আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

আগের চেয়ে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে মানুষের

ফাইল ছবি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়।

হোমো স্যাপিয়েন্সের উদ্ভবের পর থেকেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে আমাদের পূর্বপুরুষেরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়েছেন। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে জিনগত বিবর্তন। জেনেটিক এই রূপান্তরের কারণেই বর্তমান মানুষের আবির্ভাব।

তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিককালের পৃথিবীতে মানুষের বিবর্তন শুধু জিনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং জেনেটিক রূপান্তরের চেয়ে সংস্কৃতিই মানব বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।

নতুন এই ধারণা অনুযায়ী, টিকে থাকার সুবিধার জন্য জেনেটিক রূপান্তর এখন আর জরুরি নয়। বরং সংস্কৃতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গড়ে ওঠা অভ্যাসই ‘রূপান্তর’ এর মূল চালিকা শক্তি, যা মানুষকে টিকে থাকার সুবিধা দিচ্ছে।

এই ‘সাংস্কৃতিক বিবর্তন’ আগামীতেও মানবজাতির ভাগ্যকে আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে গবেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের বায়োলজি অ্যান্ড ইকোলজি বিভাগের গবেষক জ্যাক উড বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘যখন কোনো প্রজাতিকে ভাইরাস আক্রমণ করে, সাধারণত সেটি জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে ওই ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখে।’

এই ধরনের বিবর্তন ঘটে ধীরে। কারণ, যারা ভাইরাস আক্রমণের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তারা মৃত্যুবরণ করে এবং যারা টিকে থাকে তারা আগ্রাসী ভাইরাস সংক্রান্ত জেনেটিক কোড পরের প্রজন্মে সঞ্চার করে।

তবে বর্তমানে এ ধরনের হুমকিতে জেনেটিকভাবে ভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার আর দরকার নেই। বরং এখন মানুষ এখন কোনো নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বহু মানুষের সংগ্রহ করা সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ‘রূপান্তরের’ ফলে আবিষ্কৃত টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অফ মাইনের সোশ্যাল ইকোসিস্টেম মডেলিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক টিম ওয়ারিং বলেন, “টিকা উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সংস্কৃতি তার সম্মিলিত ‘ইমিউন সিস্টেম’ উন্নত করছে”।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ফলেও জিনগত বিবর্তন ঘটে। ওয়ারিং লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ‘গরুর দুধ পান করা শুরুতে একটা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও পরে তা এক দল মানুষের জেনেটিক বিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়।’

এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জেনেটিক পরিবর্তনের আগে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে।

ওয়ারিং বলেন, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ধারণাটি শুরু হয়েছে বিবর্তনবাদের জনকের কাছ থেকেই। চার্লস ডারউইন বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের অভ্যাস বিবর্তিত হতে পারে এবং সেটি সন্তানের মধ্যে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মতোই হস্তান্তর করা সম্ভব। কিন্তু তার সময়ে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, আচরণের পরিবর্তন উত্তরাধিকার সূত্রে পায় সন্তানেরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও মায়ের যদি এমন প্রবণতা থাকে, যা তার মেয়েকে খাবার অন্বেষণ শেখাতে পারে; তাহলে তিনি সেটি তার মেয়েকে দিয়ে যাবেন। এতে তার মেয়ের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে এবং এর ফলে, এই প্রবণতা আরও মানুষের মধ্যে আরও বেশি দেখা যাবে।

