× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Realme in the second phase of growth
hear-news
player
google_news print-icon

‘প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় ধাপে রিয়েলমি’

প্রবৃদ্ধির-দ্বিতীয়-ধাপে-রিয়েলমি
ছবি: সংগৃহীত
৫জি প্রযুক্তির সুবিধাসম্পন্ন রিয়েলমি ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বছরপ্রতি ১৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বিশ্বব্যাপী দ্রুততম বর্ধনশীল স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিয়েলমি প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় ধাপে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্কাই লি। আর তাই পণ্যের গুণগতমান ধরে রেখে বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়ার কথাও জানান তিনি।

২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিয়েলমির চতুর্থ ‘৮২৮ ফ্যান ফেস্টিভ্যাল’ উপলক্ষে স্কাই লির লেখা ‘রিয়েলমিস সেকেন্ড স্টেজ অব গ্রোথ: আ রিফাইন্ড ফোকাস অন লং-টার্ম গ্রোথ’ শীর্ষক একটি খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়েছে।

‘প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় ধাপে রিয়েলমি’
স্কাই লির লেখা ‘রিয়েলমিস সেকেন্ড স্টেজ অব গ্রোথ: আ রিফাইন্ড ফোকাস অন লং-টার্ম গ্রোথ’ শীর্ষক একটি খোলা চিঠি

চিঠিতে লি বলেছেন, ‘একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছি এবং এই ধাপে আমরা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রতি মনোযোগী হব। পণ্যের গুণগতমান ও বাজার সম্প্রসারিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করব।’

‘ডেয়ার টু লিপ’ প্রতিপাদ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে রিয়েলমি বিশ্বজুড়ে তরুণদের জন্য সাশ্রয়ী দামে ভালো পারফরমেন্স ও ট্রেন্ডসেটিং ডিজাইনের ডিভাইস বাজারে নিয়ে আসছে।

৫জি প্রযুক্তির সুবিধাসম্পন্ন রিয়েলমি ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বছরপ্রতি ১৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বিশ্বব্যাপী দ্রুততম বর্ধনশীল স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো ফাইভজি প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও ডেভেলপমেন্ট রিসোর্সে ৯০ শতাংশ বিনিয়োগের মাধ্যমে এ প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও সহজ করে তোলা।

রিয়েলমি এর উন্নত ‘১+৫+টি’ কৌশলের সহায়তায় দ্রুত বর্ধনশীল কনজ্যুমার টেক (প্রযুক্তি) ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের এআইওটি পণ্য ও পূর্ণাঙ্গ এআইওটি ইকোসিস্টেম তৈরিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ব্র্যান্ডটি এর টেকলাইফ ইকোসিস্টেমের অধীনে স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্ট ওয়াচ, হেয়ারেবল ও বিপুলসংখ্যক স্মার্ট গেজেট নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রিয়েলমি এক কোটি পণ্য রপ্তানির মাইলফলক অর্জন করে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে এআইওটি সেগমেন্টে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গত চার বছরে দ্রুতগতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে রিয়েলমির, যা প্রতিষ্ঠানটিকে মাত্র তিন বছরে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম স্মার্টফোন ভেন্ডর (বিক্রেতা) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান বাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, রিয়েলমি বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলায় বেশ আত্মবিশ্বাসী।

স্কাই লি বলেন, ‘স্মার্টফোন আগের সময়ের তুলনায় আমাদের জীবনকে আরও সহজ করে তুলেছে এবং এআইওটির যুগে ব্যবহারকারীদের প্রাযুক্তিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সামনের দিনগুলোতে আমাদের পথচলা আরও মসৃণ হবে।’

আরও পড়ুন:
রিয়েলমির ৩ নতুন ডিভাইস, দারাজে ফ্ল্যাশ সেলে ছাড়
রিয়েলমি ৯ প্রো ৫জি আসছে বাজারে
রিয়েলমির স্মার্টফোন ঈদ অফার
দারাজে রিয়েলমির স্টাইলিশ নারজো ৫০এ প্রাইম
তরুণদের জন্য রিয়েলমির নাইট ফটোওয়াক 

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Information of 48 million WhatsApp users leaked

বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৪৮ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস

বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৪৮ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ভারতের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্যও ফাঁস হয়েছে, যা অনলাইনে বিক্রি করার জন্য রাখা হয়েছে।

