× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Nabiha is a champion of nuclear power plants
hear-news
player
google_news print-icon

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা

নিউক্লিয়ার-পাওয়ার-প্ল্যান্ট-নিয়ে-চ্যাম্পিয়ন-খুদে-বিজ্ঞানী-নাবিহা-
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের ডেমো নিয়ে খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা খান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে তার ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার শক্তির বিকল্প নেই বলেই এই বিষয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করেছে বলে জানায় নাহিবা।

রাজধানীর আদাবরের কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শিক্ষার্থী নাবিহা খান।

নাবিহা কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী। তার প্রজেক্ট ছিল ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নিয়ে।

বিজ্ঞান মেলায় প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সেখানে নাবিহা খানের নিউক্লিয়ার বিষয়ক জ্ঞান ও উপস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বিচারক ও উপস্থিত অতিথিরা।

নাবিহা খানের বাবা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান। ছোট বেলা থেকেই নাবিহার বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর গভীর আগ্রহ রয়েছে। এর আগেই সে বিজ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে।

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে তার ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎশক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার শক্তির বিকল্প নেই বলেই এই বিষয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করেছে বলে জানায় নাহিবা।

বিজ্ঞান মেলায় নাবিহা খানের প্রকল্পটি প্রথম স্থান জিতে নেয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার হাবিবা হুদা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা শিক্ষা অফিসার রাজু আহমেদ, অধ্যক্ষ ড. আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যরা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
NASAs first hit by an asteroid in Earth protection

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত

পৃথিবী সুরক্ষায় গ্রহাণুতে নাসার প্রথম আঘাত ডিমারফোস গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে নাসার মহাকাশযান ডার্ট। ছবি: নাসা
পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

পৃথিবী সুরক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান।

ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডিরেকসান টেস্ট (ডার্ট) নামের মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রর স্থানীয় সময় সোমবার শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ডিমারফোস গ্রহাণুটিকে আঘাত করে।

পৃথিবীর সঙ্গে গ্রহাণু বা অন্য কোন মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য সংঘর্ষরোধে করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় মানবজাতির এটি প্রথম সফল পরীক্ষা।

ডার্ট মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের ১০ মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির মিশন অপারেশন সেন্টার থেকে গ্রহাণু বা কোনো মহাকাশীয় বস্তুর গতি পরিবর্তনে মানবজাতির প্রথম প্রচেষ্টাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর পর ঐতিহাসিক এই সফলতায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন নাসার বিজ্ঞানী ও কর্মীরা।

সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ডার্টের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলোকে ত্রিভূজ-আকৃতির মহাকাশযান যেটি একটি ভেন্ডিং মেশিনের চেয়ে বড় হবে না, তা একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান গ্রহাণু ডিমারফোসকে আঘাত করে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে।

৩৩ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি প্রায় সাত বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতিশক্তির মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে মহাকাশযান সফল হয় কিনা তা দেখতে নাসার এই প্রকল্প।

এই পরীক্ষণে ডার্ট পুরোপুরি সফল হয়েছে কিনা তা টেলিস্কোপের প্রতিবেদনে জানা যাবে। এটি পেতে প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে একে সফল ঘোষণা দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে কার্পণ্য করেননি নাসার বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
পৃথিবীর কাছে আসতে থাকা গ্রহাণু নিয়ে যা জানাচ্ছে নাসা
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 
৫২ বছর পর নাসার রকেট ছুটবে চাঁদে
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে রঙিন ‘কার্টহুইল’ গ্যালাক্সি

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
More videos of UFOs near the US Navy

আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে ‘ইউএফও’র আরও ভিডিও

আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে ‘ইউএফও’র আরও ভিডিও ইউএফও'র কল্পিত চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার নৌবাহিনী বেশকয়েকটি ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে তাদের এমন কিছুর (ইউএফও) মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা ব্যাখ্যা করা এখনও সম্ভব হয়নি। এ সংক্রান্ত ৩টি ভিডিও এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। নৌবাহিনী স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের কাছে আরও ইউএফওর ভিডিও আছে কিন্তু প্রতিরক্ষার বিষয়াদি জড়িত থাকায় তা প্রকাশ করতে চায় না তারা।

বেশ কিছু ইউএফওর ভিডিও ধারণ করার বিষয়ে পেন্টাগন স্বীকার করে নিলেও আমেরিকার নৌবাহিনী বলছে, তারা আর নতুন কোনো ইউএফও ভিডিও প্রকাশ করতে চায় না।

ভাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌবাহিনী এই ধরণের ভিডিও প্রকাশ করা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে মনে করে।

আমেরিকার সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সাইট দ্য ব্ল্যাকভল্টকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বলেছে, ইউএফওর ভিডিও জনগনের কাছে প্রকাশ হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করবে কারণ এটি আমেরিকার প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা বিভাগ/নৌবাহিনীর অপারেশন, দুর্বলতা এবং এ সংক্রান্ত মূল্যবান তথ্য প্রদান করতে পারে।

আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে ‘ইউএফও’র আরও ভিডিও
নাইট ভিশন গগলসে ধরা পড়া ত্রিকোণাকার ইউএপি

এর আগে ব্ল্যাকভল্টের পক্ষ থেকে নৌবাহিনীর কাছে থাকা সমস্ত ইউএফওর ভিডিও চাওয়া হয়েছিল।

প্রায় ৩টি ভিডিও এর আগে প্রকাশ পেয়েছে, এই ভিডিওগুলো যে নৌবাহিনীরই ধারণ করা, তা নিশ্চিত করে পেন্টাগন। তবে ভিডিওগুলো সরকারি উপায়ে প্রকাশ করা হয়নি। এগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে ফাঁস করা হয়েছিল।

আমেরিকার নৌবাহিনীও স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের কাছে আরও ভিডিও রয়েছে।

পেন্টাগনও ইউএফও ইস্যুতে ইদানিং বেশ কথা বলছে। এই বছরের শুরুতে ইউএফও’র বিষয়ে কংগ্রেসের মুখোমুখিও হয়েছিল।

সামরিক বাহিনী আপাত দৃষ্টিতে জনসাধারণ ও কংগ্রেসকে বলতে চেয়েছে যে ইউএফওগুলো খুবই বাস্তব এবং একটি হুমকি। এ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের তহবিল প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি জড়িত থাকার কারণে নতুন কোনো ভিডিও প্রকাশ করতে চায় না তারা।

আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে ‘ইউএফও’র আরও ভিডিও
নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানের ক্যামেরায় ধরা পড়া ইউএপি

ইউএফও কি?

কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ইউএফও দেখার দাবি করেছে, এমনকি এলিয়েনের সঙ্গেও যোগাযোগের দাবি করেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের ধারণা ইউএফও হলো এলিয়েনের মহাকাশযান। দুইটি বিষয়কে সাধারণ মানুষ একসূত্রে গাঁথলেও গবেষকরা একে ভিন্নভাবেই দেখেন।

ইউএফও বলতে বোঝায় এমন কোনো উড়ন্ত বস্তু, যা মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটিকে ইদানিং ইউএপি(আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা) বলা হচ্ছে।

আর এলিয়েন বলতে বোঝায় ভীনগ্রহের প্রাণী। বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতেই এই দুটি বিষয়ের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও বাস্তব জীবনে এগুলো অধরাই রয়ে গেছে। তারপরও কিছু কল্পনাপ্রবণ মানুষ বলে এসেছে, এমন কিছু থাকা অস্বাভাবিক নয়।

কংগ্রেসের শুনানিতে যা বলা হয়েছে

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ইন্টেলিজেন্স কাউন্টার টেররিজম, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এবং কাউন্টার প্রলিফারেশনের সাবকমিটির শুনানির সময় পেন্টাগনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রোনাল্ড মল্টলি বলেছেন, জোরালো বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু ইউএপি শনাক্ত করা যেতে পারে, তবে সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।

আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে ‘ইউএফও’র আরও ভিডিও
কংগ্রেস শুনানিতে ইউএপির ভিডিও দেখাচ্ছেন নৌ গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমান্ডার স্কট গ্রে

২০০৪ সালে এমন এক ঘটনায় প্রশান্ত মহাসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরি থেকে চালিত যুদ্ধবিমানের পাইলটরা এমন এক বস্তুর সম্মুখীন নন, যা থামা ও ঘোরাঘুরির আগের মুহূর্তেই কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।

অন্য একটি ঘটনায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখানো হয়েছে, ক্যামেরায় একটি বস্তুকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানের পাশ দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। যেটিকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ গোয়েন্দা বিভগের ডেপুটি ডিরেক্টর স্কট ব্রে বলেন, ‘কিছু কিছু ঘটনা আছে যেখানে আমরা ফ্লাইট থেকে প্রাপ্ত ডাটা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি না। তারাই আমাদের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়।’