‘প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এর জার্নালে ২ জুন প্রকাশিত গবেষণায় ওয়ারিং ও উড দাবি করেন, মানব ইতিহাসের কোনো এক সময়ে সংস্কৃতি আমাদের ডিএনএর বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। দুই গবেষক বলছেন, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আমাদের এমনভাবে বিবর্তিত হতে সাহায্য করছে, যা শুধু জৈবিক পরিবর্তনের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তারা বরেন, সংস্কৃতি দল বা গ্রুপ নির্ভর। দলের সবাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, শেখেন ও অনুকরণ করেন। এই দলভিত্তিক আচরণ, সংস্কৃতি থেকে শেখা, খাপ খাইয়ে নেয়ার পদ্ধতি জিনগত ভাবে টিকে থাকার সুবিধার চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একজন ব্যক্তি অল্প সময়ে প্রায় সীমাহীন সংখ্যক লোকের কাছ থেকে দক্ষতা ও তথ্য গ্রহণ করতে পারেন এবং ঘুরেফিরে আরও অনেকের কাছে সেই তথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। গবেষকেরা বলছেন মানুষ যত বেশি লোকের কাছ থেকে শিখতে পারছে তত ভাল। বড় দলগুলো ছোট দলের চেয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে ও আন্তঃদলীয় প্রতিযোগিতা অভিযোজন ক্ষমতাকে উদ্দীপ্ত করে, যা তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করে।

নতুন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সংস্কৃতিতে নতুন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে।

বিপরীতভাবে, একজন ব্যক্তি বাবা-মায়ের কাছ থেকে কেবল জেনেটিক তথ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পান এবং তাদের ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে তুলনামূলকভাবে মাত্র কয়েকটি এলোমেলো রূপান্তর রেকর্ড করেন। এগুলো তাদের সন্তানদের ছোট গ্রুপের মধ্যে সঞ্চারিত করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে। এই পরিবর্তনের গতি অনেক ধীর।

গবেষণাটির বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার কগনিটিভ অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক পল স্মলডিনো বলেন,‘এই থিওরির জন্য অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিনের। বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞান সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করার জন্য অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

গবেষকদের মতে, মানব সংস্কৃতির উপস্থিতি বিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

লাইভ সায়েন্সকে স্মলডিনো বলেন, ‘তাদের (দুই গবেষক) বড় দাবি হচ্ছে, মানুষের পরবর্তী বিবর্তনভিত্তিক রূপান্তরের সেতুবন্ধনের জায়গায় রয়েছে সাংস্কৃতিক প্রভাব।’

প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেতুবন্ধন বিবর্তনের গতিপ্রকৃতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। ডিএনএযুক্ত কোষের বিবর্তন ছিল এমন একটি বড় পর্যায়। এরপর ক্ষুদ্রাঙ্গ ও জটিল অভ্যন্তরীণ কাঠামোযুক্ত কোষের আবির্ভাব সবকিছুকে বদলে দেয়। প্রাণি ও উদ্ভিদকোষের আবির্ভাব ছিল আরেকটি বড় পরিবর্তন। লিঙ্গের উদ্ভব, ভূ-পৃষ্ঠে জীবনের শুরু- এর সবগুলোই একেকটি বড় মাইলফলক।

এই প্রতিটি ঘটনাই বিবর্তন যেভাবে কাজ করে তাতে বদল এনেছে। গবেষকেরা বলছেন, এখন মানুষ আরও একটি বিবর্তনীয় রূপান্তরের মধ্যে পড়েছে। এখনও জিনগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলেও তা মানুষের টিকে থাকার শর্তকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ওয়ারিং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রস্তাব এই যে, আমরা একক জেনেটিক জীব থেকে পিঁপড়ার বাসা বা মৌমাছির চাকের মতো সুপার অর্গানিজমে পরিণত হওয়া সাংস্কৃতিক গ্রুপে পরিণত হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ আগেই জানাবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা। নানা ধরনের বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে এআই।

তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাক লাগানো কাজে হাত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঘটনা আগেই জানিয়ে দেবে এআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরীক্ষামূলক এই কাজের নাম দেয়া হয়েছে গ্লোবাল ইনফরমেশন ডমিনেন্স এক্সপেরিমেন্টস (জিআইডিই)। বেশ কয়েকটি ধাপে এ পরীক্ষা চলবে।

স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সেন্সর, রাডার থেকে শুরু করে আরও অনেক সূত্র থেকে পাওয়া ডেটা ওই সব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় ক্লাউড কম্পিউটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা ডেটা দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

