বিবিসি আর্থ-এ প্রকাশিত মাইকেল মার্শাল এর লেখা দ্য সিক্রেট অফ হাউ লাইফ অন আর্থ বিগ্যান অবলম্বনে এই লেখা। থাকছে কয়েক পর্বে।
পৃথিবীর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে এখন প্রাণের উল্লাস। তবে সৃষ্টির গোড়াতে ছিল পৃথিবী ছিল নিষ্প্রাণ। তাহলে কীভাবে এই গ্রহে প্রাণের যাত্রা শুরু হলো? এর চেয়ে বড় কোনো প্রশ্ন আর হতে পারে না।
গত প্রায় একশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল তা খুঁজতে গিয়ে নিরন্তর গবেষণা করেছেন এবং সেই গবেষণা এখনও চলমান। এমনকি বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবীর যেমন পরিবেশ ছিল কৃত্রিমভাবে প্রায় তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রাণহীন বস্তু থেকে প্রাণ সৃষ্টির চেষ্টাও করেছেন।
তবে এখনও বিজ্ঞানীরা সে কাজে সফল হতে পারেননি। এরপরেও বর্তমানে যেসব বিজ্ঞানী প্রাণের উৎপত্তির রহস্য সমাধানে গবেষণা করছেন, তারা অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী যে তারা সঠিক পথেই রয়েছেন। বাস্তব পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই তাদের এই আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে।
প্রাণের উৎপত্তির প্রকৃত উৎস আবিষ্কারে বিজ্ঞানীদের অন্বেষণের রয়েছে এক দীর্ঘ গল্প। প্রাণের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচন প্রচেষ্টার সেই গল্প মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ, সংগ্রাম এবং অসাধারণ সৃষ্টিশীলতায় পরিপূর্ণ। যার মধ্য দিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের বড় বড় কয়েকটি আবিষ্কারও সম্ভব হয়েছে। বাস্তব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাণের সৃষ্টি রহস্য সমাধানে মানব-মানবীকে যেতে হয়েছে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় এবং সহ্য করতে হয়েছে অবর্ণনীয় কষ্ট। অনেক বিজ্ঞানীকে শয়তান আখ্যা দিয়ে নিপীড়ন করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানীকে কাজ করতে হয়েছে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী সরকারের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই রোমাঞ্চকর গল্প।
প্রাণ অনেক পুরনো। ডায়নোসর সম্ভবত পৃথিবীর বিলুপ্ত প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে তারা দোর্দণ্ড প্রতাপে টিকে ছিল। কিন্তু প্রাণের উৎপত্তি খুঁজতে আরও সুদূর অতীতে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের অনুমান, আজ থেকে প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাদের এই মহাবিশ্বের। তার ৯৫০ কোটি বছর পরে আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয় আমাদের পৃথিবীর। আর এই পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল সম্ভবত আরও ৫০ থেকে ১০০ কোটি বছর পরে, সম্ভবত আজ থেকে ৩৫০-৪০০ কোটি বছর আগে।
আমাদের চেনাজানা সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর, যা কিনা সবচেয়ে পুরনো ডায়নোসরের থেকেও ১৪ গুণ বেশি পুরোনো। তবে ভবিষ্যতে এরচেয়ে প্রাচীন জীবাশ্মের সন্ধানও হয়ত মিলতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ২০১৬ সালের আগস্টে গবেষকরা ৩৭০ কোটি বছর আগেকার এক আণুবীক্ষণিক অনুজীবের ফসিলের সন্ধান পেয়েছেন।
আমরা ধরে নেই প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল পৃথিবীতেই; যা যুক্তিযুক্তও মনে হয়। কেননা এখনও আমরা পৃথিবী ছাড়া আর কোথাও প্রাণের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাইনি। পৃথিবী সৃষ্টির পর এর বয়সের প্রথম ১০০ কোটি বছরের মধ্যেই হয়ত এতে প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল।
৪৫০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি আমাদের পৃথিবীর। আর প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনটির বয়স প্রায় ৩৭০ কোটি বছর। আমরা যদি প্রাণের বিকাশ মুহূর্তের কাছাকাছি সময়েও যেতে পারি, তাহলেও সৃষ্টিলগ্নে কেমন ছিল প্রাণের বৈশিষ্ট্য, তার ধারণাও হয়ত পাব।
১৯ শতক থেকে জীববিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবেই জানেন সব ধরনের জীবিত স্বত্ত্বাই জীবন্ত ‘প্রাণকোষ’ দিয়ে গঠিত; যা মূলত বিভিন্ন রকম এবং আকারে অতি ক্ষুদ্র জীবিত অণুর সমষ্টি। ১৭ শতকে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর প্রথম প্রাণকোষ আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু কোষ থেকেই প্রাণের উৎপত্তি সেটা বুঝতে আরও প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যায়।
এখন প্রথম প্রাণের উৎপত্তি বা সৃষ্টির বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার নিরিখে প্রমাণ করতে গেলে অর্থাৎ শূন্য থেকে একটা কোষ সৃষ্টি করতে হলে সেই ৩৫০ কোটি বছর আগেকার পৃথিবীর পরিবেশ যেমন ছিল তেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রায় অসম্ভব।
একজন মানুষ হয়ত দেখতে একটা শিং মাছ বা টাইরানোসোরাস রেক্স ডায়নোসরের মতো নয়, কিন্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে গভীর পর্যবেক্ষণে আমরা দেখতে পাব, সব প্রাণীর দেহ প্রায় একই রকম জীবন্ত প্রাণকোষ দিয়ে গঠিত। এমনকি বৃক্ষ, লতাপাতা, অণুজীব বা মাশরুম ইত্যাদি একই উপাদানে তৈরি। আর পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রাণীই আণুবীক্ষণিক; যাদের প্রায় সবাই একটি মাত্র প্রাণকোষ দিয়ে গঠিত। ব্যাকটেরিয়া এককোষী প্রাণীদের মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত, সংখ্যায় বেশি এবং পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়।
২০১৬ সালের এপ্রিলে বিজ্ঞানীরা এক সেমিনারে ‘প্রাণের বংশলতিকার’ সর্বশেষ আধুনিক সংস্করণ উপস্থাপন করেন; যেখানে সব ধরনের জীবিত প্রাণীকে বংশলতিকায় ভিন্ন ভিন্ন পর্বের মাধ্যমে দেখানো হয়। প্রাণীপর্বের প্রায় সব শাখাতেই ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য। ফলে প্রাণীর বংশলতিকা দেখে মনে হয় সব জীবের আদিপিতা হলো ব্যাকটেরিয়া। অন্যভাবে বলা যায়, প্রতিটি জীবিত প্রাণ এমনকি আপনি নিজেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাকটেরিয়ার বংশধর।
বিজ্ঞানের এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে আমরা এখন প্রাণের উৎস কোথায় এই প্রশ্নের আরও যথাযথ উত্তর নিশ্চিত করতে পারব হয়ত। কিন্তু কীভাবে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি হলো, তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে গেলে তথা কৃত্রিমভাবে একটা প্রাণকোষ তৈরি করতে আমাদের প্রয়োজন হবে ৩৫০-৪০০ কোটি বছর আগেকার পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক উপাদান এবং সে সময়কার প্রাথমিক প্রাণ বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশটিও হুবহু সৃষ্টি করতে হবে গবেষণাগারে। তাহলে একবার ভাবুন তো প্রথম প্রাণের উৎপত্তি হয়েছিল কীভাবে তা প্রমাণ করা কতটা দুরূহ ব্যাপার?