তবে ইউএপিগুলো ভিনগ্রহী এলিয়েন হতে পারে, এমন ধারণাকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন স্কট ব্রে। তার মতে, এগুলো জৈব বা অজৈব উপাদান বা ব্যাখ্যাতীত ধ্বংসাবশেষ, যা কখনো উদ্ধার করা হয়নি এবং এই বস্তুগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়নি।

শুনানিতে আইন প্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো ব্যাখ্যাতীত এরিয়াল ফেনোমেনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

আরকানসাস রিপাবলিকানের আইনপ্রণেতা রিক ক্রফোর্ডের মতে, এটি এলিয়েন মহাকাশযান খোঁজার বিষয় নয়, বরঞ্চ সম্ভাব্য হুমকি শনাক্তে অক্ষমতা গোয়েন্দা ব্যর্থতার সমতুল্য, যা আমরা এড়াতে চাই। তবে গণশুনানির পর আইন প্রণেতাদের জন্য প্রাইভেট ক্লাসিফায়েড সেশনের জন্য দরজা বন্ধ করা হয়।

ইউএপি নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা শুরু যেভাবে

এর আগে ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময় ইউএফওবিষয়ক ১৪৪টি ঘটনার কথা জানিয়েছিল খোদ পেন্টাগন। ইউএফও দেখার দাবি করেছেন দেশটির বিমান ও নৌসেনারা। ২০২০ সালের এপ্রিলে কিছু ভিডিও প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউএফও হিসেবে অনুমিত বস্তুগুলোর ভিডিও ধারণ করেছিল নৌবাহিনী।

কিছু কিছু ঘটনা আছে যেখানে আমরা ফ্লাইট থেকে প্রাপ্ত ডাটা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি না। তারাই আমাদের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। এগুলো জৈব বা অজৈব উপাদান বা ব্যাখ্যাতীত ধ্বংসাবশেষ, যা কখনো উদ্ধার করা হয়নি এবং এই বস্তুগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ইউএফওবিষয়ক এ রকম অসংখ্য দাবি জোরালো হতে থাকার মুখে এ বিষয়ে ২০২০-এ ব্যাখ্যা চায় কংগ্রেস। নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ২০২০ সালের আগস্টে আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা টাস্কফোর্স গঠন করেছিল পেন্টাগন। মে মাসে তারই সর্বশেষ শুনানি হয় কংগ্রেসে।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
How to put a slave to sleep in 13 minutes

দস্যি শিশুকেও ১৩ মিনিটে ঘুম পাড়াবেন যেভাবে

দস্যি শিশুকেও ১৩ মিনিটে ঘুম পাড়াবেন যেভাবে
একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, কেঁদে গলা ফাটানো শিশুকে মাত্র ১৩ মিনিটে ঘুমের মাঝে তলিয়ে দেয়ার অব্যর্থ কৌশল খুঁজে পেয়েছেন তারা।  

শিশুদের ঘুম পাড়ানো নিয়ে ঝক্কির শেষ নেই মায়েদের। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বাবারা কিছুটা সহায়তার হাত বাড়ালেও মূল ধকলটি এখনও মায়েদেরই পোহাতে হয়।

অনেক শিশুই ঘুমের ঠিক আগে প্রতিদিন তারস্বরে চিৎকার করে দুর্বিষহ করে তোলে বাবা-মায়ের জীবন। শিশুদের কোন কৌশলে সহজে ঘুম পাড়ানো যায় তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর গবেষণা, তবে এগুলোর কোনোটিই দস্যি শিশুদের চোখ ঢুলু ঢুলু করতে খুব একটা কাজে লাগেনি।

একদল বিজ্ঞানী এবার দাবি করেছেন, কেঁদে গলা ফাটানো শিশুকে মাত্র ১৩ মিনিটে ঘুমের মাঝে তলিয়ে দেয়ার অব্যর্থ কৌশল খুঁজে পাওয়া গেছে।

কৌশলটিও বেশ সহজ। কান্নারত শিশুকে বুকে নিয়ে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। এ সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে সে শান্ত হয়ে আসবে। এরপরের আট মিনিট ওকে বুকে জড়িয়ে রেখেই একটি চেয়ারে বসে থাকুন। ব্যস আপনার লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেছে। বুকের মাঝে ঘুমিয়ে পড়া শিশুটিকে এবার আলতো করে শুইয়ে দিন বিছানায়।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট জার্নালে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি

গবেষক দলের সদস্য জাপানের আরআইকেইএন সেন্টার ফর ব্রেইন সায়েন্সের ড. কুমি কুরোদা বলেন, ‘শিশুর ঘুমাতে যাওয়ার আগে নানান তালবাহানা ও কান্নাকাটিতে অনেক বাবা-মায়ের জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। সন্তান পালনের ক্ষেত্রে এটা একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে অনভিজ্ঞ বাবা-মাকে আরও বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। বিরক্ত হয়ে অনেকে শিশুর সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন।’

গবেষণায় শূন্য মাস থেকে সাত মাস বয়সী ২১টি শিশু ও তাদের মায়েদের বেছে নেয়া হয়েছিল। এই শিশুদের চোখে ঘুম আনার কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করে ফল পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশুকে বুকে নিয়ে মায়েদের হাঁটাহাঁটি করা, শিশুকে শান্ত করতে চেয়ারে বসে থাকা, একটি খাটে শুইয়ে দেয়া অথবা কোনো দোলনা খাটে শুইয়ে রাখা।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের বুকে নিয়ে মা হাঁটাহাঁটি করলে তারা মোটামুটি দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। এ সময় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তাদের হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে আসে।

দোলনায় রাখলেও শিশুদের মধ্যে শান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে মা বসে থেকে শিশুকে বুকে আগলে রাখলে বা খাটে শুইয়ে রাখলে এমনটি ঘটে না।

গবেষকরা বলছেন, প্রথাগতভাবে মনে করা হয় মায়ের বুকের মাঝে থাকলেই শিশুর অস্থিরতা কমে আসে। তবে গবেষণায় তার প্রমাণ মেলেনি। কোথাও বসে বা শুয়ে থেকে শিশুকে বুকে ধরে রাখার খুব একটি উপযোগিতা লক্ষ করা যায়নি। তবে হাঁটাহাঁটি করলে এটি বেশ কার্যকর।

গবেষকেরা বলছেন, বাচ্চাকে বুকে নিয়ে পাঁচ মিনিট হাঁটাহাঁটির মধ্যেও শিশু ঘুমিয়ে যেতে পারে, তবে এরপর তাকে সরাসরি বিছানায় শুইয়ে দেয়া ঠিক নয়। কারণ দেখা গেছে, সরাসরি খাটে শুইয়ে দেয়ার ২০ সেকেন্ডের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ শিশু আবার চোখ মেলে তাকিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো শিশু চোখ বন্ধ করার পর অন্তত আট মিনিট বা তার কিছু বেশি সময় ঘুমিয়ে থাকলে খাটে শোয়ানোর পরেও তার জেগে ওঠার সম্ভাবনা কম। এ জন্য শিশুকে নিয়ে পাঁচ মিনিট হাঁটাহাঁটির পর আরও আট মিনিট বুকে রেখেই মায়েদের কোনো চেয়ারে বসে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এই কৌশল মোটামুটি অব্যর্থ বলে দাবি করছেন গবেষকেরা। ড. কুরোদা বলেন, ‘আমি নিজে চার সন্তানের মা। এরপরেও আমি গবেষণার ফল দেখে চমকে গেছি। এতদিন ভাবতাম বিছানায় শুইয়ে দেয়ার পরপরই সন্তানের চোখ মেলে তাকানোর কারণ হয়ত শোয়ানোর সময় আমি কোনো কিছু ভুল করেছি। তবে এখন দেখছি, এর কারণ একদম অন্য।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার গবেষণাপত্র পড়তে পারবে সবাই
পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন
অন্যকে নিয়ে গালগল্পে দিনে আমাদের ব্যয় ৫২ মিনিট
কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো?
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Is vinegar mixed with salt in wine?

মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?

মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়? মদে লবণ দিয়ে সিরকা বানানোর বক্তব্য নিয়ে চলছে বিতর্ক। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র মধ্যে শুধু গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি ওয়াইন ও বিয়ার থেকেই ভিনিগার তৈরি সম্ভব। পাতন করা (ডিসটিলড) অ্যালকোহলকে (যেমন ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন, ভদকা) কখনোই ভিনিগারে পরিণত করা সম্ভব নয়। লবণ দিয়েও এ কাজে সফলতার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর একটি বক্তব্যের কিছু অংশ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে তিনি দাবি করেছেন, মদের মধ্যে লবণ যোগ করলে সেটি আর মদ থাকে না, সেটি সিরকা বা ভিনিগারে পরিণত হয়।