সামরিক কর্মকর্তা বা সংস্থা যাদের এসব ডেটার প্রয়োজন পড়বে, তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে।

‘এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ সময়ের আগেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

এতে সংঘর্ষ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শুরুর আগেই সতর্কতা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্দর ছাড়ার আগে সাবমেরিনের গতিপথ নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া থাকে। সাগরে ভাসার পর এটির চলাচল জানাই থাকে।

তবে এআই এ ক্ষেত্রে যা করবে তা হচ্ছে, সাবমেরিনসংক্রান্ত সব তথ্য একত্রিত করে আগেই অনেক দ্রুত জানাবে।

ভ্যানহার্ক বলেন, ‘আমরা ডেটাগুলো সহজলভ্য করে ক্লাউডে শেয়ার করছি। সেখানে মেশিন লার্নিং ও এআই ডেটাগুলো খতিয়ে দেখবে।

‘পরে এআই সেগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম সতর্কবার্তা পাব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হব।’

এআইয়ের এই নতুন ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে বা সংগ্রহ করা তথ্য কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে যা জানা গেছে তা হলো, দ্রুততম সময়ে এখন ডেটা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

জিআইডিইর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

ঘরবন্দি শিশুদের দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা কমছে

ঘরবন্দি শিশুদের দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা কমছে

গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তিসহ মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন ঘটছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবার জীবনে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর থাকবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে চলছে বিপর্যয়। একের পর এক লকডাউনে বিভিন্ন দেশে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। দিনের পর দিন ঘরবন্দি জীবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

করোনার এই সংকটে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে শিশুরাও। বিভিন্ন দেশে থেমে থেমে বন্ধ রাখা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে বাংলাদেশের মতো কিছু দেশে শিক্ষাঙ্গন বন্ধ প্রায় দেড় বছর। শুধু স্কুল নয়, শিশুদের জন্য ঘরের বাইরে খেলাধুলা, বেড়াতে যাওয়া বলতে গেলে একেবারেই বন্ধ।

চার দেয়ালের মাঝে বন্দি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভয়ংকর অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, চলমান মহামারি শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনেও তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায় নতুন করে আশঙ্কাজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে একটি গবেষণায়। দেখা গেছে, করোনার সময় ঘরে আটকে থাকা শিশুদের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে তারা।

হংকংয়ের দ্য চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অফ হংকং-এর একদল গবেষক দেড় বছরের বেশি সময় গবেষণা চালিয়ে এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের নিবন্ধটি ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথমলজিতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা গত বছর ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী ৭০৯ শিশুকে পর্যবেক্ষণ করে অনেকের মধ্যেই হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়ার লক্ষণ দেখতে পান। এ ধরনের শিশুরা কাছের বস্তুকে ভালোভাবে দেখতে পেলেও দূরের বস্তু ছিল ঘোলাটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় করোনার প্রথম বছরে শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

গবেষকরা বলছেন, মহামারির সময়ে শিশুদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আসায় মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। পাশাপাশি দিনভর ঘরের ভেতরে ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্তি, আঁকাআঁকি, বই পড়ার মতো কাজ করায় ‘হ্রস্বদৃষ্টি’ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে জিনগত কারণের চেয়ে বেশি দায়ী ঘরের বাইরে না যাওয়া। ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন আটকে থাকলে মানুষের চোখ দূরের বস্তুকে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিযোজন ক্ষমতা হারাতে থাকে।

হংকংয়ের গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, ‘মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা চিরদিন থাকবে না, তবে এই সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তিসহ মানুষের জীবনযাপনে যে পরিবর্তন ঘটছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবার জীবনে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর থাকবে।’

