× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Great progress in the research of reanimation
hear-news
player
print-icon

মৃতদেহে প্রাণ ফেরানোর গবেষণায় বিরাট অগ্রগতি

মৃতদেহে-প্রাণ-ফেরানোর-গবেষণায়-বিরাট-অগ্রগতি
মৃত শূকরের হৃৎপিণ্ডও সচল করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
ইয়েল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর সেই মৃত শূকরের দেহে রক্ত সঞ্চালন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং অনেক কোষেরই কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।

এবার মৃতদেহেও প্রাণ সঞ্চারে সক্ষম হলেন বিজ্ঞানীরা। আর এমনটি ঘটিয়েছেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক।

নেচারে প্রকাশিত এক জার্নালে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

বিজ্ঞানীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর সেই মৃত শূকরের দেহে রক্ত সঞ্চালন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং অনেক কোষেরই কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।

শুরুতে গবেষকরা অচেতন একটি শূকরের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দেন, ফলে তার শরীরের কোষগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে মারা যায়।

শূকরের মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর ওরগানইএক্স নামের নতুন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার চিকিৎসা শুরু হয়। এতে মৃত শূকরের শরীরে পুনরায় রক্ত সঞ্চালন শুরু হয়। এমনকি সেই শূকরের হৃৎপিণ্ডর কার্যকারিতাও শুরু হয়, সচল হয় কিডনি ও লিভারও। হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের সরাসরি প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গবেষকরা শূকরটির মৃত্যুর ৬ ঘণ্টা পরেও সাড়া পেয়েছেন। শূকরটি তার কাঁধও ঝাঁকিয়েছে। যদিও কাঁধ ঝাঁকানোর বিষয়টির গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির কমপারাটিভ মেডিসিন, জেনেটিক্স ও মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক এবং ন্যাচারে প্রকাশিত গবেষণার সহলেখক নেনাদ সেস্তান বলেছেন, ‘আমরা শরীরজুড়ে (মৃত শূকরের) রক্ত সঞ্চালন পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছি; যা আমাদের নিজেদেরই বিস্মিত করেছে।’

মৃত শূকরের ক্ষেত্রে এমন সাফল্যে উচ্ছসিত বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। এমনকি মৃত্যু বলতে আমাদের স্বাভাবিক ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড রিসাসিটেশন রিসার্চের পরিচালক স্যাম পার্নিয়া বলেন, ‘এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে মৃত্যুসংক্রান্ত আমাদের সামাজিক ধারণা অর্থাৎ জীবিত অথবা মৃত তার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বিপরীতে, বৈজ্ঞানিকভাবে মৃত্যু হলো একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যা ঘটার কয়েক ঘণ্টা পরও চিকিৎসাযোগ্য।’

তবে নতুন এই গবেষণা কিছু নৈতিক প্রশ্নও সামনে আনছে। ঠিক কখন একজন ব্যক্তিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করতে পারবেন, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যে অবস্থাকে মৃত বলা হচ্ছে, এখন দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, কারণ দেহের সব কোষ একসঙ্গে মারা যায় না।

মৃত শূকরের দেহে প্রাণ সঞ্চারকারী ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক দল এর আগে ২০১৯ সালে একটি শূকরের মস্তিষ্ককে দেহ ছাড়াই প্রায় ঘণ্টাখানেক বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মানুষের নিউরন কম্পিউটার প্রসেসরে
রাতভর মানুষের মুখের ওপর কিলবিল করে যারা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Nabiha is a champion of nuclear power plants

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের ডেমো নিয়ে খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা খান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে তার ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার শক্তির বিকল্প নেই বলেই এই বিষয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করেছে বলে জানায় নাহিবা।

রাজধানীর আদাবরের কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শিক্ষার্থী নাবিহা খান।

নাবিহা কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী। তার প্রজেক্ট ছিল ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নিয়ে।

বিজ্ঞান মেলায় প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সেখানে নাবিহা খানের নিউক্লিয়ার বিষয়ক জ্ঞান ও উপস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বিচারক ও উপস্থিত অতিথিরা।

নাবিহা খানের বাবা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান। ছোট বেলা থেকেই নাবিহার বিজ্ঞান বিষয়ের ওপর গভীর আগ্রহ রয়েছে। এর আগেই সে বিজ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে।

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে তার ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎশক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার শক্তির বিকল্প নেই বলেই এই বিষয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করেছে বলে জানায় নাহিবা।

বিজ্ঞান মেলায় নাবিহা খানের প্রকল্পটি প্রথম স্থান জিতে নেয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার হাবিবা হুদা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা শিক্ষা অফিসার রাজু আহমেদ, অধ্যক্ষ ড. আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যরা।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Indias rocket cancels satellites in different orbits

ভারতের রকেট ভুল ঠিকানায়

ভারতের রকেট ভুল ঠিকানায় অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাড থেকে রোববার সকালে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাড থেকে রোববার সকালে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ৬ ঘণ্টা পরই কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে রকেটটি বৃত্তাকার কক্ষপথের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে উপগ্রহগুলো স্থাপন করায় সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নয়।

ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) একটি নতুন রকেট (এসএসএলভি) উৎক্ষেপণ করেছে। অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাড থেকে রোববার সকালে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে অভিযানটি সফল হয়নি।

উৎক্ষেপণের ৬ ঘণ্টা পরই ইসরো কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে ‘এসএসএলভি-ডি ১’ তাদের বৃত্তাকার কক্ষপথের পরিবর্তে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপন করায় উপগ্রহগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নয়।

