ব্যয় করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুপ বলেন, ‘আমার প্রথম ইচ্ছা, পরিবারের জন্যে একটি বাড়ি কিনব এবং সংসার চালাতে যেসব ঋণ আমাকে নিতে হয়েছিল সেগুলো পরিশোধ করে দেব। আমি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তা করব। কিছু দাতব্য ও জনসেবামূলক কাজ করব। এ ছাড়া কেরালায় হোটেল ব্যবসায় কিছু বিনিয়োগ করব।’

ভারতের কেরালায় ৫০০ রুপি দিয়ে একটি লটারি কিনে প্রথম পুরস্কার ২৫ কোটি জিতে নিয়েছেন এক অটোরিকশাচালক।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিদ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ‘ওনাম বাম্পার লটারি’ জেতা এই অটোচালকের নাম অনুপ।

দোটানা নিয়ে হঠাৎই ড্রয়ের ঠিক আগের দিন শনিবার ‘ভগবতী লটারি এজেন্সির’ একটি টিকিট কিনেন তিনি।

কেরালার শ্রীভরাহমের বাসিন্দা অনুপ সেফ (বাবুর্চি) হিসেবে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়া পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিবাসনের খরচ সামাল দিতে ব্যাংক থেকে তিন লাখ রুপি ঋণ পেতে আবেদন করেছিলেন তিনি। শনিবারই ব্যাংক থেকে অনুমোদনের সুসংবাদ পান তিনি।

ছোট্ট সেই খুশি আকাশ ছুঁয়েছে এর পরের দিন। ২৫ কোটি রুপির লটারি জেতার খবর পেলেন সেদিন।

লটারি কর্তৃপক্ষের খরচ, কর এসব মিটিয়ে অনুপের হাতে আসবে ১৫ কোটি রুপি, এমনটি জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

লটারি জেতার পর অনুপ বলেন, ‘ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে শনিবার ব্যাংক থেকে ফোন এসেছিল। আমি বলে দিয়েছি, আমার ঋণের আর প্রয়োজন হবে না। আমি মালয়েশিয়াও যাচ্ছি না।’

লটারি কেনার প্রতি আগ্রহী অনুপ গত ২২ বছর অনেক টিকিট কিনছেন। এসব লটারিতে শ খানিক রুপি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার রুপি জিতেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে উচ্ছ্বসিত অনুপ বলেন, ‘এবার লটারি জেতার কল্পনাও করি নাই। তাই টিভিতে ড্রয়ের ফলও দেখিনি। কিন্তু আমার মোবাইল ফোনে এসএমএস আসে। দেখলাম, আমি ২৫ কোটি রুপির প্রথম পুরস্কার জিতে গেছি।’

অনুপ আরও বলেন, ‘আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার স্ত্রীকে এসএমএসটি দেখালাম। তিনি নিশ্চিত করেন যে আমার কেনা লটারির নম্বরটিই প্রথম স্থান জয়ী।’

এরপর তিনি তার পরিচিত এক নারী যিনি এই লটারি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাকে টিকিটের ছবি তুলে পাঠান। ওই নারী তাকে নিশ্চিত করেন যে তার টিকিটই এবার জিতে নিয়েছে প্রথম পুরস্কার।

কীভাবে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ তিনি ব্যয় করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুপ বলেন, ‘আমার প্রথম ইচ্ছা, পরিবারের জন্যে একটি বাড়ি কিনব এবং সংসার চালাতে যেসব ঋণ আমাকে নিতে হয়েছিল সেগুলো পরিশোধ করে দেব।

‘আমি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তা করব। কিছু দাতব্য ও জনসেবামূলক কাজ করব। এ ছাড়া কেরালায় হোটেল ব্যবসায় কিছু বিনিয়োগ করব,’ যোগ করেন তিনি।

পুরস্কারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন অনুপের স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এর আগেও অনেক লটারির টিকিট কিনেছেন। লটারি জেতার পর অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি।’

কাকতালীয়ভাবে এর আগের বছর ওনাম বামপার লটারির প্রথম পুরস্কার ১২ কোটি রুপি জেতেন আরেক অটোরিকশাচালক। কোচির বাসিন্দা ওই অটোচালকের নাম জয়পলান।

এ বছর দ্বিতীয় স্থান জয়ী পেয়েছেন ৫ কোটি রুপি ও অন্য ১০ জন পেয়েছেন এক কোটি করে।

আরও পড়ুন:
কাঁঠাল বেচতে লটারি

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
How the helmet saved the biker from 2 accidents in Murhute

হেলমেটে রক্ষা প্রাণ

হেলমেটে রক্ষা প্রাণ গাড়িতে লেগে সড়কে ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেলসহ চালক। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘হেলমেট পরলে আপনি একবার, দুবার, তিনবার এবং বহুবার বেঁচে যেতে পারেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ১৭ ঘণ্টার মধ্যে সচেতনতামূলক এই ভিডিওটিতে লাইক পড়ে ২৬ হাজার এবং রিটুইট হয় ৫ হাজারের বেশি বার।

হেলমেট পরায় মোটরসাইকেলচালক কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দুটি দুর্ঘটনা থেকে কীভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন, সেই ভিডিওটি প্রকাশ করেছে ভারতের নয়াদিল্লি পুলিশ।