৪৮ কোটি ৭০ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাইবার নিউজ। এক প্রতিবেদনে তারা বলেছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৪টি দেশের সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য রয়েছে সেখানে।

হ্যাক করা তথ্য বিক্রির জন্য অনলাইনে তোলা হয়ছেন। সাইবার নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু আমেরিকান নাগরিকদের ডেটাবেজটি কিনতে চাইলে হ্যাকারকে সাত হাজার ডলার দিতে হবে। অন্যদিকে ব্রিটেনের ডেটাসেটের দাম হাঁকা হয়েছে ২৫০০ ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারের হাতে রয়েছে। এগুলো কত দামে বিক্রি করা হবে, সেটা জানা যায়নি।

তথ্য বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রমাণ হিসেবে ১০৯৭টি নম্বর শেয়ার করেছে। সাইবার নিউজ নম্বরগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে, সেগুলো সবই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের।

এটাই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির ঘটনা।

বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ভারতের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে, যা অনলাইনে বিক্রি করার জন্য রাখা হয়েছে।

স্প্যামিং, ফিশিং, আইডেন্টিটি থেফট এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ কার্যকলাপের জন্য এই ডেটাবেজ ব্যবহার করতে পারে হ্যাকাররা।

নিজের নম্বর হ্যাকারের লিস্টে আছে কি না, সেটা জানার কোনো উপায় আপাতত নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ। এর আগেও একবার হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেবার ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল ফোন নম্বর, ব্যবহারকারীর নাম, অবস্থানসহ অন্যান্য তথ্য।

আরও পড়ুন:
ইমো হ্যাকার চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার
অন্যের পণ্য ‘লোভনীয় ছাড়ে’ বিক্রি করছে হ্যাকাররা!
ভারতে মুঠোফোন হ্যাক, অস্বীকার করল কেন্দ্র
মেয়েদের ফেসবুক আইডি হ্যাক যে কৌশলে
নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে যুবক আটক

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Ransomware is one of the most common cybercrime threats

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার
গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবন ও সাইবার নিরাপত্তার গ্লোবাল লিডার সফোস আজ তাদের ২০২৩ সালের থ্রেট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কীভাবে সাইবার হুমকি একটা ল্যান্ডস্কেপে পৌঁছে নতুন করে এটি বাণিজ্যিকীকরণ এবং হামলাকারীদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে ফেলছে। অপরাধ করার উদ্দেশ্যে ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এতে প্রবেশে করার ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা সরিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে র‍্যানসামওয়্যার অপারেটররা তাদের চাঁদাবাজির নতুন কৌশল বের করছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সাইবার অপরাধের হুমকিগুলোর মধ্যে একটি।

জেনেসিসের মতো অপরাধমূলক আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলো দীর্ঘদিন ধরে ম্যালওয়্যার এবং ম্যালওয়্যার স্থাপনের পরিষেবা (ম্যালওয়্যার-অ্যাস-এ-সার্ভিস) কিনছে, পাশাপাশি চুরি হওয়া ক্রেডেনশিয়াল এবং অন্য সব ডেটা প্রচুর পরিমাণে বিক্রিও করেছে।

গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

২০২২ সালে এসে এই ‘পরিষেবা হিসাবে’ মডেলটি প্রসারিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে প্রাথমিক সংক্রমণ থেকে শনাক্তকরণ এড়ানোর উপায়গুলোসহ সাইবার ক্রাইম টুলকিটের প্রায় প্রতিটি দিক খুব সহজলভ্য হয়েছে।

‘পরিষেবা হিসাবে’ অর্থনীতির বিস্তৃতির সঙ্গে, আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার অপরাধী বাজারগুলো ক্রমবর্ধমান একটি পণ্য হয়ে উঠছে এবং সেটি মূলধারার ব্যবসার মতোই কাজ করছে৷ সাইবার অপরাধ ‘বিক্রেতারা’ কেবল তাদের পরিষেবার বিজ্ঞাপনই দিচ্ছে না বরং স্বতন্ত্র দক্ষের আক্রমণকারীদের চাকরিতে নিয়োগের অফারও করছে৷ সাইবার ক্রাইম অবকাঠামো যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি করে র‍্যানসামওয়্যার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠেছে।

গত এক বছর, র‍্যানসমওয়্যার অপারেটররা উইন্ডোজ ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সম্ভাব্য আক্রমণ পরিষেবা বাড়াতে কাজ করছে।