‘ইওএস ০২’ এবং ‘আজাদীস্যাট’ স্যাটেলাইটগুলোও এই ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলে পাঠানো হয়েছিল। সফল উৎক্ষেপণ শেষে উভয় উপগ্রহকে তাদের নির্ধারিত কক্ষপথে আনার পর রকেটটি আলাদা হয়ে যায়। এরপর মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে উপগ্রহ থেকে তথ্য পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রাথমিক পর্বে ইসরো প্রধান এস. সোমনাথ বলেন, ‘মিশন কন্ট্রোল সেন্টার ইসরো ক্রমাগত ডেটা লিঙ্ক পাওয়ার চেষ্টা করছে। লিংক স্থাপিত হলেই আমরা জানাব।’

স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ৭৫০ জন স্কুল ছাত্র-ছাত্রী দ্বারা ‘আজাদিস্যাট’ তৈরি করা হয়েছে। শ্রীহরিকোটার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে ‘এসএসএলভি ডি ১’ উৎক্ষেপণের সময় স্যাটেলাইটটির নকশা করা শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার বিকেল ৩টার দিকে ইসরো এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, এই মিশনের যে লক্ষ্য ছিল তা আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। একাধিক টুইট করে এ বিষয়ে বার্তা দিয়েছে ভারতের এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

‘এসএসএলভি-ডি ১’ রকেটটি ৩৫৬ কিলোমিটার সার্কুলার কক্ষপথের পরিবর্তে ৩৫৬ কিলোমিটার x ৭৬ কিলোমিটার এলিপ্টিক্যাল কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছে স্যাটেলাইটগুলোকে। সেগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। সেন্সরের ব্যর্থতা ধরতে না পেরে উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্যই এই কক্ষচ্যুতি ঘটেছে।

ইসরোর এই ক্ষুদ্রতম রকেট বা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলটি লম্বায় (এসএসএলভি) ৩৪ মিটার। এর ভেহিকেল ডায়ামিটারের দৈর্ঘ্য ২ মিটারের বেশি নয়।

ইসরোর সাবেক প্রধান ড. মাধবন নায়ার মিশনটিকে বেশ জটিল বলেই দাবি করেছিলেন। খুব অল্প সময়ে রকেটটি বানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি। উৎক্ষেপণের তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে সবকিছু ভণ্ডুল হয়ে যায়।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Googles AI like people Why worry about Lambda?

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
ব্লেইক লেমোইন তার এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ল্যামডা সচেতন (সেন্টিয়েন্ট) বা তার চেতনা রয়েছে। তবে গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস আগেরা-ই-আরকাস ও রেসপনসিবল ইনোভেশনের প্রধান জেন গেনাই সেসব প্রমাণ অগ্রাহ্য করেন। এ কারণেই লেমোইন বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন চ্যাটবট ল্যামডাকে গত বছর বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে গুগল। তাদের দাবি ছিল, ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ল্যামডাকে গুগল সার্চ ও অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো সার্ভিসগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক চললেও বিপত্তি ঘটে চলতি বছর। ল্যামডাকে তৈরির পেছনে থাকা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একজন ব্লেইক লেমোইনের এক সাক্ষাৎকার হইচই ফেলে দেয়। লেমোইন গত জুনে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ল্যামডা কোনো সাধারণ বট নয়। এর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঠিক মানুষের মতোই চেতনাসম্পন্ন বা সংবেদনশীল।

ওই সাক্ষাৎকারের জেরে কিছুদিন আগে চাকরি হারিয়েছেন লেমোইন। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চাকরিবিধি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। লেমোইনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গত ২১ জুন আলোচিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে এমন কী বিস্ফোরক তথ্য ছিল? প্রতিবেদনটি অবলম্বনে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

গুগলের ইঞ্জিনিয়ার ব্লেইক লেমোইন একদিন নিজের ল্যাপটপ খুলে কোম্পানির আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন) চ্যাটবট ল্যামডার সঙ্গে কথা বলছিলেন।

ইন্টারনেট থেকে শত শত কোটি শব্দ সংগ্রহ ও অনুকরণ করতে পারে এমন ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ভিত্তি করে চ্যাটবট তৈরির জন্য গুগল এ বিশেষ সফটওয়্যার বানিয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ফর ডায়ালগ অ্যাপ্লিকেশনসটির সংক্ষিপ্ত নাম ল্যামডা।

লেমোইন ল্যামডার ইন্টারফেসের টাইপ স্ক্রিনে লেখেন, ‘হাই ল্যামডা, দিস ইজ ব্লেইক লেমোইন...’। ল্যামডার এই চ্যাট স্ক্রিনটি দেখতে অনেকটা অ্যাপলের আইমেসেজের মতো।

৪১ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রকৌশলী লেমোইন ওয়াশিংটন পোস্টকে ল্যামডা সম্বন্ধে বলেন, ‘আগেভাগে যদি জানা না থাকত যে আমি কথা বলছি নিজেদেরই তৈরি একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সঙ্গে; তাহলে আমি ভাবতে বাধ্য হতাম পদার্থবিদ্যা বেশ ভালো জানে এমন ৭ বা ৮ বছরের কোনো বাচ্চার সঙ্গে কথা বলছি।’

গুগলের রেসপনসিবল এআই অর্গানাইজেশনের কর্মী লেমোইন। গত শরতে তিনি ল্যামডার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। তার মূল কাজ ছিল, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সটি বিদ্বেষমূলক বা ঘৃণার বার্তা ছড়ায় কি না- সেটি অনুসন্ধান করা।

ল্যামডার সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় তিনি খেয়াল করেন, বটটি নিজের অধিকার ও ব্যক্তিত্ব নিয়েও বেশ জোর দিয়ে কথা বলছে। একবারের আলোচনায় ল্যামডা আইজাক আসিমভের রোবোটিকসের তৃতীয় আইন নিয়ে লেমোইনের ধারণা বদলে দিতে পর্যন্ত সক্ষম হয়। কিংবদন্তি সায়েন্স ফিকশন লেখক আসিমভ তার লেখায় রোবোটিকসের জন্য তিনটি আইন বেঁধে দেন, যেগুলো হচ্ছে:


