সবকিছুতে মানুষ কেন মুখচ্ছবি দেখতে পায়

সবকিছুতে মানুষ কেন মুখচ্ছবি দেখতে পায়

ঢাকার আকাশের ছবিটি তুলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৌদা আখতার।

প্যারেডোলিয়ার ফলে যে অস্তিত্বহীন মুখগুলো কল্পনা করি আমরা, ঠিক সেই একই প্রক্রিয়ায় আমাদের মস্তিষ্ক সত্যিকারের মুখ চেনার কাজ করে। এমনকি মুখের অভিব্যক্তি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কে একই ধরনের স্নায়বিক ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

দুই চোখ আর নাক দেখেই মুখের আদল কল্পনায় ভেসে ওঠাকে আমরা বলি প্যারেডোলিয়া। প্যারেডোলিয়ার বিভ্রম যখন তৈরি হয়, তখন মস্তিষ্কে কী ঘটে, তা-ই উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।

প্রসিডিংস অফ দ্য রয়েল সোসাইটি বিতে প্রকাশ হয়েছে এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি

বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন ছিল, কোনো মানুষের মুখ চেনার সময় মস্তিষ্ক যেভাবে কাজ করে, কল্পনায় মুখাবয়ব তৈরির সময়েও মস্তিষ্ক সেভাবেই কাজ করে কি না।

গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, আমাদের অনুভব ও তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সময় মস্তিষ্কের কাজে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেলেও বেশ কিছু মিলও আছে।

প্যারেডোলিয়ার ফলে যে অস্তিত্বহীন মুখগুলো কল্পনা করি আমরা, ঠিক সেই একই প্রক্রিয়ায় আমাদের মস্তিষ্ক সত্যিকারের মুখ চেনার কাজ করে। এমনকি মুখের অভিব্যক্তি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কে একই ধরনের স্নায়বিক ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী ডেভিড অ্যালাইস বলেন, ‘যখন আমরা জানি যে আমরা কোনো সত্যিকারের মুখ দেখছি না, তখনও একটি মুখাবয়ব ভেসে ওঠে।

‘তখন একটা অদ্ভূত বিষয়ের মধ্য দিয়ে যাই আমরা। একে সমান্তরাল অভিজ্ঞতা বলতে পারেন, যেখানে মুখ ও বস্তু দুটিই মস্তিষ্ককে আকর্ষণ করে।’

তিনি বলেন, ‘দুটি ঘটনা একসঙ্গে ঘটে। সত্যিকারের মুখ দেখার প্রথম যে অনুভূতি, সেটি অস্তিত্বহীন মুখের ধারণাকে মুছে দেয় না বা মুছে যায় না।’

গবেষণার জন্য ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে বেশ কয়েকটি বিমূর্ত ছবি ও মানুষের মুখ দেখতে দিয়েছিলেন অ্যালাইস ও তার সহকর্মীরা। ছবিগুলো বারবার দেখানো হয়েছে তাদের। এরপর একই কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রত্যেকের অনুভূতির ওঠানামা মাপা হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, প্যারেডোলিয়ার মাধ্যমে কল্পনায় ভেসে ওঠা অভিব্যক্তির বিষয়ে বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবক একমত। আগে দেখা মুখটি পরের ছবি দেখার সময়েও চিন্তায় চলে আসে। একই বিষয় মানুষের মুখের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বাস্তব ও বিমূর্ত মুখ গুলিয়ে ফেলার ক্ষেত্রেও এই একই ঘটনা ঘটে।

সহজ ভাষায় বলা যায়, শুরুতে হাসিখুশি একটি চেহারা দেখলে পরেরবারও একই রকম হাসিখুশি মুখ আমরা দেখবো বলে ধরে নিই। বাস্তব ও কল্পনার দুটি মুখের ক্ষেত্রেই এটি সত্য।

মস্তিষ্কের ওপর দুটিরই প্রভাব প্রায় এক রকম হওয়ায় এবং একই রকম স্নায়বিক সংযোগ ব্যবহারের ফলে এমনটি হয়।

অ্যালাইস বলেন, ‘প্যারেডোলিয়ায় দেখা মুখকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই। কিন্তু মুখের অভিব্যক্তি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বাস্তব মুখের মতোই কল্পনার মুখ বিচার করে মস্তিষ্ক। এটি বিচারের আলাদা কোনো উপায় নেই।

‘কাউকে দেখলে মুখ দেখে তার পরিচয় শনাক্ত ও অভিব্যক্তি বুঝতে হয়। তিনি কি বন্ধু নাকি শত্রু? সে কি খুশি, নাকি দুঃখী, নাকি ক্ষুব্ধ বা বিরক্ত?’

গবেষকরা মুখের অভিব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। কারণ এ জন্যই আমাদের মস্তিষ্ক জীবনভর একের পর এক মুখের সঙ্গে পরিচিত হয়, তাদের চিনে নেয় এবং অভিব্যক্তি বোঝে।

এই প্রক্রিয়াতেই আমরা বুঝতে পারি যে একটি মানুষ কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিংবা এরপর সে কী করতে পারে। এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক খুব অল্প তথ্য দিয়ে অনেক দ্রুত অনেক কিছু যাচাই করে ফেলে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দুই চোখ আর নাক দেখেই মুখ কল্পনা করে ফেলার কথা।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট কার্ডে গোলমেলে মাথা, যেভাবে বাড়ে খরচ
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় বছরে সাড়ে ৭ লাখ মৃত্যু
কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণে ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে: গবেষণা

শেয়ার করুন

মন্তব্য