প্রাথমিক পরীক্ষণ
প্রায় সমগ্র মানব ইতিহাসজুড়েই পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ কীভাবে শুরু হয়েছিল, এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনীয়তা কখনও বিবেচিত হয়নি। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে- উত্তর তো আগে থেকেই ধর্মতত্ত্বের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ছিল। এমনকি ১৮০০ শতকের আগে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীও ‘প্রাণবাদে’ (Vitalism) বিশ্বাস করতেন। প্রাণবাদ মতে ধারণা করা হতো, প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে রয়েছে এমন কোনো ‘অলৌকিক’ উপাদান, যা তাদেরকে জড় বস্তু থেকে আলাদা করেছে, যা হয়তো সৃষ্টিকর্তার দান। এই মতবাদ অনেক সময় ধর্মতত্ত্বের সঙ্গেও গাঁটছড়া বাঁধত। ধর্মতত্ত্ব মতে, প্রথম মানবকে প্রাণদান করতে ঈশ্বর তার মুখে ফুঁ দিয়েছিলেন। আর চির অমর আত্মা প্রাণীর দেহে অলৌকিকভাবেই বিরাজিত থাকে।
এরপর ১৮ শতকের শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু বস্তুর সন্ধান পেলেন যেগুলোকে মনে হচ্ছিল প্রাণের জন্য অনন্য উপাদান। সেইসব উপাদানের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম; যা পাওয়া গিয়েছিল মূত্রের মধ্যে এবং তা ১৭৯৯ সালে প্রথম শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানীরা তখন পর্যন্ত জানতেন, শুধু জীবিত প্রাণীর দেহেই এই ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য উৎপন্ন হতে পারে। ফলে ধারণা করা হয় ইউরিয়া এবং ওইসব বস্তুর মধ্যেই হয়ত প্রাণের শক্তি সঞ্চিত আছে। যে কারণে সেই বস্তুগুলোকেও মনে করা হতো অন্যদের তুলনায় বিশেষ কিছু বা অতিপ্রাকৃত, যেগুলো প্রাণীদেহ ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। তখন পর্যন্ত প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানের যা কিছু অর্জন ছিল তা প্রাণের অলৌকিকতার ধারণার সঙ্গেই বেশি মানানসই।
তবে ১৮২৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ ভোলার একটা সাধারণ রাসায়নিক দ্রব্য অ্যামোনিয়াম সায়ানেট থেকে ইউরিয়া উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন। এই পদ্ধতির সঙ্গে জীবিত প্রাণীর কোনো যোগসূত্র ছিল না। অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও এগিয়ে এলেন ফ্রেডরিখ ভোলারের পথ অনুসরণ করে এবং কিছুদিনের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, প্রাণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, এমন সাধারণ নিরীহ রাসায়নিক দ্রব্য থেকেও প্রাণের উপাদান তৈরি করা সম্ভব।
বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাণ বিকাশে অলৌকিকতার স্থান এখানেই শেষ। কারণ, তখন প্রমাণ হয়ে গেল যে, প্রাণের উপাদানগুলো একেবারেই বস্তুজগতীয় জিনিস। এর উৎস অবস্তুগত আত্মা বা অতিপ্রাকৃত কোনো স্বত্তা নয়। প্রণীদেহের বাইরের চারপাশের বস্তুজগতেও প্রাণের উপাদান রয়েছে। এবং মানুষসহ সব প্রাণী সম্ভবত সেই বস্তুজগত থেকেই আবির্ভূত হয়েছে।
বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাণ বিকাশে অলৌকিকতার স্থানের সমাপ্তি ঘটে এখানেই । কিন্তু মানুষ তার মনের গভীরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রাণ বিকাশের ঐশ্বরিক ধারণা এত সহজে দূর করতে পারে না। অনেকেই বলতে থাকেন, রসায়ন থেকে প্রাণ সৃষ্টির মধ্যে বিশেষত্ব কিছু নেই বরং তাদের কাছে মনে হয় তা প্রাণকে এর ম্যাজিক থেকে বঞ্চিত করেছে, আর আমরা যেন যন্ত্র।
এমনকি বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত প্রাণের অলৌকিকত্বকে রক্ষা করতে রীতিমত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন। উদাহরণত ১৯১৩ সালের শেষ নাগাদ ব্রিটিশ জৈবরসায়নবিদ বেঞ্জামিন মূর ‘জৈব শক্তি’ (Biotic Energy) নামে একটা তত্ত্বের অবতারণা করেন, যেটা আসলে নতুন মোড়কে প্রাণের অলৌকিকতা প্রচারের প্রবল চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। বেঞ্জামিন মূরের ‘জৈব শক্তি’ তত্ত্বে আবেগের প্রাধান্যও যথেষ্ট লক্ষ্যণীয় ছিল। বর্তমানে মূরের ‘জৈব শক্তি’ তত্ত্ব অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন, এমন অনেক সায়েন্স ফিকশন আছে যেগুলোতে দেখানো হয় একজন মানুষের জীবনীশক্তি বাড়ানো সম্ভব অথবা নিঃশেষ করে দেয়া সম্ভব। উদাহরণত ‘ডক্টর হু’ এর একটা চরিত্র টাইম লর্ডস; যিনি পুনর্জন্ম শক্তি (regeneration energy) ব্যবহার করে বারবার জন্ম লাভ করছেন।