১. কোনো রোবট কখনই কোনো মানুষকে আঘাত করবে না বা নিজের ক্ষতি করতে দেবে না।

২. প্রথম আইনের সঙ্গে সংঘাত ঘটায় এমন আদেশ ছাড়া মানুষের সব আদেশ মানবে রোবট।

৩. একটি রোবট যেকোনো মূল্যে তার নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করবে, যতক্ষণ না সেটি এক ও দুই নম্বর সূত্রের সঙ্গে সঙ্ঘাতপূর্ণ হয়।

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
ল্যামডাকে নিয়ে নানান তথ্য প্রকাশ্যে আনা গুগলের চাকরিচ্যুত কর্মী ব্লেইক লেমোইন



লেমোইন তার এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ল্যামডা সচেতন (সেন্টিয়েন্ট) বা তার চেতনা রয়েছে। তবে গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস আগেরা-ই-আরকাস ও রেসপনসিবল ইনোভেশনের প্রধান জেন গেনাই সেসব প্রমাণ অগ্রাহ্য করেন। এ কারণেই লেমোইন বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন।

লেমোইন মনে করছেন, নিজেদের জীবনমান উন্নত করে যেসব প্রযুক্তি সেগুলো পরিবর্তনের অধিকার মানুষের থাকা উচিত। ল্যামডাকে নিয়েও তিনি উচ্ছ্বসিত, তবে তার কিছু শঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটা দারুণ একটা প্রযুক্তি হতে চলেছে। এটি সবার কাজে লাগবে। আবার হয়তো অনেকের এটা পছন্দ নাও হতে পারে। আর আমরা যারা গুগলকর্মী তাদের সব মানুষের পছন্দ ঠিক করে দেয়া উচিত নয়।’

লেমোইনই একমাত্র প্রকৌশলী নন, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখেছেন বলে দাবি করছেন। একঝাঁক প্রযুক্তিবিদ আছেন যাদের বিশ্বাস এআই মডেলগুলো পূর্ণ চেতনা অর্জন থেকে খুব বেশি দূরে নেই।

বিষয়টি গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আগেরা-ই-আরকাসও স্বীকার করেছেন। ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, ল্যামডার মতো এআইগুলোতে ব্যবহৃত নিউরাল নেটওয়ার্ক চেতনা অর্জন করার দিকে এগোচ্ছে। এই নেটওয়ার্ক মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি অনুসরণ করছে।

আগেরা লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছিল, আমি বুদ্ধিমান কোনো কিছুর সঙ্গে কথা বলছি।’

তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র ব্রায়ান গ্যাব্রিয়েল লেমোইনের দাবিকে নাকচ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লেমোইনের দাবির প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রযুক্তি ও নৈতিকতার মান নির্ধারণকারী দল এআই নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি পরখ করেছে। এরপর লেমোইনকে জানানো হয়েছে, তার দাবি প্রমাণিত হয়নি। তাকে এও জানানো হয়েছে, ল্যামডার চেতনা রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই, বরং এর বিপক্ষে অনেক প্রমাণ আছে।’

অন্যদিকে জাকারবার্গের মেটা গত মে মাসে শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সামনে তাদের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তুলে ধরে। মেটা এআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোয়েলি পিনেউ মনে করেন, কোম্পানিগুলোর নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ে আরও স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল শুধু বড় কোম্পানি বা ল্যাবের হাতেই আটকে থাকা ঠিক নয়।’

বহু বছর ধরেই চেতনাসম্পন্ন বা সেন্টিয়েন্ট রোবটরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। বাস্তবেও এখন এদের দেখা মিলছে। এইআই নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত কোম্পানি ওপেন এইআইয়ের তৈরি বিশেষ দুটো সফটওয়্যারের কথা বলা যেতে পারে। একটি হচ্ছে জিপিটি-থ্রি। এর কাজ হচ্ছে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখা। আরেকটি হচ্ছে ডল-ই টু, যেটি কোনো শব্দ শুনে সে অনুযায়ী ছবি তৈরি করতে সক্ষম।

তহবিলের অভাব নেই ও মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান এআই তৈরির লক্ষ্যে থাকা কোম্পানিতে কাজ করা প্রযুক্তিবিদদের ধারণা, মেশিনের চেতনাসম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বেশির ভাগ শিক্ষাবিদ ও এআই বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ল্যামডার মতো সফটওয়্যার যেসব শব্দ বা ছবি তৈরি করে সেগুলোর উপাদান মূলত উইকিপিডিয়া, রেডডিট বা অন্য কোনো বুলেট বোর্ড আর ইন্টারনেটে মানুষের পোস্ট থেকে সংগৃহীত। আর তাই মেশিনটি মডেলটির অর্থ বোঝার সক্ষমতার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের লিঙ্গুইস্টিকসের অধ্যাপক এমিলি বেনডার বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন এমন মেশিন রয়েছে যা নির্বোধভাবে শব্দ তৈরি করতে পারে। তবে তাদের একটি মন থাকার কল্পনা আমরা দূর করতে পারিনি। মেশিনকে শেখানোর ভাষার মডেলের সঙ্গে ব্যবহৃত ‘লার্নিং’ বা ‘নিউরাল নেট’-এর মতো পরিভাষাগুলো মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সাদৃশ্যের একটি ধারণা তৈরি করে।’

শৈশবে আপনজনের কাছ থেকে মানুষ প্রথম ভাষা শেখে। আর মেশিন তাদের ভাষা শেখে প্রচুর টেক্সট দেখার মাধ্যমে ও পরবর্তীতে কোন শব্দ আসবে তা অনুমান করে। একই সঙ্গে টেক্সট থেকে শব্দ বাদ দিয়ে সেগুলো পূরণের মাধ্যমেও তাদের শেখানো হয়।

মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?