এমনকি এসব ক্ষেত্রে তাদের যেন শনাক্ত করা না যায় সে জন্য রাস্ট এবং গো-এর মতো নতুন ভাষাগুলোর সঙ্গে এটি মানিয়ে নেয়া শুরু করেছে। কিছু গ্রুপ, বিশেষ করে লকবিট ৩.০ তাদের ক্রিয়াকলাপগুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চাঁদাবাজির জন্য আরও ‘উদ্ভাবনী’ উপায় তৈরি করছে।

আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি শুধুমাত্র র‍্যানসমওয়্যার এবং ‘পরিষেবা হিসাবে’ এটি শিল্পের বৃদ্ধিকেই উৎসাহিত করেনি বরং ক্রেডেনশিয়াল চুরির চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন বা অনভিজ্ঞ অপরাধীদের আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের ‘ক্যারিয়ার’ শুরু করতে ক্রেডেনশিয়াল চুরি একটি অন্যতম সহজ উপায় হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে জানলেন ঢাবির সামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীরা
যত বেশি ডেটাবেজের ব্যবহার তত বেশি ঝুঁকি: আইজিপি
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ
সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তায় নারী পুলিশ

মন্তব্য

চাকরি আছে টুইটারে

চাকরি আছে টুইটারে টুইটার কার্যালয়ে গত ২৭ অক্টোবর কর্মব্যস্ত ইলন মাস্ক। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

টুইটারের মালিকানা নেয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কর্মীদের বিপত্তির মুখে পড়া ইলন মাস্ক এবার প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মীদের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে

আগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) সরিয়ে নিজেই এই পদে আসা ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ও বিপণন বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে পদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি।

এমন একদিনে ইলন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলেন, যেদিন বিপণন বিভাগে কর্মী ছাঁটাই হবে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

একই সঙ্গে সান ফ্রান্সিসকো থেকে টুইটারের কার্যালয় টেক্সাসে সরিয়ে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই বলেও জানান তিনি।

নানা ঘটনার পর গত ২৭ অক্টোবর টুইটার কেনেন ইলন মাস্ক। প্রথমেই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতিবিষয়ক প্রধান বিজয়া গাড্ডেকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি। একে একে তিনি সব মিলিয়ে সাড়ে ৭ হাজার কর্মীর দুই-তৃতীয়াংশই ছাঁটাই করেছেন।

কর্মীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবারের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে দিয়েছেন ইলন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি ওই ঘোষণা দেন।

বৈঠকে টুইটারে ইলন মাস্ক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে। বাসায় বসে আর কাজ করার সুযোগ নেই। অফিসে ফ্রি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে।’

টুইটার অফিসে ফ্রি ওয়াইফাই সেবাও বন্ধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত যারা মেনে নেবেন, তারাই এখানে চাকরি করতে পারবেন। না চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন।

এতদিন একই সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন। সবশেষ দায়িত্ব নেন টুইটারের।

আরও পড়ুন:
কথা রাখলেন মাস্ক, টুইটারে ফিরলেন ট্রাম্প
সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে
টুইটার অফিসে ফ্রি খাওয়ার দিন শেষ

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
World agrees to create climate compensation fund

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনে সম্মত বিশ্ব

জলবায়ু ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনে সম্মত বিশ্ব জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন উপলক্ষে সাজানো হয় মিসরের শারম আল-শেখকে। ছবি: এএফপি
জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে দেশগুলো ক্ষতিপূরণ তহবিলে সায় দেয়, তবে সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমাধানের বৃহত্তর কোনো চুক্তি হয়নি।

জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ধুঁকতে থাকা দরিদ্র দেশগুলোকে সাহায্যে তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে মিসরের শারম-এল শেখে জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ২৭) দেশগুলো তহবিল গঠনে সম্মতি দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দেশগুলো তহবিলে সায় দিলেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমাধানের বৃহত্তর চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি।

মিসরের লোহিত সাগরপারের শহরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি গড়ায় শনিবার রাত পর্যন্ত। একপর্যায়ে সম্মেলনে সভাপতিত্বকারী মিসরের পক্ষ থেকে খসড়া চুক্তির লিখিত অংশ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে একে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে একটি প্লেনারি সেশনের আহ্বান করা হয়।