এমনকি যেখানে দেখানো হয়, তার জীবনী শক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা বাড়ানোও হচ্ছে; যা ফের শীর্ষেও পৌঁছে যাচ্ছে। এই বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনিকে অভিনব মনে হলেও বাস্তবে এটা সেই পুরোনো ধারণারই নতুনভাবে উপস্থাপন মাত্র।
১৮২৮ সালের ওই আবিষ্কারের পর থেকেই প্রথম প্রাণের বিকাশ কীভাবে ঘটেছিলে তার বস্তুগত ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তারা কোনো উপায়ান্তর খুঁজে পেলেন না। বিজ্ঞানীরা হয়তো তাদের প্রাণের অলৌকিকত্বের ধারণা থেকে সহজেই বের হতে পারছিলেন না।
এই ক্ষেত্রে বিবর্তন তত্ত্বের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় যুগান্তকারী ধারণাটি দিলেন প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন। ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন ব্যাখ্যা করে দেখালেন কীভাবে এই বিপুলা পৃথিবীর ততধিক বিপুল পরিমাণ বিচিত্র প্রাণী জগতের উদ্ভব হয়েছে হয়ত একটা সাধারণ এককোষের আদিপিতা-মাতা থেকে।
এই প্রথম কেউ বললেন কোনো ঈশ্বর প্রতিটি জীবকে আলাদা আলাদা করে সৃষ্টি করেননি। প্রাণিজগৎ সৃষ্টি হয়েছে কোটি কোটি বছর আগেকার পৃথিবীর প্রাথমিক জৈব-রাসায়নিক উপাদান থেকে উৎপন্ন আদি প্রাণ থেকে। প্রাণী জগতের সবাই সেই আদি এককোষী প্রাণীর বংশধর।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব চারিদিকে বিতর্কের হইচই ফেলে দিল। ডারউইন এবং তার বিবর্তনবাদ ভয়ানক হিংস্র আক্রমণের শিকার হলো। অথচ বিবর্তনবাদের কোথাও উল্লেখ করা হয়নি কীভাবে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি।
ডারউইন জানতেন প্রশ্নটা অতীব গুরুতর, কিন্তু তিনি যথাসম্ভব সতর্কভাবে শুরু করেছিলেন তবুও চার্চের সঙ্গ দ্বন্দ্ব এড়ানো সম্ভব হলো না। পরে অবশ্য ১৮৭১ সালে লেখা এক চিঠিতে আবেগমথিত ভাষায় ডারউইন বলতে চেয়েছিলেন, প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে এই তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি জানতেন। প্রাণের উৎপত্তি একটা ছোট উষ্ণ পুকুরে। যেখানে ছিল পর্যাপ্ত অ্যামোনিয়া এবং ফসফরাস লবণ। সেই সঙ্গে আলো, উত্তাপ, বিদ্যুৎ এবং রাসায়নিকভাবে স্বয়ং উদ্ভূত প্রোটিনের (আমিষের) জটিলযৌগ, যা আরও জটিল পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়ে প্রাণে পরিণত হয়।
ভিন্নভাবে বলা যেতে পারে, কী ঘটতে পারে যখন দীর্ঘদিন সাধারণ জৈব উপাদান পূর্ণ একটা ছোট জলাভূমি সূর্যালোকে ছিল? কিছু জৈব উপাদান হয়ত মিলেমিশে প্রাণের সদৃশ কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিল। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল আমিষ এবং আমিষ আরও জটিল কোনো বস্তুতে পরিণত হচ্ছিল। হতে পারে অস্পষ্ট ধারণামাত্র। কিন্তু ভবিষ্যতে এই অস্পষ্ট ধারণার উপর ভিত্তি করেই প্রাণের উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রথম তত্ত্বটি দাঁড়িয়ে যায়।
এই তত্ত্বের আত্মপ্রকাশ ঘটে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি স্থানে। আপনি হয়ত ভাবতে পারেন ঈশ্বরবিহীন প্রাণের উৎপত্তির মত সাহসী চিন্তা বিকশিত হয়েছে একটা গণতান্ত্রিক দেশে, যেখানে মানুষের বাক স্বাধীনতা সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র? কিন্তু না, বাস্তব ঘটনা হলো অলৌকিকতাকে পাশ কাটিয়ে প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে প্রথম তত্ত্বটি বিকশিত হয় নিষ্ঠুরভাবে সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে। যেখানে মুক্তচিন্তা ছিল নিষিদ্ধ। তখন স্ট্যালিনের রাশিয়াতে সবকিছু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। মানুষের চিন্তা, এমনকি জীববিজ্ঞানের মতো পঠন পাঠনের বিষয়ও, যা কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়, সেটাও ছিল রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন।
সবচেয় আলোচিত ঘটনা ছিল, স্ট্যালিন জীনতত্ত্বের প্রচলিত পঠন পাঠনের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের আরেক জীববিজ্ঞানী এবং কৃষিবিদ ট্রোফিম ডেনিশোভিচ লিসেঙ্কো জোসেফ মেন্ডেলের জিনতত্ত্ব এবং ডারউইনের বিবর্তনবাদকে বাতিল করে বংশপরম্পরার উপর জোর দেন। তিনি মনে করতেন, প্রাণী তার জীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে সঞ্চারিত করে যায়। লিসেঙ্কো দেখালেন উন্নতজাতের গম থেকে উন্নত এবং অধিকফলনশীল গম কীভাবে উৎপাদন করা যায়। স্ট্যালিন কমিউনিস্ট ভাবধারার সঙ্গে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ ট্রোফিম ডেনিশোভিচ লিসেঙ্কোর মতবাদকে চাপিয়ে দেন। জীনতত্ত্ব বা বংশগতিবিদ্যা নিয়ে যেসব বিজ্ঞানীরা কাজ করছিলেন তাদেরকে জনসাধারণের কাছে লিসেঙ্কোর মতবাদকে সমর্থন এবং প্রচার করতে বাধ্য করা হয়। অন্যথায় তাদের স্থান হতো লেবার ক্যাম্পে।
