সুদানে রহস্যময় কবরের সারি

সুদানে রহস্যময় কবরের সারি

সুদানে নক্ষত্রের মতো সাজানো হাজার হাজার মধ্যযুগীয় কবর। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

প্রতিবেদনের মূল লেখক ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ নেপলসের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী স্টেফানো কসতানজো বলেন, ‘কবরগুলো কবেকার, তা জানতে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কারণ স্তম্ভগুলোর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক ডেটা প্রায় নেই বললেই চলে।’

সুদানের পূর্বাঞ্চলে মধ্যযুগের হাজার হাজার মুসলিম কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর সজ্জা এমন রহস্যময় যে, প্রত্নতত্ত্ববিদদের তা বুঝতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একটি কবরের চারদিকে ছোট ছোট গুচ্ছ আকারে সাজানো কবর দেখতে অনেকটা নক্ষত্রপুঞ্জের মতো।

একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছেন।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্লাস ওয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষকরা বলেন, সুদানের কাসালা অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থান জানতে স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভগুলো পাথরের তৈরি। নির্মাণশৈলী তুলনামূলকভাবে সাধারণ, কুব্বা ধাঁচের।

স্মৃতিস্তম্ভগুলোর অবস্থান জানার পর সেগুলোর ডেটা পাঠোদ্ধারে সমস্যার মুখে পড়ে গবেষক দল।

স্তম্ভগুলোর মধ্যে অল্প কয়েকটি খনন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের মূল লেখক ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ নেপলসের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী স্টেফানো কসতানজো বলেন, ‘কবরগুলো কবেকার, তা জানতে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। স্তম্ভগুলোর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক ডেটা প্রায় নেই বললেই চলে।’

তিনি বলেন, ‘খালি চোখে দেখে এটা পরিষ্কার, গুচ্ছ হয়ে থাকা স্তম্ভগুলো পরিবেশের কারণে এমনটা হয়েছে। তবে তাদের নক্ষত্রপুঞ্জ বা ছায়াপথের মতো গুচ্ছ অবস্থানের পেছনে গূঢ় অর্থ থাকতে পারে।’

কসতানজোসহ দলের অন্য সদস্যরা স্ট্যাটিসটিক্যাল মডেলিং টেকনিক ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভগুলোর প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করেন।

প্যাটার্ন ধরতে একপর্যায়ে নেইম্যান-স্কট ক্লাস্টার প্রক্রিয়া পদ্ধতি বেছে নেয় গবেষক দল।

মূলত মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্রের প্যাটার্ন বুঝতে এই নেইম্যান-স্কট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

গবেষক দলের ভাষ্য, এর আগে কোনো প্রত্নতত্ত্ববিদ স্মৃতিস্তম্ভের প্যাটার্ন বুঝতে নেইম্যান-স্কট পদ্ধতি ব্যবহার করেননি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, কাসালা অঞ্চলে বেজা সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। তাদের অনেকে এখনও যাযাবর জীবন যাপন করেন।

গবেষক দল জানায়, ‘লোকাল’ গুচ্ছগুলো খুব সম্ভবত বেজা সম্প্রদায়ের মানুষের।

কেন্দ্রীয় বা মূল স্তম্ভের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে আরও গবেষণার দরকার। মূল স্তম্ভে কাদের কবর দেয়া হয়েছে এবং কেন তারা বিশেষ, এসব জানতে গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকে রাজি সুদানও: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় ‘থাকছে না’ সুদান

শেয়ার করুন

মন্তব্য