সম্মেলনের রাত্রিকালীন ওই অধিবেশনে খসড়া চুক্তির বিধানগুলো অনুমোদন করা হয়, যার মধ্য দিয়ে ঝড় ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তায় তহবিল গঠনে সম্মতি দেয় বিভিন্ন দেশ।

খসড়া অনুমোদনের পরপরই অধিবেশন ৩০ মিনিট মুলতবি রাখার আহ্বান জানায় সুইজারল্যান্ড, যাতে করে চুক্তির লিখিত অংশ পড়ে দেখা যায়।

জাতিসংঘের এবারের জলবায়ু সম্মেলনে সার্বিক রাজনৈতিক চুক্তি অনুমোদনে প্রায় ২০০ দেশের সমর্থন দরকার।

আরও পড়ুন:
ওজোন স্তরের ক্ষয় জলবায়ু পরিবর্তনের বড় কারণ: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
জলবায়ুর অর্থায়নে ব্লু এবং গ্রিন বন্ডকে উৎসাহিত করছে বাংলাদেশ
নদীর বুকে জেগে উঠল ৩ বুদ্ধমূর্তি
জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা কম, আসলেই কি
ইউরোপে ভয়ংকর ঝড়ে মৃত্যু ১৩

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Transforming plastic polyethylene into fuel

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর! স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব।’

প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে তেল-গ্যাস উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।

স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন তিনি। পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য প্লাস্টিককে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরের গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে গবেষণায় তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন।

গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রথমে মাটি থেকে সিলিকা অ্যালুমিনা ভেঙে ক্যাটালিস্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই ক্যাটালিস্ট দিয়ে প্লাস্টিককে ভেঙে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন জাতীয় জ্বালানি তেল তৈরি করেছি। এই জ্বালানি তেল দিয়ে ছোট ও মাঝারি নৌকার ইঞ্জিনও চালনা করা সম্ভব। এ ছাড়া জেনারেটরের মাধ্যমে এ জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে অনেক প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকে। এসব পরিবেশের জন্য হুমকি এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। এই প্লাস্টিক পলিথিন ধুয়ে পরিষ্কার করে জ্বালানি উৎপাদনের উপযোগী করা সম্ভব। মাটি ও প্লাস্টিক দুটি উপাদানই আমাদের হাতের কাছে পাওয়া যায়। এতে করে খুব অল্প খরচে সরকার চাইলে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেল উৎপাদন করতে পারবে।’

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। কারণ জ্বালানির বেশির ভাগ অংশ ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিন থেকে আসে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন রয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী এবং অন্যান্য নদী ও খাল থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তা ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিনে রূপান্তরিত করা যাবে। সেই সঙ্গে পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাবও কমে যাবে।’

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যাবে বলে দাবি গবেষকদের। বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মাধমে দূষণ কাটিয়ে বর্জ্য প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তর করে এর সংকটও মোকাবেলা করা যাবে। এই জ্বালানিকে বাণিজ্যিকভাবেও উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এই অধ্যাপক।

গবেষণা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাবে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তহবিল বা বাজেট পেলে বড় আকারে গবেষণা করার চেষ্টা করব।’

গবেষণা প্রকল্পটি ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ইনঅর্গানিক কেমিস্ট্রি, ওয়াইলি’ নামের একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল একক ব্যবহারের বর্জ্য পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর করে পরিবেশ রক্ষা করা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এই গবেষণা প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাফীস আহমেদ, ড. জয়ন্ত কুমার সাহা এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত চন্দ্র রায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল রহমান ও জুনায়েদ মাহমুদ শুভ গবেষণায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Artemis mission opens human journey to Mars

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপন আর্টেমিস প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য। ছবি: সংগৃহীত
নাসা বলছে, আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিতের জন্য বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালানো হবে। এরপর চাঁদ ও এর চারপাশ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ফাইভ পর্যন্ত মিশনের ছক চূড়ান্ত হয়েছে।

আর্টেমিস ওয়ান মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বিজয় নিশান আরও সংহত হতে যাচ্ছে। তবে গোটা আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য আরও উচ্চাভিলাষী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে মানুষের মঙ্গলগ্রহে পৌঁছানোর অভিযান। কারণ কয়েক ধাপের আর্টেমিস মিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য চাঁদের বুকে বসে মঙ্গলে পৌঁছানোর কৌশল নির্ধারণ।