স্ট্যালিনের দমন নিপীড়নের শাসনের মধ্যেই আলেক্সান্ডার ওপারিন চালিয়ে যেতে লাগলেন তার জৈবরাসায়নিক গবেষণা। ওপারিন নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। কারণ, তার কমিউনিজমের প্রতি সন্দেহাতীত আনুগত্য ছিল। তবে বংশগতির ক্ষেত্রে ওপারিন লিসেঙ্কোর তত্ত্বকে সমর্থন দেন এবং দেশের সেবা করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘অর্ডার অফ লেনিন’ নামের সর্বোচ্চ পুরষ্কারে ভূষিত হন।
১৯২৪ সালে আলেক্সান্ডার ওপারিন প্রকাশ করলেন ‘দ্য অরিজিন অফ লাইফ’ নামে তার অমর গ্রন্থখানি। এতে ওপারিন প্রাণের বিকাশ সন্ধানে যে প্রস্তাবনা হাজির করেন সেটা ডারউইনের বিবর্তনবাদের ‘একটি ছোট্ট উষ্ণ পুকুরে প্রাণের উৎপত্তি’ ধারণার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়।
ওপারিন কল্পনা করেছিলেন কেমন ছিল সদ্য গঠিত পৃথিবীর চেহারা। পৃথিবীর উপরিভাগ ছিল কল্পনাতীত গরম। মহাকাশ থেকে খসে পড়ছিল জ্বলন্ত পাথরের খণ্ড। পৃথিবী তখন ছিল বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত অর্ধগলিত পাথরের বিশৃঙ্খল স্তুপ। পদার্থগুলোর মধ্যে কার্বনের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি।
ধীরে ধীরে উত্তপ্ত পৃথিবী ঠান্ডা হলো, জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রথম বৃষ্টি নামল পৃথিবীর বুকে, তরল পানিতে তলিয়ে গেল চরাচর। বৃষ্টি পড়ার আগেও সমুদ্র ছিল। কিন্তু সেটা ছিলো প্রচণ্ড উত্তাপে গলিত কার্বননির্ভর ঘন তরল।
এমতাবস্থায় দুইটা ব্যাপার ঘটতে পারে। প্রথমত. বিভিন্ন রাসায়নিক নিজেদের মাঝে বিক্রিয়া করে অসংখ্য নতুন জটিল যৌগ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মধ্যে কিছু যৌগ আরও জটিল যৌগে পরিণত হবে। আলেক্সান্ডার ওপারিন ধারণা করেন, রাসায়নিক দ্রবণের ক্ষুদ্র মৌলগুলি প্রাণের দিকে ধাবিত হয়। প্রসঙ্গত, প্রাণের দুটো মৌলিক উপাদান চিনি (Sugar) এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড পৃথিবীর পানি থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।
দ্বিতীয়ত. কিছু রাসায়নিক দ্রব্য নতুন আণুবীক্ষণিক অণুজীবের কাঠামো তৈরি করতে শুরু করে। কিছু অণুজীবের জৈবরাসায়নিক উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যেমন তেল পানির উপর আস্তরণ সৃষ্টি করে ভেসে থাকে। কিন্তু যখন কিছু জৈবরাসায়নিক উপাদান পানির সঙ্গে মিশে যায় তখন গোলাকার ‘কোয়াসারভেটিভ’ নামক বস্তুর রূপ ধারণ করে যেগুলো আয়তনে .০১ সেমি বা (.০০৪) ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। যেগুলো জীবন্ত কোষের মতো বেড়ে ওঠে। অবয়ব পরিবর্তন করে এমনকি মাঝেমধ্যে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তারা চারপাশের পানির রাসায়নিক দ্রব্যের সঙ্গে ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। ফলে প্রাণসদৃশ রাসায়নিক উপাদান তাদের মাঝে সংগঠিত হতে থাকে। ওপারিন প্রস্তাব করেন এই কোয়াসারভেটিভ হলো আধুনিক জীবিত কোষের পূর্বপুরুষ।
এর পাঁচ বছর পরে ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী জন বারডন স্যান্ডারসন হালডেন একই মতবাদ নিয়ে র্যাশনালিস্ট অ্যানুয়াল জার্নালে একটা ছোট প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। হালডেন ইতিমধ্যেই বিবর্তনবাদে প্রভূত অবদান রেখে ফেলেছেন। তিনি ডারউইনের মতবাদকে বিকাশমান জীনতত্ত্বের আলোকে আরও সংহত করেন।
হালডেন ছিলেন তার জীবনের থেকেও বড় এক চরিত্র। একবার ডিকম্প্রেসন চেম্বারের কিছু পরীক্ষা চালাতে গিয়ে তার কানের পর্দায় ছিদ্র হয়ে যায়। কিন্তু পরে তিনি রম্য করে লিখেছিলেন, ‘কানের পর্দা সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ হয়ে যায়। যদি পর্দায় ছিদ্র থেকেই যায় এবং তারফলে কেউ যদি বধির হয়ে যায় তাহলে সে কারো প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করেই কান দিয়ে বাতাসে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে পারবে, যেটা হবে একটা সামাজিক অর্জন!’