মদ বা অ্যালকোহল লবণের সংস্পর্শে ভিনিগারে পরিণত হতে পারে কি না, তা যাচাই করেছে নিউজবাংলা। রসায়নবিদদের মতামত নেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, লবণের সাহায্যে মদের সিরকায় পরিণত হওয়ার কোনো নজির নেই, রাসায়নিকভাবে এটি ঘটা সম্ভবও নয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ওয়াইন থেকে ভিনিগার তৈরি করা যেতে পারে, তবে এতে লবণের কোনো ভূমিকা নেই।

অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র মধ্যে শুধু গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি ওয়াইন ও বিয়ার থেকেই ভিনিগার তৈরি সম্ভব। তবে পাতন করা (ডিসটিলড) অ্যালকোহলকে (যেমন: ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন, ভদকা) কখনোই ভিনিগারে পরিণত করা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি.এইচ. চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ওয়েবসাইটে ভিনিগারের রাসায়নিক গঠন ও উপযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এতে বলা হয়, ভিনিগার শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘ভিন আইগ্রে’ বা টক ওয়াইন থেকে। খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৫ হাজার বছর আগে ব্যাবিলনে এটি রান্নার পাশাপাশি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সুস্থতার জন্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। খাদ্য সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হতো ভিনিগার।

লোককথা অনুযায়ী, কোনো এক ব্যক্তি একবার ভুল করে এক বোতল ওয়াইন কয়েক মাস স্টোর রুমে রেখে দিয়েছিলেন। এরপর গাঁজন প্রক্রিয়ায় এটি টক স্বাদের ভিনিগারে পরিণত হয়।

ভিনিগারের রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে হার্ভার্ড টি.এইচ. চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ বলছে, এটি অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পানির সংমিশ্রণ, যা দুই ধাপের গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

প্রথমত, ইস্ট চিনি অথবা ফল বা ধান-গমের মতো খাদ্যশস্যের তরল স্টার্চকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় তরল অ্যালকোহলে পরিণত করে। এরপর এই অ্যালকোহল অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিটোব্যাক্টর প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে আবার গাঁজন করে। এর মাধ্যমে তৈরি হয় ভিনিগার।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভিনিগারে কমপক্ষে ৪ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে সাধারণভাবে ব্যবহৃত ভিনিগারে এর মাত্রা ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

ভিনিগারে রয়েছে ট্রেস ভিটামিন, খনিজ লবণ, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং পলিফেনলিক যৌগ। এগুলোর পরিমাণের ভিত্তিতে ভিনিগারের স্বাদ টক থেকে মিষ্টি পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটানিকা ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মদ বা অ্যালকোহল হলো অ্যালকাইল গ্রুপের (হাইড্রোকার্বন চেইন) কার্বন পরমাণুর সঙ্গে সংযুক্ত এক বা একাধিক হাইড্রক্সিল (-OH) গ্রুপের একটি শ্রেণি।

অ্যালকোহলকে পানির (H2O) একটি উপজাত হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ এ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পরমাণুর একটি অ্যালকাইল গ্রুপ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যেমন: ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল (CH2CH3)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, রাম, জিন বা ভদকায় অ্যালকোহলের মাত্রা অনেক বেশি। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিসটিলড অ্যালকোহলে এর মাত্রা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। এ জন্যই ডিসটিলড অ্যালকোহলকে ভিনিগারে পরিণত করা অসম্ভব। কারণ বেশি মাত্রার অ্যালকোহল গাঁজনের মূল উপাদান ইস্টকেই মেরে ফেলে

তবে ওয়াইনে অ্যালকোহলের মাত্রা কম এবং পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে বলে এই পানীয় দিয়ে ভিনিগার তৈরি করেন অনেকে। প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে এ ক্ষেত্রেও লবণের কোনো ভূমিকা বা ব্যবহার নেই। খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের (NaCl) আদৌ কোনো বিক্রিয়াই ঘটে না অ্যালকোহলের সঙ্গে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মদের (অ্যালকোহল) সঙ্গে লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড) মেশানো হলে তা ভিনিগার বা সিরকা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অ্যালকোহল বা মদের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা তার কিছু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে, বাকিটা থাকে পানি। আর সেখানে লবণ মেশানো হলে তা পানির সঙ্গে মিশে স্যালাইনড টেস্ট বা নোনা স্বাদ তৈরি করতে পারে, তার বেশি কিছু নয়।’