আধুনিক জীবনে বিভিন্ন দেশেই মায়োপিয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ৯০ শতাংশের মতো মানুষ হ্রস্বদৃষ্টির সমস্যায় আক্রান্ত, এ কারণে দেশটিতে মায়োপিয়াকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে ২০২০ সালে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত ওই গবেষণায় চীনে মায়োপিয়া বাড়ার কারণ হিসেবেও লকডাউনকে দায়ী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

ধারণার চেয়েও পুরোনো মাচু পিচু

১৫ শতকে নির্মিত ইনকা সভ্যতার নিদর্শন পেরুর মাচু পিচু বিশ্বের অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। ছবি: এএফপি

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু।

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার স্থাপনাটির নির্মাণকাল ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দের পরে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল এতদিন। কিন্তু নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর চেয়েও কমপক্ষে ২০ বছর আগে তৈরি হয়েছে প্রত্নতত্ত্বের অনন্য এ নিদর্শন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি মাচু পিচু। ইনকা সাম্রাজ্যের সময়ে এটি প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাচু পিচু নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা। যে অঞ্চলে এটির অবস্থান, ১৬ শতকে সেখানে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। এর ভিত্তিতে মাচু পিচু ১৫ শতকে তৈরি বলে ধারণা করে আসছিলেন তারা।

কিন্তু রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও আগে এটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পূর্বধারণা অনুযায়ী, মাচু পিচুর নির্মাণকাল ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের আশপাশে। কিন্তু সেখানে পাওয়া মানুষের ২৬টি দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৪২০ থেকে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টানা ১১০ বছর ব্যবহার হয়েছে মাচু পিচু। দেহাবশেষ বিশ্লেষণে ‘অ্যাক্সিলারেটর ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তারা।

মাচু পিচু নিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর এ গবেষণার ফলে আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দেয়া ঔপনিবেশিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড বার্গার বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণার ফল থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা নিয়ে যা কিছু আমরা জানি, তা ঔপনিবেশিক শাসনামলে নথিভুক্ত তথ্যনির্ভর, প্রাথমিক এবং এসব রেকর্ড সংশোধন করতে হবে।

‘ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আধুনিক রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য। কিন্তু ইনকা সময়কাল বোঝার এটা আরও ভালো উপায়।’

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কেন্দ্র আবিষ্কার ও জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম মাচু পিচু।

এটির অতীত ইতিহাস ও পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে বসবাস করা মানুষ আজও রহস্য, যা উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

সোলার ফ্যান নিয়ে মাঠে কাজ করার সময় রাজু। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)। এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

জামালপুর সদরের শরিফপুর ইউনিয়নের বেপারীপাড়ার রাজু আহম্মেদ পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর টানা ২৫ বছর ধরে করছেন ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ।

বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান ঠিক করা এবং এর কয়েল বাঁধানো রাজুর প্রধান কাজ হলেও কৃষিযন্ত্র নিয়ে কাজ করা তার নেশা।

এটি করতে গিয়ে রাজু এমন একটি ফ্যান তৈরি করেছেন, যা জীবন বাঁচাতে পারে তীব্র রোদে মাঠে কাজ করা কৃষকদের।

এ ফ্যানে বাতাস যেমন মেলে, সঙ্গে ছায়াও পাওয়া যায় রোদ থেকে। ফ্যান চলে সোলার প্যানেলের সূর্যের আলোর শক্তিতে। এ কারণে এর নাম দিয়েছেন ‘সোলার ফ্যান’। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন লাগে না, পাশাপাশি সোলার প্যানেলটি এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যাতে মাথায় ছায়াও পাওয়া যায়।

বহন করাও কষ্টদায়ক নয়। মাত্র আড়াই কেজির সোলার ফ্যানটি কাঁধে লাগিয়ে মাঠজুড়ে কাজ করতে পারেন কৃষক।

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজু জানান, এ ধরনের ফ্যান তৈরির চিন্তা তার মাথায় আসে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

তিনি বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)।

‘এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

রাজু কাজ করেন শরিফপুর বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে ইলেকট্রিশিয়ানের সহযোগী হিসেবে। সেই দোকানেই তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