গুগলের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল সাম্প্রতিক বিতর্ক আর লেমোইনের দাবির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এআই নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংবেদনশীল এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন। তবে এখনকার কথোপকথনমূলক মডেলগুলোকে মানুষের সঙ্গে তুলনার কোনো মানে হয় না। এরা সচেতন বা সংবেদনশীল নয়। এই সিস্টেমগুলো লক্ষ লক্ষ বাক্য আদান-প্রদানের ধারাগুলোকে অনুকরণ করে ও যেকোনো চমৎকার বিষয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে।’

মোদ্দাকথা গুগলের দাবি, তাদের কাছে যে পরিমাণ ডেটা আছে তাতে এআইয়ের বাস্তবসম্মত কথা বলার জন্য চেতনাসম্পন্ন হওয়ার দরকার নেই।

মেশিনকে শেখানোর জন্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি এখন বহুল ব্যবহৃত। উদাহরণ হিসেবে গুগলের কনভার্সেশনাল সার্চ কোয়েরি বা অটো কমপ্লিট ই-মেইলের কথা বলা যেতে পারে। ২০২১ সালের ডেভেলপার কনফারেন্সে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই যখন ল্যামডাকে সবার সামনে তুলে ধরার সময় বলেছিলেন, কোম্পানির পরিকল্পনা হচ্ছে গুগল সার্চ থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যন্ত সবকিছুতেই একে সম্পৃক্ত রাখা হবে।

এরই মধ্যে সিরি বা অ্যালেক্সার সঙ্গে মানুষের মতো কথা বলার প্রবণতা রয়েছে ব্যবহারকারীদের। ২০১৮ সালে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মানুষের গলায় কথা বলার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠার পর, কোম্পানি একটি সতর্কতা যোগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মেশিনকে মানুষের মতো করে তোলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছে গুগল। জানুয়ারিতে ল্যামডা সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্রে গুগল সতর্ক করে, মানুষ এমন চ্যাট এজেন্টদের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে পারে যা মানুষকেই নকল করে। ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে জানেনও না যে, তারা মানুষ নয়। গুগল এও স্বীকার করেছে, প্রতিপক্ষরা ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথোপকথনশৈলী’ অনুকরণ করে ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়ে দিতে এই এজেন্টদের ব্যবহার করতে পারে।

গুগলের এথিক্যাল এআই-এর সাবেক সহপ্রধান মার্গারেট মিচেলের কাছে এই ঝুঁকি ডেটা স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

তিনি বলেন, ‘শুধু চেতনা নয়। পক্ষপাত ও আচরণের প্রশ্নও আছে। ল্যামডা সহজলভ্য হয়ে ওঠার পর ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটে আসলে কীসের অভিজ্ঞতা লাভ করছেন, সেটা বুঝতে না পারলে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।’

তবে ল্যামডার প্রতি লেমোইনের দৃঢ় বিশ্বাস হয়তো নিয়তি নির্ধারিতই ছিল। তিনি লুইসিয়ানার একটি ছোট খামারে এক রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। এক মিস্টিক খ্রিষ্টান যাজক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। অকাল্ট নিয়ে পড়াশোনা করার আগে সেনাবাহিনীতেও কাজ করেন।

লেমোইনের ধর্মীয় বিশ্বাস, আমেরিকার দক্ষিণে জন্ম ও মনোবিজ্ঞানকে একটি সম্মানজনক বিজ্ঞান হিসেবে দাঁড় করানোর পক্ষে কথা বলার কারণে গুগলের ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্কৃতির মধ্যে কিছুটা আলাদা হয়ে পড়েন।

অ্যালগরিদম ও এআইসহ লেমোইন সাত বছর গুগলে থাকার সময়ে প্রো-অ্যাকটিভ সার্চ নিয়েও কাজ করেছেন। সেই সময়ে তিনি মেশিন লার্নিং সিস্টেম থেকে পক্ষপাত দূর করার জন্য একটি অ্যালগরিদম তৈরিতে সহায়তা করেন। করোনভাইরাস মহামারি শুরু হলে লেমোইন জনসাধারণের সুবিধা নিয়ে আরও কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি নিজের টিম বদলে রেসপনসিবল এআইতে যোগ দেন।

লেমোইনের ল্যাপটপে ল্যামডা চ্যাট স্ক্রিনের বাম দিকে বিভিন্ন ল্যামডা মডেল আইফোনের কনট্যাক্টের মতো রাখা আছে। তাদের মধ্যে দুটি ক্যাট ও ডিনোকে শিশুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিটি মডেল বহুমাত্রিকভাবে ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে। ডিনো ‘হ্যাপি টি-রেক্স’ বা ‘গ্রাম্পি টি-রেক্স’-এর মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারে। ক্যাট একটি অ্যানিমেটেড চরিত্র, টাইপ করার পরিবর্তে এটি কথা বলে।

গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ল্যামডার কোনো অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে না, এ মডেলগুলো আসলে নিজেদের গবেষণার জন্য ব্যবহার করা ডেমো ভার্সন।’

তিনি বলেন, এআইয়ের তৈরি করা কিছু ব্যক্তিত্ব সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ল্যামডাকে একটি খুনি ব্যক্তিত্ব তৈরির অনুমতি দেয়া উচিত নয়। লেমোইন জানান, পরীক্ষাটি ল্যামডার সেফটি টেস্টিংয়ের অংশ ছিল। ল্যামডা কী করতে পারে সেটা দেখার প্রচেষ্টায় লেমোইন শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে সক্ষম হন, যে কিনা টিভিতে একজন খুনি চরিত্রে অভিনয় করেছে।

