কলেরা ঠেকাবে চালে তৈরি খাবার টিকা

কলেরা ঠেকাবে চালে তৈরি খাবার টিকা

কলেরা রোধে খাওয়ার টিকা আবিষ্কার হয়েছে আগেও। নতুন টিকার বিশেষত্ব হলো, এটি সংরক্ষণে হিমায়িত করার প্রয়োজন হবে না। এটি দামে সুলভ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। চাল গুড়া করে তরল রাসায়নিকের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ টিকা।

পানিবাহিত রোগ কলেরা প্রতিরোধে চাল থেকে তৈরি খাবার যোগ্য টিকা উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এরই মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রথম ধাপও সফলভাবে উৎরে গেছে টিকাটি।

গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রাণিদেহে পরীক্ষায় ‘মিউকোরাইস-সিটিবি’ টিকার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এরপর মানবদেহে প্রথম ধাপের পরীক্ষায় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এ টিকায় কলেরার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট হিরোসি কিয়োনো বলেন, ‘মিউকোরাইস-সিটিবির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। বিশেষ করে এর ডোজের মাত্রা খুব অল্প বলে।

‘স্বেচ্ছাসেবকদের আমরা স্বল্প, মাঝারি ও উচ্চ মাত্রার ডোজ দিয়েছি। সবগুলোতেই সাফল্য মিলেছে। সবচেয়ে বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল উচ্চ মাত্রার ডোজ প্রয়োগে।’

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখো মানুষের মৃত্যু হয় কলেরায়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তির। বলা হচ্ছে, চালের তৈরি টিকা কলেরায় মৃত্যুহার সহজেই কমিয়ে ফেলবে।

কলেরা রোধে খাবার টিকা আবিষ্কার হয়েছে আগেও। নতুন টিকার বিশেষত্ব হলো, এটি সংরক্ষণে হিমায়িতকরন বা কোনো ধরনের রেফ্রিজারেশনের প্রয়োজন হবে না। এটি দামে সুলভ হবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াও বেশ সহজ।

চাল গুড়ো করে তরল রাসায়নিকের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ টিকা।

স্বেচ্ছাসেবকদের আট সপ্তাহ ধরে চারটি ভিন্ন মাত্রায় টিকাটি খাওয়ানো হয়েছে। টিকা খাওয়ার পর তাদের দেহে ইমিউনোগ্লোবিন-এ ও ইমিউনোগ্লোবিন-জি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, যা বিশেষভাবে কলেরা টক্সিন বি (সিটিবি) ঠেকাতে সক্ষম।

জিনগতভাবে পরিবর্তিত জাপানের শর্ট-গ্রেইন চাল থেকে টিকাটি তৈরি করা হয়েছে। এ চালের ধান উৎপাদন করা হয় মাটি ছাড়া, বদ্ধ পরিবেশে। ধানের চারায় থাকে সিটিবির বিষমুক্ত একটি অংশ, যাকে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিহ্নিত ও গ্রহণ করতে সক্ষম।

এই চাল গুড়ো করে অ্যালুমিনিয়ামের প্যাকেটে সংরক্ষণ করা হয়।

টিকা হিসেবে খাওয়ার জন্য এই গুড়ো চালকে লবণ পানিতে মেশানো হয়। তবে সাধারণ পানিতে গুলিয়ে খেলেও টিকা হিসেবে এটি একই রকম কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

টিকা খাওয়ানোর ফল আশাব্যঞ্জক হলেও ৩০ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ১১ জনের দেহে এটির কার্যকারিতা ছিল প্রায় না থাকার মতোই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য