রসায়নের এই শিক্ষক বলেন, ‘এমনকি ওয়াইনের সঙ্গে লবণ মেশালেও তা ভিনিগার হবে না। তা করা হলে বড় জোর নোনা স্বাদ আসতে পারে।’

রাসায়নিক কৌশলে ওয়াইন থেকে ভিনিগার তৈরি সম্ভব জানিয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তবে সেটিও অনেক সময়সাপেক্ষ।

‘এটা করতে গেলে প্রথমে ওয়াইন থাকা ইথানলকে অক্সিডাইট করতে হয়। তারপর এলড্রিহাইট করে ভিনিগার পাওয়া সম্ভব. কিন্তু এটি খুব দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’

তিনি বলেন, ‘অ্যালকোহল শত বছর পুরোনো হলেও তা নষ্ট হয় না। যৌগটি সেভাবেই থাকে, বাইরের প্রভাব খুব একটা একে প্রভাবিত করে না।’

আরও পড়ুন:
অন্যকে নিয়ে গালগল্পে দিনে আমাদের ব্যয় ৫২ মিনিট
কেন হাসছেন, জেনে হাসছেন তো?
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
মানুষ কেন উড়তে পারে না?
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই

মন্তব্য

জেফ বেজোসের রকেটে বিস্ফোরণ

জেফ বেজোসের রকেটে বিস্ফোরণ ব্লু অরিজিনের নিউ শেপার্ড রকেট। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সময় সোমবার উড্ডয়নের এক মিনিট চার সেকেন্ড পর ব্লু অরিজিনের নিউ শেপার্ড রকেটের বুস্টারটি থেকে কমলা রঙের ধোঁয়া বের হতে থাকে ও পরে তা বিস্ফোরিত হয়। বুস্টারটি বিস্ফোরিত হলেও ওপরে থাকা ক্যাপসুলটি বুস্টার থেকে আলাদা হতে পেরেছিল এবং এর কোনো ক্ষতি হয়নি।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী জেফ বেজোসের মহাকাশ পর্যটন নির্ভর প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের রকেট উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরিত হয়েছে।

এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সময় সোমবার উড্ডয়নের এক মিনিট চার সেকেন্ড পর নিউ শেপার্ড বুস্টারটি থেকে কমলা রঙের ধোঁয়া বের হতে থাকে এবং পরে তা বিস্ফোরিত হয়। তবে বুস্টারটি বিস্ফোরিত হলেও ওপরে থাকা ক্যাপসুলটি বুস্টার থেকে আলাদা হতে পেরেছিল এবং এর কোনো ক্ষতি হয়নি।

পরে প্যারাসুটের সাহায্যে ৪ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতা থেকে ক্যাপসুলটি মাটিতে অবতরণ করে।

ব্লু ওরিজিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল একেবারেই পেলোড মিশন। ক্যাপসুলটিও ছিল মনুষ্যবিহীন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ফ্লাইটে অসংগতির বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণের পূর্ণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্লু শেপার্ডের সব উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ব্লু অরিজিনের নিউ শেপার্ড রকেট প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসসহ ৩১ জনকে মহাকাশে নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
যান্ত্রিক ত্রুটিতে পেছাল নাসার চন্দ্র অভিযান 
চাঁদে স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী প্রথম মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
৫২ বছর পর নাসার রকেট ছুটবে চাঁদে

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
31 thousand years ago there was skilled surgery

৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা

৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা ৩১ হাজার বছর আগে মারা যাওয়া কিশোরের অস্থিতে পাওয়া গেছে অস্ত্রোপচারের প্রমাণ। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞানসাময়িকী নেচারে গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা নিবন্ধটি। ম্যালোনি এবং তার সঙ্গীরা লিখেছেন, ‘একটি সফল অঙ্গ ব্যবচ্ছেদের এই বিস্ময়কর প্রাথমিক প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়া অঞ্চলে অন্তত কিছু দক্ষ মানুষ চাষাবাদ যুগের বহু আগে অত্যাধুনিক চিকিৎসা জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করেছিল।

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের ঘন জঙ্গল। সেখানকার পাহাড়ি গুহা লিয়াং তেবোতে ২০২০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় চমকে যান বিশেষজ্ঞরা। এক কিশোরের দেহাবশেষই তাদের এই বিস্ময়ের কারণ।