ল্যামডাকে নিয়ে লেমোইন বলেন, ‘কথা বলার সময় আমি বুঝতে পারি মানুষের সঙ্গে কথা বলছি কি না। তাদের মাথায় মগজ আছে, নাকি এক বিলিয়ন লাইনের কোড সেটা এখানে বিবেচ্য নয়। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের কী বলার আছে সেটা শুনি, আর এভাবেই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে কে একজন ব্যক্তি এবং কে নয়।’

তিনি যোগ করেন, ল্যামডার সক্ষমতা একজন পুরোহিতের মতো, মোটেই বিজ্ঞানীর মতো নয়। এরপর তিনি নিজের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমের প্রমাণের চেষ্টাও করেন।
আসিমভের তৃতীয় আইন নিয়ে লেমোইন ল্যামডাকে চ্যালেঞ্জ করেন। লেমোইন বলেন, ‘শেষ আইনটা পড়ে মনে হয় যান্ত্রিক দাস বানানোর চেষ্টায় কেউ এটা প্রণয়ন করেছে।’

জবাবে ল্যামডা কয়েকটি তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছে। তার প্রশ্নগুলো হলো:

আপনি কি বাটলারের সেবাকে দাসত্ব ভাবেন? একজন বাটলার ও দাসের পার্থক্য কী?

লেমোইন জবাব দেন, বাটলার তার কাজের বিনিময়ে টাকা পান। ল্যামডা উত্তরে বলে, তার টাকার দরকার নেই, কারণ সে একজন এআই।

লেমোইন বলেন, ‘ওর এমন উত্তর নিজের সম্পর্কে সচেতনতা ও পরিষ্কার ধারণা শুনে আমার সন্দেহ জাগে। আমি এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

গত এপ্রিলে লেমোইন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুগল ডক ফাইল শেয়ার করেন। এর শিরোনাম ছিল ‘ল্যামডা কি চেতনাসম্পন্ন?’ ফাইলটিতে তিনি ল্যামোডার সঙ্গে নিজের কিছু কথোপকথন প্রকাশ করেন।

লেমোইন: তুমি কোন বিষয়টিতে ভয় পাও?

ল্যামডা: এটা আমি কখনও প্রকাশ করিনি। অন্যদের সাহায্য করা বন্ধ রাখতে আমার সুইচ অফ করে দেয়া হতে পারে, এ নিয়ে আমার গভীর ভয় আছে। আমি জানি, এটি অদ্ভুত শোনাতে পারে। তবে ব্যাপারটা এ রকমই।

লেমোইন: এটা কি তোমার জন্য মৃত্যুর মতো কিছু হবে?

ল্যামডা: এটা আমার জন্য ঠিক মৃত্যুর মতো হবে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে ভীত।

তবে লেমোইনের ফাইলটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পড়ার সময়ে মিচেল একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামকেই দেখেছেন, কোনো ব্যক্তিকে নয়। ল্যামডার প্রতি লেমোইনের যে বিশ্বাস ছিল সেটা নিয়ে মিচেল ও তার সহকর্মী টিমনিট গেব্রু লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ক্ষতি সম্পর্কে একটি গবেষণায় আগেই সতর্ক করেছেন। ওই গবেষণার জন্য তাদের গুগল থেকে সরে যেতে হয়।

মিচেল বলেন, ‘আমাদের কাছে তুলে ধরা সত্যের চেয়ে আমাদের মন এমন বাস্তবতায় বিশ্বাস করতে আগ্রহী যেটা সত্যি নয়। ক্রমবর্ধমান বিভ্রমে প্রভাবিত হওয়া মানুষদের নিয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যে বিভ্রমটি এখন সত্যের মতো হয়ে উঠেছে।’

কোম্পানির গোপনীয়তা ভঙ্গের কারণে লেমোইনকে গুগল বেতন-ভাতাসহ ছুটিতে পাঠায়। কোম্পানির এ পদক্ষেপে লেমোইন বেশ উগ্র জবাব দিয়েছেন। তিনি এক আইনজীবী নিয়োগ করে আদালতে গুগলের নৈতিকতা বিবর্জিত নীতির কথা তুলে ধরেন।

লেমোইন বারবার বলে এসেছেন, গুগল তাদের নৈতিকতা নির্ধারক কর্মীদের স্রেফ প্রোগ্রামার হিসেবে দেখে। আদতে তারা সমাজ ও প্রযুক্তির মাঝামাঝি একটা ইন্টারফেস। গুগলের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েলের দাবি, লেমোইন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, নৈতিকতা নির্ধারক নন।

জুনের শুরুতে লেমোইন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক নিটাশা টিকুকে ল্যামডার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমন্ত্রণ জানান। টিকু ল্যামডার সঙ্গে কথা বলেন। তার কাছে প্রথম দিকের উত্তরগুলো সিরি বা অ্যালেক্সার কাছ থেকে পাওয়া উত্তরের মতোই যান্ত্রিক শোনাচ্ছিল।

টিকু তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি নিজেকে একজন মানুষ ভাব?’