ওপারিনের মতো হালডেনও বললেন, সমুদ্র প্রাথমিক অবস্থা থেকে স্থিতিশীল গরম ঘন তরলে পরিণত হলে কীভাবে সেখানকার পানিতে রাসায়নিক অনুজীব নিজে থেকেই সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর এরকম পরিবেশে প্রথম জন্ম নেয় প্রাণের অণুজীব অথবা অর্ধজীবন্ত বস্তু আর এরপরের স্তরে সৃষ্টি হয় স্বচ্ছ তেলতেলে জেলির মত থকথকে প্রাণবস্তু।
কথিত আছে, ওপারিন এবং হালডেন যে তত্ত্বের অবতারণা করেন পৃথিবীর সমস্ত জীববিজ্ঞানী সেগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন মাত্র। প্রাণের প্রথম বিকাশ ঘটেছে পুরোপুরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এবং এতে কোনো ঈশ্বরের হাত নেই বা এতে কোনো আগাম প্রাণশক্তিরও ভুমিকা ছিল না। এই ধারণাটিও ডারউইনের বিবর্তনবাদের মতোই ছিল বিপ্লবী। এই তত্ত্বও ধর্মতত্ত্বের ভিত্তিমূলে চরম কুঠারাঘাত করল।
ঈশ্বরবিহীন সৃষ্টিতত্ত্ব সোভিয়েত ইউনিয়নে কোনো সমস্যা ছিল না। কারণ, কমিউনিস্ট শাসিত সোভিয়েত রাষ্ট্রীয়ভাবেই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। সে জন্যই কমিউনিস্ট নেতারা প্রাণের উৎপত্তি গবেষণায় এই বস্তুবাদী ব্যাখ্যাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানান। হালডেন নিজেও ছিলেন একজন নাস্তিক এবং কমিউনিজমের কড়া সমর্থকও ছিলেন।
সে সময়ে সাধারণত বামপন্থি এবং কমিউনিস্ট চিন্তা ধারার লোকজন এই ঈশ্বরবিহীন প্রাণ সৃষ্টির ধারণা মেনে নিত। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নে এই তত্ত্ব বেশ সাদরেই গৃহীত হলো। আর ইউরোপ-আমেরিকায়ও যারা এই তত্ত্ব মেনে নিয়েছিলো তারাও ছিলো বামপন্থি বা কমিউনিস্ট ভাবধারার লোকজন।
প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে আদিম জৈবরাসায়নিক ঘন তরল সহযোগে- এই ধারণাটি ওপারিন-হালডেন তত্ত্ব বলে ব্যাপক পরিচিত পেয়ে গেল। ওপারিন-হালডেন তত্ত্ব যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য হলেও তত্ত্বটির একটা সমস্যা ছিল। ওপারিন-হালডেন তত্ত্বকেও নির্ভুল করার স্বপক্ষে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণ ছিলো না। ২৫ বছর পার হয়ে গেলেও তত্ত্বটির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দাঁড় করানো যায়নি।
সময়ের সঙ্গে প্রাণের উৎপত্তির রহস্য সমাধানের গবেষণায় যোগ দেন ১৯৩৪ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ হ্যারল্ড উরে। তিনি পারমাণবিক বোমা বানানোর দলেও কাজ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ম্যানহাটান প্রকল্পে পারমাণবিক বোমার অতি প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম-২৩৫ সংগ্রহ করতেন তিনি। যুদ্ধের পরে তিনি পরমাণু প্রযুক্তিকে সাধারণ জনগণের সমাজের নিয়ন্ত্রণে দেয়ার জন্য আন্দোলন করেন।
প্রফেসর উরে ধারণা করেছিলেন, আমাদের পৃথিবী আদিম অবস্থায় সম্ভবত অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হাইড্রোজেনের মিশেলে পিণ্ডাকৃতির ছিল। এই মিশ্রণকে যদি বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ এবং পানির সংস্পর্শে আনা যায় তাহলে অ্যামাইনো অ্যাসিড উৎপন্ন করা সম্ভব। এটা সর্বজনবিদিত যে, অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রাণের প্রথম উপাদান।
উরে এই সময়ে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশ এবং মহাকাশের ভাসমান বস্তুকণার রসায়ন নিয়ে আগ্রহী হন। বিশেষকরে দেখতে চেয়েছিলেন সৌরজগৎ যখন সবে সৃষ্টি হলো, তখন ঠিক কী ঘটছিল। একদিন তিনি ক্লাসে বললেন, সৃষ্টিলগ্নে পৃথিবীর বায়ুস্তরে সম্ভবত অক্সিজেনের অস্তিত্ব ছিল না। অক্সিজেন না থাকার কারণেই ওপারিন এবং হালডেনের তত্ত্বে প্রস্তাবিত আদিম জৈবরাসায়নিক ঘন তরলটি তৈরি হতে পেরেছিল। কেননা অক্সিজেন থাকলে তার সংস্পর্শে এসে ভঙ্গুর রাসায়নিকগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।
প্রফেসর হ্যারল্ড উরের ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন পিএইচডির গবেষণারত ছাত্র স্ট্যানলি মিলার। তিনি উরেকে প্রস্তাব দেন পরীক্ষা করে দেখার জন্য আসলেই কেমন ছিল সেদিনের পৃথিবীর পরিবেশ। উরে নিজের ধারণার উপর কিছুটা সন্দেহ পোষণ করলেও মিলার অক্সিজেনহীন পৃথিবীর চিন্তায় তাকে আরও মনোনিবেশ করালেন। তাদের মাঝে বিস্তর আলোচনার পরে ১৯৫২ সালে প্রফেসর উরে এবং তার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্ট্যানলি লয়েড মিলার যৌথভাবে প্রথমবারের মত প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল তার খোঁজে বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিখ্যাত ‘উরে-মিলার এক্সপেরিমেন্ট’ শিরোনামে একটি পরীক্ষা শুরু করলেন।
পরীক্ষার যন্ত্রপাতি খুব সাধারণ ছিল। মিলার পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্নের চারটি রাসায়নিক উপাদান- গরম পানি, হাইড্রোজেন গ্যাস, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন, চারটি কাচের জারে ভরে তাদের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে দিলেন। কাচের জারের মাঝে মিলার বারবার তড়িৎপ্রবাহ দিতে লাগলেন যাতে বজ্রপাত ঘটে। আদিকালে পৃথিবীতে বজ্রপাতের ঘটনা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সাধারণ পরিবেশেই প্রচুর পরিমাণ জৈব অনু উৎপাদন সম্ভব। মিলার দেখতে পেলেন প্রথমদিনেই কাচের জারের মধ্যকার দ্রবণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোলাপী আভা ধারণ করেছে এবং সপ্তাহ শেষে ঘন তরল দ্রবণটি গাঢ় লাল হয়ে গেল। পরিষ্কার বোঝা গেল জারে জৈব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।
মিলার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে মিশ্রণটিতে গ্লাইসিন এবং আলানাইন নামে দুইটা অ্যামাইনো অ্যাসিড পেলেন। অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো হলো প্রাণের প্রাথমিক উপাদান। অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রোটিন (আমিষ) সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এই অ্যাসিড আমাদের শরীরের শারীরবৃত্তিক এবং জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মিলার গবেষণাগারে জন্ম দিলেন প্রাণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে প্রাণ আরও জটিল, আমরা যতটা ভাবি তার থেকেও বেশি।
এই গবেষণার ফলাফল বিখ্যাত সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হলো ১৯৫৩ সালে। প্রাণের উৎপত্তির রহস্য সমাধানের অভিযানে ‘উরে-মিলার এক্সপেরিমেন্ট’ এক স্মরণীয় ঘটনা। প্রফেসর উরে এই গবেষণার পুরো কৃতিত্ব মিলারকে দিলেন এবং আর্টিকেল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তবুও এই পরীক্ষা ‘উরে-মিলার এক্সপেরিমেন্ট’ হিসেবেই ইতিহাসে উচ্চারিত হয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানের গবেষক জন সাদারল্যান্ড বলেন, ‘উরে-মিলার পরীক্ষার গুরুত্ব এখানেই যে, এখন প্রমাণ হলো আপনি সাধারণ পরিবেশেও কোনো প্রাণীদেহের সংস্পর্শ ছাড়াই প্রচুর অণুজীব সৃষ্টি করতে পারবেন।’