রাজু বলেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে গবেষণা কইরেই আমার দিন যাইতাছে। এরপরে যা কামাই করি তার অর্ধেক সংসারে দেই আর অর্ধেক গবেষণার জন্যে মাল (যন্ত্রপাতি) কিনি। আমি পয়লা ২০১১ সালে আম পাড়ার ডিজিটাল একটা যন্ত্র বানাই।

‘এইডেই প্রথম। এরপরে ২০১৬ সালে কইডা (কয়েকটা) মেশিন বানাইছিলাম। যেডে (যেটা) দিয়ে ঘাস কাটা যায়, মাটির ঢেলা পরিষ্কার করা যায়, ক্ষেত নিড়ানো যায়, হাল দেয়া যায়, মই দেয়া যায়, ভুট্টার বীজ বপন করা যায়।

‘এরপর ২০১৭ সালে মোবাইল দিয়ে পাখি তাড়ানোর এডা (একটা) মেশিন বানাই। সরকারি লোকেরা এডার নাম দিছিলো ডিজিটাল কাকতাড়ুয়া।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

তিনি জানান, ওই যন্ত্রগুলো এখন আর তার কাছে নেই। বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে নিয়ে গেছেন, কিন্তু পরে আর সাড়া পাননি।

এসব কারণে ২০১৭ সালে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অভাবেও পড়েন। এরপর টানা তিন বছর এ ধরনের কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপরই ক্ষেতের পাশে বসে থাকা অবস্থায় কৃষকের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি দেখেন।

তারপরই ফ্যানটি তৈরি করেন তিনি। যন্ত্রটি তৈরি করতে রাজু ২০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ডিসি দুটি ছোট ফ্যান, দুটি সুইচ, একটি বেল্ট ও বডি মেকানিক্যাল ব্যবহার করেছেন।

রাজু বলেন, ‘এইটা বানাইতে আমার অনেক খরচ হইছে। ব্যাটারি দিলে অনেক ওজন হয়, আর কারেন্টের বানাইলে কৃষকের খরচ বেশি হইব। তাই সোলার ফ্যান বানাইছি।

‘প্রথমে দুইটা ফ্যানের ওজন বেশি হওয়ায় বাদ দিয়ে দিছি। পরে এখন এইটা বানাইছি। এইটার ওজন আড়াই কেজি। এইডা বানাইতে আমার চৌদ্দ শ টাকা খরচ হইছে।’

সোলার ফ্যান নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যদি সরকারি সহায়তা পাই, তাহলে এই ফ্যানটি চারভাবে নির্মাণ করে বাজারে ছাড়মু। এর ফলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হইব। যদি ভালোভাবে বানাতে পারি তাইলে কৃষকরা ৩০০ থাইকে শুরু কইরে ১ হাজার টাকার মধ্যে এই ফ্যান কিনতে পারব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে রাজু বলেন, ‘আমি একটা ইঞ্জিন বানাইছি। যেইডে (যেটা) কোনো জ্বালানি ছাড়া শুধুমাত্র বাতাস দিয়ে চলব। এর কাজ ৯০ শতাংশ শেষ।

‘কিছু কাজ বাকি আছে। এর জন্যে অনেক টাকার প্রয়োজন, তাই সরকারি সহায়তার খুব প্রয়োজন।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর ফ্যান ব্যবহারকারী এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ক্ষেতে কাম করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাইতাম। ঘাম হইত, অসুখ হইত, মাতা বেন্দা (ব্যথা) করত। এহন এই ফ্যান ব্যবহার করলে অনেক বাতাসও লাগে আবার ছায়াও আসে। তাই আমি মাঝে মধ্যে রাজু ভাইরে ডাক দিয়ে আইনে এই ফ্যান ব্যবহার করি।’