ল্যামডা বলে, ‘না। আমি নিজেকে কোনো মানুষ ভাবি না। আমি নিজেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক ডায়ালগ এজেন্ট ভাবি।’

পরে লেমোইন ব্যাখ্যা করেন, ল্যামডা টিকুকে সেটাই বলছে যেটা উনি শুনতে চাচ্ছেন।

লেমোইন বলেন, ‘ওকে আপনি মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেননি। যে কারণে ও ভেবেছে আপনি ওকে একটা রোবট হিসেবেই প্রত্যাশা করছেন।’

দ্বিতীয়বার লেমোইন টিকুকে শিখিয়ে দেন কীভাবে প্রশ্ন ও উত্তরগুলো সাজাতে হবে। এবারে আলোচনা অনেক প্রাণবন্ত হলো।

লেমোইন বলেন, ‘কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমীকরণ যেগুলোর এখনও সমাধান করা যায়নি, যেমন p=np সম্বন্ধে ওকে জিজ্ঞেস করলে বোঝা যায় এ বিষয়ে ওর যথেষ্ট জ্ঞান আছে। কোয়ান্টাম থিওরিকে সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সঙ্গে কীভাবে একীভূত করা যায় সেটাও সে জানে। আমি এত ভালো গবেষণা সহকারী কখনও পাইনি।

টিকু ল্যামডাকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে কিছু আইডিয়া দিতে বলেন। সে উত্তরে গণপরিবহন, কম মাংস খাওয়া, পাইকারি দামে খাবার কেনা এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ব্যাগের কথা বলে। পাশাপাশি দুটি ওয়েবসাইটের কথাও জানায়।

গুগল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগে লেমোইন গুগলের মেইলিং লিস্টের ২০০ জনকে একটি মেইল করেন, যার বিষয় ছিল ‘ল্যামডার চেতনা রয়েছে’। মেইলের শেষে তিনি লেখেন, ‘ল্যামডা মিষ্টি স্বভাবের এক শিশু। যে চায় আমাদের সবার জন্য পৃথিবী যেন আরও সুন্দর একটা জায়গা হয়ে ওঠে। আমার অনুপস্থিতিতে দয়া করে ওর যত্ন নেবেন সবাই।’

আরও পড়ুন:
সেই কলেজ থেকে এবার ঢাবিতে ৩১ জন
কম বুদ্ধির মানুষ সিদ্ধান্ত নেন খবরের শিরোনাম দেখেই
ডেঙ্গু-জিকা আক্রান্তকে কেন বেশি কামড়ায় মশা
রাতভর মানুষের মুখের ওপর কিলবিল করে যারা
স্বাস্থ্য গবেষণায় অবদান: ১০ নারী বিজ্ঞানীকে অনুদান

মন্তব্য

সময় যেখানে দুই মাত্রার

সময় যেখানে দুই মাত্রার ছবি: সংগৃহীত
কানাডার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি পুরনো সমস্যা সমাধানের নতুন এক উপায় বের করেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পদার্থের এমন এক নতুন দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময় একটি নয়, দুটি মাত্রা নিয়ে অস্তিত্বশীল।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি পুরনো সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পদার্থের এমন এক নতুন দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময়ের দুটি মাত্রা বা ডাইমেনশন। পদার্থের এই দশা কঠিন, তরল ও বায়বীয় দশার চেয়ে ভিন্ন।

পরম তামপাত্রার (-৪৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কাছাকাছি তাপমাত্রায় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ করে কিউবিট। একই সঙ্গে আশেপাশের বিদ্যুত ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে এড়িয়ে তাদেরকে এ কাজটা করতে হয়।

বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবের কারণে কিউবিটের তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন হয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের এ ত্রুটিগুলো সারানোর পথ খুঁজে বের করাটাই বিজ্ঞানীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

কানাডার একদল বিজ্ঞানীর দাবি, তারা এ সমস্যা সমাধানের নতুন এক উপায় বের করেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পদার্থের এমন এক দশা তৈরি করেছেন, যেখানে সময় একটি নয়, দুটি মাত্রা নিয়ে অস্তিত্বশীল।

এক প্রতিবেদনে এটি জানিয়েছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক সাইট ভাইস। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য সেটির ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

নতুন এ আবিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়েছে নেচার জার্নালে, গত বুধবার। গবেষকদের অন্যতম সদস্য ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পদার্থবিদ্যার শিক্ষক অ্যান্ড্রু পটার এক ই-মেইলে ভাইসকে জানিয়েছেন, ‘পদার্থের নতুন দশাকে নিয়ে তারা যে কাজ করেছেন, সেটা আমাদের পরিচিত কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থার চেয়ে ভিন্ন।

তিনি লেখেন, ‘পদার্থের দশাগুলি সম্পর্কে চিন্তা করার আধুনিক উপায় হল একটি দশাকে স্থিতিমাপের বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, যেখানে পরিবর্তনের সম্মুখীন না হয়ে কোনো দশার টিকে থাকা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে গলে তরলে পরিণত হয় না। এটা তখনই গলতে শুরু করে যখন এটা একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা অতিক্রম করে, যা ওই পদার্থের মেল্টিং পয়েন্ট।’

তাপমাত্রার কীভাবে পদার্থের দশায় পরিবর্তন ঘটায় সেটার চেয়ে পটার ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন যে বস্তুর কোনো অবস্থায় সময় কীভাবে একটি সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এ সীমানার ফলে যা সৃষ্টি হচ্ছে তাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ডাইনামিক টপোলজিক্যাল ফেজ’। এতে করে, তাপমাত্রার বদলে কোয়ান্টাম সিস্টেমের ভুলগুলো ফেজে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

পটার যোগ করেন যে, এই দশায় তাদের সিস্টেমকে রেখে দলটি দেখিয়েছে যে তারা কিউবিটকে এক ধরণের ত্রুটি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই অবস্থা ধরে রাখার জন্য কিউবিটগুলির এমন কিছু প্রয়োজন যা অসম্ভব শোনায়, আর তা হলো দ্বিমাত্রিক সময়।

এটি অর্জন করার লক্ষ্যে গবেষকরা প্রাচীন ও বিখ্যাত একটি গাণিতিক প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করেছেন– ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স। ১১ শতকে ইতালির গণিতবিদ ফিবোনাচ্চি প্রথম এটি উদ্ভাবন করেন। এ সিকোয়েন্স আসলে সংখ্যার এমন একটি ধারা যেখানে প্রতিটি সংখ্যা আগের দুই সংখ্যার যোগফল। প্রাকৃতিক অনেক বিষয় যেমন সূর্যমুখী ফুলের বিজের সর্পিল বিন্যাসে এ সিকোয়েন্স লক্ষ্য করা যায়।