আর্টেমিস প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হবে বেশ কয়েকটি ধাপে, যার মধ্যে মিশন ওয়ানের আওতায় বুধবার চাঁদের চারপাশের কক্ষপথের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে ওরিয়ন স্পেসক্রাফট।

সব ঠিক থাকলে ২৫ দিন পর পৃথিবীতে ফিরে আসবে এই স্পেসক্রাফট। এটি অবতরণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসগরের বুকে।

আর্টেমিস প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। এতে সহায়তা করছে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ), জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জেএএক্সএ) এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)।

চলমান আর্টেমিস ওয়ান মিশনে পাঠানো হয়েছে মানুষবিহীন স্পেসক্রাফট। তবে ২০২৪ সালে আর্টেমিস টু মিশনে যে স্পেসক্রাফট পাঠানো হবে, তাতে থাকবে মানুষ। ওই মিশনও ঘুরপাক খাবে চাঁদের চারপাশে। ফলে চন্দ্রপৃষ্ঠে পড়বে না মানুষের পায়ের ছাপ।

তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিকঠাক থাকলে পরের বছর ২০২৫ সালে আর্টেমিস থ্রি মিশনে পাঠানো নভোচারীরা পা রাখবেন চাঁদের বুকে।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো সেভেন্টিন মিশনের পর আর্টেমিস থ্রি মিশনেই প্রথমবার চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। শুধু তা-ই নয়, ওই মিশনটি আরও দুটি কারণেও নতুন ইতিহাসের জন্ম দেবে।

আর্টেমিস থ্রি মিশনে স্পেসক্রাফটে থাকা একজন নারী এবং একজন অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী অবতরণ করবেন চাঁদের বুকে। তারা সেখানে থাকবেন প্রায় সাড়ে ছয় দিন। এরপর ফিরে আসবেন মূল স্পেসক্রাফটে, যেখানে থাকবেন আরও দুই নভোচারী।

নাসা বলছে, আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিতের জন্য বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালানো হবে। এরপর চাঁদ ও এর চারপাশ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ফাইভ পর্যন্ত মিশনের ছক চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রথম ধাপে বুধবার শুরু করা আর্টেমিস ওয়ানের মাধ্যমে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) এবং মানুষবিহীন ওরিয়ন স্পেসক্রাফটের পরীক্ষামূলক যাত্রা করেছে।

কোনো স্পেসক্রাফকে মহাকাশে পাঠাতে বর্তমানে ব্যবহৃত যেকোনো লঞ্চ ভেহিকেলের মধ্যে এসএলএসকে সর্বোচ্চ ভরবহন ক্ষমতার বলে দাবি করছে নাসা। স্পেস শাটলের উত্তরসূরি এই এসএলএসে যুক্ত করা হয়েছে এখনকার সময় পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিধর রকেট।

এসএলএসের রকেটের ক্ষমতা সম্পর্কে নাসা বলছে, কোনো মহাকাশযানকে চাঁদে পৌঁছাতে হলে উৎক্ষেপণের সময় শক্তিশালী রকেটের প্রয়োজন, যাতে এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে উপেক্ষা করে সুনির্দিষ্ট গতিপথে থাকতে পারে। আর্টেমিস ওয়ান মিশনের স্পেস লঞ্চ সিস্টেমে (এসএলএস) ব্যবহৃত রকেট সর্বোচ্চ ৮৮ লাখ পাউন্ড ধাক্কা (থ্রাস্ট) তৈরিতে সক্ষম।

আর্টেমিস মিশনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এসএলএস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। এর মধ্যে প্রথম চারটি মিশনের পর স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাপনা ডিপ স্পেস ট্রান্সপোর্ট এলএলসিতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের একটি যৌথ উদ্যোগ হলো এই ডিপ স্পেস ট্রান্সপোর্ট এলএলসি।

আর্টেমিস মিশন খুলে দিচ্ছে মানুষের মঙ্গলযাত্রা
আর্টেমিস ওয়ান মিশন যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে

আর্টেমিস ওয়ান মিশনের লক্ষ্য এসএলএসের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং চাঁদের চারপাশের কক্ষপথে ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে ঘুরপাক খাইয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। ওরিয়ন ক্যাপসুল পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগেই সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা হবে, এরপর প্যারাসুট খুলে নামবে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে।

এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে আর্টেমিস টু মিশনে ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকবেন চারজন নভোচারী। ওই মিশনে মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে ঘুরপাক খেয়ে ফিরে আসবে পৃথিবীতে।

পরের বছর আর্টেমিস থ্রি মিশনে চাঁদের বুকে পা রাখবেন দুই নভোচারী। মিশনটি পরিচালনার আগে চাঁদের কাছাকাছি একটি কক্ষপথে হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম (এইচএলএস) স্থাপন করবে নাসা। সেই এনআরএইচওতে পৌঁছানোর পর ওরিয়নের চার নভোচারীর মধ্যে দুজন সেখান থেকে ক্যাপসুলের মাধ্যমে চাঁদে অবতরণ করবেন। বাকি দুজন থাকবেন মূল মহাকাশযানে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই নভোচারী চন্দ্রপৃষ্ঠে সাড়ে ছয় দিন থাকার পর ফিরে আসবেন ওরিয়নে। এরপর চার নভোচারী রওনা দেবেন পৃথিবীতে।

এর দুই বছর পর ২০২৭ সালের আর্টেমিস ফোর মিশনেও থাকবেন নভোচারীরা। তারা চাঁদের চারপাশের কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান লুনার গেটওয়ে স্টেশনে অবতরণ করবেন। নভোচারীরা যাওয়ার আগেই এসএলএসের মাধ্যমে পাঠানো ওয়ানবি ব্লকের সাহায্যে তৈরি হবে দুটি গেটওয়ে মডিউল।

পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশন এবং তারপরের অন্য মিশনগুলোতেও থাকবেন নভোচারীরা। তারা চাঁদে আবাসস্থল নির্মাণ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং সম্পদ আহরণের সরঞ্জাম সক্রিয় করার দায়িত্ব পাবেন। একইসঙ্গে চাঁদ থেকে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিও শুরু হবে।

নাসার অ্যাপলো মিশনের মাধ্যমে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চাঁদে অবতরণ করেছিলেন নভোচারীরা। আর এবারের আর্টেমিস মিশনে চাঁদ পেরিয়ে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে দেয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য রয়েছে।

জানিয়ে রাখা ভালো, আর্টেমিস হলেন গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর জমজ বোন এবং গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী চাঁদের দেবী।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত
ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
এসএলএস উৎক্ষেপণের নতুন ক্ষণ জানাল নাসা
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Images of Earth from 92000 km on Artemis

আর্টেমিসে ৯২ হাজার কি.মি. দূর থেকে পৃথিবীর ছবি

আর্টেমিসে ৯২ হাজার কি.মি. দূর থেকে পৃথিবীর ছবি ৯২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে পৃথিবীর ছবি পাঠাল আর্টেমিস ১। ছবি: নাসা
দুই দফা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁদে বাণিজ্যিকভাবে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) উৎক্ষেপণে সফল হয়েছে নাসা। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার সকালে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

চাঁদ অভিমুখী নাসার মহাকাশযান উৎক্ষেপণের ৯ ঘণ্টার কম সময়ে এটির ক্যাপসুল ওরিয়ন তার অবস্থান থেকে পৃথিবী এবং ক্যাপসুলের ভেতরের ছবি পাঠিয়েছে। ৯২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে পৃথিবীকে ছোট একটি বিন্দুর মতো দেখায়।

স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস ব্যবস্থার সাহায্যে ক্যাপসুল ওরিয়ন ৬ দিনের সফর শেষে চাঁদের চারপাশের কক্ষপথে পৌঁছাবে ২১ নভেম্বর। চন্দ্রপৃষ্ঠের ১০০ কিলোমিটার উপর থেকে পরের ১০ দিনে চাঁদে মানুষের টিকে থাকার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে ওরিয়ন।

নাসার এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে মিশন আর্টেমিস ওয়ান। এটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। তাই এতে কোনো মানুষ থাকছে না। সফল হলে, পরবর্তী উৎক্ষেপণে মহাকাশযানটির ক্যাপসুলে থাকবেন মহাকাশচারী।

ছবি তোলার সময় ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে ৫৭ হাজার মাইল (৯২ হাজার কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছিল; ক্যাপসুলটি প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মাইল (৮ হাজার ৮০০ কিলোমিটার) বেগে তখন চাঁদের দিকে ছুটছিল।