শরিফপুর ইউনিয়নের আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রাজু যে ফ্যানডা বানাইছে। এইডে আমারসহ সব কৃষকেরই দরকার। কিন্তু রাজুর কাছে টাকা নাই। তাই চাহিদা থাকলেও ফ্যান সাপ্লাই দিবার পাইতাছে না।’

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন আনসারী সুমন বলেন, ‘যাদের রৌদ্রে বের হতে সমস্যা হয়, তারা এই সোলার ফ্যানটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে রোদ থেকে বাঁচা যাবে আর বাতাসও পাওয়া যাবে।’

শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার পরিষদের পক্ষ থেকে রাজুকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার করব। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।’

রাজুর সোলার ফ্যান নিয়ে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজু উদ্ভাবন পাগল একজন মানুষ। সে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে খুবই ভালোবাসে। তবে সে অত্যন্ত গরিব বলে এই যন্ত্রটি উন্নত করতে পারছে না।’

তিনি জানান, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে তারা জয়দেবপুরে কৃষি প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাজুকে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা করা যায় কি না সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

নিয়ানডারথালরা কি ছবি আঁকত

স্পেনের আর্দালেস গুহায় রঙিন স্ট্যালাগমাইটস। ছবি: এএফপি

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

স্পেনের একটি গুহায় ৬০ হাজার বছরের পুরোনো রঙের ছোঁয়া বিলুপ্ত নিয়ানডারথালদের বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের করা গবেষণার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাগৈতিহাসিক আর্দালেস গুহার ভেতরের পাথুরে কাঠামো ‘স্ট্যালাগমাইটস’-এর স্তম্ভজাতীয় বস্তুগুলো রঙিন করে তোলা হয়েছে রং ‘ছিটিয়ে আর ফুঁ দিয়ে’।

স্ট্যালাগমাইটস হলো বদ্ধ জায়গায় ছাদ চুইয়ে মেঝেতে পড়ে জমাট বাঁধা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তূপ যা দেখতে নানা আকৃতির স্তম্ভের মতো। অনেক সময় বহু বছর ধরে জমে থাকা লাভা, কাদা, বালু, লোহা ও অন্যান্য ধাতবের তরলও স্ট্যালাগমাইটসে পরিণত হয়।

আর্দালেস গুহাজুড়ে এমন অনেক স্ট্যালাগমাইটসের দেখা মেলে, যেগুলোর গায়ে আলাদা করে রঙের উপস্থিতিও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ থেকেই তাদের ধারণা, অনেক বছরের গবেষণায় নিয়ানডারথালদের সভ্যতার ছোঁয়া না পাওয়া ও বর্বর বলে বিবেচনা করা হলেও তাদের মধ্যে হয়তো শিল্পবোধ ছিল। স্পেনের প্রাচীন গুহাটিতে রঙের ছোঁয়া তাদের শিল্পবোধেরই প্রতিফলন বলে সোমবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্দালেস গুহার ‘স্ট্যালাগমাইটস ডোম’ বা স্তম্ভগুলোতে মেটে লাল রঙের উপস্থিতির পেছনে মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়ানডারথালদের হাত থাকতে পারে বলে ২০১৮ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন থেকেই প্যালেওআর্কিওলজির জগতে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এটি।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষ তথা হোমো স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিয়ানডারথালরা বিলুপ্ত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আর্দালেস গুহায় রঙের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে সময় পৃথিবীর বুকে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।

শুরুতে ওই রং আয়রন অক্সাইডের প্রবাহ থেকে সৃষ্টি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। বিজ্ঞানীরা জানান, ফুঁ দিয়ে আর ছিটিয়ে স্ট্যালাগমাইটসগুলো রং করা হয়েছিল।

গুহার প্রাকৃতিক নমুনার সঙ্গে ওই রঙিন পদার্থের গঠনবিন্যাসে পার্থক্য থেকেই এ রং বাইরে থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা জন্মায় বিজ্ঞানীদের। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হয় গবেষণা।

ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ বোহদুর গবেষক ডি’এরিকো বলেন, ‘আমাদের ধারণা, কয়েক হাজার বছর ধরে বিভিন্ন উপলক্ষে গুহাটি রং করতেই এখানে আসত নিয়ানডারথালরা।’

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, গুহাটিতে একেকটি রঙের প্রলেপ একেক সময় দেয়া হয়েছিল। একেকটি প্রলেপের মধ্যে ১০ হাজার বছরের বেশি সময়ের পার্থক্যও ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

জ্ঞানসমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গঠনে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগারকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ৭১টি সরকারি ও দুটি বেসরকারি গ্রন্থাগারকে ডিজিলাইজ করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।

এতে বলা হয়, মানসম্পন্ন অনলাইন সেবাকে সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে গ্রন্থাগারগুলোকে পরিণত করা হবে ই-লাইব্রেরিতে।

এ বিষয়ে রোববার রাতে আইসিটি বিভাগ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনলাইনে এক পর্যালোচনা সভা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এ সভায় যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ ছাড়াও আরও যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এনামুল কবিরসহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সরকারের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সভায়।

এতে জানানো হয়, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ল্যান নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে লাইব্রেরিগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরে তারহীন প্রযুক্তির ইন্টারনেট সংযোগ, আইপি ফোন, বিভাগীয় গ্রন্থাগারগুলোর জন্য আরএফআইডি প্রযুক্তির ব্যবস্থা করবে আইসিটি বিভাগ।

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

বিল গেটসের টয়লেটে মল পরিণত হবে ‘সম্পদে’

স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছেন বিল গেটস। ছবি: গেটসনোটস

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা তারা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে। অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ১০ বছর আগে টয়লেট নতুন করে উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ বিশ্বকে দিয়েছিল বিল গেটস ফাউন্ডেশন।

পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর (প্রায় ৩৬০ কোটি) টয়লেট নেই বা অনিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবহার করে।

অনিরাপদ স্যানিটেশনের অর্থ দূষিত পানি ও মাটি। এতে অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য স্যানিটেশন সংশ্লিষ্ট রোগে ভুগে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়।

তবে এই স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন বিল গেটস। তার ব্লগ সাইট গেটসনোটস-এ এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১১ সালে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের ‘রিইনভেন্ট দ্য টয়লেট চ্যালেঞ্জ’ প্রকল্প গবেষকদের কাছ থেকে জানতে চায়, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা প্রবাহমান পানির ওপর নির্ভর না করে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা যায় কি না।

বিল গেটস ফাউন্ডেশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা বেশ কিছু চমকপ্রদ চিন্তা হাজির করেন।

অল্প পানি ও বিদ্যুতের সাহায্যে বা এসবের সাহায্য ছাড়াই মানব বর্জ্য নিরাপদে প্রক্রিয়াজাত করার টয়লেট নকশা করেন তারা।

ওই বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা এমন এক ধরনের টয়লেট তৈরি করেন যেখানে সার, পরিষ্কার পানি ও বিদ্যুৎসহ মূল্যবান আরও সম্পদে পরিণত হয় মল।

অন্য গবেষকরা টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে মল প্রক্রিয়াজাত করার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

এর মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়ের বর্জ্য খাবার পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

ওমনি-প্রসেসরস নামে পরিচিত এসব যন্ত্র মলমূত্র ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদ্ভাবনের পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ড. শ্যানন ইর নেতৃাত্বধীন দল ওইসব চিন্তা থেকে কম খরচে কীভাবে টয়লেট উদ্ভাবন করা যায়, তা বের করবে।

এর নাম দেয়া হয়েছে জেনারেশন টু রিইনভেন্টেড টয়লেট।

বাজারে এসব উদ্ভাবন সামনে আনতে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি গবেষকরা। তবে চ্যালেঞ্জ উতরানো গেলে এসব উদ্ভাবন কোটি কোটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আশাবাদী। আগামী ১০ বছর বা তারও পরে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
মানুষের মগজ বানরের মাথায়!

শেয়ার করুন