আজ থেকে ৩১ হাজার বছর আগে মারা যায় ওই কিশোর। তার দেহাবশেষে রয়েছে শল্যচিকিৎসার সুস্পষ্ট প্রমাণ। ছেলেটির বাম পা কেটে ফেলা হয়েছিল নিপুণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। আর সেই চিকিৎসার পর ছয় থেকে নয় বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল সে।

এই দেহাবশেষ আবিষ্কার বদলে দিচ্ছে শল্যচিকিৎসার প্রচলিত ইতিহাস। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বোর্নিয়ান ওই প্রত্নকিশোরের নাম দিয়েছেন বিটিওয়ান। তার অস্থি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, জীবনের শুরুর দিকে বড়সড় এক নিখুঁত অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে।

ওই অস্ত্রোপচারে বাম পা হারালেও জীবন রক্ষা পায় বিটিওয়ানের। লিয়াং তেবোতে ওই কিশোরের দেহাবশেষ খুঁজে পান অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো টিম ম্যালোনির নেতৃত্বে প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এর আগে সবচেয়ে প্রাচীন অস্ত্রোপচারের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল এক ফরাসি কৃষকের দেহে, যিনি এখন থেকে সাত হাজার বছর আগে বেঁচে ছিলেন। তার কবজির নিচ থেকে একটি হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।

ওই কৃষকের দেহাবশেষ আবিষ্কারের পর গবেষকেরা এতদিন ধারণা করতেন, জটিল অস্ত্রোপচারের কৌশল মানুষের আয়ত্বে এসেছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার বছর আগে থেকে। তবে টিবিওয়ান প্রমাণ করছে এর অন্তত তিন গুণ বেশি সময় আগেই শল্যবিদ্যা জানা ছিল মানুষের।

৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা
ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের লিয়াং তেবো গুহায় প্রত্নকিশোরের দেহাবশেষ খোঁজ পাওয়া গেছে

বিজ্ঞানসাময়িকী নেচারে গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা নিবন্ধটি। ম্যালোনি এবং তার সঙ্গীরা লিখেছেন, ‘একটি সফল অঙ্গ ব্যবচ্ছেদের এই বিস্ময়কর প্রাথমিক প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়া অঞ্চলে অন্তত কিছু দক্ষ মানুষ চাষাবাদ যুগের বহু আগে অত্যাধুনিক চিকিৎসা জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করেছিল।

‘আমাদের অনুমান, টিবিওয়ান যে সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ভুলত্রুটি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে শারীরবিদ্যা ও অস্ত্রোপচারের কৌশলগুলো রপ্ত করতে সক্ষম হয়। এই জ্ঞান মৌখিকভাবে তাদের আন্তঃপ্রজন্মে ছড়িয়ে গিয়েছিল।’

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ধারণা যে বা যেসব শল্যবিদ টিবিওয়ানের পায়ে অস্ত্রোপচার করেন তিনি বা তাদের অবশ্যই মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, পেশী এবং ধমনী সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান ছিল। মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়ও তিনি বা তারা জানতেন।

৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা
বোর্নিও দ্বীপের সেই প্রত্নকিশোরের দেহাবশেষ

‘তিনি বা তারা টিবিওয়ানকে বাঁচানোর প্রয়োজনেই পা কেটে ফেলার দিকে গিয়েছিলেন। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের সময়, শিরা, ধমনী ও টিস্যুর প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া হয়েছে। সেগুলো এমনভাবে সারিয়ে তোলা হয় যাতে করে টিবিওয়ানের প্রাণই কেবল রক্ষা পায়নি, এক পা হারিয়েও বাকি জীবন সে বেশ সক্রিয় ছিল।‘

বিশেষ কোনো ক্ষতজনিত সংক্রমণের কারণে বিওয়ানের বাম পা কেটে ফেলতে হয় বলে ধারণা গবেষকদের। তার দেহাবশেষটি গুহার একটি সমাধি খনন করে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে প্রাচীন এই সভ্যতায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রচলন থাকার বিষয়েও নিশ্চিত হয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।

আরও পড়ুন:
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
নদীর বুকে জেগে উঠল ৩ বুদ্ধমূর্তি
মানুষ কেন উড়তে পারে না?
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই
পাথরকে ‘সেক্সটয়’ বানিয়ে বানরের স্বমেহন

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Immortal jellyfish defeating death