কিন্তু পরবর্তীতে আরও গবেষণায় পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে অন্যান্য গ্যাসের মিশ্রণও ছিল, এমন আবিষ্কারের কারণে আগের গবেষণা ভুল প্রমাণ হয়। কিন্তু সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। জন সাদারল্যান্ড বলেন, ‘উরে-মিলার পরীক্ষা ছিল দৃষ্টান্তমূলক, তারা মানুষের কল্পনা জাগাতে পেরেছিলেন এবং এরপর প্রাণের উৎস সন্ধানের বিষয়টি নিয়ে লোকে ব্যাপকভাবে আলাপ-আলোচনা শুরু করে।’
মিলারের পরীক্ষার প্রভাবে অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও এগিয়ে এলেন ভিন্ন ভিন্ন মৌল থেকে অনুজীব সৃষ্টির গবেষণা করে প্রাণের উৎসের সন্ধানে। প্রাণের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচনের হাতছানি মনে হলো সন্নিকটে।
এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে প্রাণ এত জটিল যে, তা আমরা চিন্তা করতেও সক্ষম নই। জীবন্ত কোষ শুধুমাত্র কিছু রসায়নের জটিল যৌগ নয় বরং এক সূক্ষ্ম শিল্পিত যন্ত্রবিশেষ। যা হঠাৎ করেই সম্পর্কহীন বস্তু থেকে সৃষ্টি হয়ে বিজ্ঞানীদের সামনে ধারণার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়।
[পরের পর্বে থাকছে ডিএনএ আবিষ্কারে যেভাবে পাল্টে বিজ্ঞানীদের চিন্তার জগত।]
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বিজিডি ই-গভ সার্ট আয়োজিত “জাতীয় সাইবার ড্রিল ২০২৬”-এ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র দল “CyberSavvy”।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অইগ্রহণের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা যাচাই করা হয়। সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত স্কোরবোর্ড অনুযায়ী “CyberSavvy” দলটি ৫৭৫০ স্কোর অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করে।
দলের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা, দ্রুত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সমন্বিত টিমওয়ার্ক এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিযোগিতায় সাইবার আক্রমণ শনাক্তকরণ, ইনসিডেন্ট রেসপন্স, ডিজিটাল ফরেনসিকস এবং সিকিউরিটি অ্যানালাইসিসভিত্তিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চূড়ান্ত স্কোরবোর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি’র “DBBL Cyber Squad” এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের “CBBL Warrior” দল।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অর্জন দেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাইবার সক্ষমতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে।
টিমটির নেতৃত্বে ছিলেন মো. আশিকুর রহমান। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— মো. মুশফিক উল আনাম, মো. নাহিদ ইসলাম চৌধুরী, মো. শাহীন কাদির এবং স্বরূপ সাহা।
প্রথম স্থান অর্জনের পর টিম লিডার মো. আশিকুর রহমান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,“দেশের সেরা সাইবার টিমগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করা সত্যিই গর্বের ও আনন্দের। আমাদের পুরো টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা, ধৈর্য ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে।”
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কার— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,“আমাদের সম্মানিত CISO স্যার মো: সানোয়ার হোসেন-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সবসময় তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো আইটি সিকিউরিটি টিমকে আপডেট ও অনুপ্রাণিত রাখেন। তার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণাই আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।”
জ্বালানি ছাড়াই শক্তি সঞ্চয়ের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে শক্তি ধরে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তা ছাড়তে সক্ষম বিশেষ ধরনের অণু নিয়ে চলছে গবেষণা। এ প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘মলিকুলার সোলার থার্মাল এনার্জি স্টোরেজ’।
বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে এমন অণুর সন্ধান করছেন, যা সূর্যের শক্তি শোষণ করে গঠন পরিবর্তন করবে এবং পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসে সেই শক্তি মুক্ত করবে। এটি অনেকটা ফাঁদে আটকানো স্প্রিংয়ের মতো, যেখানে আগে শক্তি জমা থাকে, পরে প্রয়োজনমতো তা ব্যবহার করা যায়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার বিজ্ঞানী গ্রেস হান জানান, মানুষের ত্বকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পড়লে ডিএনএ অণু সাময়িকভাবে বিকৃত হয়। পরে তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই নতুন শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ত্বকের ডিএনএ অণুগুলো ওজনে খুবই হালকা হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি ধারণ করতে পারে। গবেষকরা সেই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম অণু তৈরির চেষ্টা করছেন।
এক গবেষণাপত্রে গ্রেস হান ও তার দল দেখিয়েছেন, তাদের উদ্ভাবিত অণুভিত্তিক সিস্টেম ছোট একটি পাত্রে রাখা পানিকে দ্রুত উত্তপ্ত করতে সক্ষম। হান বলেন, পরীক্ষায় দ্রবণটি দ্রুত ফুটতে দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।
গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস এঞ্জেলসের অধ্যাপক কেন্ডাল হাউক ও তার দল কম্পিউটার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অণুর কার্যকারিতা আগেই অনুমান করেছিলেন।
পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষক ক্যাসপার মথ-পলসেন জানান, এ পদ্ধতিতে প্রতি কেজিতে ১.৬৫ মেগাজুল পর্যন্ত শক্তি ঘনত্ব পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক লিথিয়াম ব্যাটারির চেয়েও বেশি।
তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জন গ্রিফিন বলেন, অণুকে সক্রিয় করতে খুব শক্তিশালী অতিবেগুনি রশ্মির প্রয়োজন হয়, যা সূর্যালোকে সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়া শক্তি মুক্ত করতে এখনো ক্ষয়কারী রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব ডুইসবার্গ-এসেনের বৈজ্ঞানিক পরিচালক হ্যারি হোস্টারের বলেন, প্রযুক্তিটি ব্যবহারিক পর্যায়ে নিতে কিছু জটিলতা আছে। তবে গবেষকরা এর কঠিন বা সলিড-স্টেট সংস্করণ তৈরিতে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এটি জানালার কাচের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করে শীতে ঘর গরম রাখা বা কুয়াশা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