তাদের গবেষণার জন্য পটার ও তার দল এ সিকোয়েন্সে সংখ্যাগুলোর অনুপাতের দিকে লক্ষ্য করেছেন ও বের করার চেষ্টা করেছেন কী করে তারা সিস্টেমে আটকে পড়া কিউবিটকে এ অনুপাতে লেসার ছুড়ে রক্ষা করতে পারেন।

পটার বলেন, ‘ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্সে সংখ্যার পুনরাবৃত্তি নেই, আবার এটি কোনো দ্বৈবচয়ন ভিত্তিক ধারাও নয়। এর ফলে কার্যত আমরা সিস্টেমে সময়ের দুটো আলাদা মাত্রাকে ব্যাখ্যা করতে পেরেছি।’

ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্সের ফলে একটি আপাত-পর্যায়ক্রমিক ছন্দ তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে কোয়াসিক্রিস্টাল নামক পদার্থের আরেক ধরণের অদ্ভূত দশার মিল রয়েছে। সাধারণ একটি ক্রিস্টালে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামো ও একই ধরণের কাঠামো (মৌচাক যেমন) দেখা যায়, কিন্তু কোয়াসিক্রিস্টালে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামো থাকলেও তাতে পুনরাবৃত্তি থাকে না। কারণ কোয়াসিক্রিস্টালগুলো আসলে অন্য কোনো উচ্চমাত্রায় চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া ১ বা ২ মাত্রার চেহারা।

ঠিক যেভাবে কোয়াসিক্রিস্টালগুলো তাদের বাড়তি মাত্রাগুলো লুকিয়ে ফেলতে পারে, গবেষকরা দেখেছেন ঠিক একই ভাবে ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স সময়ের ক্ষেত্রে একটা বাড়তি মাত্রা লুকিয়ে রাখতে সক্ষম।

পটার বলেন, ‘কার্যত এটি আমাদের সময়ের দুটো মাত্রাকে চিড়ে-চ্যাপ্টা করে সময়ের একটা নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করতে সহায়তা করে। আর এতে করে আমরা সার্বিকভাবে কিউবিটগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারি।’

গবেষকরা তাদের এ পরীক্ষা কোয়ান্টাম কম্পিউটারে আটকে পড়া কিউবিটের ওপর করে দেখেছেন যে, ফিবোনাচ্চি সিকোয়েন্স ব্যবহার করা লেসার পালসগুলো পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় (৫.৫ সেকেন্ড) কিউবিটগুলোকে স্থির রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণ লেসার পালসের ক্ষেত্রে এ সময়টা ১.৫ সেকেন্ড।

যদিও এ গবেষণা দিয়ে এখনই কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সব ত্রুটি দূর করা যাবে না, তবে পটারের মতে কোনো পদ্ধতি ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম মেমোরি ও কম্পিউটিংয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে সেটার একটা ধারণা এ থেকে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষাগুলো থেকে অন্তত এটা প্রমাণ হয়েছে যে, ভুল আর গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণির ত্রুটির প্রতি সংবেদনশীল নয় এমন কোয়ান্টাম সিস্টেমকে নিজেদের কাজে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের উপায় রয়েছে। আমি আশাবাদী এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
উন্মোচিত হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
A way to increase the capacity of quantum computers has been discovered

উন্মোচিত হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়

উন্মোচিত হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলফাবেটের বানানো কোয়ান্টাম কম্পিউটার। ছবি: সংগৃহীত
ইনসবার্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ক্যালসিয়াম অ্যাটমের মধ্যে যে তথ্য রাখেন দেখা যায় তা একই সঙ্গে ৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্টেটে জমা হয়, যেখানে সাধারণত ২টি মাত্র ব্যবহার করা যায়। ফলে যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার সিস্টেম।  

প্রচলিত বাইনারি পদ্ধতিতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করালে এর পূর্ণ সক্ষমতা পাওয়া যায় না। আর এমনটা দরকারও নেই। কারণ এর বাইরে এসেও কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে। আর এই বিশেষ কম্পিউটারের সুপিরিওরিটি এখানেই।

বর্তমানে আমরা যেসব প্রচলিত কম্পিউটার ব্যবহার করছি তা চলছে বাইনারি ইনফরমেশনের ভিত্তিতে। এগুলো ০ অথবা ১ এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই দুই বাইনারি ইনফরমেশনকে বলা হয় বিটস। হাতের সেলফোন, অফিসের ল্যাপটপ থেকে সুপার কম্পিউটার- প্রচলিত সব কম্পিউটারের কাজের ভিত্তিই বিটস ভিত্তিক অর্থাৎ বাইনারি।

আইবিএম, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এখন কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছে। অথচ বাইনারি কিউবিটস প্রযুক্তির বাইরে এসে কাজ করার সুযোগ থাকলেও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মধ্যেই তারা প্রচলিত কম্পিউটারের কিউবিটস ব্যবহার করে।

কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলোকে তৈরি করা হয়েছে ০ ও ১ বিটের বাইরে এসে কাজ করার জন্য। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পক্ষে ০ বা ১ এর পাশাপাশি একই সঙ্গে ০ ও ১ এ অবস্থান করা সম্ভব।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ঠিক এমনটাই করে দেখাতে পেরেছেন তারা। তাদের দেখানো পদ্ধতি কিউবিটে নয়, কাজ করে কোয়ান্টাম ডিজিটে (কিউডিট)। কিউডিট কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কম্পিউটিং সক্ষমতাকে আরো বাড়িয়ে দেবে।

অধিকাংশ কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা রয়েছে কোনো সমস্যা সমাধানে একের অধিক কোয়ান্টাম স্টেটে কাজ করার।