ক্যাপসুল থেকে সরাসরি সম্প্রচারের দৃশ্য নাসার ওয়েবসাইটে শেয়ার করার সময় নাসার মুখপাত্র স্যান্ড্রা জোনস বলেন, ‘পৃথিবীর এই দৃশ্য মানববহনে সক্ষম একটি মহাকাশযান থেকে ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের পর এটা দেখা যায়নি।

‘মহাকাশের অন্ধকারে নীল মার্বেলের (পৃথিবী) দৃশ্য নতুন প্রজন্মের কল্পনার বাস্তব রূপ…দ্য আর্টেমিস জেনারেশন।’

সেলফির পাশাপাশি ক্যাপসুলের ভেতরের একটি দৃশ্যও প্রকাশ করেছে নাসা। এতে কমলা স্যুটে কমান্ডার মুনিকিন ক্যাম্পোসকে (তথ্য সংগ্রহকারী রোবট) দেখা যায়। অভিযান সফল হলে মহাকাশচারীরা পরবর্তী ফ্লাইটে এই স্যুট পরে চাঁদ ভ্রমণে যাবেন।

আর্টেমিসে ৯২ হাজার কি.মি. দূর থেকে পৃথিবীর ছবি
ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরের একটি দৃশ্য

এ ছাড়া ভেতরের দৃশ্যে ‘ক্যালিস্টো এক্সপেরিমেন্ট’ দেখা যায়। কীভাবে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতের মহাকাশচারীদের গভীর মহাকাশ অভিযানে সহায়তা করতে পারে, এটি দেখার জন্য এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার হয়েছে অভিযানে। এই ছবির ডানে ওরিয়নের একটি জানালা দেখা যায়।

নাসা জানায়, অন্য দুটি ক্যামেরা মহাকাশযানের ভেতরে অবস্থিত; একটি ক্যাপসুলের সামনের জানালার বাইরের দিকে মুখ করা, অন্যটি হ্যাচ উইন্ডোর ঠিক ওপরে বাইরের দিকে তাক করা।

‘সেলফির’ বাঁ দিকে ওরিয়ন ক্যাপসুলের পাশাপাশি অরবিটাল ম্যানুভারিং সিস্টেমকে (ওএমএস) দেখা যায়। ওএমএস হলো স্পেস শাটলে ব্যবহৃত হাইপারগোলিক লিকুইড-প্রপেলান্ট রকেট ইঞ্জিনগুলোর একটি ব্যবস্থা। বিশাল এই ইঞ্জিনের সাহায্যে ক্যাপসুল ওরিয়ন চাঁদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে।

এ ছাড়া ছবিতে ক্যাপসুলের একটি সোলার প্যানেলও ধরা পরেছে। বলা হচ্ছে, বাহনটিতে চারটি সোলার প্যানেল রয়েছে; যেগুলো আড়াআড়িভাবে সাজানো।

পৃথিবীতে পাঠানো ছবিটি এই চার সোলার প্যানেলের একটির মাধ্যমে তোলা হয়েছে। নাসা এগুলোর নাম দিয়েছে ‘সোলার অ্যারে উইংস’ সংক্ষেপে এসএডব্লিও।

ওরিয়ন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা ডেভিড মেলেন্দ্রেজ বলেন, ‘ওরিয়নে চারটি সোলার অ্যারে (ডেটা স্ট্রাকচার) উইং আছে। প্রতিটিতেই একটি করে উন্নত প্রযুক্তি ক্যামেরা যুক্ত আছে; এগুলোকে মহাকাশে ব্যবহারের জন্য পরিবর্তিত করা হয়েছে। এ কারণে এ ক্যামেরাগুলো মহাকাশযানের বাইরের অংশের ছবি তুলতে পারে।’

আর্টেমিস ওয়ানের স্পেসক্রাফট মোট পাঁচ দিন চাঁদের চারপাশে ঘুরবে। সোমবার চাঁদের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে। যাত্রাপথ বদলের আগে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে চাঁদের মাটিতে নামার সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করবে এটি। ২৫ দিনের অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে ১১ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত
ভাগাড় থেকে বছরে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
জেফ বেজোসের রকেটে বিস্ফোরণ
পৃথিবীর কাছে আসতে থাকা গ্রহাণু নিয়ে যা জানাচ্ছে নাসা
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত

মন্তব্য

p
উপরে