সম্প্রতি দেশের বাজারে উন্মোচন করা হয়েছে স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় গ্যালাক্সি ‘এ সিরিজের নতুন দুটি স্মার্টফোন—এ৫৭ ফাইভ-জি এবং এ৩৭ ফাইভ-জি। আধুনিক সব ফিচারসমৃদ্ধ এই ডিভাইসগুলো এখন দেশজুড়ে স্যামসাংয়ের অনুমোদিত আউটলেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। নতুন এই শক্তিশালী স্মার্টফোন দুটি বাজারে আনার মাধ্যমে স্যামসাং তাদের সিগনেচার ‘অসাম ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তিকে সবার জন্য আরও সহজলভ্য করে তুলেছে।
স্যামসাংয়ের ‘অসাম ইন্টেলিজেন্স’ মূলত একগুচ্ছ এআই-চালিত ফিচারের সমন্বয়, যা গ্যালাক্সি ‘এ’ সিরিজের ব্যবহারকারীদের ফ্ল্যাগশিপ মানের অভিজ্ঞতা দেবে। এর মধ্যে থাকা ‘ভয়েস ট্রান্সক্রিপশন’ ফিচারের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ডার অ্যাপে ধারণ করা কথাকে সহজেই টেক্সটে রূপান্তর করা যাবে, যা মিটিংয়ের নোট তৈরিতে বিশেষ সহায়ক। এছাড়া এজ প্যানেলে থাকা ‘এআই সিলেক্ট’ ফিচারের ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত টেক্সট কপি করা যাবে।
দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করতে ফোনগুলোতে রয়েছে গুগলের ‘সার্কেল টু সার্চ’ ফিচার, যা একটি ছবির ভেতরে থাকা একাধিক বস্তুকে শনাক্ত করতে সক্ষম। এতে আরও আছে ‘অবজেক্ট ইরেজার’ ফিচার, যা ছবি থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, চমৎকার ‘নাইটোগ্রাফি’ফিচারের সাহায্যে অপেক্ষাকৃত কম আলোতেও তোলা যাবে নিখুঁত ছবি।
সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ডিভাইস দুটি বেশ শক্তিশালী। গ্যালাক্সি এ৫৭ ও এ৩৭—উভয় মডেলেই রয়েছে পানি ও ধুলোরোধী ‘আইপি৬৮’ রেটিং। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, যা একবার চার্জে টানা দুই দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
নতুন ফোনগুলোর উন্মোচন সম্পর্কে স্যামসাং বাংলাদেশের মোবাইল বিজনেস বিভাগের হেড অব প্রোডাক্ট প্ল্যানিং অ্যান্ড আইএমসি স্ট্র্যাটেজি সৈয়দ মো. বদরুল আরিফিন বলেন, “বর্তমানে একটি স্মার্টফোনের প্রকৃত মূল্য কেবল এর দাম দিয়ে নয়, বরং এটি প্রতিদিনের কাজে ব্যবহারকারীকে কতটা সাহায্য করছে, তার ওপর নির্ভর করে।”
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দুই মডেলের স্মার্টফোনেই ‘নো কস্ট ইএমআই’ সুবিধা দিচ্ছে স্যামসাং । বাজারে গ্যালাক্সি এ৩৭ ফাইভ-জি-এর ৮/১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯,২৯৯ টাকা এবং ৮/২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ৬৭,৭৯৯ টাকা। অন্যদিকে, গ্যালাক্সি এ৫৭ ফাইভ-জি-এর ৮/২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের পাওয়া যাচ্ছে ৭৮,১৯৯ টাকায় এবং ১২/২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ৮৬,৫৯৯ টাকা।
এছাড়া, মে মাসে লঞ্চিং অফারের অংশ হিসেবে ইবিএল কার্ডধারীরা ০% ইন্টারেস্টে ১২ মাস পর্যন্ত বর্ধিত ইএমআই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, ইউসিবিএল কার্ডধারীরা ইএমআই সুবিধা নিলে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) পেঁয়াজ ও সরিষার উৎপাদন এবং গুণাগুণ বৃদ্ধিতে সিলিকন প্রযুক্তির কার্যকর ভূমিকা শীর্ষক এক গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিএএস-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অম্লীয় মাটির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সিলিকন প্রযুক্তির ব্যবহার পেঁয়াজ ও সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ায় আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন যে, পেঁয়াজ দেশের একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় ফসল হওয়া সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আমদানি করতে হয়। সিলিকন প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও সরিষা চাষের সম্প্রসারণ ঘটলে আমদানি ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি পতিত জমির সঠিক ব্যবহার ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
গবেষণা কার্যক্রম ও ফলাফল উপস্থাপনকালে প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: কামরুল হাসান এবং সহ-প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: শাহাদৎ হোসেন জানান, সিলেট অঞ্চলের মাটি অম্লীয় প্রকৃতির হওয়ায় এখানে সাধারণত পেঁয়াজ ও সরিষার আবাদ কম হয়। তবে তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই ফসলে সিলিকন ব্যবহারের ফলে গাছের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে এই প্রযুক্তি পেঁয়াজের আগাম পরিপক্বতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের পরবর্তী সময়ে বাল্বের সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি করে পচন রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সিলিকন ব্যবহারের ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ফসলের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। এই গবেষণা প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে তেলের চাহিদা পূরণে সরিষা এবং মসলার সংকট নিরসনে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা আরও আগ্রহী হবেন। এর ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল অন্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সাউরেসের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় কৃষকরা অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনীতে উপস্থিত সকলে মাঠ পর্যায়ে এই আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ সম্প্রতি ‘এআই অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ইন ইন্ডাস্ট্রি: হোয়াই অ্যাডভান্সড স্কিলস ম্যাটার’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুর এলাহী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে শিল্পক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান।