মৃত্যুকে হার মানিয়ে ‘অমর’ যে জেলিফিশ

মৃত্যুকে হার মানিয়ে ‘অমর’ যে জেলিফিশ অমরত্বের খোঁজে বিজ্ঞানীদের চোখ জেলিফিশে। ছবি: সংগৃহীত
টুরিটোসিস ডোরনির বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো, এদের মেডুসা আহত, অসুস্থ বা বুড়িয়ে গেলে তা মরে যায় না। উল্টো ‘সিস্ট’ হয়ে যায়, যা একসময় পলিপে পরিণত হয়ে শুরু হয় নতুন চক্র। 

সাধারণভাবে জীবনের শেষ মৃত্যুতে। তবে সব প্রাণীর ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্যি নাও হতে পারে, অন্তত জেলিফিশের একটি প্রজাতি মৃত্যুকে যেন দেখিয়ে চলছে বুড়ো আঙুল।

নতুন এক গবেষণা বলছে, টুরিটোসিস ডোরনি জেলিফিশ যৌন মিলনের পর বারবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে জৈবিকভাবে অমর হয়ে উঠেছে। আর এর ডিএনএ-তেই লুকিয়ে আছে শাশ্বত জীবনের রহস্যের উত্তর।

মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে আশ্চর্য এক জৈবিক কৌশল আয়ত্ত করেছে টুরিটোসিস ডোরনি। এ প্রজাতির প্রতিটি সদস্য আসলে একে অপরের ক্লোন। পলিপ (বর্ধনশীল কোষগুচ্ছ) হিসেবে জীবনের শুরু, সময়ের পরিক্রমায় তা জীবন্ত সত্তা মেডুসা পরিণত হয়।

টুরিটোসিস ডোরনির আরেক বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো, মেডুসা আহত, অসুস্থ বা বুড়িয়ে গেলে তা মরে যায় না। উল্টো ‘সিস্ট’ হয়ে যায়, যা একসময় পলিপে পরিণত হয়ে শুরু হয় নতুন চক্র।

এ প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘লাইফ সাইকেল রিভার্সাল’ বা জীবনচক্রের উল্টোগতি। বিষয়টি অনেকটা কোনো বয়স্ক ব্যক্তির ফের ভ্রূণে কিংবা একটি মুরগির ডিমে পরিণত হওয়ার মতো ঘটনা।

পিএনএএস জার্নালে সোমবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্পেনের ওভেইডাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। টুরিটোসিস ডোরনির ডিএনএ-এর সঙ্গে জেলিফিশের অন্য প্রজাতির ডিএনএর তুলনা করেছেন তারা। গবেষকরা দেখতে চেয়েছেন, ঠিক কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে টুরিটোসিস ডোরনি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, গবেষকেরা টুরিটোসিস ডোরনি বয়সের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামতে যুক্ত জিনের দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন। তারা জীবনচক্রের উল্টোগতির প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করেছেন। এর মাধ্যমে টুরিটোসিস ডোরনির অমরত্বের পেছনে ভূমিকা রাখা আণবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় জেলিফিশের অন্য প্রজাতির সঙ্গে টুরিটোসিস ডোরনির বেশ কিছু পার্থক্য পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এগুলোই টুরিটোসিস ডোরনিকে অমর করতে ভূমিকা রাখছে। যেমন টুরিটোসিস ডোরনিতে পিওএলডি-১ এবং পিওএলডি-২ জিনের বেশি প্রতিলিপি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। এগুলো টুরিটোসিস ডোরনির ‘নশ্বর আত্মীয়দের’ তুলনায় বিভিন্ন প্রোটিনকে বেশি প্রথিত করে রাখে। ফলে এই প্রজাতির জেলিফিশের ডিএনএ মেরামতের সক্ষমতা অনেক বেশি।

এ ছাড়া টেলোমারেজ এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণের ডিএনএ সংখ্যাও এই প্রজাতিতে বেশি। বয়সের গতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রয়েছে এই এনজাইমের।

গবেষণার এসব ফলকে চমকপ্রদ বলছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তারা বলছেন, মানুষের অমরত্ব লাভের পথ এখনও অনেক বাকি। টুরিটোসিস ডোরনির জৈবিক কৌশলগুলো আমাদের বয়সকে বিশ্লেষণের পথ আপাতত অনেক বিস্তৃত করবে।

আরও পড়ুন:
মৃত জেলিফিশের দখলে কুয়াকাটার সৈকত
সৈকতে একঝাঁক মৃত জেলিফিশ, তবু এটি ‘অমর’ কেন?
ঘরে এলো জেলিফিশ

মন্তব্য

p
উপরে