জনসচেতনতা বাড়াতে সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে দেয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল অল্প গতির গাড়ির সামনের অংশে খোঁচা লাগে। এতে চালকসহ মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে গিয়ে সড়ক বিভাজকের মাঝে থাকা ল্যাম্প পোস্টের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে লোহার খুঁটিটি নড়বড়ে হয়ে যায়।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত নিয়ে চালক সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই খুঁটিটি সরাসরি তার হেলমেটের ওপর পড়ে।

ল্যাম্প পোস্টের আঘাতে আবার সড়কে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক।

সড়কের পাশের কোনো ভবনের গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ১৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়।

কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভয়াবহ এই দুটি দুর্ঘটনায় তার মাথাকে সুরক্ষিত রাখে হেলমেটটি।

ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘হেলমেট পরলে আপনি একবার, দুবার, তিনবার এবং বহুবার বেঁচে যেতে পারেন। স্রষ্টা, যারা হেলমেট পরেন তাদের সুরক্ষিত রাখুন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ১৭ ঘণ্টার মধ্যে সচেতনতামূলক এই ভিডিওটিতে লাইক পড়ে ২৬ হাজার এবং রিটুইট হয় ৫ হাজারের বেশি বার।

মতামতে অনেকে অবাক হয়ে মন্তব্য করেন কীভাবে হেলমেট নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাইকারকে রক্ষা করেছে।

একজন বলেন, ‘আশ্চর্য’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুরো মুখ ও মাথা সুরক্ষা দেয়া উন্নত হেলমেট দুর্ঘটনায় ভয়াবহ আঘাত কমিয়ে আনতে পারে ৬৪ শতাংশের বেশি। সেই সঙ্গে আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দিতে পারে ৭৪ শতাংশের বেশি।

আরও পড়ুন:
দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে ধাক্কা, নিহত ৪
দুই বাইকের ধাক্কা পিকআপে, নিহত ৩

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
6 children born together without surgery

অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে ৬ সন্তানের জন্ম

অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে ৬ সন্তানের জন্ম প্রতীকী ছবি
ওই ছয় নবজাতকের মধ্যে চার ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পাকিস্তানের করাচিতে একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী।

জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে (জেপিএমসি) বুধবার অস্ত্রোপচার ছাড়াই ছয় যমজ প্রসব করেন তিনি।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই ছয় নবজাতকের মধ্যে চার ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ওই নারীর নাম হিনা নাজিম। তার বাসা করাচির হাজারা কলোনি এলাকায়, যেটি কালাপুল হিসেবেও পরিচিত।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাঁচ শিশুর সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।

জন্মের পর শিশুদের জিন্নাহ হাসপাতাল থেকে পাকিস্তানের জাতীয় শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে ইনকিউবেটরে।

সামা নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে এক সন্তান জন্ম দেয়া হিনা ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ এত সন্তান দেয়ায় আমি খুবই খুশি।’

জেপিএমসির গাইনি ওয়ার্ডের চিকিৎসক আয়শা ওয়ারিস জানান, বুধবার মধ্যরাতে প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে আসেন ওই নারী। স্বাভাবিকভাবেই তার সন্তান প্রসব হয়।

আরও পড়ুন:
যমজ নবজাতকের মৃত্যু: ধাত্রীই চালাতেন সেই ক্লিনিক
‘ওয়ার্ম আপ’ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়
গ্যালারিতে পাকিস্তানিদের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারল আফগানরা
‘অপরিণত হওয়ায়’ সেই যমজ নবজাতকের মৃত্যু
‘বিলের জন্য অক্সিজেন খুলে নেয়ায়’ যমজ নবজাতকের মৃত্যু

মন্তব্য

কানের ভেতরে সাপ ঢুকল কীভাবে

কানের ভেতরে সাপ ঢুকল কীভাবে কানের ভেতর ঢুকে পড়েছে সাপ। ভিডিও থেকে নেয়া স্ক্রিনশট
পোস্ট করার পর ৮০ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ বলছেন, ঘটনা সত্য। আবার কেউ বলছেন, এর কোনো সত্যতা নেই।

ছোট্ট কানের তুলনায় সাপটার আকৃতি বেশ বড়ই। সঙ্গে আছে ভয়াবহ ভঙ্গিমাও। তবু কীভাবে যেন এতে ঢুকে পড়েছে প্রাণিটি। বহু সময় ধরে চেষ্টা করেও বের করা যাচ্ছে না। এরপর?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক নারীর কানের মধ্যে ঢুকে পড়া এই সাপ বের করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে সম্ভব হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

এনডিটিভি বলছে, চন্দন সিং নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও আপ করেছেন। তিনি লিখেছেন, সাপটি কানের ভেতরে ঢুকে গেল। তবে ঘটনার সময় বা স্থান নিয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

ভিডিওতে হাতে গ্লাভস পরে যন্ত্র দিয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে ওই নারীর কানের ভেতর থেকে সাপ বের করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে তা দেখানো হয়নি এতে।

পোস্ট করার পর ৮০ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ বলছেন, ঘটনা সত্য। আবার কেউ বলছেন, এর কোনো সত্যতা নেই।

পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক এবং সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীর মধ্যে একটি হলো সাপ। প্রতি বছর বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় অনেক মানুষের।

আরও পড়ুন:
সাপের ছোবলে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

মন্তব্য

p
উপরে