সেমিনারে প্যানেল বক্তা হিসেবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ‘নোঅটোমেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. জুনায়েদ কাজী, এসিআই এআই বিজনেসের ডিরেক্টর ও সিওও মোহাম্মদ অলি আহাদ এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের তথ্য নিরাপত্তা প্রধান মুহম্মদ শওকত আলী ও বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ ওয়াসিফ রেজা এবং সিএসই বিভাগের চেয়ারপারসন ড. মাহীন ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা আধুনিক বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে কেবল নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা ‘টুলস’-এর ওপর নির্ভরশীল হওয়া চলবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য কম্পিউটার সায়েন্সের মৌলিক কারিগরি জ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য নিয়মিত নিজেকে আপগ্রেড করার কোনো বিকল্প নেই বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলতে অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সেমিনারে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং’ এবং ‘সাইবার সিকিউরিটি’-তে মাস্টার্স কোর্সের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর উপযোগিতা তুলে ধরা হয়। সেমিনারের শেষ অংশে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ক্যারিয়ার ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে পান।
পহেলা বৈশাখের উৎসবকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন অপো এ৬কে উন্মোচন করেছে অপো। বাংলাদেশজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এটি নিয়ে আসা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপো এ৬কের মূলে রয়েছে এর ৫০ মেগাপিক্সেল আলট্রা-ক্লিয়ার ক্যামেরা। এআই পোর্ট্রেইট রিটাচিং, ডুয়েল-ভিউ ভিডিও ও নাইট মোডের মতো ফিচার যুক্ত রয়েছে। স্মুথনেস নিশ্চিত করতে অপো এ৬কেতে স্ন্যাপড্রাগন ৬৮৫ মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিটাস্কিং, গেমিং ও প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য অপ্টিমাইজড এই প্রসেসরটি ল্যাগ-ফ্রি পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিক দক্ষতা নিশ্চিত করে, যা স্মুথনেসকে এই ডিভাইসের একটি অন্যতম ফিচারে পরিণত করে।
অপো এ৬কেতে সুবিশাল ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, এটিকে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী করে তুলতে রিভার্স চার্জিং সুবিধা নিয়ে আসা হয়েছে।
এতে ১২০ হার্জ আলট্রা ব্রাইট ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলট্রা-স্মুথ স্ক্রলিং ও অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতে এতে ৪ বছরের ফ্লুয়েন্সি গ্যারান্টির পাশাপাশি, এআই এডিটর ২.০, এআই গেমবুস্ট ২.০, এআই লিঙ্কবুস্ট ৩.০, থেফট প্রোটেকশন ও জেমিনির মতো সর্বাধুনিক এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “অপো এ৬কের মাধ্যমে আমরা এমন একটি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে চাই যা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের প্রয়োজনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স, শক্তিশালী ব্যাটারি, স্মুথ ডিসপ্লে ও সর্বাধুনিক ক্যামেরার সমন্বয়ে এ ডিভাইসটি কাজ, বিনোদন ও কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ডিভাইসটি কিনলেই ক্রেতারা ৯০ দিনের নিশ্চিত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ও ২ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও, একটি বিশেষ লটারি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ও’লাইক এয়ারবাডস, এলিট ব্যাকপ্যাক, অপো টিশার্ট ও অপো ক্যাপ জিতে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। একইসাথে, টপপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০% ডাউন পেমেন্টে কার্ডলেস ইএমআই সুবিধাও পাবেন তারা।
ক্রিস্টাল ব্লু ও ক্রিস্টাল ভায়োলেটের মতো আকর্ষণীয় রঙে ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের এই ডিভাইসটি এখন সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯,৯৯৯ টাকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আয়ের পথ খুঁজছে মেটা। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি দেশে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার নাম ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন কিছু বিশেষ ফিচার। যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ নামের এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় ব্যবহারকারীরা স্টোরি দেখলেও সেটি পোস্টদাতার কাছে ধরা পড়বে না। অর্থাৎ গোপনে স্টোরি দেখার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি নিজের স্টোরি কতজন একাধিকবার দেখেছেন সেই তথ্যও জানা যাবে।
এছাড়া স্টোরি শেয়ারের ক্ষেত্রে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পাবেন গ্রাহকেরা। এখন পর্যন্ত ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকার বাইরে আলাদা করে দর্শক নির্ধারণের সুযোগ সীমিত ছিল। নতুন এই ফিচারে একাধিক অডিয়েন্স তালিকা তৈরি করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট গ্রুপ বেছে নিয়ে স্টোরি শেয়ার করতে পারবেন।
স্টোরির সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর স্টোরি মুছে যায়। তবে সাবস্ক্রিপশন নিলে এটি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার স্টোরিকে ‘স্পটলাইট’ করার সুযোগ থাকবে। যা অনুসারীদের স্টোরি তালিকার শুরুতে প্রদর্শিত হবে।
ইনস্টাগ্রাম প্লাসে আরও যুক্ত হয়েছে ‘সুপারলাইক’ নামের একটি অ্যানিমেটেড প্রতিক্রিয়া। এছাড়া স্টোরি ভিউয়ার তালিকায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীকে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও থাকছে।
যদিও মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কোন দেশে এই পরীক্ষা চলছে তা জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেক্সিকো, জাপান এবং ফিলিপাইন-এ এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশভেদে সাবস্ক্রিপশনের মূল্য ভিন্ন। মেক্সিকোতে এর মাসিক খরচ প্রায় ২ ডলার, জাপানে প্রায় একই আর ফিলিপাইনে এর চেয়েও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ মেটার আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ‘সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি’ বা অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন সেবার কারণে ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহও তৈরি হতে পারে।
প্রিমিয়াম ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই করছে মেটা। এখন দেখার বিষয়, পরীক্ষার পর এই সেবা কতটা বিস্তৃতভাবে চালু করা হয়।
মন্তব্য