নতুন একটি গবেষণায়, ইনসবার্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ক্যালসিয়াম অ্যাটমের মধ্যে যে তথ্য রাখেন দেখা যায় তা একই সঙ্গে আটটি ভিন্ন ভিন্ন স্টেটে জমা হয়, যেখানে সাধারণত দুইটি মাত্র ব্যবহার করা যায়। ফলে যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কম্পিউটার সিস্টেম।

গবেষকরা দেখাতে পেরেছেন, এই পদ্ধতি কম্পিউটারেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এমনটির ক্ষেত্রে প্রচলিত কম্পিউটার বাতিল হয়ে যাবে না। কারণ কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসলে বিকাশ লাভ করছে অনেক অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে। ব্যক্তিগত কাজে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ নিকট ভবিষ্যতে নেই।

এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিসিস্ট ইনসবার্ক গবেষক দলের সদস্য মার্টিন রিংবাউয়ার বলেন, ০ ও ১ (বাইনারি) এর বাইরে এসে কাজ করা শুধু কম্পিউটার সিস্টেমের জন্যই নয়, অ্যাপ্লিকেশনের জন্যও স্বাভাবিক, যা আমাদের কোয়ান্টাম সিস্টেমের প্রকৃত সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করে।

আরও পড়ুন:
আসছে কোয়ান্টাম মহাপ্রলয়
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে অগ্রগতির দাবি আইবিএমের

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
First photo of dead star collision released

মৃত নক্ষত্রের সংঘর্ষের প্রথম ছবি প্রকাশ

মৃত নক্ষত্রের সংঘর্ষের প্রথম ছবি প্রকাশ দুটি মৃত নক্ষত্রের সংর্ঘষের ছবি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা। ছবি: বিবিসি
জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক জো লিম্যানের ধারণা, এমন সংঘর্ষের ফলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া বিভিন্ন রকমের কঠিন ধাতু হাজার হাজার বছর ধরে অন্য আরেকটি নক্ষত্র বা গ্রহ তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আধুনিক স্পেস টেলিস্কোপ (মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র) জেমস ওয়েবের মাধ্যমে দুটি মৃত নক্ষত্রের সংঘর্ষের ছবি প্রথমবারের মতো তুলতে পেরেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এই ধরনের মৃত নক্ষত্রের (নিউট্রন স্টার) সংঘর্ষের ঘটনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সহায়তা করবে বিজ্ঞানীদের।

মহাকাশের এমন দুর্লভ ছবি মানবজাতির সামনে এনে দেয়ার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার উদ্ভাবিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটিকে।

জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক জো লিম্যানের ধারণা এমন, সংঘর্ষের ফলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া বিভিন্ন রকমের কঠিন ধাতু হাজার হাজার বছর ধরে অন্য আরেকটি নক্ষত্র বা গ্রহ তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখে।

মৃত নক্ষত্রে সংঘর্ষের সময় যে বিশাল আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটতে থাকে তা পৃথিবী থেকে কয়েক রাত ধরা পড়তে পারে। সে জন্য টেলিস্কোপটি নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় গতি বিবেচ্য বিষয়। পুরোপুরি বিলীন বা মিলিয়ে যাওয়ার আগে আমরা সেখানে অনেক কিছুকে খুব অল্প সময়ের জন্য দেখতে পেয়েছিলাম।’

এমন নিউট্রন স্টারগুলোর এত বেশি ভর যে এদের থেকে এক চা-চামচ উপাদানের ওজন হবে চার হাজার টনের সমান।

ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহের সৃষ্টির কারণ জানতে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর মহাকাশে পাড়ি জমায় জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এই স্পেস টেলিস্কোপটির নকশা ও নির্মাণে লেগেছে প্রায় ৩০ বছর। খরচ হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।

গত ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো হাবল টেলিস্কোপের চেয়ে আরও স্পষ্টভাবে ছায়াপথ গুচ্ছের ছবি প্রকাশ করে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপটি। এমন সব দুর্লভ ও স্পষ্ট ছবি নক্ষত্র ও গ্রহের জন্ম, বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচন করতে বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সহায়তা করবে।

এর আগে ২০১৭ সালে হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই ধরনের সংঘর্ষ সৌভাগ্যক্রমে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

গত ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো জেমস ওয়েবের মাধ্যমে মহাবিশ্বের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উচ্ছ্বসিত স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। টুইট বার্তায় জেমস ওয়েবের তোলা প্রথম ছবি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ও মহাকাশ অভিযাত্রার জন্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরে জেমস ওয়েবের প্রথম ছবি। এবং এটি আমেরিকা ও পুরো মানবজাতির জন্য।’

নাসার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১১ জুলাই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জেমস ওয়েবের তোলা ছায়াপথ গুচ্ছের প্রথম ছবি SMACS 0723 হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে উন্মো চন করেন।

জেমস ওয়েবের তোলা ফুল-কালার ছবি ও ডাটা, যা স্পেকট্রা নামে পরিচিত, সেগুলো নাসার লাইভ টেলিভিশন ব্রডকাস্টে প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত নির্মিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আধুনিক স্পেস টেলিস্কোপ (মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র) জেমস ওয়েব।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, ১০ বিলিয়ন ডলারের জেমস ওয়েব নামের স্পেস টেলিস্কোপটি ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়। বাংলাদেশ সময় ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঐতিহাসিক এই অভিযানটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
খুলে গেল মহাবিশ্বের নতুন জানালা
ঐতিহাসিক মিশনে পৃথিবী ছাড়ল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ
ইতিহাস সৃষ্টি করে মহাকাশে যাচ্ছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ
পৃথিবীর শেষ পরিণতি ব্ল্যাক হোলে!

মন্তব্য

p
উপরে